About ছোট্ট একটি গল্প

এক গ্রামে একজন কৃষক ছিলেন.. তিনি দুধ থেকে দই ও মাখন তৈরি করে বিক্রি করতেন.. একদিন কৃষকের স্ত্রী মাখন তৈরি করে কৃষককে দিলেন বিক্রি করতে.. কৃষক তা বিক্রি করার জন্য গ্রাম থেকে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন.. মাখন গুলো গোল-গোল রোল আকৃতিতে রাখা ছিল.. যার প্রত্যেকটির ওজন ছিল ১ কেজি করে.. শহরে পৌঁছে কৃষক প্রতিবারের ন্যায় পূর্ব নির্ধারিত দোকানে মাখন গুলো দিয়ে পরিবর্তে চা.. চিনি.. তেল ও তার সংসারের প্রয়জনীয় দ্রব্যাদি নিয়ে আসতেন.. আজ কৃষক চলে যাওয়ার পরে দোকানদার মাখনের রোল গুলো একটা একটা করে ফ্রিজে রাখার সময় ভাবলেন মাখনের ওজন সঠিক আছে কিনা আজ একবার পরীক্ষা করে দেখা যাক.. মাখনের রোল গুলো ওজন করতেই উনি দেখলেন মাখনের ওজন আসলে ১ কেজি নয় তা প্রতিটা আছে ৯০০ গ্রাম করে.. পরের সপ্তাহে আবার কৃষক উক্ত দোকানে মাখন বিক্রি করতে গেলেন.. দোকানের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার কৃষকের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলতে লাগলেন.. 'বেরিয়ে যাও আমার দোকান থেকে.. এবার থেকে কোন বেঈমান চিটিংবাজের সাথে ব্যাবসা কর.. আমার দোকানে আর কোনদিন পা রাখবে না.. ৯০০ গ্রাম মাখন ১ কেজি বলে বিক্রি করা লোকটার মুখ আমি দেখতে চাইনা.. কৃষক বিনম্র ভাবে কম্পিত স্বরে দোকানদারকে বললেন- দাদা! দয়া করে রাগ করবেন না.. আসলে আমি একজন খুবই গরিব মানুষ.. দাড়িপাল্লার বাটখারা কেনার মতো পয়সা আমার নেই.. তাই আপনার থেকে প্রতিবার যে এক কেজি করে চিনি নিয়ে যেতাম.. সেটাই দাড়িপাল্লার একপাশে রেখে অন্য পাশে মাখনের রোল মেপে নিয়ে আসতাম।।
আপনি অপরকে যেটা দেবেন.. সেটাই পরে আবার আপনার কাছে ফিরে আসবে..তা সেটা সম্মান হোক বা ঘৃণা...

বাস্তব জীবনের গল্প........

১১ বছর আগে আমি ওরে কুড়ায়া পাই আমারে সবাই ডাকে রাজ্জাক ড্রাইভার, আর ওর নাম রনি । ১১ বছর আগে আমি ওরে কুড়ায়া পাই । তহন ময়লার ট্রাকের ড্রাইভার ছিলাম । ঝামেলার কারণে রাইতে ট্রিপ নিয়া যাইতেছিলাম । রাস্তার পাশে ময়লা নেওয়ার সময় বাচ্চার কান্নাকাটির শব্দ শুনি । দেহি যে একটা বাচ্চা ময়লার মধ্যে কোনায় পইড়া আছে । আমার লগে যারা ছিল তারা কেউ নিতে চায় নাই । আমি ওরে বাড়িতে লইয়া গেলাম । সারারাত ভাবলাম কি করুম । আমার বউ তার পাঁচ মাস আগেই আমার ছাইড়া চইলা গেছে । কারণ ডক্টর কইসে আমার শরীলে সমস্যা আছে । আমার আর বিয়া করার স্বাদ ছিল না । রাইতে ভাইবা পর দিন সিদ্ধান্ত নিলাম আমি ওরে পাইলা বড় করুম । সেদিন থেইকা আমার সুখ দুঃখ সব ওর লগেই । বিড়ি খাইতাম হেইডাও ওর কথা ভাইবা ছাইরা দিছি । এহন আমি এই লেগুনা চালাই আর ওই হেইডার হেলপার । সারাদিন কাম কইরা রাইতে বারিত গিয়া সিনেমা দেহি ।আমরা দুইজন এক লগে টাকা জমাইতাসি একটা বাস কিনমু ।
যার লগে দেহা হওয়ার কথাই ছিল না হেই এহন আমার সব।

(সংগৃহীত)

একটি গরু জঙ্গলে ঘাস খাচ্ছিল। হঠাৎ তাকে একটি বাঘ আক্রমণ করল। গরুটি অনেকক্ষন দৌড়ানোর পর কোনো উপায় না পেয়ে পুকুরে ঝাপ দিল। প্রায় শুকিয়ে যাওয়া পুকুরটিতে কাদা ছাড়া কোন জল ছিল না। গরুর পেছন পেছন বাঘটিও ঝাপ দিল। বাঘ ও গরু কাদায় গলা পর্যন্ত আটকে গেল। বাঘ রেগে মেগে বলে, "কিরে হারামী তুই আর লাফ দেওয়ার জায়গা পেলি না? ডাঙায় থাকলে তোকে না হয় একটু কুড়মুড় করে খেতাম। এখনতো দুজনেই মরব'রে।"

গরু হেসে বলে, "তোমার কি মালিক আছে? বাঘ রেগে বলে, বেটা আমি হলাম বনের রাজা! আমার আবার মালিক কে? আমি নিজেইতো বনের মালিক। গরু বলে, তুমি এখানেই দুর্বল। একটু পর আমার মালিক আসবে। এসে আমাকে এখান থেকে তুলে নিয়ে যাবে। আর তোমাকে পিটিয়ে মারবে। বাঘ বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইল। ঠিকই সন্ধ্যা বেলায় গরুটির মালিক এসে বাঘটার মাথায় বাঁশ দিয়ে কয়েকটা বাড়ি মেরে, গরুটিকে টেনে তুলল। গরু হাসতে হাসতে বাড়ি চলে গেল আর বাঘটি মরে একা একা পড়ে রইল।

মূলকথা:- আমরা যারা মালিকের উপর ভরসা করি আমাদের উপর যত অত্যাচার নির্যাতনই হোক না কেন, আমাদের মালিক ঠিকই আমাদের রক্ষা করবেন। হয়তো সন্ধ্যা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে। সে মালিক হল পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা।

অভাব কাকে বলে.....?

একজন স্যার রুমে ঢুকেই সামনে বসা ছেলেটিকে প্রশ্ন করলেন, বলো তো অভাব কাকে বলে?

ছেলেটি মাথা নিচু করে বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে আছে। কি বলবে ভাবছে সে।

স্যার আবার তাড়া দিলেন 'বলো অভাব কাকে বলে?'

ছেলেটি এবার বলতে শুরু করল।

১. আমি কলেজে আসার সময় মা আমাকে ভাড়া দিতে গিয়ে তার ব্যাগ তন্ন তন্ন করে খুঁজে অনেক কষ্টে ২০/৩০ টাকা বের করে দেন, আর আমি বাসা থেকে বের হয়ে ৫/৭ মিনিট পর বাসায় ফিরে ভাড়ার টাকাটা মাকে দিয়ে বলি, মা! আজ কলেজে ক্লাস হবে না। মা তখন বলেন আগে খবর নিবি না কলেজ হবে কিনা?মায়ের সাথে এই লুকোচুরি হচ্ছে অভাব।

২. বাবা যখন রাত করে বাসায় আসেন মা তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করেন এত রাত হলো কেন ফিরতে?বাবা বলেন ওভারটাইম ছিল। ওভারটাইম না করলে সংসার কিভাবে চলবে?বাবার এই অতিরিক্ত পরিশ্রম হচ্ছে আমার কাছে অভাব।

৩. ছোট বোন মাস শেষে প্রাইভেট টিচারের টাকা বাবার কাছে চাইতে যখন সংকোচবোধ করে সেটাই অভাব।

৪. মাকে যখন দেখি ছেঁড়া কাপড়ে সেলাই দিতে দিতে বলে কাপড়টা অনেক ভাল আরো কিছুদিন পরা যাবে এটাই অভাব।

৫. মাস শেষে টিউশনির পুরো টাকাটা মায়ের হাতে দিয়ে বলি, মা এটা তুমি সংসারে খরচ করো, মা তখন একটা স্বস্তির হাসি হাসেন। এই স্বস্তির হাসি হচ্ছে অভাব।

৬. বন্ধুদের দামী স্মার্টফোনের ভিড়ে নিজের নর্মাল ফোন লজ্জায় যখন লুকিয়ে রাখি এই লজ্জাই আমার কাছে অভাব।

৭. অভাবী হওয়ায় কাছের মানুষগুলো যখন আসতে আসতে দূরে সরে যায়, এই দূরে সরে পড়াটাই আমার কাছে অভাব।

পুরো ক্লাসের সবাই দাঁড়িয়ে গেল! অনেকের চোখে পানি! স্যার চোখের পানি মুছতে মুছতে ছেলেটিকে কাছে টেনে নিলেন।

বস্তুতঃ আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে, যারা কয়েক মাস অপেক্ষা করেও বাড়ি থেকে সামান্য টাকা পায় না। সব দুঃখ-কষ্টকে আড়াল করে হাসিমুখে দিনের পর দিন পার করে দেয় খেয়ে না খেয়ে!

তাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্টটুকু বুঝার সুযোগ হয়তো আমাদের হয়ে ওঠেনা! 😢

যৌবনাশ্রম।।❣️

হিতেশবাবু ক মাস ধরেই কিছু আঁচ করছিলেন।হিতেশ তিন বছর রিটায়ার করেছেন। সরকারী
উচ্চ পদে ছিলেন। ভাল অঙ্কের পেনশন পান। স্ত্রী গত হয়েছেন বহুদিন আগে। দুটি ছেলেকে বড় যত্নে
মানুষ করেছেন বাবা মার দুজনের স্নেহ দিয়ে।ভালভাবে লেখাপড়া করে তারা প্রতিষ্ঠিত হল।তারপর বড় ছেলের বিয়ে দিলেন। একটি নাতি হল।
হিতেশের মনে আনন্দ ধরে না. এরপরই ছোট ছেলে নিজের পছন্দের মেয়ে খুঁজে বাবাকে জানালে তিনি সানন্দে সেই মেয়েকে ঘরে নিয়ে এলেন। রিটায়ারের আগেই বড় ছেলের বিয়ে হয়েছিল।
তারপর ছোট বৌমা এল। হিতেশ এখন নাতিকে
নিয়ে বেশ সময় কাটান।সংসারের অনেকটা
ব্যয় ভার বহন করেন।
একদিন ইজি চেয়ারে বসে সকালে কাগজ পড়ছেন বড়বৌমার গলা পেলেন,আজ বাজার শর্ট
আছে. রাতে রান্না হবে না . সে চাকরী করে। বলছে জা কে।
এবাড়ীতে ছেলেদের জন্মের আগে থেকে কাজের
মেয়ে জবা আছে। সে তাঁর ছেলেদের থেকে বেশ কিছুটা বড়। জবা এই মাতৃহারা দুই ছেলেকে দিদির স্নেহে আগলে রেখেছিল। সে বলল--দাদারা কেউ এনে দেবে। বড় বৌ বলল--কেন বাবা তো বসে আছেন বাজারটা রোজ করলেই পারেন। হিতেশের কানে কথাটা বাজল। বুঝলেন সংসারে তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। নিজের মনকে বললেন--
মন তুই তৈরী থাক।
এরপর থেকে বৌদের নানা আচরণে তাঁর প্রতি বিরূপতা প্রকাশ পেতে থাকল।
একদিন সকালে বড় ছেলে রাগত গলায় বৌকে
বলছে--আমার শার্টটা লণ্ড্রী থেকে আনা হয়নি?
বড় বৌ বললো না জবার সময় হয়নি। বড় ছেলে -বাবা একটু আনতে পারল না ? সারাদিন তো বসেই
থাকে। হিতেশের কানে গেল ভাবলেন--যুগধর্ম!
এরপর এক রবিবারে সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে
এসে দেখলেন--সবাই আগেভাগেই উপস্থিত।
জবা প্লেটে গরম লুচি,আলু ছেঁচকি আর সন্দেশ
পরিবেশন করছে। বড় ছেলে বলল --বাবাএকটা কথা ছিল। হিতেশ বুঝলেন এরা সকলে কিছু প্ল্যান
করেছে। বললেন বল । বড় ছেলে বললো জানো বাবা কাল অফিসের কাজে টাকি গিয়েছিলাম।ওখানকার দর্শনীয় জায়গা দেখলাম। নদীর ধারে
স্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটা সুন্দর বৃদ্ধাশ্রম চালু
হয়েছে। দেখেই ভাবলাম তুমি ওখানে মনোরম পরিবেশে শেষ জীবনটা থাকতে পারো। আমরা যাব আসব। কিরে ভাই কি বলিস? ছোট ছেলে বলল বেশ ভালো হবে।
হিতেশ হেসে বললেন--সব তো শুনলাম। কিন্তু বাবারা--আমার একটা প্রস্তাব আছে। তোমরা বরং
একটা যুতসই যৌবনাশ্রমের খোঁজ করে সেখানে থাকনা কেন। বাড়ীও আমার,পেনশনও পাই। জবা
মাকে নিয়ে বাপ বেটিতে ভালই থাকব। তোমরাও আসবে যাবে। এই ভাবে একটা ছক্কায় বাজীমাত
করে দিলেন। জবাকেবললেন--জবা মা,লুচিগুলো
ঠাণ্ডা হয়ে গেল। গরম গরম নিয়ে আয় তো।
ছেলে বৌয়েরা হতভম্ব হয়ে বসে রইল..

যোগ্য জবাব ....এরকমই করা উচিত
(শ্রী মানবেন্দ্র চক্রবর্তীর সৌজন্যে)

#বেলনচাকি

- “তোমায় আমি ডিভোর্স দেব গো বুড়ো। জ্বালিয়ে খেল আমায়।”
বিহারীবাবুর ফতুয়ার পকেট থেকে কচুরীর টুকরোটা বের করে হাতে নিয়ে বলল বিহারীগিন্নী।

বিহারীবাবুও রেগেমেগে বললে,
- “একদিন কচুরি খেয়েছি তো কি হয়েছে? আমি কি মরে যাব নাকি?!”

বিহারীগিন্নী ফতুয়াটা এক বালতি সার্ফ জলে চুবিয়ে দিয়ে বললে,
- “বুড়ো তুমি আবার মরার কথা মুখে আনলে, আজ তোমারই একদিন কি আমারই একদিন। তোমায় প্রেম করার সময় কতবার বলেছি ও কথা মুখে আনবে না। এখন কেন শুনবে আমার কথা? পুরোনো হয়ে গেছি তো আমি।”

বিহারীবাবু ভীষণ গোমড়া মুখে বললে,
- “বেশ করব, আবার বলব। হাজারবার বলব, একশো আটবার বলব। একটু তেলতেলে মাছের পেটি খেতে দেবে না, কচুরি -আলুর দম খেতে দেবে না, ছানার জিলিপি খেতে দেবে না। মরব না তো কি করব। প্রেম করার সময় তোমার ভাগের জিলিপিটাও আমায় দিয়ে দিতে, আর এখন হিংসুটের মতন খিমচে কেড়ে নাও। হুহ।”

বিহারীগিন্নী, বিহারীবাবুর সামনে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বললে,
- “তুমি বুড়ো ছানার জিলিপি খাবে? কত বড়ো নোলা তোমার দেখি? হুম? নিজের সুগার -প্রেশারের হিসেব জানা আছে?”

বিহারীবাবু গলা উঁচিয়ে বললে,
- “খাব, বেশ করব। ছানার জিলিপি খাব, রসমালাই খাব, বেকট্ রসগোল্লা খাব, নরম পাঁকের হরি ময়রার দোকানের সন্দেশ খাব, আকাশ খাব, পাতাল খাব। বেশ করব। আমার প্রেশার, আমার সুগার আমি বুঝব। তোমার কী?!”

বিহারীগিন্নী দুমিনিট চুপ করে বলল,
- “তুমিই বুঝবে সব?”

বিহারীবাবু দেওয়ালের টিকটিকির দিকে তাকিয়ে বলল,
- “হুম।”
বিহারীগিন্নী শাড়ির আঁচলটা ঠিক করে বলল,
- “বেশ বাঁচা গেল। চলো তাহলে।”

বিহারীবাবু টিকটিকিটাকে টিউবলাইটের তলায় গুঁটিয়ে ঢুকে যেতে দেখে বলল,
- “কোথায়?”
জুতোর তাকে চটিটা খুঁজতে খুঁজতে বিহারীগিন্নী বললে,
- “হরিপদ উকিলের বাড়ি। ডিভোর্সটা আজই দিয়ে দেব তোমায়।”
এবার একটু আমতা আমতা করে বিহারীবাবু বললে,
- “ডিভোর্স দেবে?”
চটি পায়ে গলিয়ে পান চিবোতে চিবোতে বিহারীগিন্নী বললে,
- “হ্যাঁ।”
মনে মনে বেশ একটু ঘাবড়ে গিয়েও, একটুও না দমে গর্জন করে বিহারীবাবু বললে,
- “বেশ। চলো। হোক ডিভোর্স।”

বিহারীবাবু আর বিহারীগিন্নী সারা রাস্তা কোনো কথা না বলে দুটো রিক্সোয় আলাদা আলাদা করে হরিপদ উকিলের বাড়ি এসে নামতেই গেটের মুখেই উকিলের সাথে দেখা।

হরিপদবাবু ভুঁরু কুঁচকে বললে,
- “হবে ডিভোর্স হবে। তবে সময় লাগবে কয়েকদিন। একটা নোটিশ করতে হবে, তারপর আপনাদের ডাকা হবে, তারপর…”

বিহারীগিন্নী বললে,
- “অ্যাই শুনুন, ঐসব তারপর তারপর ছাড়ুন। আজই ডিভোর্স করাতে হবে। আমি এনার সাথে আর থাকবই না। কেমন উকিল আপনি? একটা ডিভোর্স করাতে পারছেন না?”

বিহারীবাবু মনে মনে একটু মিইয়ে গিয়ে, মুখে আমতা আমতা করে বললে,
- “গিন্নী একটা নিয়ম আছে তো ডিভোর্সের…”

বিহারীগিন্নী রেগে ফুঁসে বললে,
- “তুম চুপ রাহো। নো মোর কথা। ডিভোর্স হবে, আজই হবে। হতেই হবে। অ্যাই উকিল আজই ডিভোর্স করাঙ্গে।”

এমনসময় দরজার বাইরে থেকে হরিপদগিন্নী কোমড়ে শাড়ি গুঁজতে গুঁজতে বলল,
- “হবে দিদি আজইই ডিভোর্স হবে। জরুর হোঙ্গে। তবে একটা নয় দুটো।”

হরিপদবাবু গদগদ হয়ে বললে,
- “আরো একজন ক্লায়েন্ট এসেছে বুঝি? কই গো? তোমার বান্ধবী -টান্ধবী নাকি?”

এক হাতে শার্ট আরেক হাতে বেলনী নিয়ে হরিপদগিন্নী দরজার পেছন থেকে বেরিয়ে এসে বললে,
- “এই যে আমি। আমার তোমার থেকে ডিভোর্স চাই।”
ঢোঁক গিলে হরিপদবাবু বলল,
- “মা…মানে? গিন্নী?”
শার্টটা হরিপদবাবু মুখের সামনে ধরে গিন্নী বললে,
- “কী এটা?”
হরিপদবাবু আমতা আমতা করে বললে,
- “জামা। সাদা জামা। তুমিই তো জন্মদিনে কিনে দিয়েছিলে।”

হরিপদগিন্নী বেলনীটা নাচাতে নাচাতে বললে,
- “জামা? জামা? জামাটা তো মিষ্টির রসে চটচট্ করছে। শয়তান লোক আবার তুমি লুকিয়ে মিষ্টি খেয়েছ? জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খেল আমার জীবনটাকে ত্রিশবছর ধরে। চলো কোর্টে, আজ ডিভোর্সই ডিভোর্স হবে।”

হরিপদগিন্নীর রুদ্রমূর্তি দেখে, বিহারীবাবু বললে,
- “গিন্নী গো ঐ বেলনীর দুটো ঘা যদি আমার দিকে ছিটকে আসে, তোমরা স্বামী বেঘোরে মারা যাবে। গিন্নী গো।”

বিহারীগিন্নী আমতা আমতা মুখ করে বললে,
- “আবার তুমি মরার কথা মুখে আনলে। চলো আজ তুমি বাড়ি।”
গিন্নীকে ধুপধাপ পায়ে এগোতে দেখে, বিহারীবাবুও পিছু নিলে।

বাজারের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বিহারীবাবু বললে,
- “গিন্নী একটু থোর নিয়ে যাব? থোরের রস করে দেবে? প্রেশারটা কেমন যেন লাগছে। এত রোদ্দুর। তার উপর তোমার মুখভার।”

বিহারীগিন্নী অন্যদিকে তাকিয়ে বললে,
- “হুম। সাথে একটু উচ্ছে আর কাঁচকলা নাও। সেদ্ধ করে দেব।”
বাধ্য বিহারীবাবু একগাল হেসে মাথা নাড়তেই, বিহারীগিন্নী চোখ পাকিয়ে বললে,
- “ও তো হাসি কিসের। যাও, দুটো লর্ড চমচম নিয়ে নাও। দুপুরে কাঁচকলাসেদ্ধ খাবে, তাহলেই পাবে বিকেলে একটা চমচম।”

বিহারীবাবু আচমকা আনন্দে “গিন্নী, ওও গো গিন্নী, আমার গিন্নী” বলে প্রায় জড়িয়ে ধরতে যাবে,

বিহারীগিন্নী ভুঁরু কুঁচকে বললে,
- “বেলনচাকির দোকানটা কোনদিকে গো? আমিও ওমনি একটা তেলচকচকে বেলনী কিনব।”
😤
#সংগৃহিত

⬛স্বামী- স্ত্রীর ছোটো একটা গল্প পড়ে দেখুন। আশা করি ভালো লাগবে......!!!

স্বামীঃ মার্কেট যাচ্ছি।
স্ত্রীঃ ওগো, মার্কেট থেকে আমার জন্য কী আনবে?
স্বামীঃ আনকো কিছু একটা।
স্ত্রীঃ বলো সেটা কী???
স্বামীঃ কী চাও তুমি বলো....????
স্ত্রী তখন রসিকতা করে বললো
স্ত্রীঃ চাই তো অনেক কিছু। সম্ভব হলেতো বলতাম পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে এসো।
👇

কিন্তু সেটা সম্ভব না।
তখন লোকটা রেগে গম্ভীর হয়ে গেলে।
বউয়ের কথাগুলো তার গায়ে
যেন লেগে গেছে।
স্বামীঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আজ আমি
তোমার জন্য পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে আসবো।
হেসে উঠলো স্ত্রী আর বললো....!!!!
স্ত্রীঃ তুমি তো দেখছি পাগল হয়ে গেছো।
পৃথিবীর সবকিছু তুমি আমার
জন্য নিয়ে আসবে কেমন করে.....????
সেই ক্ষমতা তোমার আছে নাকি??
অশিক্ষিত গ্রাম্য হলেও স্বামী
বেচারা স্ত্রীর কথায় তার আঘাত লাগলো।
👇
👇
কিছু সময়ের জন্য হিতাহিত জ্ঞান
হারিয়ে ফেলে বললে....!!!!
স্বামীঃ আজ আমি অবশ্যই তোমার জন্য
পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে আসবো।
যদি না পারি, তাহলে তুমি তালাক হয়ে যাবে।
বলেই বেরিয়ে গেলে ঘর থেকে।
ঘন্টা দুয়েক পর, মাথা থেকে যখন
আবেগের ভুত নেমেছে, পড়লো মহা দুর্ভাবনায়।
পৃথিবীর সবকিছু তো সে
জীবনেও কিনে ফেলতে পারবে না
আবার বউকে শর্তসাপেক্ষে তালাকও
বলে এসেছে.....!!!!!
এখন উপায় কী.....?????
বেশকিছু আলেমের সাথে দেখা করলো সে।
সমস্যার সমাধান চাইলো।
সকল আলেমই তাকে জানালেন বউকে আর
ধরে রাখার কোন উপায় নেই।
👇
👇
পৃথিবীর সবকিছু বউকে নিয়ে দেয়া
যেহেতু সম্ভব না।
লোকটি মাথায় চুল টানতে টানতে দিশেহারা।
হয়ে ঘুরতে লাগলো।

-একলোক তার কাহিনি শুনে বললো
নারে ভাই, আমিও তোমার কোন উপায়
দেখতে পাচ্ছিনা......!!!!
তবে আমি তোমাকে একটি বুদ্ধি বলে দিচ্ছি।
জানি তাতেও লাভ হবে না।
চেষ্টা করে দেখতে পারো তুমি একজন আলেমের
কাছে যেতে পারো।
শুনেছি তিনি মস্তবড় আলেম।
কিছু হলেও হতে পারে।
লোকটি চলে গেলো সেই আলেমের কাছে।
বিস্তারিত শুনার পর আলেম বললেন........!!!!
অতএব বড় কথা বলার দরকার
কী ছিলো.......????
স্বামীঃ ভুল হয়ে গেছে হুজুর।
মস্তবড় ভুল হয়ে গেছে।
রাগের মাথায় আবেগের বশে কী বলতে কী বলে
ফেলেছি বুঝতেই পারিনি।
আর কখনো এখন হবে না।
আপনি আমাকে এবারের মতো বাঁচিয়ে দিন।
👇
👇
মুক্তির উপায় বলে দিন।
আমি আল্লাহর ভয় করে,
আবার আমার স্ত্রীকেও ছাড়তে চাইনা।
আমি আমার স্ত্রীকে বড় বেশি ভালোবাসি.....!!!!
সেই আলেম চেহারা তখন হাসি
ফুটে উঠলো....!!!!
তিনি বললেন, আর কখনো এখন হবে না তো??
স্বামীঃ জ্বিনা হুজুর।
জীবনে এমন কথা ভুলেও উচ্চারণ করব না।
আলেমঃ মনে থাকে যেন।
এখন যাও, কোন লাইব্রেরি থেকে একখানা
কুরআন নিয়ে তোমার স্ত্রীর হাতে ধরিয়ে দাও।
তাহলে তোমার স্ত্রীকে আর তালাক দেয়া হবে না।
👇
👇
এতবড় জটিল সমস্যার এই সহজ সমাধান পেয়ে
লোকটি অবিশ্বাস্য চোখে তাকাতে লাগলো
আলেমের দিকে।
ব্যাপারটি লক্ষ করে তিনি বললেন তুমি নিশ্চিন্তে এটা করতে পারো।
আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি।
তুমি তোমার স্ত্রীকে বলেছিলে না পৃথিবীর সবকিছু
তাকে দিয়ে দিতে না পারলে
তার উপর তালাক হয়ে যাবে.....?????
পবিত্র কুরআন হচ্ছে এমন এক কিতাব যার
ভিতরে পৃথিবীর সবকিছু আছে।
💎মাশাআল্লাহ💎
👇
👇
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে বুঝার
তৌফিক দান করুন #আমিন💞

বুড়ি মরে গেল।
বুড়োটা ভাঁজ হয়ে থাকা চামড়ার মাঝে ছোট্ট বসে যাওয়া চোখখানা দিয়ে দেখলো...
কিছু জল চোখের কোণ থেকে ঝরে পড়লো...

'লোক দেখানো শোক'
চললো কিছুদিন, তারপর যেন এক নাটকের সমাপ্তি ঘটলো...

তার ব্যবহৃত শাড়ি নিয়ে মেয়েদের ভাগাভাগি চললো। কেউ বালিশের কভার বানাবে, কেউ বিছানার চাদর হিসেবে ব্যবহার করবে, কেউ কানের দুল নেবে, কেউ বালাজোড়া......

যার যার নিজের সংসারে যেন একটা বোঝা নেমে গেল...

বুড়ো একা বসে বসে দেখে তাদের কান্ডকারখানা...

মনের বাজারে স্মৃতির দর'কষাকষি করতে করতে সেটাও একসময় বিক্রি হয়ে যায় মস্তিকের কোন এক ফাঁক ফোকরে...

যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়, বুড়ো একা হয়ে পড়ে, হাতের লাঠিখানায় ভর করে এদিক সেদিক পায়চারী করে...

সেদিন ছোট নাতনী এসে বলে গেল "দাদু দাদু, তুমি মরে গেলে কিন্ত এই লাঠিখানা আমার, আমি খেলবো.!"

এদিক থেকে বৌমা দৌড়ে আসে "দাঁড়া, তোকে আজ মেরে ফেলবো। এসব কথা বলতে নেই, বলেছি না.?

বুড়ো হাসে...
যে বৌমার এমন শাসন সেও গোপনে প্রতিবেশির কাছে গল্প করে বুড়োটার খালি কষ্ট, মরে গেলেই বাঁচে...

সেদিন নাতি তার বন্ধুদের নিয়ে তার ছোট ঘরে আড্ডা দিচ্ছে আর বলছে "দাদুর অবস্থাও বেশি ভাল না। কিছুদিনের মধ্যে উইকেট পড়ে যেতে পারে। তখন ওই ঘর আমার, তখন জমিয়ে আড্ডা হবে.!"

বুড়ো শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে...

দুই ছেলের মাঝে তো প্রায়দিন ঝগড়া লেগেই থাকে,
বুড়ো কার কাছে ক'দিন খাবে এই নিয়ে...

বুড়োটা আজ কারো বাবা নয়, আজ কারো শ্বশুর নয়, কারো দাদুও নয়,
সে আজ শুধুই এক বোঝা...

আজ বুড়োর জন্মদিন। গত বছর বুড়িটা বেঁচে ছিল, তাও একটু পায়েশ রেঁধে খাইয়েছিলো...
আজ সারাটা দিন গেল, কেউ কিছুই বললো না...

কিই বা বলবে.! যার মৃত্যুর জন্য সকলে মুখিয়ে আছে, কি বা দরকার তাকে সেই জন্মের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার.!

অথচ কিছুদিন আগে কত লোক খাইয়ে নাতনীর জন্মদিন পালন করা হলো...

বুড়োর হিসেব টা জমা পড়ে আছে, কারণ তার মৃত্যুর পরেও তো অনেক মানুষকে খাওয়াতে হবে...

সেখানেও দুই ভাইয়ের ঝগড়া হবে খরচ করা নিয়ে...

বুড়িটার বেলা তে তো তাই হয়েছিল...

বুড়ো ভাবে, কিসের এ জীবন.? কাদের জন্য এতকিছু.!

বুড়ো চশমাটা চোখ থেকে নামিয়ে একটু মুছে নেয়। কেমন যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে...

আকাশের দিকে তাকিয়ে বুড়ো একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো,
মনে মনে এটাই বললো "পৃথিবীর সমগ্র বাবা যেন বাবা হয়েই বাঁচে, বোঝা হয়ে নয়...!"

(সংগৃহীত)

#ধৈর্য_ধরে_পুরোটা_পড়ুন
সাইকোলজির টিচার ক্লাসে ঢুকেই
বললেন :-
আজ পড়াবো না।
সবাই খুব খুশি।
টিচার ক্লাসের মাঝে গিয়ে একটা
বেঞ্চে বসলেন।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, বেশ গল্পগুজব
করার মতো একটা পরিবেশ।
স্টুডেন্টদের মনেও পড়াশোনার
কোনো চাপ নেই। টিচার খুব
আন্তরিকতার সাথেই পাশের
মেয়েটিকে বললেন :- জননী, তোমার
কি বিয়ে হয়েছে ?
মেয়েটি একটু লজ্জা পেয়ে বললো :-
হ্যাঁ স্যার। আমার একটা দুই বছরের
ছেলেও আছে।
টিচার চট করে উঠে দাঁড়ালেন।
খুব হাসি হাসি মুখ নিয়ে বললেন :-
আমরা আজ আমাদের একজন প্রিয়
মানুষের নাম জানবো।
এই কথা বলে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে
বললেন :-
মা আজকে তুমিই টিচার, এই নাও চক্-
ডাস্টার। যাও তোমার প্রিয় দশ জন
মানুষের নাম লেখো।
মেয়েটি বোর্ডে গিয়ে দশ জন
মানুষের নাম লিখলো।
টিচার বললেন :- এঁরা কারা ?
তাঁদের পরিচয় ডান পাশে লেখো।
মেয়েটি তাঁদের পরিচয় লিখলো।
সংসারে, পাশে ও দু একজন বন্ধু,
প্রতিবেশীর নামও আছে।
এবার টিচার বললেন :- লিস্ট থেকে
পাঁচজনকে মুছে দাও।
মেয়েটি তাঁর প্রতিবেশী আর
ক্লাসমেটদের নাম মুছে দিল৷
টিচার একটু মুচকি হেসে বললেন :-
আরো তিন জনের নাম মোছো।
মেয়েটি এবার একটু ভাবনায় পড়লো।
ক্লাসের অন্য স্টুডেন্টরা এবার
সিরিয়াসলি নিলো বিষয়টিকে।
টিচার খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছেন
মেয়েটার সাইকোলজি কিভাবে কাজ
করছে।
মেয়েটির হাত কাঁপছে, সে ধীরে ধীরে
তার বেস্ট ফ্রেণ্ডের নাম মুছলো।
বাবা আর মায়ের নামও মুছে দিলো।
এখন মেয়েটি রীতিমতো কাঁদছে।
যে মজা দিয়ে ক্লাস শুরু হয়েছিল, সে
মজা আর নেই।
ক্লাসের অন্যদের মধ্যেও টান টান
উত্তেজনা। লিষ্টে আর বাকি আছে
দুজন। মেয়েটির স্বামী আর সন্তান।
টিচার এবারে বললেন আর একজনের
নাম মোছো।
কিন্তু মেয়েটি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।
কারোর নাম সে মুছতে পারছে না,
টিচার বললেন :-
মা গো, এটা একটা খেলা।
সাইকোলজির খেলা। জাস্ট প্রিয়
মানুষদের নাম মুছে দিতে বলেছি।
মেরে ফেলতে তো বলিনি।
মেয়েটি কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে তার
সন্তানের নাম মুছে দিলো।
টিচার এবার মেয়েটির কাছে গেলেন,
পকেট থেকে একটা গিফ্ট বের করে
বললেন :- তোমার মনের উপর দিয়ে
যে ঝড়টা গেলো তার জন্য আমি
দুঃখিত। আর এই গিফ্ট বক্সে দশটা
গিফ্ট আছে। তোমার সব
প্রিয়জনদের জন্য।
এবারে বলো কেন তুমি অন্য
নামগুলো মুছলে। মেয়েটি বললো :-
প্রথমে বন্ধু আর প্রতিবেশীদের নাম
মুছে দিলাম, তবুও আমার কাছে বেস্ট
ফ্রেণ্ড আর পরিবারের সবাই
রইলো।
পরে যখন আরও তিনজনের নাম
মুছতে বললেন, তখন বেস্ট ফ্রেণ্ড
আর বাবা মায়ের নাম মুছে দিলাম
ভাবলাম বাবা মা তো আর চিরদিন
থাকবে না। আমার বেস্ট ফ্রেণ্ড না
থাকলে কি হয়েছে ? আমার কাছে
আমার পুত্র আর তার বাবাই বেস্ট
ফ্রেণ্ড।
কিন্তু সবার শেষে যখন এই দুজনের
মধ্যে একজনকে মুছতে বললেন
তখন আর সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম
না পরে ভেবে দেখলাম, ছেলে তো বড়
হয়ে একদিন আমাকে ছেড়ে চলে
গেলেও যেতে পারে। কিন্তু ছেলের
বাবা তো কোনো দিনও আমাকে
ছেড়ে যাবে না।
…….তাই নিজের জীবনসঙ্গীকে প্রাণ
ভরে ভালোবাসুন। কারণ, তিনিই শেষ
পর্যন্ত আপনার সাথে, আপনার
পাশে থাকবেন।

বিশ্বের ৩য় শীর্ষ ধনী বিল গেটস, এটি সকলেই জানে। কথা সেটা নয়।

গেটস ১০৫.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক। কথা সেটাও নয়।

তিনি রোজ ৮ কোটি টাকা খরচ করলেও তার সম্পদ ফুরাতে লাগবে ২১৮ বছর। কথা সেটাও নয়।

গেটস প্রতিমাসে শত শত কোটি টাকা দান করেন, যার বেশির ভাগই খরচ হয় দরিদ্র, শিক্ষা ও চিকিৎসাবঞ্চিত শিশুদের পেছনে। তবে কথা সেটাও নয়।

তিনি হার্ভার্ডের পড়াশোনা ছেড়ে প্রোগামিং শুরু করেন। কথা সেটাও নয়।

বিল গেটস ফাস্টফুড শপে লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৬০০ টাকার খাবার কেনেন এবং রাতের খাবার খেয়ে নিজের প্লেটটা নিজেই ধুয়ে রাখেন। কথা এটাও নয়।

তিনি তার সন্তানদের হাতে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কম্পিউটারসহ কোনও ধরণের ইলেকট্রনিক যন্ত্রই দেননি। এটাও কথা নয়।

গেটস এখনও প্রতিদিন সবার আগে ঘুম থেকে ওঠে শরীরমনের জন্য এক ঘণ্টা করে দৌঁড়ান বা ব্যায়াম করেন। কিন্তু কথা সেটাও নয়।

তাহলে কথাটা কী! কথাটা হচ্ছে, বিল গেটস তার বিপুল ধনসম্পদের কানাকড়িও দিতে চান না সন্তানদের। ব্যতিক্রমী এই চিন্তাবিদ মনে করেন বিনা পরিশ্রমে টাকা-পয়সা জীবন গঠনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তাই সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এত বিপুল ধনসম্পদ রেখে যাওয়ার কোনও মানে হয় না। এটি তাদের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। তাই তিনি চান তার সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরি-বাকরি করে নিজেদের ক্যারিয়ার নিজেরাই তৈরি করে নিক।

(তথ্যসূত্র : আজকের 'বাংলাদেশ প্রতিদিন)

ভাইয়ের জন্য

মেয়েদের বলছি- ইজ্জত হারিয়ে কান্না করার চাইতে,,😏⚠
ইজ্জত থাকতে পর্দা করুন
কেউ টাচ্ তো দূরে থাক কাছেও গেসতে পারবেনা। ☺

॥ #শাস্তি ॥

দিনটা ১৯৬১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। ঐদিন পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে বিরল এক ঘটনা — পৃথিবীতে প্রথম এবং শেষ কোনও হাতির ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়।

আজ আমরা সেই কাহিনীই শুনবো....

ঘটনাটি আমেরিকার ঘটে ‘টেনেসি’ (Tennessee) রাজ্যের ‘আরউইন’ (Erwin) শহরে।

সেখানকার ‘চার্লি স্পার্কস্’ নামক এক সার্কাস দলের প্রধান আকর্ষণ ছিল ম্যারি নামের এক হাতি।
ম্যারি সার্কাসে দুর্দান্ত সব কেরামতি দেখিয়ে মানুষকে অভিভূত করে রাখতো। আর তাই ম্যারিকে দেখতেই সার্কাসে ভীড় হতো সবচেয়ে বেশি।
সার্কাস দলের মালিক হাতিদের পুরোনো মাহুতকে অপসারণ করে নতুন কর্মচারী রেড এল্ড্রিক্সকে নিযুক্ত করেন হাতিদের দেখাশোনা করতে এবং হাতিদের নিয়ে খেলা দেখাতে।
নব নিযুক্ত রেড হাতিদের বিষয়ে অতটা অভিজ্ঞ ছিল না,
আর তাছাড়া নতুন কর্মচারী হওয়ায় সে হাতিদের আচরণ, ইচ্ছে এসবও ঠিক ঠাক বুঝতো না।
এইরকম একদিন খেলা চলার সময় রেড ম্যারির উপরে
বসে সার্কাস দেখাচ্ছে।
সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল– ম্যারি সামনের দুই পা তুলে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে যাচ্ছে।
কিন্তু মাহুত রেড অযথাই ম্যারির কানে লোহার শিক দিয়ে আঘাত করতে থাকে।
এক সময় ম্যারির মেজাজ চড়ে যায় এবং সে রেডকে টেনে নিচে নামিয়ে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলে।

ঘটনায় সমগ্র সার্কাস প্রাঙ্গণ এবং শহর জুড়ে ম্যারি বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠে। সবারই এক দাবি, হত্যাকারী হাতিকে সাজা দিতে হবে।
তা না হলে আন্দোলন থামবে না।
একটি হাতির থেকে একজন মানুষের মূল্য অনেক বেশি।
এদিকে কেউই আর চার্লি স্পার্কস এর কোন শো দেখতে যাচ্ছিলেন না। ক্রমে সার্কাস দলটিই এক সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। মালিক কোন মতেই জনগণকে বোঝাতে পারছিলেন না যে, রেড হত্যায় ম্যারির দোষ যতটা তার চেয়ে বেশি রেড ম্যারিকে রাগিয়ে দিতে কাজ করেছিল তাই ম্যারি রেগে যায়।
ম্যারি একটি অবলা প্রাণী তার কোনো দোষ নেই।
কিন্তু মানুষ তা বুঝলো না।
শেষে বাধ্য হয়েই সার্কাস মালিক সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যারিকে হত্যা করা হবে,
কিন্তু কিভাবে?
বিশাল দেহী এশিয়ান এই হাতি এতোই বড় ছিলো যে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পন্থা নিয়েই অনেক ভাবতে হয়েছিল সবাইকে।
শেষে সিদ্ধান্ত হয় ম্যারিকে ক্রেনে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়া হবে।
তাই বিশাল ক্রেন নিয়ে আসা হল।
শহরের বিক্ষুব্ধ সব নাগরিককে আমন্ত্রণ জানানো হলো।
সবাই মেতে উঠলো ভয়ংকর এক হত্যা প্রত্যক্ষ করতে।
সবার চোখে তখন প্রতিশোধের ক্রোধ টগবগ করছে। ম্যারিকে অবশেষে গলায় বিশাল এক চেন দিয়ে ক্রেনের হুকে বাঁধা হলো।
ক্রেন যেই চালু করা হলো মুহূর্তে ম্যারিকে এক টানে ২০ ফুট উপরে তুলে নিলো।
ম্যারি খুবই স্বাস্থ্যবান ও ভারী হওয়াতে ক্রেনের চেন ছিঁড়ে ২০ ফুট উপর থেকে পড়ে যায় এবং মেরুদণ্ড ভেঙে যায়;
পা ভেঙ্গে যায়,
গলা কেটে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে।
কিন্তু মানুষগুলো!
কারো মন আর গলেনা,
আহত ম্যারিকে আবার ক্রেনের চেনের সাথে বাঁধা হলো।
থেমে গেলে চলবে না, শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
পরের চেষ্টায় ম্যারি ফাঁসির চেনে ছটফট করতে করতেই মারা যায়।
আসলে ম্যারি মারা যায়নি,
ওইদিন ফাসির চেনে ঝুলিয়ে হত্যা হয়েছে মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও মানবতার।
আমরা ঈশ্বরের সৃষ্টির সেরা জীব,
আর সেই আমরাই মাঝে মাঝে এমন সব কাজ করে থাকি যা কিনা আমাদের সৃষ্টির নিকৃষ্ট প্রাণীর থেকেও নিচে নামিয়ে আনে ।

দিনটা ছিল ২০১১ সালের ১২ই এপ্রিল ...

বাইশ বছরের একটা মেয়ে লক্ষনৌ থেকে পদ্মাবতী এক্সপ্রেসে উঠেছিল দিল্লী যাবে বলে। রাতের ট্রেন, তাড়াহুড়োয় সে একাই চলেছে।

মনে তার চাপা আনন্দ। CISF এ চাকরিটা এবার বোধ হয় হয়েই যাবে। আর হবে নাই বা কেন? জাতীয়স্তরের ভলিবল খেলোয়াড় সে, সঙ্গে ফুটবলও খেলে মাঝেমাঝেই। স্পোর্টস কোটায় অনেকদিন আগেই তার চাকরিটা হয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল, এখনো যে হয়নি এটাই আশ্চর্যের।

মেয়েটা যখন লক্ষনৌ থেকে ট্রেনে উঠল তখন রাত প্রায় বারোটা। হঠাৎ ইন্টারভিউয়ের চিঠি আসায় তাড়াহুড়োয় রিজার্ভেশন কিছুতেই পাওয়া যায়নি, মেয়েটা কোনোরকমে জেনারেল কামরায় একটু জায়গা পেয়ে চুপ করে বসেছিল। ঘুমোলে চলবে না, সঙ্গের ব্যাগে টাকাপয়সা, রেজাল্ট, খেলার সার্টিফিকেট সবই আছে।

তবু একনাগাড়ে বসে থাকলে সবারই ঝিমুনি আসে। তার ওপর রাতের ট্রেন এমনিতেই জোরে চলে। ফলে পদ্মাবতী এক্সপ্রেস যখন চেনাতি ষ্টেশন থেকে জোরে হুইসল বাজিয়ে রওনা দিল, মেয়েটা ঘুমে প্রায় ঢুলে পড়েছে পাশের দেহাতী মহিলাটির কাঁধে। সারাদিন মাঠে প্র্যাকটিস করে এমনিতে ক্লান্ত ছিল, তার ওপর জানলা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা হাওয়া, ঘুম তো আসতে বাধ্য।

কামরার অন্য লোকেরাও ঝিমোচ্ছে। কেউ বা তখনো জেগে আছে, হাই তুলছে ঘনঘন।

মেয়েটা একটা ব্যাপার বুঝতে পারেনি, ও যেখানে বসেছিল, তার চেয়ে কয়েকহাত দূরে তিনজোড়া চোখ ওর ওপর সমানে নজর রাখছিল। একা সোমত্ত মেয়ে রাতের সাধারণ কামরায় বিরল তো বটেই, তবে তার চেয়েও বেশি যেটা ওই চোখগুলোকে আকর্ষণ করছিল, সেটা হল মেয়েটার গলায় ট্রেনের দুলুনিতে মৃদুমন্দ দুলতে থাকা খাঁটি সোনার হারটা। টি-শার্টের ফাঁক দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

লোকতিনটে আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল। যখন বুঝল মেয়েটা অকাতরে ঘুমোচ্ছে, ক্লান্ত চোখদুটো একদম বোজা, নিঃশ্বাস পড়ছে একলয়ে, তখন একজন আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল।

মেয়েটা বসেছিল লোয়ার বার্থের একদম কোণায়। লোকটা কিছুই হয়নি এমন ভাব করে বাথরুম যেতে যেতে একটুও না ঝুঁকে অভিজ্ঞ হাতটা রাখল মেয়েটার গলায়।

কয়েক মাইক্রোসেকেন্ড। তারপরেই টান মেরে ছিঁড়ে নিল হারটা।

পরিকল্পনাটা ছিল, লোকটা হারটা ছিনিয়ে নিয়েই বাথরুমের দিকে চলে যাবে, আর সেটা মেয়েটা বা অন্য কেউ দেখে ফেলার আগেই বাকি দুজন গিয়ে পরিস্থিতি বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে।

কিন্তু প্ল্যানমাফিক ব্যাপারটা এগোল না। মেয়েটার গলা থেকে হারটা ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার ঘুম ভেঙে গেল, মুহূর্তে কি হচ্ছে বুঝতে পেরে হাত দিয়ে লোকোটার কাছ থেকে হারটা টানতে শুরু করল মেয়েটা।

মুশকো লোকটা পরিস্তিহিত বেগতিক দেখে সেই অবস্থাতেই টানতে টানতে বাথরুমের দিকে চলল। বাকি দুজন লোকও এগিয়ে আসতে লাগল। মেয়েটাও ছাড়ার বান্দা নয়, এই হারটা তার সর্বস্ব, সে হ্যাচড়াতে হ্যাচড়ড়াতে লোকটার সঙ্গে যেতে লাগল, সঙ্গে মুখে চিৎকার করতে লাগল, “চোর! চোর! বচাইয়ে মুঝে!”

অদ্ভুত ব্যাপার! মেয়েটার তারস্বরে চিৎকারে যারা জেগেছিল তারা তো সচকিত হয়ে উঠলই, কামরায় যারা ঘুমোচ্ছিল, তারাও ধড়মড়িয়ে উঠল। কিন্তু তিনটে লোকের সঙ্গে একটা মেয়ে একা লড়ে যাচ্ছে দেখেও তাদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। তারা শুধু নিজেদের চোখগুল দিয়ে উঁকিঝুঁকি মেরে দৃশ্যটা গিলতে লাগল।

একজনও এগিয়ে এল না।

ওদিকে মেয়েটা লোকতিনটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে করতে বাথরুমের আগের ফাঁকা জায়গাটায় এসে পড়েছে। ট্রেন ততক্ষণে বেরিলির কাছাকাছি এসে গেছে, হু হু করে হাওয়া ঢুকছে খোলা দরজা দিয়ে।

মেয়েটার হাতদুটো মুচড়ে ধরেছিল একটা লোক, সেই অবস্থাতেই একটা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সে প্রাণপণে ঘুষি চালাল লোকটার মুখে। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় লোকটা ওর পেটে প্রচণ্ড জোরে হাত দিয়ে আঘাত করল। আঘাতের তীব্রতায় মেয়েটার নাকমুখ কুঁচকে গেলেও সে ততক্ষণে দাঁত বসিয়ে রক্তাক্ত করে দিয়েছে তৃতীয় লোকটার হাত, চামড়া ছিঁড়ে মাংস দেখা যাচ্ছে সেখানে।

মিনিটতিনেকের মধ্যেই লোকগুলো প্রমাদ গুণল। বেরিলি ষ্টেশন আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢুকবে ট্রেন, এই মেয়ে তো সহজে ছাড়ার বান্দা নয়! এত কিল-চড়-ঘুসিতেও ঠাণ্ডা হচ্ছে না!

লোকতিনটে একঝলক নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি করল, তারপর চোখ বুলিয়ে কামরার ভেতরের দিকে। সেখানে তখনো অন্তত তিরিশজোড়া চোখ এদিকে উৎসুক নয়নে চেয়ে আছে, কিন্তু কারুর কোন বক্তব্য নেই। নাহ, এদের নিয়ে চাপ নেই।

যে লোকটা হারটা প্রথম ছিঁড়তে গিয়েছিল, সে নিজের ঠোঁটটা চেটে নিল একবার, মেয়েটার দুটো হাতই পেছন দিকে চেপে ধরা আছে, তবু সে পা দিয়ে লাথি কষিয়ে যাচ্ছে।

প্রথম লোকটা ইশারা করতেই প্রায় আলোর গতিতে লোক তিনটে গিয়ে গেল দরজার দিকে, তারপর হু হু গতিতে ছুটতে থাকা ট্রেন থেকে পোড়া সিগারেটের টুকরো ফেলার মত ছুঁড়ে ফেলে দিল বাইশ বছরের জাতীয় স্তরে ভলিবল খেলা মেয়েটাকে।

মুহূর্তে একরাশ কালো শূন্যতা। অন্ধকার হয়ে গেল একটা সোনালী ভবিষ্যৎ। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল অনেক স্বপ্ন।

মেয়েটা ছিটকে পড়ল পাশের রেললাইনের ট্র্যাকে। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নিয়তির টানে সেই লাইনে ছুটে এল আরেকটা ট্রেন। ওর বাঁ পা’টা ট্রেন থেকে পড়ে আগেই ভেঙে গিয়েছিল, এবার তার ওপর ট্রেন ছুটে গিয়ে বড় থেকে ছোট, সবরকম হাড়গুলোকে ধুলোর মত গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিল। তলপেটে আগে থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল, এখন প্রচণ্ড আঘাতে চিড় ধরল তলপেটের নীচের হাড়গুলোতেও। কোমরের প্রধান হাড়টাও মড়মড়িয়ে ভেঙে গেল।

অমানুষিক কষ্ট সহ্য করতে করতে মেয়েটা জ্ঞান হারাল।

কি ভাবছেন? কষ্টে মুচড়ে উঠছে মন? রাগ হচ্ছে কামরার নীরব দর্শকগুলোর প্রতি?

গল্প এখনো শেষ হয়নি ....

২০১১ থেকে এবার সোজা চলে আসুন ২০১৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি।
হ্যাঁ হ্যাঁ, সেই মেয়েটাই অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ 'মাউন্ট ভিনসন' জয় করেছে। বিশ্বের প্রথম মহিলা অ্যাম্পিউইটি হিসেবে।

হ্যাঁ বন্ধুরা, এই ভারতকন্যার নাম অরুনিমা সিনহা।

অরুণিমা ২০১৩ সালেই মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে ফেলেছে, তার একটা পা প্রোস্থেটিক, অর্থাৎ অ্যাম্পিউট করা। আর বাকি শরীরটা অজস্র জায়গায় ভাঙা।

একটা রাতের মধ্যে সে যখন জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় থেকে প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়েছিল, আশপাশের মানুষগুলর চোখে ফুটে উঠেছিল বেদনা, হতাশা।

আহা! এমন মেয়েটা শেষ হয়ে গেল!

সেই করুণা অরুণিমা নিতে পারেনি। সে কারুর করুণার পাত্রী নয়। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর মাসকয়েক হাসপাতালে থেকে সে যখন ছাড়া পেয়েছিল, তারপর থেকেই শুরু করে দিয়েছিল বিরামহীন ট্রেনিং। মাত্র দুইবছরের মধ্যে প্রথম মহিলা অ্যাম্পিউটি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে সে চমকে দিয়েছিল সবাইকে।

সঙ্গে সে শুরু করেছে নিজের সংস্থা অরুণিমা ফাউন্ডেশন যারা দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলায় প্রেরণা জোগায়, সাহায্য করে। ২০১৫ সালে সে পেয়েছে পদ্মশ্রী, সংবর্ধিত হয়েছে দেশেবিদেশে।

গতকাল অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট ভিনসন জয় করার পর সে জানিয়েছে পৃথিবীর সব উঁচু শৃঙ্গগুলো সে জয় করতে চায়। চূড়ায় উঠে সে বলতে চায়, “দ্যাখো আই এম অন দ্য টপ!"

ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায় হতাশা, অসম্ভব, শেষের মত শব্দগুলোকে। পাল্টে দিতে চায় সেই মানুষগুলোর ধারণাকে যারা ভেবেছিলেন ও চিরকালের মত শেষ হয়ে গেছে।

আসুন মন থেকে শুভেচ্ছা জানাই, গর্বিত হই এই ভারতীয়ের জন্য।

এই জয় সে উৎসর্গ করেছে তার সবচেয়ে শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দকে।

রুপোলি পর্দার সামান্য মুচমুচে খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি, কিন্তু এই ধরণের সত্যিকারের হিরোদের আমরা কজন চিনি? কজন জানি?

অরুণিমা-র মত হিরো আরো উঠে আসুক, সমস্ত নেগেটিভিটিকে হেলায় ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে জয় করুক তারা স্বপ্ন, এমনই আশা রইল।

যারা প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামে, পরীক্ষায়, বা সামাজিক সমস্যায় হতাশ হয়ে পড়েন, তাঁদের মনেও কিন্তু কোন এককোণে অরুণিমা সিনহা লুকিয়ে রয়েছে।

দরকার শুধু তাকে মন থেকে বের করে আনার!

নারী তুমি নাকি সুন্দর.....
নাহ্ নাহ্ এ পৃথিবীর কাছে তুমি শুধুই অভিশাপ😒🍂

নারী তুমি গর্ভে আসলে গর্ভেই খুন হও!!
নারী তুমি এ পৃথিবীতে আসলে পিতার গর্ভ নয় বরং চিন্তার কারণ হও!!
পরিবার গর্ব নয় লজ্জিত বোধ করে😓🍃

নারী তোমার কোনো অধিকার নেই নিজের পছন্দের মানুষকে জীবনে আনার!! মুখ বুজে সহ্য করে যেতে হবে,
কিছু বলার অধিকার নেই তোমার😔🍂

নারী তোমার কোনো অধিকার নেই ছেলে বন্ধু রাখার!! আর রাখলে তবে তুমি দুশ্চরিত্রা😣🍃

নারী তুমি যদি ভালোবাসার মানুষের মন যুগিয়ে চলো, তবে তুমি ভালো প্রেমিকা!! আর তা যদি না পারো তবে তুমি প্রতারক!! আর যদি তাকে ছেড়ে অন্য আর একজনের হাত ধরো তবে তুমি ছেলে নাচানোতে এক্সপার্ট নয়তো তুমি বেশ্যা😐🍂

নারী তোমার কোনো অধিকার নেই স্বাধীনভাবে বাঁচার!!
নারী তোমার পরিবার কখনও তার সাথে বিয়ে দেবে না যাকে তুমি ভালোবাসো, যাকে তুমি চেনো, জানো, বোঝো!!
বরং তার সাথে তোমার বিয়ে দেবে যাকে তুমি চেনো না জানো না, যার পৃথিবী তোমার পৃথিবীর চেয়ে আলাদা🙁🍃

নারী তোমার মন বোঝে না এমন মানুষের হাতে পরলে তোমার জীবন ছিন্ন ভিন্ন, তবুও মুখ বুজে সহ্য করে যেতে হবে চিরটাকাল!! কারণ তোমার যে পায়ের তলায় মাটি নেই, তোমার বাবা তোমায় ঘরে তুলবে না!! উল্টো তোমাকেই শুনতে হবে তুমি কারোর মন যুগিয়ে চলতে পারোনি😥🍂

নারী তুমি কষ্ট পেলেও তোমাকে সইতে হবে কারণ তোমার কাজই হচ্ছে অত্যাচারীত্ব লোকেদের দাসত্ব করা😑🍃

নারী তুমি ধর্ষিত হলেও তাতে তোমারই দোষ ছিল,
নারী তুমি যদি স্বামী দারা ধর্ষিত হও,
তোমার শারীরিক না থাকা সত্ত্বেও,,
তাতে কিছুই আসে যায় না😥🍂

নারী তুমি সতী হলেও বারংবার তোমাকেই সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয় এই সমাজে😔🍁

নারী তুমি মায়াবিনী, মা, বোন, নও
তুমি যে অভিশপ্ত সহ্যের পুতুল😨😭

বড়_আপু
👉কলেজ থেকে বাসায় এসে ঢুকতেই মা হাতের ইশারায় বুঝালো যেন কোন শব্দ না করি। আমি চুপিচুপি মার কাছে গিয়ে আস্তে করে বললাম,
-- কি হয়েছে মা? বাবা কি রেগে আছে?
মা বললো,
~ না, তোর আপুর হোস্টেলে কি যেন ঝামেলা হচ্ছে তাই বাসায় চলে এসেছে। বাসায় আসার পর থেকে না কি খুব মাথা ব্যাথা করছে। এখন ঘুমিয়ে আছে। তুই আর কোন ডিস্টার্ব করিস না...
আমি মার কথা শুনে শুধু মুচকি হাসলাম। তারপর কিছু না বলে আমার রুমে চলে এলাম। পা থেকে মোজা গুলো খুললাম। শেষবার কবে মোজা ধুয়েছি আমার নিজের মনে নেই। নিজের মোজার গন্ধে নিজেই থাকতে পারছি না৷
মোজা গুলো নিয়ে চুপিচুপি আপুর রুমে গেলাম। দেখি আপু হা করে ঘুমাচ্ছে। সুন্দর করে আমার মোজা গুলো আপুর মুখের কাছে রেখে বাহির থেকে আপুর রুম লক করে এসে পড়লাম...
কতক্ষণ পর আপুর রুম থেকে ধুমধুম শব্দ হতে শুরু হলো। মা তাড়াতাড়ি দরজা খুলতেই আপু চিৎকার করে বলতে লাগলো,
- তোমায় বলেছিলাম না তোমার এই কুত্তা ছেলে যেন আমার রুমে না আসে তারপরও এই কুত্তা এসে আমার মুখে নোংরা মোজা গুলো রেখে গেছে। মোজার গন্ধে আমার দম আটকে গিয়েছিলো..
আমি তখন বললাম,
-- মোজা গন্ধ করবে কেন? মাত্র ৪০ দিন আগেই তো মোজা ধুয়েছি...
এই কথাটা বলে আমি কোন রকম আপুর চোখের সামনে থেকে চলে গেলাম তা না হলে আমার পিঠে কয়েকটা ধুমধাম পড়ে যেত...
বিকালে যখন বাসার বাহিরে যাবো তখন আপু ডেকে বললো,
-মিঠুন- আমার ফোনে ১০০ টাকা লোড করে দিস তো।
আমি আপুর থেকে টাকাটা নিলাম...
সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরি তখন আপু বললো,
- কি রে, তকে কখন বললাম টাকা লোড দিতে। এখনো তুই লোড দিস নি?
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- তুই না নিজের মুখে বললি, এই নে ১০০ টাকা তোর হাত খরচের জন্য দিলাম। আমি তো খরচ করে ফেলেছি..
আপু রাগে লাল হয়ে মা কে ডেকে বললো,
- তোমার এই কুত্তা ছেলেকে আমার ফোনে টাকা লোড করতে দিয়েছিলাম। কিন্তু এই বান্দার আমার ফোনে টাকা না দিয়ে নিজে খরচ করে ফেলেছে..
আপুর কথা শুনে মা বললো,
~ তুই তো জানিস এটা এক নাম্বারের চুর আর বাটপার। তারপরও ওকে টাকা দিতে গেলি কেন?
রাতে আপুর রুমে এসে দেখি আপু পড়ছে। আমি আপুকে বললাম,
-- আপু একটু ভিতরে আসবো?
আপু অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-তোর মতলবটা কি? কখনো তো আমার রুমে ঢুকার সময় অনুমতি নিস না। আজ হঠাৎ নিচ্ছিস যে...
আমি মাথাটা নিচু করে বললাম,
--আপু আজ আমড় রেজাল্ট কার্ড দিয়েছে। আমি ফিজিক্সে ফেল করেছি...
আপু হাসতে হাসতে বললো,
- খুব ভালো হয়ছে। এখন আমি বাবাকে বলে তকে ইচ্ছে মত মার খাওয়াবো। আমার সাথে এমন বান্দারগিরি করিস। এখন বুঝাবো মজা..
এমন সময় বাবা রুমে এসে আমাকে বললো,
~ কি রে, তোর না আজ রেজাল্ট কার্ড দেওয়ার কথা ছিলো?
আমি বলার আগেই আপু বললো,
- না বাবা এখনো দেয় নি। আর রেজাল্ট কার্ড দেখে লাভ কি? আজকাল কলেজগুলোতে অনেক কঠিন প্রশ্ন করে। আমি পিয়াসের ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রি প্রশ্নটা দেখেছিলাম। আমি শিওর কলেজের সবাই এই দুই বিষয়ে ফেল করবে। এতই কঠিন প্রশ্ন হয়ছে ।
বাবা আপুর কথা শুনে আস্তে আস্তে বললো,
~ একটু তো প্রশ্ন কঠিন করেই।
এই কথা বলে বাবা রুম থেকে চলে গেলো। আমি আপুর দিকে তাকিয়ে বললাম,
-- তোর মত একটা বোন থাকলে এইদেশে ঘরে ঘরে বিজ্ঞানী তৈরি হতো। কারণ সব বিজ্ঞানীরাই কোন না কোন বিষয় ফেল করেছে।
আমার কথা শুনে আপু আমার পিঠে কষে থাপ্পড় মেরে বললো,
-ফিজিক্সে ফেল করে আবার বিজ্ঞানী হবে। এইবারের মত বাঁচিয়ে দিলাম নেক্সট টাইম আর বাঁচাবো না। এখন যা সামনে থেকে...
২০ মিনিট ধরে আপুর ব্যাগ জিনিসপত্র বহন করে আপুকে গাড়িতে তুলে দিলাম। বাস যখন ছেড়ে যাবে তখন আপুকে বললাম,
--আপু এত কষ্ট করে তোর ব্যাগ গুলো নিয়ে এসেছি কিছু টাকা তো দে..
আপু মুচকি হেসে বললো,
- তুই কুলি না কি যে টাকা চাইছিস?
আপুর কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। রাগে চলে আসলাম অবশ্য আপু পিছন থেকে ডেকেছিলো কিন্তু আমি শুনি নি...
সকালে হঠাৎ আমার ফোনে একটা মেসেজ দেখে চমকে উঠলাম। কে যেন আমার বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। তার কিছুক্ষণ পর আপু ফোন দিয়ে বললো,
- কি রে, টাকা পেয়েছিস?
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-- এত টাকা পাঠিয়েছিস কেন?
আপু হেসে বললো,
- তুই না নতুন ফোন কিনতে চেয়েছিলো তাই টিউশনির টাকা পেয়ে তকে দিয়ে দিলাম। আর ৫ হাজার টাকা কয়েকদিন পর দিচ্ছি। তখন ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটা নতুন ফোন কিনে নিস...
আমি খুশিতে চিৎকার করে আপুকে বললাম,
-- আপু, প্লিজ আর কিছু টাকা বাড়িয়ে দিস। ১৮ হাজার টাকা দিয়ে নতুন মডেলের একটা ফোন কিনবো...
কিন্তু আপু আমার কোন কথায় শুনে নি। শুধু হ্যালো হ্যালো করতে লাগলো। এমন সময় শুনি কেউ একজন আপুকে বলছে, কি রে আর কত এই নষ্ট টেপ মারা ফোনটা ব্যবহার করবি। এইবার তো নতুন একটা ফোন কিন...
আপুর ফোনের হয়তো স্পিকার নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমার কথা শুনতে পারছে না। কিন্তু আমি ঠিকিই আপুর কথা গুলো শুনছি...
মুহূর্তের জন্য নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে স্বার্থপর ভাই মনে হলো। বোনের থেকে সবসময় কিছু না কিছু আবদার করি আর আমার বোন যে একটা নষ্ট ফোন ব্যবহার করে সেটা কখনো খেয়ালই করি নি...
আপুর ১০ হাজার টাকা আর আমার পুরাতন ফোন বিক্রি করে ৬ হাজার টাকা আর ২ হাজার টাকা বাবার পকেট থেকে চুরি করে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে একটা স্যামসাং নতুন মডেলের একটা ফোন কিনলাম...
আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের সামনে। আপুকে ফোন দিয়ে বলেছি নিচে আসতে। আপু নিচে এসে আমাকে দেখে অবাক হয়ে বললো,
- তকে কতবার বলেছি একটু ভালো করে পড়াশোনা কর কিন্তু তা তো করিস না। এখন নিশ্চয়ই বাবা তকে মেরেছে তাই না?
আমি কিছু না বলে আপুর দিকে ফোনটা বাড়িয়ে দিলাম।
আপু ফোনটা দেখে অবাক হয়ে বললো,
- তুই নতুন ফোন কিনেছিস? কিন্তু বাকি টাকা কোথায় পেলি?
আমি বললাম,
-- পুরাতন ফোনটা বিক্রি করে দিয়েছি আর বাবার পকেট থেকে কিছু টাকা চুরি করেছি...
আপু রেগে গিয়ে বললো,
- কুত্তা তুই চুরি করতে গেলি কেন? আমি তো কয়দিন পর টাকা এমনিতেই পাঠাতাম..
আমি আপুকে বললাম,
-- ফোনটা তোর জন্য কিনেছি। কয়দিন পর আমার পরীক্ষা। এখন ফোন থাকলে পড়া হবে না। ডাক্তার বোনের ভাই পরীক্ষায় ফেল করলে মান ইজ্জত যাবে...
আপু কান্না করছে। আমি আপুকে বললাম,
-- কাঁদছিস কেন?
আপু কাঁদতে কাঁদতে বললো,
- কুত্তা ভাই বড় হয়ে গেছে তো সেই কষ্টে কান্না করছি...
আপু এখনো বসে আছে আমি চলে যাচ্ছি। হঠাৎ পিছন ফিরে আপুকে বললাম,
-- আর যদি কখনো টেপ মারা মোবাইল ব্যবহার করিস তোর খবর আছে। মনে রাখিস তোর একটা ভাই আছে...
আমার কথা শুনে আপু হেসে দিলো। চোখে জল আর মুখে মিষ্টি হাসি। খুব অদ্ভুত রকম সুন্দর লাগছে আপুকে..
I'm Sorry
মাফ করে দিস আমাকে
অনেক ভালবাসি তোকে কিন্তু বুঝাতে পারি না........

আমার বিয়ের শাড়িটির দাম চার হাজার আট’শ টাকা। যেখানে আমারই বোন কিংবা কাজিনদের বিয়ের শাড়ির দাম পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আর্থিক সংকটের কারণে যে আমি কম দাম দিয়ে বিয়ের শাড়ি কিনেছি, এমন নয়। আসলে আমার মনে হয়েছে, কী দরকার, একদিনের জন্য এত বেশি টাকা নষ্ট করে! হাতে টাকা পেলে আমি পোশাক কেনার চেয়ে বই কেনায় বেশি মনোযোগ দেই। সে যাক, যার যার রুচির ব্যাপার। তবে এটা বলতে পারি, এক লক্ষ টাকার শাড়ি গায়ে জড়ানো বোনটির চেয়ে আমি মোটেও খারাপ নেই। ভালো থাকা যার যার মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি মনে করেন, আপনি ভালো আছেন, তাহলেই আপনি ভালো থাকবেন।

আমার পরিচিত এক ছেলে বিয়ে করেছে। বিয়ের ছবির অ্যালবাম দেখলে আপনার মনে হবে, এ যেন বর-কনে নয়, রূপকথার রাজকুমার আর রাজপুত্রবধু, এমনই স্বপ্নীল করে ছবিগুলো তোলা হয়েছে। অথচ, বিয়ের তিন মাস যেতে না যেতেই বরটি তার বউকে এমন মার মেরেছে যে বউয়ের মাথাই ফেটে গেছে! তখন মনে হলো, সুন্দর ছবি দেখেই মুগ্ধ হওয়া ঠিক নয়। জীবন সব সময় ছবির মতো নয়। অথবা কখনো কখনো ছবির থেকেও সুন্দর।

আমার এক পরিচিত মেয়ে আছে, যার বাবা মা তার পছন্দের ছেলেটির সঙ্গে বিয়ে দেয়নি, কারণ তারা চাচ্ছিল যে, তাদের মেয়েটি পড়াশুনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হোক, তারপরে বিয়ে। প্রেমিক ছেলেটির পরিবার থেকে তাড়া ছিল, সে অন্যত্র বিয়ে করে ফেলেছে। এদিকে মেয়েটি কষ্ট যা পাওয়ার তা তো পেয়েছেই, বয়সও বেড়ে যাচ্ছে অথচ মানানসই প্রস্তাব পাচ্ছে না বলে বিয়ে হচ্ছে না। পড়াশুনা শেষ, চাকরি বাকরিও পাচ্ছে না। এখন মেয়েটির মা-বাবাই কথা শোনাচ্ছে, আর কতকাল মাথার ওপর বসে বসে খাবি! মা-বাবাও যে অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের জীবন নষ্ট করে, এটি তারই উদাহরণ।

আমার যখন বিয়ে হয়, আমরা দুজনই স্টুডেন্ট। আমার একুশ, আতিকের তেইশ। আতিক কম বেতনের একটা চাকরি করে, আমার তেমন কোনো আয়-ইনকাম নেই। তবু আমার পরিবার বিয়েতে অমত করেনি। বিয়ের পরে আমরা একরূম সাবলেট নিয়ে উঠেছি। সস্তার আসবাবপত্রের দোকান থেকে কেনা দুই হাজার টাকার একটি খাট, একটি আলনা আর কম্পিউটার ছাড়া আর কিছুই ছিল না আমাদের ঘরে। দীর্ঘদিন আমরা দুইজন কোনো দামী ফোন ব্যবহার করিনি। মনে আছে, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর আমি কোনো নতুন জামা, জুতো, ব্যাগ কিনিনি। আগের যা ছিল, তাই দিয়েই চালিয়ে নিয়েছি। এক কেজি গরুর মাংস চার ভাগ করে রান্না করেছি। দিনের পর দিন শুধু সবজি দিয়েই ভাত খেয়েছি। এত যে কষ্ট করেছি, তবু একজনের বিরুদ্ধে আরেকজন কখনো অভিযোগ করিনি। আমাদের পরিবারকেও কখনো বলতে যাইনি, যে আমরা কষ্ট করছি। তারা জানতো, আমরা ভালো আছি। সত্যিই আমরা ভালো আছি। প্রয়োজন ছিল কিছুটা সময় ধৈর্য্য ধরার। আমরা তা করেছি, তাই দেখতে দেখতে দৃশ্য বদলে গেল, যে জীবন আমরা শুরু করেছিলাম, তার সঙ্গে বর্তমান জীবনের কোনো মিলই নেই! ভাগ্য বদলের জন্য তো প্রচেষ্টা থাকতে হবে, তাই না?

আরেকজনের সাজানো-গোছানো জীবনে প্রবেশ করার চেয়ে দুজন মিলে সাজিয়ে নিলে, সেই জীবনটা আরো বেশি সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। প্রায় সব মা-বাবাই বিয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত পাত্র খোঁজে, মেয়ের পড়াশুনা শেষ না হলে বিয়ে দিতে চায় না। ভালো কথা, পরে যখন মেয়েটির বিয়ে হয় না তখন কেন মেয়েটিকেই দোষারোপ করে! বিয়ে মানেই তো জমকালো সাজ-পোশাক, প্রচুর মেকআপ আর রাজকুমার-রাজকুমারীর বেশে ফটোশুট নয়। এগুলো কখনোই কাউকে ভালো রাখতে সাহায্য করে না। আমাদের জীবনটা আরাম-আয়েশ করে কাটানোর জন্য নয়। এখানে সংগ্রামের মানসিকতা না থাকলে কোনো ক্ষেত্রে সফল হওয়া যায় না। টাকার পেছনে দৌড়ে যারা একটা জীবন কাটিয়ে দেয়, তারা কখনো জীবনকে অনুভব করতে পারে না।

বিয়ের সময় পঁচিশ-ত্রিশ হাজার টাকা নষ্ট করে মেকআপ দেয়া ভূত না সেজে সেই টাকায় রাস্তায় থাকা মানুষগুলোকে একবেলা ভালো কিছু খাওয়ান। তাতে যদি আপনার মনে হয়, এতগুলো টাকা নষ্ট হলো, হোক। টাকা তো নষ্ট হতোই। আপনার মেকআপ করা মুখ দেখে আপনি ছাড়া কেউ হয়তো সুখী হতো না, কিন্তু এতগুলো মানুষ যখন একবেলা পেটপুরে খেয়ে সুখের হাসি হাসবে, সেই সুখ আপনি কোনো টাকায়ই কিনতে পারবেন না! আপনিই ঠিক করুন, কীসে আপনি তৃপ্ত, সবাইকে নিয়ে, নাকি একা একাই।"

(((( সংগৃহীত ))))

লেখাটা একবছর আগের,

বলছি, কাটাবন মোড়ে ভ্যানের উপরে থাকা মানিক, মণি ও তাদের ছোট্ট মাঈনউদ্দিনের কথা।

অনিক ভৌমিক নামে একজন চিত্রকরের ক্যামেরায় উঠে আসে তাদের জীবন। তার ফেসবুকের পোষ্টটি হুবহু তুলে দেয়া হল।
‘প্রেম কইরা পালিয়ে বিয়ে করাটা কি খুব দরকার ছিলো?

- ভাই রে.... মণিরে ভাল না বাইসা থাকতে পারি না কি করবো কন?
ভালবাসা নামের শব্দটির সংজ্ঞা যখন হারাতে বসচ্ছিলাম তখনই পরিচয় কাটাবন মোড়ের ভ্যানের উপরে থাকা এই ফ্যামিলির সাথে। কোলে যে সুন্দর ,ফুটফুটে বাচ্চাটি দেখচ্ছেন তার নাম মাঈনউদ্দিন...। বাবা মানিক ও মা এর নাম মণি।
রাস্তায় হাঁটার সময় হঠাৎ চোখ আটকে যায় তাদের দেখে। ভ্যানটা ধরতে গেলে তাদের এক অস্থায়ী আবাস...। এর পেছনের গল্পটা অন্য কোনো সাধারণ গল্প থেকে হয়তো আলাদা..। মানিকের সাথে মণির পরিচয়টা ছিলো বেশ বহুদিনের। দুজনেরই ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড মোটামুটি ভালোই ছিলো। প্রেম-ভালবাসা তার পরিণতিতে বিয়ে। কিন্তু সেটা ছিলো পালিয়ে.. মেয়ের ফ্যামিলি মেনে নিবেনা তার জন্যই পালিয়ে আসা। জীবন কোনো সিনেমা নয়.. তার জন্যই তারা পায় নি কোনো লটারি,পায় নি সঠিক স্থান। ভাগ্যটা ঘোলা জলের ডোবা হলেও অফুরন্ত ভালবাসাটা যেনো সেই ডোবায় ফুটা পদ্মফুল। মণি অর্থাৎ মানিকের বৌ তাদের বিয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত হাতে তুলে মানিককে খাইয়ে দেয়। মানিক বৌ এর হাত ছাড়া খেতেই পারে না..। অবাক না? অবাকের কিছুই নেই.. এটাই ভালবাসা। দুনিয়া-সংসার সব একদিকে আর মণি-মানিকের ভালবাসাটা একদিকে। মানিকের কাজ বলতে খুব ই সাধারণ .. দিন মজুর হিসেবে কাজ করে সে।

যা পায়, তা দিয়ে খাবার কিনে তা দুজন মিলে ভাগ করে খাচ্ছে..। মাঈনউদ্দিন কে নিয়ে মানিকের বিশাল স্বপ্ন.. তার জন্যই এতো বড় নাম রাখা.. ছবি তোলার সময় বলেছিলো ‘ছেলে একদিন আপনার মতো বড় হবে.. তাই বড় একটা নাম রেখে দিছি’। বড় হওয়াটা পরের ব্যপার তবে যেখানে স্বপ্ন আছে বিশাল আর ভালবাসাটা আছে সাথে সেখানে ভালো কিছু হবেই হবে...

ভ্যানে থাকুক বা রাস্তায় কিংবা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে জায়গা না পেলেও দুজনের হাত ধরে সাথে থাকাটার শক্তিটা যেখানে আছে সেখানে ‘অসুখী’ শব্দটি শুধুই বাংলা ডিকশনারির পাতায় থাকা শব্দ।

ভালবাসি, ভালবাসচ্ছি, ভালবাসুম, ভাল না বাইসা থাকতে পারি না তাই একসাথে থাকি.. আর কিছু বুঝি না... ভালবাসা বোধহয় এটাই.. সত্যি এটাই।’

খোকা আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে
রেখে আসিস না, আমি তোদের
সাথেই থাকবো, বুয়ার কাজ টা
না হয় আমিই করবো। তুইতো আবার
বাইরের খাবার খেতে পারিস
না আর বুয়া তো প্রতি দিন আসবে
না রে খোকা !

তোমাকে আমার লাগবেই। তোমাকে আমার সবচেয়ে বেশি লাগবে বৃদ্ধ বয়সে।

যৌবনে আমরা প্রচুর ঝগড়া করবো। ঝগড়া করে প্রায় রাতেই না খেয়ে ঘুমাবো। বিছানার দুই দিকে দুজনে মুখ করে শুয়ে থাকবো। কেউ কারও দিকে তাকাবো না। কথাও বলবো না। তুমি অভিমানে মুখ ফিরিয়ে কাঁদবে। বাইরে বৃষ্টি পড়তে শুরু করবে। ঠান্ডাতে আমি কাঁপতে থাকবো। আমি ঘুমিয়েছি ভেবে তুমি চুপি চুপি আমার গায়ের উপর কাঁথা দিতে আসলেই ধরে ফেলবো তোমার হাত...

একদিন বাজার থেকে পাঁচটা হলুদ গোলাপ কিনে বাড়ি ফিরবো। হলুদ গোলাপ দেখে তুমি ভীষণ রেগে যাবে। রেগে গিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলবে তুমি। আমি তখন বুক পকেটের কোণা থেকে লাল টকটকে একটি গোলাপ বের করে তোমার হাতে দেবো। তুমি আচমকাই হেসে ফেলবে সেদিন...

একদিন এক্সিডেন্ট করে বাড়ি ফিরবো। আমার কপালে রক্ত দেখে তুমি কেঁদে ফেলবে খুব। রাত জেগে জেগে আমার বিছানার পাশে বসে থাকবে তুমি। তোমাকে টেনে বুকের উপর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো সেদিন...

একদিন আমার মোবাইলে রং নাম্বারে ফোন আসবে। তুমি ফোনটা রিসিভ করে একটি মেয়ের কন্ঠ শুনে মন খারাপ করে বসে থাকবে। অভিমানে সারাদিন আমার সাথে কথা বলবে না। আমি ছাদে গিয়ে বসে থাকবো। তুমি যখন বুঝবে নাম্বারটা সত্যিই রং ছিল তখন দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরবে । তোমাকে জড়িয়ে ভালবাসি বলবো সেদিন...

যৌবনে তোমাকে ভালবাসার চাইতে ঝগড়া ই বেশি করবো। ঝগড়া করতে করতেই একদিন যৌবন থেকে বৃদ্ধতে গিয়ে ঠেকবো। তোমার রক্ত জবার মতো মুখে বয়সের ছাপ পড়ে যাবে। আমার মাথার কালো চুলগুলো সাদা হয়ে যাবে। চোখে ছানি পড়ে যাবে। চশমার আড়াল থেকে সেদিনও ঝাপসা চোখে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবো...

বিশ্বাস করো, রক্তের জোরে কোনো না কোনো ভাবে আমার যৌবন ঠিকই কেটে যাবে। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের কাছে যখন বোঝা হয়ে যাবো, বৃদ্ধা বয়সে সন্তানরা যখন বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতে চাইবে, সেদিন তোমাকে আমার লাগবেই।
সেদিন এক হাতে লাঠিতে ভর করে, আরেক হাতে তোমাকে ধরে কাঁপতে কাঁপতে বৃদ্ধাশ্রমে যাবো...

একদিন রাতে বৃদ্ধাশ্রমের উঠোনে বসে দুজনে আকাশের চাঁদ দেখবো। পান খেতে খেতে দুজনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে করে খুব হাসবো। বিশ্বাস করো, বৃদ্ধ বয়সে মায়া করার জন্য একজন বুড়ির খুব দরকার আমার। একজন সাদা চুলের বুড়ির দিকে তাকিয়ে আমার জীবনের শেষ দিনগুলি কাটিয়ে দিবো। তুমি কি সেই দিনটাতেও আমার পাশে রবে? তুমি কি বেঁচে থাকার প্রার্থনাতে বুড়ি হবে এই বুড়োর সাথে?

(সংগৃহীত)

দায়িত্বহীন প্রতিশ্রুতি..!!
আমেরিকায় এক বরফ শীতল রাতে একজন কোটিপতি তার ঘরের সামনে এক বৃদ্ধ দরিদ্র মানুষকে দেখতে পেলেন। তিনি বৃদ্ধ মানুষটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, "বাইরে এত ঠাণ্ডা আর আপনার গায়ে কোনো উষ্ণ কাপড় নেই, আপনার কি ঠাণ্ডা লাগেনা?
বৃদ্ধ লোকটি উত্তর দিল, "আমার কাছে উষ্ণ কাপড় নেই কিন্তু আমি মানিয়ে নিয়েছি।"
কোটিপতি উত্তর দিয়েছিলেন, "আমার জন্য অপেক্ষা করুন।
এখন আমি আমার ঘরে ঢুকে আপনার জন্য একটা উষ্ণ কাপড় নিয়ে আসবো।"
দরিদ্র বৃদ্ধ খুব খুশি হয়ে বলল, সে তার জন্য অপেক্ষা করবে।
কোটিপতি তার বাড়িতে ঢুকলেন এবং সেখানে ব্যস্ত হয়ে গেলেন এবং দরিদ্র মানুষটার কথা ভুলে গেলেন।
সকালে তার মনে হলো সেই দরিদ্র বৃদ্ধের কথা। তিনি সাথে সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন বৃদ্ধকে খুঁজে বের
করার জন্য। কিন্তু তিনি বৃদ্ধ মানুষটাকে ঠান্ডার কারণে মৃত অবস্থায় দেখতে পান, আর বৃদ্ধ মানুষটার হাতে একটা চিরকুট দেখতে পেলেন।
চিরকুটে লিখা ছিলো -
"যখন আমার কোন উষ্ণ কাপড় ছিল না, তখন ঠান্ডার সাথে লড়াই করার ক্ষমতা আমার ছিল কারণ আমি মানিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু যখন আপনি আমাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,
তখন আমি আপনার প্রতিশ্রুতির সাথে আসক্ত হয়ে গিয়েছিলাম এবং আমি আমার তীব্র ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি"
" কাউকে প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে ভাবুন এবং অহেতুক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি থেকে বিরত থাকুন।

😀😁😂🤣😃😄😅😆😉😂🤣😁😀😄😅😃

বাড়িতে ছেলের বউ তিন দিনও হয়নি এসেছে, এর মধ্যেই বাড়িতে নতুন নিয়ম। খাবার টেবিলের ছবি ফেসবুকে না দিয়ে ছেলের বউ কাউকে খাবার খেতে দেয় না। শাশুড়ি কিছুতেই এটা মানতে পারছেন না। প্রথম দিন breakfast টেবিল ঝামেলা বাধে। শ্বশুর কে শাশুড়ি খাবার তুলে দিচ্ছেন, ছেলের বউ বাধ সাধে, মা, আগেই না।

শাশুড়ি ভ্রু কুঁচকে তাকান। ছেলের বউ বুঝাতে থাকে, মা, খাবার টেবিলের একটি ছবি তুলে নেই, ফেসবুকে দেব, তারপর আমরা খাব।

শাশুড়ি আর থাকতে পারেন না, কড়া গলায় বলেন, তোমাদের বাড়িতে কি সবসময় এরকম হয়?

- মা, এটা আমাদের বাড়ি বলে না, সবাই তাই করে।
- সবার নিয়ম এ বাড়িতে চলবে না। আমরা কাউকে না দেখিয়েই খেতে পারব।
- মা, আপনি এটা বুঝতে পারছেন না, এটা ঠিক দেখানো না, এটাকে বলে শেয়ার ...
- আমরা তো আর খাবার শেয়ার করছি না!
- তা না মা, এটা একটি অনুভূতি, কার বাড়িতে কি খাচ্ছে ...
- এই অনুভূতি দিয়ে আমি কি করব?

কেউই থামতে পারছে না বলে, শ্বশুর এগিয়ে আসেন, আচ্ছা বউমা কিছু একটা করতে চাইছে করতে দাও না, এটা সময়ের ...

শ্বশুরকে কড়া একটা কিছু বলতে গিয়েও শাশুড়ি থেমে গেলেন। শুধু বললেন, ঠিক আছে, নতুন সময়, নতুন ...

শাশুড়ি নিজেই সব খাবার আগের অবস্থায় গুছিয়ে রাখলেন, ছেলের বউ ছবি তুলবে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে গজগজ করছেন; এই ছবি ফেস বুকে যাবে, সবাই দেখবে তার ঘরে কি খাবার হচ্ছে ...

এখন নিয়ম করে খাওয়ার আগে প্রতিবেলার খাবারের ছবি তুলা হচ্ছে, ফেস বুকে সেই ছবি পোস্ট করে তারপর খাওয়া। ছেলের বউ খাওয়ার মাঝেও স্মার্ট ফোনে দেখছে, কে কি কমেন্ট করছে, কয়টা লাইক পড়ছে; শ্বশুর ওর পক্ষে আছে বলে শাশুড়িকে ভালোই দেখানো হচ্ছে। শাশুড়িও আছেন, যা চলছে চলুক, তারও সময় আসবে।

সকালে কারেন্ট যাওয়ায় শাশুড়ির আনন্দ আর ধরে না। কারেন্ট গেলে সহজে ফিরতে চায় না।

কারেন্ট ছাড়াই breakfast টেবিল রেডি। খাবার টেবিলের ছবি তোলা শেষ। কিন্তু শাশুড়ি কাউকে খেতে দিচ্ছেন না, শ্বশুর অবাক, তার খিদে পেয়েছে। শাশুড়ির সেদিকে খেয়াল নেই। তিনি ছেলের বউকে বললেন, ছবি কি ফেসবুকে দিলে?

সরল মনে ছেলের বউ বলল, না মা, এখন বাড়িতে নেট নেই, কারেন্ট চলে গেছে।

- তাহলে খাবারের দুটো প্লেট হাতে নাও!
- কেন মা, আমরা খাব না?
- খাব, তবে না দেখিয়ে খাব না।

ছেলের বউ বুঝতে পারছে না। শ্বশুরের অবস্থাও তাই। শাশুড়ি নিজে দুটো আইটেমের প্লেট ধরে আছেন। ছেলের বউ বাধ্য হয়ে দুটো হাতে নিয়েছে। একটি আইটেমের প্লেট তখনও পড়ে আছে। শাশুড়ি কড়া গলায় শ্বশুরকে বলেন, তুমি আবার দেখছ কি, ওটা হাতে নাও।

বাধ্য ছেলের মত শ্বশুর হাতে নিয়েছে। এর পর শাশুড়ির গম্ভির সুরে কথা, এবার আমার সঙ্গে চল।

দরজা খুলে তিন জনেই খাবার নিয়ে নামছে। প্রথমে শাশুড়ি, মাঝে ছেলের বউ, শেষে লুঙ্গি গেঞ্জি পড়া শ্বশুর। ছেলে বেঁচে গেছে, ও এখনো ঘুম থেকেই উঠেনি।

নামতে নামতে শ্বশুর জিজ্ঞেস করলেন, এ কি পাগলামি শুরু করলে?

- এটা পাগলামি না, এই কদিনে কাউকে না দেখিয়ে আমি খেতে পারিনি। আজ আমাদের break fast কি, এটা না দেখাতে পারলে কিছুতেই আমার পেটে খাবার ঢুকবে না।
- তাই বলে ...
- কোন কথা না, ফেসবুকের অত লোক না দেখলেও, অন্তত আমাদের পাড়ার লোকে জানুক আমরা সকালে কি খাই। ওরা তো ফেসবুকের লোকদের চেয়েও আপন তাই না!

শ্বশুর এতক্ষণে ধরতে পেরেছেন। জল আজ কোথায় গড়াচ্ছে। তার আর বাধা দেয়ার সাহস নেই, তারপরেও একটু মিনমিন করে বললেন, এই সকালে লুঙ্গি গেঞ্জি পরে পরটার প্লেট ধরে পাড়া বেড়ানো ...

কথা শেষ হওয়ার আগেই শাশুড়ির মুখ ঝামটা, কেন, ফেস বুকে যখন লুঙ্গি গেঞ্জির ছবি দাও!

এরপর আর কোন কথা না। তিনজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে গলিতে গলিতে ঘুরতে

#সংগৃহীত

বিয়ের চার বছর হয়েছে এখনো মা হতে পারিনি।
পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছিলো আমাদের।প্রথম প্রথম আমি আর তুষার খুব সুখের সময় কাটিয়েছি। শশুড় শাশুড়ীও খুব আদর করতো আমাকে নিজের মেয়ের মতই ভালবাসে। দুই ননদের তো আমার সাথে খুব ভাব।

কিন্তু গত ছয় মাস ধরে শশুড় শাশুড়ী ননদেরা উঠে পরে লেগেছে কেন আমার বাচ্চা হয়না।তুষারও এতোদিন বাচ্চা না হওয়ায় তেমন কিছুই বলতো না, কিন্তু আজকাল তুষারও ওদের সাথে পাল্লা দিয়ে বলে চার বছর কেটে গেলো এখনো কেন বাচ্চা হয় না, ওর মা বাবা নাতির মুখ দেখতে চায়।

গতকাল রাতে শাশুড়ী এসে বললো আর কত দিন অপেক্ষা করবো, বাড়িতে একটা বাচ্চাও নেই, বাচ্চা টাচ্ছা ছাড়া কি বাড়ি ভাল লাগে, নাকি শান্তি লাগে, পাশের বাড়ির শেফালির ছেলেকে তুষারের এক বছর পরে বিয়ে দিয়েছে, ছয় মাস হয়েছে বাচ্চা হয়েছে আর আমার ছেলের বৌয়ের ঘরে এখনো কোন বাচ্চা হলো না, আমরা কি ঠাকুমা দাদু হবো না...?

আরো অনেক গুলো কথা শুনিয়ে গেলো, বাচ্চা না হলে আমি কি করবো, আমি ও তো চাই আমার একটা সন্তান হোক, যে আমাকে মা মা বলে ডাকবে।

ননদ রিমি এসে বলল, বৌদি এক কাজ করলে কেমন হয় তোমরা বরং ডাক্তারের কাছে যাও, গিয়ে দেখো কারো কোন সমস্যা আছে কিনা।

রাতে তুষারকে রিমি কথাটা বলতেই তুষার বলল ও কোন ডাক্তারের কাছে যাবে না, পারবে না যেতে, অফিসে কাজের অনেক চাপ। অনেক জোরাজুরি করে তুষারকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম, দুজনেই পরীক্ষা করালাম। যত রকমের টেষ্ট আছে সব গুলোই টেষ্টই করলাম। ডাক্তার বললেন রিপোর্ট আসতে দেরি হবে, দুজনেই অপেক্ষা করছি আর মনে মনে ঈশ্বরকে ডাকছি, যেনো কোন দুর্সংবাদ না শুনতে হয়। আধ ঘন্টা পরেই তুষারের মোবাইলে ফোন আসলো তাড়াতাড়ি অফিসে যাওয়া জন্য, আর্জেন্ট মিটিং আছে। তুষার আমাকে বলল, খুশি তুমি রিপোর্ট দেখে ডাক্তারের সাথে কথা বলে বাড়ি চলে যেও, আমাকে এক্ষুনি অফিসে যেতে হবে, বস ডাকছেন। আমি বাড়িতে এসে রিপোর্ট দেখবো, বলেই হনহন করে হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে গেলো।

আমার হাতে ডাক্তারের দেওয়া রিপোর্ট আর সেই রিপোর্টে কিছু কঠিন সত্যি কথা লেখা আছে, যা মেনে নিতে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। বাড়িতে আসবার পর থেকে শ্বশুর শাশুড়ী ননদেরা বার বার জিজ্ঞেস করছে রিপোর্টে কি আসছে ডাক্তার কি বলেছে। চোখের জলের জন্য কথা বলতে পারছি না, ওদেরকে কি উত্তর দেবো। শাশুড়ী কঠিন সুরে বলল কি ব্যাপার বলছো না কেন কি হয়েছে।

বললাম ডাক্তার বলেছে সমস্যা টা আমার আমি কোনদিন মা হতে পারবো না, সেই ক্ষমতা নাকি আমার নেই।

কথা টা বলার সাথে সবাই কেমন করে জেনো আমার দিকে তাকাচ্ছিলো। শাশুড়ীতো রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করে দিলো, আমার ছেলে এই জন্মে কি আর সন্তানের মুখ দেখবে না, আমাদের বংশ কি এখানে শেষ হয়ে যাবে, কি কুলাঙ্গার অপয়া মেয়ে এনে সংসারে ঢুকিয়েছে মা হতে পারবে না, শাশুড়ীর সাথে শ্বশুরও সুর মিলিয়ে বকে যাচ্ছে। ননদেরাও যা তা বলছে একটা বন্ধ্যা মেয়ে আমার ভাইয়ের কপালে জুটেছে।
রাতে তুষার বাড়িতে এলে সবাই মিলে ওকে বোঝালো যাতে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।আমাকে দিয়ে আর সংসার করা হবেনা।

ফল বিহীন গাছ রেখে লাভ কি, উপরে ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন গাছ লাগাতে চাই, আরো অনেক কথাই বলে যাচ্ছে। আমি শুধু দেখছি তুষার কি বলে, কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙ্গে তুষার বলল তোমরা যা ইচ্ছে তাই করো আমার আর এইসব ভাল লাগে না।

রাতে তুষার আমার সাথে একটা কথাও বলেনি, সারাটা রাত কেঁদে বুক ভাসিয়েছি আর ভাবছি চেনা মানুষগুলো এতো তাড়াতাড়িই অচেনা হয়ে গেলো, আমি এখন ওদের কাছে হয়ে গেলাম অপয়া বন্ধ্যা।

সকালে আমাকে ডাকা হলো শ্বশুরের ঘরে, ডেকে নিয়ে বলল তুষারকে যেন ছেড়ে দি, ওরা তুষারকে আবার বিয়ে দিবে, ওদের বংশের প্রদীপ চাই , আর সেটা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না, তাই আমি যেনো ডিভোর্সের ব্যপারটা মেনে নিয়ে তুষারকে চিরদিনের জন্য মুক্ত করে দিই।তুষারের ও নাকি তাইই মত।

তুষারের দিকে তাকাতেই ও বলল মা বাবা যা বলবে তাই হবে, তুমি এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি কোরো না খুশি প্লিজ, আর কোন টেনশন আমি আর নিতে পারছি না

ভাবতেই কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে কি করে মানুষ এতোটা বদলে যায়। আজ আমি সন্তান দিতে পারবো না বলে আমাকে ওরা তাড়িয়ে দিচ্ছে, কতোটা স্বার্থপর মানুষ।

দুই দিন হয়ে গেলো কেউ আমার সাথে তেমন একটা কথা বলে না, সবাই এড়িয়ে এড়িয়ে চলে।খাবারের সময়ও কেউ ডাকে না। সন্ধ্যার পর শ্বশুর শাশুড়ী এসে বলল তুমি কবে আমার ছেলেকে মুক্তি দিচ্ছো বলো, আমি তুষারের জন্য অন্য মেয়ে পছন্দ করেছি।

মেয়ে পছন্দ করেছেন মানে?

হ্যা করেছি তো আমার ছোট বোনের মেয়ে রেশমির সাথে আমি তুষারের বিয়ে দেবো। এখন তুমি বলো তুমি কখন চলে যাচ্ছো। আর আমি তুষারের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেছি ওর কোন আপত্তি নেই, তোমার কাছে আমি আমার ছেলের একটা সুন্দর স্বাভাবিক জীবন চাইছি, আশা করি তুমি এটা নিয়ে কোন রকম ঝামেলা করবে না।তুষারের দিকে তাকায়ে দেখি ও ওর মায়ের কথায় সায় দিচ্ছে, আমার সাথে সংসার করতে চাইছে না।

সবার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম ঠিক আছে, তাড়িয়ে দিতে চাইছেন চলে যাব, তবে এখন নয় যেদিন তুষারের বিয়ে হবে সেদিনই সবাইকে মুক্ত করে চলে যাব, আর ফিরবো না, কখনো জ্বালাতে আসবো না। তুষার আমার দিকে তাকিয়ে বলল সত্যি তো? হ্যা সত্যি চলে যাব।

আজ তুষারের বিয়ে, মহা ধুমধামে না হলেও বেশ আয়োজনই করেছে, একটু আগে তুষারকে দেখলাম শেরোয়ানি পড়ছে, আমিও বেশ সেজেছি, আমার স্বামীর বিয়ে বলে কথা সেই সাথে আজ যে ওর মুক্তির দিন আর নতুন খুশির দিন। তুষার বরযাত্রীসহ বের হবে আমিও ব্যাগ এ কাপড় গুছিয়ে চলে যাচ্ছি এমন সময় দেখি তুষার বর বেশে সেজেগুজে রেডি হয়ে আছে, খুব হাসিখুশি লাগছে, ওকে ছেড়ে যেতে মন টা মানছিলো না, তবুও যে যেতে হবে। যাবার আগে একবার দুচোখ ভরে তুষারকে দেখে নিলাম, তুষার আমার থেকে মুখটা ফিরিয়ে নিলো।তুষারের কাছে গিয়ে বললাম, তোমার নতুন জীবন অনেক সুখের হোক, বিয়েতে তোমাকে দেবার মত আমার কাছে কিছুই নেই, তবে এই ছোট্ট একটা উপহার তোমার জন্য, নাও। কাগজ টা তুষারের হাতে দিয়ে সবার সামনে দিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম, কেউ আটকালো না। চোখ দুটো বাধ মানছে না অশ্রু অঝরে পড়েই যাচ্ছে।

খুশি চলে যাওয়ার পর তুষার ওর দেওয়া উপহারের কাগজটা খুলে যা দেখলো তাতে ওর সারা শরীর কাঁপছে, চোখ দিয়ে জল পড়ছে। ঘরের সবাই উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে তুষারের মুখের দিকে, কি হয়েছে জানার জন্য। কাগজটা পড়ার পর তুষার দাঁড়ানো থেকে বসে পড়লো, শরীরটা যেনো অবশ নিথর দেহের মত লাগছে।কাগজটা অার কিছু নয়, এটা সেই রিপোর্ট যেটাতে লেখা আছে বন্ধ্যা খুশি নয় বন্ধ্যা তুষার, ওই দিন ডাক্তারের রিপোর্টে রেজাল্ট এসেছিলো তুষার কোন দিন বাবা হতে পারবে না, সেই ক্ষমতা তার নেই, আর খুশি সম্পূর্ণ সুস্থ ওর কোন শারীরিক অক্ষমতা নেই।

রিপোর্টের ভিতরে খুশির একটা চিঠি আছে তাতে লেখা আছেঃ

তুষার,
আমি চাইলেই প্রথম দিনই সত্যিটা বলতে পারতাম, আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম রিপোর্টে আমার দোষ আছে জানলে তুমি কি বলো, তুমি যদি একবার আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলতে তুমি আমাকে ভালবাসো সন্তান না হওয়ায় তোমার কোন আক্ষেপ নেই, আমার কপাল ছুয়ে একটু শান্তনা দিতে তাহলে আমি সারা জীবন তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে জীবনটা পার করে দিতাম, সন্তান সুখ বিসর্জন দিতাম, কিন্তু তুমি তা করো নি, তুমি আমাকে ত্যাগ করেছো, তোমার থেকে আলাদা করেছো, ছিঁড়ে ফেলেছো ভালবাসার বন্ধন। রিপোর্টের ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে তোমাকে পরীক্ষা করতে চাইনি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম তুমি আমাকে কতটা ভালাবাসো।তুমি হেরে গেছো।
চলে যাচ্ছি পৃথিবীর যেখানেই থাকি প্রার্থনা করি তুমি ভাল থেকো, সুখী হও। .......(সংগৃহীত)

সত্যিই অমানবিক আচরণ🙄😟
দূরপাল্লার বাসের সামনের সিটে পায়ের ওপর পা ওঠিয়ে আরাম করে ঘুমাচ্ছেন দু'জন মহিলা। ওদের পায়ের কাছে বাসের ফ্লোরে ব্যাগ রাখা।আর ব্যাগের ফাঁকে জড়োসড়ো হয়ে বসে ঝিমুচ্ছে দশ-বারো বছরের ওদের কাজের মেয়ে। ধিক্কার জানাই এসব বিবেকহীন মানুষকে😡
আল্লাহ হেদায়েত করুন।

মাকে নিয়ে সেরা কয়েকটি উক্তি ₪
১. আব্রাহাম লিংকন- "যার মা আছে, সে কখনই গরীব
নয়।"
২. জর্জ ওয়াশিংটন-" আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী
মহিলা আমার মা। মায়ের কাছে আমি চিরঋণী। আমার
জীবনের সমস্ত অর্জন
তারই কাছ থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর
শারীরিক শিক্ষার ফল।"
৩. জোয়ান হেরিস-" সন্তানেরা ধারালো চাকুর মত।তারা
না চাইলেও মায়েদের কষ্ট দেয়। আর,মায়েরা তাদের শেষ
রক্তবিন্দু পর্যন্ত সন্তানদের সাথে লেগে থাকে।"
৪. এলেন ডে জেনেরিস-" আমার বসার ঘরের দেয়ালে
আমার মায়ের ছবি টাঙানো আছে, কারণ তিনিই আমার
কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।"
৫. সোফিয়া লরেন-" কোন একটা বিষয় মায়েদেরকে
দুইবার ভাবতে হয়। একবার তার সন্তানের জন্য,
আরেকবার নিজের
জন্য।"
৬. মিশেল ওবামা- "আমাদের পরিবারে মায়ের ভালোবাসা
সবসময় সবচেয়ে টেকসই শক্তি। আর তার একাগ্রতা,
মমতা আর বুদ্ধিমত্তা আমাদের মধ্যে দেখে আনন্দিত
হই।"
৭. নোরা এফ্রন- "মা আমাদের সবসময় এটা বুঝাতে
চাইতেন যে, জীবনের চরম কষ্টের মূহুর্তগুলো তোমাদের
হাসির কোন গল্পের অংশ হয়ে যাবে একসময়।"
৮. মাইকেল জ্যাকসন-"আমার মা বিস্ময়কর আর আমার
কাছে উৎকর্ষতার আরেক নাম।"
৯. দিয়াগো ম্যারাডোনা-"আমার মা মনে করেন আমিই
সেরা, আর মা মনে করেন বলেই আমি সেরা হয়ে গড়ে
উঠেছি।"
ভালোবাস তাকে,যার কারনে পৃথিবি দেখেছো....
ভালোবাস তাকে.যে তোমাকে ১০মাস ১০দিনগর্ভে
রেখেছে.,,.
ভালোবাস তাকে, যার পা এর নিচে তোমার জান্নাত
আছে.....সে হল .....মা..

কয়েক মিনিট রাস্তার ধারে গাড়ি টা রাখলে যদি মৌমাছি এভাবে বাসা বাধতে পারে,, তাহলে আমরা কেনো বুঝছিনা আল্লাহ কতো কিছুই না করতে পারে😍😍
আমিন🤲

😂😂😂😂
স্বামী-স্ত্রী ঘরে বসে ছিল। বউ বলল, চলো সময় কাটাতে দুজনে একটা খেলা খেলি। তুমি একটা কাগজে পাঁচজন নারীর নাম লেখো, যাদের তুমি পছন্দ করো। আর আমি পাঁচজন পুরুষের নাম লিখছি, যাদের আমি পছন্দ করি।
দুজনে কাগজ-কলম নিয়ে লেখা শুরু করে দিল।

কিছুক্ষণ পরে কাগজ খোলা হলো।

বউ লিখেছে:-
ব্রান্ড পিট,
সৌরভ গাঙ্গুলী,
উত্তমকুমার,
ওস্তাদ জাকির হোসেন,
সলমন খান ।

স্বামী লিখেছে:-
রিমা (ছেলের স্কুলের বন্ধুর মা ),
অঙ্কিতা (বউয়ের মামাতো বোন),
সীমা (বউয়ের বান্ধবী),
শবনম (সামনের ফ্ল্যাটের বৌদি)ও
অপর্ণা (ছেলের ক্লাসটিচার)

মোরাল অব দ্য স্টোরি:-
পুরুষের জীবন বাস্তববাদী। আর নারীরা থাকে স্বপ্নের জগতে।😵😵

★এই খেলার পরিণতি:
স্বামী দশ দিন ধরে বাইরের খাবার খাচ্ছে,😢😢
আর ড্রয়িংরুমের সোফায় ঘুমোচ্ছে।😩

বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ:-
এই বিপজ্জনক খেলা নিজের ঘরে খেলবেন না।

সংগৃহীত

"এত শোরগোল কিসের রে উপেন?

আর বলবেন না কত্তা! মিত্তিরবাবুর বাড়ি লাগোয়া এক খান ইয়াব্বড়া বাগান আচে না!

সে তো সব্বাই জানে। কিন্তু শোরগোলটা কিসের?

সেই বাগানের পূব দিকে বেশ খানিক ফাঁকা জায়গা আচে না!

আরে ছাগল সে তা সব্বাই জানে। গন্ডগোলটা কিসের?

সেথায় খান দশেক পরিবার ঠাঁই নেছিল না!

আরে রাম পাঁঠা। সে তো সব্বাই জানে। জানলা দিয়ে যে হৈ হট্টগোলের আওয়াজ ভেসে আসছে, সেটা কিসের?

সেইডাই তো বলতিছি কত্তা। গত সনে মিত্তিরবাবু গত হলেন!

আরে বাবা আমিও শ্রাদ্ধ খেতে গেছি। বাবা উপেন তুই গৌরচন্দ্রিকা ছেড়ে হট্টগোলের কারণটা বলে ফেল তো।

বলতিছি কত্তা। তা মিত্তিরবাবুর বড় পোলা এখন সম্পত্তির মালিক। তিনি পুলিশ দিয়ে ওদের তুলে দিচ্ছেন। জবরদখল বলে কতা! আইন কানুন বলে তো এক খান ব্যাপার আছে!

মানে? বলিস কিরে! ওই গরীব দুখী পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করছে। ছি ছি ছি! আইন বড় না মানবিকতা বড়! হায় হায়! মনুষ্যত্ব কোন পথে যাচ্ছে উপেন! এসব সহ্য হয় না রে! ঘেন্নায় গা রি রি করছে।

কেন্তু কত্তা ওরা বাড়তি বাড়তি পঞ্চাশ থিকা ২০০ হইয়া গেছে।

তাতে কি! হাজার হলেও মনিষ্যি তো। জন্তু তো নয়! হায় মানবিকতা! এরা এখন যাবে কোথায়! ছি ছি ছি!

কেন্তু কত্তা। ওরা নাকি জায়গাডা নরক বানাইয়া ফেলাইয়াছিল। চারদিকে হাইগা মুইতা। তাছাড়া বাগানের ফল মূল নাকি সব ওরাই চুরি করত। কত্তাবাবুদের ভাগে কেচুই জুটত না। তাই আইন বলে ---

আরে ছাগল তুই আবার আইনের কথা বলছিস! আইন বড় না মানবিকতা বড়! ছি ছি! আমার রক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে উপেন।

কেন্তু কত্তা সেদিন নাকি ছোট কত্তার বড় মাইয়াটারে ওদের এক খান বখাটে পোলা টোন কাটছে। সাইকেলের হ্যাণ্ডেল ধইরা প্রেম প্রস্তাব দিছে।

ছি উপেন! এটা কোন ব্যাপার হল। বয়সের ধর্ম বলে একটা কথা আছে। মাইয়া দেখলে পোলাপানের আকর্ষণ জাগবেই। ওই পোলাটাই যদি বড় ঘরের হত, তোর ছোট কর্তা বরণ করে ঘরে তুলত! এরা গরীব বলেই --- ছি ছি! মিত্তিরটার দয়ার শরীর ছিল রে উপেন। কিন্তু ওর ছেলেটা সাক্ষাৎ নরপশু! এরা এখন যাবে কোথায়! হায় হায় হায়!

একি কত্তা আপনে এমন করেব ক্যান।

শরীরটা বড় খারাপ লাগছে উপেন৷ দেখছিস না কেমন কান্নার আওয়াজ। উচ্ছেদ হওয়া মানুষের বুক ফাটা আর্তনাদ।

বুঝি কত্তা। আপনাগো দয়ার শরীর৷ এই নেন জল খান৷ আমি ফ্যানের ইস্পীড বাড়াইয়া দিতেছি।

তুই বড় ভাল মানুষ রে উপেন। কিন্তু একি!

কি হল কত্তা?

এদিকের জানালা দিয়ে আবার কিসের আওয়াজ আসছে?

তেমন কিছু নয় কত্তা। এ বাড়ির পশ্চিমদিকে বিরাট ঠাকুর দালান আছে না।

গর্দভ! তুই আমার বাড়ি আমাকে চেনাচ্ছিস! আওয়াজ কিসের বল।

সেই ঠাকুর দালানের পাশে বেশ খানিক ফাঁকা জায়গা আচে না।

ওরে রাম পাঠা। আমার জায়গা আমি জানব না! আওয়াজ কিসের?

বলতিছি কত্তা। অপরাধ নিয়েন না। এই সব হল ঘটি বাটি বস্তা রাখার আওয়াজ।

মানে?

কত্তা, ঠাকুর দালানের পাশে সেই ফাঁকা জায়গাটাতে সেই উচ্ছেদ হওয়া মানুষ জন তাঁবু গাড়তাছে। এত সব জিনিষ পত্তর। আওয়াজ তো হইবই।

সর্বনাশ!

একি কত্তা! এমন লাফ মারতাছেন ক্যান! এই যে কইলেন শরীর খারাপ!

নিকুচি করেছে তোর শরীর খারাপের। সবাইকে খবর দে। লাঠিসোটা নিয়ে বেরোতে। আমার রাম দা- টা কোথায়? শুয়ারের বাচ্চাগুলোকে এমন কেলান কেলাতে হবে -- শালারা এত সাহস পায় কোথা থেকে বল তো! আমার সম্পত্তিতে --- আজ ওদের ওখানেই পুঁতে ফেলব।

কেন্তু কত্তা!

এই শালা এই সময় কিন্তু কিন্তু করছিস কেন রে?

আজ্ঞে কত্তা, ওই যে মানবিকতা?

মস্করা করছিস? তুইও কি ওদের দলে নাকি শুয়ার?

আপনিই তো বললেন কত্তা, মানবিকতা অনেক বড়! এখন আমারে গালিগালাজ করতাছেন। আমারে কাঁদায়ে দিলেন কত্তা। আমি কোনটা বিশ্বাস করি বলেন তো? এক মুখে দুই কথা! মানবিকতা না আইন?

- এখন কাঁদার সময় নয় বাবা উপেন। দুটোই ঠিক। প্রথমটা ethically correct, দ্বিতীয়টা practically correct। প্রথমটা বলতে হয়,... আর দ্বিতীয়টা করতে হয়।"
(সংগৃহীত)

#একটা মেয়ে তার bf কে জিজ্ঞেসা করলোঃ
--আচ্ছা অন্য কারো সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেলে কি করবে?
--ছেলেটা উত্তর দিলো, ভুলে যাবো
ছেলেটার উত্তর শুনে মেয়েটি রাগে অন্যদিকে মুখ ঘোরালো।
ছেলেটি আবার বললঃ
--তুমিও আমাকে ভুলে যাবে, এটা সবচেয়ে বড় কথা। আমি যত দ্রুত তোমাকে ভুলে যাবো। তার চেয়েও বেশি দ্রুত
তুমি আমাকে ভুলে যাবে।
প্রেমিকা প্রশ্ন করলোঃ
--কি রকম?
ছেলেটি বলতে শুরু করলঃ
"মনে করো বিয়ের প্রথম তিনদিন তুমি এক ধরনের ঘোরের মধ্যে থাকবে। শরীরে গয়নার ভার, মুখে মেকআপ এর প্রলেপ, চারেদিক থেকে ক্যামেরার ফ্লাশ, মানুষের ভিড়। তুমি চাইলেও তখন আমার কথা মনে করতে পারবে না। ''আর আমি তখন তোমার বিয়ের খবর পেয়ে হয়ত কোন বন্ধুর সাথে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়ে পরে থাকবো। আর একটু পর পর তোমাকে হৃদয়হীনা বলে
গালি দিবো। আবার পরক্ষনেই পুরাতন স্মৃতির কথা মনে করে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদবো। "বিয়ের পরের দিন তোমার আরো ব্যস্ত সময় কাটবে। স্বামী আর মিষ্টির প্যাকেট, এই দুটো হাতে নিয়ে তুমি বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় ঘুরে বেড়াবে।
আমার কথা তখন তোমার হঠাৎ হঠাৎ মনে হবে। এই যেমন স্বামীর হাত ধরার সময়, এক সাথে রিক্সায় চড়ার সময়। আর আমি তখন ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াব। আর বন্ধুদের বলবো, বুঝলি দোস্ত, জীবনে প্রেম ভালোবাসা কিছুই নাই। "পরের একমাসে তুমি হানিমুনে যাবে, নতুন বাসা পাবে, শপিং, ম্যাচিং,শত প্লান, আর স্বামীর সাথে হালকা মিষ্টি ঝগড়া। তখন তুমি বিরাট সুখে,
হঠাৎ আমার কথা মনে হলে ভাববে, আমার সাথে বিয়ে না হয়ে বোধ হয়
ভালোই হয়েছে। আমি ততদিনে বাপ, মা, বন্ধু কিংবা বড় ভাইয়ের ঝাড়ি খেয়ে
মোটামোটি সোজা হয়ে গিয়েছি।
ঠিক করেছি কিছু একটা করতে হবে,
তোমার চেয়ে একটা সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করে
তোমাকে দেখিয়ে দিতে হবে।
সবাইকে বলবো, তোমাকে ভুলে গেছি।
কিন্তু তখনও মাঝরাতে তোমার এসএমএসগুলো বের করে পড়বো আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ব। "পরের দুই বছর পর তুমি আর কোন প্রেমিকা কিংবা
নতুন বউ নেই। মা হয়ে গিয়েছো।
পুরাতন প্রেমিকের স্মৃতি, স্বামীর আহ্লাদ, এসবের চেয়েও বাচ্চার ডায়াপার, পিটার এসব নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকবে।
অর্থাৎ তখন আমি তোমার জীবন থেকে মোটামুটি পারমানেন্টলি ডিলিট হয়ে
যাবো। এদিকে আমিও একটা কাজ পেয়েছি। বিয়ের কথা চলছে। মেয়েও পছন্দ হয়েছে। আমি এখন ভীষণ ব্যাস্ত।
এবার সত্যিই আমি তোমাকে ভুলে গিয়েছি।
শুধু রাস্তা ঘাটে কোন কাপল দেখলে তোমার কথা মনে পড়বে। কিন্তু তখন আর দীর্ঘশ্বাসও আসেবে না।
.
এতদূর পর্যন্ত বলার পর ছেলেটি দেখলো প্রেমিকা ছলছল চোখ নিয়ে
ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে।
মুখে কোন কথা নেই। ছেলেটি ও চুপচাপ।
একটু পর প্রেমিকা বললোঃ
"তবে কি সেখানেই সব শেষ?
ছেলেটি বলল, না।
কোন এক মন খারাপের রাতে তোমার স্বামী নাক ডেকে ঘুমুবে। আমার বউও ব্যস্ত থাকবে নিজের ঘুম রাজ্যে।
শুধু তোমার আর আমার চোখে ঘুম থাকবে না। সেদিন অতীত আমাদের দুজনকে নিঃশ্বদে কাঁদাবে। সৃষ্টিকর্তা ব্যাতিত যে কান্নার কথা কেউ জানবেনা,কেউ না
এটাই বাস্তবতা। এই কথা শুনে মেয়েটি ছেলেটাকে জরিয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললো আমি তোমাকে কখনো হারাতে চাই না !! 🙂✍️

#out_of_box
🙋🙋" আমার কথা "🙋🙋
## আমি পুরুষ বলছি-- ##
👓🕶👓🕶👓🕶👓🕶👓
.............এই যে শুনছেন,আমি পুরুষ বলছি.....সমাজের এক কোনায় দাঁড়িয়ে,দেখতে পাচ্ছেন?!....না পেলে একটু কষ্ট করে দেখুন,শুনুন,আমার কথা........
আমি,এই যে আমি,....এক পিতামাতার সন্তান,এক বোনের ভাই,এক পুত্র,এক কন্যার পিতা,এক নারীর স্বামী,.....আপনাদের দাদা,কাকা,জ্যেঠু,পিসে, মামা,....."বিবেক রায়"।
ছেলেবেলায় শুনেছি-এই তুই না, ছেলে,ভ্যা করে কাঁদছিস!!!!
এই তুই না,আমার ভাই...!আমার সব আবদার মানতে হবে হুম...
....আবার -এই তুমি আমার স্বামী....
স্ত্রীর মান,মর্যাদা রক্ষা করতে হবে,আবদার মানতে হবে,অভিমান ভালোবেসে ভাঙাতে হবে,যা বলবো মানতে হবে ব্যাস,নিয়ে এসেছো.....সব দায় তোমার......। তুমি তো পুরুষ মানুষ।শক্ত,কঠিন,কঠোর, ভাবলেশহীন প্রাণি বিশেষ।
......কন্যার আবদার মেটাতে হবে,সযতনে লালন করে...অপর এক পরিবারের উপযোগী করে..বুকের পাঁজড় ভেঙে পাত্র কে সম্প্রদান করতে হবে।....না,না,চোখে জল এলে হবে না.....যদিও আসে, তা নীরবে অপরের দৃষ্টি এড়িয়ে চোখ মুছে আবেগের গুষ্টির তুষ্টি করে,আবার সবাই কে সামলাতে হবে তো!!!!আমি তো পুরুষ....!!!!!
তিল তিল করে নিজের সমস্ত কিছু উৎসর্গ করে পুত্র কে গড়তে হবে,ভালো মন্দের দাবী পুত্রের পিতার থাকতে নেই,..তাহলেই পিতা অমানুষ!অসহযোগী!
বয়স বাড়ার সাথে সাথে এও শুনতে হবে..তুমি তো কিছুই করনি,....চোখে জল এলে শুনতে হবে..বুড়ো বয়সে ভীমরতি!!!!
আমি পুরুষ বিবেক রায় বলছি......
জানেন,ভীড় বাসে উঠলে সিঁটিয়ে থাকি!!!গায়ে গা ঠেকলে কোনো মহিলা যদি কিছু বলে ওঠেন?!!!ট্রেনে,ট্রামে, সামনে কোনো মহিলা বসে থাকলে...চোখ দুটো কে নিয়ে কী করবো ভাবি!!!এই বুঝি.... তীব্র কোনো কটাক্ষ বা....অস্ফুট মন্তব্য উড়ে এলো!!!!ভাবুন তো আমার অবস্থা!!!
পুরুষ আমি.....বেশীর ভাগ মহিলার চোখেই আমি ধর্ষক,শ্লীলতাহানি করা পাবলিক!!!
কাউকে উপকার করলে....সে ভাবে সুযোগ নিচ্ছেন,কোনো প্রাণের বান্ধবী থাকলে ভাবেন.... অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত।কর্মক্ষেত্রে মহিলা জাতি কে বেশী সম্মান,স্নেহ,ভালোবাসলে...ভাবেন...নিশ্চয় কোনো দুরভিসন্ধি!!
আমি পুরুষ, আমার কী করণীয় বলতে পারেন?!!!শুনছেন সমাজ,শুনছেন?....একটু বলে দেবেন....আমার কী করণীয়?????
আমি জানি....চিৎকার করে মেয়েলী কান্না করতে নেই,ব্যথা যন্ত্রণার কথা ব্যক্ত করতে নেই,চোখের জল এলেও তা নিমেষে শুকিয়ে ফেলতে হয়,
আমারও আবদার থাকতে পারে,অনুভূতি জাগরিত হতে পারে,অভিযোগ থাকতে পারে,কারোর বুকে মুখ রেখে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করে,বুকের জমাট বাঁধা দলা পাকানো আবেগের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে,ইচ্ছা,চাওয়া,পাওয়া,মেলা,মেলানো, অনুভব,অভিব্যক্তি নিজস্বতা থাকতে পারে.....কী পারে না??????!!
কেউ এর হিসাব নেয় না,নিতেও চায় না।
আমি তো পুরুষ -আমার অনেক কিছু সামঞ্জস্য রক্ষা করতে হয়।জীবনের হিসাব রাখতে হয়।
আমি বিবেক রায়...একজন পুরুষ-বলছি-আমাকে একটু দেখুন সমাজ,আমাকে একটু বুঝুন.......
সব পুরুষই ধর্ষক নন,....সে কারোর প্রাণের পিতা,সন্তান,সহোদর।
আবেগ আছে,বিবেক আছে,ইচ্ছা আছে.....সে গুলো কে সযতনে মারবেন না।
আমি হাত জোড় করে বলছি....
পরিস্থিতি,শারীরিক গঠন,মানসিক শক্তি.....কঠিন,কঠোর করে তুললেও আমাদের ভেতরে একটা ছোট্ট কোমল মন,ও বৃহৎ হৃদয় আছে।
সেটাকে চিনুন,জানুন!!!!
আমি বিবেক রায়,....আমি সব পুরুষ বলছি......।।
......... #সংগৃহিত

ব্যবধান......

একদিন এক ধনী ব্যক্তি তার স্কুল পড়ুয়া ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে গেলেন। তিনি ছেলেকে ধনী ও গরীবের মধ্যকার ব্যবধান বোঝানোর জন্য এক পরিচিত কৃষকের বাড়িতে উঠলেন এবং কিছুদিন তাদের সাথে থাকলেন। ভ্রমন শেষে ফিরে আসার সময় ছেলেকে জিঞ্জাসা করলেন ভ্রমন কেমন ছিল।

ছেলে: "অসাধারন ছিল ভ্রমনটা বাবা। "
বাবা: দেখেছো গ্রামের মানুষ গুলো কত গরীব।
ছেলে: হাঁ ( মাথা নেড়ে বলল)।
বাবা: বলতো এখানে আমরা কি শিখলাম?

ছেলে:-
আমাদের ১টা কুকুর আছে, ওদের আছে ৪টা।
আমাদের আছে সুইমিং পুল,আর ওদের আছে নদী।
আমরা রাত্রে ড্রিমলাইট জালিয়ে ঘুমাই আর ওরা চাঁদের আলোতে।
আমরা খাবার কিনে খাই,ওরা নিজেদের খাবার নিজেরাই উৎপাদন করে।
সুরক্ষার জন্য আমাদের আছে দেয়াল,আর ওদের আছে অনেক বন্ধু।
আমরা টেলিভিশন দেখে, মোবাইল নিয়ে সময় কাটাই আর ওরা সময় কাটায় পরিবার ও স্বজনদের সাথে।

ভাল করেছো বাবা তুমি আমাকে এখানে নিয়ে এসে, তানাহলে আমি বুঝতেই পারতাম না আমরা কতটা গরীব ওদের থেকে।

বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলেন সরাটা পথ।

আসলেই তো টাকাই কি সব ?
আমি কি আমার সন্তানকে শিখাচ্ছি, প্রকৃত মানুষ হতে না কি টাকা কিভাবে উপার্জন করা যায় সেই পদ্ধতি..?

ব্যাংকে এসে এক বুড়ি মহিলা ব্যাংক
ম্যানেজারকে বললঃ আমি কিছু টাকা
ব্যাংকে রাখতে চাই...
ম্যানেজার জিজ্ঞেস করলঃ কত আছে? .
বুড়ি বললঃ হবে ১০ লাখের মত....
ম্যানেজার বললঃ বাহ! আপনার কাছে বেশ
ভালোই টাকা আছে। আপনি করেন কি?
বুড়ি বললঃ তেমন কিছু না খোকা ।
ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় বাজি লাগাই।
আর বাকি সময় সবার সাথে যেকোনো
ব্যাপারে বাজি খেলি।
ম্যানেজার বললঃ শুধু বাজি লাগিয়েই এত
টাকা জমিয়েছো? তাজ্জব ব্যাপার !
বুড়ি বললঃ তাজ্জবের কিছু নেই খোকা।
আমি এখুনি এক লাখ টাকা বাজি ধরতে
পারি যে, তোমার মাথায় ফলস চুল
লাগানো...
ম্যানেজার হাসতে হাসতে বললঃ না
দিদা। আমি এখনো যথেষ্ট যুবক ।আর মাথায়
ফলস চুল লাগানো নেই।
বুড়িঃ তাহলে লাগাবে কি বাজি?
ম্যানেজার মনে মনে ভাবল, এই বুড়ি পাগল
মনে হচ্ছে। যাই হোক ১ লাখ টাকা ফ্রিতে
কামানো যাচ্ছে, তো অত ভেবে লাভ কি...?
ম্যানেজার রাজি হয়ে গেলো...
বুড়ি বললঃ যেহেতু এক লাখ টাকার ব্যাপার
তাই আমি কাল সকাল ১১ টায় আমার উকিল
নিয়ে এই কেবিনে আসব। আর ওর সামনেই
প্রমান করা হবে। আপনি কি রাজি ?
ম্যানেজার বললঃ ঠিক আছে। আমি রাজি।
ম্যানেজারের রাতে ঘুম আসলো না, সারা
রাত ঐ বুড়ি আর ১ লাখ টাকার কথা ভাবতে
থাকে...
পরের দিন সকালে ঐ বুড়ি উকিল নিয়ে ঠিক
১১ টায় ম্যনেজারের কেবিনে এসে
উপস্থিত।
বুড়ি ম্যানেজার কে বললঃ আপনি কি
রেডি?
ম্যানেজার বললঃ একদম রেডি।
বুড়ি বললঃ যেহেতু প্রমানের দরকার তাই
আমি আমার উকিলের সামনে আপনার চুল
টেনে প্রমান করতে চাই যে চুল আসল না
নকল।
ম্যনেজার ভাবল, এক লাখ টাকার ব্যাপার...
একটু চুলই তো টানবে! তাই সে রাজি হয়ে
গেলো....
বুড়ি ম্যানেজার এর পাশে গেলো আর চুল
ধরে টানতে শুরু করল। আর ঠিক ঐ সময়ই বুড়ি'র
সাথে আসা উকিলটা দেওয়ালে মাথা
ঠুকতে শুরু করে দিলো...!
ম্যানেজার বলে উঠেঃ আরে আরে উকিল
বাবু কি হলো ???
বুড়ি হাসতে হাসতে বললঃ কিছু না। শক
খেয়েছে। আসলে ওর সাথে ৫ লাখ টাকার
বাজি ধরেছিলাম যে আজ সকাল ঠিক ১১
টায়, শহরের সবথেকে বড় ব্যাংকের
মানেজারের চুলের মুঠি ধরে টানব।...😩😩😜😜🤓😂

#পুরুষ ..............

পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠতে গিয়েও নিজেকে সামলাতে হয়েছিলও । দাঁত কামড়ে চোখের জল চাপা দিয়েছিলাম প্রাণপণে । কারণ মা বলেছে , " ছি , ছেলেদের কাঁদতে নেই। এত বড় ছেলে , কাঁদলে লোকে হাসবে যে । "

একটু একটু করে কান্না চেপে রাখতে রাখতে কষ্ট লুকিয়ে শক্ত থাকতে শিখে যাই আমরা। তখনই পুরুষ হয়ে উঠি আমরা !

পড়াশোনা শেষ করার পর প্রেমিকা তাগাদা দেয় , ' তাড়াতাড়ি কিছু একটা কর। একটা চাকরি খোঁজো ! নইলে বাবা যে কিছুতেই তোমাকে মেনে নেবে না ! "

আমরা কিন্তু কিছুতেই প্রেমিকাকে হারাতে চাই না , তাই হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজি । তবু একদিন ওই চোখের সামনে আমাদের প্রথম প্রেম অন্য কারো হয়ে যায় । চোখের জল লুকিয়ে রেখে আমরা বুঝি , বেকার হওয়াটা পুরুষের অক্ষমতা , নারীর নয়।

ভিড় বাসে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একটা মাত্র সিট খালি হতেই তাড়াতাড়ি স্ত্রীকে বসিয়ে দেই আমরা । যদিও আমরা ও প্রচণ্ড পা টনটন ব্যথা অনুভব করি। শরীরটা তো মানুষেরই , বিদ্রোহ তো করবেই। কিন্তু তাকে তো এত কিছু আমল দিলে চলবে না , স্ত্রী একটু আরাম করে বসেছে , তাতেই আমরা খুশী !

সপরিবারে পুজোর জামাকাপড় কিনতে বেরোনো বাবারা যদি নিজের জন্য পছন্দ হয় একটা পোশাক । অপেক্ষা করি সবার কেনাকাটা শেষ হবার। কিন্তু সবারটা কেনা হয়ে যাবার পর আমরা দেখতে পাই সামান্য টাকাই পড়ে আছে পকেটে । স্ত্রী যখন বলেন , " আরে তোমার জন্য কিছু কেনো ! " আমরা হেসে বলি , " ধুর , আমি আবার কি কিনব ? " ছোটবেলাতেই তাঁর মা শিখিয়েছেন , " তুমি না পুরুষ মানুষ ! একদিন গোটা একটা পরিবারের ভার তোমাকে নিতে হবে। পরিবারের সবার সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর রাখতে হবে এই তোমাকেই।"

টাইটানিক ডুবে যাবার আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বল্প সংখ্যক লাইফবোট গুলোতে যতটা সম্ভব বিপন্ন যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়েছিল। জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রেও , সেখানেও কিন্তু নারী আর শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। মুভিটা দেখার পর আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল , পুরুষদের কি বাঁচতে ইচ্ছে করে না!

পরিবারের সবার জন্য আত্মত্যাগ , দুঃখের ভাগ নিজের জন্য রেখে সুখের ভাগটা পরিবারের সকলের মধ্যে বিলিয়ে আমরা খুশি বোধ করি ! আমরাই কখনও বাবা , কখনও ভাই , কখনও স্বামী , কখনও ছেলে , বা কখনও আত্মীয় অথবা বন্ধু। আমরা আছি , আমরা থাকবো । আমরা পাশে আছি আমরা জানি l

পুরুষ মানেই বিকৃত নয় , পুরুষ মানে ধর্ষণকারী নয় পুরুষ মানেই অত্যাচারী নয়। বরং পুরুষ মানেই একটা শক্ত অবলম্বন, একটা নরম ভালোবাসার জায়গা , একটা নিরাপদ আশ্রয় । (Collected)

#ওদের_কথা
বাপ মায়ের পালন করার ক্ষমতা নেই তো জন্ম কেন দিয়েছে ? এতো ছেলে নেওয়ার প্রয়োজন কী ? কাজ করে খায় না কেন ? যার যা কপালে আছে তাই হবে। বিরুদ্ধে যুক্তি দিলে, যুক্তির অভাব হবে না ঠিকই। তবু এমন দৃশ্য দেখলে চোখে জল এসে যায়।
যাই হোক, তবু তো ওরা মানুষ !! মানুষের দেহ, মন, ইচ্ছা, ভালবাসা, আশা, অনুভূতি সবই রয়েছে ঔ অস্থিচর্মসার দেহের মধ্যে ।।

এক ছবিতে
উচ্ছবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত মানুষের চিত্র ফুটে উঠেছে😥😥😥

জীবনটা বড় কঠিন
😥

সুলায়মান (আ:)এর আমলের ঘটনা ‌

এক ব্যক্তির ঘরের পাশে ছিল একটি গাছ।
সেই গাছে ছিল একটি পাখি।
পাখিটি যখনই ডিম দিত তখনই লোকটি
তা নিয়ে খেয়ে ফেলত। লোকটির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন পাখিটি হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার কাছে নালিশ করল। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম লোকটিকে ডেকে নিষেধ করে বললেন, আর কোনো দিন যেন এই পাখির ডিম না খায়। এর
পরেরবারও লোকটি পাখির ডিম খেয়ে ফেলল। তাই পাখিটি আবার হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার কাছে নালিশ করল।
.
হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এক জিনকে নির্দেশ দিলেন- লোকটি আবার যখন গাছে চড়বে, তখন খুব জোরে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেবে, যাতে লোকটি কোনো দিন গাছে চড়তে না পারে। এর পর একদিন লোকটি পাখির ডিমের জন্য গাছে উঠতে যাবে, এমন সময় এক ভিক্ষুক এসে হাঁক দিল বাবা! কিছু ভিক্ষা দিন। তখন লোকটি প্রথমে ভিক্ষুককে এক মুষ্টি খাবার দান করল। তারপর শান্ত মনে গাছে থেকে ডিম নামিয়ে খেয়ে ফেলল। পাখিটি আবার হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার কাছে নালিশ করল। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম সেই জিনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নির্দেশ পালন করলে না কেন?

তখন জিন জবাব দিল, আমি আপনার নির্দেশ পালন করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এমন সময় পূর্ব ও পশ্চিম থেকে দুই ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম এসে আমাকে অনেক দূরে ফেলে দিল। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বিস্মিত হয়ে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন,জিনটি বলল, আমি দেখলাম, লোকটি
গাছে ওঠার আগে জনৈক ভিক্ষুককে এক মুষ্টি খাবার দান করল।
.
সম্ভবত এর বরকতে আল্লাহপাক তাকে আসন্ন বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম বললেন, হ্যাঁ সদকা বালা-মুসিবত দূর করে। এ কারণেই সে তখন মহাবিপদ থেকে বেঁচে গেছে।
সুবহানাল্লাহ্...

উপরোক্ত ঘটনার মাধ্যমে বুঝা গেল, দান ছদকা করার কারণে বালা মুসিবত দূর হয়। মূলত এই দান ছদকা এটা এমন এক ইবাদত যার মাধ্যমে ধন-সম্পদ,হায়াত ইত্যাদি বৃদ্ধি পায় এবং বালা-মুছিবত, বিপদ-আপদ ইত্যাদি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আমাদের সকলকে আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান, সদকা করার তৌফিক দান করুন। আমিন...

ব্যাঙ এর বুদ্ধি.....

একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে একটি ব্যাঙ রেখে পানি গরম করা শুরু করা হল । পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ব্যাঙটিও তার শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে সহনীয় পর্যায়ে নিতে শুরু করল যদিও সে চাইলেই লাফ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারত কিন্তু সে লাফ দেয় না। সে সহ্য করতে থাকে,,।

আস্তে আস্তে তাপমাত্রা যখন আরও বাড়িয়ে ফুটন্ত গরম করা হয় তখন ব্যাঙটি আর সহ্য করতে না পেরে সে সিদ্ধান্ত নেয় লাফ দেওয়ার কিন্তু তখন আর তার লাফ দেওয়ার মত শক্তি তার ছিল না।

পানি আরও গরম হতে থাকে যার ফলে সে গরম পানিতে ফুটে একটা সময় মারা যায়।

এখন যদি প্রশ্ন করা হয় ব্যাঙটি কিভাবে মারা গেছে ??
তাহলে অধিকাংশ মানুষই বলবেন গরম পানির কারনে মারা গেছে। কিন্তু না সে গরম পানির জন্য মারা যায়নি,
সে মারা গেছে লাফ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেরিতে নেওয়ার কারনে।

ঠিক তেমনি প্রতিটি মানুষের স্থান কাল পাত্র ভেদে
একেকটা বিষয়ে সহ্য করার ক্ষমতা থাকে। আমাদের বুঝতে হবে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কখন সরে যাওয়া উচিত।

সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটাই হবে একটা স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

হে মুসলিম এখনই সঠিক সময়, নিজেকে প্রস্তুুত কর অতীতের জন্য তওবা কর এবং মসজিদের দিকে চলে এসো। সিদ্ধান্ত নিতে আর কাল-বিলম্ব করনা। তা নাহলে ব্যাঙের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলে দেখবে তুমি উঠতে চাইছো কিন্তু তোমার শরীর তোমার মনের সাথে সাড়া দিচ্ছে না।

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন আমিন।

সংসারী ছেলে মা কে ডেকে বলছে......... "মা একটা কথা বলি? আমার একটা অনুরোধ রাখবে?"
মা-"তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল তোর সব কথা আমি রাখবো।"
"তোমার বৌমা বলছিলো...তোমার তো বয়স হয়েছে।এখন তো তোমার শরীরের একটু বিশ্রামের প্রয়োজন... আর এই বাড়িটা তো খুব একটা ভালো না। ছোট ঘুপচি....... তোমার কাশিটাও বেড়ে গেছে। আরো তো ডায়বেটিকস আছেই, হার্টের সমস্যা, হাড়ের সমস্যা আরো কতো কি!"
মা:"হ্যাঁ রে... মনে হয় আর বেশিদিন...!!!!"
" আহ... থামো তো মা। তোমার সবসময় দেখাশোনার জন্য কাউকে রাখতে হবে। আচ্ছা তোমাকে তাহলে গ্রামের বাড়িতে... না না ওই যে বৃদ্ধাশ্রমের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চে ভর্তি করালে কেমন হয়?......এটাই বলছিলো তোমার বৌমা। ওখানে অনেকে থাকবে তোমার মতোই। তাদের সাথে গল্প করতে পারবে আর এ বাড়িতে তো কেউই নাই, আমি ব্যাবসায় দৌড়াচ্ছি, তোমার বৌমা অফিসে আর মিঠু তো সারাদিনই স্কুলে।ওখানে তুমি আরামেই থাকবে মা।....... মা এটাই আমার . . মানে আমাদের অনুরোধ ছিলো।"
"আচ্ছা তুই চাইলে তাই হবে"।
"থ্যাংকস মা......আচ্ছা কালকে বিকেলেই কিন্তু তাহলে ওখানে যাচ্ছো। তোমার ব্যাগ গুছিয়ে রাখবে।"
পরের দিন:অস্বস্তিকর জ্যামে আটকে আছে মা-ছেলে।নীরবতা ভাঙলেন মা.......
"বাবা ওখানে আমাকে দেখতে যাবি তো ?পারলে একটা ফোন কিনে দিস আমাকে..."
" হা হা হা ...মা তুমি ফোন দিয়ে কি করবে ?আহা... ওখানে ফোন আছে তো......"
কিছুক্ষন পরে একটা পাঁচতলা বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামালো। আবার বেশকিছুক্ষন নিরব থেকে এবার ছেলে বলে উঠলো...
"নামো মা..... এটাই তো ওই বৃদ্ধাশ্রম মা।দেখেছো! বলেছিলাম না তোমার পছন্দ হবে।তোমার জন্য দোতালার দক্ষিনের ঘরটা বুকিং করে রেখেছি।"
.
টিং ডং টিং ডং(দরজা খুললো)
"হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ! !
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ 'মা' ! ! !"
.
দরজা খুলতেই চমকে গেলেন মা। আরে ওই তো তার একমাত্র নাতি আর বৌমা বিশাল একটা কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এতো বেলুন আগে কখনো দেখেননি । এতো আয়োজন করে কখনো কেউ তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানায় নি। আরে ওই তো তার দুই মেয়ে আর তাদের জামাই দাঁড়িয়ে। ওদেরও ডেকে এনেছে তার পাগল ছেলেটা।
" হ্যাপি বার্থ ডে মা"
মা:"তুই অনেক বড় হয়ে গেছিস (কান্নাভেজা কন্ঠে)
কিন্তু এটা কার ঘর?"
" বাড়ির ফলকে নাম দেখোনি! বাবার নামে রেখেছি । মা পুরো বাড়িটাই আমাদের। এবার তুমি আরামে থাকতে পারবে মা।
"তুই না ! !এমন কি কেউ করে?(কান্না ভেজা চোখে জোরে জোরে মাথা নাড়ছেন। আনন্দে কথা বলতে পারছেন না)
পার্টি শেষে ঘুমাতে যাবে এমন সময় পেছন থেকে মায়ের ডাক। হাতের ব্যাগটা আঁতিপাঁতি খুঁজে একটা কৌটা বের করে ছেলের হাতে ধরিয়ে দিলেন।
" নে এটার আর দরকার হবে না। ইঁদুরের বিষ ! চিন্তা করেছিলাম যদি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসিস তাহলে সেদিনই খেয়ে নেবো।"
"ধুর মা কি যে বলো !এটায় তো সেসব আমি কাল রাতেই পাল্টে তোমার ক্যালসিয়ামের ওষুধ ভরে রেখেছি। তুমি ঘুমাও।"

মার আজ আর কিছুই চাওয়ার নেই। আর কিছু না হোক তার ছেলেকে অন্তত মানুষ করতে পেরেছে সে। যাক আজকের ঘুমটা সত্যিই আরামের হবে, ঘুমের ঔষুধ খেতে হবে না।

(Plz মাকে কেউ কষ্ট দিওনা, মা কে যে কষ্ট দেয় তাদেরকেও একদিন সেই কষ্ট ভোগ করতে হয়......মা-ই হলো আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ♥️💚💜💙 (সংগৃহীত)

একটু সময় নিয়ে পড়ুন;দৃষ্টি ভঙ্গি বদলাতে বাধ্য ….........................

অনেক দিন পর দেশে এসে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে বাসার গেইটে নজর পড়ল।দেখি দেয়ালের মধ্যে “মাশাআল্লাহ” লিখা।

কৌতুহল বেড়ে যাওয়ায়;বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই দেখি দড়জার মধ্যে “আসসালামু আলাইকুম” লেখা।

ডোর বেল বাজাতেই একজন আপু দড়জা খুলে দিল।ঢোকার সময় দেখি ঘরের দড়জার মধ্যে “আহলান সাহলান” এবং তার নিচে “বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়াবিস্মিল্লাহি খারাজনা, ওয়া ‘আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা” লেখা।

নাস্তা খাওয়ার সময় ডাইনিং টেবিলে নজর যেতেই দেখি টেবিলের মাঝখানে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” লেখা।

নাস্তা করে; ঘরের কামড়া গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছি।বাথরোমের সামনে যেতেই দেখি দড়জার মধ্যে “বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবসী ওয়াল খাবায়িস” এবং ভিতরের দিকে “গুফরানাকা আল হামদু লিল্লাহিল্লাযি আযহাবা আননিল আযা ওয়া আফানী” লেখা।

বেডরোমে গেলাম;দেখি বিছানার সম্মুখ দিকে “আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া” এবং “আলহামদু লিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর” লেখা।

অবশেষে,আত্মীয়কে জিজ্ঞেস করলাম,এগুলো কেন লিখলেন?উত্তরে তিনি বললেন,এগুলো লেখার কারন হল;আমরা যাতে সবসময় প্রত্যহ কাজে দোয়া পড়ে নিতে পারি এবং যারা জানে না তারাও যাতে পড়তে পারে।আর সেই জন্যই ঘরের প্রতিটি কক্ষেই প্রয়োজনীয় দোয়া দেয়ালে রঙ দিয়ে লিখে রেখেছি।

ঘর থেকে বের হব তখন দেখি দড়জার সামনে “বিসমিল্লাহি, তাওয়াককালতু ‘আলাল্লা-হি, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” লেখা।

তাদের এই নিয়ম ও আমলের ধরন দেখে পোষ্ট না করে থাকতে পারলাম না।আসুন;এই মুসলিম পরিবারের মত আমরাও আমাদের ঘরে যাবতীয় দোয়া গুলো লেখার উদ্যোগ গ্রহণ করি এবং নিয়মিত আমল করি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে নেক আমল করার তওফিক দান করুন।আমিন।
দ্বীনের জীবনে,থাকে কজনে,
সময় হয়েছে ভাই;চল বদলে যাই।

“জীবনের গল্প অবলম্বনে” গ্রন্থ থেকে সংকলিত

চীন থেকে ফিরতি পথে পাকিস্তানে নেমেছিলেন ভাসানী।
মেয়র এক নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছিলেন ভাসানীকে।
ভাসানীর মাথায় তালের টুপী আর পরনে ছিল লুঙ্গি,
স্টেজে উঠেছেন ভাষণ দিতে....
ভাসানীর বেশ ভূষা দেখে দর্শক শ্রোতাদের মধ্যে গুনগুন মন্তব্য
"ইয়ে তো মিসকিন হ্যায়"..!!
কোরান তেলাওয়াত দিয়ে ভাসানীর বক্তব্য শুরু হতেই ওই শ্রোতাদের কণ্ঠে আরেকটি মন্তব্য ভেসে এলো
"ইয়ে তো মাওলানা হ্যায় "..!!
ভাসানীর রাজনৈতিক বক্তব্য শুরু হতেই ঐ একই দর্শক শ্রোতারা বলে উঠলেন
"আরি বাহ্ ইয়ে তো পলিটিশিয়ান হ্যায়"..!!
ভাসানী যখন বিশ্ব পরিস্থিতি ও বিশ্ব মোড়লদের শোষণ পীড়ন নিপীড়নের কথা বলতে শুরু করলেন তখন ঐ একই দর্শক শ্রোতারাই বলে উঠলেন
"হায় আল্লাহ ইয়ে তো এস্টেট মেন হ্যায়"..!!

মজলুম জননেতা,উপমহাদেশের রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ,ইতিহাসের মহানায়ক।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী

গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রইলো আপনার প্রতি।

#অণুগল্প
#সেই_বালাজোড়া
🌹🌹

ছোটবেলা থেকেই মাকে আমার একদম ভালো লাগত না। ভীষণ ছোটমনের মানুষ। মা কিন্তু আমাদের সংসারের জন্য প্রাণপাত করতেন। ঠাকুমা ঠাকুরদাকে খুব যত্নআত্তি করতেন। বাবাকেও খুব সমীহ করে চলতেন। কিন্তু তাও মায়ের বেশ কিছু দোষ ছিল। মায়ের গয়নার ওপর সাংঘাতিক লোভ। আমি তখন খুব ছোট, পিসির বিয়ে ঠিক হয়েছিল। দাদু পিসিকে নাকছাবি ছাড়া সোনার কোন গয়নাই দিতে পারেননি। মাকে দেখে মনে হত, পিসিকে যেন কত ভালোবাসে, কিন্তু আসলে তা নয়। কারণ বাবা, ঠাকুমা পিসিকে দেবেন বলে দুজনেই মায়ের কাছে তার বালাজোড়া চেয়েছিলেন, সেই বালাজোড়া যেটা মায়ের বাবা(দাদু), মাকে বিয়েতে দিয়েছিলেন। মায়ের এক গোঁ, "আমার বাবার এই স্মৃতি আমি কাউকে প্রাণ থাকতে দেব না"। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসার, সেখানে মায়ের এই গয়নাপ্রীতি খুব দৃষ্টিকটু লাগত। তবে মাকে আমি বালাদুটো কোনদিন পরতে দেখিনি। ট্রাঙ্কে তালাচাবি দিয়ে রাখত। বাবার কারখানাটা যখন বন্ধ হয়ে গেল, তখন আমাদের একবেলা অনশন করতে হত, তাও মা কোনদিন বাবার হাতে তুলে দেয়নি গয়নাটা। বলেনি," যাও এটা বিক্রি করে কদিনের অন্ন সংস্থান করো"। এতটাই নিষ্ঠুর আমার মা। মায়ের সাথে কথা বলতেও ভালো লাগতনা। মুখে কিছু না বললেও এড়িয়ে চলতাম মাকে। বাবার কষ্ট দেখে শুধু কষ্টই পেতাম। আর মনে মনে সংকল্প করি যেমন করেই হোক লেখাপড়া শিখে বাবার পাশে দাঁড়াব। এরপর আসে জীবনের চরমতম অন্ধকার দিনটা। বাবা তখন রেলের হকার। হঠাৎ ওনার বিরাট অ্যাক্সিডেন্ট হয়। রেলে দুটো পাই কেটে যায়। গোটা পৃথিবী যেন শূন্য মনে হয়। ঠাকুমা মায়ের কাছে প্রথমে কত অনুনয় বিনয় করেন, তারপর মায়ের গায়ে হাতও তোলেন, বলেন "বালাজোড়া বিক্রি করে স্বামীর প্রাণ বাঁচাও, স্বামীই যদি না থাকল গয়না দিয়ে সঙ সেজে কি করবে?" তাও আমার মা তার জায়গা থেকে একটুও সরে আসেনি। অ্যাক্সিডেন্টের পর বাবা যেকদিন বেঁচে ছিলেন, সেকটাদিন মা প্রাণপণ বাবার সেবা করেছে, কিন্তু শুধু সেবায় কি আর প্রাণ বাঁচে?? চলে গেলেন বাবা। মা লোকের বাড়িতে বাড়িতে রান্না করে সংসার চালাত। আমি লেখাপড়া শিখলাম। ঠাকুমা, দাদুও গত হয়েছেন ততদিনে। লেখাপড়া শেষ করে মোটামুটি একটা চাকুরী যোগাড় করলাম। মাকে এসে জানালাম, তার সাথে এক ছাদের তলায় আমার আর থাকার ইচ্ছে নেই। মাকে যে আমি ঘৃণা করি, সেটা মা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারত। যেদিন প্রথম মাসের মাইনে পেলাম, একটা বাড়ি ভাড়া ঠিক করেই বাড়িতে ঢুকলাম। মাকে এসে জানালাম, সে কথা। মা আমার মাথায় হাত রেখে বললেন, "তোর নিজের বাড়ি ছেড়ে তুই যাবি কেন, মা? তার চেয়ে ভালো, আমিই না হয় কাল সকালে চলে যাব।" মা আস্তে আস্তে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। মনে মনে ভাবলাম, এই বেশ ভালো হল। দুজনে রাতের খাবার খেতে খেতে একটাও কথা বলিনি কেউ কারো সাথে। মা নিজের ঘরে চলে গেল। আমি আমার ঘরে নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়লাম, পরদিন থেকে ঐ মহিলাকে আর সহ্য করতে হবে না ভেবে, বেশ একটু শান্তিও পেলাম। সকালে যখন ঘুম ভাঙলো, তখন বেশ কিছুটা বেলা হয়ে গেছে। বিরক্তি লাগল, নতুন চাকুরী, মা চা নিয়ে ঠিক সময় একটু ডেকে দিতেও পারলনা। আলিস্যি ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে মায়ের ঘরের দিকে তাকালাম। ভেজানো দরজা, খুলে দেখে আমার গা হিম হয়ে গেল। মা ফ্যানের আংটায় গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। চীৎকার করে লোক জড়ো করতে গেলাম, হঠাৎ নজরে পড়ল খাটের ওপর রাখা একটা চিঠি, আর মায়ের বালাজোড়া রাখা তার ওপরে। বিতৃষ্ণায় বালাদুটোয় হাত দিইনি। আলগোছে চিঠিটা তুলে নিলাম। তাতে লেখা, " উর্মি, আমি জানি তুই আমাকে পছন্দ করিসনা, কেন করিস না, তাও জানি। তুই ভাবিস আমি খুব লোভী আর নিষ্ঠুর। তার মূল কারণ আমার বাবার দেওয়া বালাজোড়া। চরম বিপদের দিনেও এটা আমি যক্ষের ধনের মতো আগলেছি। তাও কারও হাতে এটা তুলে দিইনি। সব সম্পর্কগুলো আমার নষ্ট হয়ে গেছে এক এক করে এটার কারণে। অবশেষে তুইও আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইলি। তাই আজ আমি নিজেই তোর কাছ থেকে বিদায় নিলাম। তবে জীবিত অবস্থায় সত্য বহনের যে গুরুভার থাকে, মৃত্যুর পর বোধহয়, সে দায়ভার আর থাকেনা। তাই তোকে সত্যটা জানিয়ে দেওয়াই শ্রেয় মনে করলাম। আমার এই বালাজোড়া নকল। তোর ঠাকুদার কথা অনুযায়ী আমার বাবার সামর্থ্য ছিলনা বালা দেওয়া। তাই গিল্টি করা এই বালাদুটি আমার হাতে তুলে দিয়ে আমার কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা অসহায়ের মতো আমাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিলেন, আমি যেন বাবার লাজ রাখি। আমি আমৃত্যু বাবার লজ্জা ঢেকে রেখেছি। হয়ত আজও রাখতাম। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর, তোর নতুন সংসারে তুই যাতে এগুলো নিয়ে কোন বিপদে না পড়িস, তাই তোকে সবকথা জানালাম। ভালো থাকিস।" জীবনে সেইদিন প্রথম মায়ের জন্য হাউহাউ করে কাঁদলাম।
(Collected)

❣ মা ❣

দিব্যি অন্ধকারে ঘুমোচ্ছিলাম। হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই মুখের উপর কে যেন তীব্র আলো ফেলে কাঁচা ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে দিল। তারপর মুন্ডুটা ধরে টেনে হিঁচড়ে নরম গরম কোটর থেকে বের করে দিল। তাতে ও হল না , মাথা নিচে পা উপরে করে ঝুলিয়ে পিঠে দমাদ্দম ঘা মারতে লাগল। একজন আবার এরই মধ্যে ক্যাঁচ করে কখন নাড়িটাকেও কেটে দিয়েছে।• আমি এতক্ষন সহ্য করে ছিলাম , আর পারলাম না। পরিত্রাহী চিৎকার জুড়লাম। তারপর একজন আমাকে গরম জলে ফেলে যেটা করতে লাগল তাকে ধরপাকড় ছাড়া আর কীইবা বলা যায় ?•
" আরে বাবা আমি কি আর সাঁতার জানি না " ? এতদিন তো সাঁতার কাটলাম । যাইহোক সেখান থেকে তুলতেই আমার কাঁপুনি শুরু হল। তারপর ঐ চেনা কোটরটার গন্ধ পেলাম , গলাটাও শুনে চেনা গেল। ভাবলাম যাক এবার আমার অন্ধকারে ঘুমাবো। কিসের কী ?•
আমাকে এই ভদ্র মহিলার সামনে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি তখন শরশয্যায় শুয়ে আছেন। টেরিয়ে দেখে নিলুম আমার নিশ্চিন্ত কোটরে ঢোকার পথটি একজন সেলাই করে বন্ধ করে দিচ্ছে। ভদ্রমহিলার দৃষ্টি সেদিকে আকর্ষন করার চেষ্ঠা বৃথা গেল। ওনার চোখের সামনে একটা সবুজ রং এর পর্দা ফেলা আছে। যাতে করে তিনি তার পেটে কী কী কান্ড করা হচ্ছে টের না পান ।
তারপর অস্বস্তিকর ভাবে আমার দুই ঠ্যাঙ ফাঁক করে একজন তাকে বলতে বলল , আমি ছেলে না মেয়ে ।
আমার ভারী অপমান হল , এ আবার কি ?
আমার কি কোন প্রাইভেসি নাই ?
এরপর একজন নার্স আমাকে নিয়ে গেল ঘরের বাইরে। একজন ভদ্রলোক মুখ কাঁচু মাঁচু করে এগিয়ে এলেন। আমার দিকে না তাকিয়ে আগেই নিজের স্ত্রী কেমন আছে জিগ্যেস করলেন। এই গলাটাও চেনা লাগল।▪
তারপর আমার সস্বন্ধে প্রথম কথা বললেন , একি এ এত কাঁপছে কেন ? গায়ে শিগগির কিছু চাপা দিন। বাস্তবিক আমার তখন ভীষন শীত করছিল ।আমার লোকটিকে তাই তেমন খারাপ লাগল না। নার্সটির কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। তার তখন আগ্রহ শুধু মিষ্ঠি খাওয়ার দিকে। এদিকে আমার পেট যে ক্ষিদেতে জ্বলে যাচ্ছে কে বোঝাবে ?
আমি এই অল্প অভিজ্ঞতায় দেখেছি একমাত্র চিৎকারই হচ্ছে মনোযোগ আকর্ষণের উপায়। যথারীতি চীৎকার করে কাঁদতেই আমাকে একটা তোয়ালে দিয়ে মোড়া হল । তারপর শরশয্যায় শায়িত ভদ্রমহিলাটির কাছে আবার আনা হল। তিনি তাঁর নল সূঁচ সরিয়ে কোনমতে আমার গালে একটা আঙ্গুল ছোঁয়ালেন।
মনে হল আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেল ।
উনি মিষ্ঠি করে বললেন -----
এই দেখ , আমি তোমার " মা " ।❤

# সংগৃহিত পোস্ট #

⬛ শিক্ষনীয় গল্প


বাবা বাথরুমে , মা রান্না ঘরে আর ছেলে টিভি দেখছিল। এমন সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। ছেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখল, পাশের বাড়ির দাসবাবু দাঁড়িয়ে।

ছেলে কিছু বলার আগেই দাসবাবু বললেন, ‘আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব, যদি তুমি ১০ বার কান ধরে ওঠবস কর।'

বুদ্ধিমান ছেলে অল্প কিছুক্ষণ চিন্তা করেই কান ধরে ওঠবস শুরু করল, প্রতিবার ওঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা।

শেষ হতেই দাসবাবু ৫০০ টাকার নোট ছেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।

বাবা বাথরুম থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে ছিল দরজায়?’

‘পাশের বাড়ির দাসবাবু ’, উত্তর দিল ছেলে।

‘ও’, বললেন বাবা, ‘আমার ৫০০ টাকা কি দিয়ে গেছেন?’

#শিক্ষণীয়বিষয়
আপনার ধারদেনার তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের থেকে গোপন করবেন না। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা পাবেন।

(একটি কাল্পনিক ঠিকানায়, কোথায় শেষ হবে জানিনা।)

তোমায় লিখছি বাবা,

জানো ওঁর খুব সকাল সকাল অফিস বলে,আমায় ওঁর আগেই উঠে পড়তে হয় আজকাল ঘুম থেকে..যতটা সকালে মা উঠতো বাবা,আর আমি আর তুমি, "আমাদের তো এখন মাঝ রাত্রি.."বলে ভোর ছটাটাকেও ঘুমে দশ গোল দিয়ে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতাম দুজনে...! গ্যাস জ্বালিয়ে চা বসাই একদিকে, আর একদিকে ওঁর জন্যে ভাত..আগের দিন রাতে শোবার আগে, মনে করে ডাল করে ফ্রিজে রেখে দিতে হয়..যদি ভুলে যাই..।আমাদের এই ফ্লাটের ছয় তলা বারান্দা থেকে দাঁড়িয়ে আমি ভোর বেলা দূরের রাস্তাটা দেখতে পাই, আর রাস্তা দেখতে পেলেই আমার বড্ড তোমাদের কথা মনে পরে...। মনে হয়, আমায় চোখ বন্ধ করে ছেড়ে দিক কেউ ওই রাস্তায়..আমি আমাদের বাড়িটায় , থুড়ি "বাপের বাড়িটায়" ঠিক পৌঁছে যাবো..। তারপর আমার যে ঘরটা ছিলো,তাতে ঢুকে অনেকক্ষণ ধরে ঘুমাবো, বেলা করে উঠবো..তুমি মা দুজনেই একবার করে ডেকে যাবে আর আমি ততোবার পাশ ফিরে চাদর টেনে...!! জানো বাবা, আমি কতোদিন একটু ভাল করে রাতে ঘুমাইনি..? ভোরের আগেই ভোর হয়ে যায় মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে... তুমি বুঝি এখনো দেরী করেই ওঠো ? মাকে বলো , খুব সকালেও এখন আমাদের মাঝ রাত্রি..?

সারাদিনের রান্না কাজ সব শেষ করে যখন নিজের ঘরে যাই দুপুর হয়ে যায়, ওঁকে ফোন করি , খেয়েছো টুকু জিজ্ঞেস করার উত্তর দিতে দিতেই বলে অফিসে অনেক কাজ..পরে কথা হবে ফিরে...আমি ফোন রেখে বারান্দায় এসে দাঁড়াই, দেখি ফ্ল্যাটের নীচে ছোটো ছোটো বাচ্ছা গুলো পিঠে ব্যাগ নিয়ে স্কুল থেকে ফিরছে এক এক করে..কেউ বা স্কুল বাসে কেউবা মায়ের হাত ধরে, হাতে চিপসের প্যাকেট গলায় আই কার্ড, স্কুলের সাদা জামা..আমার হিংসে হয় বড্ড..আমি চোখ ঘুরিয়ে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবি, এইতো সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তুমি আমায় শেখাচ্ছিলে , এই বছরটা খুব ভাল করে পড়তে হবে, মাধ্যমিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রথম পরীক্ষা...
কেনো বলেছিলে অমন ? সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তো সেদিন ছিলো , যেদিন মায়ের আঁচলে চাল ছুঁড়ে ঋণ মেটাতে বলেছিলো পাশের বাড়ির ফুল পিসি..

স্কুলে পড়তে যেদিন গানে প্রথম হয়েছিলাম, তোমার মনে আছে ? স্কুলের বড়দি মাথায় হাত দিয়ে বলেছিলেন, "অনেক দূর যাবি.." আমি অনেকটা দূরেই এসছি বাবা, যতটা দূরে এলে তোমাদের রোজ একবারের জন্যে হলেও চোখের দেখাও দেখা যায় না..আজকাল সন্ধ্যের দিকে একা একাই মনের ভুলে গেয়ে ফেলি দু চার লাইন, আমার শাশুড়ি মা হেসে বলেন , ভালই তো হচ্ছে...করো..তারপর মনে করিয়ে দেন রাতের রুটি , ওঁর জামার আয়রন সবটাই বাকী..আমি মনে পরতেই লজ্জা পেয়ে যাই, ময়দা মাখতে মাখতে ভাবি, মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে গান থাকে , কবিতা থাকে , নাচও থাকে। তবে তা সংসারের রোজনামচার তালে, লয়ে । আলাদা করে তাতে কান পেতে শুনে মুগ্ধ হওয়ার ভাগ্য ,খুব কম মেয়েই জীবনে নিয়ে আসে...

দুপুর বেলা আলমারী খুলে বিয়ের শাড়ি গুলোয় হাত রাখি, গয়না গুলো বাক্স খুলে খুলে দেখে আবার আগের মতোন পুরে রাখি, মনে পরে এই একটা গয়নার জন্যে তোমায় দিন রাত অক্লান্ত চিন্তা নিয়ে বাড়ি ফিরতে কাজ থেকে...মনে পরে তোমার প্রতিটা শখ , মায়ের আল্হাদ গুলো নিমিষে ম্যাজিকের মতোন ভ্যানিশ হয়ে যেতে..মনে পরে প্রতিটা অভাবের মুখে আরও অসংখ্য অভাবের গল্প লুকিয়ে , তোমায় আমায় বোঝাতে , "এইটুকু দিতেই হয় মা..." !

জানো, কোনোদিন বলিনি তোমাদের, যখন ছোট্ট একটা কাজ পেয়েছি কলেজ পাশ করে, বিয়ের কথা বার্তা যখন একটু একটু করে জলের মতোন গড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের তিনজনের একতলার বাড়িটায়..তখন প্রায় দিন অফিস করে বাড়ি ফেরার সময় পৃথিবীর তোমার বয়সী সমস্ত পুরুষকেই আমার বাবা বলে মনে হতো, কেউ রিকশাতে কিংবা ঝালমুড়ি দিয়ে দু টাকা বেশি নিলেও আমি একটুও রেগে যেতাম না..দিয়ে দিতাম..শুধু মনে হতো তাঁদের তুমি..।তুমিও তো এমন আমায় খুশী করবার জন্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরছো রোজ..শুধু মনে হতো তাঁর বাড়িতেও আমার মতোন বোধহয় একটা মেয়ে আছে বাবা, যাঁর বাবার ইচ্ছে অনেক, কিন্তু সামর্থ বাঁধা...!

আমি ভালই আছি জানো..
পাখা , কম দামী রঙের দেওয়াল, সাদা মেঝে,মায়ের আঁচল তোমার গায়ের গন্ধ সবটাই ছেড়ে আমি ভাল আছি বাবা...শুধু কখনো কখনো ঘুমের ভেতর আমি দেখতে পাই, তুমি আমার প্রিয় গরম গরম জিলিপি এনে ডাকছো আমায়...আর মা বিছানার পাশে এসে বলছে আর কতো ঘুমাবি?? দেখ তোর বাবা তোর জন্যে কী এনেছে..." আমি চমকে উঠে বসি, দু গাল মুছি, জল খাই...

মনে হয় , আমি এখনও স্কুলে আছি...কড়া একটা ক্লাস চলছে..আমার একটুও ভাল্লাগছে না..তবুও আমি ভান করছি, মন দিয়ে পড়ার..অথচ আমি ছুটির অপেক্ষা করছি, তুমি নিতে আসবে..গেটের বাইরে , ভীড়ের মধ্যে আমি ঠিক চিনে নেবো তোমায়..তারপর ছুটটটট....

আমার ছুটি কখন হবে বাবা ? বাড়ি নিয়ে যাবেনা আমায়... ? তাড়াতাড়ি এসো না...আর কতক্ষণ আমি দাঁড়িয়ে থাকবো...এসো না..প্লীজ এসো...প্লীজ...


26-Jan-2020 তারিখের কুইজ
প্রশ্নঃ ব্যবসা/প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার নিকট থেকে করাতে হয়। কোন প্রতিষ্ঠানকে ‘লিমিটেড’ করার করার কোন প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নিতে হয়?
(A) শিল্প মন্ত্রণালয়
(B) জয়েন স্টক
(C) বানিজ্য মন্ত্রণালয়