About Md Nihan

ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড, প্রয়োজনে ক্রসফায়ারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে অধিবেশনের কোনো একদিন আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করা হোক।
‘ধর্ষণের কারণে নারী সমাজ আতঙ্কিত ও চিন্তিত। গণমাধ্যমে খবর এসেছে ২০১৯ সাল যেন ধর্ষণের মহাসাগর। পুলিশের অপরাধ সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গেলো বছর ১৭ হাজার ৯৯৯টি নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে। তার মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫ হাজার ৪শ জন। ১৮৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের সময় ২৬ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। ১৮৩১ জন নারীর মৃত্যু ধর্ষণের পরে। ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে ১৪ জন শিশু। গেলো বছর সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।’
চুন্নু বলেন, এ বিষয়ে যদি আজ আমরা গুরুত্ব না দেই তাহলে জাতির সামনে আমরা কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো না। কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হলো। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি ব্যবস্থায় ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরে জনগণ এখনো বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। এ ঘটনার পরেই সাভারে একজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধামরাইতেও একই ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ধর্ষণ হচ্ছে, ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে, এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনে সংসদের যে কোনো একটি দিন সময় নির্ধারণ করে সংসদ স্থগিত করে দুই ঘণ্টা আলোচনার জন্য সুযোগ দিতে পারেন।
‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামালে সারাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপ বেড়েছিল। সমানে দেখা যেতো কোনো ঘটনা ঘটলেই নারীরা অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার। তখন এরশাদের সরকার ওটাকে প্রতিরোধ করার জন্য অ্যাসিড নিক্ষেপ প্রমাণ হলে আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। এখন সরকারের কাছে আবেদন জানাবো যে হারে ধর্ষণ বেড়েছে, তাতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে ধর্ষণ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। সময় এসেছে এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে ধর্ষণের দায়ে (যদি প্রমাণ হয়) তার সাজা যাবজ্জীন কারাদণ্ড না দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, এত ঘটনা ঘটছে, মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, সমানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে কেন আজ পর্যন্ত একজন আসামি বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় না। সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নিলে কোনোক্রমেই এটা কঠোর হবে না। এসময় তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান ধর্ষণের খবরের মতো ধর্ষণের শাস্তির খবরও ফলাও করে প্রচার করার জন্য। যাতে ধর্ষকরা এ সর্ম্পকে জানতে পারে।

💓💓💓4rnds 4ever💓💓💓

ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন যেভাবে!
----------------------------------------------
লার্নার থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই এখানে লিখে দিয়েছি, কষ্ট করে পুরোটা পড়বেন। আশা করি তাহলে কোন দালাল ধরতে হবে না। মনে করতে পারেন চার-পাচ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিলেতো আর এই ঝামেলা পোহানো লাগবে না। ধারনাটি ভুল।
যেভাবে ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করবেন: ১) আপনি যত টাকাই ঘুষ দেন না কেন আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে পার করতে হবে। হয়তো টাকার জন্য পাস করে যাবেন। ২) আপনি টাকা দিলেই যে আপনার লাইসেন্স হবেই, তার সম্পূর্ণ কোন নিশ্চয়তা নাই। আরেকটা ব্যাপের তো সাথে থেকেই যায় যে কাকে টাকা দিবেন। এখন অনেকটাই কড়াকড়ি, তাই ঘুষ দিয়ে করা একটু ঝামেলা। তবে তার মাঝেও অনেকে ঘুষ দিয়ে লাইসেন্স করতেছে।
এবার মূল কথায় আসি, প্রথমে আপনাকে লার্নার কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে, (এটা লাইসেন্স না, এটা পরিক্ষার প্রবেশপত্র স্বরুপ) তার মাস তিনেক পর আপনার পরিক্ষার ডেট পরবে। এই লিঙ্ক থেকে লার্নার কার্ড করার আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করে নিন।ওয়েবসাইট লিঙ্কঃ http://www.brta.gov.bd/images/files/formfee/app_for_learners_driving_license.pdf /> তারপর লার্নার কার্ডটি যথাযথ পূরণ করে জমা দিয়ে দিন। সাথে যা যা লাগবে: ১) ভোটার আইডির ফটোকপি। ( না থাকলে বয়স এবং ঠিকানার প্রমানপত্র) ২) ১ কপি রঙ্গিন পাসপোর্টের সাইজের ছবি। ৩) ৩ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি। ৪) একজন এম,বি,বি,এস ডাক্তার কর্তৃক ফর্মটি সত্যায়িত করতে হবে। (মিরপুর বি আর টি এ’র পাশের গলিতেই এই ফর্ম সত্যায়িত করাতে পারবেন ডাক্তার দ্বারা ৫০ টাকার বিনিময়ে)
ক্লিক করুন >> ড্রাইভিং লাইসেন্স ফী: ৫) লার্নার এর ফিস বাবদ ৫৭৫ টাকা। (টাকা কিছুটা কম বেশি হত পারে) যথাযথভাবে লার্নারের আবেদনপত্রটি জমা দিলে আপনাকে ২,৩ দিন পর লার্নার আনার জন্য ডেট দিবে,। আপনি ওই ডেটে গেলে আশা করি লার্নার পেয়ে যাবেন। আমার মনে হয় না একদিন আগে পাওয়ার জন্য দালাল ধরার দরকার আছে।
লার্নার পেলে দেখবেন যে আপনার ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার জন্য একটা পরীক্ষার দিন এবং কোথায় পরিক্ষা হবে, সেটা দেওয়া আছে। পরিক্ষার দিন সকাল ৯ টার মধ্যে ওখানে উপস্থিত থাকবেন। ওখানে অনেক দালালই বলবে যে ঘুষ ছাড়া লাইসেন্স হয় না, এবং জিজ্ঞাসা করবে, “আপনার লোক আছে?” আপনি বলবেন, “হ্যা আমার লোক আছে” তা না হলে অনেকেই বিরক্ত করতে থাকবে।
কিছুক্ষণ পর পরিক্ষা শুরু হবে। পরিক্ষা তিন ধাপে হবে। মোটামুটি সারাদিন লেগে যাবে পরিক্ষার তিন ধাপ শেষ করতে, তাই ঐদিন কোন কাজ থাকলে তা ম্যানেজ করে নিন। আপনি একধাপে পাশ করলেই, কেবল পরের ধাপে পরিক্ষা দিতে পারবেন।
লিখিত পরিক্ষা টোটাল ২০ মার্কের লিখিত পরিক্ষা হবে। সময় ২০ মিনিট। আপনাকে ১২ পেতে হবে। ১২ পাওয়া অনেকটাই সহজ। তবে ইঞ্জিন মেকানিজমে আলাদা ২ মার্ক পেয়ে পাশ করতে হবে।
প্রশ্নের ধরন: ১) সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন -৬টি ৬ মার্ক ২) ইঞ্জিন মেকাজিম সম্পর্কিত প্রশ্ন- ৬টি ৬ মার্ক ৩) নৈর্বত্তিক – ৮ টি ৮ মার্ক নিচে একটি নমুনা প্রশ্নের লিঙ্ক দিয়ে দিলামঃ
http://www.brta.gov.bd/images/files/formfee/app_for_learners_driving_license.pdf /> লিখিত পরিক্ষার জন্য BRTA থেকে ১২৬ টি প্রশ্ন দেওয়া আছে। এর বাহিরে আশা করি তেমন কিছুই থাকবে না। এই কয়টি প্রশ্ন ভাল করে পড়ে গেলে পাশ নিশ্চিত। নিচে ১২৬ টি প্রশ্নের লিঙ্ক এবং এবং কিছু নৈর্বত্তিক প্রশ্নের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি।
http://www.brta.gov.bd/images/files/formfee/app_for_learners_driving_license.pdf /> http://www.brta.gov.bd/images/files/formfee/app_for_learners_driving_license.pdf (আপনি পেশাদার/ অপেশাদার যে লাইসেন্সের জন্যই আবেদন করেন না কেন, কষ্ট করে ১২৬ টি প্রশ্নই ভাল করে পড়বেন। সব প্রশ্ন মুখস্থ করতে হবে না। জাস্ট কয়েকবার পড়েন। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো কষ্ট করে মুখস্থ করবেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন ব্যাংক ও উত্তর: মৌখিক পরিক্ষা আশা করি এতক্ষণে আপনি লিখিত পরিক্ষায় পাস করে গেছেন। এখন মৌখিক পরিক্ষার পালা। এখানে আপনাকে বিভিন্ন চিহ্ন দেখিয়ে বলতে বলবে কোনটা দিয়ে কি বুঝানো হচ্ছে। মনে করতে পারেন এটা তো একদমই সহজ, কিন্তু না ভাই, একদম সহজগুলো আপনাকে ধরবে না। এখানে আশা করি ৫-৬ টির মত চিহ্ন দেখাতে পারে। এটার জন্যেও BRTA এর ওয়েবসাইটে সব ধরনের ট্রাফিক সাইন দেওয়া আছে, এর বাইরে কিছু থাকবে না।
http://www.brta.gov.bd/images/files/formfee/app_for_learners_driving_license.pdf /> প্রাকটিকাল পরিক্ষা এবার আপনার মেইন পরীক্ষার পালা: মটরসাইকেল আমার জানামতে মটরসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায় না। আপনি নিজের মটরসাইকেল নিয়ে যাবেন। অনেকে বলে যে Pulsar/ Apache/FZS বাইক দিয়ে প্রাকটিকাল পাস করা যায় না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনি যদি প্রাকটিস করেন, অবশ্যই পাস করবেন।
আমার নিজের পালসার ১৫০ সিসি। আমি এটা দিয়েই পাস করেছি। ঐদিন ৩ জন পাস করেছে। এবং ৩টা ৩ ধরনের বাইক ছিল। অনেকে ছোট বাইক নিয়ে এসেছিল, কিন্তু একজনও সেই ছোট বাইক দিয়ে পাস করতে পারে নি। প্রাকটিকাল পরিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে…
আগেই বলে নিচ্ছে পরিক্ষা ইচ্ছে করে কঠিন নেয়, যেন আপনি ফেল করেন এবং দালাল ধরেন। নিচের বিষয় খেয়াল রাখলে আশাকরি পাশ করে যাবেন। ১) আপনি যত ভালই বাইক রাইডার হন না কেন, ঝিকঝ্যাক (সাপের মত করে রাস্তা) রোডে পা না ফেলে যাওয়া এবং আবার সব শেষে পা না ফেলে অল্প যায়গার মধ্যে U-Turn নিয়ে একই ভাবে ফিরে আসা অনেকটা কঠিন।
২) পরিক্ষার ভেনুতে বসে পরিক্ষার আগে কয়েকবার প্রাকটিস করুন। ৩) ১০ ফুট পরপর লাঠি দেওয়া থাকবে, লাঠিতে লেগে গেলে, বা পা পড়ে গেল আপনি সাথে সাথে ডিসকলিফাই। ৪) অবশ্যই হেলমেট পরিধান করে নিবেন।
চার চাকা (প্রাইভেট কার) আপনি ইচ্ছে করলে নিজের গাড়ি অথবা ২০০-৪০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে পরিক্ষা দিতে পারবেন। নিজের গাড়ি থাকলে অবশ্যই নিজের গাড়ি দিয়ে পরিক্ষা দিবেন, তবে ছোট গাড়ি হলে ভাল হয়। ওখানকার বেশিরভাগ গাড়িই ম্যানুয়াল। অটো গিয়ারও থাকে। তবে ম্যানুয়াল গাড়িগুলো সাইজে ছোট, তাই পাস করা সহজ।
করণীয় বিষয়সমূহ: ১) আপানাকে ব্যাক গিয়ারে পিছনে গিয়ে নির্দিষ্ট একটা যায়গায় পার্কিং করতে হবে, আর ভাগ্য খারাপ থাকলে ইংরেজি Z এর মত রাস্তায় পিছনে আসতে হবে। ২) পরিক্ষার আগে আপনি ওদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েকবার প্রাকটিস করে নিতে পারেন। ৩) বাইকের মতই লাঠিতে লেগে গেলে আপনি বাদ। ৪) আপনি সবার শেষের দিকে পরিক্ষা দিবেন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে কিভাবে করলে অনায়াসে গাড়ি পাশ করতে পারবেন।
যদি ফেল করেন: ১) যদি লিখিত মৌখিক বা লিখিত পরিক্ষায় ফেল করেন, তাহলে নতুন করে লিখিত পরিক্ষা থেকেই আবার শুরু করা লাগবে। ২) যদি প্রাকটিকালে ফেল করেন, তাহলে আপনাকে পরেরবার শুধু প্রাকটিকাল দিলেই চলবে। ৩) আপনি ২টি যানের জন্য আবেদন করে যদি একটাতে পাশ করেন, তাহলে আপনি চাইলে পাশকৃত একটি যানের জন্য লাইসেন্স নিতে পারবেন, অথবা আবার প্রাকটিকাল দিয়ে ২টা যানের জন্যই লাইসেন্স নিতে পারবেন। ৪) পরবর্তিতে আপনাকে পুনরায় পরিক্ষার জন্য একটি নতুন দিন দিবে। নিজ দায়িত্বে পরিক্ষার দিন ঠিক করে আনবেন।
যদি পাস করেন: ১) ৮-১০ দিন পর আপনাকে লার্নার আনতে হবে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে।
২) তারপর নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে সাথে আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র এবং নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।
৩) আবেদন করার পর আপনাকে ছবি তোলার জন্য একটা ডেট দিবে এবং লাইসেন্স প্রাপ্তি রসিদ প্রদান করবে, যা দিয়ে আপনি অনায়েসে রাস্তায় ড্রাইভিং করতে পারবেন, পুলিশ লাইসেন্সের ইস্যুতে ঝামেলা করতে পারবে না।
৪) নির্ধারিত দিনে গিয়ে ছবি তুলে আসবেন।
৫) তারপর ওরা আপানার ছবি তুলবে এবং আঙ্গুলের ছাপ নিবে। তারপর আপনার সামনেই আপনার নাম ঠিকানা সহ যে বিষয়গুলো লাইসেন্সে উল্লেখিত থাকবে, তা পূরণ করবে। এবং পূরন করা শেষে বিষয়গুলো ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য সাইন করতে বলবে। ভাল করে সকল বিষয় খেয়াল করে সাইন করবেন।
৬) সবকিছু ঠিকঠাকমত সম্পন্ন করতে পারলে আপনাকে লাইসেন্স আনার জন্য একটা ডেট দিবে। আশা করি তার আগেই আপনার মোবাইলে ম্যাসেজ চলে আসবে। না আসলেও আপনি নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে খোজ নিবেন। পাশ করেন বা ফেল করেন, আপনাকে ঐ দিনই লার্নার দিবেনা। কয়েকদিন পর নির্দিষ্ট স্থান থেকে লার্নার কার্ডটি আনতে হবে ।
বিঃদ্রঃ সম্পূর্ণ আমার বাস্তব অভিজ্জতা থেকে লেখাগুলো লিখে শেয়ার করলাম। জানিনা কতটুকু কাজে দিবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে পয়েন্ট করে দিলাম ১) শুধু মটরসাইকেল বা প্রাইভেট কারের লাইসেন্স করতে সর্বমোট ২৩০০+৫৭৫= ২৮৭৫ টাকা BRTA তে জমা দিতে হবে। আর আপনি যদি দুইটা যানের লাইসেন্স একসাথে করেন, তাহলে আপনাকে মাত্র ১১৫ টাকা বেশি দিতে হবে।
২) সবাই ৪০০০-৫০০০ অতিরিক্ত যে টাকা দিয়ে লাইসেন্স করে, আমি সেই টাকা দিয়ে একমাস প্রাইভেট কার শিখেছি। এবং একসাথে দুইটা লাইসেন্স করেছি, যদিও প্রাইভেট কার আমার দরকার ছিল না, কিন্তু পরে করতে গেলে অনেক ঝামেলা সহ্য করা লাগত। ৩) এক লার্নার কার্ড দিয়ে আপনি সর্বোচ্চ দুইবার পরিক্ষা দিতে পারবেন। ৪) কেউ আপনাকে ঝামেলায় ফেলতে চাইলে সরাসরি পরিচালক বা উপপরিচালকের সাথে কথা বলুন, তারা আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে, আমাকে সাহায্য করেছে।
লেখক: অনুপম কুমার, তথ্যসূত্র: বাইক বিডি।

১৩ নভেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে


১৯৪৮ সালের এই দিনে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন

আজ ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার। ২৯ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ৩১৭ তম (অধিবর্ষে ৩১৮ তম) দিন। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনাবলি:


১৭৭৫ - আমেরিকার বিদ্রোহীরা কানাডার মন্ট্রিল দখল করে।

১৮০৫ - ফরাসিরা ভিয়েনা দখল করে।

১৮৩৫ - টেক্সাস মেক্সিকোর কাছ থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়।

১৮৬৪ - গ্রিসের নতুন সংবিধান গৃহীত হয়।

১৯১৮ - প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে সম্মিলিত বাহিনী অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল দখল করে।

১৯৭৪ - ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পি এল ও’র নেতা ইয়াসির আরাফাত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

১৯৭৭ - ঢাকায় বিজ্ঞান যাদুঘর উদ্বোধন করা হয়।

১৯৮৫ - কলম্বিয়ায় এক ভূমিকম্পে ২৩ হাজারেরও বেশী মানুষ প্রাণ হারায়।

১৯৮৯ - আকস্মিক ধসে পশ্চিমবঙ্গের রানীগঞ্জের কয়লাখনির অভ্যন্তরে ৭১ শ্রমিক আটকা পড়েন। পরে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ক্যাপসুলের সাহায্যে ৬৫ জনকে জীবিতাবস্থায় উদ্ধার করা হলে এই উদ্ধার পদ্ধতি বিশ্বে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।

১৯৯৪ - সুইডেন এক গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় জোটে যোগ দেয়।

২০০২ - ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের সরকার জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শক দলকে ইরাকে ফিরে আসার অনুমতি দেয়।

জন্ম:

১৮৪৭ - ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন।

১৯২১ - অশোক বড়ুয়া, বাঙালি লেখক।

১৯৪৮ - জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ।

১৯৬৭ - জুহি চাওলা, জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী।

মৃত্যু:

১৯০৭- ইংরেজ কবি ফ্রান্সিস থমসন।

দিবস:

জার্মানি- শোক দিবস।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় করণীয়

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, খরা, ভূমিধস,ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, শৈত্যপ্রবাহ, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক সম্পদ ও প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে সম্পদ ও প্রাণহানির পরিমাণ ব্যাপক। এ বিষয়ে জনগণকে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে জনগণের করণীয় বিষয়গুলো জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগে করণীয়

দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখুন এবং জায়গা চিনিয়ে রাখুন।

বাড়িতে, গ্রামে, রাস্তায় ও বাঁধের ওপর গাছ লাগান।

যথাসম্ভব উঁচু স্থানে শক্ত করে ঘর তৈরি করুন। পাকা ভিত্তির ওপর লোহার বা কাঠের পিলার এবং ফ্রেম দিয়ে তার ওপর ছাউনি দিন। ছাউনিতে টিন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ ঝড়ের সময় টিন উড়ে মানুষ ও গবাদিপশু আহত করতে পারে। তবে শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্ববিশিষ্ট টিন ও জেহুক ব্যবহার করা যেতে পারে।

উঁচু জায়গায় টিউবওয়েল স্থাপন করুন, যাতে জলোচ্ছ্বাসের লোনা ও ময়লা পানি টিউবওয়েলে ঢুকতে না পারে।

জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সকাল, দুপুর ও বিকেলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করুন।

সম্ভব হলে বাড়িতে কিছু প্রাথমিক চিকিত্সার সরঞ্জাম (ব্যান্ডেজ, ডেটল প্রভৃতি) রাখুন।

জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষার নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিন।

বাড়িতে ও রাস্তায় নারকেল, কলাগাছ, বাঁশ, তাল, কড়ই ও অন্যান্য শক্ত গাছপালা লাগান। এসব গাছ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বেগ কমিয়ে দেয়। ফলে মানুষ দুর্যোগের কবল থেকে বাঁচতে পারে।
নারী-পুরুষ, ছেলেমেয়ে প্রত্যেকেরই সাঁতার শেখা উচিত।

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাওয়ার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নেওয়া যাবে এবং কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা হবে, তা ঠিক করে সেই অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

আর্থিক সামর্থ্য থাকলে ঘরের মধ্যে একটি পাকা গর্ত করুন। জলোচ্ছ্বাসের আগে এই পাকা গর্তের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারবেন।

ডায়রিয়া মহামারির প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। শিশুদের ডায়রিয়া হলে কীভাবে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে প্রশিক্ষণ দেন।

ঘূর্ণিঝড়ের মাসগুলোতে বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুটজাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভালো।

নোংরা পানি কীভাবে ফিটকারি বা ফিল্টার দ্বারা খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে নারীদের এবং আপনার পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন।

ঘূর্ণিঝড়ের পরে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করুন। বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ। মাটির বড় হাঁড়িতে বা ড্রামে পানি রেখে তার মুখ ভালোভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে, যাতে পোকা-মাকড়, ময়লা-আবর্জনা ঢুকতে না পারে।

পূর্বাভাস পাওয়ার পর দুর্যোগকালে করণীয়
আপনার ঘরগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করুন। আরও মজবুত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যেমন: মাটিতে খুঁটি পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘরের বিভিন্ন অংশ বাঁধা।

সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।

বিপদ সংকেত পাওয়া মাত্র বাড়ির নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের আগে নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে পোঁছে দিতে প্রস্তুত হোন এবং অপসারণ নির্দেশের পরে সময় নষ্ট না করে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যান।
বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় আগুন নিভিয়ে যাবেন।

আপনার অতি প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্যসামগ্রী যেমন—ডাল, চাল, দেশলাই, শুকনো কাঠ, পানি ফিটকিরি, চিনি, নিয়মিত ব্যবহূত ওষুধ, বইপত্র, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওরস্যালাইন ইত্যাদি পানি নিরোধন পলিথিন ব্যাগে ভরে গর্তে রেখে ঢাকনা দিয়ে পুঁতে রাখুন।

আপনার গরু-ছাগল নিকটস্থ উঁচু বাঁধে অথবা উঁচু স্থানে রাখুন। কোনো অবস্থায়ই গোয়ালঘরে বেঁধে রাখবেন না। কোনো উঁচু জায়গা না থাকলে ছেড়ে দিন, বাঁচার চেষ্টা করতে দিন।

শক্ত গাছের সঙ্গে কয়েক গোছা লম্বা মোটা শক্ত রশি বেঁধে রাখুন। রশি ধরে অথবা রশির সঙ্গে নিজেকে বেঁধে রাখুন, যাতে প্রবল ঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিতে না পারে।

আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্ধারিত বাড়ির আশপাশে গাছের ডালপালা আসন্ন ঝড়ের আগেই কেটে রাখুন, যাতে ঝড়ে গাছগুলো ভেঙে বা উপড়ে না যায়।

রেডিওতে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর ঘূর্ণিঝড়ের খবর শুনতে থাকুন।
দলিলপত্র ও টাকা-পয়সা পলিথিনে মুড়ে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখুন অথবা সুনির্দিষ্ট স্থানে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখুন।

টিউবওয়েলের মাথা খুলে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং টিউবওয়েলের খোলা মুখ পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে, যাতে ময়লা বা লবণাক্ত পানি টিউবওয়েলের মধ্যে প্রবেশ না করতে পারে।

দুর্যোগ-পরবর্তী করণীয়
রাস্তাঘাটের ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন, যাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়।

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন।

অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খাল, নদী, পুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করে, সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।

ত্রাণের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হোন। ত্রাণের পরিবর্তে কাজ করুন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করুন। রিলিফ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উত্সাহী করে, সেভাবে রিলিফ বিতরণ করতে হবে।

দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে লোক উদ্ধারকাজ শুরু করুন। কাদায় আটকে পড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাঁকে উদ্ধারকাজে সাহায্য করা যায়।

ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন না। পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার আশঙ্কা বেশি থাকে।

পুকুরের বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখুন।

নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বণ্টন (আলাদা লাইনে) করুন।

দ্রুত উৎপাদনশীল ধান ও শাক-সবজির জন্য জমি প্রস্তুত করুন, বীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষিকাজ শুরু করুন, যাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ফসল ঘরে আসে।

বাল্যবিবাহ ও সচেতনতা

নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ রোকেয়া সাখাওয়াত তার সংগ্রামের মাধ্যমে নারী শিক্ষা চালু করে নারীদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর মুখ দেখিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার শিক্ষার জন্য কোনো অংশেই কম কিছু করছে না। প্রতিটি গ্রামে স্কুলে স্কুলে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি দিচ্ছে, যাতে একজন নারীও অশিক্ষিত না থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিক স্কুলে যেতে না যেতেই ৬৬ শতাংশ শিশুকে ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে বাল্যবিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে। এ বিয়ের কারণে শিশুরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ আইন ১৯৮২ সালে সংশোধন করা হয়েছিল। খসড়া আইনটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। এতে ১৬ বছরের নারীদের বিয়ের কথা না থাকলেও গ্রামের অনেক নারী মনে করে, ১৬ বছরে বিয়ে হতে পারে। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বাস। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাল্যবিয়ে দেয়া শিশুর মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধ। আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে শিশুকাল বলে। শিশু নির্যাতন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিয়ের কারণে শিশু পাঁচটি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। একটি শিশু মানসিক-শারীরিক প্রস্তুতি নেয়ার আগেই যদি তার বিয়ে হয়ে যায়, তাহলে সে তার সুন্দর শৈশবকাল থেকে বঞ্চিত হয়। সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার থেকে দূরে সরে যায়। এ বয়সটিতে নারীদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দেখা যায়। তাছাড়া রক্তস্বল্পতা ও আয়রনের অভাব দেখা দেয়। বিয়ে হয়ে গেলে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির ওপর দায়িত্ব বহন করা, সন্তান জন্ম দেয়া- সব মিলে শিশু ক্লান্ত হয়ে তার শৈশবকালের সমাপ্ত ঘটায়। সন্তান জন্ম দিলেও সেটি অপুষ্টিজনিত কারণে বিকলাঙ্গ হয়, যা শিশুটির পরিবার ও সমাজের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। বাল্যবিয়ের ফলে শিশু স্বাস্থ্যশিক্ষা না পেয়ে অনেক সময় জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।


অপরিণত বয়সে বিয়ের ফলে দেশে একদিকে মাতৃমৃত্যু বাড়ছে, অন্যদিকে অল্পবয়সে সন্তান জন্মদানের কারণে বাড়ছে জনসংখ্যা। নারী নির্যাতন ও নারী সহিংসতার একটি বড় কারণ বাল্যবিবাহ। একটি শিশু তার সুন্দর স্বপ্ন দেখার আগেই তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই তাকে বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে হয়। অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অথবা কারও বাড়িতে ঝি-গিরি করতে হয়। এই তো আমাদের দেশে বাল্যবিয়ের পরিণতি।

বিয়ে হল একটি সামাজিক চুক্তি, তবে তা ১৮ বছরের নিচে নয়। একটি শিশুর গর্ভে আরেকটি শিশু জন্ম নেবে, এটা সমাজ ও রাষ্ট্র চায় না। একজন নারী পরিণত বয়সে মা হবে, এটাই সমাজের প্রত্যাশা। বাল্যবিয়ের পরিণতি অনেক ভয়াবহ। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বাল্যবিয়ে বন্ধ করে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা সমাজ ও জাতির জন্য বড় দায়িত্ব। বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর উন্নতি দিন দিন বাড়ছে। একইভাবে আমাদের দেশে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাক, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার হার কমে আসুক, এটাও কাম্য।

সরকার বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ সংসদে পাস করেছে। এ আইনটি যদি বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ আইন হতো এবং সাজার পরিমাণ বেশি ধার্য করা যেত, তবে বাল্যবিয়ে রোধ করা সহজ হতো সমাজের জন্য। তবে শুধু আইন নয়, প্রতিটি পরিবার ও সমাজকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। জনপ্রতিনিধি, কাজী, ইমাম প্রত্যেককেই সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। দেশে আর একটিও যেন বাল্যবিয়ে না হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। সরকার ২০১৭ সালের ৮ মার্চ নারী দিবসের স্লোগান বেঁধে দিয়েছে- ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’। তাই বলছি, আসুন, এ দেশটিকে উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমরা নারী-পুরুষ সবাই মিলে নতুন উদ্যমে কাজ করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে বদলে ফেলি বিশ্বকে এবং শিশুর সুন্দর জীবন গড়ার লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করি।

বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি কিশোর-কিশোরী রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মেয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের শতকরা প্রায় ৫ ভাগ এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ মেয়ে বিবাহিত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি ২০১১ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ দেশে তিনজন কিশোরীর মধ্যে দু’জনেরই বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের নিচে। আবার ১০ জনের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়ে যায় ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। কিশোরীদের প্রতি তিনজনের একজন অল্প বয়সে সন্তানের মা হয়। এসব শিশুর ৩৫ ভাগই অপুষ্টির শিকার এবং ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। সেভ দ্য চিলড্রেনও তাদের এক সমীক্ষায় বলছে, বাংলাদেশের গ্রামে ৬৯ শতাংশ শিশুর ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়।

যে ২২টি দেশ ১৯৯১ সালে প্রথম জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল, বাংলাদেশ তার অন্যতম। এ সনদের ৫৪টি অনুচ্ছেদে শিশুর নাগরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর ১৩টি অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ও সরকারের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার কথা। অথচ এ অচলায়তন ভাঙার দায় নিচ্ছে না রাষ্ট্র বা সরকার। এ ব্যাপারে প্রত্যেকেরই এগিয়ে আসা উচিত, প্রতিরোধ করা উচিত বাল্যবিয়ে।

জয়িতা রওশন আরা বেগম নিলা : স্বাধীনতা সংগ্রামী

0
**শিক্ষামূলক পোস্ট**
***শিক্ষামূলক পোস্ট****প্রশ্ন ও উত্তরমালা পর্ব****



১।Google আবিস্কার হয়েছে কত সালে?

উত্তর:-(4 September 1998)


২।Facebook আবিস্কার হয়েছে কত সালে?

উত্তর:-(4 February 2004)


৩।Youtube আবিস্কার হয়েছে কত সালে?
উত্তর:-(14 February 2005)

৪।Yahoo আবিস্কার হয়েছে কত সালে?
উত্তর:-(March 1994)

৫।Baidu আবিস্কার হয়েছে কত সালে?

উত্তর:-(1 January 2000)

৬।Wikipedia আবিস্কার হয়েছে কত সালে?
উত্তর:-(15 January 2001)

৭।।Windows আবিস্কার হয়েছে কত সালে?
উত্তর:-(1 November 2005)

৮।Twitter আবিস্কার হয়েছে কত সালে?
উত্তর:-(21 march 2006)


ভালো‬ লাগলে লাইক ও কমেন্ট করুন। ধন্যবা...

23-Jan-2020 তারিখের কুইজ
প্রশ্নঃ বেশির ভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলি হল কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া কিছু জলবিদ্যুৎ ও গ্যাস বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। ব্যান্ডেল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
(A) তামিলনাড়ু
(B) পশ্চিমবঙ্গ
(C) বিহার