About HM. Shariful Islam

যাকাত ও সাদাকার বিবরণ:

১. আল্লাহর রাস্তায় যা কিছু দান করবে তা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যেই করবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্য যুক্ত করে নিজের পবিত্র আমলকে নষ্ট করবে না। এমন আকাঙ্খা কখনো রাখবে না যে, যাদেরকে দান করেছো তারা দানকারীর অনুগ্রহ স্বীকার করবে অথবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে, মুমিনগণ নিজের আমলের প্রতিদান বা পুরস্কার শুধু আল্লাহর নিকটই চায়। পবিত্র কুরআনে মুমিনের মনের আবেগ এভাবে প্রকাশ করেছেন:

“আমরা তোমাদের একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই খাওয়াচ্ছি, এজন্যে তোমাদের প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা চাইনা।”

২. লোকিকতা, বাগাড়ম্বর ও লোক দেখানো কাজ থেকে বিরত থাকবে, রিয়া ভালো আমলকেও ধ্বংস করে দেয়।

৩. যাকাত প্রকাশ্যভাবে দেবে। যেনো অন্যের মধ্যেও ফরয আদায়ের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তবে অন্যান্য (নফল) সাদাকা গোপনে দেবে। আল্লাহর নিকট ঐ আমলেরই মূল্য আছে যা একান্ত আন্তরিকতার সাথে করা হয়। কিয়ামতের মাঠে যখন কোনো ছায়া থাকবেনা সেদিন আল্লাহ ঐ বান্দাহকে নিজের আরশের নিচে ছায়া দান করবেন। যে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে আল্লাহর পথে দান করেছে। এমনকি তার বাম হাতও জানেনি ডান হাতে কি খরচ করেছে।

৪. আল্লাহর পথে দান করার পর উপকারের কথা বলে বেড়াবেনা। আর যাদেরকে দান করা হয়েছে তাদেরকে কষ্টও দেবেনা। দান করার পর অভাবগ্রস্ত ও গরীবদের সাথে তুচ্ছ আচরণ করা, তাদের আত্ম-মর্যাদায় আঘাত হানা, তাদেরকে উপকারের কথা বলে বলে তাদের অন্তরে কষ্ট দেয়া, এটা চিন্তা করা যে, তারা তার উপকার স্বীকার করবে এবং তার সামনে নত হয়ে থাকবে, এগুলো অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। মুমিনের অন্তর এ ধরনের হওয়া উচিত নয়।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

“হে মুমিনগণ! উপকারের কথা বলে গরীব-দুঃখীদের অন্তরে কষ্ট দিয়ে ঐ ব্যক্তির ন্যয় ধ্বংস হয়োনা যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্যে ব্যয় করে।”

৫. আল্লাহর পথে দান করার পর অহংকার ও দৌরব করবেনা। লোকদের ওপর নিজের প্রাধান্য বিস্তার করবেনা বরং একথা চিন্তা করে সংশয় পোষণ করবে যে, আল্লাহর দরবারে এ দান কবুল হলো কি হলো না। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“তারা দান করে, যাই দান করে বস্তুতঃ কখনো তাদের অন্তর এ জন্যে ভীত যে, তারা তার প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।”

৬. দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের সাথে নম্র আচরণ করবে, কখনো তাদেরকে ধমক দেবেনা, তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করবেনা, তাদের হীনতা প্রকাশ করবেনা, ভিক্ষুককে দেবার মতো কিছু না থাকলেও নম্র ও ভদ্র ব্যবহার দ্বারা অপারগতা প্রকাশ করবে যেন সে কিছু না পেয়েও দোয়া দিতে দিতে বিদায় হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন, তোমরা যদি তাদের থেকে বিমুখ হতে বাধ্য হও, তোমার প্রতিপালকের দয়ার আশায় তাহলে তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলো। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে অন্যত্র বলেছেন, “ভিক্ষুককে ধমক দিওনা”।

৭. আল্লাহর পথে উন্মুক্ত মনে ও আগ্রহের সাথে খরচ করবে। সংকীর্ণমনা, বিষন্ন মন, জবরদস্তি ও জরিমানা মনে করে খরচ করবেনা। ভাগ্যবান ও সফলকাম তারাই হতে পারে যারা কৃপণতা, সংকীর্ণতা হীনমন্যতা থেকে নিজের অন্তরকে পবিত্র রাখতে পারে।

৮. আল্লাহর পথে হালাল মাল খরচ করবে। আল্লাহ শুধু হালাল ও পবিত্র মালই কবুল করেন। যে মুমিন আল্লাহর পথে দান করার আকাঙ্খা রাখে তার পক্ষে কি করে সম্ভব হতে পারে যে, তার রুজির বা মালের মধ্যে হারামের মিশ্রণ থাকবে?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলেছেন,

“হে মুমিনগণ! (আল্লাহর পথে) তোমাদের হালাল রুজি থেকে ব্যয় করো।”

৯. আল্লাহর পথে উত্তম মাল ব্যয় করবে। আল্লাহ বলেন, “তোমরা কখনো নেকী অর্জন করতে পারবে না, যে পর্যন্ত তোমাদের অতীব প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে।”

ছদকা দেয়া মাল পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্যে জমা হচ্ছে, একজন মুমিন কি করে চিন্তা করতে পারে যে, তার চিরস্থায়ী জীবনের জন্যে সে খারাপ ও অকেজো মাল সঞ্চয় করবে?

১০. যাকাত ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার পর দেরি না করে তাড়াতাড়ি আদায় করার চেষ্টা করবে এবং ভালো করে হিসেব করে দেবে, আল্লাহ না করুন যেন কিছু বাকি থেকে না যায়।

১১. যাকাত সামাজিকভাবে আদায় করবে এবং ব্যয়ও সামাজিকভাবেই করবে। যেখানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠত নেই সেখানে মুসলমানদের সমিতিসমূহ ‘বায়তুল মাল’ প্রতিষ্ঠা করে তার সৎ ব্যবস্থা করবে।

12-Sep-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3637 জন)
প্রশ্নঃ তিনি ছিলেন একজন ওলন্দাজ-অস্ট্রেলীয় সামরিক কমান্ডো অফিসার। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব বীর প্রতীক প্রদান করে। তিনিই একমাত্র বিদেশী যিনি এই রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। আলোচ্য ব্যক্তিটির নাম কি?
(A) হ্যারল্ড উইলসন
(B) উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ঔডারল্যান্ড
(C) এডওয়ার্ড হীথ
17-Aug-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3494 জন)
প্রশ্নঃ দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে উভই দেশই চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়, অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিকভাবে বিশ্বথেকে অনেক পিছিয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনা, জাতিসংঘের মধ্যস্থতা ইত্যাদি মাধ্যমে দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি আনায়ন সম্ভব। পাকিস্তান থেকে ভারত প্রায় ৫গুন বড়, দুটি দেশেই পারমানবিক শক্তিধর, যেখানে পারমানবিক অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় সেখান প্রায় ৮০০ বছরে কোন বৃক্ষ/কৃষি জন্মায় না। আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা যুদ্ধ করবো ক্ষুধার বিরুদ্ধে, দারিদ্রতার বিরুদ্ধে, পরিবেশ রক্ষার পক্ষে। আয়তনে ভারত বাংলাদেশ অপেক্ষা কত গুন বড়?
(A) প্রায় ২২-২৪গুন
(B) প্রায় ৬০-৬৫ গুন
(C) প্রায় ৯-১১গুন
04-Aug-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3470 জন)
প্রশ্নঃ সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা না করলে তার জীবন খুব দুর্বোধ্য হয়ে উঠে, যথা সময়ের কাজ যথা সময়ে করা, স্বাস্থের প্রতি যত্ন নেওয়া, পরিকল্পিতভাবে খরচ করা এই অভ্যাসগুলো পালন করে জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে সাজানো যায়, চিন্তমুক্ত থাকা যায়। নিচের কোন চলচিত্রটি স্বাধীনতার আগে মুক্তি পেয়েছে?
(A) জীবন থেকে নেয়া, পরিচালক: জহির রায়হান
(B) বেদের মেয়ে জোসনা, পরিচালক: তোজাম্মেল হক বকুল
(C) পদ্মা নদীর মাঝি, পরিচালক: গৌতম ঘোষ