About Sumon Ali Biswas

এক ভদ্রলোকের গাড়ি পার্কিং থেকে চুরি হয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গাড়ির হদিস পেলেন না।
তবে দুই দিন পর হারানো গাড়িটাকে আগের জায়গায় দেখে অবাক। হারানো বাহন ফিরে পেয়ে ভীষণ আনন্দিত হয়ে দৌড়ে গাড়ির কাছে গেলেন। ড্রাইভিং সিটে একটা মুখবদ্ধ খাম। খুলে দেখলেন ভেতরে দেওয়া চিরকূটে লেখা, “মায়ের শরীর হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল কিন্তু একে তো রাত, তার ওপর ছুটির কারণে কোনো গাড়ি না পাওয়ায় আপনার গাড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলাম। ”
বিনীত ভঙ্গিতে আরো লেখা রয়েছে, “আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য দুঃখিত। গাড়িতে যত পেট্রল ছিল, সব আগের মতো আছে। তা ছাড়া আপনার গাড়ির খারাপ তালাটাও ঠিক করে দিয়েছি। গাড়ি ব্যবহারের বিনিময়ে আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য ১০টা সিনেমার টিকিট দিলাম।

এই চিঠির খামের মধ্যেই সেগুলো পাবেন। টিকিটগুলো আগামীকালের, নাইট শো'র। আমি জানি, আপনার বাসার কাজের মেয়েসহ আপনারা ১০ জন। আপনাদের খাবারের জন্য রাখা আছে সিনেমা হলের ফুড কোর্টের ভাউচারও। সিনেমা দেখার পর যা ইচ্ছা খেয়ে নেবেন। ”
সব শেষে আবারো বিনীত অনুরোধ, “আমাকে অনন্যোপায় অপরাধের জন্য ক্ষমা করে দেবেন!”

১৫ লাখ টাকার দামী গাড়িটা ফেরত পাওয়ায় পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি। পরদিন উপহার পাওয়া টিকিট নিয়ে সবাই চলে গেল সিনেমা দেখতে। ছবি দেখা শেষ করে মনের মতো স্পেশাল চিকেন-রাইস-কফি-আইসক্রিম খেয়ে বের হল সবাই; কিন্তু গাড়ি তো নেই পার্কিংয়ে।

আবারো চুরি হলো গাড়িটা!

উপায় না পেয়ে ট্যাক্সি ডেকে বাড়ি ফিরে তারা দেখলো, ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙা! ঘরের সব দামি জিনিস, নগদ টাকা, মূল্যবান গয়না সব চুরি হয়ে গেছে। ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা!

বাইরে টেবিলে একটি খাম পড়ে আছে।

তাতে লেখা, “সিনেমা কেমন দেখলেন? গাড়িটা আবার চুরি করে নিয়ে গেলাম। আপনি কেন গাড়ির লক আর চাবি বদলাতে ভুলে গেলেন? ওদিকে বাসা একেবার ফাঁকা রেখে কেউ সিনেমা দেখতে যায়? দেখলেন তো, এতটুকু বোকামির জন্য কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল। ”

উপদেশ : কাউকে বিশ্বাস করা ভালো,কিন্তু এতোটা অন্ধের মতো নয় যে, শেষে আফসোস করা ছাড়া আর কোন উপায় না থাকে!

Google Play Store এ এখন 'মিলিমিশি'।
রিলিজ ৩ নভেম্বর ২০১৯।

শফিক সুইসাইড করবে বলে বিষ কিনে এনে রুমের দরজা বন্ধ করে বসে আছে। বেশ কিছুদিন হলো শফিকের দিনকাল খুবই কষ্টে কাটছে জব নেই পড়াশোনাও চলছে না ঠিকঠাক তারমধ্যে ওর গার্লফ্রেন্ড ওকে ছেড়ে চলে গিয়েছে শুধু ও গরিব বলে টাকা পয়সা নেই তাকে গিফট কিনে দিতে পারে না সেজন্য। এসব নিয়ে শফিক বেশ বড় ডিপ্রেশনের মধ্যে আছে আজ ঠিক করেছে সে মারাই যাবে তার জীবন অর্থহিন এই জীবনে কি আছে আর করার সব শেষ।
বিষ গলায় ঢালতে যাবে হঠাৎ তখনই ওর বন্ধু বাদলের ফোন এলো, ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বললো
- কিরে কোথায় তুই? তোকে তো দেখিই না কাল বিকেলে আসতে বললাম আসলি না।
- এমনিতেই রে, ভালো লাগছে না।
- কোথায় আছিস তুই? বাসায় তো? আমি তোর বাসায় সামনে দরজা খোল।
শফিক গিয়ে দরজা খুললো, বাদল দেখলো শফিকের চোখ লাল হয়ে আছে চোখমুখ একদম ভেতরের দিকে চলে গেছে, বাদল জিজ্ঞেস করলো
- কিরে তোর এই অবস্থা কেন? আর হাতে ওটা কি? দেখি।
- আরে কই কিছুনা!
- দেখি দে আমার কাছে, সেকি এতো বিষ এটা দিয়ে কি করতে যাচ্ছিলি?
- আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে হয়নারে দোস্ত, মরে যাবো আমি।
- ফালতু কথা বলবি না শফিক, কি হয়েছে বল তো আমাকে।
- কি আর বলবো, তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তুই তো জানিসই আমার পরিবারের অবস্থা, আমার অবস্থা।
- না আমি জানিনা। কি হয়েছে সেটা বল এমন পাগলামি করতে যাচ্ছিলি কেন?
- কি করবো আর এই জীবন রেখে বল তো? আমাকে কেউ পছন্দ করে না। বাসায় সৎ মা সারাদিন চিল্লায়, বলে কিছু একটা করতে পারিস না বাপের টা বসে বসে খাস ইউনিভার্সিটিতে উঠেছিস এখনো বাপের টা খাস, বাপের টাকায় চলিস। বাবা কিছু বলে না এসব নিয়ে
সেদিন বলে তুই মরতে পারিস না বেরিয়ে যা আমার বাসা থেকে৷
আমি তো এমনিতেই দূর্বল প্রকৃতির ছেলে তুই তো জানিস ই এতসব কথা শোনা টাকা পয়সা ছাড়া রোজ হেটে ভার্সিটি যাওয়া ফ্রেন্ডদের কত কটু কথা শুনতে হয়, ভাঙা একটা ফোন, শূন্য মানিব্যাগ, ছেড়া কাপড়, বাসার চিল্লাপাল্লা, এসব মনে করিয়ে দেয় আমি কতটা খারাপ আছি তার ওপর আর কি বলবো তুই তো জানিস মাহিমাকে আমি কত ভালোবাসতাম, মাহিমাও আমাকে কত ভালোবাসতো সেও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। যাবার সময় বলে তোর মত ফকিন্নির সাথে আমার প্রেম করাটাই ভূল হয়েছে কোন মূরদ নেই আসছে প্রেম করতে। সবার সামনে আমাকে অপমান করেছে আমি ওকে ছাড়া তো বাঁচতে পারবো না আমাকে মরতেই হবে আমি সমাজের বোঝা একটা।
- আচ্ছা এই ব্যাপার, তুই তো ভালোই আছিস সমাজের বাকি মানুষের থেকে তোর তো সবই আছে তাহলে মরবি কেন?
- বাদল তুইও আমাকে বুঝলি না? তুই ও এসব বলছিস? তোর বাপের তো টাকা আছে যা ইচ্ছা করিস কিন্তু, আমি যে কতটা কষ্টে আর খারাপ পরিস্থিতিতে আছি তুই বুঝতে পারছিস?
- হ্যাঁ পারছি, আমার কাছে মনে হয়েছে তুই সমাজের বাকি মানুষগুলার থেকে অনেক ভালো আছিস।
- ছি বাদল, তোর কাছে এটা ভালো মনে হয়? তুই চলে যা আমি মরেই যাবো আমার মত বদ নসিব আর কেউ নাই।।
বাদল কোন কথা না বলে শফিকের হাত ধরে টেনে রাস্তায় নিয়ে গেলো চার রাস্তার মোড়ে এসে বললো
- তুই অনেক খারাপ অবস্থায় আছিস নাহ?
- হ্যাঁ, তা নয় তো কি।
- আচ্ছা তাহলে ওই যে কড়া রোদে হাত পা বিহিন লোকটা ধুলো ময়লা খেয়ে যে ভিক্ষা করছে সে কি তোর থেকে ভালো অবস্থা আছে?
ওই যে ফুটপাতে বসে এক মহিলা তার শিশুকে নিয়ে ভিক্ষা করছে সে কি তোর থেকে ভালো আছে?
- না, আমার থেকে খারাপই আছে। (শফিক)
- আচ্ছা আমার সাথে পার্কের পাশে চল।
বাদল শফিককে পাশের পার্কের একটা জায়গায় নিয়ে গেলো তারপর বললো
- এনাদের দেখ, এনাদের কোন ঘরবাড়ি নেই পার্কে ঘুমায় খেতে পেলে খায় না খেতে পেলে না খেয়ে থাকে।
বাদল পার্কের ভেতর পলিথিনের ঘরে বসবাস রত এক পরিবারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো
- এইযে আপনার ভালো আছেন?
- আর ভালা।
- আচ্ছা, আপনারা এখানে কি করছেন আপনাদের বাড়ি কোথায়?
- আমরা এইনেই থাহি, পলিথিন দিয়া ঘর বানাইছি দেহেন না, উডায়া দিলে চইলা যামু, কি উডায়া দিতে আইছেন?
- না উঠাতে আসিনি, সকালে কি খেয়েছেন?
- ২ দিন ধইরা চুলা জ্বলে না কি খামু, ময়নার বাপে কামে যায় যেদিন চাইল আনে রান্দন হয় যেদিন কাম পায় না হেইদিন না খায়া থাকি।
বাদল শফিককে বললো তুই কি এনাদের থেকে ভালো আছিস? নাকি খারাপ আছিস?
- ভালো আছি। (শফিক)
- আচ্ছা আমার সাথে আর একটা জায়গায় চল।
বাদল শফিককে ধরে সরকারি হসপিটালে নিয়ে গেলো তারপর পাবলিক ওয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে বললো
- দেখ শত শত রোগীর আর্তনাদ কিভাবে চিৎকারে করছে একটু সুস্থতার জন্য।
এবার চল অর্থপেডিক ডিপার্টমেন্টে সেখানে গেলে দেখবি কারোর হাত নেই কারোর পা নেই কারোর ২০৬ টার মধ্যে ১৫০ টায় ভাঙ্গা। সুস্থতার চেয়ে বড় ভালো থাকা আর কিছু নেই। এখন বল তুই কি এদের থেকে খারাপ অবস্থায় আছিস? অসুস্থ আছিস?

শফিক এসব দেখে কিছুই বললো না, শুধু হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে আছে বাদল তো ঠিকই বলেছে সমাজের কত মানুষ আছে যাদের পজিশন আমার থেকেও খারাপ ঘরবাড়ি, পোশাক, খাবার কিছুই নেই।
বাদল বললো,
- আর বাকি থাকলো মাহিমার কথা মাহিমা তোকে কোনদিন ভালোবাসেনি, যে তোকে টাকার জন্য ছেড়ে চলে যায় তার কাছে ভালোবাসা পাওয়াটাই বোকামি মনে রাখ তুই ঠকিস নি ঠকেছে মাহিমা যে তোকে ভালোবাসতে পারেনি তোর ভালোবাসা বোঝেনি।
সমস্যা থাকতেই পারে, মানুষের জন্ম সমস্যাকে ঘিরেই তাকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই একদিন সফলতা পাবি। ভালোমত মন দিয়ে পড়াশোনা কর মেহনত কর একদিন তোরও সব হবে।
এখন এতকিছু দেখার পরে যদি মনে করিস তুই এদের থেকে খারাপ আছিস তাহলে ডিসিশন তোর মরলে মরতে পারিস এই নে বিষের বোতল।
শফিক বাদলকে জড়িয়ে ধরে হড়হড় করে কেঁদে ফেললো, বললো
- ধন্যবাদ দোস্ত আমার ভুল ভাঙিয়ে দেবার জন্য আমি আসলে বুঝতে পারিনি তুই আমার বাস্তবতার চোখ খুলে দিয়েছিস, আজ থেকে আমিও পারবো ধন্যবাদ বাদল।।

(কপিকৃত)

দয়া করে পড়ুন সবাই খুব সুন্দর গল্প!

স্বামী , শাশুড়ি আর দেওর খেতে বসেছে । মাছের ঝোলের বাটিটা বয়ে আনতে গিয়ে কেমন মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো ইরাবতীর । মাথাটা যেন টাল খেয়ে গেল অল্প। কোনোমতে দেয়াল ধরে সামলাল নিজেকে। শরীরের আর দোষ কি ! সেই সকালে দুটো রুটি আর আলু পটলের তরকারি খেয়েছিল। এখন বেলা আড়াইটে বাজতে চলল , সেই খাবার কখন হজম হয়ে গেছে। বেজায় খিদে পাচ্ছিল সেই কখন থেকে। কিন্তু রান্না সারা না হলে খাবে কি করে ! ভারি পেট নিয়ে কাজ করতে বেশ কষ্ট হয় , তাই সময় লাগে একটু । শাশুড়িকে কষ্টের কথা বললেই উনি বলেন , একটু কষ্ট হলেও এ সময়ে নাকি কাজের মধ্যেই থাকতে হয়। শুয়ে বসে থাকলে বাচ্চার ক্ষতি হয়। তা কাজের মধ্যেই থাকে ইরাবতী । প্রতিবাদ করে কোনো লাভ নেই , সে জানে।

মাছের ঝোল মুখে দিয়েই অজয় চেঁচিয়ে উঠলো ,

" কি বানিয়েছ এটা ? এত ঝাল দিয়েছ কেন ?"

" বুঝতে পারি নি । ঝাল বেশী হয়ে গেছে ? " ভয়ে ভয়ে বলল ইরাবতী।

" তোমার মা কি তোমাকে রান্নাটাও শেখান নি ! কোনো কাজই তো পারো না ভালো করে। সামান্য কয়েকটা কাজ করতে সারাদিন লেগে যায় তোমার । হ্যা হ্যা করে হাঁপাতে থাকো কুত্তার মত জিভ বের করে। মনে হয় লাথি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিই। "

" এই অবস্থায় কাজ করতে গেলে কষ্ট তো একটু হবেই ! " মৃদু প্রতিবাদ করে ইরাবতী ।

খাওয়া ফেলে উঠে দাঁড়ায় অজয়। রাগে মুখ লাল ওর । কেঁপে ওঠে ইরাবতী । অজয়ের এই রূপ চেনে ও । লাফিয়ে এসে ইরাবতীর চুলের মুঠি চেপে ধরে সে বলে ,

" এক তো কাজ করতে পারিস না। আবার মুখে মুখে তর্ক করিস ! দাঁড়া এই মাছের ঝোলটা তোকে খাওয়াবো পুরোটা । "

বাটিটা নিয়ে জোর করে ইরাবতীর মুখে উপুড় করে দিতে যায় অজয়।প্রাণপণে নিজেকে ছাড়াতে গিয়ে টেবিলের কোণায় ধাক্কা খায় ইরাবতী । এতক্ষণ নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা শাশুড়ি মা মুখ খোলেন এবার।

" আহ ! অজয় , হচ্ছেটা কি ! ওর পেটে তোমার সন্তান , ভুলে যেও না । বাচ্চার ক্ষতি হয় , এমন কাজ করো না। "

ইরাবতীকে ছেড়ে দিয়ে অজয় বলে ,

" ওর মুখটা দেখলেই আমার মাথা জ্বলে যায় । ড্যাবা ড্যাবা চোখ , মোটা নাক, দাঁতগুলো দেখো , মনে হয় যেন কোদাল । ওহ ! কি করে ওকে পছন্দ করেছিলে মা ! "

" যা হওয়ার তো হয়েই গেছে। এখন এসব কথা বলে কি লাভ ! আয় , ঝোলটা খাস না , শুধু মাছ দিয়ে খেয়ে নে বাকি ভাত।'

অজয় খেতে বসতে শাশুড়ি ইরাবতীর দিকে তাকিয়ে বলেন ,

" এখনও ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছ কেন ? জানোই যখন অজয়ের চণ্ডাল রাগ , তখন বুঝে শুনে চলো না কেন বাপু ! একটু মন দিয়ে রান্নাটা করতে পারো না ! তাহলেই তো ভুল হয় না ! "

দেওরও খেতে খেতে বৌদির দিকে তাকিয়ে বলে ,

" বৌদির যে বুদ্ধি সুদ্ধি একটু কম আছে , সে আমি প্রথম দিনেই বুঝেছিলাম।"

সব অপমান গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে থাকে ক্ষুধার্ত ইরাবতী । এ বাড়িতে আসার পর থেকেই এমন অপমান সইতে সইতে ভেতরে ভেতরে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেলেও কিছু করার উপায় নেই ইরাবতীর । অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ওর । মা বাবা বিয়ে দিয়েছেন কি আবার ওখানে ফিরে যাবার জন্য ? দাদার সংসারে ওঁদেরকেই প্রায় আশ্রিতের মত থাকতে হয় । সেখানে ইরাবতীকে কি করে আশ্রয় দেবেন তাঁরা !

ইরাবতীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শাশুড়ি মা আবার বলে ওঠেন ,

" খাম্বার মত দাঁড়িয়ে আছ কেন এখনও ? সাধে কি অজয় এত রাগ করে ! যাও, নিজের খাবার নিয়ে এসো ! বিকেলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে , মনে নেই নাকি ! "

খিদে তো কখন মরে গেছে ! থালায় ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে ইরাবতী। ভেতরটা জ্বলছে ওর । আর কদিন বাদেই মা হবে ও , কেউ একজন আসবে একেবারে ওর নিজের হয়ে। একজন কাছের মানুষ পাবে ইরাবতী , যার কাছে নিজের যন্ত্রণা গুলো উপুড় করে দিয়ে হালকা হতে পারবে ও একটু ।

কিন্তু যদি ছেলে হয় ! সে তো বাবার মতই হবে ! না না , ছেলে চায় না ইরাবতী । তীব্র ঘৃণায় মুখ বেঁকে যায় ওর । মনে মনে আকুল প্রার্থনা করে ,

" হে ঈশ্বর ! আমার যেন ছেলে না হয় । এমন বাবার ছেলে চাই না আমি ! আমার যেন ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়। যে হবে আমার সবচেয়ে কাছের জন। আমার দুঃখ গুলো যে হৃদয় দিয়ে অনুভব করবে। আমাকে মেয়ে দাও ঠাকুর ! মেয়ে দাও ! "

নোনতা চোখের জল গাল ভিজিয়ে দেয় ওর । সেদিকে তাকিয়ে শাশুড়ি বলেন ,

" মেয়েদের একটু সহ্য করতেই হয়। অজয়ের মুখের ওপর কথা বল কেন বাপু ! এখন কেঁদে কি লাভ ? নাও , খেয়ে নাও ! "

============

" আমার ছেলে না মেয়ে হয়েছে ডক্টর ? "

এতক্ষণের ধকলে শ্রান্ত ,ক্লান্ত ইরাবতী কোনোমতে প্রশ্ন করে ডাক্তারকে । তিনি হেসে বললেন ,

" ছেলে হয়েছে আপনার ! ভয় নেই , মেয়ে হয় নি ! "

হতাশায় চোখ বুজল ইরাবতী । বুঝল , ডক্টর ভেবেছেন , পরিবারের কেউ হয়তো মেয়ে চায় না তাই ভয় পাচ্ছে ইরাবতী , তাই তিনি অভয় দিলেন ওকে । কিন্তু ইরাবতী তো মেয়েই চেয়েছিল । হে ভগবান ! এ কি করলে তুমি ! এই ছেলে কি বুঝবে মায়ের দুঃখ ! আর কোথাও যাওয়ার জায়গা রইল না ইরাবতীর ।

পনেরো দিনের বাচ্চার গলায় কি জোর ! কেঁদে বাড়ি মাথায় করছে একেবারে। ইরাবতী তবু কোলে তুলে নিচ্ছে না ওকে । এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । অসুরের ছেলে তো অসুরই হবে । অজয়ের প্রতি তীব্র ঘৃণায় এই ছোট্ট শিশুকেও নিজের শত্রু বলে মনে হয় ইরাবতীর ।

অজয় এই মুহূর্তে ঘরে ঢুকে ইরাবতীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রচণ্ড ক্রোধে এক লাথি দিয়ে বলে ,

" কাঁদছে , শুনতে পাচ্ছিস না ! বাচ্চা কিভাবে মানুষ করতে হয় , সেটাও শিখিয়ে দিতে হবে নাকি ! শালী , মা হয়েছে দেখো ! "

ইরাবতী গিয়ে ওকে কোলে তুলতে যেতেই অজয় কেড়ে নিল ছেলেকে। চেঁচিয়ে মাকে ডেকে বলল ,

" মা ! এই কুত্তি তো ছেলে মানুষ করতেও জানে না ! তুমি সামলাও দেখি নাতিকে ! "

শাশুড়ি এসে নাতিকে কোলে তুলে নিয়ে বিরক্তির সঙ্গে বললেন ,

" কি গো তুমি ! কখন থেকে ও কাঁদছে ! খিদে পেয়েছে ওর , বুঝতে পারছ না ! নাও , দুধ খাওয়াও দেখি ! "

শিশুটিকে বুকে চেপে ধরে কেঁদে ফেলল ইরাবতী । এই নরকে সে এতদিন ধরে বেঁচে আছে কিভাবে , সেটাই বিস্ময়ের ব্যাপার । পান থেকে চুন খসলেই ভয় , উঠতে ভয় , বসতে ভয়। ভয় পেতে পেতে বাঁচতেই ভুলে যাচ্ছে ইরাবতী । কখনও কি এই নরক থেকে উদ্ধার পাবে না ও !

=============

মায়ের থেকে বেশী ঠাকুমার কাছেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে দেবমাল্য। এ বছরে ক্লাস টেন হল ওর । কথা কম বলে। খুব গম্ভীর স্বভাবের ছেলে । ওর বয়সের তুলনায় যেটা বেমানান।

ইরাবতীর সঙ্গে দেবমাল্যর তেমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে নি । কিছুটা ইরাবতীরই জন্য , আর কিছুটা অজয় আর ওর মায়ের জন্য। ছেলেকে ভালো করে বুঝতেও পারে না ইরাবতী , এত কম কথা বলে ও , বুঝবেই বা কি করে !

একটা মেয়ে হলে এতদিনে ইরাবতীর কত কাছের হয়ে উঠত , বড় আফসোস হয় ইরাবতীর । এই অপমানের জীবন থেকে বুঝি মুক্তি নেই ওর ।

স্কুল আর টিউশন থেকে ফিরেই ছেলে গম্ভীর ভাবে ভাত খেয়ে নিজের ঘরে ঢুকে যায় । পড়াশোনা করে অনেক রাত পর্যন্ত ।

আজ ছেলে ভাত খেয়ে নিজের ঘরে ঢুকে যেতে ইরাবতী একটু পরে রাতের খাওয়ার জন্য ভাত বসিয়ে এসে একটু শুয়েছিল । কখন চোখ লেগে গেছে বলতেই পারে না। ঘুম ভাংল অজয়ের চেঁচামেচিতে । ভাত পোড়া গন্ধে ভরে গেছে বাড়ি । সর্বনাশ ! ধড়মড় করে উঠে বসল ও । অজয় চেঁচিয়েই চলেছে ,

" এতোগুলো ভাত পুড়ে ছাই হয়ে গেল । মহারাণী ঘুমুচ্ছে ভাত বসিয়ে রেখে ! তোর বাপের বাড়ি থেকে খাওয়ার টাকা দেয় ! এতোগুলো ভাত নষ্ট হল , তোর হুঁশ নেই ! ষ্টুপিড কোথাকার ! "

" বলতেই পারি না , কখন ঘুমিয়ে পড়েছি ! আমি এক্ষুনি আবার ভাত বসিয়ে দিচ্ছি। " আমতা আমতা করে বলল ইরাবতী ।

" ঘুম ! দাঁড়া , তোর ঘুম বের করছি ! এক থাপ্পড়ে সব ঘুম উড়ে যাবে তোর এখুনি। "

থাপ্পড় মারতে হাত তোলে অজয়। চোখ বুজে ফেলে ইরাবতী । সঙ্গে সঙ্গে একটা হাত এসে চেপে ধরে অজয়ের উদ্যত হাতখানা। হিসহিস করে বলে ,

" খবরদার ! আর একবারও যদি মায়ের গায়ে হাত তুলেছ তো পুলিশের কাছে যাবো আমি ! অনেক সহ্য করেছি , আর নয় ! "

ইরাবতী চোখ খুলে ছেলের রূপ দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। চোদ্দ বছরের ছেলের চোখে কি ক্রোধ আর ঘৃণা ! এই ছেলে কোথায় ছিল এতদিন !

ছেলে তখনও বলে চলেছে ,

" সেই ছোট্ট থেকে দেখে আসছি , মায়ের সঙ্গে বিনা কারণে খারাপ ব্যবহার কর তুমি ! ঘেন্না লাগে আমার , এই বাড়িতে আমি জন্মেছি বলে। তোমার টাকায় আমাকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলে। কোনোমতে নিজের পায়ে দাঁড়ালেই আমি মাকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবো ! এ বাড়িতে থাকব না আমি ! "

গোলমালে অজয়ের মা বেরিয়ে এসেছেন। তিনি বলে ওঠেন ,

" বাবার সাথে কিভাবে কথা বলছিস তুই দেবু ! "

" তুমি চুপ কর ঠাম্মা ! একটা মেয়েমানুষ হয়েও আমার মায়ের অপমান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছ তুমি প্রতিদিন ! একবারও প্রতিবাদ কর নি ! তোমাকেও ঘেন্না করি আমি ! বাবা যদি আর একবারও মায়ের গায়ে হাত দেয় , বাবার হাত ভেঙ্গে দেবো আমি ! তারপর পুলিশের কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলব। "

রাগে ফুঁসছে দেবমাল্য। অজয় আতঙ্কিত দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ছেলের দিকে। ইরাবতী কেঁদে ফেলল শব্দ করে। দেবু বিরক্ত হয়ে বলল ,

" কাঁদছ কেন তুমি ! প্রতিবাদ করতে পারো না ! এত ভয় কিসের তোমার ! আর ভয় পাবে না । আমি আছি তো ! "

ইরাবতী জানে , এই কান্না আনন্দের কান্না। ছেলে ওর কাছে আছে। আর ভাবনা কি ! এতদিনের অসম্মানের জীবন থেকে মাকে মুক্তি দেবেই দেবমাল্য। ইরাবতীর ছেলে , ইরাবতীর কাছের জন। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদেই চলে ইরাবতী । (সংগৃহীত)

নিয়ম মেনে চালাবো গাড়ী, নিরাপদে ফিরবো বাড়ী

ভালবাসা

মুরগি প্রতিদিন ডিম পাড়তো,

আর মালিক বিক্রি করে দিতো।

👍

মালিক বললো -"দেশের স্বার্থে তোমার

ডিমের ভীষণ প্রয়োজন। তোমাকে

সোনার ঘর বানিয়ে দেওয়া হবে।

তুমি লাগাতার ডিম পেড়ে যাও।

এতোদিন শুধু ডিম পেড়ে গেলে,

বলো কি পেয়েছো ,, বিনিময়ে ??

সব মনিব তোমাকে ঠকিয়ে গেছে,,

বিশ্বাস করো, আমিই বানিয়ে দেবো,

তোমার সোনার ঘর।,"

👍

মুরগি খুশী হয়ে গেলো, দেশভক্তি

বলে কথা,, দেশের প্রয়োজনে কাজে

লাগা ,ভীষণ সৌভাগ্যের ব্যাপার।

পরের দিন থেকে মুরগি ২ টো করে

ডিম দিতে লাগলো। দেশের জন্য

এটুকু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।

👍

মালিক খুশি হয়ে গেলো। ইনকাম

ডবল। বেশি লাভের লোভে মালিক

মুরগির খাদ্যের পরিমাণ কম করে

দিলো। মুরগি অবাক হয়ে মালিককে

জিজ্ঞেস করলো -" আজকে আমার

খাবার কমিয়ে দেওয়া হলো কেন ?

কোনো সমস্যা আছে নাকি ?"

মালিক বললো -" দেশ আজ সঙ্কটে,

বহু মুরগি খেতে পাচ্ছে না। আমাদের

লক্ষ্য হলো, প্রত্যেক মুরগির মুখে

আহার তুলে দেওয়া। যতদিন না

সব মুরগি খেতে পাচ্ছে, একটু কম

খেয়েই তোমাকে থাকতে হবে। দেশের

জন্য , দেশকে ভালোবাসার জন্য ,এটুকু

ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। "

👍

মুরগি খুশী হয়ে গেলো।দেশভক্তি বলে

কথা, কোনো আপস চলবে না। আধপেটা

খেয়ে মুরগি ডিম দিতে লাগলো।এদিকে

মালিক ডিম বিক্রির মুনাফা নিয়ে, নিজের

অট্টালিকা বানিয়ে নিলো। মুরগির সোনার

ঘর তো দুরের কথা, যে ঘরটা ছিলো,

সেটাও মেরামত করা হলো না। মালিক

তখন মুনাফার নেশায় বুদ।বর্ষাকাল এসে

গেছে,মুরগির ঝড়জলে ভেজা ছাড়া

কোনো উপায় ছিলোনা। তবুও অসুবিধা

নেই, দেশভক্তি বলে কথা।

👍

এভাবে আধপেটা খেয়ে , ডবল ডিম

দিয়ে, জলে ভিজে, একদিন মুরগি

জ্বরে পড়ে গেলো । মালিককে বললো-

"আমার পরিশ্রম ডবল করিয়ে দেওয়া

হলো, খাদ্য অর্ধেক করিয়ে দেওয়া হলো,

সোনার ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো,

সেটাও দেওয়া হলো না। এখন এই বর্ষায়

ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। অন্তত আমার ভাঙা

ঘরটা মেরামত করে দেওয়া হোক।"

👍

মালিক সহানুভূতি-র সুরে বললো -

"জানো, এই দেশে বহু মুরগি রয়েছে,

যাদের মাথায় ছাদ-টুকুও নেই ? কতো

মুরগি সারারাত অসহায়ের মতো

ফুটপাতে ঘুমিয়ে পড়ে ?সরারাত কতো

মুরগি বহুকষ্টে কাটিয়ে থাকে ? তোমার

শুধু নিজের চিন্তা, একটু দেশের কথা

ভাবলে না ?"

👍

মুরগি চুপ করে গেলো। দেশভক্তি বলে

কথা।

👍

লাগাতার অমানবিক পরিশ্রম, অপুষ্টি,

এবং জ্বরের কারণে মুরগি দূর্বল হয়ে

পড়লো। মুরগি মনে বিদ্রোহ দেখা দিলো,

মাঝে মাঝে ভাবতো, মালিকের কাছে

জবাব চাইতে হবে, ডিম বিক্রি করে

এতো মুনাফা করলেন, আপনি দামি

কাপড় পরলেন, দামি খাবার খেলেন,

এদিক সেদিক ভ্রমণ করলেন,,

আমাদের,, না হলো সোনার ঘর, না

পেলাম পর্যাপ্ত আহার ।

👍

কিন্তু ততোদিনে মুরগি মালিকের

অন্ধভক্ত হয়ে গেছে। প্রশ্ন করার

সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।

অন্য কোনো মুরগি প্রশ্ন তুললেই,

তাকে দেশদ্রোহী বলে দেওয়া

হয়েছে।

👍

মুরগির ডিম পড়ার শক্তি নেই, মালিক

এসে বললো-" মেরে পিয়ারে মুরগি,,

দেশ এখন বলিদান চাইছে, বহু

মুরগির জীবন রক্ষা করার জন্য,

তোমাকে প্রাণ দিতে হবে। তুমি রেডি

হয়ে যাও।"

👍

মুরগির ব্যাপারটা বুঝতে অসুবিধা

হলো না। একবার শেষ চেষ্টা করে

দেখা যাক। মুরগি বললো -"কিন্তু

মালিক, আমিতো দেশের জন্য

এতো কিছু করলাম, বিনিময়ে কি

পেলাম ? আপনি তো কিছুই দিলেন না!'

👍

মালিক হেসে বললো -" অনেক করেছো,

আমি অস্বীকার করছিনা। এবার তোমাকে

দেশের জন্য "শহীদ" হতে হবে।

👍

মালিক মুরগিকে বাজারে বিক্রি করে

আরো একবার মুনাফা করে নিলো।

মুরগি দেশের জন্য শহীদ হয়ে গেলো।

👍👍

---

আপনি নিশ্চয়ই অন্যকিছু ভাবছেন!

বিশ্বাস করুন --

আমার সাদা মনে, একটুও কাদা নেই।

আর রাজনীতি !!!

নৈব নৈব চ,,,,,

ওসব জিনিয়াস মানুষের কাজ,,,।

বিশ্বাস করুন,,,,

কাহিনী-টা কেবলমাত্র মুরগির

উদ্দেশ্যে লেখা,,,,,

এটা একটা

"মুরগি কাহিনী।"

সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল এক ছেলে। সাইকেলের ক্যারিয়ারে ছিল ডিম । উঁচু নীচু রাস্তায় ব্যালেন্স ঠিক রাখতে না পেরে সাইকেল-শুদ্ধ পড়ে গেল ছেলেটি। সব ডিম ভেঙে গেল।
এসব ক্ষেত্রে তামাশা দেখার লোকের অভাব হয় না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ছেলেটির চারপাশে ভিড় জমে গেল এবং যথারীতি, নিখরচায় উপদেশ বর্ষণ শুরু হয়ে গেল।

কেউ বলল,"দেখে চালাতে পার না?"

আবার কেউ একজন জানতে চাইল,"সাইকেল চালানোর সময় মন কোথায় থাকে?"

আর একজন হুমকি দিয়ে বলল,"আজ বুঝবে মালিকের পিটুনি কি জিনিস।"

এমন সময় ঘটনাস্থলে এক বৃদ্ধের আগমন ঘটল।
তিনি সবার উদ্দেশ্যে বললেন “ আপনারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছেন, একবার কি ভেবে দেখেছেন এই দরিদ্র ছেলেটি তার মালিককে ডিম সম্পর্কে কী জবাব দেবে?"

তারপরে তিনি ছেলেটিকে মাটি থেকে উঠতে সাহায্য করলেন এবং ছেলেটির হাতে একটি বিশ টাকার নোট গোঁজে দিলেন। তারপর চলে যেতে যেতে ছেলেটিকে বললেন, " এখানে যারা আছেন তারা সবাই খুব ভাল লোক, তারাও যে যা পারেন তা দিয়ে তোমাকে সহায়তা করবেন।"
বৃদ্ধের কথায় কাজ হল। সবাই ছেলেটিকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করল যাতে সে পুনরায় ডিম কিনে তার মালিককে বুঝিয়ে দিতে পারে।
তখন দর্শকের মধ্যে থেকে একজন ছেলেটিকে বললেন,
"এই বৃদ্ধ যদি আশেপাশে না থাকত, তাহলে তুমি আজ তোমার মালিকের হাত থেকে রেহাই পেতে না।"

ছেলেটি লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল, "স্যার, ইনিই সেই দোকানের মালিক, যেখানে আমি কাজ করি।"

Moral of the story:
বুদ্ধি শুধু থাকলেই হয় না। সঠিক সময়ে সঠিক পরিস্থিতিতে সেই বুদ্ধির যথার্থ ব্যবহারও জানা থাকা চাই।

Khaled Rashid স্যারের টাইমলাইন থেকে

পিতামাতা, শিক্ষক আর গুরুজনদের সাথে যারা বেয়াদবী করে তারা কখনো সফল হতে পারে না। ১০০% গ্যারান্টি।
:
২০ বছর পরে মিলিয়ে দেখুনঃ
“রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে যে সকল শিক্ষার্থী পানিতে ফেলে দিয়েছে - তারা জীবনে সফল ও সুখী হতে পারবে না।”
:
শিক্ষকের মর্যাদা
-কাজী কাদের নেওয়াজ
=====================
বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
শিক্ষক মৌলভী
ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি।
দিল্লীপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।
হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”

স্যার একটা কথা বলবো?
-কি বল?
-আজ আমার সারে ১২টায় ছুটি দেবেন?
-কেন? কি করবি?
-বাড়ি গিয়ে ভাত খাবো, পেটে খুব ক্ষিধা লাগছে।
-কেন সকালে খেয়ে আসোনি?
-না।
-কেন?
-তরকারি নেই। আর লবণ দিয়ে ভাত খেতে পারি না।
তাই খেতে পারিনি।
কথাটা শুনতেই বুকের মধ্যে কেমন যেন
লাগলো স্যারের?
-রাতে কি খেয়েছো?
-গরম ভাতে পানি দিয়ে ডাল মনে করে ভাত।
-এখন কি দিয়ে খাবে?
-মা বললো ইস্কুল ছুটির পর গেলে কচু
রান্না করে রাখব। সেটি দিয়ে মজা করে ভাত খাবো।
মায় খুব মজা করে কচু রান্না করতে পারে।
কখন যে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসল বুঝতে পারিনি।
একদিন তোমার মায়ের হাতের রান্না করা কচু
খেয়ে আসব। নিয়ে যাবে তোমার বাসায়?
যাবেন স্যার সত্য?
হ্যাঁ যাব। যাও বাড়ি গিয়ে পেট ভরে ভাত খাও।
মুখে পৃথিবী জয় করা হাসি নিয়ে বই হাতে নিয়ে তার
চলে যাওয়ার দিকে মন্ত্র মুগ্ধের মত তাকিয়ে
রইলাম।
তরকারির জন্য ভাত খেতে পারছে না। অথচ
আমাদের এই সমাজে কত মানুষ আছে যাদের
খাবারের মেনুতে কত আইটেম থাকে। যা তারা
খেয়ে শেষ করতে পারে
না। অবশিষ্ট অংশ চলে যায় ডাস্টবিনে। এমন অনেক
বাবা মা আছেন যারা ছেলেকে বিভিন্ন নামি দামি স্কুলে
পড়ান। গাড়ি করে নিয়ে যান। ছেলের কত আবদার!
সব পূরণ করতে ব্যস্ত। অথচ রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষ
গুলোর দিকে ফিরেও তাকান না। তাকাবেন কেন??
তাকালেই তো ঘাড়ে এসে পড়বে। আমরা তো
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। হাজার টাকার বডি স্প্রে
গায়ে দিয়ে ঘুরে
বেড়াই। ঈদ আসলে,পুজো আসলে ব্যস্ত হয়ে পড়ি শপিং নামক
টাকা উড়ানোর খেলায়। বিভিন্ন নামি দামি কোম্পানির সব পোশাক
কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু বুঝতে চাই না এই
বাইরের পোশাক গুলোতে আমাকে কি মানাচ্ছে?
অথচ একটা গরীব লোক এসে বলছে-দুটো টাকা
দেন। তখন বলি-খুচরা নাই। মাফ কর। গার্লফ্রেন্ডকে
নিয়ে চাইনিজ খেতে যায়। কত টাকা খরচ হয় হিসাব রাখে না অথচ
গরীব রিক্সাচালক যখন বলে-পাঁচটা টাকা বাড়তি দেন।
তখন তার গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাবোধ করে না। ঐ
⭕গরীব লোক গুলোর অপরাধ কি?
অপরাধ একটাই যে সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে গরীবের
ঘরে জন্ম দিয়েছেন। আর আপনাকে সোনার
চামচ মুখে দিয়ে কোন ধনী বাবার ঘরে। আমি
🔴ছেলে মেয়ে কাউকে উদ্দেশ্য করে এই
পোষ্টটা দেইনি। আমি আমাকেই এখানে কল্পনা
করছি।,,,,,,সবাই এগিয়ে চলো,,,,

দুই বন্ধু মরুভূমির মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। কিছুক্ষন যাত্রার পর তাদের দুইজনার মধ্যে ঝগড়া হয় এবং এক বন্ধু আরেকজনকে থাপ্পড় মেরে বসে। যে থাপ্পড় খেয়েছিল সে মনে কষ্ট পেলেও মুখে কিছু বলল না, শুধু বালিতে লিখে রাখল “আজকে আমার সবথেকে প্রিয় বন্ধু আমাকে চড় মেরেছে”।

এরপর তারা হাঁটতে থাকল এবং কিছুক্ষন পর একটি মরুদ্যান দেখতে পেল। তারা ঠিক করল সেখানে তারা বিশ্রাম নিবে এবং গোসল করবে। কিন্তু যেই বন্ধুটি চড় খেয়েছিল সে চোরাবালিতে আটকে পরে ডুবতে শুরু করে, তখন অপর বন্ধুটি তাকে বাঁচায়। উদ্ধার পাওয়ার পর সে পাথরে লিখে রাখল “আজকে আমার সবথেকে প্রিয় বন্ধু আমার জীবন বাঁচিয়েছে”।তখন অপর বন্ধুটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা, আমি যখন তোমাকে চড় মেরেছিলাম তখন তুমি বালির উপর লিখেছিলে আর এখন পাথরের উপর লিখলে, কেন?” উত্তরে সে বলল, “যখন কেউ আমাদের আঘাত করে তখন তা আমাদের বালির উপর লিখে রাখা উচিত, যেন ক্ষমার বাতাস তা সহজেই উড়িয়ে নিয়ে মুছে দিতে পারে। আর যখন কেউ আমাদের কোন উপকার করে তখন তা পাথরে খোদাই করে রাখা উচিত, যেন কোন বাতাসই তা কখনো মুছে দিতে না পারে”।

গল্পটা পড়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ রইলো____

হুইল চেয়ারে বসে তনয় গেম খেলছিল ।
এসময় রুমে ওর বাবা ঢুকে তনয়ের
কাছে এসে বলল,
- তনয় বাবা, তোর মোবাইল এসছে ।
নে কথা বল ।
- কে বাবা? - তোর ফ্রেন্ড হাসান ।
- ও দাও ।
তনয়
মোবাইলটা হাতে নিয়ে কানে দিল ।
ওর বাবা চলে গেল ।
- হ্যালো হাসান? - কিরে তনয় কি করছিস ?
- এইতো গেম খেলছিলাম । তুই?
- আমি আজাইরা বসে আছি । আচ্ছা শোন
কাল তোর বাসায় চলে আসব সকালে ।
- আচ্ছা আসিস ।
- কাল কি দিবস জানিস তো? - কি দিবস?
- মা দিবস । আমি ভাবছি একটা কার্ড
কিনে মাকে দিব ।
- এই হাসান, আমার জন্য একটা কার্ড
কিনে এনে দিতে পারবি?
- হুম পারব । কাল কার্ড কিনে তোর বাসায় চলে আসব ।
- থ্যাংকু দোস্ত । আরেকটা কথা, আব্বু
যেন কার্ডটা না দেখে ।
- ওকে দোস্ত ।
কথা শেষ হলে তনয় মোবাইল রাখে ।
হাসান ওর ক্লোজ ফ্রেন্ড । হাসান সবই জানে । দুজনই ক্লাস সেভেনে পড়ে ।
কিন্তু তনয়কে আর স্কুলে যেতে হয়না ।
ছয়
মাস আগে ওর পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত
ক্যান্সার ধরা পড়ে । ক্যান্সার
যাতে পুরো শরীরে ছড়িয়ে না যায় সেজন্য গোড়ালি পর্যন্ত
পা কেটে ফেলা হয় । কিন্তু তাতেও
লাভ
হয়নি । ক্যান্সার হাটু পর্যন্ত
ছড়িয়ে যায়
। পরে হাঁটু পর্যন্ত পা কেটে ফেলা হয় । তারপরেও লাভ হয়নি । ক্যান্সার
পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে । তারপর
তাকে মাঝে মাঝে কেমো নিতে হয় ।
ওর
আয়ু দশ থেকে বার মাস । এর আগেও তনয়
মারা যেতে পারে । তনয় এসব সবই জানে । তার শুধু একটাই
ইচ্ছা । মারা যাবার আগে তার
মাকে একবার দেখে যেতে চায় ।
বাবাটা কেমন যেন! বাবার কাছে মার
কথা বললেই বাবা মুখ বাকা করে বলে,
"তোর মা যেখানে ইচ্ছা সেখানে থাকুক
। আর মাকে দিয়ে কি হবে?
আমি কি তোকে দেখে রাখতে পারছিনা ?"
তনয় আর কিছু বলেনা । তাদের
মাঝে কিছু
একটা হয়েছে যার কারণে মা কোথাও চলে গিয়েছে । কোথায়
গিয়েছে সে জানেনা । বাবাকেও
কিছু
বলে না ।
***
বেলা এগারটা । তনয়ের বাসায় কলিংবেল বেজে উঠল । তনয়ের
বাবা দরজা খুলে দিলেন । হাসান
এসছে ।
- আসসালামুআলাইকুম আংকেল । তনয়
কি করছে?
- আরে হাসান আস ভিতরে আস । তনয় তো ঘুমাচ্ছে ।
- এত বেলা করে ঘুম?
- ইদানীং তনয় রাত করে ঘুমায় না । খুব
ভোরে ঘুমায় । দেখি আজ ডাক্তারের
কাছে নিয়ে যাব । তুমি ওর রুমে যাও ।
হাসান ওর রুমে গিয়ে তনয়ের ঘুম ভাঙায় ।
- তুই এসছিস হাসান? কার্ড এনেছিস?
- হ্যাঁ । এই যে ধর ।
- বাহ খুব সুন্দর তো ।।
- কার্ড দিয়ে কি করবি তনয়?
- যেদিন আম্মুর সাথে দেখা হবে সেদিন
আম্মুকে দিব ।
হাসান কিছু বলেনা । নির্বাক
চোখে তনয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে ।
***
ডঃ ইমরানের রুমে তনয় আর তনয়ের বাবা ।
ডঃ ইমরান তনয়কে বললেন,
- তনয় বাবা,
তুমি নাকি ইদানীং রাতে ঘুমাও না?
- জি ।
- কেন? - ভয় লাগে ।
- কিসের ভয় ?
- অন্ধকারের ভয় । অন্ধকারকে আমি ভয়
পাই । অন্ধকারে যদি আমি মারা যাই ?
তাই জানালার পাশে বসে সারারাত
জেগে থাকি । ঘুমায় না । খুব ভোর হলে ঘুমাতে যায় ।
ডঃ ইমরান বাকরুদ্ধ । কি বলবে এই
ছেলেকে? কিছু বলার নেই । ডঃ ইমরান
তারপর চেকাপ করেন । বাইরে তনয়ের
বাবা বসে থাকে । চেকাপ
শেষে ডঃ ইমরান তনয়ের বাবাকে বললেন,
- ওর হাতে আর বেশি সময় নেই । খুব
জোড়
তিন থেকে চার মাস ।
তনয়ের বাবা কেঁদে দেন ।
- প্লীজ ডাক্তার ওকে বাঁচান । যেভাবেই
হোক ।
- আপনি প্লিজ শক্ত হোন । ও ক্রমশ দুর্বল
হয়ে পড়বে । এই তিন চার মাস ওর
সাথে সময় কাটান । ওকে আনন্দে রাখুন ।
তনয় রাতে আর ঘুমায় না । সে সারারাত জেগে মাকে নিয়ে ভাবে । সব
ভাবনাগুলো ডায়রীতে লিখে রাখে ।
এসবের কিছুই বাবা জানেনা ।
***
(তিন মাস পর)
হঠাত্ করে তনয় খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে । তাকে হসপিটালাইজড করা হয় । প্রায়
দুই
ঘন্টার অপারেশনের পর ডঃ ইমরান বের
হয়ে আসেন ।
তনয়ের বাবাকে বললেন,
- এখন কিছুটা আশংকামুক্ত । তবে যেকদিন
আছে ওকে হাসপাতালেই
থাকতে হবে ।
তনয়ের বাবা তনয়ের কেবিনে ঢুকলেন ।
বিছানায় শ্রান্ত হয়ে শুয়ে আছে তনয় ।
বাবার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে ।
- এখন কেমন আছিস তনয়?
- এইতো বাবা ভাল। আজ
তোমাকে একটা ইচ্ছার কথা বলব ।
তুমি রাগ করবে নাতো ?
- তুই যা চাইবি তাই এনে দিব । তুই বল বাবা ।
- সত্যি?
- হুম সত্যি ।
- আমার মাকে এনে দাও ।
তনয়ের বাবা তনয়ের হাত
ধরে হাঁটুগেড়ে বসে পড়লেন । তনয়ের হাত
শক্ত করে ধরে বললেন,
- আমি তোর মাকে এনে দিব । অবশ্যই
এনে দিব ।
***
দুপুরে খাবার নিতে বাসায় আসলেন তনয়ের বাবা । এসময় তনয়ের মাকে কল
দিলেন । তনয়ের মা অস্ট্রেলিয়ায়
থাকেন । প্রায় নয় বছর পর এই প্রথম
যোগাযোগ হচ্ছে তাদের ।
- হ্যালো রেহানা, কেমন আছ?
- কি ব্যাপার এত বছর পর? - তুমি কি আসতে পারবে?
- কেন ডাকছ আমাকে? বের করে দেয়ার
সময় মনে ছিল না?
- প্লিজ সব ভুলে যাও । তুমি ফিরে এস
প্লিজ. . . কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললেন
তনয়ের বাবা । - এই রিয়াজ, কি হয়েছে তোমার? কাঁদছ
কেন?
- তনয়ের ক্যান্সার । লাস্ট স্টেজ । ও শুধু
তোমাকে দেখতে চাইছে ।
দু পাশে নীরবতা । কেউ কথা বলছে না ।
দুজনই অঝোরে কেঁদে যাচ্ছেন । কাঁদো কাঁদো কন্ঠে তনয়ের মা বললেন,
- তুমি এ কথা আগে বলনি কেন? কেন
বলনি রিয়াজ? কেন ওর কাছ
থেকে দূরে সরিয়ে রাখলে?
তুমি কি জানো এই নয়টা বছর কত কষ্ট
করে পার করেছি? - আমাকে মাফ করে দাও রেহানা।
আমাদের ছেলেটি আর বাঁচবে না ।
তুমি ফিরে এস প্লিজ।
***
রাতে তনয়কে খাইয়ে খাইয়ে দিতে বললেন,
- তোর মা কালকেই আসছে । - সত্যি ? সত্যি বলছ বাবা?
- হুম । নে তোর মায়ের সাথে কথা বল ।
অতঃপর তাদের সাথে প্রথম
কথা হচ্ছে আজ ।
- হ্যালো আম্মু ?
- তনয় কেমন আছিস বাপ? - ভাল । তুমি কাল কখন আসছ আম্মু?
- কাল রাতে ল্যান্ড করব । তুই কিছু
চিন্তা করিস না বাবা। সব ঠিক
হয়ে যাবে ।
- তোমার জন্য অনেক গিফট আমার পড়ার
টেবিলের ড্রয়ারে আছে । সব তোমাকে দিব ।
- তাই নাকি? হিহি । তোর জন্য কি আনব
বল?
- আমার কিছু লাগবে না মা । শুধু
তোমাকেই লাগবে আম্মু।
মা ছেলের অনেকক্ষন কথা হয় । উত্তেজনায় তনয়ের ঘুম আসছে না । কাল
তার মাকে দেখতে পাবে । তনয়ের
কতদিনের ইচ্ছা । সে খোদার
কাছে অনেক আকুতি করে বলল
হে খোদা আমাকে আর একটি দিন
বাঁচতে দাও । কিন্তু খোদা হয়ত তার ইচ্ছা পূরণ
করতে চাইলেন না ।
***
পরেরদিন তনয়ের অবস্থা আরো খারাপ
হয়ে গেল । ডাক্তাররা বলেই দিলেন,
There is no hope.. তনয়ের হাত শক্ত
করে ধরে বাবা বসে আছেন । অনেক
কষ্টে কান্না চেপে রেখেছেন ।
ছেলের
সামনে কাঁদতে চান না । তনয়ের আর
শক্তি নেই । তার ঠোঁট দুটো শুধু নড়ছে । সে বলতে চাইছে তার মার
সাথে কথা বলবে ।
তনয়ের বাবা তনয়ের কানে মোবাইল
ধরলেন ।
- হ্যালো তনয়, আমি আসছি । খুব
তাড়াতাড়ি আসছি । - কখন আসবা আম্মু ? আমার খুব কষ্ট
হচ্ছে ।
- এইতো বাবা চলে আসব । তোর কিচ্ছু
হবে না বাপ আমার ।
- মা
- হ্যালো হ্যালো তনয় . . . . মা শুধু তনয়কে ডেকেই যাচ্ছেন । কিন্তু
তনয়ের কানে মায়ের
কথাগুলা যাচ্ছে না । পৃথিবীর
সবচেয়ে মধুর শব্দ 'মা'
ডাকটি ডেকে তনয়
মারা যায় । ***
দরজাটা খুলে তনয়ের রুমে ঢুকলেন
তনয়ের
মা । রুমের সবকিছু আছে শুধু তনয় নেই ।
তার সন্তানটি নেই । তনয়ের টেবিলের
কাছে এসে দাঁড়ালেন । তনয় বলেছিল তার
ড্রয়ারে মায়ের জন্য রাখা কিছু জিনিস
আছে ।
আসলেই আছে । মা দিবসের একটি কার্ড

বিয়ের সময় তোলা মায়ের একটি ছবি । আর একটা ডায়রী । রেহানা বেগম
ডায়রী খুলে পড়তে শুরু করলেন ।
"আজ খুব
লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে আম্মুকে নিয়ে ।
তোমাকে আগে কখনো মিস করিনি ।
আমি যখন ক্লাস ফোরে তখন থেকেই তোমাকে মিস করতে শুরু করি ।
স্কুলে যখন
দেখতাম একটা মা তার সন্তানের হাত
ধরে রাস্তা পার হচ্ছে তখন
তোমাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করি ।
আচ্ছা তুমি কেমন? আব্বুকে তোমার কথা বললে মুখ বাকা করে রাখত । কিছু
বলত না । কি হয়েছিল তোমাদের
মাঝে?
কেন তুমি দূরে চলে গেলে?
আলমারিতে অনেক
খোঁজাখুঁজি করে তোমাদের বিয়ের একটা ছবি পেলাম । ঐ ছবিটা সবসময়
সাথে রাখতাম । আচ্ছা তুমি এত
পাতলা ছিলে কেন? বন্ধুদের
মা গুলাতো সব একইরকম ।
আচ্ছা তুমি কি এখনো পাতলা আছ ? খুব
জানতে ইচ্ছে হয় । " রেহানা বেগমের চোখ
দিয়ে পানি পড়ছে । পরের
পৃষ্ঠা উলটালেন ।
"ক্লাস সেভেনে উঠার পর
জানতে পারলাম আমার ক্যান্সার ।
পা দুটা কেটে ফেলে হয়েছে । ডাক্তার
বলেছে আমি বড়জোড় এক বছর বাঁচব
অথবা এর কম । তখন মনে হল আমি আমার
আম্মুকে না দেখে কিভাবে মরব?
আব্বুকে কখনো কিছু বলিনি । শুধু আমার
বন্ধু হাসান জানত । এভাবে কেটে গেল ছয় মাস । একদিন
মা দিবসে হাসানকে বললাম
একটা কার্ড
এনে দিতে । সে এনে দিল । তোমার
সাথে দেখা হলে দিব । কিন্তু
কবে দেখা হবে জানি না । একসময় আমি নিশাচর হয়ে গেলাম ।
অন্ধকারে মরতে চায় না । তাই
দিনে ঘুমাতাম । আর সারারাত
জেগে তোমার কথা ভাবতাম ।
আমার শুধু একটাই ইচ্ছা । মরে যাবার
আগে তোমাকে একটিবার কাছ থেকে দেখা, তোমার মুখ থেকে তনয়
ডাকটি শোনা ।
তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুধু একবার
বলতে চাই ভালবাসি মা, ভালবাসি ।"

একজন বক্তা একটি ১০০০ টাকার নোট হাতে নিয়ে তাঁর সেমিনার শুরু করলেন।তিনি বললেন “এই রুমে ২০০ জন অতিথির মধ্যে, কে এই ১০০০ টাকার নোটটি পছন্দ করেন? হাত উপরে তুলুন”
সবাই হাত উপরে তুলতে লাগল… তিনি বললেন “আমি এই নোটটি আপনাদের যেকোনো একজন কে দিতে যাচ্ছি”।
কিন্তু প্রথমে আমাকে একটা কাজ করতে দিন। তিনি নোটটি হাত দিয়ে ভাঁজ করে ফেললেন। তারপর তিনি বললেন “কে এখন এই নোটটি চান?” __এখন সবার হাত উপরেই আছে।“ঠিক আছে” তিনি বললেন “আমি যদি এইরকম করি তাহলে নোটটি কি আপনারা নিবেন?”

তিনি নোটটি ফ্লোর এ ফেলে দিলেন এবং তার জুতার সঙ্গে মেঝেতে মর্দন করা শুরু করলেন। তারপর তিনি তা আবার হাতে নিলেন এবং বললেন,“দেখুন নোটটি কিন্তু দুমড়ানো এবং নোংরা হয়ে গেছে, এখনও কি আপনারা নিবেন? __কিন্তু এখনও সবার হাত উপরেই আছে।

“আমার বন্ধুরা” তিনি বললেন, “ নোটটিকে কি করেছি এটা কোন ব্যাপার না, যতই নোংরা এবং লাট করিনা কেন আপনারা এখনও এটি চাচ্ছেন কারন “নোংরা এবং লাট” করাতে নোটটির মূল্যকে মোটেই কমিয়ে দেইনি।এটি এখনও ১০০০টাকাই আছে।

ঠিক তেমন, অনেক সময় আমাদের জীবনেও এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যার কারনে এমন কিছু ভাল বা খারাপসিদ্ধান্ত নিতে হয়,যা আমাদেরকে অনেক নিচে ফেলে দেয়,সবার থেকে অনেক পিছিয়ে পরতে হয়, হতাশায় মুচড়ে যায়,
আপনি মনে করতে পারেন আপনার দ্বারা কিছুই হবে না…কিন্তু কি ঘটেছে বা কি ঘটবে তা কোন ব্যাপার না কারন আপনি কখনো আপনার মূল্য হারাবেন না।
“মূল্যেরও মূল্য আছে যদি ঐ মূল্যকে মুল্যায়িত করা যায়”আপনি সত্যিই বিশেষ কিছু, এটা কখনো ভুলবেন না! এবং গতকালকের হতাশা দিয়ে আগামীর স্বপ্নকে কখনো ঢেকে ফেলতে দিবেন না।

ক্লাসে স্যার তখন একটা বৃদ্ধা মহিলার গল্প শোনাচ্ছেন। গল্পটা এরকম যে বৃদ্ধা মহিলাটা তার ছেলেকে কষ্ট করে লেখাপড়া শেখায় কিন্তু ছেলেটা একসময় তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। ছোট ছেলে কামাল তখন শেষের বেঞ্চে বসে কলম দিয়ে ছবি আঁকছিলো। স্যারের দিকে কামালের কোন মনোযোগ নেই। ব্যাপারটা একসময় স্যারের চোখে পরলো। স্যার হুংকার দিয়ে বলল....
.
--এই কামাল দাঁড়া।
.
কামাল ছবি একেই চলছে। তার কোনদিকে মনোযোগ নেই। স্যার যে রেগে আছে সেদিকে কোন খেয়াল নেই কামালের। স্যার হাতে থাকা বেত দিয়ে টেবিলের উপর ঠাস করে বারি মেরে বলল....
.
-এই কামাল তোকে দাঁড়াতে বলছি।
.
কামাল বেতের ঠাসস শব্দ শুনে মুখ উচু করে তাকায়। রুহুল আমিন স্যার প্রচণ্ড রেগে আছেন। কামাল কলমের মুখাটা লাগিয়ে পকেটে রাখলো। তারপর বলল....
.
--জি স্যার বলুন?
.
কামালের এমন কথা শুনে ক্লাসের সবাই হেসে ওঠে। কামাল সবার হাসির রহস্য বুঝতে পারেনা। রুহুল আমিন স্যার রেগে গিয়ে বললেন....
.
--চুপ করো সবাই। বল কি পড়াচ্ছিলাম আমি।
.
-স্যার জানিনা।
.
--আমি যখন পড়াচ্ছিলাম আর তুই কি করছিলি?
.
-স্যার একটা ছবি আঁকছিলাম।
.
--কিইইই? আমি ক্লাসে পড়াচ্ছি আর তুই ছবি আঁকছিস? সামনে আয়...
.
-স্যার ছবিটা নিয়ে যাব?
.
--শুধু তুই আয় হারামজাদা।
.
কামাল মুচকি হেসে সামনে যায়। রুহুল আমিন স্যার কামালকে বলে হাত পাততে। কামাল হাত পাততেই স্যার ঠাসস ঠাসস করে কয়েকটা বারি মারে কামালের হাতে। বারি দিয়ে স্যার বলে....
.
--যা যায়গায় গিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক।
.
কামাল মুচকি হেসে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। বারি খেয়ে হাত লাল টকটকা হয়ে গেছে কামালের। হাত থরথর করে কাঁপছে। ক্লাস ততক্ষণে একদম নীরব। সবাই অবাক হচ্ছে এই ভেবে যে বারি খেয়ে কামাল হাসছে কেন?
.
রুহুল আমিন স্যার সোফায় বসে চা খাচ্ছেন। পাশেই তার বউ বসা। টিভিতে মিরাক্কেল চলছে। জমজমাট পরিবেশ। ঠিক তখন-ই পাশের রুম থেকে গোংরানির আওয়াজ এলো। মালিহা ( স্যারের বউ) রেগে গিয়ে রুহুল আমিন স্যারকে বলল....
.
--দেখো এই বুড়ির গোংরানির আওয়াজ আমার একদম সহ্য হয়না। তোমাকে কত করে বলছি এখন উনাকে এ বাড়িতে না রেখে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসো।
.
-আহা, মা'র বয়স হয়েছেতো।
.
--তো? তাই বলে বাড়িটাকে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলবে?
.
-জাহান্নাম কই বানালো?
.
--দেখো এই বাড়িতে নাহয় তোমার মা থাকবে নাহয় আমি....
.
বলেই মালিহা সোফা থেকে উঠে হনহন করে চলে গেলো। রুহুল আমিন স্যার হতাশ হয়ে বসে রইলেন সোফায়। মালিহা অনেকদিন থেকেই বৃদ্ধাশ্রমের কথাটা বলছে। হাজারটা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি। কি করবে বুঝতে পারছেননা। একবার বৃদ্ধা মায়ের কথা মনে পরছে আরেকবার বউয়ের কথা। শেষমেশ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো রুহুল আমিন স্যার। এক পা দুই পা করে মায়ের রুমে পা বাড়ায় রুহুল আমিন স্যার। তারপর মায়ের বিছানার পাশে বসে। মা বলল....
.
--কিছু বলবি বাবা?
.
-না মানে বলছিলাম আরকি....
.
--হুম বলে ফেল।
.
-আসলে মালিহা বলছে তোমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে। বাড়িতে একাএকা বোর হচ্ছো বরং ওখানে গেলেই কিছু সঙ্গী পাবে সময়ও ভালো কাঁটবে। আর আমিতো খোঁজখবর নিবই, মাস শেষে টাকাও পাঠাবো।
.
নিজের সন্তানের মুখ থেকে হুট করে বৃদ্ধাশ্রমের কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে রহিমা বানুর। মনে হচ্ছে কেউ কলিজাটা ছিরে নিয়ে যাচ্ছে। রুহুল আমিন স্যার আবার বলল....
.
--তুমি কি বলো মা?
.
অনেক কষ্টে চোখের জল লুকিয়ে কাশতে কাশতে রহিমা বানু বলল....
.
-তোরা যেটা ভালো মনে করিস সেটাই কর। আর তোরা খুশী হলেই আমি খুশি।
.
মায়ের মুখ থেকে এমন কথা শুনে মুখে হাসি ফুটে ওঠে রুহুল আমিন স্যারের। আর দেরি করেনা। কথাটা মালিহাকে বলতেই মালিহা আনন্দে আত্বহারা হয়ে যায়। সিদ্ধান্ধ নেয় আজ-ই মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে। তারপর বিকেল বেলা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে খুশি মনে বাসায় আসে রুহুল আমিন স্যার।
.
ক্লাস হৈ-হুল্লুড় চলছে। সবাই চিৎকার চেঁচামিচি করছে। কামাল ঠিক আগের দিনের মতনই ছবি আঁকছে। একটু পর ক্লাসে রুহুল আমিন স্যার প্রবেশ করলেন। সম্মান প্রদর্শনে সবাই দাঁড়িয়ে গেলো শুধু কামাল ছাড়া। রুহুল আমিন স্যার সেটা খেয়াল করলেন না। সবাইকে বসতে বলে বই খুলতে বললেন। 'বৃদ্রাশ্রম' গল্পের শেষের দিকে পড়ানো শুরু করলেন স্যার। একজনকে পড়তে বলবে ঠিক তখন-ই চোখ গেলো শেষের বেঞ্চে কামালের দিকে। স্যারের রাগ হুট করে বেরে গেলো। ধমক দিয়ে বলল....
.
--এই কামাল দাঁড়া।
.
স্যারের ধমক শুনে উঠে দাঁড়ায় কামাল। মুচকি হেসে বলে....
.
-জি স্যার বলেন।
.
--কি করছিলি তুই আজকে?
.
-স্যার ছবি আঁকছিলাম।
.
--হারামজাদা তুই আজকেও ছবি আকছিস, সামনে আয়।
.
স্যারের কথা শুনে কামাল স্যারের কাছে যায়। স্যার বলল, 'ছবি নিয়ে আয়।' কামাল এবার ছবিটা নিয়ে আসে। রাগে গজগজ করতে করতে ছবিটা হাতে নেয় রুহুল আমিন স্যার। ছবিটা দেখেই চোখ আটকে যায় স্যারের। এত নিখুঁত আর্ট মনে হয় আর কখনো দেখেনি সে। আরো অবাক হলো ছবিতে একটা ছেলে একটা মহিলাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে যাচ্ছে এটা দেখে, এবং যে ছেলেটি মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে যাচ্ছে তার পাশে মার্ক করে লেখা 'অমানুষ।' হুট করেই বুকটা ধুক করে ওঠে রুহুল আমিন স্যারের। কামালের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকায় স্যার। কামাল মুচকি হেসে বলে....
.
--স্যার, আপনে বলেছিলেন যারা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, মা বাবাকে সম্মান করেনা তারা অমানুষ। দেখছেন স্যার ছবিতে ছেলেটা তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে যাচ্ছে তাহলে তো ছেলেটাও অমানুষ তাইনা স্যার?
.
কামালের কথাটা সরাসরি বুকে গিয়ে লাগে রুহুল আমিন স্যারের। বুকে চিনচিন ব্যথার অনুভব হয়। মনে হচ্ছে জীবন থেকে মূল্যবান কিছু হারিয়েছে। কামাল বলল.....
.
--ছবিটা কেমন হয়েছে স্যার?
.
রুহুল আমিন স্যার কিছু বলেনা। উনার চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে। সাথেসাথে ক্লাস থেকে বেরিয়ে বাইক স্টার্ট করে স্যার। পিছন থেকে কামাল বলে.....
.
-স্যার ক্লাস নিবেননা? কোথায় যান?
.
রুহুল আমিন স্যার ঝাপসা চোখে কামালের দিকে তাকায়। কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে....
.
--অনেক বড় একটা পাপ করেছিরে, সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে যাচ্ছি।
.
বলেই বাইক চালিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের দিকে রওনা হয় রুহুল আমিন স্যার।
.
আশ্রমের গেটের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রহিমা বানু। তার মনে হচ্ছে ছেলেটা লুকোচুরি খেলছে, আবার তাকে নিতে আসবে। কোথাও একটা আশার আলো জ্বলছে...চোখ বেয়ে টুপ করে এক ফোটা চোখের অশ্রু গড়িয়ে পরে রহিমা বানুর। মায়েদের আন্দাজ যে কখনো ভুল হয়না।
.
প্রায়শ্চিত্ত

#collected

#কুৎসিত_সেই_মায়ের_গল্প
রাশেদের মা বাবা দুজন দুজনকে ভালবেসেই বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু রাশেদের দাদা ও নানা দুই পরিবারের কোন পরিবারই বিয়েটা মেনে নেননি। রাশেদের মা বাবা অনেক দূরে কোথাও চলে যান। দুজনেই বেশ ভালোই ছিল। রাশেদের বয়স যখন ১ বছর ৫ মাস তখনই রাশেদের বাবা রোড এক্সিডেন্টে মারাযান। রাশেদের বয়স দেখতে দেখতে ৬ বছর হয়ে গেল। একটা প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করান। কিন্তু রাশেদের মেধা অনেকটাই ভাল। এ যেন সব ছাত্র/ছাত্রীর তুলনায় একটু আলাদা। সবসময়ই ক্লাসের প্রথম থাকতো। রাশেদের মা সবার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে রাশেদকে পড়ানো শুরু করে। কেননা রাশেদই ছিল তার শেষ ভরসা। রাশেদ S S C, H S C তেও সেরা হন। ভারসিটিতে ফ্রি পড়ার সুযোগ পান। সেখানেও প্রথম হন। যে কারণে তার বন্ধুরা রাশেদের কাছে একটি পার্টি দাবি করেন। সবাই সেই পার্টিতে গেলেও রাশেদের মায়ের যাওয়া নিষেধ ছিল। কারণ রাশেদের মায়ের চেহারা কুৎসিত এবং তিন অন্ধ ছিলেন। রাশেদের বন্ধুদের সামনে লজ্জা পাবে বলে রাশেদ তার মাকে যেতে নিষেধ করেন। রাশেদ এখন অনেক বড় চাকরি করেন। রাশেদ বিয়ে করেছেন। রাশেদের দুটি ছেলেও আছে। কিন্তু রাশেদ এখন আর তার মায়ের সাথে থাকে না। রাশেদের মা রাশেদের মুখে একটি বার মা ডাকটি শোনার জন্য ছটফট করতেছে। অনেক কষ্টে একদিন রাশেদের দরজায় হাজির। রাশেদের এক ছেলের বয়স ৬ আর ছোটনা তাই না ছেলেটার বয়স ৩। রাশেদের মাকে রাশেদের ছোট ছেলে দেখে একটু ভয়ও পেয়ে যায়। এ অবস্থায় রাশেদের স্ত্রী খুব রেগে যান। রাশেদের মা কেঁদেছিল আর বলেছিল খোকা একবার মা বলে ডাকবি? রাশেদ রেগে গিয়ে বললেন আমার সন্তান তোমাকে দেখে ভয় পাচ্ছে। চলে যাও। রাশেদের মা চলে আসেন আর তার কিছুদিন পর মারা যান।
রাশেদের মা মারা যাবার প্রায় ৬ মাস পর রাশেদ তার মায়ের বাসায় যান। পুরোনো সেই আলমারির দরজা খুলেই অনেক গুলো পুরোনো কাপড় আর একটি ডাইরি খুঁজে পান।
ডাইরির প্রথম পাতায় লেখা ছিল উৎস্বর্গে কলিজার টুকরো রাশেদ। তার পরের পেইজে লেখা ছিল ১৯৮১ সালে কলেজে আমাকে সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে বলে আখ্যায়িত করেন এবং এই ডাইরিটি উপহার পাই আর সেদিনই সপথ করেছিলাম ডাইরিটি আমার ভবিষ্যত সন্তানের নামে উৎসর্গ করব।
১৯৮৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি এই ভালবাসা দিবসে আমার কোলজুরে আমার কলিজার টুকরো রাশেদ দুনিয়ায় আসেন। আর এই দিনটি আমার জীবনের সেরা দিন।
১৯৮৮ সালের ১০ আগস্ট আমার ঘরে আগুন লেগে যায়। ঘরে ঘুমিয়ে থাকা রাশেদকে বাঁচানোর জন্য আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ি। রাশেদকে আর এই আর এই ডাইরিটি নিয়ে বের হতে হতেই আমার শরীর ও মুখ পুড়ে যায়। ভাগ্যগুনে সেদিন আমার চোখ দুটি ভাল থাকলেও আমার কলিজার টুকরোর চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
আজ ১৯৮৯ সালের ১লা জানুয়ারি আমি পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারলেও আমার চোখ দুটি আমার কলিজার টুকরোকে দিয়ে দিলাম। আর হয়তো এই ডাইরির কোন পাতাতে আমার কোন লেখা থাকবে না। আমি পৃথিবীর অনেক কিছুই দেখেছি কিন্তু আমার কলিজার টুকরো রাশেদের অনেক কিছুই দেখার বাকি আছে। তাই ওকে আলোর সন্ধান মেলানোর জন্য আমার চোখ দুটি দিলাম।
ডাইরির লেখা গুলো পড়ে রাশেদ হাউমাউ করে কেঁদেছিল আর বার বার বলতেছিল মাগো আমাকে ক্ষমা করে দিও। তুমি আরেকবার এসে দেখো তোমার কোন অযত্ন হতে দিব না।
আফসোস, রাশেদ চাইলেও আর ওর মা কখনোই ফিরে আসবে না। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন আপনার সবচেয়ে বড় বড় বিপদের সময় আর কেউ পাশে না থাকলেও আপনার মা আপনার পাশে ছিল। মায়ের তুলনা শুধুই 'মা'। থাকতে চিনতে চেষ্টা করুন হারিয়ে গেলে নয়।

**** খুব শিক্ষাণীয় একটি গল্প ****

এক বুযুর্গ কোনো এক দোকানে কিছু পন্য কিনতে গেলেন। পণ্য খরীদ করার পর যখন তিনি দোকানি কে টাকা দিলেন তখন দোকানি টাকাটা হাতে নিয়ে পরিক্ষা করতে লাগলেন।

কিছু সময় পর বললো বাবা! এটা জাল নোট।
এটা অচল। দোকানির বক্তব্য শুনে বুযুর্গ হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।দোকানদার বললো, আপনি কাঁদবেন না। আমি আপনাকে বিনে পয়সায় পণ্য দেবো।

☞ না না ! আমার পণ্যের প্রয়োজন নেই। তিনি কেঁদেই চললেন। আশে-পাশে লোকজন জড়ো হয়ে গেলো।

ভীড় ঠেলে একজন সামনে এসে বললো,বাবাজী!
এতো কাঁদবেন না। সে যদি আপনাকে পণ্য নাও দেয় তাহলে আমি নিজের টাকা দিয়ে আপনাকে পণ্য কিনে দেবো। আপনি কান্না বন্ধ করে পণ্য নিয়ে যান।

উত্তরে তিনি বললেন, বাবা! পণ্য নিতে না পেরে আমি কাঁদছি না। আমিতো এই জন্য কাঁদছি যে, আমি
ভেবেছিলাম, আমার কাছে কিছু টাকা আছে ।
আমি সেগুলোকে খাঁটি মনে করেছিলাম।

কিন্তু আমি যখন সেই টাকা দোকানদারের কাছে আনলাম, দোকানদার তা পরীক্ষা করে বললো, এটা জাল টাকা। তখন আমার ভাবনা এলো,হায় হায়!আমি পৃথিবীতে যে আমল করছি তাকে খাঁটি মনে করছি।

আত্মতৃপ্তিবোধ করছি আমার ভাণ্ডারেও বেশ আমল আছে। হাশরের মাঠে যদি আল্লাহ আমাকে বলেন, ও বান্দা! তুমি যতো আমল সাথে এনেছো তার সব ভেজাল! সব ভেজাল!তাহলে আমার কী হবে?

পৃথিবীতে তো আমি অন্য টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে পারবো। কিন্তু আখেরাতে তো অন্য আমল নেয়ারও সুযোগ পাবো না। একথা ভেবেই আমার কান্না চলে এলো। লোকেরাও তার কথা শুনে চিন্তিত হলো।

মাঝে-মাঝে মনে ভাবনা জাগে। এইযে টুটা-ফাটা আমল আমরা দৈনন্দিন করছি সেগুলো সব গৃহীত হবে তো প্রভুর দরবারে?

আমাদের নামায,রোজা,সব নাকি আকাশে ওঠার আগেই আমাদের নাকে-মুখে নিক্ষেপ করা হচ্ছে দলা
পাকিয়ে?

নিষ্কৃতি পাবো তো তাঁর দরবারে? কাল হাসরে?
ভাবলে খুব ভয় হয়। আমাদের আমল গুলো সুন্নাতে নবীর সাথে মিলছে তো?

হে প্রভু! আমাদেরকে নির্ভেজাল আমল করার
তৌফিক দান করো।
…………………………আমিন……………………

এক গ্রামে একজন কৃষক ছিলেন। তিনি দুধ থেকে দই ও মাখন তৈরি করে বিক্রি করতেন। একদিন কৃষকের স্ত্রী মাখন তৈরি করে কৃষককে দিলেন বিক্রি করতে। কৃষক তা বিক্রি করার জন্য গ্রাম থেকে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।মাখনগুলো ছিল ১ কেজি করে ওজনের গোল-গোল রোল আকৃতির।
শহরে পৌঁছে কৃষক প্রতিবারের ন্যায় পূর্ব নির্ধারিত দোকানে মাখনগুলো দিয়ে পরিবর্তে চা চিনি তেল ও সংসারের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিয়ে আসতেন।
আজ কৃষক চলে যাওয়ার পরে দোকানদার মাখনের রোলগুলো ফ্রিজে রাখার সময় ভাবলেন মাখনের ওজন সঠিক আছে কিনা একবার পরীক্ষা করে দেখা যাক। মাখনের রোলগুলো ওজন করতেই উনি দেখলেন মাখনের ওজন আসলে ১ কেজি নয় তা প্রতিটা আছে ৯০০ গ্রাম করে।
পরের সপ্তাহে আবার কৃষক উক্ত দোকানে মাখন বিক্রি করতে গেলেন। দোকানের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার কৃষকের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, "বেরিয়ে যাও আমার দোকান থেকে। এবার থেকে কোন বেঈমান চিটিংবাজের সাথে ব্যাবসা কর। আমার দোকানে আর কোনদিন পা রাখবে না। ৯০০ গ্রাম মাখন ১ কেজি বলে বিক্রি করা লোকটার মুখ আমি দেখতে চাইনা।”
কৃষক বিনম্রভাবে কম্পিত স্বরে দোকানদারকে বললেন, “দাদা! দয়া করে রাগ করবেন না। আসলে আমি খুবই গরিব মানুষ। দাড়িপাল্লার বাটখারা কেনার মতো পয়সা আমার নেই। তাই আপনার থেকে প্রতিবার যে ১ কেজি করে চিনি নিয়ে যেতাম সেটাই দাড়িপাল্লার একপাশে রেখে অন্য পাশে মাখনের রোল মেপে নিয়ে আসতাম।“

#Moral: আপনি অপরকে যেটা দেবেন, সেটাই পরে আবার আপনার কাছে ফিরে আসবে। তা সেটা সম্মান হোক বা ঘৃণা!

-সংগৃহীত

তিনটি জিনিস শরীরকে অসুস্থ করে :-⤵⤵⤵

▶অতিরিক্ত কথা বলা
▶অতিরিক্ত ঘুমানো
▶অতিরিক্ত খাওয়া

🕘 চারটি জিনিস শরীরকে ধ্বংস করে :-⤵⤵⤵

▶দুশ্চিন্তা
▶দুঃখ
▶ ক্ষুধা
▶রাত জাগা

🕤 চারটি জিনিস যা চেহারা শুষ্ক করে দেয় এবং আনন্দ ও সম্মান দূর করে দেয় :-⤵⤵⤵

▶মিথ্যা বলা
▶দাম্ভিকতা
▶জ্ঞান ছাড়া অতিরিক্ত প্রশ্ন করা
▶অশ্লীলতা

🕦 চারটি জিনিস যা সম্মান এবং চেহারার আনন্দ ফিরিয়ে আনে:-⤵⤵⤵

▶তাক্বওয়া
▶সত্যবাদিতা
▶উদারতা
▶আত্মসম্মান

🕥 চারটি জিনিস যা রিযিক নিয়ে আসে:-⤵⤵⤵

▶রাতের সালাত
▶সূর্যোদয়ের পূর্বে বেশী বেশী আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা
▶ক্রমাগত দান খয়রাত করা
▶দিনের শুরুতে এবং দিনের শেষে আল্লাহ্‌র যিকির

🕘 চারটি জিনিস যা রিযিকে বাধা দেয় :-⤵⤵⤵

▶সকালের প্রথমাংশে ঘুমানো (ফজরের পর)
▶সালাতের ঘাটতি/অভাব
▶অলসতা
▶বিশ্বাসঘাতকতা

❇➡আত-তীব, যা'দ আল-মা'আদ, পৃষ্ঠা ৩৭৮/৪⬅
আল্লাহ আমাদের সবাইকে উপরোক্ত ↑ কথা গুলো মেনে চলার তৌফিক দান করুন। ,,,,,,আমিন....।

বিয়ের ১৫ দিন না যেতে না যেতেই মেয়েটার মাথা ঘুরানি আর বমি বমি ভাব দেখে শুধু আমি অবাক হইনি, বরং অবাক হয়েছে আমার গোটা পরিবার।

অবশেষে পরিবারের চাপে পড়ে নিয়ে গেলাম ডক্টরের কাছে! চেকাপ করে সত্যাটা প্রকাশ পেলো,আমি বাচ্চার বাবা হতে চলেছি! :o

যেখানে আমার খুশি হওয়ার কথা সেখানে আমি নারাজ!! :/
মেয়েটাকে বাসায় নিয়ে আসলাম।মেয়েটার চোখে চোখ রেখে জানতে চাইলামঃ
--সত্যি কি এই বাচ্চার বাবা আমি?
মেয়েটা চুপ করে আছে!
কোন উত্তর নেই!!
মাথায় হাত বুলিয়ে সাহস দিলাম, ভয় পেয়োনা।
আমি তোমাকে ত্যাগ করবোনা, শুধু একজন পুরুষ হয়ে সেই পুরুষেকে ধিক্কার জানাবো, যে আমার স্বপ্নটা পূরণ হতে দেয়নি!

মেয়েটার চোখ দিয়ে শুধু পানি ঝরছে। কাধতে কাধতে হেস্কি উঠে গেছে তার। কান্নার আওয়াজ আমার অন্তর
ভেঙ্গে খান খান করে দিচ্ছে। আমি উত্তর পেয়ে গেছি!
তবুও তাকে দোষ দেয়নি।ভাগ্য বলে চালিয়ে নিলাম!

ওকে এতটাই ভালোবাসি যে, ছুড়ে ফেলতে পারলাম না!
আমি পরিবার থেকে বঞ্চিত হলাম। অন্য অফিসে বদলি হলাম। মেয়েটা কেমন জানি বোবা হয়ে গেছে, বাসায় একা একা মন মরা দিয়ে থাকে সারাক্ষণ। কোন কথা বলে না।
কাঁদতে কাঁদতে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে!

হঠাৎ এক গভীর রাতে হু হু করে কেঁদে উঠেছে।
আমি চমকে গেলাম। জেগে দেখি মেয়েটা আমার বুকের উপর মাথা রেখে চোখের পানিতে আমার গেঞ্জি ভিজিয়ে ফেলছে। চোখ মুছে দিয়ে আবার বুকে জড়িয়ে নিলাম। আমি ওকে একটুও ঠকাইনি তবে সে আমাকে ঠকিয়েছে এটাই তার দুঃখ। তবে বেপার না, আমি ঐ বাঁচ্চা কে নিয়েই স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম!

বিয়ের বয়স ৮ মাস হতেই বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হলো।দুঃখের
বিষয় বাচ্চাটা ছিলো মরা! মেয়েটার জ্ঞান ফেরার পরে
যখন জানতে পারলো বাচ্চাটা মারা গেছে, সে তখন গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে আমাকে ডাক দিয়ে আবার বেহুশ হয়ে গেলো। তার পর থেকে মেয়েটা আর কথা বলতে পারেনা। এখনো দুজন দুজনকে পাগলের মত ভালবাসি!

বিয়ের বয়স আজ চার বছর, বাবা হওয়ার স্বপ্নটা
আর পূরণ হলোনা। তবুও সারাদিন পরিশ্রম শেষে যখন ডিম লাইটের আলো নিভিয়ে মেয়েটা আমার বুকের উপর মাথা রাখে, বিশ্বাস করুন....!!
আমি তখন স্বর্গের ছোঁয়া পাই।
ভালো থাকুক ভালবাসা!! ভাল থাকুক ভালবাসার মানুষগুলো

ভালবাসার কাছে অনেক বড় ভুলও ক্ষমার যোগ্য হয়ে যায়! ভালবাসুন, কিন্তু কিছু গোপন রেখে না।
সম্পর্ক জড়াবার আগে সব সত্য বলে দিন, মাফ চেয়ে নিন!! তারপর দেখবেন আপনিই শ্রেষ্ট প্রেমিক-প্রেমিকা/স্বামী-স্ত্রী।

#copy_post

#বিশ্বের_সবচেয়ে_ধনী_ব্যক্তি_বিল_গেটসকে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "পৃথিবীতে আপনার চেয়ে ধনী আর কি কেউ আছে?

বিল গেটস বলেছিলেন "হ্যাঁ এমন একজন আছেন যিনি আমার চেয়েও ধনী।"

এরপরে তিনি একটি গল্পের কথা বর্ণনা করলেন।

“এটা এমন এক সময় ছিল যখন আমি ধনী কিংবা বিখ্যাত ছিলাম না।
একদিন আমি নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। তখন আমি একজন সংবাদপত্র বিক্রেতাকে দেখেছিলাম। আমি তার থেকে একটি সংবাদপত্র কিনতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার কাছে ভাংতি পয়সা অথবা খুচরা পয়সা ছিল না। তাই আমি কেনার ধারণাটি ছেড়ে সেটা বিক্রেতার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। আমি তাকে আমার কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকার কথা বলেছিলাম। সে বিক্রেতা আমাকে বলেছিলেন "এটা আমি আপনাকে ফ্রী তে দিচ্ছি।" তার অনুরোধে আমি পত্রিকাটি নিয়েছিলাম।

“কাকতালীয়ভাবে, দুই থেকে তিন মাস পরে আমি একই বিমানবন্দরে আবার অবতরণ করেছিলাম এবং সেদিনও পত্রিকা কেনার জন্য আমার কাছে ভাংতি ছিল না। বিক্রেতা আবার পত্রিকাটি আমাকে ফ্রী তে অফার করেছিলেন। আমি সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমি এটি নিতে পারবো না। কারণ আজও আমার কাছে যথেষ্ট অর্থ নেই। তিনি বলেছিলেন "আপনি পত্রিকাটি নিতে পারেন, আমি এটা আমার লাভ থেকে ভাগ করে দিচ্ছি। এতে আমার কোন ক্ষতি হবে না"। আমি পত্রিকাটি নিয়েছিলাম।

১৯ বছর পরে আমি বিখ্যাত এবং মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠি। হঠাৎ করে মনে পরলো সেই বিক্রেতার কথা। আমি তার সন্ধান শুরু করি এবং প্রায় দেড় মাস অনুসন্ধানের পরে আমি তাকে খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম "আপনি কি আমাকে চেনেন?তিনি বলেছিলেন "হ্যাঁ আপনি বিল গেটস"। আমি তাকে আবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম "আপনার মনে আছে আপনি আমাকে বিনা মূল্যে একটি পত্রিকা দিয়েছিলেন? সে বিক্রেতাটি বললেন "হ্যাঁ মনে আছে"। "আপনাকে দুই বার আমি পত্রিকা দিয়েছিলাম।"

আমি বলেছিলাম "সে সময় আপনি আমাকে যে সাহায্যটা করেছিলেন তা আমি আজ ফিরিয়ে দিতে চাই। আপনি আপনার জীবনে কি চান বলুন, আমি সেটা পূরণ করবো ’'

বিক্রেতা বললেন "স্যার, আপনি কি করে মনে করেন যে এটা করে আপনি আমার সাহায্যের সাথে মেলাতে পারবেন?"

আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন?

তিনি বলেছিলেন" আমি যখন দরিদ্র সংবাদপত্রের বিক্রেতা ছিলাম, তখন আপনাকে সাহায্য করেছিলাম আর আপনি আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন তখনই যখন আপনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনী ব্যক্তি হয়ে উঠলেন। তাহলে কীভাবে আপনার সাহায্য আমার সাহায্যের সাথে মিলে?"

বিল গেটস বলেছিলেন "আমি সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম যে সংবাদপত্রের বিক্রেতা আমার চেয়ে বেশি ধনী ছিলেন। কারণ তিনি কাউকে সাহায্য করার জন্য ধনী হওয়ার অপেক্ষা করেন নি।"

আমাদের বুঝতে হবে, সত্যিকারের ধনী ব্যক্তি হলো তারা যাদের প্রচুর অর্থের চেয়েও ধনী একটি মন আছে।

দামী একটি মন থাকা, প্রচুর অর্থের চেয়েও প্রয়োজনীয়।

এক গ্রামে একটি কূপ ছিল। কূপটি ছিল ভূতুরে আর তার পানি ছিল একদম তলানিতে। গ্রামের লোকজন যখনই পানি তুলতে তাতে বালতি ফেলত প্রতিবারই বালতিশূন্য রশি উঠে আসত। এমন অদ্ভুতকাণ্ড বারবার ঘটায় গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল যে, কূপটি জীনের বাসা। এখানে ভয়ংকর একটা জীন বাস করে।

কিন্তু এভাবে আর কদিন।চলে? তাদের পানি সংগ্রহ করতে হবে। এর একটা বিহিত করা দরকার। কিন্তু কূপে নামবে কে? কেউ সহজে রাজি হচ্ছে না।এমন সময় এক যুবক কূপে নামতে রাজি হলো। সে বলল, আমি কূপে নামব।।আমার কোমরে রশি বেঁধে নামিয়ে দিবেন। তবে শর্ত হল রশির অপর প্রান্তে অবশ্যই আপনাদের সাথে আমার পিতাকে থাকতে হবে।

গ্রামের লোকজন তার শর্ত শুনে বেশ আশ্চর্য হলো। গ্রামের শক্তিশালী সুঠাম এতগুলো মানুষ থাকতে তার পিতাকে লাগবে কেন?!

প্রথমে তারা যুবককে বিষয়টা বোঝাতে চেষ্টা করল। তবুও তার এক কথা অবশ্যই তার পিতাকে সাথে রাখতে হবে। তার পিতাকে খুঁজে আনা হলো। সবাই মিলে যুবককে কূপে নামিয়ে দিল। ভেতরে গিয়ে সে দেখল, কূপের তলার জলের ঠিক একটু উপরে একটি কোঠর রয়েছে একটি বানর। এই শয়তান বানরটিই বালতি রেখে দিত।

যুবক বানরটিকে ধরে কাঁধে বসিয়ে রশি টানার নির্দেশ দিল।বানরটি ছিল যুবকের কাঁধে। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই সর্বপ্রথম দৃষ্টিগোচর হল বানরের চেহারা। হঠাৎ করে ভূতদর্শন চেহারা দেখে সবাই মনে করল, জীনটা উঠে আসছে। তাই রশি ফেলে সবাই পালালো ।

কিন্তু একজন রশি ছাড়ল না। আর সে হলো ছেলেটির পিতা। বহুকষ্টে ছেলেকে টেনে তুলল উপরে। ফলে তার ছেলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল।

তখন সবাই বুঝতে পারল কেন সে পিতাকে রশি ধরার শর্ত দিয়েছিল। কারণ, পৃথিবীতে সবাই বিপদের সময় দূরে সরে গেলেও পিতা/মাতা সরবে না। তাই আসুন পিতা/মাতাকে ভালোবাসি। তাদের সঠিক মূল্যায়ন করি।
(কপিপেস্ট)

#সময়_হলে_পড়ুন_ভালো_লাগবে
সম্প্রতি পুলিশের এসআই নিয়োগ পরীক্ষা চলছে। ছেলেটি কাগজপত্র সত্যায়ন করতে আসে। নিজের রুমে বসে আছি, হাত মুখ ধুয়ে মাত্র দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় সে এসে হাজির। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কাচুমাচু করছিল, ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিলাম।

প্রথম ধাক্কায় মনে হল, ছেলে নেশাআসক্ত নয়ত শারীরিকভাবে অসুস্থ। কাগজপত্র এগিয়ে দিল, আমি একে একে সাক্ষর করছি আর অল্পস্বল্প তার বিবিধ জিজ্ঞেস করছি। এই আলাপপর্ব আমি প্রায়শ করে থাকি।

-বাবা, তুমি কি নেশাটেশা কর?

-না, স্যার।

-রাত জাগো?

-জ্বী না স্যার।

ছেলেটির লিকলিকে শরীর আর কাগজপত্র, ছবি স্বাক্ষরের সময় যখন একটা একটা কাগজ টেনে নিচ্ছিল তখন খেয়াল করছিলাম ছেলেটির হাত ঈষৎ কাঁপছে। তাই ভণিতা না করে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছিলাম।

-তাহলে তোমার এই অবস্থা কেন? দেখে তো সুস্থ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।
-(সলজ্জভঙ্গিতে উত্তর দিল) মেসে থাকি তো, খাওয়া-ঘুমের ঠিক নেই স্যার।

জিজ্ঞেস করলাম, টিউশনি কর কয়টা?

-তিনটা। এই মাসে আর একটা নিয়েছি।

-কত পাও সব মিলিয়ে?

- ছয়-সাত হাজার!

-টাকাগুলো দিয়ে কী কর?

-বাড়িতে পাঠাই কিছু, গ্রামে বাবা-মা আর ছোট একটা ভাই থাকে। বাকিটা মেস ভাড়া, মিল খরচ আর পড়াশোনার ব্যয় স্যার।

-বুঝলাম, তুমি তোমার খরচ চালিয়েও বাড়িতে টাকা পাঠাচ্ছো। কিন্তু তোমার স্বাস্থ্যের এই ভগ্নদশা কেন? খাওয়া-দাওয়া নিয়মিত কর না?

-করি স্যার। (ছেলেটি এবার কুঁকড়ে যায়) তবে সব-সময় খাওয়া হয় না। সকালে ভার্সিটিতে আসি, ক্লাস শেষ করে টিউশনিতে চলে যাই। মেসে ফিরতে ফিরতে রাত দশটা-এগারটা। টিউশনির বাসায় যে নাস্তা দেয় তাই দিয়ে দুপুরেরটা চালিয়ে নিই; অবশ্য কখনও-সখনও দেয়ও না। এভাবেই দিন চলে।

আমি গভীর এক দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। দুই সেট অনেকগুলো কাগজ স্বাক্ষর করতে করতে এক সময় মনে হল, কলম আর চলে না। আমি আর ওর দিকে তাকাতে পারছি না।

মাথাটা নিচু করে বললাম-
-মাঝে সাঝে খেতে না পারলে অন্তত মুড়ি খাবে। তবুও খালি পেটে থেকো না। মুড়ি খেয়ে কয়েক গ্লাস পানি খেয়ে নেবে। দেখবে শরীরে অনেক বল পাবে।

ছেলে এবার যা বলল, এর জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। খুব ক্ষীণকণ্ঠে হা করা মুখের দিকে হাতটা নিয়ে তর্জুনি দিয়ে মাড়ির দিকে নির্দেশ করে বলল-

-স্যার, গত কয়েকদিন ধরে মুড়িই খেয়ে আছি। এই মাসের মেস ভাড়া, মিল খরচের টাকা দিতে পারিনি। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার টাকা আর গত মাসে বাড়িতে গিয়েছিলাম মাকে দেখতে; মা অনেকদিন ধরে পীড়াপীড়ি কান্নাকাটি করছিলো, অনেকদিন বাড়ি যাই না-বাড়ি যেতে অনেক ভাড়া আর খরচের ব্যাপার; ছোট ভাইটা অনেক আবদার করে রাখে; আব্বা অন্যের আমবাগানে কাজ করতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কোমর ভেঙে বেশকিছু দিন শয্যাশায়ী। মা শুধু কাঁদে আমাকে এক নজর দেখবে, তাই গেলাম। অনেক খরচ হয়ে গেল গত মাসে।

আমি বাকরুদ্ধ, নিশ্চুপ হয়ে শুধু শুনছিলাম। গলাটা আমার ধরে আসছিল। এতক্ষণ ওকে আমার বানভণিতাহীন জিজ্ঞাসাকে বড় বাতুলতা মনে হল। স্বাক্ষর সমাপ্তে শুধু একটাই প্রশ্ন করলাম।

-এই যে এসআই পরীক্ষা দিতে খুলনা যাচ্ছো, ভাড়া আছে যাওয়ার?

জীবনের রূঢ়তায় কতটা অনিশ্চিত এই যাপন। ছেলেটা উত্তর দিল-

- না, নেই স্যার। যাব কি না মনস্থির করি নাই। দেখি, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ধার চাইব। যাওয়া-আসা এক হাজার টাকা হলেই হয়ে যাবে। কিন্তু জানি না ব্যবস্থা হবে কিনা! তবুও কাগজপত্র ঠিক করে রাখলাম।

এতক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম ওকে। বুঝতে পারছিলাম এই অর্ধবেলা পর্যন্ত ছেলেটির পেটে কোন দানাপানি পড়েনি। আমার লাঞ্চবক্সে দুইটা রুটি ছিল। দুজনে ভাগ করে খেলাম। ও খেতে চায়ইনি। এক প্রকার জোর করে বসালাম।

সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র শিক্ষক আমি, মানিব্যাগ সার্চ করে দেখি বেশি টাকা নাই। এক কলিগকে ফোন করে বললাম, এক হাজার টাকা ধার দিতে পারবে কিনা। বলল, পারবে। ছেলেটিকে নিয়ে আসতে পাঠালাম। নিয়ে আসলো। টাকা ওর হাতে দিয়ে বললাম, এই টাকা তোমাকে ধার হিসেবে দিলাম। চাকরি পেয়ে ফেরত দেবে।

প্রথমে নিতে খুবই আপত্তি করল। যখন দেখল, আমি সত্যি সত্যি ধার হিসেবে দিচ্ছি তখন আর দ্বিধা করল না।

আজ ফোন দিয়ে জানালো, সে প্রাথমিকভাবে এসআই বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত হয়েছে। আমি আনন্দিত। ওর জন্য সবার দোয়া চাই। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন ওর মনে আশা পূরণ করে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জীবন সংগ্রাম কাছে থেকে না দেখলে বোঝার কোন উপায় নেই। কত টাকা আমরা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে ওয়েটারকে বখশিস দিয়ে আসি। অনেক অহেতুক খরচ করি।

প্লিজ, একটিবার আপনার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রতিবেশী ছাত্রটির খবর নিন। তাকে সাহায্য নয়, ধার দিন। প্রয়োজনে লিখে রাখুন টাকার অংকটা, একদিন সে বহুগুণ ফেরত দেবে আপনাকে, জাতিকে।’

#ডঃশাহ_মো_আরিফুল_আবেদ, স্যারের টাইমলাইন থেকে........

অভিনন্দন জানাই 'মিলিমিশি' অনলাইন ভঙ্গিতে সংবাদ শিরোনাম তুলে ধরার জন্য।

সত্যিই এখন মনে হচ্ছে 'মিলিমিশি'কে পেয়ে আমরা...

অনেক বড় এক কোম্পানী হঠাৎ করে ব্যবসায় লোকসান করে বসলো।এক দুপুরে সেই কোম্পানীর কর্মচারীরা বাইরের ক্যান্টিনে লাঞ্চ করে ফেরার সময় অফিসের প্রবেশমুখে একটি নোটিশ দেখতে পেল।নোটিশে লেখা ছিল,

'আমাদের কোম্পানীর লোকসানের জন্য যে ব্যক্তিটি দায়ী যে গতকাল মারা গেছে।সেমিনার রুমে একটি কফিনে তার লাশ রাখা হয়েছে।যে কেউ তা দেখতে চাইলে আমন্ত্রিত।'

একজন সহকর্মীর মত্যুর খবর শুনে প্রথমে লোকেরা দুঃখ পেল।তবে এরপর তারা কৌতুহলী হয়ে উঠলো এই ভেবে যে আসলে কে হতে পারে সেই ব্যক্তি।

তারা সবাই সেমিনার রুমে এসে একত্রিত হলো,সবাই ভাবতে লাগলো,'আসলে কে সেই লোক যে আমাদের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল? তবে সে যেই হোক, এখন অন্তত সে আর বেঁচে নেই।

একে একে তারা যখন কফিনের কাছে গেল এবং ভেতরে তাকালো হঠাৎ তারা কেমন যেন বাকশূন্য হয়ে গেল, হতভম্ভ হয়ে গেল। যেন তাদের খুব আপন কারো লাশ সেখানে রাখা ছিল।

কফিনের ভেতর আসলে রাখা ছিল একটা আয়না।যেই ভেতরে তাকিয়েছিলো সে তার নিজে চেহারাই দেখতে পাচ্ছিলো।আয়নার একপাশে একটা কাগজে লেখা ছিল,

তোমার সাফল্যের পথে বাধা দিতে সক্ষম শুধুমাত্র একজনই আছে গোটা পৃথিবীতে, আর সে হচ্ছো 'তুমি' নিজে।

তুমিই সেই একমাত্র ব্যক্তি যে তোমার জীবন পরিবর্তন আনতে পারে, তোমাকে সুখী করতে পারে, তোমাকে সাহায্য করতে পারো,সুখী করতে পারো।তোমার জীবন তখন বদলে যায় না যখন তোমার অফিসের বস বদলায়,যখন তোমার অভিভাবক বদলায়,তোমার বন্ধুরা বদলায়, তোমার জীবন তখনই বদলায় যখন তুমি নিজে বদলাও।তোমার সক্ষমতা সম্পর্কে তোমার নিজের বিশ্বাসের সীমাটা যখন তুমি অতিক্রম করতে পারো, শুধু তখনই তোমার জীবন বদলায়,পূরন হয় জীবনের লক্ষ্য গুলো।। নিজের আলোয় আলোকিত করো চারপাশ।।
.
গল্পগুলো বার বার পড়তে মন চায়___ মনে হয় অনেক কিছুই আছে অজানা___♥♥♥

#সবাইকে_পড়ার_অনুরোধ_রইল 👌🙂
______________________________
এক লোক খুব সুন্দরী এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর ঐ ব্যক্তি তার বউকে প্রচন্ড ভালবাসতো।
তাদের সংসার খুব সুখের ছিল। দু'জন দু'জনকে প্রচন্ড ভালবাসতো।
কিন্তু হঠাৎ এলাকায় এক ধরনের "চামড়ার রোগ" মহামারী আঁকার ধারণ করলো।
হঠাৎ একদিন সুন্দরী মেয়েটার শরীরে ঐ রোগের লক্ষণ দেখা দিল। মেয়েটা বুঝতে পারলো এই রোগ তার পুরো শরীরের চামড়ায় ছড়িয়ে পড়বে এবং সে তার সৌন্দর্য হারাবে।
যেদিন মেয়েটার শরীরে এই লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। সেই দিন মেয়েটার স্বামী অফিস থাকে বাড়ি ফেরার পথে এক্সিডেন্ট করলো। এই এক্সিডেন্টের পর লোকটা তার দু'চোখের দৃষ্টিশক্তি হারায়। দৃষ্টিশক্তি না থাকা সত্যেও লোকটার সাথে মেয়েটার সংসার সুন্দর ভাবে চলতে থাকে।
এদিকে রোগের কারণে দিনের পর দিন মেয়েটার চেহারা কুৎসিত হতে থাকে। কিন্তু অন্ধ স্বামী বুঝতে পারে না, তার স্ত্রী দেখতে কতটা বিশ্রী হয়েছে।
এভাবে চল্লিশ বছর তাদের সংসার সুখে শান্তিতে চলতে থাকে।
তাদের চল্লিশ বছরের সংসারে ভালবাসা, সুখ, পরস্পরের নির্ভরশীলতা একই রকম রকম ছিল, যেন তারা সদ্য বিবাহিত দম্পতি।
এভাবে চলতে চলতে, একদিন বৃদ্বা মহিলা মারা গেল। স্ত্রীর মৃত্যুতে অন্ধ লোকটা খুবই দুঃখ পেল, ভেঙ্গে পড়লো।
কিন্তু দুনিয়াবী জীবনে কোন কিছুই চিরস্থায়ী না। সবাইকেই একদিন না একদিন ইহকালের জীবন ছেড়ে আখিরাতের জীবনে চলে যেতে হবে।
অন্ধ লোকটা যখন তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে কবরে শায়িত করে ফিরে আসছিল। তখন পিছন থেকে একজন ব্যক্তি অন্ধ লোকটাকে প্রশ্ন করলো, "কোথায় যাচ্ছ?"
অন্ধ লোকটি উত্তর দিল, "সে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে যে বাড়িতে তার স্ত্রী এতো বছর তারসাথে সংসার করেছে।"
এই কথা শুনে, প্রশ্নকারী লোকটি অন্ধ লোকটিকে বললো, "তুমি কিভাবে একা একা বাড়ি ফিরবে! তুমি তো অন্ধ!"
অন্ধ লোকটি উত্তর দিল, "সে একাই বাড়ি ফিরতে পারবে কারণ আদতে সে অন্ধ নয়। সে সব কিছুই দেখতে পায়।"
এতো বছর সে তার স্ত্রীর সামনে অন্ধের অভিনয় করেছিল। কারণ সে যখন জানতে পেরেছিল তার স্ত্রী স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছে, তখন সে এটা ভেবে ভয় পেয়েছিল যে, তার স্ত্রী হয়তো হীনম্মন্যতায় ভুগবে। হয়তো মনে মনে ভাববে তার স্বামী তাকে আগের মতো ভালবাসে না। নিজের অবস্থার জন্য কষ্ট পাবে।
তার স্ত্রী যেন নিজেকে কখনো ছোট অযোগ্য না ভাবে তাই সে চল্লিশ বছর একই ভাবে স্ত্রীকে ভালবেসেছে অন্ধের অভিনয় করে।
সৌন্দর্য, সম্পদ আল্লাহ চাইলে এসব কিছু আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নিতে পারেন।
আজ যে ধনী কাল সে গরবী হতে পারে! আজ যার রূপে আগুন জ্বলে কাল তার রূপ হারিয়ে যেতে পারে।
কারণ পার্থিব এইসব কিছুই দুনিয়াবী পরীক্ষার উপকরণ।
সুন্দরী, ধনী কাওকে বিয়ে করার পর হয়তো স্ত্রীর সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে কিংবা ধনী স্বামী গরীব হয়ে যেতে পারে। তখন অধিকাংশই বিবাহ বিচ্ছেদের কথা ভাবে।
কিন্তু আমরা যদি আমাদের জীবনসঙ্গীর ছোটখাটো খুঁত, ভুল গুলোকে বড় করে না দেখে সেগুলো একটু মানিয়ে চলি তাহলে আমাদের দাম্পত্য জীবন অনেক সুখের হয়ে উঠতে পারে।
(সংগৃহীত)

একদিন নববিবাহিত স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিল যে আজ কেউ ঘরের দরজা খুলবে না,,,!!!"

যে প্রথমে খুলবে সে এই খেলায় হেরে যাবে,,,!!!"

দু'জনে দরজা আটকে ভেতরে বসে রইলো,,,!!!"

প্রথমে বাবা স্বামীর বাবা এসে দরজায় নক করলো,,,!!!"

সে দরজা খুলতে গিয়ে তার সেই খেলার কথা মনে
পরে গেলো স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, শেষ পর্যন্ত কেউই দরজা খুলল না,,,!!!"

পরবর্তীতে স্ত্রীর বাবা দরজার কড়া নাড়ালো,,,!!!"

এবার স্বামী মুচকি মুচকি হাসতে থাকলো,,,!!!"

স্ত্রী কেঁদে ফেলল এবং বলল আমি এটি কিছুতেই করতে পারব না এবং সে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলো, স্বামী চুপ করে তাকিয়ে রইল, কিছুই বলল
না নীরব হয়ে রইল,,,!!!"

অনেক বছর পর তাদের ২টি ছেলে হওয়ার পর
একটি মেয়ে হলো বাবা মেয়ের জন্মদিনে বিশাল বড় একটি পার্টির আয়োজন করলে স্ত্রী জানতে চাইল, তুমি কখনো আমাদের ছেলেদের জন্মদিনে কোন আয়োজন করনি কিন্তু মেয়ের জন্য এতো বড় পার্টি কেন.?"

স্বামী বলল, কারণ আমি জানি একমাত্র সেই আমার জন্য দরজা খুলবে,,,!!!"

স্বামী-স্ত্রী আর তাদের তিন মাস বয়সের একটি
বাচ্চা রাতে বিছানায় ঘুমাচ্ছে।
:হটাৎ
:তিন মাসের বাচ্চা রাত তিনটার সময় জোরে
জোরে কান্না করতে লাগলো।
:বাচ্চার কান্না শুনে মা বাবা দুজনেরই
ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
,,
স্বামী বললেন,
ওকে একটু থামাও.....!
আর মা বাচ্চাটিকে বুকে জরিয়ে
নিয়ে এদিক-ওদিক হাঁটতে লাগলেন।
:
কিছুক্ষন পর ,
বাচ্চাটির বাবা বিছানা থেকে
উঠে ঘর থেকে
বের হয়ে গেলেন।
:
কিছুক্ষন পর বাচ্চাটির বাবা ঘরে
ফিরে এলেন
আর
বাচ্চাটির মা তাকে জিজ্ঞাস
করলেন,
কোথায় গেছিলে ?
:
তিনি বললেন ,
:
মায়ের কবরটা দেখতে
গিয়েছিলাম।
:
বাচ্চাটির মা জিজ্ঞেস করলেন,
:
এত রাতে কেন ?
:
সে উত্তর দিল ,
আমাদের বাচ্চাটি যখন
কাঁদতেছিলো
তখন আমার খুব বিরক্ত লাগছিল।
:
কিন্তূ
:
তুমি ওকে কাঁধে নিয়ে আদর করতে
করতে
হাটতেছ।
কারন,
তুমি তার মা।
:
তখনি মনে পরে গেলো।
:
হয়তো , আমি যখন ছোট ছিলাম
তখন
আমার মা ও আমাকে এভাবেই যত্ন
করেছিলেন।
:
তাই মাকে দেখতে গেছিলাম।
:
আজ আমি মায়ের যত্নে এত বড়
হয়েছি। কিন্তু
জানি না মা আমার সেখানে
কতটুকু যত্নে
আছেন।
:
পৃথিবীতে মা একমাত্র আপন।
:
হে আল্লাহ্ আপনি আমাদের মা
বাবার
সেবা করার তৌফিক দিন।
যাদের মা বাবা পৃথিবী তে নেই
তাঁদের কে জান্নাত বাসি করুন।(আমিন)

গোলমরিচের গুনাগুন--
♥ কফ, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিরাময় করে।
♥ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
♥ গ্যাসট্রিকের সমস্যা দূর করে।
♥ ওজন কমাতে সাহায্য করে।
♥ কোমর বা পাঁজরের ব্যথা সারাতে গোল মরিচ চূর্ন গরম পানিসহ সকাল ও বিকেলে একবার করে খেতে হবে।
♥ গোলমরিচ সামান্য পানিসহ বেটে দাঁত ও মাড়ীতে প্রলেপ দিলে ব্যথা দূর হয়।
(সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)

কুইজ বিজেতা হলে পয়েন্ট দেয়া হয়।
কিন্তু সঠিক উত্তর দেয়ার কোন পয়েন্ট নেই।
সঠিক উত্তর দেয়ার পর ১ পয়েন্ট পেলেও সান্ত্বনা খুঁজে পেতাম।

12-Nov-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4188 জন)
প্রশ্নঃ শিশুদের জন্য খেলাধুলা ‘মানসিক বিকাশ” ঘটানোর সহায়ক। খেলা সম্প্রীতির বন্ধন, খেলাধুলা শরীর ও মনকে ভাল রাখে। শরীর সুস্থ্য রাখার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০মি. ব্যায়াম/খেলাধুলা করতে হবে। বয়ষ্কদের খেলা-ধুলার সুয়োগ না থাকলে সকালে/বিকালে কমপক্ষে ১৫-২০মি. দৌড়ান/ব্যায়াম করা উচিত। একটা দৌড় প্রতিযোগিতায় আপনি দ্বিতীয় রানারকে টপকে গেলেন। আপনি এখন এই দৌড়ে কত নম্বরে আছেন?
(A) ১ম স্থানে
(B) ২য় স্থানে
(C) ৩য় স্থানে