About আপডেট নিউজ (সকল মিডিয়া)

ঢাকার অদূরে সাভারের একটি বাড়ির ছাদ বাগানের গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগে আটক খালেদা আক্তার। সিআরপি এলাকা, সাভার, ২৩ অক্টোবর।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়, বড়াইগ্রামের আগ্রাণ গ্রামের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী সাহিদা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভাইবোনের সম্পর্ক গড়ে তোলে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার রোহাবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ইশান আহমেদ সোহাগ (২৩)। দুই বন্ধু পাপলু ও শাজাহানকে সঙ্গে নিয়ে সোহাগ গত ৫ এপ্রিল সাহিদা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

দুই দিন অবস্থানের পরে রোববার বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে সাহিদার ছোট ছেলে আগ্রাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বাবুকে নিয়ে বের হয় তারা। পরে বাবুকে ফেরত পেতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সোহাগ।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা হলে পুলিশের একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মুক্তিপণের জন্য প্রেরিত কিছু টাকা উঠানোর সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করা হয় অপহরণকারী চক্রের সদস্য পাপলুর স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে (২৫)।

এরপর জয়পুরহাট ও গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে অপহরণকারী চক্রের সদস্য শাজাহানের খালা মোছা. নূরজাহান (৪৮) এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার চরভগবানপুর থেকে অপহৃত বাবুকে উদ্ধারসহ মূল অপহরণকারী সোহাগকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হওয়া বাবুকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, জাতীয় দলের কোচ নিয়েও ক্রিকেটারদের আপত্তি আছে। তারা একবার বলল কোনো কোচই লাগবে না। এখন আবার বলছে বিদেশি কোচ নিয়ে হবে না। দেশি কোচ দেন।

মঙ্গলবার মিরপুরে ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে পর্যালোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাপন বলেছেন, কোচরা এসেছে নতুন, ড্যানিয়েল ভেট্টরি আসছেন। এসব কোচরা সাকিব-তামিমদের পছন্দ না। এক বারতো বলেছে ওদের কোনো কোচই দরকার নেই। আপনাদের আমি সংবাদ সম্মেলনে বলেছি।

পাপন আরও বলেন, আমি কোচ ছাড়াও কিছুদিন দেখছিলাম ভালো কিছু হয়নি। ওরা এখন দেশি কোচ চায়, বিদেশি কোচ চায় না। এগুলো অন্য ব্যাপার। তবে কোচ কে হবে সেটা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তারপরও যখনি কোনো কোচ নিয়োগ দেয়া হয়েছে তখন সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেই নেয়া হয়েছে।

রাশিয়ার সহায়তায় সুপারসনিক প্রযুক্তির ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পর এবার আরও একধাপ এগিয়ে আরও দ্রুতগতির ও উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে ইতিমধ্যে এ নিয়ে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে ফেলেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)।

খুব শিগগির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তির পর্যালোচনা করবেন বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন এই হাইপারসনিক মিসাইল তৈরির পরিকল্পনা চলছিল। সেইমতো চলছিল প্রযুক্তিগত গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআরডিওর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি উইন্ড টানেল তৈরি করে প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটিগুলি সুনির্দিষ্ট মাত্রায় নির্ধারিত করার পরেই মিসাইল তৈরির কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, উন্নততর যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থার অন্যতম এই হাইপারসনিক প্রযুক্তি। তাই সেটা নিয়ে খুব গভীরভাবে গবেষণা করছি।

শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন হলে তাকে সুপারসনিক বলা হয়। ভারত আর রাশিয়ার যৌথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রাহ্মস এই প্রযুক্তিতেই তৈরি। কিন্তু হাইপারসনিকের অর্থ শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন।

মাইলের এককে ধরলে প্রতি সেকেন্ডে এক মাইলেরও বেশি গতিতে ছুটতে পারে এই হাইপারসনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালাস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম)-এর চেয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে পারলেও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ খুব সহজ। শত্রুপক্ষও এর অবস্থান কার্যত ধরতেই পারে না।

এর আগে শুধু যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পেরেছে। সফল হলে ভারত হবে হাইপারসনিক ক্ষমতার চতুর্থ দেশ।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েই যেহেতু অনেক কথা হচ্ছে। সেহেতু বলতে চাই, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ এবং তৃতীয় বিভাগের খেলার মান আমরা সবাই জানি।

পত্র-পত্রিকায়ও অনেক সময় এসেছে, খেলতে যাওয়ার আগেই খেলোয়াড়রা যেনে যায় কোন দল জিতবে আর কোন দল হারবে। এটা আসলে খুবই দুঃখজনক। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

সোমবার হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয় বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন। ক্রিকেটাররা তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ নানা দাবি তুলে ধরেন। তারকা খেলোয়াড় সাকিব-তামিম-মুশফিকসহ জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্লাবের অধিকাংশ ক্রিকেটাররা একসঙ্গে ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন।

দাবিগুলো না মানলে সব ধরনের ক্রিকেট খেলা থেকে বিরত থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন সাকিবরা। ফলে টাইগারদের আসন্ন ভারত সফর নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে নভেম্বরের শুরুতেই ভারত যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। হাতে বেশি সময় নেই। এমন সময়ে এই আন্দোলন, সিরিজ নিয়ে শঙ্কা তো হওয়ারই কথা।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এটা নিয়ে চিন্তিত নয়। বিসিসিআইয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি মনে করছেন, এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ভারত-বাংলাদেশ সিরিজে এর প্রভাব পড়বে না।

সৌরভ বলেন, ‘এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। তারাই এর সমাধান করবে। তারা (বাংলাদেশ) খেলতে আসবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই সংকট নিয়ে বিসিবির সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা পুরোপুরিই তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমি বিসিবির সঙ্গে কথা বলেছি। এ নিয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না।’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি মাঠে গড়াবে দিল্লিতে আগামী ৩ নভেম্বর। এরপর দুই টেস্টের সিরিজ রয়েছে।

[দৈনিক প্রথম আলো থেকে পাওয়া ]

যদি মেডিকেলে পড়তে চাওঃ
----
তোমরা যারা এ বছর মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেবে, তাদের জন্য লিখেছেন গত বছর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ইশমাম সাকীব।
--
এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন রাত দশটা। ঠিক এক বছর আগে এই দিনে, এই সময়ে আমি কী করছিলাম, মনে করার চেষ্টা করি। হয়তো পরদিনের মডেল টেস্টের পড়া গুছিয়ে নিচ্ছিলাম। হয়তো বিগত বছরের কোনো প্রশ্নপত্র সমাধান করছিলাম। কিংবা পড়ার টেবিলে বসে হয়তো আজকের এই দিনটির স্বপ্নই দেখছিলাম!

মা-বাবার চাকরির কারণে আমাকে ছোটবেলায় অনেকবার স্কুল বদল করতে হয়েছে। তখন ভাবতাম, বড় হয়ে প্রকৌশলী হব। উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হলাম খুলনার মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজে। কলেজে পড়ার সময় কীভাবে যেন জীবনের লক্ষ্যটা বদলে গেল। আমার একমাত্র ছোট ভাইটা অটিজমে আক্রান্ত। ওর মতো আরও যারা আছে, তাদের জন্য একটা কিছু করার তাড়না আমার ভেতর কাজ করছিল। তাই ঠিক করে ফেললাম, আমি চিকিৎসক হব।

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কিংবা নিরাশা—কোনোটাই কখনো আমার ওপর ভর করেনি। আমি শুধু আমার কাজটা করে গেছি। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করেছি। অল্প পড়েছি, কিন্তু মন দিয়ে পড়েছি। অনেকে বলে, মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলে দিনরাত এক করে পড়তে হয়। আমার বেলায় কিন্তু ব্যাপারটা এমন ছিল না। সব সময় তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চেষ্টা করেছি, আবার সকালবেলা উঠে পড়তে বসেছি। আমার কাছে মনে হয়, ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমটাও খুব জরুরি। দুপুর পর্যন্ত কোচিং করেই কাটত। বিকেলে কখনো পড়তাম না। মা-বাবার সঙ্গে গল্প করতাম, কিংবা অন্য কিছু করতাম। এই সময়টা আমার অবসরের জন্য রাখা ছিল।

এখন মেডিকেলের পড়ার চাপে অবসর তেমন পাই না। পড়ার চাপ খুব বেড়ে গেলে মনে হয়, বাসায় যেত পারলে ভালো লাগত। এখানে ভর্তি হওয়ার আগে কখনো মা-বাবাকে ছেড়ে থাকিনি। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ছি, প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি—এটাই আনন্দ।

লেখক: ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র

ইশমামের দশ পরামর্শ


১. পাঠ্যবই পড়তেই হবে

মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার নিয়মকানুনগুলো তো তোমাদের জানা। জীববিজ্ঞানে ৩০, রসায়নে ২৫, পদার্থবিজ্ঞানে ২০, ইংরেজির জন্য ১৫, আর সাধারণ জ্ঞানে ১০০ নম্বর থাকে। জীববিজ্ঞান, রসায়ন আর পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমি মনে করি, পাঠ্যবইটি খুব ভালো করে পড়তে হবে। তাহলে জানতে পারব, আমার দুর্বলতা কোথায়। কোন অংশটা আমি ভালো জানি। তাই উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যবইগুলো পুরোটা আয়ত্তে থাকতে হবে।

২. অনুশীলন আর অনুশীলন

যত বেশি সম্ভব, মডেল টেস্ট দিতে হবে। কোচিংয়ে পরীক্ষা দিতে পারো। বাড়িতে বসেই পুরোনো প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখতে পারো। যত বেশি পরীক্ষা দেবে, তত নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারবে। প্রস্তুতি না নিয়ে কোনো পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। আবার অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে যদি প্রস্তুতি নিতে না-ই পারো, তবু কোনো মডেল টেস্ট দেওয়ার সুযোগ ছাড়া যাবে না।

৩. সাম্প্রতিক খবর

সাধারণ জ্ঞানের জন্য পরীক্ষার আগের তিন মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো জেনে রাখা দরকার। কোনো অর্জন, কোনো বিখ্যাত মানুষের মৃত্যু, খেলাধুলায় কোনো বড় রেকর্ড—এ রকম কোনো কিছুই বাদ দেওয়া যাবে না। সাধারণ জ্ঞান বা ইংরেজির জন্য যেহেতু সেভাবে কোনো সিলেবাস ধরাবাঁধা নেই, তাই এ দুটি বিষয়ে একটু জোর দিতে হবে।

৪. পরীক্ষার আগের ১ মাস

পরীক্ষার আগের এক মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই সময়ে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকে। কোচিংয়ের চাপ থাকে না বলে অনেকে এই সময়ে একটু ঢিল দিয়ে ফেলে। ভাবে, প্রস্তুতি যা নেওয়ার, তা তো নিয়েছিই। এটা একটা বড় ভুল। এই সময়টাতেই আরও বেশি করে প্রস্তুতি নিতে হবে।


মেডিকেলের এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পেরোনো বহু শিক্ষার্থী। ছবি: স্বপ্ন নিয়ে
মেডিকেলের এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পেরোনো বহু শিক্ষার্থী। ছবি: স্বপ্ন নিয়ে
৫. একেকজনের একেক কৌশল

তুমি কোন বিষয়ে ভালো আর কোথায় তোমার দুর্বলতা, সেটা তো তুমিই সবচেয়ে ভালো জানো। একেকজনের পড়ার কৌশল একেক রকম। তাই তোমার পড়ার ধরনের সঙ্গে মেলে, এমনভাবেই কোনো পরিকল্পনা করা উচিত। কেউ একবার পড়লেই মনে থাকে, কারও একই জিনিস বারবার অনুশীলন করতে হয়। যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ কর, সেভাবেই একটা পরিকল্পনা সাজিয়ে নাও।

৬. সবার পরামর্শ শুনতে হবে না

ভর্তি পরীক্ষা সামনে বলে নিশ্চয়ই অনেকে তোমাকে অনেক রকম পরামর্শ দেবে। সবার পরামর্শ আমলে নিতে হবে তা নয়। বিশেষ করা যারা তোমাকে নিরুৎসাহিত করবে, বলবে তোমাকে দিয়ে হবে না—এসব কথা কানে নিয়ো না। তুমি তোমার কাজ করে যাও। তবে যেসব বড় ভাই-আপুরা মেডিকেলে পড়ছেন, যাঁদের এই পরীক্ষার অভিজ্ঞতা আছে, তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারো।

৭. সময় অনেক দামি

পরীক্ষার সময় প্রতিটি মুহূর্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশ্নের উত্তর করার বাইরে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টাতে তোমাকে যেন আর কিছু বিরক্ত না করে, সেদিকে খেয়াল রেখো। হলে বসে তোমার চেয়ার বা টেবিলটা ভাঙা কি না, সব ঠিকঠাক আছে কি না, আগেই দেখে নাও। একবার পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলে এসব নিয়ে ভাবার সময় আর থাকবে না। যেসব প্রশ্নের উত্তরের ব্যাপারে তুমি নিশ্চিত, সেগুলো আগে উত্তর করে ফেলা ভালো। এক ঘণ্টার পরীক্ষা। সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে ফেলতে আমার সময় লেগেছিল ৪৭ মিনিট। বাকি সময়ের মধ্যে একটু দ্বিধা থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। পরীক্ষায় আমি ৮৭ নম্বর পেয়েছিলাম।

৮. সুস্থ থাকতে হবে

প্রস্তুতির দিকে বেশি জোর দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে চলবে না। এখন যেহেতু ডেঙ্গুর খুব প্রকোপ, এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। জ্বরে পড়ে তিন দিন নষ্ট হলে সেটাও বড় ক্ষতি। আমি যেমন অল্প করে হলেও প্রতিদিন পড়েছি, এক দিনও বাদ দিইনি।

৯. আত্মবিশ্বাস রেখো

মেডিকেলের এই ভর্তি পরীক্ষা অনেকটা ক্রিকেট খেলার মতো। আত্মবিশ্বাস তোমার মধ্যে থাকতেই হবে। আগেই যদি মনে হয়, ‘আমাকে দিয়ে হবে না’, তাহলে পরীক্ষার হলেও তুমি ঘাবড়ে যাবে। বারবার অনুশীলন করার মধ্য দিয়ে এ আত্মবিশ্বাস তৈরি করা যায়। হাল ছেড়ে দিয়ো না।

১০. কোনো ফাঁদে পা দিয়ো না

কেউ যদি বলে, পরীক্ষার আগের রাতে তোমাকে প্রশ্ন দেবে, তার থেকে ১০০০ হাত দূরে থেকো। গত কয়েক বছর মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগও নেই। পরীক্ষার আগের রাতে যদি বন্ধুরা বলাবলি শুরু করে, অমুক জায়গায় প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে, ভুলেও ওসব কথায় কান দিয়ো না। তুমি তোমার লক্ষ্যে অবিচল থেকো।

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের দায়ে ১৪ ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী।

আটকের পর তাদের মোংলা বন্দরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকার একটি বিপণিবিতানে অভিনেত্রী মেহ্জাবীন ও পরিচালক আদনান আল রাজীবের হাত ধরে হাঁটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী মেহ্জাবীন ও পরিচালক আদনান আল রাজীব হাত ধরে একটি শপিংমলে হাঁটছেন। সেই ভিডিও মুহূর্তে ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে।

হাত ধরার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে মেহ্জাবীন বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। ভক্তদের কেউ সেখান থেকে ভিডিওটি করে হয়তো ইউটিউবে আপলোড করেছে।

তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটতে চেষ্টা করি। পেছনে যাতে না পড়ে যাই, তাই হাত ধরে হাঁটি।

আপনাদের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে? এমন প্রশ্নর জবাবে মেহ্জাবীন বলেন, যেদিন আমার বিয়ে হবে সবাইকে জানিয়েই করব। তার আগে এটা নিয়ে কোনো কথা বলব না।

তিনি বলেন, ভিডিওতে তো সবই আছে।আমি একজন মানুষের হাত ধরেছি। আশপাশে অনেক মানুষ, তাই হাত ধরেছি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে র‌্যাগ দেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাদিক। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগের মাসুম শিকদার। তাদের দুইজনের বাসা টাঙ্গাইল জেলায় এবং ২০১৪-১৫ বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, আরিফ তালুকদার নামে এক ভর্তিচ্ছুকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন সাদিক। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে গেলে আরিফ আলাদা হয়ে পড়েন। এময় মাসুম শিকদারের সঙ্গে দেখা হলে টাঙ্গাইল জেলার পরিচয় পেয়ে বিভিন্নভাবে তাকে জেরা করেন। পরে হলের গেস্ট রুমে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত টাঙ্গাইলের এক ছাত্রলীগ নেতাকে চিনতে না পারায় তুই-তুকারি করা বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন। এর মধ্যে সাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে র‌্যাগ দেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চান। ভর্তিচ্ছুদের র‌্যাগ দেওয়া উচিত নয় বলতেই সাদিককে মারধর শুরু করে মাসুম। এতে সাদিকের চোখের কোণ ফেটে যায়। অল্পের জন্য বেঁচে যায় তার চোখ।

আরো পড়ুন: নবনিযুক্ত ৯ বিচারপতি শপথ নিলেন

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে মাসুম শিকদার বলেন, সাদিক আমার খুব কাছের বন্ধু। আমরা প্রায় আড্ডা দেই, মজা করি। ওর সঙ্গে কিলঘুষি এমন নিত্যদিন চলে। তবে আজকে একটু বেশি হয়ে গেছে। ওর চোখের কোণে কেটে গেছে। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনা শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পারিশ্রমিকসহ ১১টি দাবি নিয়ে জোট বেঁধেছেন দেশের সব ক্রিকেটার। সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালরা।

টাইগারদের ১১ দফা দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, খেলোয়াড়েরা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। পরবর্তী বোর্ড সভা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। বিভিন্ন সময় তাদের নানা দাবি-দাওয়া আসে। আমরা চেষ্টা করি সে সব পূরণ করতে। আজ আমাদের বিষয়টি নজরে এসেছে। অবশ্যই আমরা বোর্ড সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, যখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বলব তখন ক্রিকেটের কথা, এখন ক্রিকেট নিয়ে কথা নয়। এখন এই বিষয়ে কোনো কথা বলব না। বিশ্বকাপের পরে আর ক্রিকেট নিয়ে কথা বলছি না আমি, আবার যখন ফিরব তখন কথা হবে।

বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মিরপুর স্টেডিয়ামে দাবি পেশ করে বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি পূরণ না হবে ততদিন আমরা আর ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাচ্ছি না।

আসন্ন ভারত সফরের আগে ২৫ অক্টোবর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ক্যাম্প শুরু হবে। যদি দাবি না মানা হয় তাহলে আপনারা কি ক্যাম্পে যোগ দেবেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব আল হাসান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা খেলায় মনোনিবেশ করব না। আমরাও খেলতে চাই। আমরা হয়ত আর দুই-তিন বছর জাতীয় দলে খেলব। কিন্তু যারা ভবিষ্যতে আসবে তারা যাতে এ সব সমস্যার সম্মুখীন না হয় সে জন্যই আমাদের এ দাবি।

ক্রিকেটারদের ১১ দফা ...

১. কোয়াবের (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কোনো কার্যক্রম না থাকায় বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

২. প্রিমিয়ার লিগ আগের মতো করতে হবে। নিজেদের ডিল করতে দিতে হবে।

৩. এ বছর না হোক, তবে পরের বছর থেকে আগের মতো বিপিএল হতে হবে, লোকালদের দাম বাড়াতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি ১ লাখ, বেতন বাড়াতে হবে, বারো মাস কোচ ফিজিও দিতে হবে, প্রতি বিভাগে প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. ভালো মানের বল দিতে হবে, ডিএ ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না, তাই বাড়াতে হবে, ট্রাভেল প্লেন ভাড়া দিতে হবে, হোটেল ভালো হতে হবে।

৬. চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা ও বেতন বাড়াতে হবে।

৭. দেশি সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে, কোচ থেকে গ্রাউন্ডস, আম্পায়ার সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. ঘরোয়া ওয়ানডে বাড়াতে হবে, বিপিএলের আগে আরেকটি টি ২০ খেলতে চাই।

৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার ফিক্সড হতে হবে।

১০. বিপিএলের পাওনা টাকা সময়ের মধ্যে গিতে হবে।

১১. ফ্রেঞ্চাইজি লিগ দুটার বেশি খেলা যাবে না নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।

মদ্যপ চালকদের ধরতে বিশেষ যন্ত্র হাতে মহাসড়কে পুলিশ

[ সময় টিভি থেকে পাওয়া ]
‘বেঁচে থাকব, আপনাদের সাথে কথা বলবো, স্বামী সন্তানের মুখ দেখব তা কখনো মনে করিনি। আসামিরা আমাকে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাহিরে নিয়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। দুইজন আমার দুই হাত ধরে রাখে। আরেকজন পরনের কাপড় ছিঁড়ে মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর একের পর এক আসামিরা আমাকে ধর্ষণ করে’- এভাবে সেদিনের ঘটনা আদালতে বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতের নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার সেই নারী (৪০)।


রোববার (২০ অক্টোবর) নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সামসউদদীন খালেদের আদালতে মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আদালতে নির্যাতনের শিকার নারী কান্নায় ভেঙে পড়ার পর বিচারক সাক্ষীকে স্বাভাবিক হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের অনুরোধ করেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় আদালতে সাক্ষী নির্যাতনের শিকার নারী তার নাম-পরিচয় তুলে ধরে বলেন, সেই রাতের (৩০ ডিসেম্বর) খাবার খেয়ে তিনিসহ পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘরের বাহির থেকে আসামি ছালাউদ্দিনের ডাকে তার ঘুম ভেঙে যায়। তখন তিনি কে জিজ্ঞেস করলে ছালাউদ্দিন বলেন ‘আমি ছালাউদ্দিন’।

আদালতকে নারী বলেন, পরিচয় জানার পর আমি ঘুম থেকে জেগে বাতি জ্বালাই। এরপর আমি ও আমার স্বামী মিলে দরজা খুলে দেই। এ সময় ছালাউদ্দিন, সোহেল, আবু, হেঞ্জু মাঝি, বেচু, স্বপন, চৌধুরী ঘরে ঢুকে। আর রুহুল আমিন মেম্বারসহ (বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা) অন্য আসামিরা বাহিরে ছিল।

নির্যাতনের শিকার নারী নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আসামিরা ঘরে ঢুকেই প্রথমে আমার মেয়ের কক্ষে গিয়ে তাকে নষ্ট (ধর্ষণ) করার চেষ্টা করে। এ সময় আমরা তাদের হাত-পা ধরলে তাকে ছেড়ে দিয়ে আমার চার সন্তান ও স্বামীকে বেঁধে ফেলে। এরপর আমাকে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাহিরে নিয়ে যায়।

নির্যাতনের বর্ণনায় নারী আরও বলেন, মুখ বাঁধার পর আসামিরা টেনে ঘরের পশ্চিম পাশে পুকুরের পূর্ব পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে একের পর এক আসামি আমাকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে আসামি বেচু বলে জবাই করে পুকুরে ফেলে দে। স্বপন বলে জবাই করিছ না মার। তখন সোহেল, বেচু গাছের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমার ডান হাত ভেঙে দেন। তখন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।




নির্যাতিতা নারী আদালতকে বলেন, সকালে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একাধিক সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করা হয়। কিন্তু আসামি রুহুল আমিন, বেচু সিএনজি আমাদের বাড়িতে আসতে দেয়নি। পরে মাইজদী থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তাকে জেলা সদরের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সাক্ষ্য দেওয়ার পর আসামি পক্ষের আইনজীবির জেরার জবাবে নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, পরদিন (৩১ ডিসেম্বর) সকালে হাসপাতালে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে স্বামী, ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। সেখানে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ অনেক পুলিশ তার সঙ্গে কথা বলে। আসামিদের সঙ্গে তার পূর্বের কোনো বিরোধ ছিল না।

জেরার এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশীদ হাওলাদার নির্যাতনের শিকার নারীকে ‘দুর বেডি’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ সময় আদালত আইনজীবীকে ভাষার ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেন। তাৎক্ষণিক আইনজীবী ‘সরি’ বলেন।

মুক্তির চার বছর পরও হইচই প্রভাস-আনুশকার ‘বাহুবলী’ নিয়ে। তবে এবার ভারতে নয়, যুক্তরাজ্য। গত শনিবার লন্ডনের রয়্যাল আলবার্ট হলে দর্শকেরা দেখলেন ‘বাহুবলী-দ্য বিগিনিং’। ভারতের দক্ষিণি সিনেমার পরিচালক এস এস রাজামৌলি পরিচালিত সুপারহিট এ সিনেমা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন সব বয়সের মানুষ।

ভারতের সিনেমা ইতিহাসে মাইলস্টোন গড়া ‘বাহুবলী’কে নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে রাখতে হবে। ‘বাহুবলী’র হাত ধরে শুধু ভারত নয়, পুরো বিশ্বে পরিচিত হয়ে যান প্রভাস, আনুশকা, তামান্না ও পরিচালক এস এস রাজামৌলি।


রাজামৌলির সুপারহিট সিনেমা ‘বাহুবলী-দ্য বিগিনিং’ দেখতে লন্ডনের রয়্যাল আলবার্ট হলে ভিড় জমিয়েছিলেন সব বয়সের মানুষ। ছবি: টুইটার
রাজামৌলির সুপারহিট সিনেমা ‘বাহুবলী-দ্য বিগিনিং’ দেখতে লন্ডনের রয়্যাল আলবার্ট হলে ভিড় জমিয়েছিলেন সব বয়সের মানুষ।
এই প্রথম ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষার সিনেমা দেখানো হল লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে। আর তাতেই আবারও বাজিমাত ‘বাহুবলী’র। মহেশমতি সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের বর্ণময় কাহিনি দেখে করতালি দিয়ে ‘বাহুবলী’কে অভিবাদন জানালেন ব্রিটেনের সিনেমাপ্রেমী মানুষ। সিনেমা শেষে উঠে দাঁড়িয়ে নির্মাতা ও কলাকুশলীদের সম্মান জানালেন, কুর্নিশ করলেন দর্শকেরা। হাততালি যেন থামতেই চাইছিল না রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে।

‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’-এর বিশেষ স্ক্রিনিং উপলক্ষে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক রাজামৌলি, অভিনেতা প্রভাস-রানা দাগ্গুবতী, অভিনেত্রী আনুশকা শেঠি। বিদেশের মাটিতে ভারতের শিল্পের এমন কদর দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। ১৪৮ বছরের পুরানো রাজকীয় রয়্যাল অ্যালবার্ট হল সেই ধারাই ভাঙল ‘বাহুবলী’র মাধ্যমে।


ভারতে সর্বাধিক ব্যবসা করা ১০টি সিনেমার তালিকায় আছে বাহুবলী। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। বিদেশের মাটিতেও জনপ্রিয়তার নিরিখে শীর্ষে ছিল বাহুবলী। এই ছবির দ্বিতীয় পার্ট ‘বাহুবলী ২’ও সুপার ডুপার হিট।

লন্ডন পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে আগেই বার্তা দিয়েছিলেন পরিচালক। রাজামৌলি লিখেছিলেন, ‘লন্ডনে বাহুবলীর রয়্যাল রিইউনিয়ন। রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে আজকের সন্ধ্যায় বাহুবলীর দেখার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে মুখিয়ে রয়েছি।’

রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে ছবির স্ক্রিনিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাকগ্রাউন্ডে লাইভ অর্কেস্ট্রা পারফর্ম করেন ছবির সংগীত পরিচালক এম এম কিরাবানি এবং তাঁর দল।

রয়েল আলবার্ট হল লন্ডনের বিখ্যাত একটি দাতব্য কনসার্ট হল। ১৮৭১ সালে ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়া এ কনসার্ট হলটি উদ্বোধন করেন। ইংল্যান্ডের সংস্কৃতির অনেক কিছুকে প্রতিনিধিত্ব করে এই হল। প্রতিবছর চার শতাধিক অনুষ্ঠান হয় এ হলে। এটি একটি বেসরকারি কনসার্ট হল। হলটিতে পাঁচ হাজারে বেশি আসন রয়েছে। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও হিন্দুস্তান টাইমস

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ নিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরে রণক্ষেত্রে ঘটনায় ‘তৌহিদি জনতা’র ছয় দফা দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন।


সোমবার বেলা ১১টায় দাবি মেনে নেয়ায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

এর আগে রোববার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাক করা ফেসবুক আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট’ দেয়া কেন্দ্র করে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার এসআই আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, যার মামলা নং-১৮, তারিখ: ২০-১০-২০১৯।

ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ সাব্বির হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো উপজেলায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন চিকিৎসাধীন। পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কাউসার জানান, ফেসবুকে এ কটূক্তির ঘটনায় হিন্দু বিপ্লব চন্দ্র শুভ, মো. শাকিব ও লিমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা (নং ১৭) দেয়া হয়। এ মামলায় তাদের ভোলা কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ শেষে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে গুলি, টিয়ারশেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

সংঘর্ষে আহত ৪৫ জনকে ভোলা সদর ও ৩০ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাকিদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের টহল জোরদার করার পর বিকালেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

দাবানলে জ্বলতে থাকা পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত আমাজনকে রক্ষায় ৪২ কোটি টাকা (৫০ লাখ ডলার) দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।


বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিরহরিৎ এই বনাঞ্চলকে বাঁচাতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি-সেভেন যে অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, হলিউডের এ তারকার ঘোষিত অর্থ তার এক-চতুর্থাংশ।

পরিবেশবাদী ডিক্যাপ্রিও তার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান আর্থ অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে আমাজন রক্ষার তহবিল জোগাবেন। খবর বিবিসি।

জি-সেভেন ব্রাজিলসহ আমাজনকেন্দ্রিক দেশগুলোকে দুই কোটি ডলার দিলেও ডিক্যাপ্রিও তার ৫০ লাখ ডলার কোনো সরকারকে দেবেন না।

আমাজন বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে লিওনার্দোর দেয়া অর্থ পাবে সেখানকার কিছু স্থানীয় সংগঠন ও আদিবাসী গোষ্ঠী, যারা এই বনের মূল রক্ষক বলে মনে করেন তিনি।

কো-অর্ডিনেশন অফ দি ইনডিজিনাস অর্গানাইজেশনস অফ দ্য ব্রাজিলিয়ান আমাজনসহ আরও চারটি সংগঠন পেতে যাচ্ছে এই অর্থ সহায়তা।

ঘরের মাঠে প্রতিটি দলই শক্তিশালী। বিশেষ করে ভারত। বিরাট কোহলিরা নিজেদের উঠানে সবশেষ ৩২টি টেস্ট ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে হেরেছে। একটা সময়ে টেস্ট র্যাংকিংয়ে শীর্ষে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অথচ সেই দলটিই ভারত সফরে পাত্তাই পাচ্ছে না।


ভারতের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের টেস্ট সিরিজে নাজুক পরিস্থিতি দেখে সাবেক তারকা ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষণ ও গ্রায়েম স্মিথ ধারাভাষ্যে বলেছেন, ভারতীয় দলকে তাদের মাঠে হারাতে হলে বিশ্ব একাদশ সাজাতে হবে। তাহলেই কোহলিদের ভারতের মাঠে হারানো সম্ভব।

আর সেই বিশ্ব একাদশে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক স্মিথ ও ভারতীয় সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান লক্ষণ বাছাই করেছেন বাংলাদেশ সেরা দুই ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানকে। শুধু সাকিব তামিমই নন! ভারতকে হারাতে বিশ্ব একাদশে যে সব ক্রিকেটারকে নিতে হবে তাও বাতলিয়ে দিয়েছেন লক্ষণ ও স্মিথ।

ভারতের মাঠে কোহলিদের হারাতে লক্ষণ-স্মিথদের সাজানো বিশ্ব একাদশে রয়েছেন- ডিন এলগার (দক্ষিণ আফ্রিকা), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড), স্টিভ স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া), বাবর আজম (পাকিস্তান), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), কুইন্টন ডি কক (দক্ষিণ আফ্রিকা), প্যাট কামিন্স (অস্ট্রেলিয়া), জফরা আর্চার (ইংল্যান্ড), নাথান লায়ন (অস্ট্রেলিয়া)।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের নামে থাকা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। হামলার দায় স্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়’ উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁরা এই হামলা চালিয়েছেন।

আজ রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় চার নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
দাবি অনুযায়ী আহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান শাওন, গত ডাকসু নির্বাচনে ওই হলের হল সংসদে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তারেক হাসান মামুন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মামুন খান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ নাঈম।

ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা বলেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের যে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট ছড়ানো হয়েছে, তা ভুয়া। কারণ তাঁর আইডি হ্যাক হয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলন শেষে মধুর ক্যানটিনে গিয়ে বসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সেখানে তখন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একটি সংবাদ সম্মেলন হচ্ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন শেষে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দিকে তেড়ে যান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপসম্পাদক আল মামুন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের কয়েকজন অনুসারী। ক্যানটিনের বাইরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর রড ও বাঁশ নিয়ে হামলা চালান তাঁরা। ছাত্রদলের দুজন নারী সদস্যকেও লাঞ্ছিত করা হয়। তাঁরা হলেন কানেতা ইয়া লামলাম ও মানসুরা আলম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
জানতে চাইলে হামলার দায় স্বীকার করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাদের পূর্বসূরিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে আর তাঁরা বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করেছি। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে আমরা কোনো ছাড় দেব না।’

গতকাল শনিবার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে থাকা একটি অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। তবে ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে ফেসবুকে তাঁর কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। সম্প্রতি ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার পর তাঁর ও ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। এ নিয়ে তাঁরা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। নিজেদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কথা জানিয়ে ৫ অক্টোবর ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান ও ৭ অক্টোবর সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পৃথক জিডি করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আজ রোববার ছাত্রদলের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলো
এদিকে দুপুরে মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলকে মধুর ক্যানটিনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি ঔদ্ধত্যপূর্ণ। জড়িতরা যে ছাত্র সংগঠনেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার প্রতিবাদে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মুসল্লিদের একটি সমাবেশে পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশসহ দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।


রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোরহানউদ্দিন সদর ঈদগাহ জামে মসজিদ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মাহফুজুর রহমান পাটোয়ারী (২৩), মিজান (৩০), মাহবুর রহমান (৩০) ও শাহিন (২৫)। নিহতদের বাড়ি একই এলাকায়। নিহত মাহফুজ বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিরাজ পাটোয়ারীর ভাই।

এর আগে উপজেলার কাচিয়া ২নং ওয়ার্ডের বিপ্লব নামে এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার ওই যুবকসহ আরও একজনকে আটক করে পুলিশ।

স্থানীয় জনতার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার প্রতিবাদে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মুসল্লিদের পূর্ণনির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশে একত্রিত হন মুসল্লিরা।

এ সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ বাধা দেয় ও তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁদানি গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে তাদের চারজন নিহত হন। এ ছাড়া তাদের শতাধিক লোক আহত হয়।

আহতদের বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে পুলিশের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে সব কার্যক্রম পরিচালিত করছেন। হঠাৎ করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তাদের ধাওয়া দেয়া হয়।


আমদানি করা মাছের খাবারে শূকরের উপাদান আছে কী না তা সায়েন্স ল্যাবরেটরির মাধ্যমে পরীক্ষা করে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আজ এ সংক্রান্ত একটি আদেশ প্রদান করেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আমদানিকৃত মাছের খাদ্যে শূকরের উপাদানের কোনো অস্তিত্ব আছে কি-না তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে


ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। নিহত চারজনের মধ্যে দুইজন ছাত্র বলে জানা গেছে।

আজ রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদরের বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বিপ্লব নামে এক যুবকের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক পোস্টটির জেরে রবিবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন স্থানীয়রা। তারা বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী কুপওয়ারা জেলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২ ভারতীয় সেনা এবং এক বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। প্রেস ট্রাষ্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

পিটিআই জানিয়েছে, ওই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও তিনজন। জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কুপওয়ারার তাংঘার সেক্টরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। গোলাগুলিতে সেখানকার দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি’ ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রিত্ব পেলে মেনন নির্বাচন নিয়ে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করতেন কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।


রোববার সচিবালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

একাদশ নির্বাচন ভোটারবিহীন হয়েছে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এই মন্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উনি এতদিন পর একথা বলছেন কেন? তিনি মন্ত্রী হলে কি এমন কথা বলতেন? মন্ত্রিত্ব পেলে কি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৪ দলের বৈঠকে মেননকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

শনিবার বরিশালে এক অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দেয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪দলীয় জোটের অন্যতম নেতার মুখে এমন মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়েছে।

অশ্বিনী কুমার টাউন হলে শনিবার ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা কমিটির সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি ও প্রধানমন্ত্রীসহ যারা নির্বাচিত হয়েছি আমাদেরকে দেশের কোনো জনগণ ভোট দেয় নাই। কারণ ভোটাররা কেউ ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে নাই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, আজ দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে সরকার। সরকার দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল করেছে, দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের নামে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।

উন্নয়নের নামে আজ দেশের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে সরকার। তাই কেউ মুখ খুলে মত প্রকাশ করতে পারে না।

রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, বিগত সরকারের প্রধান খালেদা জিয়া ও তার হাওয়া ভবনে বসে দুর্নীতি লুটপাট করার কারণে কেউ সাজা ভোগ করছে, অন্যরা পালিয়ে গেছে।

বর্তমানে সরকারে থেকে যারা দুর্নীতি লুটপাটসহ বিদেশে অর্থ পাচার করছে তাদের বিচার করবে কে? কে নেবে তাদের অর্থের হিসাব?

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের আড়াল করে যতই শুদ্ধি অভিযান চালান, তাতে কিছুই হবে না। আমাকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন।

আমাকে মন্ত্রিত্ব দিতে চেয়েছেন। প্রত্যাখ্যান করেছি, তাদের প্রয়োজনে আমার মন্ত্রিত্বের জন্য কোনো ক্ষোভ নেই। ওয়ার্কার্স পার্টি সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছে এবং সবসময় বলে যাবে।

১৪ দলে আছি, আমরা সবসময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব। নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।

বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলুর সভাপতিত্বে জেলা সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরো সদস্য আনিছুর রহমান মল্লিক।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে পাওয়া
***********
আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি তামান্না নুসরাত বুবলীর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনায় সকল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে জালিয়াতির বিষয়টি অনুসন্ধানে কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী ঢাকায় থাকলেও তার হয়ে নরসিংদীতে বিএ পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রক্সি প্রার্থীরা। এ পর্যন্ত আটজন ছাত্রী এমপির হয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এমন চিত্র উঠে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এ সব বিষয়ে কথা বলতে নরসিংদী সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি তামন্না নুসরাত বুবলীকে ফোন করেলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নরসিংদীর সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী।
নরসিংদী সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান আকন্দ বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার তামান্না নুসরাত বুবলীর সকল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তাকে পরীক্ষা থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে জালিয়াতির বিষয়টি অনুসন্ধানে কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আর্থিক সংকটে এবার সত্যিই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ সদর দফতর। চরম আর্থিক সংকটের কথা আগেও জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।


এমনকি হুশিয়ারিও দিয়েছিলেন, আর্থিক সংকটের কারণে সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এবার সে আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে।

শুক্রবার এক টুইটার বার্তায় সংস্থাটি জানায়, অর্থ সংকটের কারণে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতর দু’দিন (শনিবার-রোববার) বন্ধ থাকবে।

ওই টুইট বার্তায় সংস্থাটি জানায়, জাতিসংঘ বর্তমানে চরম অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়টি ১৯ ও ২০ অক্টোবর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

টুইট বার্তায় অবশ্য সদস্য দেশগুলোর দিকে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে জাতিসংঘ। বলা হয়েছে, আপনার দেশ কি এখনও জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থ প্রদান করছে।

এর আগে অর্থ সংকটের কারণে গত সপ্তাহে সদর দফতরের ভেতরে থাকা এসি ও এসক্যালেটরগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। আর এবার পুরো সদর দফতরই দু’দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি।

সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে পাওয়া অর্থের ওপরই নির্ভরশীল জাতিসংঘ। রাষ্ট্রগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করার কারণেই তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, গত এক দশকে এমন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হয়নি জাতিসংঘকে। ৬০টি দেশের কাছ থেকে জাতিসংঘের প্রাপ্য অর্থ এখনও আদায় করা যায়নি। ফলে চলতি অর্থবছরে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ঘাটতি দেখা গেছে।

বাংলাদেশে খেলতে আসছেন ‘নতুন মালিঙ্গা’!
[ দৈনিক “বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে পাওয়া”]
চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আর এই সফরকে সামনে রেখে ঘোষিত স্কোয়াডে ডাক পেলেন ‘নতুন মালিঙ্গা’ খ্যাত সাড়া জাগানো ১৭ বছর বয়সী পেসার মাথিশা পাথিরানা।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি চার দিনের ম্যাচ ও পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

তাই শুক্রবার পৃথক দুটি স্কোয়াড ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। দুই স্কোয়াডের নেতৃত্বেই আছেন নিপুণ ধনঞ্জয়া।
২৬ অক্টোবর বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ চার দিনের ম্যাচের দল

নিপুন ধনঞ্জয়য়া(অধিনায়ক), ডব্লিউ.এ.সি.কে উইকরামাসিংহে, অভিষেক কাহাদুওয়ারাচ্চি, রাভিন্দু রাসান্থা, গমেজ গ্যামেজ সনাল দিনুশা, চিহান কালিন্দু (উইকেটরক্ষক), কাভিষকা লক্ষণ গ্যামেজ, দুনিথ ওয়েল্লালাগে, রাভিন ডি সিলভা, অভিষকা লক্ষণ, দিলশান মাদুশঙ্কা, চামিন্দু পিয়ুমাল উইজেসিংহে, রুভিন পেইরিস, আমশি ডি সিলভা, অভিষকা পেরেরা (উইকেটরক্ষক) ও মাথিশা পাথিরানা।

শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে ম্যাচের দল

নিপুন ধনঞ্জয়য়া (অধিনায়ক), নাভদ পারানাভিতানা, মোহাম্মদ শামাজ (উইকেটরক্ষক), অভিষেক কাহাদুওয়ারাচ্চি, রাভিন্দু রাশান্থা, অভিষকা থারিন্দু, চামিন্দু পিয়ুমাল উইজেসিংহে, রহান সঞ্জায়া, কাভিন্দু নাদিশান, ইয়াসিরু রদ্রিগো, দিলশান মাদুশঙ্কা, ইহান কালিন্দু (উইকেটরক্ষক), আমশি ডি সিলভা, সাদুন থারাকা তিলকরত্নে ও গ্যামেজ সনাল দিনুশ।

বিডি প্রতিদিন/কালাম

একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুসারে বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। খবরটির উৎস প্রধানত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)। গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে এ সংস্থা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও শিল্প বণিক সমিতি বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, যেকোনো বিদেশি বাংলাদেশে কাজ করতে চাইলে বিডা থেকে ওয়ার্ক পারমিট নেওয়ার বাধ্যতামূলক বিধান রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন বেসরকারি এমনকি কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে লক্ষণীয় হয় যে, এ ধরনের প্রায় ৫ লাখ বিদেশি বাংলাদেশে কাজ করছেন। অথচ বিডা থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে ১ লাখ। তাঁদের আয়ের ওপর সরকার যথাযথভাবে করও পাচ্ছে না। কাউকে বেতন দেওয়া হচ্ছে বিদেশে। আবার এ দেশেও অনেককে ডলারে বেতন দেওয়া হয়। অথচ আয়কর বিবরণীতে তাঁরা এটা টাকার অঙ্কে দেখান। আর নিবন্ধনহীনরা তো কিছুই দেখান না। আরও বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া যায় যে সরকারের বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি কর্মী নিয়োগে অনেক ক্ষেত্রে বিডা থেকে অনুমতি নেওয়া হয় না। এভাবে এ দেশে কাজ করছেন ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির লোকেরা। বলা হয়, এঁরা দক্ষ কর্মী। আমাদের দেশে তাঁদের মানের কর্মী পাওয়া যায় না। সর্বাধিকসংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত, এটিও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। নিয়োগদাতাদের মতে, বাংলাদেশে ফ্যাশন ও ডিজাইনিং, ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা, বিপণন, সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি খাতে দক্ষ কর্মীর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণ করতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে উন্নয়ন, উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখতে হচ্ছে। তবে তাঁরা কি বাধ্যকরী অনুমোদনপত্র নেবেন না? দেবেন না যথাযথ আয়কর?

প্রথমে প্রয়োজনীয়তার দিকটি দেখা যাক। সে প্রতিবেদনেই উল্লেখ আছে আমাদের দেশে প্রতিবছর ২৫ হাজার তরুণ–তরুণী স্নাতক হচ্ছেন। তাঁরা কর্মসংস্থান চান। এটা ঠিক, আমরা জেনে না জেনে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় গলদ সৃষ্টি করেছি। যদিও মেধাবী ছেলেমেয়ে বেশ কিছু আছে, তাঁদের অনেকেই আবার বিদেশে চলে যান। তাই বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতা করার শ্রমশক্তিতে আমরা পিছিয়েই আছি। ফলে বিদেশি বিশেষজ্ঞনির্ভরতা আমাদের রয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, কয়েকটি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এজেন্সি ২০০ বিদেশি নাগরিককে নিয়োগ দিয়েছে। এ কাজটি কি কোনো উন্নত প্রযুক্তি বা ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়ে? স্বাধীনতার পূর্বকালেও বাঙালিরা ক্লিয়ারিং ফরওয়ার্ডিংয়ের কাজ করে আসছিল। কাজের ব্যাপকতা বেড়েছে। তেমনি বাজারে সরবরাহ বেড়েছে কর্মী। ধারণা করা যায়, তাদের এ নিয়োগে বৈধ কোনো অনুমতি নেই। মনে হয় এ ধরনের কাজে আরও বিদেশি আছে।

চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন নিমতলা এলাকায় ঘরের ভেতর থেকে বাবা-মেয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


নিহতরা হলেন- মো. আরিফ (৩২) ও তার চার বছর বয়েসী মেয়ে বিবি ফাতেমা।

বন্দর থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী যুগান্তরকে জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে নিমতলার বুচুইক্যা কলোনির তিনতলা বাসার নিচতলার বাসায় তাদের লাশ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, দুজনের গলাতেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মেয়ে বাসার খাটে এবং তার বাবার লাশ ফ্লোরে পড়ে ছিল।

ওসি বলেন, বুচুইক্যা কলোনির একটি ভবনের নিচতলার একটি বাসায় আরিফ পরিবার নিয়ে থাকতেন। আরিফ পেশায় দিনমজুর ছিলেন।

এখনও হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

বলিউডের পরিবারগুলোর মধ্যে কাপুর পরিবার অন্যতম। চলনে-বলনে তারা যে আর পাঁচ জনের মতো হবেন না, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু কাপুর পরিবারের মেয়ে হয়েও কারিশ্মা কাপুর এবং কারিনা কাপুর নাকি লোকাল ট্রেনে, স্কুল বাসে চেপে স্কুল-কলেজে যেতেন! বিশ্বাস হয়? যদিও এমনটাই দাবি করেছেন কারিশ্মা কাপুর।

এক সাক্ষাৎকারে কারিশ্মা বলেন, “ছোট থেকেই খুব সাধারণভাবে বড় হয়ে উঠেছি আমরা। আমি আর বেবো (করিনা কাপুর) স্কুলবাসে স্কুলে যেতাম। কলেজও গিয়েছি লোকাল ট্রেনে চেপে।” মা ববিতার প্রসঙ্গ টেনে কারিশ্মা যোগ করেন, “মা-ই শিখিয়েছে কী ভাবে শিকড়ের কাছাকাছি থাকতে হয়। মা জানত অভিনয়ের প্রতি আমার ভালবাসার কথা। সব সময়েই আমাকে উৎসাহ দিয়ে এসেছে মা।”

‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ স্থগিতের ব্যাপারে ভারতকে সতর্ক করে যা বলল পাকিস্তান
ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ স্থগিত করার ব্যাপারে ভারতকে সতর্ক করে পাকিস্তান বলেছে, সিন্ধু নদীর পানি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলে তাকে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করবে পাকিস্তান।

ভারতের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ পদক্ষেপের জবাব দেয়ার অধিকার ইসলামাবাদ রাখে বলেও মন্তব্য করেছে দেশটি।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সিন্ধু নদের পানির কোনো অংশ পাকিস্তানকে দেয়া হবে না। তার এ বক্তব্যের জবাবে পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ড. মুহাম্মাদ ফয়সাল এই বিবৃতি দিলেন।
বৃহস্পতিবার সপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে যে চুক্তি হয়েছিল তার অধীনে পাকিস্তান বিনা বাধায় পশ্চিম অঞ্চলের তিনটি নদীর পানির অধিকার রাখে। এসব নদীর পানি ভিন্নখাতে নেয়ার যে কোনো ধরনের ভারতীয় প্রচেষ্টাকে পাকিস্তান আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করবে এবং এই হীন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যথাযথ জবাব দেয়ার অধিকার ইসলামাবাদ রাখে।

ড. মুহাম্মাদ ফয়সাল বলেন, ভারতের নেতৃত্বের কাছ থেকে এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে এই কথা পরিষ্কার হয় যে, ভারত একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন আগ্রাসী রাষ্ট্র যাদের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি কোনো সম্মান নেই।

তিনি আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদির এই ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সারাবিশ্বের চোখ খুলে যাওয়া উচিত যে, উগ্রবাদী মোদি সরকার হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া এবং সারা বিশ্বের শান্তির জন্য একটি বিরাট বড় হুমকি।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পানি বন্টন চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় ভারতে উৎপন্ন সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানিতে বিনা বাধায় প্রবেশাধিকার পায় পাকিস্তান। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় রাবি, বিয়াস ও সুলতেজ নদীর পানিতে একই ধরনের প্রবেশাধিকার পায় ভারত।

মঙ্গলে কিংবা চাঁদে গিয়ে বসবাস করার বাসনা অনেকেরই রয়েছে। তাদের জন্য এবার সুখবর শোনাল নাসা। মঙ্গলে কিংবা চাঁদের মাটিতে ফসল ফলানো সম্ভব বলে জানিয়েছে মার্কিন এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ফলে ভবিষ্যতে যদি মানুষ সেখানে বাসস্থান গড়ে, তাহলে খাবারের সংস্থান করা যাবে।

মঙ্গলের মাটির নমুনায় এই পরীক্ষা করে দেখেই বিজ্ঞানীরা এমন সিদ্ধান্তে এসেছেন। ১০ রকমের ফসল ফলিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টমেটো, মটরশুঁটি, শাক, মূলা, পালংশাক, পিঁয়াজ জাতীয় গাছ ইত্যাদি।

উইগার ওয়ামেলিংক নামে এক গবেষক জানিয়েছেন, ‘আমরা যখন দেখেছিলাম মঙ্গলের মাটির নমুনায় জন্মানো টমেটোটা ক্রমশ লাল হচ্ছে, আমরা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম।’ পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এগোনোটা যে সুবিধা হবে, সেটা বুঝে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।
১০টি ফসলের মধ্যে ৯টিই সফলভাবে ফলেছে। সেখান থেকে খাবারের অংশ তুলেও নেওয়া হয়েছে। শুধু পালং শাক খুব ভালোভাবে ফলেনি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষ যদি ভবিষ্যতে মঙ্গলে বাস করতে চায়, তাহলে তাদের নিজেদেরই ফসল ফলাতে হবে।

সম্প্রতি নাসার এক সাবেক বিজ্ঞানী দাবি করেন, ৪০ বছর আগেই হয়ত আমরা প্রাণের সন্ধান পেয়েছি মঙ্গলে।

১৯৭৬ সালে মঙ্গলে একটি বাইকিং ল্যান্ডার পাঠিয়েছিল নাসা। সেসময় প্রিন্সিপ্যাল ইনভেস্টিগেটর ছিলেন গিলবার্ট ভি লেভিন নামে ওই বিজ্ঞানী। তিনিই সম্প্রতি আমেরিকার একটি জার্নালে ওই অভিযান সংক্রান্ত একটি আর্টিকল লেখেন। সেখানেই তিনি লিখেছেন, লাল গ্রহে প্রাণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল তখনই।

ওই পরীক্ষার নাম ছিল ‘লেবেলড রিলিজ।’ মূলত মঙ্গলের মাটি পরীক্ষা করার জন্যই পাঠানো হয়েছিল ওই ল্যান্ডার। তখনই নাকি সব প্রশ্নের উত্তর মোটামুটিভাবে পাওয়া গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন লেভিন।

জানা গেছে, ওই পরীক্ষায় মঙ্গলের মাটিতে কিছু পৌষ্টিক উপাদান পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, যদি মঙ্গলে প্রাণ থাকত তাহলে তারা খাবার খেয়ে বায়বীয় পদার্থ বর্জন করত, যা তাদের পরিপাকক্রিয়ার প্রমাণ দিত। সেই প্রমাণ নাকি তখন ওই ল্যান্ডারের রেডিওঅ্যাকটিভ মনিটরে পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বিজ্ঞানী।

তার দাবি, ওই মাটি নিয়ে নাসা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করে দেখেছিল। দু’বারই নাকি প্রাণের প্রমাণই উঠে এসেছিল।


সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্রেক্সটাইলের সুতার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার লিটন আহাম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখানে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন নেভাতে বিলম্ব হচ্ছে।

আগামী ২৫ অক্টোবর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


এ নির্বাচনে সহসভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন নব্বইয়ের দশকের মার্শাল আর্ট হিরো মাসুম পারভেজ রুবেল।

মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল থেকে তিনি এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে এরই মধ্যে নানা বিতর্কে জড়িয়ে গেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এ দ্বিবার্ষিক নির্বাচন।

ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে এফডিসিতে দুপক্ষের প্রার্থীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে গেছে।

ডিএ তায়েব ও চিত্রনায়িকা মৌসুমীর একই প্যানেলে নির্বাচন করার কথা থাকলেও এখন কেউ পাশে নেই তার। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মৌসুমী।

এ বিষয়ে রুবেলকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েক দিন বাইরে ছিলাম। বিষয়গুলো আমি জানি না।

প্রার্থী মৌসুমীর অভিযোগ, রুবেলের প্যানেলের সদস্যরা তাদের প্যানেলের সদস্যদের ভয়ভীতি ও বাধা পেয়ে এবার কোনো প্যানেল দিতে না পেরে বাধ্য হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

একজন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা হয়ে কি তিনি কিছু করতে পারতেন? এমন প্রশ্ন ছোড়া হয় রুবেলকে।

জবাবে মৌসুমীর এসব অভিযোগকে অস্বীকার করে রুবেল পাল্টা প্রশ্ন করেন, মৌসুমীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- যারা নির্বাচনে তাকে নামিয়ে দিয়েছে, তারা কেন আজ তার সঙ্গে নেই? তারাই তো তাকে এই যুদ্ধে নামিয়ে দিয়ে পেছন থেকে কেটে পড়েছে। এটা অবশ্যই খারাপ কাজ করেছে তারা। আমি এখানে কী করতে পারি? রুবেল বলেন, একটি বিশেষ কারণে মৌসুমীর প্যানেলের ডিএ তায়েব দাঁড়াতে পারেনি। তাই বলে পুরো প্যানেলে ২১ জনের মধ্যে একজনকেও পেলেন না মৌসুমী?

ডিএ তায়েব কেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন প্রশ্নে রুবেল বলেন, এর ভালো উত্তর ভাইয়া (সোহেল রানা) দিতে পারবেন।

তিনি যোগ করেন, ডিএ তায়েব একজন সরকারি কর্মকর্তা। আমি যতদূর জেনেছি ডিএ তায়েবের এ নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা শুনে ভাইয়া এক ইন্টারভিউয়ে বলেছিলেন- তায়েবের নির্বাচনের রাস্তা নেই। সরকারি কোনো কর্মকর্তা এসব নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে নাকি নিয়ম আছে। তাই তিনি নির্বাচন করছেন না হয়তো। ব্যাপারটি নিয়মের সঙ্গে জড়িত। ভয়ভীতি দেখিয়ে মৌসুমীকে একা করে ফেলেছি এমন অভিযোগ এনে শ্রেফ আমাদের কলঙ্কিত করা হচ্ছে।

রুবেল আরও বলেন, মৌসুমী একজন শ্রদ্ধেয় অভিনেত্রী, একজন সুপারস্টার। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাকে এভাবে নির্বাচনের মতো যুদ্ধে নামিয়ে দিয়ে যারা পেছন থেকে সরে গেলেন, তারা খুব খারাপ কাজ করেছেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রসঙ্গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদি নির্বাচন। ১ অক্টোবর ২১ পদের বিপরীতে প্যানেলটি ৩০টি মনোনয়ন ফরমও তুলেছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, মৌসুমী-ডিএ তায়েব প্যানেল ভেঙে গেছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে অন্যান্য পদে তারা কোনো প্রার্থী পাচ্ছেন না। প্যানেলের সঙ্গে যারা ছিলেন, মৌসুমী ও ডিএ তায়েবকে যারা উৎসাহিত করে আসছিলেন, সেসব উৎসাহদাতা শিল্পীরা সরে পড়েছেন।

অপরাধ প্রমাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে বিশ্বব্যাপী। অপরাধী শনাক্তকরণে আঙুলের ছাপ, অডিও রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ, ডিএনএ টেস্টের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। অনেক মুসলিম দেশের আদালত এসব আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে মামলার রায় দিচ্ছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে শরিয়তের অবস্থান কী? শরিয়তের মূলনীতি হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কি কাউকে অপরাধী বলা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলামিক স্কলারদের অভিমত হলো, অপরাধ প্রমাণে আধুনিক প্রযুক্তির সহযোগিতা নেওয়া বৈধ, তবে এসব প্রযুক্তির ওপর শতভাগ নির্ভর করা বা শুধু প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাউকে অপরাধী প্রমাণের সুযোগ নেই। কেননা এসব প্রযুক্তি যত উন্নত ও নিখুঁতই হোক না কেন তা মানুষের হস্তক্ষেপ, অন্যায় ব্যবহার ও বিভ্রাটের সম্ভাবনার ঊর্ধ্বে নয়। মানুষ চাইলেই এসব প্রযুক্তির ফলাফলকে প্রভাবিত, এমনকি পাল্টে দিতে পারে।

শরিয়তে ব্যভিচার প্রমাণের পদ্ধতি
ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণের জন্য ইসলাম দুটি সূক্ষ্ম শর্তারোপ করেছে, যার কোনোটি পাওয়া না গেলে অপরাধ প্রমাণিত হবে না। এক. স্বীকারোক্তি। অপরাধী যখন স্বীকার করবে যে আমি এই অপরাধ করেছি। দুই. প্রমাণ। যখন চারজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ সাক্ষ্য দেবে যে তারা এই কাজ সংঘটিত হতে দেখেছে। মহানবী (সা.) অপরাধীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে শাস্তি দিয়েছেন। তিনি স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই গামেদি গোত্রীয় নারীর বিরুদ্ধে শাস্তির রায় দেন। চারজন সাক্ষীর বিষয়টি কোরআনের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তার বিরুদ্ধে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৫)

আধুনিক প্রযুক্তি কি সাক্ষীর বিকল্প হতে পারবে?
মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিকহ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, আধুনিক বৈজ্ঞানিক মাধ্যম, যেমন—ডিএনএ টেস্ট, অডিও রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ নিশ্চয়তা প্রদানকারী দলিলের সমকক্ষ বিবেচিত হবে না। কেননা এসব মাধ্যম তথা প্রযুক্তিতে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইসলাম মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষত ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িত থাকায় এখানে শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই।

এ ছাড়া ইসলামী আইনবিজ্ঞানের (ইলমে ফিকহ) মূলনীতি অনুযায়ী, যেখানে কোনো বিষয়ে কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ বিদ্যমান, সেখানে ইজতেহাদের সুযোগ নেই। কেননা কোন প্রমাণের ওপর বিচারক নির্ভর করবেন এবং কোন দলিল কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নির্ধারণের অধিকার শুধু শরিয়ত প্রণেতাই সংরক্ষণ করেন। তাঁর প্রণীত বিধানে কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কারণে ধর্ষণের শাস্তি প্রমাণে ডিএনএ টেস্টসহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাকে সাক্ষীর বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

ইসলামী আইনবিজ্ঞানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি প্রদানে অন্য কোনো আইনের অনুকরণ বা ছায়া গ্রহণ করা হয়নি; বরং স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে অপরাধ প্রমাণের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বিচারককে বলে দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে কিছু কিছুু ক্ষেত্রে ইসলামী আইন বিচারককে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অবকাশ দিয়েছে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত এই ফতোয়ায় ড. আবদুল ফাত্তাহ ইদরিস, যিনি ফিকহ বিভাগের প্রধান এবং রাবেতা আল আলম আল ইসলামীর ফিকহবিষয়ক কমিটির সদস্য, তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই ব্যভিচার একটি জঘন্য অপরাধ। শরিয়ত তার কঠোরতম শাস্তির কথা বলেছে। কোনো সন্দেহ নেই, ডিএনএ টেস্ট ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণে শক্তিশালী উপায় বা মাধ্যম। তবে শুধু এই মাধ্যম (ডিএনএ) ব্যভিচারের শাস্তি প্রমাণে যথেষ্ট নয়। এ জন্য ধর্ষণকারী বা ধর্ষিতার স্বীকারোক্তি প্রয়োজন হবে। এটি শরয়ি সাক্ষ্যের বিকল্পও হতে পারবে না। ডিএনএ একটি অপ্রত্যক্ষ প্রমাণ হওয়ায় আইনের দৃষ্টিতে তা দুর্বল। বিশেষত ইসলামী দণ্ডবিধিতে যখন বলেছে, ‘সন্দেহ হদ (শাস্তি) প্রয়োগকে বাধা দেয়।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সন্দেহ হলে তোমরা হদ প্রতিহত করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৪২৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে কারো ওপর হদ প্রয়োগ করেননি। তিনি ব্যভিচারী ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হদ প্রয়োগ করেছেন।

ডিএনএ বিভ্রান্তির একটি উদাহরণ
ইসলামী আইনজ্ঞ আলেমরা বলেন, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির নসব বা বংশধারা প্রমাণিত হলো। তার পরও এখানে ব্যভিচার প্রমাণিত না-ও হতে পারে। কেননা নারীর জরায়ুতে পুরুষের বীর্য শারীরিক মিলন ছাড়াও প্রবেশ করতে পারে এবং তার মাধ্যমে নারীর গর্ভধারণও সম্ভব। যেমন—পুরুষের বীর্য লেগে আছে এমন কাপড় নারী পরিধান করলে তা ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় তার জরায়ুতে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের সঙ্গে ব্যক্তির ডিএনএর মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। অথচ অভিযুক্ত নারীর সঙ্গে তার শারীরিক কোনো মিলন হয়নি। বর্ণিত অবস্থায় নারী বা পুরুষ কেউ শরিয়তের দৃষ্টিতে অপরাধী নয় এবং তাদের বিরুদ্ধে হদ বা দণ্ডবিধিও প্রয়োগ করা যাবে না। এ জন্য ইসলাম ডিএনএকে অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করলেও চূড়ান্ত প্রমাণ তথা শরয়ি সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেনি।

অপরাধ প্রমাণে প্রযুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য
আইনজ্ঞ আলেমদের অভিমত হলো, চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ না করলেও অপরাধ প্রমাণে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণ করা যাবে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণের ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য হলো, প্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে প্রযুক্তির মধ্যে যেহেতু সাক্ষ্যের সব শর্ত ও গুণাবলি পাওয়া যায় না, তাই শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা যাবে না। বরং তা অন্য প্রমাণাদিকে শক্তিশালী করবে এবং শরয়ি দলিলের দুর্বলতা দূর করবে। শুধু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নয়, বরং শরয়ি সাক্ষ্যও কোনো কোনো বিবেচনায় গ্রহণযোগ্যতা হারায়। কখনো তা গ্রহণ করা হয়, আবার কখনো গ্রহণ করা হয় না। আবার বিষয়ের বিবেচনায় সাক্ষী হওয়ার শর্তাবলি শিথিল করা হয়। যেমন—ব্যভিচার প্রমাণের জন্য সাক্ষীর যেসব গুণাবলি ও শর্ত প্রয়োজন, আকাশে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদানে সেসব গুণ ও শর্ত প্রয়োজন হয় না।

প্রযুক্তির ওপর শতভাগ আস্থা রাখা যায় না
শরিয়ত ডিএনএ, অডিও রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজসহ আধুনিক প্রযুক্তির ওপর শতভাগ নির্ভর করতে নিষেধ করেছে। কেননা তাতে সংশয়, সন্দেহ, বিভ্রাট ও বানোয়াট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিচে এমন কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হলো—

১. প্রযুক্তি প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে সক্ষম নয়। যেমন—কোনো স্থিরচিত্র বা ভিডিওতে এক মানুষের জায়গায় অন্য মানুষকে, একজনের অঙ্গের স্থানে অন্যজনের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। অথচ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না। বিকৃতি, রূপান্তর, পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজনের মতো আস্থা নষ্টকারী অনেক বিষয় এখানে রয়েছে।

২. আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী আবশ্যক করেছেন। কেননা এর সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যু ও সম্ভ্রমের প্রশ্ন জড়িত। সুতরাং এ ক্ষেত্রে এমন কোনো বিষয়কে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না, যার দ্বারা ব্যভিচারের চেয়ে ছোট অপরাধই প্রমাণিত হয় না।

৩. আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা মানুষের অপরাধ প্রমাণের পূর্বশর্ত হলো মানুষেরও গুপ্তচরবৃত্তি করা। অর্থাৎ পূর্ব থেকে প্রযুক্তি সেট করে না রাখলে তার দ্বারা অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আর গুপ্তচরবৃত্তি ও মানুষের একান্ত গোপনীয়তা নষ্ট করা ইসলামে হারাম। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা গুপ্তচরবৃত্তি কোরো না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

যেসব ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্ট অপরাধ প্রমাণে যথেষ্ট
শরিয়ত কখনো কখনো ডিএনএকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। তা হলো, যখন অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রায় প্রমাণিত হয়ে যায়। যেমন—দুজনের একজন অপরাধ স্বীকার করে নেয়। ড. ইদরিস বলেন, ‘ব্যভিচারের অপরাধে অভিযুক্ত দুই পক্ষের এক পক্ষ যখন অপরাধ স্বীকার করে নেয় এবং অন্যজন অস্বীকার করে, তখন ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অস্বীকারকারী অপরাধে যুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া এবং তার ভিত্তিতে শাস্তি প্রয়োগ বা রেহাই দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে যখন দুজনই অস্বীকার করবে, তখন ডিএনএ অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হবে না; বরং চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন হবে।’

রাবেতা আল ইসলামীর ফিকহবিষয়ক কমিটি তাদের সপ্তম অধিবেশনে (২০০২ খ্রি.) সিদ্ধান্ত নেয়, ‘যেসব ক্ষেত্রে অপরাধীর ওপর ইসলামী দণ্ডবিধি (হদ ও কিসাস) প্রয়োগের প্রশ্ন নেই, সেসব ক্ষেত্রে ব্যভিচারের অপরাধ তদন্ত ও তার ওপর নির্ভর করলে কোনো সমস্যা নেই।’

আছে ভিন্নমতও
আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাজমাউল বুহুসিল ইসলামিয়া’র সদস্য শায়খ মাহমুদ আশুরের মতে, ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান এতটাই উন্নত হয়েছে যে আমরা তার মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান ও নির্ভুল ফলাফল বের করতে পারি। সুতরাং ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে কোনো বাধা নেই। বিশেষত আমরা যখন শতভাগ নিশ্চিত যে এসব আধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণের ফলাফল নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য, তখন শুধু সন্দেহের কারণে তা গ্রহণযোগ্যতা হারাবে না। বরং আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এসব ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারি। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের সঙ্গে ইসলামের বিরোধ নেই।

তথ্যসূত্র : ওমর খালিদ ডটনেট, আশ-শারকুল আওসাত ও ইসলাম ওয়েব ডটনেট

23-Oct-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 1144 জন)
প্রশ্নঃ আমাজন জঙ্গলের আয়াতন প্রায় বাংলাদেশের ৪৭গুন (৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার )। ৯ টি দেশ জুড়ে এই অরণ্য বিস্তৃত। ধারনা করা হয় পৃথিবীর প্রায় ৭-১০ শতাংশ অক্সিজেন এই বন থেকেই উৎপন্ন হয়। সম্প্রতি এই বনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, এমনকি পৃথিবীতে অক্সিজের স্বল্পতা দেখা দিতে পারে, ইতোমধ্যেই পৃথিবীর উষ্ণতা পরিমাণের চেয়ে বেশি বাড়তে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের অভিমত এই গ্রহে টিকে থাকতে হলে, গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। ৯টি দেশের মধ্যে উক্ত জঙ্গলের বেশি ভাগ কোন দেশের অংশে পড়েছে?
(A) ব্রাজিলের অংশে
(B) আর্জেন্টিনার অংশে
(C) কানাডার অংশে