About আসলাম সিকদার


“ আত্না কলুষিত হতে শুরু করলেই মন আকারে সুরু হতে থাকে ”
রুশো


টাক ঢাকতে আর টুপি নয়!
----------------------------------------------------
পুরুষ কিংবা নারী, চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা ইদানীং প্রায় সকলেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন যতটা পরিমাণ চুল ঝরে যায়, মোটামুটি সেই পরিমাণ চুলই আবার নতুন করে গজিয়ে যায়, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে বেশ কয়েকটি কারণে অকালে চুল ঝরে যেতে পারে।কখনো দুশ্চিন্তা,ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমণ বা অ্যালার্জি, রক্তাল্পতা, আবহাওয়া, অপুষ্টি এবং খারাপ পানি অন্যতম। অকালে চুল ঝরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ হিসেবে সামনে আসে অপুষ্টি।কয়েকটি খাবার বা মশলা নিয়মিত খেতে পারলে অপুষ্টিজনিত কারণে চুল ঝরা বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন চুলও গজাবে। আসুন এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

১। পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন বি, সি, ই, আর ভিটামিন এ। এ ছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও আয়রন। এই উপাদানগুলি চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।
২। ডিমের মধ্যে প্রচুর প্রোটিন ছাড়াও ভিটামিন বি ১২, আয়রন, জিঙ্ক এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড প্রচুর পরিমাণে থাকে। এগুলি চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
৩। বার্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, কিছুটা আয়রন এবং কপার থাকে। এই উপাদানগুলি শরীরে লোহিত কণিকার বৃদ্ধি ঘটিয়ে চুলের ফলিকলকে আরো শক্তিশালী করে তোলে।
৪। পেয়ারার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ফলে এটি কোলাজেন কার্যকারিতাকে আরো উন্নত করে চুলকে মজবুত করে।
৫। চিকেনের মধ্যে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন যা চুলের স্বাস্থ্যকে গোড়া থেকে মজবুত করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে চিকেন, ডিম, মাছের মতো খাবার অবশ্যই রাখুন।
৬। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। চুলের পরিচর্যায় যুগ যুগ ধরেই আমলকীর ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন একটা করে আমলকী খেতে পারলে অকালে চুল ঝরে যাওয়া থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
৭। নারকেল তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লরিক অ্যাসিড যা চুলে প্রোটিনের জোগান দিয়ে গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। মাথায় নারকেল তেল মাখার সঙ্গে সঙ্গে নারকেল তেলে রান্না করে খেতে পারলেও অকালে চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যায় দুর্দান্ত ফল মিলবে।
৮। চুলের পরিচর্যায় মেথি অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড যা চুলের গোড়া শক্ত করে অকালে অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়া রুখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন মেথি ভেজানো জল খেতে পারলে ফল পাবেন হাতে নাতে।

পবিত্র হাদিসে পেঁয়াজ প্রসঙ্গ

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৫৫)

তবে তরকারি ইত্যাদির সঙ্গে পাকানো পেঁয়াজ খেলে যেহেতু তেমন দুর্গন্ধ হয় না, তাই সে ক্ষেত্রে পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে আসার অনুমতি আছে। ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের শেষাংশে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি তা খায়, সে যেন তা পাকিয়ে গন্ধমুক্ত করে ফেলে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৭০৮)


খালি পেটে বাদাম খান, যৌবন শক্তি আরও বাড়ান

আপনি জানেন কি যৌবন ধরে রাখতে বাদামের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে সারারাত যদি সেই বাদাম জলে ভিজিয়ে রেখে খান তবে তো তার সুফল পাবেনই।

বাদাম যেভাবে যৌবন ধরে রাখতে সহযোগিতা করে-

১) এই বাদাম মেদ ঝরিয়ে, শরীরে ফোলাভাব কমায়।

২) হজম শক্তি বাড়িয়ে তোলে ভেজানো বাদাম।

৩) ভেজানো বাদামে ভিটামিন B-17 থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধেও কাজ করে।

৪) শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ভেজানো বাদাম। তবে রোজ সকালে খালি পেটে খেলেই ভালো।

৫) গর্ভবতী মহিলাদের পক্ষেও নাকি ভালো এই বাদাম।
৬) বাদামে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১২ বছরের ছোট্ট মেয়ে আবিষ্কার করে ফেলল এক আশ্চর্য রোবট !


জামাকাপড় কাচার পর ভাঁজ করাটা একটা মহা সমস্যার কাজ। ভাঁজ করার সময়েরও অভাব হয়। তাই কাচার পরও জামা কাপড় ডাই হয়ে পড়ে থাকে। এবার আসতে চলেছে এক নতুন রোবট । যে আপনার জামা কাপড় ভাঁজ করে রেখে দেবে জায়গায় । শুধু কাচার পর তাঁর হাতে দিয়ে দিলেই হল। এই রোবটের দামও খুব কম হতে চলেছে।

এই রোবটটি আবিষ্কার করছে একটি ১২ বছরের বাচ্চা মেয়ে। নাইজেরিয়ায় থাকে মেয়েটি। নাম ফাদিয়া আবদুল্লাহি। সে এখনও এটি বাজারে ছাড়েনি। কিন্তু তাঁর রিসার্চ শেষ। এখন কিছু আপডেট করা বাকি। তারপরেই হাতে চলে আসবে কাপড় ভাঁজ করার রোবট।

গ্রিন টি-এর গুণাবলি

শরীর ও মনকে চাঙ্গা করতে এক কাপ চায়ের জুড়ি নেই। আর তা যদি হয় গ্রিন টি তাহলে প্রফুল্লতার পাশাপাশি নানাবিধ উপকার হবে আপনার শরীরের। তেঁতো স্বাদের কারণে অনেকেই পান করতে পছন্দ করেন না গ্রিন টি। তবে এর নানাবিধ গুণাবলির কারণে এর জনপ্রিয়তা এবং প্রচলন বাড়ছে আমাদের দেশে। গ্রিন টি জাপানে ‘এন্টি এজিং ড্রিংকস’ হিসেবে প্রতিদিন পান করেন জাপানিরা। গ্রিন টি বা সবুজ চা-তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট। এসব এন্টি অক্সিডেন্টে রয়েছে আমাদের শরীরে নানাবিধ প্রভাব। যেমন- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, শরীরের হাড় সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে, রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়, স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়, ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডভেদে এক কাপ গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকে ১০০ মিলিগ্রাম। তাই প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচ কাপ গ্রিন টি পান করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রিন টি সেবনে ক্যাফেইনের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিতে পারে। যেমন- ক্ষুধামন্দা ও কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি।

এই কাজগুলো আপনার বয়স থামিয়ে দেবে

অনেকে আছেন যাদের দেখে বয়সের তুলনায় আরও বেশি বয়স্ক লাগে। আবার অনেকে আছেন যাদের দেখলে বয়স একদমই বুঝতে পারা যায় না অর্থাৎ অনেক কম মনে হয়। কিন্তু কথা হলো, তারা কিভাবে বয়সের চাকা এভাবে থামিয়ে রেখেছেন? সেজন্য প্রয়োজন নিয়মিত কিছু নিয়ম মেনে চলা। আপনার দীর্ঘদিনের অবহেলার ছাপই কিন্তু ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে শরীরে। তাই শরীরকে একদম অবহেলা নয়। চলুন জেনে নেই কোন কাজগুলো আপনার বয়সের চাকা থামিয়ে রাখবে-

প্রচুর পানি পান করুন: বেশিরভাগ সমস্যার সমাধানের জন্য পানি খেতে বলা হয় কেন জানেন? কারণ পানির রয়েছে অসংখ্য গুণ। আপনি খাবার ছাড়া ৪০ দিন বেঁচে থাকতে পারবেন, কিন্তু পানি ছাড়া একটা দিনও চলবে না। সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজকর্মেই বাধা তৈরি করবে পানির অভাব। পানি আর্দ্রতার ঘাটতি মেটায়, শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করে। ত্বক যত আর্দ্র থাকবে, তত বজায় থাকবে স্থিতিস্থাপকতা। এই টানটান ভাবটা কমলেই কিন্তু বলিরেখা হামলা চালাবে সবার আগে। তাই বয়স ধরে রাখতে পানি পান করুন।

প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম: শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন। প্রতিদিন আট ঘণ্টা নির্বিঘ্ন ঘুম সবার ভালো থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। মাঝরাতে উঠেও মেইল বা মেসেজ চেক করার অভ্যাস আছে? তাতে কিন্তু আপনি নিজের ক্ষতিই করছেন। মোবাইল আর কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে বিচ্ছুরিত আলো কিন্তু ত্বকের বয়স বাড়িয়ে দেয় খুব তাড়াতাড়ি। তবে বালিশের উপর মুখ উপুড় করে ঘুমোবেন না, তাতেও মুখে বলিরেখা পড়ে।
ব্যায়াম করুন নিয়মিত: নিয়মিত ব্যায়াম করলে বা অ্যাকটিভ থাকলে আপনার শরীরের ভিতরকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলো থেকে আপনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন, শরীরের বাইরে থেকে যে মেদের পরত দেখা যাচ্ছে, তা কিন্তু ভিতরেও জমে রয়েছে। আর বাড়তি বোঝা নিয়ে চলতে গেলে সমস্যাও বাড়বে। তাছাড়া, ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচলের হার বাড়ে, পুরো শরীরের সব কোষে পৌঁছে যায় অক্সিজেন। ফলে তা ঝলমল করে। শরীরের ভিতরে রোগ থাকলে কিন্তু ত্বক-চুল ঝলমল করার কথা নয়।

মাথা নিচু করে কম্পিউটার বা মোবাইলের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকাবেন না: তাতে কিন্তু বলিরেখা পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। কম্পিউটার রাখুন চোখ বরাবর। সারাদিন ঘাড় গুঁজে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে থাকবেন না।
মন ভালো রাখুন: সুস্থ, সুন্দর, তরুণ থাকার সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো মনটাকে ভালো রাখা। আপনার মনের অবস্থার ছাপ পড়বে মুখে ও সারা শরীরে। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করুন, এমন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন যা করতে আপনার ভালোলাগে।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমান, বাড়ান ওমেগা থ্রি: ভাজাভুজি, কেক-আইসক্রিম-মিষ্টি-বিস্কুটের মাত্রা কমান বদলে বাড়ান বাদাম-সিডস-ডিম-ফুল ফ্যাট দুধের পরিমাণ। শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়াটাও খুব জরুরি। মাছ-ডিম-মুরগি চলতে পারে, লাল মাংস এড়িয়ে চলুন।


যাদের বোন আছে তারা ভাগ্যবান: গবেষণা

বর্তমানে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে এখন ছোট পরিবার গড়ে উঠছে। এখন ছোট পরিবারগুলোতে দুটো শিশুর বেশি দেয়া যায় না। তাই পরবর্তী প্রজন্ম বেড়ে উঠছে অনেকটা নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী করে। আবার অনেকে একটি সন্তানের বেশি নিতে চান না। ভাইবোনের খুনসুটি, খেলনা,এক সঙ্গে খাবার এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।

এছাড়া আমাদের দেশে এখানো কিছু মানুষ আছে যারা কন্যা শিশু জন্ম নিলে মন খাবার করে। আর তাদের ভবিষ্যতের বিপদ মনে করে। মনে রাখবেন কন্যা সন্তান বিপদ না নয়, ঘরের আলো। ভাই বা বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর জীবনে অত্যন্ত আনন্দদায়ক বলে জানাচ্ছে গবেষণা। গবেষণা বলছে, ‘যাদের বোন আছে তারা ভাগ্যবান।’

এদিকে ৩৯৫টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন ব্রিংহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছেলে হোক বা মেয়ে, তার যদি একটি বোন থাকে তো সেই জীবনের আনন্দই আলাদা। তাই এখনও কন্যা সন্তান জন্ম নিলে যাদের দুঃখের শেষ থাকে না। আপনি জানেন না আপনার মেয়ে আপনাকে কতভাবে সাহায্য করতে পারে।

১. ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়ে উঠেও বোন সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে পারে।

২. নিজের বোন থাকলে সেই শিশুর মধ্যে মায়া-মমতা ও ভালোবাসার মতো গুণ সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়।এছাড়া ম্যাচিওরিটিও তাড়াতাড়ি আসের বোনের প্রভাবে। এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা।

৩. ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়াও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

স্ট্রোকের কারনে পরবর্তী যে জটিলতা দেখা দেয় :

-পক্ষাঘাত -কোমা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া-খিঁচুনি-প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা/প্রস্রাব আটকে যাওয়া-ঘা হয়ে যাওয়া-বাচন সমস্যা-স্মৃতিশক্তির সমস্যা-পুনঃপুনঃ স্ট্রোক-মানসিক রোগঃ অবসাদগ্রস্থ হওয়া-নিউমোনিয়া
-পায়ের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা-চোখে দেখতে এবং দেখে বুঝতে সমস্যা হওয়া-কোষ্ঠকাঠিন্য-বা কেউ কেউ মৃত্যু বরণ করে থাকেন ।

আমরা বেশিরভাগই তোকমার সাথে পরিচিত আছি। তোকমা অনেকভাবে খাওয়া যায় এবং এর উপকারিতা অনেক। পেটের পীড়া উপশম হিসেবে অনেকেই তোকমা দানার শরবত খেয়ে থাকেন। তাছাড়া, বিভিন্ন ফলের জুস ও ফালুদা তৈরিতে তোকমা দানা ব্যবহার করা হয়। এটি প্রচুর পুষ্টি ও মিনারেল সমৃদ্ধ।

তোকমা দানা সালভিয়া হিসপানিকা নামেও পরিচিত। এর উৎপাদন বেশি হয় মেক্সিকোতে। প্রাচীন মায়ান এবং অ্যাজটেক্স সম্প্রদায় তোকমা দানার ব্যবহার প্রথম শুরু করে বলে জানা যায়। ছোট ডিম্বাকৃতির নরম বীজটি বিভিন্ন রঙয়ের হয় যেমন, বাদামি, কালো, সাদা ইত্যাদি। তোকমা দানায় হাইড্রোফোলিক উপাদান রয়েছে, যার কারণে খুব সহজে পানি শোষণ করে নেয়। তোকমা দানা তাদের ওজনের চেয়ে বার গুণ বেশি পানি শোষণ করতে পারে। আসুন জেনে নেই তোকমার গুণাগুণ।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ, ক্যালসিয়াম, থিয়ামিন, ম্যাংগানিজ, দস্তা, ফসফরাস, ভিটামিন-বি, ফোলেইট এবং রিবোফ্ল্যাভিন রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিনের ডায়েটে অল্প পরিমাণে তোকমা দানা খেতে পারেন। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করবে।

হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন
তোকমা দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম তোকমা দানায় ৪০ গ্রাম খাদ্য আাঁশ পাওয়া যায়। আঁশ হজম প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেটের পীড়া, প্রদাহ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ
তোকমা দানা চমৎকার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। এতে শুধু আঁশই থাকে না, শরীরের শক্তিও সরবরাহ করে। এক মুঠো তোকমা দানা বাদাম, শুকনো ফলের সঙ্গে মিশ্রণ তৈরি করে খেলে দীর্ঘক্ষণ আপনাকে ক্ষুধামুক্ত রাখবে। যা ক্ষুধা দমন, অসময়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ হয়।

ওমেগা–৩
ওমেগা-৩ শরীরের জন্য খুব দরকারী একটি উপাদান। উদ্ভিদভিত্তিক ওমেগা অ্যাসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস হচ্ছে তোকমা দানা।

খনিজ পদার্থ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
তোকমা দানায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে যা শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে। আর এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান প্রদাহ, ক্যানসার কোষ প্রতিরোধ এবং বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে। এক চাপ তোকমা দানায় আমাদের শরীরের জন্য প্রতিদিনের দরকারি ৩০ শতাংশ ম্যাংগানিজ, ১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে।

রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তোকমা দানা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল উৎপন্ন করে এবং রক্তে চর্বির পরিমাণ কমায়। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, সুস্থ হার্ট এবং হাড় গঠনে সহায়তা করে।

বাদাম এবং উদ্ভিদ বীজে অ্যালার্জি তৈরি হয়, তাদের তোকমা দানা থেকেও অ্যালার্জি তৈরি হতে পারে। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপের জন্য যারা ওষুধ খাচ্ছেন তারা নিয়মিত তোকমা দানা গ্রহণের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

পুষ্টি কি? : জীব মাত্রই খাদ্য গ্রহণ করে, কারণ জীবের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। জীবের পুষ্টির জন্য বিভিন্ন উপাদানের প্রয়োজন হয়। জীব তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য কতগুলো উপাদান যেমন- ভাত, মাছ, ডাল, শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ইত্যাদি গ্রহণ করে। এ উপাদানগুলোর অভাবে জীব সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারেনা। এ উপাদান গুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলে। জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিগুণে ভরপুর খাদ্যের একান্ত প্রয়োজন।
পুষ্টি উপাদানের উৎস : জীবনধারণের জন্য খাদ্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি সুস্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য প্রয়োজন। এই খাদ্যই জীবকোষে জারিত হয়ে দেহে তাপ এবং শক্তি তৈরি করে। জীব এর পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে দেশীয় ফল বিরাট ভূমিকা পালন করে। নানা ধরনের ফলগুলো পুষ্টি উপাদানের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যায়। অধিকাংশ ফল একাধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হয়ে থাকে।
‘রোপণ করলে ফলের চারা
আসবে সুখের জীবন ধারা’।
দেশি ফলের প্রকারভেদ : বাংলাদেশে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন ধরনের ফল দেখা যায়। ফল দুই রকম। যেমন- সরস ফল ও নীরস ফল।
সরস ফল : আম, জাম, কমলালেবু, লিচু, ডালিম ইত্যাদি। নীরস ফল : বাদাম, সুপারি, নারিকেল ইত্যাদি।
দেশি ফলের নাম : আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, শরিফা, চালতা, সাতকরা, ডুমুর, করমচা, লটকন, বেল, কদবেল, গাব, তেঁতুল, তাল, ডালিম, অড়বরই, আঁশফল, জলপাই, খেঁজুর, জামরুল, কাউফল, আমলকী, তৈকর, পানিফল, ফলসা, বাঙ্গি, তরমুজ, বিলিম্বি, কমলা, শানতোল, জাবটিকাবা, স্ট্রবেরি, প্যাসন ফল, অ্যাভোকেডো, ড্রাগন ফল, রুটিফল, তেঁতুল, নাশপাতি, মাল্টা, বেতফল, তুঁতফল, লুকলুকি ইত্যাদি।
দেশি ফলের পুষ্টিগুণসহ বিবরণ : প্রত্যেকটি জীবের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্য গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজন। পুষ্টির চাহিদা জোগানে দেশি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ দেশিফল গুলো বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। যা জীব দেহের পুষ্টিসাধন, দেহের ক্ষয়পূরণ, দেহের রোগ প্রতিরোধক শক্তি উৎপাদন এবং কর্মশক্তি ও তাপ উৎপাদনে বিরাট ভূমিকা রাখে। নিচে বিভিন্ন ধরনের দেশি ফলের পুষ্টিগুণসহ বিবরণ দেয়া হলো :
কাঁঠাল : আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠাল একটি জনপ্রিয় ফল। আমাদের দেশের প্রায় সর্বত্র এটি পাওয়া যায়। এটি স্বাদে গন্ধে অনন্য। পুষ্টির দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি কাঁঠালের এমন কোনো অংশ নেই যা অপ্রয়োজনীয়। কাঁঠালে প্রচুর এনার্জি। কাঁঠালে শর্করার পরিমাণ বেশি। কাঁঠাল গ্রীষ্মকালের ফল। পাকা কাঁঠালের ক্যালরি প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ কিলোক্যালরি এবং খনিজ লবণের পরিমাণ প্রায় ০.৯ গ্রাম। কাঁচা কাঁঠালের ফাইবারের পরিমাণ পাকা কাঁঠালের বেশ কয়েক গুণ বেশি। তাই ডায়বেটিক মানুষের জন্য কাঁচা কাঁঠাল উপকারী। রক্তের চিনির মাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য কাঁচা কাঁঠালের জুড়ি নেই। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে মাছ অথবা মাংসের মজাদার রেসিপি তৈরি করা হয় যা একদিকে যেমন মুখরোচক তেমনি অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর। কাঁঠাল পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানবদেহের জন্য বিশেষ উপকারী। কাঁঠালের প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া উচ্চরক্তচাপের উপশম হয়। কাঁঠাল সর্বত্র পাওয়া যায় তবে আশুলিয়ায় বেশি উৎপন্ন হয়।
আম : ‘রাজা নাই, শাহ নাই, রাজশাহী নাম।
হাতি- ঘোড়া কিছু নাই, আছে শুধু আম।’
সর্বত্র আম উৎপন্ন হয় তবে রাজশাহীতে বেশি পরিমাণে উৎপন্ন হয়। আমের নানা ধরনের জাত আছে। যেমন- গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি, মিয়ার চারা, লখনা, ফজলি, আশি^না, দুধসর, ফনিয়ার চারা, কাঁচামিঠা, জালিবান্ধা, কুয়া পাহাড়ি, কুমড়া জালি, মোহনভোগ, পাটনায় গোপালভোগ, রাণী প্রসাদী, ভাদ্রি, রাজভোগ, ল্যাংড়া। আয়রন ও সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণে বেশ কার্যকরী আম। আম রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ডায়বেটিসের সঙ্গে লড়াই করে। ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। আমে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ প্রোটিন যা জীবাণু থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে। পাকা আমে কাঁচা আমের তুলনায় শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। কাঁচা আম দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। লিভারের সমস্যায় কাঁচা আম খাওয়া উপকারী। এটি বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায়। অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। দেহে নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। খনিজ পদার্থ আয়রনের ভালো উৎস আম। প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও সোডিয়াম বিদ্যমান। এছাড়া খনিজ লবণ, ভিটামিন বি, ই, সেলেনিয়াম, এনজাইম, ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক অ্যাসিড বিদ্যমান। এজন্যই আমকে বলা হয় ফলের রাজা। অর্থাৎ ঞযব শরহম ড়ভ গধহমড়বং. কেবল স্বাদে মিষ্টি বা ত্বককে ভালো রাখাই নয়। এর মধ্যে রয়েছে এমন অনেক পুষ্টিগুণ যা শরীরকে ভালো রাখে।
পেঁপে : পেঁপের অনেক পুষ্টিগুণ। কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের পেঁপেই শরীরের জন্য উপকারী। কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে প্যাপেইন ও কাইমোপ্যাপেইন নামের প্রচুর প্রোটিওলাইটিক এনজাইম। এ উপাদান আমিষ ভাঙতে সাহায্য করে। প্রায়ই সর্বত্রই পেঁপে পাওয়া যায়।
আঙ্গুর : আঙ্গুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে। এছাড়া ফাইটো কেমিক্যাল ও ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে যা আমাদের ত্বকের সুরক্ষায় বিশেষ কাজ করে। এছাড়া ভিটামিন সি, টরোস্টেলবেন, তামা, লোহা, ম্যাংগানিজ ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।
কলা : কলা একটি অতি পরিচিত দেশি ফল। এ ফলটি কম বেশি সারা বছরই পাওয়া যায়। এটা সব জায়গাতেই পাওয়া যায়। কলার বেশ কয়েকটি জাত আছে। কলাতে আমাদের শরীরের শক্তি বর্ধনকারী সুকরোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং ফাইবার রয়েছে। গবেষণায় জানা যায়, মাত্র দুইটি কলা প্রায় ৯০ মিনিট পূর্ণোদ্যমে কাজ করার মতো শক্তি জোগায়। কলাতে ট্রিপ্টোফ্যান নামক রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন বি-৬, আয়রন, পটাসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন-বি-১২, ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান। কলা প্রাকৃতিক এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে।
‘আম জাম তাল বেল কাঁঠাল কলা লিচু
পুষ্টি গুণে স্বাদে ভরা আরো কত কিছু।’
ছফেদা : গ্রীষ্মকালীয় দেশগুলোতে এ ফলটি ভীষণ জনপ্রিয়। শুধু স্বাদে নয়, গুণেও অনন্য এ ফলটি। নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ছফেদা। শক্তির উৎস এ ফলটি শরীরে নবশক্তি সঞ্চারের মাধ্যমে শরীর মনকে চাঙ্গা ও পুনরুজ্জীবিত করে। বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান, ভিটামিন এ, সি ও ই এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, কপার ও আয়রনসহ অপরিহার্য বহু পুষ্টি উপাদান রয়েছে ফলটিতে।
শরিফা : ক্যারোটিন, ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল।
চালতা : চালতায় ক্যালসিয়াম ও শর্করা বিদ্যমান।
সাতকরা : ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ।
ডুমুর : ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও ক্যালরি রয়েছে প্রচুর।
করমচা : প্রচুর পরিমাণে পটাশ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও ভিটামিন ‘সি’ বিদ্যমান।
লটকন : লটকন একটি ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ ফল।
বেল : বেল একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে শে^তসার, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম ও লৌহ রয়েছে।
কদবেল : প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং স্বল্প পরিমাণে লৌহ বিদ্যমান।
গাব : প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে।
তেঁতুল : শর্করা, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।
তাল : ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার।
ডালিম : ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার।
অড়বরই : ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল।
আঁশফল : এটি একটি আমিষ ও চিনি সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল।
জলপাই : ভিটামিন ‘সি’, ক্যালসিয়াম, লৌহ বিদ্যমান।
খেঁজুর : ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল।
জামরুল : ক্যারোটিন ও ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ ফল।
আমলকী : প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল।
পানিফল : পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল।
বাঙ্গি : শর্করা, ক্যারোটিন ও ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।
তরমুজ : ক্যালসিয়াম ও লৌহ বিদ্যমান।
কমলা : আমিষ ও ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।
তেঁতুল : প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, টারটারিক এসিড, অক্সালিক এসিড, ইনর্ভাট সুগার, পেকটিন পলি স্যাকারাইড বিদ্যমান।
তুঁতফল : এ ফলে সব ধরনের পুষ্টিগুণ বিদ্যমান, তবে সবচেয়ে বেশি আছে ক্যালসিয়াম ও ক্যারোটিন।
‘হরেক রকম দেশি ফল পুষ্টি গুণে ভরা
প্রতিদিন খেলে পরে শেষ হবে সব রোগ।’
দেশিয় ফলের ঔষধিগুণ : পুষ্টির চাহিদা জোগানে দেশি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য আমাদের উচিত বেশি বেশি করে ফলের চারা রোপণ করা। দেশীয় ফল শুধুমাত্র পুষ্টিগুণ দিক থেকে নয় গুরুত্বপূর্ণ তাছাড়াও দেশি ফলের গাছের ঔষুধিগুণ আমাদের দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় বিরাট ভূমিকা রাখে। নিচে কয়েকটি দেশীয় ফলের ঔষুধিগুণ সম্পর্কে বিবরণ দেয়া হলো :
কাঁঠাল : এটি ডায়েবেটিক মানুষের জন্য কাঁচা কাঁঠাল উপকারী। এছাড়া রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং উচ্চরক্তচাপ এর উপশম ঘটায়।
আম : ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। রক্ত তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রাখে। এছাড়া দেহের শক্তি বৃদ্ধিতে ও কাঁচা আম লিভারের সমস্যার উপশম ঘটায়।
শরিফা : পাকা ফল বলকারক, বাত ও পিত্তনাশক, তৃষ্ণা, শান্তিকারক, বমননাশক, রক্তবৃদ্ধিকারক ও মাংস বৃদ্ধিকারক। আতার শিকড় রক্ত আমাশয় রোগে হিতকর।
চালতা : কচি ফল গ্যাস, কফ, বাত ও পিত্তনাশক। পাকা ফলের রস চিনিসহ পান করলে সর্দিজ¦র উপশম হয়।
ডুমুর : ডুমুর ফল টিউমার ও অন্যান্য অস্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি নিবারণে ব্যবহৃত হয়। পাতা চূর্ণ, বহুমূত্র, বৃক্ক ও যকৃতের পাথর নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। ডুমুর সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
লটকন : লটকন অম্ল মধুর ফল। ফল খেলে বমিভাব দূর হয় ও তৃষ্ণা নিবারণ হয়। শুকনো গুঁড়া পাতা খেলে ডায়রিয়া ও মানসিক চাপ কমায়।
বেল : বেল কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয়, জন্ডিস দূর করে। এছাড়া হজম শক্তি বাড়ায়, বলবর্ধক বৃদ্ধি করে এবং চোখের ছানি ও জ্বালা উপশম করে।
করমচা : কাঁচা করমচা গায়ের ত্বক ও রক্তনালী শক্ত ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। পালাজ¦র নিরাময় করে। শিকরের রস গায়ের চুলকানি ও কৃমি দমনে সাহায্য করে।
তাল : তালের রস শ্লেষ্মানাশক, মূত্র বৃদ্ধি করে, প্রদাহ ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারণ করে। রস থেকে তৈরি তালমিছরি সর্দি কাশির মহৌষধ। যকৃতের দোষ নিবারক ও পিত্তনাশক।
জামরুল : এটি বহুমূত্র রোগীর তৃষ্ণা নিবারণে উপকারি।
পানিফল : অ্যালার্জি ও হাত ফোলা, পা ফোলা উপশম হয়। পিত্তপ্রদাহ, উদরাময় ও তলপেটের ব্যাথা উপশম হয়।
তরমুজ : পাকা ফল মূত্র নিবারক; দেহকে শীতল রাখে, অর্শ লাঘব করে। আমাশয়, বীর্জহীনতা ও প্রসাবের জ¦ালা পোড়া বন্ধ করে। আমাদের সবারই উচিত বেশি বেশি বেশি করে দেশীয় ফলের চারা রোপণ করা। তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটবে তেমনি অন্যদিকে বিভিন্ন রোগের উপশম ঘটবে। যদি আমরা রোগমুক্ত জীবন চাই তাহলে অবশ্যই বেশি করে দেশীয় ফলের চারা রোপণ করতে হবে।
রোগমুক্ত জীবন চান
ফল ঔষধির চাষ বাড়ান।
দেশিয় ফলের পুষ্টিমান : আমে জলীয় অংশ ৭৮.৬ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৯০ কিলোক্যালরি, আমিষ ১ গ্রাম, চর্বি ০.৭ গ্রাম, শর্করা ২০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৬ গ্রাম, লৌহ ১.৩ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৮৩০০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-১ ০.১০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ৪১ মিলিগ্রাম বিদ্যমান প্রতি ১০০ গ্রামে।
কাঁঠালে খাদ্যশক্তি ৪৮ কিলোক্যালরি, আমিষ ১.৮ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৯.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ মিলিগ্রাম। ক্যারোটিন ৪৭০০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ২১ মিলিগ্রাম বিদ্যমান প্রতি ১০০ গ্রামে।
পেঁপে তে খাদ্যশক্তি ৪২ কিলোক্যালরি, আমিষ ১.৯ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা ৮.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম এবং ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম বিদ্যমান প্রতি ১০০ গ্রামে।
লিচুতে শর্করা ১৩.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ বিদ্যমান প্রতি ১০০ গ্রামে।
আনারস এ খাদ্যশক্তি ৩০ কিলোক্যালরি, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, শর্করা ৬.২ গ্রাম, ক্যারোটিন ১৮৩০, ভিটামিন ‘সি’ ২১ মিলিগ্রাম প্রতি ১০০ গ্রামে বিদ্যমান।
সুতরাং, আমাদের পুষ্টিমান যুক্ত খাদ্য গ্রহণে দেশীয় ফল বিরাট ভূমিকা পালন করে।
‘ফল বৃক্ষের অশেষ দান
অর্থ বিত্তে বাড়ায় মান।’
দেশি ফলের গাছ লাগানোর কারণ : ফল সবাই পছন্দ করে খেতে। ফলের যেমন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন তেমনি আরও অনেক গুণ রয়েছে। নিচে দেশি ফল গাছ লাগানোর কয়েকটি কারণ দেয়া হলো :
১. দেশি ফল গাছ মানুষের খাদ্য জোগান দেয়।
২. পুষ্টির অভাব মেটায়।
৩. পশুপাখির খাবারেরও উৎস।
৪. উৎকৃষ্ট কাঠ ও জ¦ালানি পাওয়া যায়।
৫. আসবাবপত্র, যানবাহন, কুটির শিল্পের উপকরণ পাওয়া যায়।
‘রোপণ করে ফলের চারা যে জন পায় সুখ
জানিও সে আদর্শ মানুষ থাকে না তার দুখ।’
৬. বিভিন্ন রোগের ওষুধ এবং পথ্য হিসেবে ফলের অবদান যথেষ্ট।
৭. ফল রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়।
৮. বিদেশি ফলের আমদানি কমিয়ে অর্থের সাশ্রয় করা যায়।
৯. ফল থেকে উন্নতমানের জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, মোরব্বা তৈরি করা যায় ও এসব প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ হতে পারে।
১০. নিবিড় ফল চাষের মাধ্যমে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করে বেকারত্ব দূর করা যায়।
‘পাকা ফলে তুষ্ট মন
যোগায় পুষ্টি বাড়ায় ধন’
১১. ফলের চারা/কলমের নার্সারি করে কৃষি শিল্প গড়ে তোলা যায়।
১২. মাটির ক্ষয়রোধ ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
১৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
১৪. জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে।
১৫. খাদ্য নিরাপত্তা।
‘ফল খান দেশি
বল পাবেন বেশি।’
১৬. উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে চাষ করে সামাজিক ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা।
১৭. গাছ ছায়া দেয়।
সুতরাং, দেশি ফল গাছ রোপণের গুরুত্ব অপরিসীম।
পুষ্টির অভাবজনিত রোগ : পুষ্টির অভাবে বিভিন্ন ধরনের রোগের আবির্ভাব ঘটে। যেমন- আয়োডিনের অভাবে গলগ- রোগ হয়। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। ভিটামিন ‘ডি’ এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২ ইত্যাদির অভাবে রক্তশূন্যতা ঘটে।
তাই এসব পুষ্টির অভাবজনিত রোগ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে আমাদের দেশীয় ফলের চাষ বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে দেশীয় ফল খেতে হবে। কারণ দেশীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, শর্করা, ভিটামিন ডি, লৌহ, ফলিক অ্যাসিড ইত্যাদি উপাদান বিদ্যমান থাকে।
দেশীয় ফল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন : আমাদের দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। যদি দেশিয় ফল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হলে, দেশে দেশিয় ফলের অভাব মিটবে, মানুষ আর পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না। কারণ পুষ্টির চাহিদা জোগানে দেশি ফল অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফরমালিন মুক্ত দেশি ফলের গুরুত্ব : আমাদের দেশে বিজ্ঞানের আবির্ভাবে অনেক কিছুই নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছে। তার কিছু ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। যেমন- বর্তমানে নির্দিষ্ট আম সময়ের আগে বাজারে মিলছে মানেই তাতে কার্বাইড ও ফরমালিনসহ ক্ষতিকর সব রাসায়নিক মিশানো আছে।
‘বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ
কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ।’
কিন্তু এদেশের মানুষরা ভেবে দেখে না যে সময়ের আগে মৌসুমি ফল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। তাই আমাদের উচিত দেশিয় ফলে এই বিষ প্রয়োগ বন্ধ করা।
‘বিশ^ পরিবেশ দিবস সফল হোক
দেশের গাছ আর দেশের ফল রক্ষা করুন
বিশ প্রয়োগ বন্ধ করুন।’
পুষ্টির চাহিদা জোগানে দেশি ফলের গুরুত্ব : সব জীবকে সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপন করতে হলে অবশ্যই সুস্থ দেহের অধিকারী হতে হবে। দেহে রোগবালাই যদি লেগেই থাকে, তাহলে কোনো প্রাণী সুস্থ থাকে না। এসব রোগ সাধারণত পুষ্টির অভাবে হয়ে থাকে। তাই আমাদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া প্রয়োজন। আমরা খুব সহজেই এসব পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারি দেশি ফলের চাষের মাধ্যমে। দেশি ফল যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিমান।
‘দেশি ফলের রস গুণ নেই তুলনা তার
স্বাদ, গন্ধ, পুষ্টিমান কত রঙের বাহার।’
পুষ্টির চাহিদা জোগানে দেশি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি করে দেশি ফলের চারা রোপণ করা। আমরা চাইলে আমাদের বাড়ির ছাদে ফলের চারা রোপণ করে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারি।
‘বাড়ির ছাদে ফলের চাষ
পাবেন ফল মিটবে আশ।’
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, পুষ্টির চাহিদা জোগানে দেশি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমাদেরকে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় উদ্দীপনায় দেশি ফল চাষের প্রতি আরো যতœশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। দেশি ফলে যেসব উপাদান বিদ্যমান থাকে, একমাত্র সেসব উপাদানই পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে এবং পুষ্টিজনিত রোগ থেকে মুক্ত রাখতে পারে।
‘দেশি ফলের চারা রোপণ করুন
পুষ্টির অভাব দূর করুন।’


1. Spinach
Spinach is rich in iron.

Spinach is a leafy green vegetable. It is also a great source of calcium, vitamins, iron, and antioxidants.

Due to its iron and calcium content, spinach is a great addition to any meat- or dairy-free diet.

One cup of raw spinach is mostly made up of water and contains only 7 caloriesTrusted Source. It also provides the following nutrients:

an adult's full daily requirements for vitamin K
high amounts of vitamin A
vitamin C
magnesium
folate
iron
calcium
antioxidants

Vitamin K is essential for a healthy body, and especially so for strong bones. It improves how well the body absorbs calcium.

Spinach also provides a good amount of iron for energy and healthy blood, and a good level of magnesium for muscle and nerve function.

It is also rich in antioxidants. Research reportsTrusted Source that spinach leaves may lower blood pressure and benefit heart health.

How to eat spinach

People enjoy spinach raw in salads, sandwiches, and smoothies. Cooked spinach also has significant health benefits and is a great addition to pasta dishes and soups.

ড্রাগন ফলের উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও সহজ চাষ পদ্ধতি


ক্যাকটাস গোত্রের ড্রাগন ফল বাংলাদেশে তেমন প্রচলিত না হলেও সারা পৃথিবীতে অনেক জনপ্রিয় একটা ফল।

এই ফলটি কয়েক রঙের হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলের তিনটি প্রজাতি রয়েছে লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া, কোস্টারিকা ড্রাগন ফল এবং হলুদ ড্রাগন ফল। লাল ড্রাগন ফলের খোসার রঙ লাল কিন্তু শাঁস সাদা। এ প্রজাতির ফলই বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। কোস্টারিকা ড্রাগন ফলের খোসা ও শাঁসের রঙ লাল। হলুদ ড্রাগন ফলের খোসা হলুদ রঙের কিন্তু শাঁসের রঙ সাদা।

মিষ্টি স্বাদের ফলবিশিষ্ট ড্রাগন গাছে ফুল ফোটে রাতে যা দেখতে অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মতো, লম্বাটে, সাদা ও হলুদ। এই ফল দেখতেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এটি কাঁচা অবস্থাতেই খাওয়া হয়। বিদেশি এই ফল চাষ করা খুব সহজ। কাটিং লাগালেই গাছ হয়ে গাছ। বাড়ির ছাদে ড্রাম/বালতিতে/গ্রো ব্যাগে কিংবা মাটিতে অনায়াসে লাগানো যায় এবং আমাদের দেশের আবহাওয়ায় দারুণ হয় এই ড্রাগন ফল।

এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে তাই ‘ডায়েট’ এর জন্য উত্তম। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা খেতে পারেন অনায়াসেই। ড্রাগন ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকার ফলে এই ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও ত্বক হয়। অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় লাল শাঁসের ড্রাগন ফলে বেশি পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। পিচ্ছিল হওয়ায় ও আঁশ থাকার কারনে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এই ফল। এই ফল পেটের পীড়া দূর করতে সহায়তা করে এবং লিভার এর জন্যও উপকারী। এই ফলের কালো বীজ হজমে সাহায্য করে। আয়রন থাকার কারনে ড্রাগন ফল খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয়।

কলা নিয়ন্ত্রণ করবে ব্লাড প্রেসার

বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমাদের দেশে হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীর সংখ্যা চোখে পরার মতো বেড়েছে। আর সব থেকে ভয়ের বিষয় হলো উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগরই বয়স ৪৫-এর নিচে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের প্রতিদিন একটি করে কলা খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ফলটিতে উপস্থিত প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম শরীরে প্রবেশের পর সোডিয়ামের প্রভাবকে কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক শারীরিক সমস্যাও বাগে চলে আসে।

প্রতিদিন একটা করে কলা খেলে ব্লাড প্রেসার ছাড়াও যেসব রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে সম্পর্কে জেনে নিন...

১. হাড় শক্তপোক্ত হয়
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত একটা করে কলা খাওয়া শুরু করলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে অস্টিওআথ্রাইটিস মতো বোন ডিজিজে (রোগ) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে বাস্তবিকই কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কলাতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশের পর চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রেটিনার ক্ষমতাও এতটা বৃদ্ধি পায় যে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা কোনো ধরনের চোখের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৩. সার্বিকভাবে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে
বছরের শেষেও অফিসে এমন কাজের চাপ যে ক্লান্তি ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে বাড়তে মাত্রা ছাড়িয়েছে? তাই চিন্তা না করে এমন পরিস্থিতিতে একটা কলা খেয়ে নেবেন সব সময়। তাহলেই দেখবেন অনেক চাঙ্গা লাগবে। কারণ ক্লান্তি দূর করতে কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৪. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
কলা খাওয়ার পর যদি কলার খোসা মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একদিকে যেমন ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে, তেমনি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। আসলে কলার খোসার ভেতরে থাকা একাধিক উপাকারী উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, কলার ভেতরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে।

৬. স্ট্রেস কমে চোখে পরার মতো
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে রোজের ডায়েটে কলাকে জায়গা করে দিলে শরীরে ট্রাইপটোফিন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদের মাত্রাও কমতে সময় লাগে না।

৭. পুষ্টি ঘাটতি দূর হয়
শরীরের সচলতা বজায় রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে শরীরের। আর এইসব উপাদানের যোগান শরীর পায় খাবারের মাধ্যমে। সমস্যাটা হলো আজকের প্রজন্ম এতটাই ব্যস্ত যে তাদের হাতে ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করার সময় নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার কারণে নানাবিধ রোগ এসে বাসা বাধে শরীরে। এমন পরিস্থিতি কলা কিন্তু দারুণ কাজে আসতে পারে।

৮. টক্সিক উপাদানেরা সব বেরিয়ে যেতে শুরু করে
শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের ইতি-উতি উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে দেহের প্রতিটি অঙ্গকে চাঙ্গা রাখতে কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কলাতে উপস্থিত প্রেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরের প্রবেশ করামাত্র ক্ষতিকর উপাদানদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে। ফলে রোগমুক্ত শরীরের অধিকারী হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

৯.অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়
কলায় বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণ আয়রন শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন রোগে ভুগছেন, তারা আয়রন ট্যাবলেটের পাশাপাশি যদি নিয়ম করে কলা খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুণ উপকার মিলতে পারে।

১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে
কলার শরীরে পটাশিয়াম ছাড়াও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর কম খেলে যে ওজনও কমে, সে কথা কার না জানা।

১১.ডায়াবেটিসের মতো মরণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না
কলা খাওয়া মাত্র শরীরে কম-বেশি ৩ গ্রামের মতো ডায়াটারি ফাইবারের প্রবেশ ঘটে। এর প্রভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পায় না। এই কারণেই টাইপ ১ এবং ২-দু ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদেরই এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে

শরীরকে কর্মক্ষম রাখার জন্য

পর্যাপ্ত খাওয়া-দাওয়া করার পরও সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে শরীর নেতিয়ে পড়ছে? বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ক্লান্তির ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন। এর কারণ হচ্ছে, খাদ্যতালিকায় সেসব পুষ্টি উপাদান বা খাদ্যের অভাব, যা কিনা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, শক্তি জোগায় ও শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে। জেনে নিন এখানে—

কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ডায়েটারি ফাইবার ও শ্বেতসার দ্বারা গঠিত। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট সাধারণ কার্বোহাইড্রেট থেকে আলাদা। কারণ সাধারণ কার্বোহাইড্রেট যেমন চিনি, মধু, ম্যাপল সিরাপ ইত্যাদি রক্তে সহজেই মিশে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটে রয়েছে ভালো মানের ডায়েটারি ফাইবার, যা ধীরে ধীরে হজম হয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শক্তি, যা পেশি ও মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। দ্রবণীয় ফাইবার হচ্ছে ফল, বাদাম, ডাল, বীজ, ওট, বাদামি চালের ভাত ও বার্লি, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। অদ্রবণীয় ফাইবারগুলো হচ্ছে হোল গ্রেইন ব্রেড, পাস্তা, ভাত, সিরিয়াল, সবজি ইত্যাদি। এগুলো শরীরের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। এসব খাবার ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং শক্তি জোগায়।

প্রোটিন: খাদ্যের প্রোটিন হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। এ অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যবহূত হয়, হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে, লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান। মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, দুধ, পনির, ডাল ও বাদাম স্বাস্থ্যকর প্রোটিন উৎস।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: সব ফ্যাটই কিন্তু ক্ষতিকর নয়। প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখা প্রয়োজন। ভালো মানের ফ্যাট বা চর্বি শরীরকে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যেমন ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শুষে নিতে সহায়তা করে। যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, সেসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। মাছ, আমন্ড, আখরোট ও ভেষজ তেলে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ ফ্যাট শরীরের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়রন ও ক্যালসিয়াম: শক্তিশালী হাড় গঠনে সহায়তা করে ক্যালসিয়াম। অন্যদিকে আয়রন লোহিত রক্তকণিকাকে শরীরে অক্সিজেন ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় আয়রনের ঘাটতি থাকলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে ও কাজ করার শক্তি হারিয়ে যেতে পারে। ব্রোকলি, পালংশাক, গরুর মাংস, শিম ও বাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন। অন্যদিকে দুধ, পনির, টকদই, সবুজ সবজি ও সামুদ্রিক মাছে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম।

ভিটামিন সি: খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রাখতে হবে। ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কমলা, কিউই, লেবু, আপেল, পেয়ারা, আঙ্গুর, জাম্বুরা, পালংশাক, টমেটো, ব্রোকলি, ফুলকপি, তুলসীপাতা ভিটামিন সি এর ভালো উৎস।

শক্তিবর্ধক খাবার

আমন্ড: আমন্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন ই ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ ফ্যাটি অ্যাসিড শক্তির চমত্কার উৎস। শক্তিশালী হাড় গঠন, মস্তিষ্কের সুরক্ষা, হূদয়ের দেখাশোনা করাসহ আমন্ড দিনভর আপনাকে কর্মক্ষম রাখবে।

আপেল: লাল আপেল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। এতে আরো রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার, আয়রন, ভিটামিন ও খনিজ। আপেল রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। যকৃৎকে ডিটক্সিফাই করে, ওজন নিয়ন্ত্রণ করে ও হূদস্বাস্থ্য ভালো রাখে। দ্রবণীয় ফাইবার দীর্ঘসময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে ও পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। এতে করে শক্তি বাড়ে।

কলা: কলা কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম ও ফ্রক্টোজের উত্কৃষ্ট উৎস। তাত্ক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কলা। কলা ডোপামাইন হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে, ফলে বাড়ে মনোযোগ ও একাগ্রতা।

মুরগির মাংস: মুরগির মাংস প্রোটিনের উত্কৃষ্ট উৎস। স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতে সহায়তা করে মুরগির মাংস। সারা দিন শরীরে শক্তি ধরে রাখতে ও কর্মক্ষম থাকতে মুরগির মাংস খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তাছাড়া এতে করে হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং স্ট্রেসও কমবে।

সাইট্রাস ফল: সাইট্রাস ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা কিনা শরীরকে আয়রনজাতীয় খাবার শুষে নিতে সহায়তা করে। তাছাড়া সাইট্রাস ফল শক্তিবর্ধক হিসেবে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চেষ্টা করুন প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস লেবুর শরবত পান করার।

ডিম: ডিম পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন। এটি ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। ডিমে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি থাকলেও এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় না। দিনভর কর্মক্ষম থাকতে প্রতিদিন সকালে একটি ডিমসিদ্ধ খান।

মিষ্টিকুমড়া: মিষ্টিকুমড়ায় রয়েছে ভিটামিন এ ও অল্প পরিমাণে ফাইবার। মিষ্টিকুমড়ার বিচি খুবই পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক ও কপার। তাছাড়া মিষ্টিকুমড়া হরমোনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি শক্তি বাড়ায় ও দিনভর শরীরকে কাজ করায় সহায়তা করে।

সেহরিতে খাবারের তালিকায় রাখবেন যে ৬ খাবার

মুসলিম জাহানের মহা পবিত্র মাস রমজান মাস শুরু হয়েছে। এই মাসে সুস্থভাবে রোজা পালনের ক্ষেত্রে আমাদের শরীরে সঠিক পুষ্টি খুবই জরুরি। আর সে ক্ষেত্রে সেহরি ও ইফতারের সময় সঠিক খাবার নির্বাচন করা আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেহরিতে ভালোভাবে খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। তাই সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত যেসব খাবার আমাদের শরীরকে আর্দ্র রাখবে এবং পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করবে। সেহরিতে খাওয়া জরুরি, এমন কিছু খাবারের নাম আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল-

১। খেজুর-
সেহরির সময় অন্তত এক থেকে দুটি খেজুর খান। এ ছাড়া রোজা ভাঙার সময় অর্থাৎ ইফতারেও খেজুর খান। খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ। এ ছাড়া এতে রয়েছে অনেক আঁশ। এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
২। ফল ও সবজি-

সেহরির সময় ফল ও সবজি খান। ফল ও সবজির মধ্যে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন। এগুলো শরীরের জন্য জরুরি।

৩। ভাত-

ভাতের মধ্যে রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। এটি দেরিতে হজম হয়। ভাত খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। এতে ক্ষুধা কম লাগে।

৪। চর্বি ছাড়া মাংস-

চর্বি ছাড়া মাংস সেহরিতে খাওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে মুরগির মাংস খেতে পারেন। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা অনেকটা পূরণ হবে।

৫। স্যুপ-

সেহরির সময় খাবার খাওয়া শুরু করুন স্যুপ দিয়ে। এমনকি ইফতারেও খেতে পারেন স্যুপ। এটি কেবল দেহকে আর্দ্র রাখবে না, শক্তি ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।

৬। পানি-

খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখবে এবং পানি পিপাসা মেটাতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া ইফতার ও সেহরিতে মাঝামাঝি সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

ডিমের খোসার যত গুণ

ডিম ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ডিম খেতেও যেমন ভাল, তেমনই স্বাস্থ্যকর। ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মোটামুটি আমরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু জানেন কি ডিমের খোসাও খুবই উপকারী। জেনে নিন ডিমের খোসার কয়েকটি গুণাগুণ।

শখের ফুলের বাগানে পোকা হলে সব কষ্টই বৃথা। কারণ কিছু দিনের মধ্যেই আপনার সব গাছ নষ্ট হবে। তখন গাছের গোড়ায় গোড়ায় ডিমের খোসা গুঁড়ো করে ছড়িয়ে দিন। পোকা-মাকড় গাছের ধারে কাছেও আসতে পারবে না।

কফির তিক্ত ভাব কমাতে কফির সঙ্গে ডিমের খোসার গুঁড়ো এক চিমটে মিশিয়ে দিন। কফি গুলিয়ে নেয়ার পর একটু সময় দিন। ডিমের খোসার গুঁড়ো অংশ নিচে পড়ে যাবে আর কফির তিক্ত স্বাদও অনেকটাই কমে যাবে।

১টা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে একটা বা দুইটা ডিমের খোসা ভাল করে গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাক মুখে ১৫ মিনিট মতো লাগিয়ে রেখে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে আলতো ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের কালচে ভাব কেটে যাবে। ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত। এই প্যাক নিয়মিত সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করলে ব্রণের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হারের জয়েন্টের ব্যথা কমাতে একটি পাত্রে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে একটা ডিমের খোসা ভাল করে গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিন। এটাকে অন্তত ২-৩ দিন রেখে দিলে দেখবেন, ডিমের খোসাগুলো ভিনেগারের সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়েছে। এই মিশ্রণ দিয়ে ব্যথার জায়গায় হালকা করে চাপ দিয়ে মালিশ করুন। ডিমের খোসায় থাকে কোলাজেন, গ্লুকোসামিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যা ভিনেগারের সঙ্গে মিশে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

চুলের রঙের ক্ষতিকর দিক

পাকা চুল ঢাকার জন্য বা ফ্যাশনের জন্য অনেকেই চুল রং করে থাকেন। অনেকে হয়তো জানেনও যে চুল রং করলে ক্ষতি হয়; কিন্তু কী ক্ষতি হয় তা জানেন না। চুলের রঙে অক্সিডাইজিং এজেন্ট হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এবং অ্যালকাইজিং এজেন্ট অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয়— যা একটি কেমিক্যাল রি-অ্যাকশনের মাধ্যমে চুলের আসল রঙকে হালকা করে এবং ব্যবহৃত চুলের রঙের পিগমেন্টকে চুলের শ্যাফটের ভেতরে ঢুকতে সাহায্য করে।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চুলের রঙে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে যা চুলের মাধ্যমে ত্বকে ভেদ করে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। যাতে মানুষের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সার (যেমন- লিউকেমিয়া, নন-হজকিন্স লিম্ফোমা, ব্লাডার ক্যান্সার, মাল্টিপল মায়েলোমা) হতে পারে। চুলের রঙে থাকে প্যারাফিনাইলেনেডিয়ামিন নামক রাসায়নিক উপাদান যা ত্বকে বিভিন্ন স্থানে রঙ পরিবর্তন করে, ফুসকুড়ি, তীব্র চুলকানি ইত্যাদি হতে পারে।

এছাড়া চুলের রঙের উপাদান যাদের হাঁপানি নেই তাদেরও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা করে। চুলে রঙ ব্যবহার করলে চুলের প্রকৃত রঙ নষ্ট হয়ে যায়, চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চুলে প্রয়োজন ছাড়া রঙ ব্যবহার না করা ভাল। আর চুলে রঙ ব্যবহার করলে তা বেশিক্ষণ চুলে লাগিয়ে রাখা যাবে না এবং চুলের রঙ চুলের গোঁড়ায় যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভাল মানের অ্যামোনিয়া ফ্রি রঙ ব্যবহার করতে হবে। এতে চুলের কম ক্ষতি হয়। ঘন ঘন রঙ ব্যবহার না করে অনেক দিন পর পর ব্যবহার করতে হবে।

অ্যালার্জি ও হৃদরোগের ওষুধে স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় জানতে পেরেছেন যে, বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (এন্টিকোলিনার্জিক ধর্ম রয়েছে এমন ওষুধ) কিছু ওষুধ মানুষের মস্তিস্কের ক্ষতিসাধন করে থাকে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে । এ ছাড়া এই ওষুধ ব্যবহারে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে অনেকটা।

গবেষকরা বলছেন, ওষুধগুলোর ওই বৈশিষ্ট্যগুলোকে এন্টিকোলিনার্জিক ধর্ম বলা হয়। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন করা অনেক সাধারণ ওষুধে ওই বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে। যেমন এলার্জি, পার্কিনসন রোগ এবং হৃদরোগের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ।

এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে, এই অ্যান্টিকোলিনার্জি বৈশিষ্ট্যের ওষুধগুলো স্নায়ুতন্ত্রের অংশগুলোর মধ্যে যোগাযোগকে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

ওই ওষুধের নেতিবাচক ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছে-ব্লারড ভিশন, কনফিউশন এবং স্মৃতিভ্রষ্টতা। এর ফলে মূর্ছা যাওয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ওই গবেষণাটি করেছেন।

তারা বলছেন, ওই ওষুধগুলোর কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।

এই ওষুধ গ্রহণ করেছে এমন ২২ হাজার লোকের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন গবেষকরা। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লোকদের বয়স ছিল ৩৯ থেকে ৭৯ বছর। তাদের ওপর ২০ বছরের বেশি সময় নিরীক্ষা চালানো হয়েছে।

গবেষক দলটি গবেষণায় জানতে পেরেছেন, উচ্চমাত্রার এন্টিকোলিনার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে- এমন ওষুধ যে রোগীরা সেবন করছে তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে অনেক বেশি।

যারা এ ধরনের ওষুধ সেবন করেনি তাদের তুলনায় ওই রোগীদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুঝুঁকি ৮৬ শতাংশ বেশি।

গবেষকরা জানান, এন্টিকোলিনার্জিক বৈশিষ্ট্যের ওষুধ সেবনে প্রদাহ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে স্ট্রোকের পরপর এই প্রদাহের কারণে জীবনঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা রয়েই যায়।

এ বিষয়ে গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ডাক্তার ও চিকিতসা-সংশ্লিষ্ট লোকদের তাদের রোগীদের স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করতে ওই গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

ওই গবেষক দলের প্রধান ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব আবারডিনের অনারারি রিসার্চ ফেলো ডক্টর ডেভিড গ্যাম্পবেল।

স্মার্টফোন যেভাবে স্মার্টলি আমাদের নীরবে আক্রমণ করে যাচ্ছে!
স্মার্টফোনঃ

প্রযুক্তি যে দিনদিন আমাদের জীবনযাত্রা সহজ এবং আরামদায়ক করে দিচ্ছে এতে আমাদের কারো সন্দেহ থাকার অবকাশ নাই। সকাল থেকে রাত বলা যায় আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তির সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছি। এর মাঝে আমাদের সারাদিনের কর্মকাণ্ডে যেসব যন্ত্র একেবারে না হলেই নয় এমন হয়ে গেছে তার মাঝে অন্যতম হল মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ইত্যাদি। ইদানীং মোবাইল ফোন আবার স্মার্ট ভাবে আমাদের সামনে হাজির হয়ে স্মার্টফোন খেতাব পেয়েছে। আগের মত ফোন এখন শুধু কল করা কিংবা রিসিভ করা, মেসেজিং এসবে সীমাবদ্ধ নেই। কি না করা যায় এখন ফোন দিয়ে! ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন দুনিয়া হাতের মুঠোয় বলা যায়। আর দুনিয়া হাতের মুঠোয় নিয়ে চলা যায় এমন সবচেয়ে ছোট, পরিবহনযোগ্য যন্ত্র হল স্মার্টফোন। তবে আমাদের আজকের আলোচনা স্মার্টফোন নিয়ে নয়। বরং স্মার্টফোনের খারাপ দিক নিয়ে।
স্মার্টফোনের খারাপ দিকঃ

প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহার যেমন আমাদের জীবন যাত্রা কে অনেক সহজ করে দিতে পার, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের ক্ষতিই করে। এবং সেই ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনা। ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক সব জায়গায় এর লক্ষণীয় খারাপ প্রভাব পড়ে।

অনেকেই হয়ত বলবে স্মার্টফোন তো সারাদিন দরকারেই ব্যবহার করা লাগে। সবার সাথে যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে বিনোদন, আমাদের চলাফেরা, ম্যাপ, আমাদের শপিং লিস্ট, রুটিন, এলার্ম, ইত্যাদি সহ দৈনন্দিন জীবনের অনেক বেশি কাজ ই তো এই ছোট ডিভাইসটি দিয়ে আমরা করে থাকি। সুতরাং এটি কম ব্যবহার করা কিভাবে সম্ভব! স্মার্টফোনের খারাপ দিক ই বা কিই?

চলুন জেনে নেয়া যাক আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনের খারাপ দিক গুলো সম্পর্কেঃ
১। আসক্তিঃ

আমেরিকায় সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে একজন কলেজ স্টুডেন্ট দিনে গড়ে ১০ ঘন্টা ফোন ব্যবহার করে। হতে পারে সেটি ইন্টারনেট ব্রাউজিং ব্যবহার কিংবা পিডিএফ ফাইল পড়া কিংবা মেসেজিংসহ বিভিন্ন কাজে। এবং দিনে তারা বিভিন্ন সোশ্যাল সাইট সহ যতগুলো মেসেজ আদান প্রদান করে তত কথা তারা সারাদিনে কারো সাথে বলেনা।

আরেকটা সার্ভে তে দেখা গেছে আমেরিকার প্রতি ৫ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩ জন ই ৬০ মিনিটের বেশি একবার ও ফোন চেক না করে থাকতে পারে না। পুরা বিশ্বেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অবস্থা কম বেশি এমন।

এবং কাউকে যদি বলা হয় ফোন ছাড়া থাকতে হবে তার মাঝে একরকম ভয় দেখা দেয়। যাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন নোমোফোবিয়া(nomophobia)।
ফোন ছেড়ে থাকার ভয় বা আতংক। যাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন নোমোফোবিয়া।
ফোন ছেড়ে থাকার ভয় বা আতংক। যাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন নোমোফোবিয়া।
২। স্মার্টফোন ছাড়া থাকা আমাদের কষ্টকর অনুভূতি তৈরি করেঃ

২০১১ সালে ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০০০ ছাত্র-ছাত্রীর উপর একটি জরিপ করা হয়। তাদের ২৪ ঘন্টা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল সাইট থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী এর মাঝে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। তাদের দেখে মনে হয়েছিল তারা অনেক বেশি একা হয়ে গেছে। এমন কি অনেকে শেষ পর্যন্ত পারেই নি ২৪ ঘন্টা দূরে থাকতে।
৩। ব্যাকপেইন সমস্যাঃ

British Chiropractic Association এর মতে গত কয়েক বছরে তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাকপেইন সহ মেরুদন্ডের নানা সমস্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। ২০১৫ এর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৪ বছরের মাঝে ৪৫% তরুণ ব্যাকপেইন সহ মেরুদন্ডের নানা সমস্যায় ভুগছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, মেরু রজ্জুর উপর বাড়তি প্রেশার দেয়ার কারণে। এবং এই সংখ্যা ২০১৪ এর তুলনায় ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘাড় বাঁকিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারে আমাদের মেরুদন্ডে যে পরিমাণ চাপ পড়ে
বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘাড় বাঁকিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারে আমাদের মেরুদন্ডে যে পরিমাণ চাপ পড়ে

তবে এই ক্ষেত্রে তারা স্মার্টফোন এ বিভিন্ন টেক্সটিং কে বেশি দায়ী করছেন। ২০১৪ এর এক গবেষণা অনুযায়ী টেক্সট করতে গেলে আমাদের মেরুদন্ড কে আমরা যে কোণে বাঁকিয়ে থাকি এবং এতে মেরুদন্ডে যে পরিমাণ চাপ পড়ে তা ৫০ পাউন্ড এর সমান। যা একটি সুস্থ স্বাভাবিক ৭ বছরের বাচ্চার ওজনের সমান। কি ভয়ংকর তাইনা!
৪। স্নায়ু সমস্যাঃ

স্মার্টফোন স্নায়বিক সমস্যার জন্য ও দায়ী। অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের মেরুদন্ডের শুরু থেকে মস্তিষ্কে যে স্নায়ুর সাহায্যে সংযোগ স্থাপিত আছে তা অতিরিক্ত চাপে সংকুচিত হয়ে যায় কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলাফল হিসেবে দেখা দিতে পারে তীব্র মাথা ব্যাথা সহ মাইগ্রেইন সমস্যা। মাইগ্রেইন যাদের আছে তারাই বুঝে এটা কি জিনিস। এবং এই সমস্যা কে বলা হয় Occipital neuralgia।
Occipital Neuralgia
Occipital Neuralgia
৫। উদ্বিগ্নতা এবং হতাশাঃ

স্মার্টফোন যে শুধু শারীরিক বা মানসিক সমস্যা তৈরি করে তা নয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহার আপনাকে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন এবং হতাশ করে তুলবে। সোশ্যাল সাইটগুলোতে যত যাবেন আপনি হয়ত দেখবেন সবার মুহূর্তে মুহূর্তের আপডেট। যা আপনার মাঝে ইনফিরিয়র কমপ্লেক্সিটি সহ নানা মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করবে। নিজের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে আপনার মাঝে আবার চেষ্টা করার শক্তি কমিয়ে দিবে। আপনাকে হতাশ করে তুলবে। এছাড়া স্মার্টফোন এ অতিরিক্ত গেম খেলা আপনার অনেক প্রয়োজনীয় কাজ আপনাকে সুষ্ঠুভাবে করতে দিবে না। বরং এসব আসক্তি আপনাকে সামাজিকভাবে মানুষ থেকে দূরে রাখবে। যা সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের পথে বাঁধা।
৭। মানসিক চাপঃ

স্মার্টফোন অতিরিক্ত ব্যবহার মানে সবাই আপনাকে সবসময় সুলভ ভাববে। ভাববে কল, টেক্সট, সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশান, মেইল এসব আপনি যে কোনো সময় রিপ্লাই দিতে সক্ষম। আপনার নির্দিষ্ট কোনো ওয়ার্কিং সময় বলতে কিছু থাকবে না। যা আপনার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে আমরা দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে চাই। কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের সবার সাথে বেশি যোগাযোগ এর বদলে আরো বেশি একা করে দেয়।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার দিনশেষে আপনার মানসিক চাপ বাড়িয়ে আপনাকে একা করে দেয়।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার দিনশেষে আপনার মানসিক চাপ বাড়িয়ে আপনাকে একা করে দেয়।
৮। ঘুমের ব্যাঘাতঃ

২০১৩ এর এক জরিপ অনুযায়ী ১৮ থেকে ২৯ বছরের ৬৩% মানুষ ঘুমানোর সময় তাদের স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট বিছানায় নিয়ে যায়। এবং ৩০ থেকে ৬৪ বছরের ৩০% মানুষও এই একই কাজ করে।

চিন্তার ব্যাপার হল, সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে পাবলিশ হওয়া এক গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমানোর আগে ফোন বা ট্যাবলেট এর নীল আলো আপনার ঘুম এর যতটা ব্যাঘাত ঘটাবে একটা ডাবল এসপ্রেসো কফি ও সেটা পারবে না। যদিও আমরা ঘুমানোর আগে ডাবল এসপ্রেসো কফি নিয়ে কেউ বিছানায় যাইনা। কিন্তু ফোন বা ট্যাবলেট নিয়ে যাই।
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনের ব্যবহার স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনের ব্যবহার স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়
৯। ব্যাকটেরিয়ার গুদাম ঘরঃ

আমেরিকার University of Arizona এর এক গবেষণা অনুযায়ী, একটি টয়লেট সিট এর উপরিভাগে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া থাকে তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে আমাদের স্মার্টফোনে। আমাদের টয়লেট আমরা নিয়মিত পরিষ্কার করলেও স্মার্টফোন পরিষ্কার করা হয়না। আর টয়লেট সিট যতই পরিষ্কার থাকুক আমরা অবশ্যই সেখানে কেউ মুখ ঘষিনা। কিন্তু কোনো সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার ছাড়াই আমাদের ফোন সারাদিন আমরা হাতে রাখি, কল আসলে মুখে লাগাই।
টয়লেট সিট থেকেও কমপক্ষে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনটিতে।
টয়লেট সিট থেকেও কমপক্ষে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনটিতে।
১০। দৃষ্টি-শক্তির সমস্যাঃ

স্মার্টফোনের খারাপ দিক এর মাঝে উল্লেখযোগ্য আরেকটি সমস্যা হল এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে। স্মার্টফোনের নীল আলো আমাদের রেটিনার জন্য ক্ষতিকর। টানা অনেকক্ষণ ধরে অতিরিক্ত পরিমাণ স্মার্টফোন ব্যবহার রেটিনার মারাত্নক ক্ষতি করতে পারে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ম্যাকুলার ডিজেনারেশান(Macular Degeneration) বলা হয়। ম্যাকুলার ডিজেনারেশান এ আক্রান্ত ব্যক্তি তার চোখের দৃষ্টি অনেকটাই হারিয়ে ফেলতে পারেন। এবং এটি আস্তে আস্তে যে কাউকে চিরতরে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্মার্টফোনের নীল আলো সরাসরি আমাদের চোখে এসে পড়ায় এবং খুব কাছ থেকে এটি ব্যবহার করার ফলে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এক জরিপ অনুযায়ী ২০০০ মানুষের মাঝে ৫৫% স্বীকার করেছেন যে কিছুক্ষণ ফোন ব্যবহার করার পর তাদের চোখে তারা অস্বস্তি অনুভব করেন।

এজন্য মহামূল্যবান চোখ রক্ষা করতে স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। অতিরিক্ত এটি ব্যবহার করবেন না। এবং যতক্ষণ ব্যবহার করবেন ২০-২০-২০ রুল অনুসরণ করবেন। এর মানে হল প্রতি ২০ মিনিট স্মার্টফোন ব্যবহারের পর ২০ সেকেন্ড ধরে ২০ ফুট দূরের কিছুর দিকে তাকাবেন। এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এমন কিছু খাবার প্রতিদিনের খাবার মেনু তে রাখবেন।
Macular degeneration. এতে আমাদের দৃষ্টিকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়
Macular degeneration. এতে আমাদের দৃষ্টিকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়
১১। শ্রবণ শক্তির সমস্যাঃ

স্মার্টফোনের খারাপ দিক এর এরেকটি হল শ্রবণ শক্তির সমস্যা। সাধারণত স্মার্টফোনে চ্যাট, ব্রাউজিং এ আপনার কানের অর্থাৎ শ্রবণ শক্তির কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আপনি যদি বেশি পরিমাণে হেডফোন ব্যবহার করেন কথা বলা কিংবা গান শোনার জন্য তবে আপনার সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে।

আমাদের কানের ভেতর খুব ছোট ছোট পাতলা লোমের মত থাকে। যার কাজ হল বিভিন্ন নার্ভ এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে রাসায়নিক সংকেত পাঠানো। হাই ভলিউমের শব্দ এই লোমগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হাই ভলিউম বলতে কেমন শব্দ বোঝানো হচ্ছে এখানে এই প্রশ্ন আসতে পারে।

Dangerous Decibels public health campaign এর মতে ৮৫ ডেসিবেল এর বেশি মাত্রার শব্দই হাই ভলিউম শব্দ যা আমাদের শ্রবণ শক্তির ক্ষতি করতে পারে। স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হেডফোনে সর্বোচ্চ ১০৫ ডেসিবেল মাত্রার ভলিউম থাকে যা কনসার্ট এ উৎপন্ন শব্দের মতই।

৪ মিনিট এর বেশি এই সর্বোচ্চ ভলিউমে কেউ গান শুনলে তা কানের তথা শ্রবণ শক্তির মারাত্নক ক্ষতি করতে পারে। এমন কি কেউ ভলিউম কমিয়ে ৯৪ ডেসিবেল ও যদি করে তবুও টানা ১ ঘন্টার বেশি সেই শব্দ কানের ক্ষতি করতে পারে।

এছাড়াও স্মার্টফোনের খারাপ দিক আছে আরো। অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ ডেকে আনতে পারে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিভিন্ন গাড়ি একসিডেন্ট সহ, পারিবারিক -সামাজিক অশান্তি ডেকে আনতে পারে এর অতিরিক্ত ব্যবহার।

অতিরিক্ত সবকিছুই আসলে কোনো না কোনোভাবে খারাপ কিছুই ডেকে আনে। তাই সাবধান হোন। প্রয়োজনের বেশি, দরকার ছাড়া স্মার্টফোন এর ব্যবহার আস্তে আস্তে কমিয়ে আনুন। সময় থাকতেই স্মার্টফোনের খারাপ দিক সম্পর্কে নিজে সচেতন থাকুন। আশেপাশের সবাইকে ও সচেতন করুন।

জানেন গরমে কোন ফলের জুড়ি মেলাই ভার

শসা শরীরের জন্য খুবই উপকারী

গরমকাল তার স্বমহিমায় এসে গিয়েছে
সঙ্গে এসেছে মরসুমি ফল ও আনাজ
তেমনই একটি মরসুমী আনাজ শসা

গরম কাল এসে গিয়েছে। আমাদের ফ্রিজ থেকে শুরু করে রান্নাঘর ভর্তি হয়ে গিয়েছে এমন সব খাবারে যা শরীরকে সময় ঠান্ডা রাখে। অজস্র ফল এবং সবজি এ সময় পাওয়া যায়, যার মধ্যে জলের ভাগ বেশ অনেকটাই থাকে। ফলে তা গরমে শরীরকে আর্দ্র রাখতে বিশেষ উপযোগী। গরম মানেই শুধুমাত্র আম খাওয়ার দিন নয়। বরং সবুজ কচি শসা ও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। শসাকে বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়। স্যালাড এর মধ্যে, ডিটক্স ওয়াটারের মধ্যে, স্মুদি বানিয়ে বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে রায়তা তৈরি করে যে ভাবে হোক খেতে পারেন। এর মধ্যে ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিন, বি সিক্স, ফোলেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক প্রভৃতি ঠাসা থাকে। শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও শসার জুড়ি নেই। শসা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে দেয়। ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও উপকারী ভূমিকা গ্রহণ করে।

কবে মুক্তি পাবে আমির খানের পরের সিনেমা ‘লাল সিং চাড্ডা', জেনে নিন এখানে

কেন খাবেন শসা

গাঁটের স্বাস্থ্য উন্নত করে

ডি কে পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হিলিং ফুড বইটিতে শসার গুনাগুন আলোচিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে শসার মধ্যে থাকে ইরেপসিন। এই এনজাইমটি প্রোটিনের মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে আত্তীকরনে সাহায্য করে। শসার মধ্যে থাকা অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে।

বাড়িতে হঠাৎ অতিথি সমাগম, ধোকলা বানান দু'মিনিটে

হজম শক্তির জন্য শসা

শসার মধ্যে ৯৬ শতাংশই জল এটা কি জানতেন? শসার মধ্যে জল ও উপকারী উপাদান থাকে। এতটা জলের পরিমাণ থাকার জন্য কোলনের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভালো। কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যাতেও শসা খুবই ভালো কাজ করে। নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখতে এর জুড়ি নেই।

ns2gb0kg

ওজন কমাতে শসা

যারা ওজন কমাতে চান তাদের নিত্যনৈমিত্তিক খাবারের মধ্যে থাকে শসা। এক বার শসা খেলে দীর্ঘক্ষন খিদে পায় না। ফলে ওজন কমাতেও সুবিধা হয়। ১০০ গ্রাম শসার মধ্যে মাত্র ১৫.৫৪ শতাংশ ক্যালোরি থাকে।

এসব কারণেও স্ট্রোক হতে পারে!

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী ফেটে গেলে অথবা বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্ক অক্সিজেনের অভাবে যে পরিণতিতে ভুগে তাকে স্ট্রোক হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্ট্রোকে মস্তিষ্কে ড্যামেজ হতে পারে অথবা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

স্ট্রোকের ক্লাসিক লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গাল বেঁকে যাওয়া, বাহুতে দুর্বলতা বা অসাড়তা ও কথা বলতে সমস্যা। কিন্তু অন্যান্য লক্ষণগুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। ধূমপান, স্থূলতা ও স্ট্রোকের পারিবারিক ইতিহাসের মতো বড় বিষয়গুলো কোনো ব্যক্তির স্ট্রোকের ঝুঁকি উচ্চ করে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় স্ট্রোকে ভোগার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এমন কিছু বিস্ময়কর বিষয়ও পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনে স্ট্রোকের ৮ বিস্ময়কর রিস্ক ফ্যাক্টর (ঝুঁকির বিষয়) সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* ডায়েট ড্রিংকস
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৮০,০০০ নারীর ওপর চালানো গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় ও স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন যে তারা এ গবেষণা শুধুমাত্র সেসব প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর চালিয়েছেন যাদের ঋতুবন্ধ হয়েছে এবং তারা সুনির্দিষ্টভাবে ডায়েট সোডাকে দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করেননি। কিন্তু তারপরও ডায়েট ড্রিংকসের প্রতি তীব্র আসক্তি থাকলে এ অভ্যাসের মাত্রা কমানো উচিত। ‘আমাদের গবেষণা ও কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সীমিত কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় তেমন ক্ষতিকর না হলেও এ পানীয় উচ্চমাত্রায় পান করলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে’- ইউএস টুডেকে বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ইয়াসমিন মোসাভার-রাহমানি।

* ফ্লু
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পেয়েছেন যে ফ্লু বা ফ্লু’র মতো উপসর্গ আবির্ভাবের কিছু সপ্তাহ পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, দুটি প্রাথমিক গবেষণা অনুসারে। পূর্বের একটি গবেষণায়ও একই যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা- স্কটল্যান্ডে চালিত এ ছোট গবেষণায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ভাইরাসে ভোগা লোকদের এক মাস পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এ বর্ধিত ঝুঁকির জন্য কিছুটা দায়ী হতে পারে ফ্লু’র সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রদাহ। যদি আপনার ফ্লু হয়ে থাকে, তাহলে হাঁটতে সমস্যা-কথা বলতে সমস্যা-দেখতে সমস্যা-অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য লক্ষণ দেখলে অবহেলা করবেন না। এ প্রসঙ্গে মিশিগানের গ্রান্ড রেপিডসে অবস্থিত হাউয়েনস্টেইন নিউরোসায়েন্স সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ফিলিপ বি. গরিলিক মেডিক্যাল নিউজ টুডেকে বলেন, ‘আপনার ছেঁড়া ধমনী অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ফ্লু জনিত এ উচ্চ ঝুঁকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।

* খুব বেশি পরিশ্রম
ল্যানসেটে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, যেসব লোক প্রতিসপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি যারা স্ট্যান্ডার্ড ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তাদের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এটা সত্য যে বেশি কাজ করা লোকদের স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত ও শরীর চর্চার জন্য যথেষ্ট সময় থাকে না, কিন্তু গবেষকরা উচ্চ রক্তচাপ, শরীর চর্চার ঘাটতি ও উচ্চ কোলেস্টেরলে মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করার পরও তাদের স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকি ছিল। এ বিষয়টি থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, এ বর্ধিত ঝুঁকির কারণ হলো অত্যধিক পরিশ্রম সম্পর্কিত অন্যকিছু। ২০১৩ সালে ডেনমার্কের একটি বড় গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোকদের জীবনে উচ্চমাত্রায় কাজের চাপ ছিল তাদের প্রাণনাশক স্ট্রোকের ঝুঁকি তেমন কাজের চাপ নেই এমন লোকদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি ছিল।

* অবৈধ ড্রাগ
কোকেন বা মিথ্যাম্পিট্যামাইনের মতো উদ্দীপক ও স্ট্রোকের মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে, এমনকি সুস্থ-সবল তরুণদের মধ্যেও। জার্নাল অব ফরেনসিক সায়েন্সে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় ৪৫ বছরের নিচের প্রাপ্তবয়স্কদের ২৭৯টি কেস তদন্ত করা হয় এবং এতে উদঘাটিত হয় যে ২০ শতাংশ ভিক্টিম ছিল মিথাম্পিট্যামাইন অথবা কোকেন ব্যবহারকারী। ৪৫টি মৃত্যুর প্রতিবেদনে বিষের উল্লেখ রয়েছে এবং ৭১ শতাংশ ভিক্টিমের রক্তপ্রবাহে মিথ পাওয়া গেছে। এ সকল মৃত্যু ছিল প্রতিরোধযোগ্য, বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ও অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক শেন ডার্কি। তিনি যোগ করেন, ‘এসব ড্রাগের ব্যবহারকারীরা স্ট্রোকের ঝুঁকির ব্যাপারে সচেতন থাকেন না। সাইকোস্টিমিউল্যান্ট ব্যবহারকারী ও তাদের চিকিৎসকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, অন্যথায় প্রাণঘাতী পরিণতি হতে পারে।’

* শব্দ দূষণ
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন প্রচুর কোলাহলময় পরিবেশে কাজ বা বাস করার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছে। শব্দ দূষণ ও স্ট্রোকের ওপর গবেষণাগুলো ছোট হলেও ফলাফলসমূহ বেশ দুশ্চিন্তার: উদাহরণস্বরূপ- ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যানবাহনের উচ্চমাত্রার শব্দের সঙ্গে সে স্থানে বসবাসকারী লোকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক ছিল।

* আলোর ঝলকানি দেখা
কিছু মাইগ্রেন ভুক্তভোগী মাথাব্যথা শুরু হওয়ার পূর্বে আলোর ঝলকানি অথবা ব্লাইন্ড স্পট (কোনো অংশ না দেখা) দেখেন। এ ঘটনাকে বলে মাইগ্রেন উইথ অরা। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, অরা সহকারে মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের ধমনীর প্রতিবন্ধতা জনিত স্ট্রোক বা ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি অরাবিহীন মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। গবেষণা লেখক ও কলাম্বিয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোসার্জন সৌভিক সেন আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনকে বলেন, ‘যদি আপনার অরা সহকারে মাইগ্রেনের ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ একজন বিশেষজ্ঞকে মূল্যায়ন করতে দিন।’

* মাড়ির রক্তক্ষরণ
হার্ভার্ড হার্ট লেটারের প্রতিবেদন বলছে, মাড়ির রোগে ভোগা লোকদের স্ট্রোক বা কার্ডিওভাস্কুলার ঘটনার ঝুঁকি দুই গুণেরও বেশি। যদিও মাড়ির রোগ ও কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির স্বাস্থ্যের মধ্যে প্রকৃত যোগসূত্র ভালোভাবে বোঝা যায়নি, তারপরেও অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন যে মাড়িতে অবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট প্রদাহ উভয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে অবদান রাখতে পারে। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন- ধমনীকে শক্ত করে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যাওয়া। পেরিয়োডোন্টিস্ট হাতিসে হাস্তুর্ক হার্ভার্ড হার্ট লেটারকে বলেন, ‘পেরিয়োডোন্টাল রোগ শরীরে প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি করে।’ মাড়ির রোগের লক্ষণের মধ্যে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, মাড়ির ফোলা, মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, মাড়িতে ব্যথা, দুর্গন্ধময় শ্বাস, দাঁত পড়ে যাওয়া অথবা মাড়ি রেখায় হলুদের আস্তরণ অন্তর্ভুক্ত।

* মদপানের অভ্যাস
মদপানের অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। সার্কুলেশন নামক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের একটি গবেষণা রিভিউ অনুসারে, এক রাতে ছয় থেকে নয়টি ককটেল সেবন হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির ঘটনার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিমিত মদপানে ঝুঁকি নেই বলা হলেও ২০১৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে যে, মদপানের কোনো নিরাপদ সীমা নেই। হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণা প্রধান এলিজাবেথ মোস্তফস্কি বলেন, ‘অ্যালকোহলের প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটুকু বৃদ্ধি পাবে তা নির্ভর করছে আপনি কতটুকু ও কতবার ড্রিংক করছেন তার ওপর।’

অফিসে বসেই স্বাস্থ্যের উন্নতি করুন এই ৬টি কাজে
স্বাস্থ্য ভালো থাকুক সেটা তো চাই আমরা সবাই। কিন্তু দিনের বেশীরভাগ সময়ই চলে যায় অফিসে বসে। তাহলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে কী করে? সপ্তাহে ৫/৬ দিন আট ঘন্টা করে বসে থাকলে বরং স্বাস্থ্যগত সমস্যা হবারই কথা। কিন্তু তাই বলে তো আর চাকরি বাদ দেওয়া যায় না। জেনে নিন অফিসে বসেই স্বাস্থ্যের যত্ন নেবার দারুণ কিছু কৌশল।
১) দাঁড়িয়ে থাকুন কিছুক্ষণ

ইংল্যান্ডের একটি নতুন গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়, প্রতিদিন অফিস চলাকালীন সময়ে কমপক্ষে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে কাটানো উচিৎ। দীর্ঘ সময় জবুথবু হয়ে বসে কাটানোতে শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। এই কারণে দিনে কমপক্ষে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে অফিস করার চেষ্টা করা ভালো, জানা যায় Huffington Post থেকে। এই কাজটির জন্য আপনি সুযোগ পেলেই হাঁটাহাঁটি করুন। লাঞ্চ টাইমে বাইরে থেকেও হেঁটে আসতে পারেন।
২) স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস বজায় রাখুন

অনেক সময় দেখা যায় আপনি না চাইলেও আপনার কলিগদের কাছে অস্বাস্থ্যকর কোনো স্ন্যাক্স, জাঙ্ক ফুড আছে বলে সেগুলো আপনার পেটে চলে যাচ্ছে। এ কারণে যাদের কাছে অস্বাস্থ্যকর খাবার আছে তাদের থেকে সেদিন একটু দূরে থাকার চেষ্টা করুন। ফল জাতীয় খাবার দিয়ে স্ন্যাকিং করুন। লাঞ্চে রাখুন সকাস্থ্যকর খাবার যা আপনার পেট ভরা রাখবে অনেকক্ষণ। আর পানি পান করুন যথেষ্ট পরিমাণে।
৩) ঘাড়ের ব্যায়াম

অনেকক্ষণ একই অবস্থানে ঘাড় ও কাঁধ শক্ত করে রাখলে দেখা দিতে পারে টেনশন নেক সিনড্রোম (TNS)। অনেকটা সময় কাঁধ ও কানের মাঝে ফোন চেপে রেখে কথা বলা বা টাইপ করার কারণে এই সমস্যাটা হতে পারে। এর জন্য ব্যবহার করুন স্পিকার ফোন বা হেডফোন। একই অবস্থানে বেশিক্ষণ ঘাড় শক্ত করে রাখবেন না।
৪) চোখের যত্ন

চোখ থেকে এক হাত দুরত্বে থাকবে আপনার মনিটর। এ অবস্থানে যদি আপনার দেখতে সমস্যা হয় তাহলে ফন্ট বড় করে নিন।
৫) পরিষ্কার করুন ডেস্ক

আপনার কী-বোর্ড, মাউস এবং ফোনে প্রচুর জীবাণু ছড়িয়ে থাকে। নিয়ম করে মাঝে মাঝে এগুলোকে ডিসইনফেক্ট করা জরুরী, নয়তো আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
৬) টানা কাজ করবেন না

জরুরী কোনো প্রজেক্টে কাজ করার সময় টানা দীর্ঘ অনেকটা সময় আমরা বসে কাটিয়ে দেই একই অবস্থানে। এটা যে আমাদের শরীরের জন্য খারাপ সেটাও আমরা লক্ষ্য করি না। কিন্তু এর বদলে আপনি ছোট ছোট ব্রেক নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং প্রতি ২০ মিনিট পর পর একবার উঠে দাঁড়াতে পারেন। Business Insider এর মতে এই কাজ দুটি আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।


রোজায় কী খেলে সুস্থ থাকবেন

রমজান মাসে টানা ১৪-১৫ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় দিনের বেলা আমাদের শরীর যকৃৎ ও পেশিতে জমানো শর্করা ও ফ্যাট থেকে শক্তি লাভ করে। শরীরে পানি জমা থাকে না। ঘাম ও প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়, পানিশূন্যতা হয় বলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা দেখা দেয়। কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না। এ ছাড়া অ্যাসিডিটি, গ্লুকোজ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয় রোজার মাসে।

ইফতারে আমরা অনেক বেশি খেয়ে ফেলি, ভাজা-পোড়া খাবারই বেশি থাকে। এ জন্য পেট ফাঁপা, বুক-গলা জ্বলা, বমি বমি ভাব হয়। পাকস্থলী ফাঁকা থাকার পর শুরুতেই অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার, তৈলাক্ত ও লবণাক্ত খাবার খেলে অ্যাসিডিটি তো বাড়বেই, সঙ্গে পানির তৃষ্ণা এবং খিদে বাড়িয়ে দেয়। ইফতারের পর থেকে সাহ্রি পর্যন্ত তাই উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, ফল, সবজি, বাদাম এবং পানিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ইফতার
ইফতারে এমন খাবার রাখবেন, যাতে প্রাকৃতিক চিনির জোগান থাকে এবং যা দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
পানীয়: পানি, ফলের শরবত, স্মুথি, দুধ—এগুলো পানীয়ের অন্তর্ভুক্ত। দুধ ও ফল দিয়ে বানানো ড্রিংকস যেমন ব্যানানা শেক, ম্যাঙ্গো শেক প্রাকৃতিকভাবে সুগার ও ক্যালরির ভালো উৎস। অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত বা কৃত্রিম ফলের জুস খাওয়া যাবে না। ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের জুস নিন।
খেজুর: খেজুর শর্করা ও খনিজ যেমন পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং আঁশের অনেক ভালো উৎস। ইফতারে তাই দুটি করে খেজুর রাখুন।
ফল: ইফতারে ফল ডিহাইড্রেশন দূর করে। বিশেষ করে পানিজাতীয় ফল যেমন তরমুজ, আনারস, বাঙ্গি, কমলা, মাল্টা, নাশপাতি খান।
স্যুপ: সবজি ও চিকেন দিয়ে তৈরি স্যুপ রাখা ভালো। মাঝেমধ্যে ছোলা, পিঁয়াজু ও বেগুনির বদলে আমরা স্যুপ রাখতে পারি।
দই: দইয়ে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন ও ভিটামিন ডি থাকে, সহজে খাবার হজম করে। ইফতারে তাই দই, চিড়া-মুড়ি মাখানো
খেতে পারেন। সাহ্রিতে খাওয়ার পরও দই খেতে পারেন।
কাঁচা ছোলা: রান্না ছোলার থেকে কাঁচা ছোলায় পুষ্টিগুণ বেশি। রান্না করলে যে তেল মসলা খাওয়া হতো, সেটা থেকেও বাঁচা যায়। ছোলায় ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও উচ্চ প্রোটিন রয়েছে। শরীরে শক্তির জোগান দিতে এর কোনো বিকল্প নেই।

রাতের খাবার
ইফতারের পর রাতে হালকা খাবার খাওয়াই উত্তম। রাতে লাল আটার রুটি, পাস্তা, ভাত অল্প পরিমাণে খাবেন।
প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিনস, ডাল ও আঁশের চাহিদা পূরণের জন্য সালাদ থাকতে পারে।

সাহরি
সাহরিতে শস্যযুক্ত খাবার রাখতে হবে। যেসব খাবার ধীরে ধীরে হজম হবে ও সারা দিন এনার্জি দেবে। যেমন:
ওটস/কর্নফ্লেক্স: পানি, দুধ বা দই দিয়ে খাওয়া যায়, সঙ্গে ফল, বাদাম।
সবজি ও সালাদ: সাহ্রিতে খাবারের সঙ্গে ভিটামিন, মিনারেলস ও পানীয়ের উৎস হিসেবে সালাদ ও সবজি থাকবে।
মনে রাখবেন, সাহরি আজানের আধা ঘণ্টা আগে শেষ করবেন। সাহরি শেষে তাড়াহুড়া করে বেশি পানি পান করবেন না। ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বর্জন করুন। বিশেষ করে সাহরিতে মিষ্টি খাবেন না, এতে তৃপ্তি হরমোন লেপটিন কমে যায়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়। চা, কফি পানিশূন্যতা বাড়ায়। খেজুর ও সাধারণ পানি দিয়ে রোজা ভাঙা উচিত।

মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী। মারমা জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে। প্রায়শই তাদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মারমা জনসংখ্যা ১,৫৭,৩০১। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে তাদের সংখ্যা আলাদাভাবে দেখানো হয়নি।

মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত। মারমাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, মারমাদের ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা। বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা। বাম থেকে ডান দিকে লেখার রীতি অনুসারী বর্ণমালা উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি হতে উদ্ভুত। মারমারা বিভিন্ন উপগোত্রে বিভক্ত যেমন: খ্যংসাঃচ্গাঃ, কক্দাইংসাঃচ্গাঃ, ওয়ায়ইংসাচ্গাঃ, মারোঃসাচ্গাঃ, কক্ফ্যাসাঃচ্ড়া প্রভৃতি।


নিজস্ব পোশাকে মারমা তরুণী


মারমা জনগণের বাড়িঘর বাঁশ, পাহাড়ি ছন ও ঘাসের তৈরি। এসব বাড়িঘর মূলত বাঁশ দিয়ে উঁচু মাচাং-এর উপর তৈরি করা হয়। বাড়ির প্রত্যেকটি কক্ষই একাধারে শয়নকক্ষ ও গুদামঘর। মাচাং-এর নিচের জায়গাটি গবাদিপশু রাখা, জ্বালানি কাঠ সংরক্ষণ অথবা তাঁত স্থাপনের মতো নানাবিধ কাজে ব্যবহূত হয়। কিছু কিছু বাড়ি মাটির তৈরি এবং মাচাং-বিহীন। ভাত এবং সিদ্ধ করা শাকসবজি মারমাদের প্রধান খাদ্য।

পূর্বে মারমা পুরষেরা ‘দেয়াহ্’ (ধুতি) নামে এক প্রকার তাঁতে তৈরি কাপড় পরতো। তারা এদেয়াহু সাথে বারিস্টা অাঁঙ্গি পরিধান করে। পুরুষের ‘খবং’(পাগড়ি) পরে। মেয়েরা ‘বেদাই আঙগি’ নামক এক ধরনের ব্লাউজ পরেন। মেয়রো যে কাপড় দিয়ে বুক ডাকে তাকে ‘রাংকাই’ বলে। মেয়েরা নিম্নাগ্নে বিশেষ ‘থ্বিং’ বা ‘থামি’ পরিধান করে। স্বামী হলো পরিবার প্রধান, তবে পরিবারে স্ত্রীর ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মারমা সমাজে আত্মীয়তার বন্ধন খুবই শক্তিশালী, এ জাতীয় সম্পর্ক বৈবাহিক এবং রক্ত সম্পর্কীয় উভয় ধরনের হয়। সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রাচীন বার্মার থামোহাডা নামে পরিচিত উত্তরাধিকার নীতি অনুসরণ করা হয়। পুত্র ও কন্যা উভয়েই পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে।

মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী। ধর্মীয় উৎসব হিসেবে তারা ক্ছংলাপ্রে বা বুদ্ধ পূর্ণিমা, ওয়াছো বা আষাঢ়ী পূর্ণিমা এবং ওয়াগোয়াই বা প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করে। প্রবারণা উৎসবের রাতে আকাশে রঙ্গিন ফানুস উড়ানো হয়। রথ যাত্রা হয়। মার্মাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই। এদিন বয়স্করা শীল পালন করে। তরুণ-তরুণীরা মৈত্রী পানি ছিটিয়ে একে অপরের মঙ্গল কামনা করে। পাড়ায় পাড়ায় উৎসবের আমেজে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। বুদ্ধ পূজা করা হয়। করা হয় বয়স্ক পূজাও। বয়স্ক পূজার মধ্য দিয়ে সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিদের সন্মান জানানো হয়।

মারমা জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। জুমচাষ তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রাথমিক কৃষিজ প্রয়াস। অবশ্য এর পাশাপাশি তারা পাহাড়ি অরণ্য থেকে গাছের পাতা, মূল এবং কন্দ সংগ্রহের মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। মারমা জনগণের মধ্যে বসতবাড়ি-সংলগ্ন ভিটায় ক্ষুদ্র আকৃতির বাগানচাষও দেখা যায়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে ঝুড়ি তৈরি, চোলাই মদ তৈরি এবং মজুরি শ্রম। বস্ত্রতৈরি মারমা মেয়েদের মধ্যে একটি খুবই সাধারণ কর্মকান্ড।


মারমাদের প্রদীপ নৃত্য


জাতপোয়ে নামক পালা ও ইয়েনপোয়ে নামক নৃত্য হচ্ছে জনপ্রিয় বিনোদন। মারমা সমাজে জ্ঞানী-গুণীজন এবং গীতিকারেরা ‘বিদ্ গাইট’ (ধর্মীয় শাস্ত্র), ‘বিদাং’ (জ্যোতিষশাস্ত্র) প্রভৃতি হতে মারমাদের কাহিনী সংগ্রহ এবং তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণার আলোকে সমাজের বাস্তব রূপ ও কাহিনী তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সংগীত ও গীতিনাট্য রচনা করেন। মারমা সংগীতের প্রধান প্রধান ধারাগুলি হলো: কাপ্যা, চাগায়াঙ, সাখ্রাঙ, রদু:, লাঙ্গা, সাইঙগ্যাই, লুঙটি প্রভৃতি। যন্ত্রসমূহের মধ্যে সেইং ওয়েইং (বৃত্তাকার বড় আকৃতির কাঠের ঢোল), কিয়ে ওয়েইং (ছোট আকৃতির কাঠের ঢোল), পিলিঈ (বাঁশি) এবং ঝিনে গুরুত্বপূর্ণ। এ সকল যন্ত্রের সাথে বার্মায় ব্যবহূত বাদ্যযন্ত্রের মিল রয়েছে।

মারমা বংশ এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় এ দুটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। ভাই ও বোনকে একই রক্ত সম্পর্কীয় বা পিতৃপরিচয় ধরে গণনা করলেও তাদেরকে আবার বংশগত দিক থেকে পৃথক হিসাবে দেখা হয়। যেমন বংশের ক্ষেত্রে মেয়ে মায়ের বংশ এবং ছেলে সব সময় বাবার বংশ পরিচয় লাভ করে। বিবাহ বিচ্ছেদে নারী এবং পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার রয়েছে, তথাপি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটে কারবারি (গ্রামপ্রধান) অথবা হেডম্যান (মৌজা বা এলাকাপ্রধান)-এর আদালতে।

মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি। মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা। এর পাশাপাশি তাদের ওপর নিজ নিজ প্রশাসনিক স্তরে বিরোধ নিষ্পত্তি, রায় প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিবিধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক দায়-দায়িত্ব অর্পিত।

শনিবার/রবিবার আঘাত হানতে পারে ফনি।
নিন্মেবর্ণিত জিনিসগুলো সচল ও হাতের কাছে রাখুনঃ

১। ব্যাটারী চালিত টর্চ লাইট
২। মোবাইল ফোন ( চার্জ করা)
৩। মোবাইল ব্যালেন্স
৪। খাওয়ার স্যালাইন
৫। শুকনো খাবার ( মুড়ি, চিড়া, গুড় ইত্যাদী)
৬। বিশুদ্ধ পানি
৭। বৃদ্ধদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা
৮। বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ

বিঃ দ্রঃ বিপদে কোন অবস্থায় অধৈর্য না হয়ে সকলে নিরাপদে মোকাবেলা করুন এবং পাশের লোককে সহায়তা করুন।

আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। (আমিন)

বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হৃদরোগ, কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই হৃদরোগ যেকোনো সময় কেড়ে নেয় জীবন। সারাবিশ্বে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি লোক মৃত্যুবরণ করে। তার বেশির ভাগ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। একবার হার্ট এটাকে আক্রান্ত হলে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে হার্ট বা হৃদপিণ্ড একটি জরুরী অঙ্গ। হার্টের কর্মক্ষমতার ওপর বেঁচে থাকা, শক্তি, শারীরিক কর্মক্ষমতা, আবেগ অনুভূতি বলতে গেলে জীবনের সবকিছুই নির্ভরশীল। হার্টের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি এবং শক্তি সঞ্চালিত হয়, অক্সিজেন সরবরাহ হয় এবং কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন হয়।

অন্য যেকোনো অঙ্গ অকেজো বা নষ্ট হয়ে গেলে শুধু ওই অঙ্গের কার্যের ব্যাঘাত ঘটে, কার্যক্ষমতা লোপ পায়। কিন্তু হৃদপিণ্ড নষ্ট বা বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মারা যায়। তাই হার্ট ভালো থাকলে একজন মানুষ ভালো থাকবে, হার্ট কার্যক্ষম থাকলে মানুষটিও শক্তিশালী কার্যক্ষম থাকবে।

আবার হার্ট আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং দুর্বল হয়ে পড়লে মানুষটিও দুর্বল হয়ে পড়বে। আবার এর কার্যক্ষমতা কমে গেলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক কার্যক্ষমতা কমে যায়। এই জরুরী অঙ্গটিকে তাই ঠিক রাখতেই হবে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করতে হবে। একথাও মনে রাখতে হবে যে, একবার হার্ট আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়ে গেলেও সারা জনম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হবে এবং সাবধানে নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য রোগের চিকিৎসাসহ নিয়মিত চেকআপ করতে হবে।

প্রবাদ আছে, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। তাই এই অঙ্গটিকে ঠিক রাখার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্নভাবে সংক্রামক ব্যাধির উন্নত চিকিৎসা করার ফলে তা কমতে শুরু করেছে এবং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে। অপরদিকে অসংক্রামক ব্যাধি বেড়ে চলেছে, তার মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পারলে হৃদরোগের অনেক আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু পূর্বে হৃদরোগ শনাক্ত করা না গেলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা দেয়ার পূর্বেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। তাই প্রতিরোধটাই সবচেয়ে জরুরী।

হৃদরোগের কারণ

পারিবারিক হৃদরোগ ইতিহাস, ডায়াবেটিস, উচ্চ-রক্তচাপ, অতিরিক্ত ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং অলস জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা, অতিরিক্ত মদ্যপান।

হার্ট সুস্থ রাখার উপায়

সুস্থ, স্বাভাবিক ও আনন্দপূর্ণ জীবনের জন্য দরকার একটি সুস্থ হৃদযন্ত্র। কিন্তু এ যন্ত্রটিকে সুস্থ রাখাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক বিশ্বে জীবনযাত্রার নানামুখী পরিবর্তন, কাজের পরিবেশ সব কিছুই যেন প্রতিনিয়ত হৃদযন্ত্রকে প্রতিকূলতার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। তার পরও হৃদযন্ত্র ভাল রাখতেই হবে। আর তাই সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের কোনো বিকল্প নেই। নিম্নে মোটাদাগে হার্ট সুস্থ রাখার ১০ টি টিপস দেওয়া হলো-

* ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস রোগীদের এ্যাথারোস্কে¬রোসিস বেশি হয়। ফলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। তাই রোগীদের অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: জীবন যাত্রায় পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করানো উচিত। যত আগে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তত আগে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

* ধূমপান বর্জন: হৃদযন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু ধূমপান। ধুমপায়ীদের শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনী, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়। ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। তামাক পাতা, জর্র্দা, গুল লাগানো ইত্যাদিও পরিহার করতে হবে।

* অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হ্রাস: যথেষ্ট পরিমাণে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, ফলে অধিক ওজন সম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনী, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

* ভারসাম্যপূর্ণ ওজন: ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো বিপজ্জনক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালো। স্থূলতায় হৃদরোগ থেকে শুরু করে নানা সমস্যা হতে পারে। ফলে ভারসাম্যপূর্ণ ও সঠিক ওজন বজায় রাখতে মনোযোগী হতে হবে।

* নিয়মিত ব্যায়াম: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার জন্য ব্যায়ামের মতো কার্যকর অন্য কোনো পথ নেই। সকাল-সন্ধ্যা হাঁটা চলা, সম্ভব হলে দৌড়ানো, হালকা ব্যায়াম, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার ইত্যাদি। জিমে যেতে হবে এমন নয়। ঘরেই ব্যয়াম করা যায়। তাও না করতে পারলে প্রতিদিন অবশ্যই হাঁটতে হবে।

* অতিরিক্ত লবণ নিয়ন্ত্রণ : খাবার লবণে সোডিয়াম থাকে, যা রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের আয়তন বেড়ে যায় এবং রক্তচাপও বেড়ে যায়, ফলে হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। অনেকেই খাবারের সঙ্গে কাঁচা লবণ খান। এটা অবশ্যই বর্জন করতে হবে। বেশি লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এ থেকে হৃদযন্ত্রে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন : রক্তে উচ্চ চর্বি, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হলে রক্তনালীর দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

কম চর্বি ও কম কোলেষ্টেরল যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন খাশি বা গরুর গোসত, কলিজা, মগজ, গিলা, গুর্দা, কম খেতে হবে। কম তেলে রান্না করা খাবার এবং ননী তোলা দুধ, অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা, ভুট্টার তেল অথবা সূর্য্যমুখীর তেল খাওয়া যাবে।

* মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে : অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে।

নিজের শখের কাজ করা, নিজ ধর্মের চর্চা করা ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক শান্তি বেশি হবে। অতিরিক্ত মানাসিক চাপ স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ঙ্কর। এজন্য খেলাধুলা, আড্ডা, বইপড়া, যোগব্যায়াম ও ধ্যান হতে পারে চাপ মুক্তির উত্তম দাওয়াই। প্রতি রাতে ভাল ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

* মদ্যপান পরিহার : অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করতে হবে। বেশি এ্যালকোহল গ্রহণ মানে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়া। এতে হৃদস্পন্দনেও প্রভাব পড়ে। সুস্বাস্থ্য ও সবল হৃদযন্ত্রের জন্য ধূমপানের মতো মদ্যপানও ছাড়তে হবে।

রাসুল (স) ইরশাদ করেন, ‘পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচলন করবে তাহলেই তোমাদের মধ্যে ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে।’ (সহীহ মুসলিম)

আবার আসিব ফিরে

17-Feb-2020 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4157+)
প্রশ্নঃ অপচয় কর না, অভাব হবে না। কাগুজে টাকা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক "বাংলাদেশ ব্যাংক" কর্তৃক প্রবর্তিত হয়। কিন্তু; ৳১, ৳২ এবং ৳৫ টাকার নোট এবং ধাতব মুদ্রা যেগুলো বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রচলিত হয়। বাংলাদেশে এক হাজার টাকা মূল্যের নোট কোন সাল থেকে চালু হয়?
(A) ২০০৮
(B) ২০০০
(C) ২০১০