About Noor Islam

মানুষের মৃতদেহ থেকে জৈব সার তৈরির অনুমোদন

মানব শরীর দিয়ে কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরির অনুমতি দিয়ে একটি আইনের অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্য। এই আইন অনুযায়ী, মৃত্যুর পর নিজের শরীরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরির নির্দেশনা দিয়ে যেতে পারবেন।

প্রচলিত রীতির কবর দেয়ার বিকল্প হিসেবে এই পদ্ধতিকে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শহরে কবরস্থানের বা নতুন করে কবর দেয়ার সংকট তৈরি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি বিকল্প সমাধান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাটির সঙ্গে মিশে মৃতদেহ সারে পরিণত হওয়ার পর, সেই মাটি তার প্রিয়জনদের দেয়া হবে, যাতে তারা ফুলগাছ, সবজির চারা বা বৃক্ষ রোপণ করতে পারেন।

ওয়াশিংটন রাজ্যের গভর্নর জে ইনস্লে মঙ্গলবার স্বাক্ষর করার পর ওই বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। বিলের পক্ষে আন্দোলনকারী ক্যাটরিনা স্পাড এএফপিকে বলেছেন, ''সাধারণ কবর দেয়ার বদলে এরকম মাটির সাথে মিশে যাওয়ার বিকল্প পদ্ধতি হবে প্রাকৃতিক, নিরাপদ, স্থায়ী এবং পৃথিবীর ভূমির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখবে।''

তিনি এজন্য একটি কোম্পানি গঠন করেছেন, যারা এ ধরণের কাজে সহায়তা করবে।
এই পদ্ধতি কীভাবে কাজ করবে?

মিজ স্পাড বলছেন, ছয়টি কোণ বিশিষ্ট একটি ইস্পাতের বাক্সের ভেতর এক ধরণের উদ্ভিদ-যা প্রাণী দেহ কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠে, কাঠের টুকরো আর খড়কুটো দিয়ে মৃতদেহ রাখা হবে।

এরপর সেই বাক্সটি বন্ধ করে দেয়া হবে। পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই মৃতদেহ পচে যাবে এবং মাটিতে পরিণত হবে। পরিবেশ-বান্ধব সমাধি প্রকৃতি দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এ মাসের প্রথমদিকে জানা গেছে, প্রয়াত অভিনেতা লুক পেরিকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি 'মাশরুম স্যুইটে' সমাধিত করা হয়েছে। ওই স্যুইটের নির্মাতা জে রাইম লি বলেছেন, যখন কোন মৃতদেহ মাটিতে সমাধি দেয়া হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়, তখন যে বিষাক্ত গ্যাস পরিবেশে মেশে, এই প্রক্রিয়ার ফলে সেটি কমে যাবে।

মানব মৃতদেহকে সারে পরিণত করার প্রক্রিয়াটি এরমধ্যেই সুইডেনে আইনসিদ্ধ করা হয়েছে। কোন বাক্স বা কফিন ছাড়া মৃতদেহ সমাধির প্রাকৃতিক সমাধি প্রক্রিয়া যুক্তরাজ্যে আইনগত বৈধতা পেয়েছে।

অনেক ধর্মে অবশ্য মৃত্যুর পর কোনরকম বাক্স বা কৃত্রিম সরঞ্জাম ছাড়া মৃতদেহ সমাধি করার নিয়ম রয়েছে।


ডেবিট ক্রেডিট নির্নয়ের সূত্র
12:49 AM হিসাব 8 comments

হিসাব বিজ্ঞানের মাধ্যমে হিসাব রাখার জন্য সর্বপ্রথম হিসাবের ডেবিট ও ক্রেডিট নির্নয় করা জানতে হবে। প্রথমেই হিসাবের ডেবিট ও ক্রেডিট নির্নয় করে তা থেকে জাবেদা প্রস্তুত করতে হবে। ডেবিট ক্রেডিট নির্নয় করা ভালোভাবে বুঝতে হলে তা নির্নযের জন্য নির্দিশ্ট সূত্র অবলম্বন করতে হবে। এ সূত্রের মাধ্যমে বুঝে বুঝে ডেবিট ক্রেডিট নির্নয় করতে পারলে তা সম্পূর্ন সঠিক হবে। তাই এ সূত্রটি আমাদের সবাইকে সুন্দর ভাবে আয়ত্ত করতে হবে। সূত্রটি হবে এভাবে ..........



ব্যাখ্যাঃ
আমরা জানি যে, হিসাব চার প্রকার। এই চার প্রকার হিসাব থেকেই আমাদের ডেবিট ও ক্রেডিট নির্নয় করতে হবে।সম্পত্তিবাচক হিসাবের ক্ষেত্রে সম্পত্তি বৃদ্ধি পেলে ডেবিট এবং সম্পত্তির পরিমান কমে গেলে ক্রেডিট হবে, দায়বাচক হিসাবের ক্ষেত্রে দায়ের পরিমান বৃদ্ধি পেলে তা ক্রেডিট হবে এবং দায়ের পরিমান কমে গেলে তা ডেবিট হবে। একটু কেয়াল করলে দেখা যাবে যে এখানে সম্পত্তিবাচক হিসাব এবং ব্যয়বাচক হিসাবের সূত্র একই । অর্থাৎ সম্পত্তিবাচক হিসাবের ক্ষেত্রে যেভাবে ডেবিট ক্রেডিট নির্নয় করা হয়েছে ব্যয়বাচক হিসাবের ক্ষেত্রেও তেমনিভাবে করা হয়েছে। আবার দায়বাচক হিসাব এবং আয়বাচক হিসাব ও অনুরূপভাবে করা হয়েছে।
তাই উপরের সূত্রানুযায়ী সহজ ও সাবলীল ভাবে হিসাবের ডেবিট ক্রেডিট নির্নয় করে জাবেদা করলে তাতে ভূল হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

মানব শারীরতত্ত্ব : চলন ও অঙ্গচালনা

▣ প্রধান শব্দভিত্তিক সারসংক্ষেপ

♦ কঙ্কালতন্ত্র : জীবদেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামোই হলো কঙ্কালতন্ত্র।

♦ শ্রোণিচক্র: মানুষের শ্রোণি অঞ্চলে দু পাশে অবস্থিত একজোড়া সমআকৃতির অস্থি নিয়ে শ্রোণিচক্র গঠিত।

♦ স্থানচ্যুতি: বাহ্যিক কোনো আঘাতের কারণে আমাদের দেহের অক্সগ প্রত্যক্সেগর জোড়া থেকে দূরে সরে যেতে পারে। একে স্থানচ্যুতি (Dislocation) বলে।

♦ মচকানো: কোনো আঘাতের ফলে দুটি অস্থির মধ্যে অবস্থিত লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে মচকানো বলে।

♦ সারকোলেমা: পেশিকোষ যে ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে তাকে সারকোলেমা বলে।

♦ টেন্ডন: পেশি যে বিশেষ টিস্যু দ্বারা অস্থির সাথে যুক্ত থাকে তাকে টেন্ডন বলে।

♦ লিগামেন্ট: দুটি অস্থি যে বিশেষ টিসু দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে লিগামেন্ট বলে।

♦ অনৈচ্ছিক পেশি: যে সমস্ত পেশিকলার সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয় তাকে অনৈচ্ছিক পেশি বলে। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা এ পেশির সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রিত হয়।


১। ল্যারিংক্স গহ্বরে ভোকাল কর্ডের সংখ্যা কয়টি?
(ক) ৩
(খ) ৪
(গ) ৫
(ঘ) ৬
সঠিক উত্তর: (ঘ) ৬


২। কোন র‌্যাক্টাস পেশি অক্ষিগোলককে উপরের দিকে ঘুরতে সহায়তা করে?
(ক) মিডিয়াল (খ) ল্যাটারাল
(গ) সুপিরিয়র (ঘ) ইনফিরিয়র
সঠিক উত্তর: (গ) সুপিরিয়র


৩। নিচের কোনটি মলাস্কা পর্বের প্রাণীতে পাওয়া যায়?
(ক) রেডুলা (খ) নেফ্রিডিয়া
(গ) ট্রকোফোর লার্ভা (ঘ) ট্যাগমাটা
সঠিক উত্তর: (ক) রেডুলা


৪। কোন ধরনের নেমোটোসিস্টের সূত্রক চাবুকের ন্যায় কাঁটাযুক্ত?
(ক) পেনিট্র্যান্ট (খ) ভলভেন্ট
(গ) স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট
(ঘ) স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট
সঠিক উত্তর: (গ) স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট


৫। রক্তরসে নাইট্রোজেনঘটিত অপ্রোটিন পদার্থ কোনটি?
(ক) প্রোথ্রম্বিন (খ) ফ্রাইব্রিনোজেন
(গ) ক্রিয়োটিনিন (ঘ) বিলিরুবিন
সঠিক উত্তর: (গ) ক্রিয়োটিনিন


নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৬ ও ৭ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :


৬। উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি পাওয়া যায়-
i. ঘাসফড়িং
ii. আরশোলা
iii. রুই মাছে
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i (খ) ii (গ) i ও ii (ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (গ) i ও ii


৭। উল্লিখিত অঙ্গ-
i. পরিপাকনালিতে উন্মুক্ত
ii. রেচন পদার্থ নিষ্কাশন করে
iii. হিমোসিল হতে বিপাকীয় বর্জ্য সংগ্রহ করে
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) i ও ii (খ) ii ও iii (গ) i ও iii (ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: (ঘ) i, ii ও iii


৮। ভিট্টিয়াস হিউমারের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
(ক) অক্ষিগোলকের আকৃতি বজায় রাখে
(খ) লেন্স কর্নিয়ার পুষ্টি জোগায়
(গ) আইরিশ ও লেন্সের মধ্যবর্তী গহ্বর
(ঘ) গহ্বরটি পানির মত তরল পূর্ণ
সঠিক উত্তর: (ক) অক্ষিগোলকের আকৃতি বজায় রাখে


৯। রক্তের গতিপথের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
(ক) ডান অলিন্দ → ডান নিলয় → ফুসফুস → বাম অলিন্দ
(খ) বাম অলিন্দ → বাম নিলয় → ফুসফুস → সারাদেহ
(গ) ডান নিলয় → সারাদেহ → ডান অলিন্দ → ফুসফুস
(ঘ) বাম নিলয় → ফুসফুস → বাম অলিন্দ → সারাদেহ
সঠিক উত্তর: (ক) ডান অলিন্দ → ডান নিলয় → ফুসফুস → বাম অলিন্দ


১০। SAN -এর ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
(ক) এটি বাম অ্যাট্রিয়ামে অবস্থিত
(খ) সৃষ্ট তরঙ্গের গতিপথ SAN → পারকিনজি তন্তু → বান্ডেল অব হিজ
(গ) এটি হৃৎচক্র নিয়ন্ত্রণ করে না
(ঘ) এর কার্যকারিতা কমে গেলে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব হয়
সঠিক উত্তর: (ঘ) এর কার্যকারিতা কমে গেলে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব হয়

স্নান করার সময় কিছু ভুলের কারণে শারীরিক বড় ক্ষতি হতে পারে

স্নান করার সময় কিছু ভুলের কারণে শারীরিক বড় ক্ষতি হতে পারে, যা মোটেও কাম্য নয় কারোই। তাই জেনে নেই কিছু টিপস।স্নানের পর সাবান রাখার জিনিসটি ভালো করে পরিষ্কার করে রাখুন। নোংরা জিনিস কিন্তু জীবাণুর আতুরঘর। পরিস্কার করা না হলে পরে ওই সাবান ফের গায়ে ঘসলে ত্বকে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এমনকি সুরক্ষার জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর এটা বদলানোও জরুরি।গরম জলে স্নান করতে ভালোবাসেন? সারা দিন পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরে অনেক সময় ধরে গরম জলে স্নান সারেন আপনি? এটাই কিন্তু নিজের বড় ধরণের ক্ষতি করছেন। কারণ ঘাম ঝরার পর গরম জল শরীরের ত্বক ও চুলের ক্ষতি করে। স্নানের সময় আঙুল দিয়ে বেশি স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করার অভ্যাস থাকলে তা এখনই বন্ধ করুন। কারণ ভেজা চুলে বেশি আঙুল চালালে চুলের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্নানের সময় সঠিক সাবান বেছে নিন। ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। খুব বেশি সাবান মাখলেও ত্বক খারাপ হয় কিন্তু।

আর স্নানের পর সারা গায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে খুব বেশি দেরি করবেন না। গা ভেজা থাকতেই গায়ে লোশন লাগিয়ে ফেলুন। তাহলে ত্বক নরম থাকবে। সাবান মাখার পর ভালো করে তা ধুয়ে ফেলুন। সাবানের ফেনা যেন গায়ে লেগে না থাকে। শ্যাম্পু করার পর চুলও ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন। সাবান বা শ্যাম্পু লেগে থাকলে ড্যানড্রাফ, উকুন দেখা দিতে পারে।

ক্ষতিকর পাঁচ ধরনের মাংস

১. প্রক্রিয়াজাত মাংস : বেকন, হ্যাম বা সসেজের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া আর ধূমপান করা একই কথা। কারণ তামাক, অ্যালকোহল এবং অ্যাসবেসটসের সঙ্গে মেলে এমন ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে এসব মাংসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিদিন ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত যেকোনো মাংস অন্ত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

২. রেড মিট : ডাব্লিউএইচও রেড মিটকে অন্ত্র, অগ্ন্যাশয় এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য দায়ী করেছে। বহু বিশেষজ্ঞের মতে, রেড মিটের রং সৃষ্টিতে কার্যকর যৌগ উপাদানটিই ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। একই উপাদান অন্ত্রের আস্তরণে মারাত্মক ক্ষতিসাধনে যথেষ্ট। প্রতি সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের কম পরিমাণ রেড মিট খাওয়ার মাধ্যমে মানুষ ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারে।

৩. অ্যান্টিবায়োটিকপূর্ণ মাংস : একবার ব্রিটেনের খামারজাত শূকরের মাংসে মারাত্মক ক্ষতিকর 'এমআরএসএ' মেলে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ভোক্তাশ্রেণি। এটা এমন এক জাতের ব্যাকটেরিয়া, যা অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে বাসা বাঁধে। খামারে এসব প্রাণীকে সুস্থ রাখতে বা মোটাতাজাকরণে হরহামেশা নিয়ন্ত্রণহীন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়। ওয়ার্ল্ড ফার্মিংয়ের প্রধান নির্বাহী ফিলিপ লিম্বেরি জানান, ইংল্যান্ডের এসব অ্যান্টিবায়োটিকপূর্ণ মাংস বছরে পাঁচ হাজার মৃত্যুর কারণ।

৪. হটডগ : অতি প্রিয় এ খাবারের ভক্তরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন। কারণ, বেশ কয়েক ধরনের হটডগে মানব ডিএনএ পাওয়া গেছে। বিশ্বের প্রায় ৭৫টি নামকরা ব্র্যান্ডের ৩৪৫ ধরনের হটডগ পরীক্ষা করে মানব ডিএনএর আলামত পেয়েছে 'দ্য ক্লিয়ার ফুড ল্যাবস'। এগুলো পেটে পড়লে চুল ও নখ পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৫. পোল্ট্রি : সুপারশপ বা মুরগির দোকানে খামারের কাটা বা জীবন্ত মুরগি রাখা হয়। ইউকের 'ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি' ২০১৪-২০১৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে চার হাজার মুরগির নমুনা সংগ্রহ করে। এদের তিন-চতুর্থাংশের মাংসে বিষাক্ত জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ওই গবেষণায় বলা হয়, ৭৩ শতাংশ পোল্ট্রি খাবারে বিষাক্ত ক্যাম্পিপাইলোব্যাকটার গোত্রের জীবাণুর উপস্থিতি রয়েছে। এরা খাদ্যে মারাত্মক বিষক্রিয়ায় দায়ী থাকে।

শিশুদের মস্তিষ্ক বৃদ্ধিতে পাঁচ পরামর্শ


পাঁচ বছরের মধ্যেই একজন মানুষের ৯০ ভাগ মস্তিষ্ক গঠন হয়ে যায়। তাই শিশু বয়স থেকেই মস্তিষ্ক গঠনে ও বৃদ্ধিতে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো শিশুর মস্তিষ্ক ভালোভাবে বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শিশুর মস্তিষ্ক ভালোভাবে বৃদ্ধির জন্য কিছু জরুরি উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।

গর্ভাবস্থায় ধূমপান করবেন না

শিশুর জীবন স্বাস্থ্যকর করতে হলে শুরু থেকে সচেতন হতে হবে। কারো ধূমপানের অভ্যাস থাকলে গর্ভাবস্থায় এই অভ্যাস একেবারেই বাদ দিতে হবে। কারণ, সিগারেটের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর উপাদান গর্ভে থাকা শিশুর মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান

নবজাতকের জন্য বুকের দুধ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি শিশুর মস্তিষ্ক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা বুকের দুধ ভালোভাবে পান করে, তাদের বুদ্ধিমত্তা বেশি থাকে, যারা বুকের দুধ পান করে না তাদের তুলনায়।

সংগীতের সঙ্গে পরিচয়

শিশুকে একেবারে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে পরিচয় করান। সংগীত কগনেটিভ হেলথ বা জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য উন্নতিতে সাহায্য করে। সবচেয়ে ভালো হয় শিশুকে সংগীত শেখাতে পারলে। ভালো সংগীত শুনলে মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামের রাসায়নিক বের হয়। এটি কোনো কিছু শেখার ক্ষেত্রে প্রেরণা জোগায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ান

ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুর মধ্যে গড়ে তুলুন। শরীর ও মস্তিষ্কের গঠনের জন্য ভালো পুষ্টি খুব জরুরি। ফাস্টফুড এড়িয়ে আপেল, পালংশাক, ব্রকলি, ওটমিল, কালো চকলেট, তরমুজ, দুধ, বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।

সৃজনশীল খেলনা

মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য শিশুকে সৃজনশীল খেলনা দিয়ে খেলতে না। এমন ধরনের খেলনা দিন, যেন এটি তার সৃজনশীলতাকে বাড়াতে সাহায্য করে।

যে পাঁচ কারণে কাজ করে না আপনার ডায়েট



ওজন কমাতে ডায়েট ও ব্যায়ামের গুরুত্ব অনেক। তবে ডায়েট করার পরও অনেক সময় সেটি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেয় না। এর কারণ কী? আজকের আলোচনা এ বিষয়ে।

১. প্রথমেই নিজে নিজে অনেক খাবার কমানো

এটি ডায়েট কাজ না করার অন্যতম একটি কারণ। মনে রাখবেন, নিজে নিজে ডায়েট শুরু করে কম খাবার খেয়ে বেশি দিন থাকা যায় না। কিছু ওজন কমার পর এত কম খাবার খেয়ে না থাকতে পারায়, ডায়েট করা আর হয়ে উঠে না। এতে ওজন আবার আগের জায়গায় চলে যায়।

২. ডায়েটকালীন অন্যের সঙ্গে এটি নিয়ে আলোচনা

অনেক সময় দেখা যায়, ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে ডায়েট শুরু করার পর ব্যক্তিকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এতে যে ডায়েট করে সে লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়তে পারে এবং ডায়েট করা বাদ দিয়ে আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারে।

৩. সময়মত ডায়েটের ফলোআপ না করা

ডায়েটের পরামর্শ নিয়ে একটি ডায়েট এক মাসের জন্য মানার পরে ফলোআপের জন্য অনেকেই আর ডায়েটেশিয়ানের কাছে আসে না। এতে ওজন কিছুটা কমে থেমে যায়। আর এতে অনেকে নিরাস হয়ে ডায়েট ছেড়ে দেয়। আর ওজন না কমার হতাশায় সরে আসে ডায়েট থেকে। এতে ডায়েট আর ঠিকঠাকমতো করা হয়ে উঠে না।

৪. দুর্বলতা ডায়েটের বড় বাধা

ডায়েটের আগে শারীরিক পরীক্ষা বিশেষ করে পুষ্টি পরিমাপকগুলো পরীক্ষা না করিয়ে নিলে অথবা অতিরিক্ত কম পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার কারণে অল্প কিছু ওজন কমার পরই অনেকে দুর্বল হয়ে যায়। তখন শরীর আর সায় দেয় না ডায়েট করার। দুর্বল হয়ে গেলে পরিবারও আপনাকে বাধা দিবে ডায়েট করতে। এতে আপনার আর ডায়েট করা হয়ে উঠবে না।

৫. একই ডায়েট দিনের পর দিন অনুসরণ করা

নিজের স্বরচিত ডায়েট অথবা ডায়েটেশিয়ানের করে দেওয়া একটা ডায়েট যদি দীর্ঘ সময় ধরে করে যেতে থাকেন, তা আপনার শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করবে। এতে আপনার ত্বক ও চুলের ক্ষতি হবে। আর এই ক্ষতি মানতে না পেরে আপনি ডায়েট ছেড়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারেন।

এভাবে অনেকে ডায়েট শুরু করার পর কোনো না কোনো কারণে এটি আর কাজ করে না। তাই ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শ মেনে ডায়েট করা এবং ফলোআপে থাকা প্রয়োজন।

বয়স বাড়লে শরীরে যে পরিবর্তন ঘটে


বয়স বেড়ে যাওয়া নিয়ে নারী পুরুষ সবার মধ্যেই কম-বেশী উৎকণ্ঠা রয়েছে। বয়স তো আটকানো যায় না। কিন্তু বয়স বাড়ার গতি যদি একটু কমিয়ে দেয়া যায়, অথবা শরীরে বয়সের ছাপ যাতে দেরিতে আসে, এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের নানা ধরণের গবেষণাও রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, শরীরবৃত্তীয় নয়টি উপসর্গের মাধ্যমে বোঝা যায় যে আপনার বয়স হচ্ছে। স্পেনের বিজ্ঞানী ম্যানুয়েল সেরানো সেই দলে রয়েছেন।

তিনি বলছেন, একেকজন মানুষের বয়স বাড়ার লক্ষণ একেক রকম, কিন্তু সবারই তো বয়স বাড়ছেই।

গবেষণায় তারা দেখেছেন, মানুষসহ যেকোন স্তন্যপায়ী প্রাণীর বয়স বাড়ার লক্ষণ প্রায় একই, অর্থাৎ যে সব শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে তা প্রায় একই রকম।

১. ডিএনএ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে

আমাদের ডিএনএ শরীরের ভেতরকার কোষগুলোর মধ্যে প্রবাহিত এক ধরণের জেনেটিক কোড। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে ভুল হবার সুযোগ বাড়ে। সেই ভুলগুলো শরীরের কোষের মধ্যে জমা হতে থাকে। এ সময়ে জেনেটিক স্থায়িত্ব কমে যায়, যে কারণে স্টেম সেলের কার্যকারিতা কমে যায়।

২. ক্রোমোজোম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়

আমরা যদি ডিএনএকে একটা সুতার মত ধরি, তাহলে সেটির মাথায় একটি ক্যাপ বা ঢাকনা থাকে যা আমাদের ক্রোমোজোমসমূহকে রক্ষা করে।

এটা অনেকটা জুতোর ফিতার মাথা যেমন প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো থাকে তেমন হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঢাকনাগুলো আলগা হয়ে যেতে থাকে, ফলে আমাদের ক্রোমোজোমসমূহের কোন সুরক্ষা থাকে না।

মানে হলো তখন সেগুলো নিজেদের প্রতিলিপি বানাতে ভুল করে থাকে। সন্তান উৎপাদন প্রক্রিয়া তখন কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে।

৩. কোষের আচরণ বদলে যায়

আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে ডিএনএ এক্সপ্রেশন নামে একটি প্রক্রিয়া আছে, যেখানে একটি কোষের মধ্যে থাকা হাজারো জিন নির্ধারণ করে ঐ কোষের কার্যক্ষমতা, অর্থাৎ ঐ নির্দিষ্ট কোষটি শরীরের ত্বক হিসেবে কাজ করবে না মস্তিষ্ক হিসেবে আচরণ করবে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এবং জীবনযাপন পদ্ধতির কারণে সেই কোষের আচরণ বদলে যেতে শুরু করে।

৪. কোষ নবায়নের সক্ষমতা হারিয়ে যায়

ক্ষয় হয়ে যাওয়া কোষের পরিমাণ যাতে না বাড়ে, সেজন্য আমাদের শরীরের ক্রমাগত নতুন কোষ তৈরির ক্ষমতা আছে।

কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের সেসব দক্ষতা কমে যায়। তখন কোষসমূহ অপ্রয়োজনীয় অথবা বিষাক্ত প্রোটিন জমাতে শুরু করে, যেগুলো চোখের ছানি, আলঝেইমার বা পারকিনসন্স রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

৫. কোষের পরিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ হারায়

সময়ের সাথে সাথে শরীরের কোষসমূহ চর্বি বা চিনি জাতীয় উপাদানকে প্রসেস বা পরিপাক করার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে।

এজন্য বয়স বাড়ার পর বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবেটিস হবার শঙ্কা বাড়ে, আর সেটি সারা পৃথিবীতেই একটি সাধারণ রোগ।।

৬. মাইটোকন্ড্রিয়া কাজ বন্ধ করে দেয়

মাইটোকন্ড্রিয়া শরীরের কোষে শক্তি যোগান দেয়, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের কর্মক্ষমতা কমে যায়। আর মাইটোকন্ড্রিয়া যখন ঠিকমত কাজ করতে পারে না, সেটা ডিএনএ'র জন্য খারাপ।

তবে, কিছু গবেষণা বলছে, মাইটোকন্ড্রিয়ার কর্মদক্ষতা যদি নতুন করে বাড়ানো যায়, তাহলে সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর আয়ু বাড়ানো সম্ভব হবে।

৭. কোষ ভৌতিক হয়ে যায়

কোন কোষ যখন বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সেটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কাজ বন্ধ করলেই কোষের মৃত্যু হয় না।

এই কোষগুলো তখন ভৌতিক কোষে পরিণত হয়। এবং নিজের চারপাশের কোষগুলোকেও জোম্বি বা ভৌতিক কোষে পরিণত হতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরে জ্বালাপোড়ার মত উপসর্গ দেখা দেয়।

৮. স্টেম সেলের শক্তি কমে যায়

বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমে যায়, যে কারণে তার পুনরুৎপাদনের ক্ষমতা কমে যায়।

কিন্তু বিজ্ঞনীরা দেখেছেন, স্টেম সেলের এই শক্তি কমে যাওয়া ঠেকানো গেলে বয়স বাড়ার গতি কমিয়ে দেয়া যেত।

৯. নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় কোষ

শরীরের মধ্যে সারাক্ষণই কোষেরা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই যোগাযোগ কমতে থাকে।

এর ফলে শরীরে জ্বালাপোড়া, কথাবার্তা বলতে সমস্যা হতে পারে। এর ফলে শরীরের সতর্ক একটা ভাব হারিয়ে যেতে থাকে।

বয়স বাড়া যদিও একটি স্বাভাবিক এবং অনিবার্য প্রক্রিয়া।

বিজ্ঞানীরা বলছেন স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল বা জীবনযাপন পদ্ধতির মাধ্যমে বয়স বাড়ার গতিকে হয়তো কিছুটা দূরে রাখা যায়।

পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা ধরে রাখার উপায়


কর্পোরেট পৃথিবী আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক ব্যস্ত করে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে অনিয়মিত ডায়েট ও শারীরিক-মানসিক চাপের কারণে বন্ধ্যাত্ব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী বা পুরুষ- উভয়ের ক্ষেত্রেই সন্তানহীনতার সমস্যার পিছনে বড় কারণ মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক চাপ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।

সাম্প্রতিক সময়ে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে ৩০-৫০ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের জন্য পুরুষেরা দায়ী। আসুন জেনে নেওয়া যাক- পুরুষের স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ধরে রাখার কয়েকটি উপায়-

১. প্রজনন ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নীরোগ শরীর ও স্বাভাবিক ওজন জরুরি। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম ওজন সন্তান ধারণের পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক ডায়েট মেনে চলুন। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান।

২. পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে আমন্ড বাদাম অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন একমুঠো আমন্ড বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৩. ভিটামিন-ই নারী-পুরুষ উভয়ের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে সাহায্য করে। দই বা ইস্ট জাতীয় খাবারে ভিটামিন-ই রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুয়ায়ী, ভিটামিন-ই ওষুধ হিসেবেও খেতে পারেন।

৪. যে কোনো মৌসুমি ফল বা সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। পেয়ারা, আম, আপেল, তরমুজ, আঙুর ইত্যাদি ফল এবং বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়স, কুমড়ো ইত্যাদি সবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। আপনার প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখুন।

৫. অতিরিক্ত তেলেভাজা বা মশলাদার খাবার এবং কৃত্রিম রং ও গন্ধ যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

গাজরের দশটি গুণ

১। দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।

২। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

৩। হৃদরোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

৪। মুখ গহ্বরের স্বাস্থ্য সংরক্ষণ করে।

৫। লিভারকে রক্ষা করে।

৬। ত্বককে মসৃণ করে।

৭। পরিপাকতন্ত্রের ক্রিয়া শক্তি বাড়ায়।

৮। স্ট্রোক প্রতিরোধ করে।

৯। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

১০। বার্ধক্যের আগমনকে শ্লথ করে।

জেনে নিন মুসলিম বিজ্ঞানীদের যতো আবিষ্কার

প্রাচীনকালে মুসলিম বিজ্ঞানীরা অনেক কিছু আবিষ্কার করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মুসলিমদের আবিষ্কারসমূহ মানব সভ্যতাকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে। আবিষ্কারের সেসব কাহিনিতে পাওয়া যাবে অনেক চমকপ্রদ তথ্য। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাইফুর রহমান তুহিন—

kofi

কফি: আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ ইথিওপিয়ার কাফা অঞ্চলের খালিদ নামের এক আরব বাসিন্দা ছাগল চরানোর সময় খেয়াল করেন যে, জামের মতো এক ধরনের ফল খাওয়ার পর প্রাণীগুলোকে অনেক সতেজ দেখাচ্ছে। খালিদ ওই ফলগুলোকে সেদ্ধ করে সর্বপ্রথম কফি তৈরি করেন। এরপরই পানীয়টি ইথিওপিয়া থেকে ইয়েমেনে রফতানি করা হয়। সেখানে সুফি-সাধকরা বিশেষ উপলক্ষে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য এটি পান করেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষদিকে কফি পৌঁছে যায় মক্কা ও তুরস্কে। সেখান থেকে ১৬৪৫ সালে এটি যায় ইতালির ভেনিস নগরীতে। ১৬৫০ সালে পাস্ক রোসি নামের এক তুর্কীর হাত ধরে এটি ইংল্যান্ডে প্রবেশ করে। তিনি লন্ডন নগরীর লোম্বার্ড স্ট্রিটে সর্বপ্রথম কফির দোকান দেন। এরপরই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রসার লাভ করে পানীয়টি।

camera

ক্যামেরা: প্রাচীন গ্রীকরা মনে করতো যে, আমাদের চোখে লেজার রশ্মির মতো আলোকরেখা রয়েছে। যা আমাদের দেখতে সাহায্য করে। দশম শতাব্দীতে মুসলিম গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী ইবনে আল-হাইতাম সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেন যে, চোখ থেকে যতোটা আলো বেরোয় তার চেয়ে বেশি আলো চোখে প্রবেশ করে। আলো উইন্ডো শাটারের মাধ্যমে একটি বিন্দুতে প্রবেশ করতে পারে—এটি বুঝতে পারার পর তিনি প্রথম পিনহোল ক্যামেরা আবিষ্কার করেন। আল-হাইতাম বুঝতে পারেন যে, বিন্দু যতো ছোট হবে ছবি ততো ভালো হবে। এ উপলব্ধি থেকে তিনি প্রথম অবসকিউরা (ডার্করুম) স্থাপন করেন। একটি পরীক্ষণের মাধ্যমে পদার্থবিদ্যার দার্শনিক রূপ তুলে ধরার জন্য তিনি বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী।

> আরও পড়ুন- বাংলাদেশি আয়েশার বিজ্ঞানে সাফল্য

parasuit

প্যারাস্যুট: আমরা জানি, অরভিল রাইট ও উইলভার রাইট উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেন। তবে এর এক হাজার বছর আগেই স্পেনের মুসলিম কবি, জ্যোতির্বিদ, সুরস্রষ্টা ও প্রকৌশলী আব্বাস ইবনে ফিরনাস আকাশে ওড়ার একটি বাহন তৈরির প্রচেষ্টা চালান। ৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি একটি পুরনো আলখাল্লায় কাঠের পাত সংযোজন করে কর্ডোবার গ্র্যান্ড মসজিদের মিনার থেকে লাফিয়ে পড়েন। তিনি আশা করেছিলেন, এভাবে তিনি পাখির মতো মসৃণ গতিতে উড়বেন কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তবে মাটিতে পড়ার আগে আলখাল্লার গতি কমে যাওয়ায় আব্বাস মারাত্মক কোন আঘাত পাননি। তার ওই বাহনটিকেই ইতিহাসের প্রথম প্যারাস্যুট বলে গণ্য করা হয়। ৮৭৫ সালে ৭০ বছর বয়সে তিনি সিল্কের কাপড়ের সাথে ঈগল পাখির পালক যুক্ত করে পর্বতের ওপর থেকে ঝাঁপ দেন। এভাবে তিনি উল্লেখযোগ্য উচ্চতায় ওড়েন। দশ মিনিট ভেসে বেড়াতে সক্ষম হলেও নিরাপদে মাটিতে নামতে ব্যর্থ হয়ে মারা যান আব্বাস। পরে তার নামে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চাঁদের একটি গর্তের নামকরণ করা হয়।

chemistry

রসায়ন শাস্ত্র: ৮০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ইসলামের সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান ডিস্টিলেশন অর্থাৎ সিদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরল পদার্থের একটিকে আরেকটি থেকে পৃথক করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। জাবিরই অনেক মৌলিক প্রক্রিয়া ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের মাধ্যমে আলকেমিকে কেমিস্ট্রি বা রসায়ন শাস্ত্রে রূপ দেন। তার আবিষ্কৃত তরলীকরণ, স্ফটিকীকরণ, সিদ্ধকরণ, শুদ্ধকরণ, অক্সিজেনের সাথে যুক্তকরণ, বাষ্পীভবন ও ফিল্টারেশন প্রক্রিয়া এখনো বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা হয়। সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড আবিষ্কারের পাশাপাশি তিনি চোলাইযন্ত্র আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে বিশ্বের সর্বত্র তৈরি হচ্ছে গাঢ় গোলাপ জল, বিভিন্ন সুগন্ধি দ্রব্যাদি ও অ্যালকোহল (যদিও ইসলাম ধর্মে এটি হারাম)। জাবির ইবনে হাইয়ান সঠিক প্রক্রিয়া অনুসারে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতেন। রসায়ন শাস্ত্রের জনক হিসেবে তার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

doctor

শল্যচিকিৎসার সরঞ্জাম: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অপারেশন করার জন্য যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, তার অনেকগুলোই দশম শতাব্দীতে মুসলিম শল্যবিদ আল-জাওয়াহিরির উদ্ভাবিত দ্রব্যাদির মতো। তার উদ্ভাবিত হালকা ছুরি, অস্থি কাটার ছুরি, ছোট সাঁড়াশি, চোখের অপারেশনে ব্যবহৃত সূক্ষ্ম কাঁচিসহ ২০০ প্রকার শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতি আধুনিক যুগের যে কোন শল্যবিদের অতি পরিচিত জিনিস। তিনিই প্রাকৃতিকভাবে অদৃশ্য হয়, এমন সুতা আবিষ্কার করেন। যা অপারেশনের পর সেলাইয়ের জন্য সার্জনরা ব্যবহার করে থাকেন। ক্যাপসুল তৈরির জন্যও এর ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া উইলিয়াম হার্ভে রক্ত পরিসঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কারের ৩০০ বছর আগেই ইবনে নাফিস নামে এক মুসলিম মেডিকেল ছাত্র এ প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, আফিম ও অ্যালকোহলের মিশ্রণের মাধ্যমে যে চেতনানাশক ব্যবহার করা হয়, তা-ও আবিষ্কার করেন মুসলিম চিকিৎসকরা। তারা নীডলেরও উন্নতি সাধন করেন, যা ছোখের ছানি অপসারণে আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।

> আরও পড়ুন- বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের রাশেদের সুনাম

wind

উইন্ডমিল বা বায়ুকল: ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের এক খলিফার জন্য শস্য গুঁড়া করা এবং সেচকার্যে পানি উত্তোলনের উদ্দেশে উইন্ডমিল আবিষ্কৃত হয়। মরুময় আরব অঞ্চলে যখন মৌসুমী পানির প্রবাহগুলো শুকিয়ে যেতো, তখন শক্তির একমাত্র উৎস ছিল বাতাস। যা প্রায় মাসখানেক ধরে একদিক থেকে প্রবাহিত হতো। তখনকার দিনে ৬ থেকে ১২টি পাখাবিশিষ্ট উইন্ডমিল অট্টালিকা বা তালপাতার ওপর দেখা যেতো। এর ৫০০ বছর পর ইউরোপে উইন্ডমিলের প্রচলন হয়।

rocket

রকেট: বারুদ তৈরিতে ব্যবহৃত নোনতা গানপাউডার চীনারা আবিষ্কার করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু আরবরা সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য গানপাউডার বিশুদ্ধকরণের বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছিল। ক্রুসেড যুদ্ধে মুসলিমদের আবিষ্কৃত আগ্নেয়াস্ত্র প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতির সঞ্চার করে। পঞ্চদশ শতাব্দীতে মুসলিমরা রকেট (যাকে তারা বলতো স্বয়ংক্রিয় দাহ্য ডিম) এবং টর্পেডো (নাশপাতি সদৃশ সম্মুখে অগ্রসরমান বোমা, যার অগ্রভাগ ছিল বর্শার মতো) আবিষ্কার করে। টর্পেডো শত্রুজাহাজকে ধ্বংস করে অদৃশ্য হয়ে যেতো।

pen

ফাউন্টেন পেন: ৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের সুলতানের প্রয়োজনে ফাউন্টেন পেন আবিষ্কৃত হয়। তিনি এমন কলম চাইছিলেন, যা তার হাত কিংবা পরনের পোশাককে নষ্ট করবে না। এই কলমের মধ্যে কালি জমিয়ে রাখার জায়গা থাকতো। বর্তমান যুগের কলমের নিবের মধ্যে ফেড ইঙ্ক থাকে, যা তখনকার দিনের কালির আধুনিক সংস্করণ।

বিশ্বকাপ জিতবে কে? জ্যোতিষীর গণনায় বেরিয়ে এলো দুই দল

২০১৯ বিশ্বকাপ দরজায় দাঁড়িয়ে। এবারের বিশ্বকাপে ফেবারিট কে কিংবা কাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা প্রবল এ নিয়ে হিসেব নিকেশ শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। যার যার দিক থেকে তারা হিসেব করছেন। যেমন একটা হিসেব কষে ফেললেন ভারতের মুম্বাইভিত্তিক বিখ্যাত জ্যোতিষী গ্রিনস্টোন লোবো।

এই লোবোই কদিন আগে ভারতের ক্রিকেট সমর্থকদের মন ভাঙার মতো এক খবর দিয়েছেন। তিনি হিসেব কষে বের করেছেন, বিরাট কোহলির দলের এবার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নেই। কারণ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অধিনায়ক কোহলির জন্মসালের সঙ্গে যে গ্রহ-নক্ষত্রের অনুকূলে থাকার কথা ছিল, সেগুলো নেই।

ভারত যদি না-ই জিতে, তবে জিতবে কোন দল? সেটিও লোবো গণনা করে বের করে এনেছেন। এই গণনাটা তিনি করেছেন, বিশ্বকাপ দলের অধিনায়কদের জন্মসালের উপর ভিত্তি করে।

লোবোর হিসেব মতে, এবারের বিশ্বকাপ যে দল জিতবে তাদের অধিনায়কের জন্ম ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে হতে হবে। এই সময়টায় ইউরেনাস এবং নেপচুন সবচেয়ে শক্তিশালি অবস্থানে ছিল।

এবারের বিশ্বকাপে দলগুলোর অধিনায়কের মধ্যে এই সময়ে জন্ম নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ, ইংল্যান্ডের ইয়ন মরগান আর পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ।

তবে লোবো মনে করছেন, এর মধ্যে সরফরাজকে বাদ দিতে হবে। কারণ পাকিস্তান অধিনায়ক ইতোমধ্যেই বড় একটি ট্রফি জিতে ফেলেছেন (২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি)।

তাহলে এবার বিশ্বকাপটা হাতে তুলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ড। এই দুই দলের মধ্যে আবার ভালো অবস্থানে আছে ইংল্যান্ড। কেননা অস্ট্রেলিয়া দলে গত বিশ্বকাপজয়ী দলের পাঁচজন সদস্য আছে, এটা তাদের ভাগ্যের বিপক্ষে যেতে পারে।

সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের ইয়ন মরগান আছেন গ্রহ-নক্ষত্রের হিসেবে এগিয়ে। আসলে লোবো বিশ্বাস করেন, আসন্ন বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে স্বাগতিক দলই।

ভারতের তবে কি হবে? কোনো সম্ভাবনাই নেই? নিজের দেশের একটা উপায় দেখছেন লোবো। তার মতে, যদি কোহলি কোনো কারণে ইনজুরিতে পড়ে যান, তবে নেতৃত্ব দেবেন রোহিত। তখন ভারতের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা থাকবে। কেননা রোহিতের জন্মসাল গ্রহ-নক্ষত্রের অনুকূলে।

আর বিশ্বকাপে পাকিস্তান-ভারত লড়াইয়ের মধ্যেও বরাবরের মতো ভারতই জিতবে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছেন মুম্বাই ভিত্তিক এই জ্যোতিষী। দেখা যাক, তার গণনা কতটুকু সত্য হয়!

যাদের রক্তে আসক্ত হয় মশা

মশা আমাদের অতি পরিচিত একটি কীট, মশা থেকেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো অসুখ ছড়ায়। তাই এর জন্য আগাম সতর্কতা নেয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু মানুষকে মশা যেন একটু বেশিই কামড়ায়। এমনটা কেন হয়, কখনো ভেবে দেখেছেন কি? এটা কি শুধুই মনের ভুল, নাকি সত্যি সত্যিই কিছু মানুষকে মশা অন্যদের তুলনায় বেশি কামড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসি ডেভিস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, কিছু কিছু মানুষের শরীরে মশার প্রিয় রাসায়নিক বেশি পরিমানে থাকে। আর প্রিয় রাসায়নিকের গন্ধে মশারা ওই সব মানুষদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।

অনেকেই মজা করে বলেন, রক্ত মিষ্টি হলে মশা বেশি কামড়ায়। এটা মজা করে বলা হলেও আসল বিষয়টাও অনেকটা তেমনই। অন্তত এমনটাই দাবি করছেন গবেষকরা।

তারা জানান, মানুষের শরীরের গন্ধ এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাধ্যমে মশা আকৃষ্ট হয়। একেক জনের শরীরের গন্ধ একেক রকমের হয়। কোনো কোনো মানুষের শরীরের গন্ধ মশাকে বেশি আকৃষ্ট করে।

আমাদের ত্বক থেকে নিঃসৃত ল্যাকটিক অ্যাসিডের গন্ধ মশাকে বেশি আকৃষ্ট করে। যাদের শরীর থেকে অন্যদের তুলনায় বেশি ল্যাকটিক অ্যাসিড নির্গত হয়, তাদের প্রতি মশা বেশি আকৃষ্ট হয়, তাদেরকেই মশা বেশি কামড়ায়।

দীর্ঘ পরীক্ষার পর গবেষকরা জানিয়েছেন, যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ তাদেরকেই মশা বেশি কামড়ায়। তবে এছাড়াও যাদের শরীর অতিরিক্ত মেদযুক্ত, গর্ভবতী নারী বা যাদের নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে, তাদের মশা অন্যদের তুলনায় বেশি কামড়ায়।

মাইগ্রেনের কার্যকর চিকিৎসা
মাইগ্রেন হলো একপ্রকার পুনরাবৃত্তিমূলক মাথাব্যথা। ধপধপ বা ধকধক অনুভূতির এ মাথাব্যথা সাধারণত মাথার একপাশে আবির্ভূত হয়ে থাকে। মাইগ্রেন নারী-পুরুষ উভয়কে আক্রমণ করতে পারে এবং অধিকাংশ মাইগ্রেনের সূচনা হয়ে থাকে অল্প বয়সেই। আলো, কোলাহল বা শব্দ, শারীরিক পরিশ্রম ও কিছু গন্ধ দ্বারা মাইগ্রেনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। মাইগ্রেনের সঙ্গী হতে পারে বমিবমি ভাব ও দৃষ্টিশক্তির বিঘ্নতা। মাইগ্রেনের জন্য একক নিরাময় না থাকলেও কিছু উপায় মেনে চলে এটিকে উপশম করতে পারেন অথবা মাইগ্রেন আক্রমণের হার কমাতে পারেন। এ প্রতিবেদনে মাইগ্রেনের কার্যকর চিকিৎসা আলোচনা করা হলো।

* প্রায় সকলের ক্ষেত্রে কাজ করে: খুব কম চর্বির ডায়েট
এটা খুঁজে বের করা সম্ভব যে আপনার ডায়েটে কিসের সংযোজন-বিয়োজন মাইগ্রেনে সহায়ক। নিউট্রিশন, মেটাবলিজম অ্যান্ড কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ১২ সপ্তাহ ধরে অতি কম চর্বির ডায়েট (যেখানে তারা প্রতিদিন ১০-১৫ শতাংশের কম ক্যালরি চর্বি থেকে পেয়েছে) অনুসরণ করেছিল। দেখা গেল, প্রায় সকলেই বলেছেন যে মাথাব্যথার উদ্রেক ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাদের মাথাব্যথার তীব্রতা ৬৬ শতাংশ ও মাইগ্রেনের স্থায়িত্ব ৭০ শতাংশ কমে যায়। অন্যান্য গবেষণায় পাওয়া যায় যে, মাইগ্রেন উপশমের ক্ষেত্রে অতি কম চর্বির ডায়েট ও পরিমিত চর্বির ডায়েটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যান্য কিছু ডায়েটও সম্ভবত ভালো কাজ করে, যেমন- কম কার্বের ডায়েট অথবা ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডায়েট, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেডেক ফাউন্ডেশন অনুসারে।

* অধিকাংশের ক্ষেত্রে কাজ করে: ভিটামিন বি, ফিভারফিউ, মেলাটোনিন ও বাটারবুর
ভিটামিন বি: একটি বেলজিয়ান গবেষণায় পাওয়া গেছে, যে যেসব লোক প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম এ ভিটামিন সেবন করেছিল তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের মাইগ্রেন উদ্রেকের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ফিভারফিউ: ব্রিটিশ গবেষকদের মতে, মাইগ্রেন উপশমের ক্ষেত্রে এ জনপ্রিয় ভেষজ উদ্ভিদ থেকে হালকা ও অস্থায়ী উপকারিতা পাওয়া যায়। কিন্তু অন্য একটি গবেষণা বলছে, পার্থেনোলাইড সমৃদ্ধ ফিউভারফিউ নির্যাস মাইগ্রেনের সংখ্যা মাসে ৫ থেকে ৩ এ নামাতে পারে। অন্যান্য গবেষণায় এ ভেষজের কার্যকারিতার ওপর সাংঘর্ষিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মেলাটোনিন: একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ৩ মাস ধরে প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে মেলাটোনিন সেবন করেছিল। তাদের দুই-তৃতীয়াংশ জানান যে মাইগ্রেন অভিজ্ঞতার সংখ্যা ৫০ শতাংশে নেমে গেছে।

বাটারবুর: একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, বাটারবুর হলো মাথাব্যথার চিকিৎসায় সবচেয়ে নিরাপদ ও পরীক্ষিত হার্বাল। নিউরোলজি নামক জার্নাল অনুসারে, যেসব লোক বাটারবুর-বেসড প্রোডাক্ট পেটাডোলেক্স গ্রহণ করেছিল তাদের ৬৮ শতাংশের মাইগ্রেন অভিজ্ঞতা ৫০ শতাংশ হ্রাস পায়।

* হালকা মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে কাজ করে: ওটিসি ওষুধ
মাইগ্রেনের আক্রমণ আপনাকে দৈনন্দিন কাজ থেকে বিরত রাখতে না পারলে এবং প্রতি পাঁচ বা এর কম আক্রমণে একবার বমিবমি ভাব অনুভূত হলে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, অ্যাসিটামিনোফেন ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো সুলভ ওভার-দ্য-কাউন্টার অর্থাৎ ওটিসি ওষুধ (এসব কিনতে প্রেসক্রিপশন লাগে না) মাইগ্রেন উপশমকারক হিসেবে কাজ করতে পারে। কোনটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে? আইবুপ্রোফেনের চেয়ে অ্যাসিটামিনোফেন, অ্যাসপিরিন ও ক্যাফেইনের সমন্বয়কৃত ওটিসি ওষুধ ২০ মিনিট দ্রুত কাজ করতে পারে।

* তীব্র মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে কাজ করে: প্রেসক্রিপশন ওষুধ
ওটিসি ওষুধে কাজ না হলে এবং মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হওয়ামাত্র চিকিৎসা করতে চাইলে এ মাথাব্যথার গোল্ড-স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কে আপনার চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করতে পারেন। মাইগ্রেনের গোল্ড-স্ট্যান্ডার্ড হলো ট্রিপটানস। মাইগ্রেন আক্রমণের প্রথম লক্ষণেই এসব ওষুধ সেবন করলে মাইগ্রেন থেমে যেতে পারে। এছাড়া এ ওষুধ চলমান মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথাও উপশম করতে পারে। ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রিপটানস এক ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা উপশম করতে পারে এবং দুই ঘন্টার মধ্যে সম্পূর্ণ মুক্তি দিতে পারে।

* ঘনঘন মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে কাজ করে: প্রতিরোধক ওষুধ
যদি মাইগ্রেন আপনাকে মাসে দুই বা ততোধিক বার আক্রমণ করে, তাহলে মাইগ্রেন প্রতিরোধী ওষুধ সেবন করতে পারেন। চার সপ্তাহের মধ্যে এসব ওষুধ মাইগ্রেন উদ্রেকের হার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হ্রাস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটা-ব্লকার্স প্রোপ্রানোলোল ও টিমোলোল সেবনকারী ৯০ শতাংশ ভুক্তভোগী মাইগ্রেন থেকে মুক্তি থেকে পায়। বিটা-ব্লকার্স কাজ না করলে ক্যালসিয়াম চ্যানেল-ব্লকার্স চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

* প্রায় সকল ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর: ব্যথানাশক ওষুধ
মাইগ্রেন উপশমের মানে এই না যে বেশি করে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হবে। শুনতে অবাক লাগলেও আপনার জন্য পরামর্শ হলো- মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পেতে ব্যথানাশকের অতি ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে মাইগ্রেনের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে অথবা মাইগ্রেন আক্রমণের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। সপ্তাহে দুবারের বেশি ওটিসি ব্যথানাশক ওষুধ এবং মাসে ১৭ বারের ওপর মাইগ্রেন উপশমকারক প্রেসক্রিপশন ওষুধ ট্রিপটানস সেবনে শেষ পর্যন্ত রিবাউন্ড মাইগ্রেন (ওষুধের অতি ব্যবহার জনিত মাইগ্রেনের আক্রমণ) হতে পারে, সতর্ক করেন জার্মান গবেষকরা।

* কিছু ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে কাজ করে: আকুপাঙ্কচার
২২টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের একটি রিভিউ বলছে যে, মাইগ্রেন আক্রমণের সংখ্যা হ্রাসে আকুপাঙ্কচার সহায়ক হতে পারে এবং এ বিষয়ে প্রমাণও পাওয়া গেছে। এ রিভিউ থেকে জানা যায়, যেসব ভুক্তভোগী আকুপাঙ্কচার গ্রহণ করেছিল তাদের মাইগ্রেন আক্রমণের হার ৫০ থেকে ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়া আকুপাঙ্কচারের সুফল ৬ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

* মাইগ্রেন উপশমে যা কাজ করে না: ম্যাগনেসিয়াম ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ
ওপরে আলোচিত উপায়গুলো মাইগ্রেন উপশমে অবদান রাখতে পারে, কিন্তু এ মাথাব্যথা থেকে রেহাই পেতে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ও হোমিওপ্যাথির ওষুধের মতো অনুমিত চিকিৎসার প্রতি উৎসাহ দেখাবেন না। মস্তিষ্কে ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতির সঙ্গে মাইগ্রেনের যোগসূত্র পাওয়া গেলেও দুটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট মাইগ্রেন-প্রবণ লোকদের কোনো উপকার করতে পারে না। একইভাবে, ব্রিটিশ গবেষকরা একটি গবেষণায় তিন মাস ধরে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ও তিন মাস ধরে প্ল্যাসেবো সেবনকারীদের মধ্যে মাইগ্রেনের তীব্রতা বা আক্রমণ সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাননি।

জানা-অজানা তথ্য
০১. একজন স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবান মানুষ ২৪ ঘন্টায় যা করে:
(ক) ২৩,০৪০ বার শ্বাস প্রশ্বাস নেয়
(খ) ৭,৫০০ লিটার রক্ত পাম্প করে
(গ) প্রতিরাতে গড়ে ১-১.৫ মিনিট স্বপ্ন দেখে
(ঘ) হৃৎপিণ্ড ১,৩০,৬৮০ বার স্পন্দিত হয়
(ঙ) গড়ে প্রায় ৪,৮০০ টি কথা বলে
(চ) ১ সের ২ ছটাক পানি পান করে
(ছ) মাথার মগজের ৭০ লক্ষ কোষ কোন না কোন কাজ করে
(জ) মাথার চুল ০.০১৭১৪ ইঞ্চি বাড়ে
(ঝ) সকালের তুলনায় সন্ধ্যায় উচ্চতা ১ সে.মি. হ্রাস পায়

০২. মানব শরীরে ৭০% পানি ও ১৮% কার্বন রয়েছে

০৩. একজন মানুষের হৃৎপিন্ড তার মুষ্টিবদ্ধ হাতের সমান

০৪. হৃৎপিন্ড যেমনটা ভাবা হয় বুকের বামদিকে আসলে তা নয়. এটা মাঝখানেই তবে বামদিকে এক-তৃতীয়াংশ প্রসারিত.

০৫. মানুষের শরীরে গিরার পরিমাণ ১০০ টি.

০৬. চোখের একটা পলক ফেলতে ০.৪ সেকেন্ড সময় লাগে।

০৭. মাথায় প্রতিদিন প্রায় ১০০ টি চুল গজায়।

০৮. সুস্থ্ দেহে রক্তের গতিবেগ ঘন্টায় ৭ মাইল।

০৯. একজন মানুষের গড় ক্ষমতা ০.১৪৩ অশ্ব ক্ষমতা।

১০. স্বাভাবিক জ়ীবন বেঁচে থাকলে মানুষ সাধারণত ২,৫০,০০,০০০ বার কাঁদে।

১১. মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের নখ দ্রুত বাড়ে।

১২. একজন মানুষের সারা জীবনের হাতের আঙ্গুলের নখের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মোট দৈর্ঘ্য গড় হিসেবে ২৮ মিটার।
১৩. জন্মের প্রথম বছরে একটি মানব শিশুর মুখ থেকে প্রায় ১৪৬ লিটারের সমপরিমাণ লালা নিঃসৃত করে।
১৪. জন্মের প্রথম দুই বছরে একটি মানব শিশু হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় ১৫০ কি.মি. দূরত্ব আতিক্রম করে।
১৫. একজন মানুষ প্রতিদিন ৬ ঘন্টা ঘুমালে সে যদি ৫০ বছর বাঁচে তবে তার জীবনের ১২.৫ বছর ঘুমের মধ্যে কা


বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বীপের নামকরণ সম্পর্কে জানুন:-
আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ, একটি ব-দ্বীপ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন দ্বীপ। অনেক দ্বীপের নাম আমরা শুনেছি কিন্তু তাদের নাম কেন এমনটা হল এই সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। আসুন জেনে নিই কয়েকটি বিখ্যাত দ্বীপ ও তাদের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে।

সন্দ্বীপ

তিন হাজার বছরেরও পুরানো একটি দ্বীপ সন্দ্বীপ। এর নামকরণ নিয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। অনেকের মতে, সাগরের মধ্যে বালির স্তূপের মতো দেখায় বলে ইউরোপিয়ানরা একে “Sand-heap” নামে ডাকতো। সেখান থেকে বর্তমান নামের উৎপত্তি। কেউ কেউ মনে করেন যে প্রাচীন স্বর্ণদ্বীপ হলো এর পূর্বনাম। এক সময় জাহাজ বানানোর জন্য দ্বীপটি বিখ্যাত ছিলো।

মহেশখালী দ্বীপ

পর্তুগিজ পরিব্রাজক সিজার ফ্রেডারিকের বর্ণনা ও ড. সুনীতি ভূষণ কানুনগোর তথ্য অনুযায়ী ১৫৫৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মহেশখালী দ্বীপের সৃষ্টি হয়। ভৌগোলিকভাবে দ্বীপটির একটি আলাদা পরিচয় রয়েছে। মহেশাখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ।

সেইন্ট মার্টিনস দ্বীপ

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসাবে সেইন্ট মার্টিনস দ্বীপের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ভৌগোলিকভাবে এটি তিন অংশে বিভক্ত – উত্তর পাড়া, দক্ষিণ পাড়া ও মধ্য পাড়া। এর মধ্যে উত্তর পাড়ার আলাদা একটি নাম রয়েছে। মূলত নারিকেল জিঞ্জিরা নামে স্থানীয়রা দ্বীপটিকে ডাকেন।

তালপট্টি দ্বীপ

মাত্র ১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে সীমানার দ্বন্দ্ব। ১৯৭০ সালের ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের ঠিক আগে প্রথম এর অস্তিত্ব জানা যায়। ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের নজরে এলে তাঁরা নিজস্ব নাম দেয় দ্বীপটিকে। একটি নাম হলো পূর্বাশা, অন্যটি নিউ মুর।

কুতুবদিয়া দ্বীপ

কুতুবদিয়া দ্বীপের সাথে জড়িয়ে আছে একটি বিখ্যাত বাতিঘরের নাম। বঙ্গোপসাগরে জাহাজ চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৮৪৬ সালে নির্মিত হয় এটি, যা পরবর্তীতে জলোচ্ছ্বাস-ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। প্রাচীন বাতিঘর আসলে বহু আগেই সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো পর্যটকরা ভিড় জমান বাতিঘরপাড়ায়।
মনপুরা দ্বীপ
মনপুরা দ্বীপ বাংলাদেশের কোন ভোলা জেলায় অবস্থিত। এ জেলার পূর্বনাম শাহবাজপুর। মনপুরা দ্বীপের একটি কাহীনি নিয়ে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, নাম – “মনপুরা”।
দুবলার চর
দুবলার চর বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের দক্ষিণে ছোট একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ দুবলার চর। এই দুবলার চর মূলত রাসমেলার জন্য বিখ্যাত।
হাতিয়া দ্বীপ
কথিত আছে, বারো জন আউলিয়া মাছের পিঠে চড়ে বাগদাদ থেকে চট্টগ্রাম যাবার পথে এ দ্বীপে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। দ্বীপটির অধিবাসীরা বিশ্বাস করেন যে আমাদের দেশের ইতিহাসে সেখানেই প্রথমবারের মতো ইসলাম প্রচারিত হয়। দ্বীপের নাম হল হাতিয়া দ্বীপ।
নিঝুম দ্বীপ
নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত নিঝুম দ্বীপ মূলত কয়েকটি চর নিয়ে গঠিত। ইছা (চিংড়ি) মাছের সহজলভ্যতার জন্য এক সময় স্থানীয়ভাবে একে ইছামতির দ্বীপ বলা হতো। আবার বালির ঢিবির উপস্থিতির জন্য অনেকে বাইল্যার ডেইল নামেও ডাকতেন। তবে সরকারি জরিপ বিভাগ একজন মহিষ পালনকারীর (বাথানিয়া) নাম অনুযায়ী এর আনুষ্ঠানিক জরিপ করে বলে ধারণা করা হয়। জরিপের কাজে তাঁর সহায়তার জন্যই এমন নামকরণ। চর ওসমান নামে দ্বীপটি প্রথম পরিচিতি পায়।
সোনাদিয়া দ্বীপ
সোনাদিয়া দ্বীপ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার অর্ন্তগত হোয়ানক ইউনিয়নে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি জীববৈচিত্রের দ্বীপ নামেও পরিচিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধার জন্য সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

আপনার স্মার্টফোন যেভাবে যত্নে রাখবেন

স্মার্টফোনগুলো বাজারে আসছে দারুন দারুন সব হার্ডওয়্যার এবং উচ্চ মানের প্রযুক্তি নিয়ে। আর এই প্রযুক্তি শুধু স্মার্টফোনের প্রসেসর, জিপিইউতেই সীমাবদ্ধ নেই বরং ডিসপ্লে ম্যাটারিয়ালেও লেগেছে এই ছোঁয়া। বর্তমানের স্মার্টফোনগুলোতে থাকছে খুবই মজবুত স্ক্র্যাচ-রেজিস্ট্যান্ট ডিসপ্লে।

স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ভালো রাখতে যা করবেন
১। স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় শুধু মাত্র আপনার আঙ্গুল বা স্মার্টফোনের সাথে দেয়া স্টাইলাস ব্যবহার করুন।

২। খেয়াল রাখবেন আপনার স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটটির টাচ স্ক্রিন যেন অন্য কোন ইলেক্ট্রিক ডিভাইসের সংস্পর্শে না আসে।

৩। স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় কিছুটা ল্যাগ অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। অনেকেই তখন দ্রুত আঙ্গুলের মাধ্যমে স্ক্রিনের উপর বামে বা ডানে সোয়াইপ করে দেখতে চায় যে আসলে কি পরিমাণ ল্যাগ হচ্ছে। এতে করে স্ক্রিনের উপর একটি বাড়তি চাপ পরে, ফলে স্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বা স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

৪। স্ক্রিনের যে সকল সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে ‘বার্ন-ইন’ সমস্যাটি অত্যন্ত পরিচিত একটি সমস্যা। সহজ কথায় এটি হচ্ছে ‘স্ক্রিন জ্বলে যাওয়া’ বা রঙ নষ্ট হয়ে যাওয়া। এই সমস্যা হতে পারে যদি আপনি একনাগারে অনেক ক্ষন আপনার স্মার্টফোনটির ডিসপ্লে চালু করে রাখেন। এতে করে স্বাভাবিক ভাবে যে সমস্যাটি হয় তা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত গরম হবার কারনে স্ক্রিনে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। এই সমস্যা এড়ানোর জন্য আপনি সেটিংস থেকে ডিসপ্লেতে আলো ঠিক কতটুকু সময় পরে ডিম হয়ে যাবে বা ডিসপ্লে স্লিপ মোডে যাবে নির্ধারন করে দিতে পারেন।

৫। স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করুন। আপনার যদি কর্নিং গরিলা গ্লাস বিশিষ্ট একটি স্মার্টফোন থেকে থাকে তবুও আপনার একটি স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করা উচিৎ।

৬। সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে স্মার্টফোনটি রাখবেন না। এলসিডি, এলইডি ইত্যাদি ডিসপ্লে গুলো অনেকক্ষণ সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে থাকলে এগুলোর কোয়ালিটি অনেকাংশে অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

৭। আপনার স্মার্টফোনটির স্ক্রিন পরিষ্কার করার জন্য মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। কেননা, মাইক্রোফাইবার কাপড় স্মার্টফোনের পর্দার জন্য সবচাইতে ভালো কাজ করে। আর যদি আপনি পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে চান তবে খেয়াল রাখবেন তা যেন ফুটানো পানি হয় কেননা ট্যাপের পানিতে অনেক সময় ক্যালশিয়াম সহ আরও কিছু উপাদান থাকে যা স্ক্রিনের জন্য ক্ষতিকর। মোছার সময় জোরে চাপ প্রোয়োগ করবেন না।

স্মার্টফোনের গতি বাড়বে যেভাবে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্টফোনের বিভিন্ন ফিচারের পারফরম্যান্স কমতে থাকে। ফলে গতি ধীর হয়ে যায়। কাজ করার সময় সেটি যেমন হ্যাং হয়, তেমনি অন্যান্য উটকো ঝামেলাও তৈরি করে। শুধু গতিই নয়, কিছু কৌশল প্রয়োগ করলে ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপও বেড়ে যাবে।

১. ফোন ভাইরাসমুক্ত রাখুন
ফোনে র‍্যাম যত বেশি, গতিও তত বেশি। র‍্যামই আপনার ফোনের গতি বাড়িয়ে দেয়। তাই নিয়মিত ফোনের র‍্যাম পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে রিবুটও করতে পারেন।

২. ক্যাশ পরিষ্কার রাখুন
ক্যাশ বিল্ডআপ আপনার ফোনের গতি কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত আইফোনের ক্যাশ পরিষ্কার করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে একবার করতে পারলেই ভাল।

৩. মেসেজ জমানো কমান
আপনার ফোনের মেসেজ বক্সে জমে থাকা পুরনো মেসেজ পুরো ফোনটিকেই মন্থর করে দেয়। মেসেজে ছবি ভিডিও আদানপ্রদান করলে অনেক জায়গাও নষ্ট করে। তাই অপ্রয়োজনীয় মেসেজ ডিলিট করুন।

৪. অ্যানিমেশন বন্ধ রাখুন
নতুন অ্যাপ ওপেন করার সময় বা একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার সময় কিছু অ্যানিমেশন দেখায় যেগুলো দেখতে বেশ ভাল লাগে। এগুলি ফোনকে ধীরগতির করে দেয়। ব্যাটারিও খরচ করে।

৫. ওয়াই-ফাই প্রয়োজন ছাড়া অফ রাখুন
যদি আপনার ওয়াই-ফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আপনার সেলুলার ডাটা অন হয়ে যাবে এমন ফিচার থাকলে ভাল। তাতে ব্যাটারি খরচ অনেকটা কমবে।

৬. লো পাওয়ার মোড অন রাখুন
ফোনের চার্জ যখন একেবারে নীচে নেমে আসে তখন ব্যাটারি বাঁচাতে লো পাওয়ার মোড অপশন অন করুন। এতে ব্যাটারি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেশি সার্ভিস দেবে।

৭. লোকেশন সার্ভিস খুলবেন না
কিছু অ্যাপ সর্বদা আপনার লোকেশন জানান দিতে থাকে। কিন্তু স্মার্টফোন বা আইফোনে অনেক অ্যাপই লোকেশন সার্ভিস চালু করে রাখে। এগুলো বন্ধ করে দিয়ে ফোনের ব্যাটারি সংরক্ষণ করুন।

৮. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করুন
আপনি অনেক অ্যাপ ব্যবহার করে বন্ধ করে দেয়ার পরেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে এবং নিয়মিত আপডেট নিতে থাকে। তাই সেটিংস মেন্যুতে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বন্ধ করে রাখুন। ব্যাটারি ক্ষয় কমাবে। গতি বাড়াবে।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি সুরক্ষিত রাখতে করণীয়
জেনে নিন আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানোর ১০ উপায়-

১. আলোর মাত্রা কমান
মোবাইলের পর্দার আলো কমিয়ে রাখলে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি অনেক দিন পর্যন্ত ভাল থাকবে। এর জন্য প্রথমে আপনার মোবাইলের সেটিং অপশনে যান। তারপর আলো কমানোর অপশনে ক্লিক করুন। এমনকি শুধু এক মিনিটেরও কম সময় পর্যন্ত আলো রাখার নির্দেশনা দিন।

২. রেডিওর সুইচ বন্ধ
অপ্রয়োজনের সময় ফোনের জিপিএস, ব্লুটুথ, এনএফসি ও ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখুন। তাহলে আপনার মোবাইলের ব্যাটারি অনেকদিন টিকবে।

৩. নোটিফিকেশন বন্ধ
ফোনে ইনকামিং ইমেইল বার্তা (নোটিফিকেশন) বন্ধ রাখুন। তবে আপডেট ইমেইল জানার জন্য পিং সার্ভার চালু রাখা যেতে পারে। এতে করেও ব্যাটারি অনেকদিন ভাল থাকবে।

৪. ওয়াই-ফাই ব্যবহার
ইন্টারনেটে ঢুকতে চাইলে সেলুলারের চেয়ে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করাই বেশি ভাল। এতে করে আপনার শখের স্মার্টফোনটির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। ফলে স্থায়িত্ব বাড়বে ব্যাটারির।

৫. ফোন লক
ব্যবহারের সময় ছাড়া আপনার মোবাইল সবসময় বন্ধ রাখুন। কারণ তাতেও আপনি ফোন ও বার্তা গ্রহণ করতে পারবেন। আর লক না করলে যে কোনো সময় চাপ পড়ে এর বাটন কিংবা পর্দায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে কমে যেতে পারে ব্যাটারির আয়ু।

৬. অ্যাপসের ব্যাপারে সতর্ক
ভিডিও দেখা কিংবা মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলো বেশি খেললে ফোনের ব্যটারি বেশি দিন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই যতটা সম্ভব এগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে। আবার ওয়েবে গান শুনলেও ব্যাটারির ক্ষতি হয়।

৭. অ্যাপ বন্ধের ব্যাপারে নিশ্চিত
কাজের পর এ্যাপগুলো ভালভাবে বন্ধ করে দিন। প্রয়োজন হলে আরও একবার চেক করুন।

৮. সঠিক তাপমাত্রায় ফোন
ফোন কখনই গরম কিংবা ঠান্ডায় রাখবেন না। তাহলে ব্যাটারির উপর এর প্রভাব পড়ে এটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা দেয়া দেয়। তবে ৩২ থেকে ৯৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখলে এটি ভাল কাজ করে।

৯. সফটওয়্যারের সর্বশেষ ভার্সন ব্যবহার
সবসময় লেটেস্ট সব সফটওয়্যার আপডেট করতে হবে। মোবাইলের শক্তি বাড়াতে এটি অবশ্যই অনেক বেশি কার্যকরি। এর জন্য প্রয়োজনে ইউএসবি ক্যাবল এমনকি ওয়াই-ফাই সংযোগও দেয়া যেতে পারে।

১০. অতিরিক্ত ব্যাটারি
অনেক মোবাইলের সাথেই দুটো করে ব্যাটারি দেওয়া হয়। এর অন্যতম কারণই হল অতিরিক্ত প্রোটেকশন। কাজেই সবসময় দুটো ব্যাটারি থাকলে ভালো হয়। তাহলে প্রয়োজনের সময় আর অসুবিধায় পড়তে হয় না।

সম্প্রতি ইতালির সারডিনিয়ার পর্ত সার্ভতে প্লাস্টিক দুষণের ফলে প্রাণ হারানো এক স্ত্রী স্পার্ম তিমির মৃত দেহ ভেসে উঠেছে। মৃত তিমির পেটে পাওয়া গিয়েছে আটচল্লিশ পাউন্ডের বেশি প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য।
মৃত স্ত্রী তিমিটির পেটে আরো পাওয়া যায় একটি অপরিণত ভ্রূণের চিন্হও। তবে, মা তিমির মৃত্যুর ফলে প্রাণ হারায় অপরিণত ভ্রুণও।

প্লাস্টিক বর্জ্যের সাথে মিশ্রিত হয়ে পচন ধরায় ভ্রুনের উপস্হিতি বুঝতেও প্রয়োজন হয় বাড়তি সময়।

তিমিটির মৃতদেহটি ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার 'সিমি সারদিনিয়া' নামক একটি অলাভজনক সংগঠন উদ্ধার করে এবং তা নিয়ে তদন্ত করে।

তিমিটির মৃত্যুর কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে পরবর্তীতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড এই তথ্য প্রকাশ করে যে, ২৬ ফুটের এই তিমিটির পেটে পাওয়া প্লাস্টিকের পরিমাণ তার আকার অনুপাতে অস্বাভাবিক। এছাড়াও আগের মাসে ফিলিপাইনস এ আরেকটি তিমির মরদেহ উদ্ধার করার পর তদন্ত করে ৮৮ পাউন্ড প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া যায়। ১৫ ফুটের এই তিমির জন্য এ পরিমাণ প্লাস্টিক ঠিক একইভাবে অস্বাভাবিক ছিল।

দাভাও শহরের ডি'বোন কালেক্টর জাদুঘরের ড্যারেল ব্লাটচলি এই তিমির ময়না তদন্ত করে জানান, এমন প্লাস্টিকের পরিমাণ তিনি পূর্বে কোনো প্রাণীর ভেতরে দেখেননি। প্লাস্টিকের পরিমাণ এতই বেশি ছিল যে তা দৃঢ় হয়ে ইটের মতো আঁটসাট হয়ে ছিল। প্লাস্টিক এত সময় ধরে এই তিমির ভেতরে প্রবেশ করেছে যে তা জমাট বাঁধতে শুরু করে।

ঠিক একইভাবে নভেম্বর মাসে ইন্দোনেশিয়া ৪০ কেজি এবং আগের বছর স্পেনে ৬০ পাউন্ড প্লাস্টিকসহ স্পার্ম তিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

খাবারের বদলে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলার পর তা হজম না হওয়ায় তিমির পেট সব সময় ভরা থাকে। এতে তিমির দেহে ভুল সংকেত পৌঁছায়, পেট ভরে থাকার অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

ফলাফল স্বরূপ ওজন হ্রাস, দুর্বলতা, ধীর গতি এবং প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলার ক্ষমতা কমে যায় এর।

সামুদ্রিক তিমিসহ সকল প্রাণীর জন্য প্লাস্টিক অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু এরপরও কমেনি প্লাস্টিক ব্যবহারের মাত্রা।

জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামতে চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস, ভিয়েতনাম সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা দেশগুলোর তালিকায় প্রথম দিকে অবস্থান করছে। উক্ত তালিকায় বাংলাদেশও দখল করে নিয়েছে দশম স্থান।

এ বিষয়ে ইতালির পরিবেশ মন্ত্রী সার্জিও কোস্তা প্রতিশ্রুতি দেন যে সকল প্রকার অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকারক প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্যে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তার প্রতিস্থাপক উপাদান প্রস্তুত করা হবে। কেননা, এধরণের জীবনযাত্রা কেবল মাত্র সামুদ্রিক নয়, সকল প্রকার পরিবেশ দুষিত করে। কেবল ইতালি নয়, সারাবিশ্বের এগিয়ে আসতে হবে এই সমস্যার প্রতিকারে।

তিনি বলেন, "এখনো কি কেউ আছে যে এই বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলে বিচার করেন না?"

এ বিষয়ে ড্যারেল ব্লাটচলি বলেন, "সকল প্রকার আলোচনা হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার কার্যকরী ধাপ নিতে কোনো দেশকেই এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে না।"

তিনি হতাশার সাথে তার অনলাইন পেইজে লিখেছেন, “সবাই ভান করে সমস্যা আমাদের নয়, অন্য কারো।"

একদিকে গবেষকদের হতাশা, অন্যদিকে বেড়ে চলছে প্লাস্টিক বর্জ্য এবং প্রতিশ্রুতির সংখ্যা। অন্যান্য বিলুপ্ত প্রাণীদের তালিকায় স্পার্ম তিমির নাম উঠবার আগেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গৃহীত হবে কিনা তা এখন সকলের প্রশ্ন!

Love You Milimishi

বাংলাদেশের থানার সংখ্যা কত ?

‘যদি কেউ আপনার প্রভুর আনুগত্য পছন্দ না করে তবে আপনারও তাকে পছন্দ করার কোন যুক্তি নেই।’

Current world population has already passed the 7.5 billion mark.

Allah

তবে বাংলা নববর্ষের শুরু কিভাবে হলো, এটা নিয়ে অনেক তত্ব ও মতামত আছে। সর্বজন স্বীকৃত মতামত হলো এর প্রচলন করেছেন সম্রাট আকরব। তবে আরো কিছু তত্ব আছে যার ফলে কিছু লোকের নাম চলে আসে, চলুন আজকে আমরা তা জানার চেস্টা করি।

বাঙ্গালি জাতিকে ধ্বংশ করতে ২৫ মার্চ পাকিস্তানিরা গণহত্যা শুরু করলে, ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মেজর জিয়উর রহমান বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

কোনদিন, আচমকা একদিন ভালোবাসা এসে যদি হুট করে বলে বসি- ‘চলো যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাই’, যাবে?


আদরের সোনামনির জন‍্য নিয়ে নিন হাজারো উপহার একদম ফ্রিতে...
________________________________________
Share
Share +1
Tweet
Pin
অ‍্যামাজন ডটকমের কথা কে না জানে? পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ই-কমার্স সাইট! এই ই-কমার্স সাইটটিতে পাওয়া যায় না এমন কিছুই নেই! বাচ্চাদের জন‍্য‍ কেনাকাটা করারও সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম অ‍্যামাজন। তবে আজ কেনাকাটা নয়, আলোচনা করবো কিভাবে এই প্লাটফর্ম থেকে ফ্রিতে নানান সব গিফট আইটেম আনা যাবে!
জ্বি, হাজারো গিফট আইটেম, একেবারেই ফ্রি...
কেন অ‍্য‍্যামাজন আপনাকে ফ্রিতে বাচ্চাদের গিফট পাঠাবে? কারণ বিলিয়ন ডলার এই কোম্পানিটি তাদের বাণিজ‍্যিক প্রচারণার অংশ হিসাবে গিফট পাঠায়। তাঁদের হাজারো পার্টনার কোম্পানি রয়েছে, সেসব কোম্পানিও তাঁদের প্রচারণার অংশ হিসাবেও পাঠায় হাজারো উপহার। উদ্দেশ‍্য: আপনি যেন পরবর্তীতে ঐ কোম্পানির পণ‍্য আবারও কিনেন।
অভিভাবকদের খুশি করা, এবং নিজেদের নানান পণ‍্য‍ সম্পর্কে তথ‍্য দেয়ার জন‍্যই মূলত এই ব‍্যবস্থা। মার্কেটিং সম্পর্কে যাঁদের ন‍্যূনতম আইডিয়া আছে তাঁরা খুব সহজেই ব‍্যাপারটি বুঝতে পারবেন...
অ‍্যামাজন বেবি রেজিস্ট্রি
অ‍্যামাজন থেকে ফ্রি গিফট পেতে হলে আপনাকে অ‍্যামাজন বেবি রেজিস্ট্রিতে নিবন্ধন করতে হবে। মজার ব‍্যাপার হচ্ছে, এই নিবন্ধনটাও একেবারেই ফ্রি! কেবল দু থেকে তিন মিনিট সময় ব‍্যয় করতে হবে...
চলুন অ‍্যামাজন বেবি রেজিস্ট্রি নিবন্ধন কিভাবে করবেন সেটি সচিত্র স্টেপ বাই স্টেপ দেখিয়ে দেই...

প্রথম ধাপ : অ‍্যামাজনে অ‍্যাকাউন্ট তৈরি
ফ্রিতে বেবি গিফট পাওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে আপনাকে অ‍্যামাজন ডটকমে একটি অ‍্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এখানে ক্লিক করে আপনি অ‍্যাকাউন্টটি খুলে নিতে পারেন।
এখানে ক্লিক করে অ‍্যামাজনে নিবন্ধন করুন!
রেজিস্ট্রেশন লিংক ক্লিক করলে এরকম একটি উইন্ডো আসবে। আপনাকে Get Started বাটনটিতে ক্লিক করতে হবে...

আপনাকে এবার Create an account ক্লিক করতে হবে...

আপনাকে এবার নাম, ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিতে হবে... এরপর Create your Amazon account ক্লিক করলেই আপনার অ‍্য‍্যাকাউন্ট হয়ে যাবে...

দ্বিতীয় ধাপ : ডেলিভারি অ‍্যাড্রেস দেয়া
শুধু অ‍্যাকাউন্ট তৈরি করলেই তো হবেনা, অ‍্যামাজনকে তো আপনার গিফট পাঠানোর ঠিকানা দিতেই হবে, তাই না?
পরবর্তী ধাপে স্বয়ংক্রীয়ভাবে অ‍্যামাজন আপনাকে ডেলিভারি অ‍্যাড্রেস জিজ্ঞাসা করবে। এখানে আপনাকে বলে দিতে হবে কোন ঠিকানায় আপনি গিফট চান। Country হিসাবে অবশ‍্যই Bangladesh নির্বাচন করবেন, কিংবা আপনি যে দেশে গিফট আইটেম রিসিভ করতে চান সেই দেশের নাম। নতুবা কস্মিনকালেও গিফট আর আপনার কাছে এসে পৌছবে না!
এরপর Next Section ক্লিক করুন!

এবার আপনাকে একটি তারিখ নির্বাচন করতে হবে। এখানে বর্তমান সময় থেকে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ‍্যে একটি তারিখ নির্বাচন করলেই হলো। ধরুন: আজ জানুয়ারির ২০ তারিখ। আপনি এখানে ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬ নির্বাচন করলেই হচ্ছে। এরপর আবার Next Section ক্লিক করুন।

এবার Permissions & Preferences নামে একটা ট‍্য‍্যাব আসবে যেখান থেকে কিছু সেটিংস করতে হবে। Privacy Settings অবশ‍্যই পাবলিক রাখবেন, নতুবা অ‍্যামাজন পার্টনার কোম্পানিগুলো আপনার রেজিস্ট্রি দেখতে পারবেনা, এবং গিফট পাঠাতে পারবেনা। এরপর Submit বাটনে ক্লিক করুন।

• আপনার এ ধাপের কাজ শেষ! এরপর পরবর্তী এবং শেষ ধাপ...
তৃতীয় ধাপ : বেবি রেজিস্ট্রি তৈরি করা
এটি সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ ধাপ। এটি সম্পূণর্ না হলে আপনাকে কোন গিফট আইটেম পাঠানো হবেনা। আপনাকে একটি বেবি রেজিস্ট্রি তৈরি করতে হবে, এবং রেজিস্ট্রিতে কমপক্ষে ১ টি প্রোডাক্ট অ‍্যাড করতে হবে।
কিভাবে করবেন? দেখিয়ে দিচ্ছি...
এ ধাপে আপনাকে এরকম রেজিস্ট্রি দেখাবে। আপনি যেকোন একটি রেজিস্ট্রিতে ক্লিক করতে পারেন।

যেকোন একটি রেজিস্ট্রিতে ক্লিক করলে বাম পাশে Copy items to your registry নামে একটা অপশন দেখা যাবে। নিচে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। সেখানে ক্লিক করুন। এরপর একটি পপআপ মেনু আসবে পণ‍্য তালিকা সহ!

এই পপআপ বক্স থেকে যেকোন এক বা একাধিক পণ‍্য নির্বাচন করুন। এরপর Add selected items to my registry ক্লিক করুন।

আপনার কাজ শেষ! এবার আপনার অপেক্ষার পালা। এরপর বিভিন্ন দিবস কিংবা অন‍্য কোন উপলক্ষ‍্যকে সামনে রেখে অ‍্যামাজন আপনাকে ফ্রি গিফট পাঠাবে। ফ্রিতে অ‍্যামাজন ডটকম থেকে গিফট আনার দারুন এই উপায়টি অন‍্যদের সঙ্গে শেয়ার করার জন‍্য অবশ‍্যই শেয়ার করবেন।
শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং!!
Share
Share +1
Tweet
Pin

দারুণ সুযোগ, এখনই অ‍্যামাজন ডটকম থেকে ফ্রিতে নিয়ে আসুন হাজারো বেবি গিফট আইটেম!
অপেক্ষা কেনো? এটি কিন্তু স্বল্প সময়ের অফার!
এখনই নিবন্ধন করুন!
কেবল অ‍্যামাজন ডটকম না, বিশ্বে আরও অনেক কোম্পানি রয়েছে যাঁরা মার্কেটিংয়ের অংশ হিসাবে বিভিন্ন ফ্রি গিফট পাঠায়। সেসব কোম্পানির ফ্রি গিফট সম্পর্কেও আমরা শীঘ্রই স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন তৈরি এবং প্রকাশ করবো। আপাতত অ‍্যামাজন ডটকমের এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ফেলুন!
শুধু যে ফ্রি গিফট পাঠায় এমনটি কিন্তু নয়, অ‍্যামাজন বেবি রেজিস্ট্রি তৈরি করলে বাচ্চাদের পণ‍্যে ১০% থেকে ১৫% করে ছাড়ও দেয়। এখনই নিবন্ধনের মাধ‍্যমে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেন!
© 2016 BabyGears, All rights Reserved | Privacy Policy | Disclaimer


কোরআনে বর্ণিত সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া
‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানা, ওয়াকিনা আজাবান্নার।’
অর্থ : হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর, আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। -সূরা বাকারা : ২০১
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এ দোয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া বলা হয়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি সবচেয়ে বেশি করতেন।
দোয়ার ফজিলত
বিশিষ্ট তাবেয়ি হজরত কাতাদা (রহ.) সাহাবি হজরত আনাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, নবীজী (সা.) কোন দোয়া বেশি করতেন? উত্তরে আনাস (রা.) উপরোক্ত দোয়ার কথা জানালেন। তাই আনাস (রা.) নিজেও যখন দোয়া করতেন তখনই দোয়াতে উক্ত আয়াতকে প্রার্থনারূপে পাঠ করতেন। এমনকি কেউ তার কাছে দোয়া চাইলে তিনি তাকে এ দোয়া দিতেন। একদা তিনি মন্তব্য করেন, আল্লাহতায়ালা এ দোয়াতে দুনিয়া ও আখেরাতের সব কল্যাণ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা একত্রিত করে দিয়েছেন।
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) এক রোগী দেখতে গেলেন। তিনি দেখলেন, রোগী একেবারে হাড্ডিসার হয়ে গেছে। নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি আল্লাহর কাছে কি কোনো প্রার্থনা করেছিলে? সে নিবেদন করল, হ্যাঁ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, হে আল্লাহ! আমার পরকালের শাস্তি আপনি আমাকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। নবী (সা.) আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর শাস্তি সহ্য করার ক্ষমতা কি কারো আছে? তুমি এখন থেকে এ দোয়া করতে থাক, রাব্বানা আতিনা…।’ দেখা গেল, এ দোয়ার বরকতে আল্লাহতায়ালা তাকে আরোগ্য দান করলেন।
অন্য আরেক বর্ণনায় আছে, নবী (সা.) রুকনে ইয়ামানি (কাবা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ) ও রুকনে আসওয়াদের (কাবা শরিফের দক্ষিণ কোণ) মাঝে উপরোক্ত দোয়া করতেন। তাই হজ ও ওমরার তাওয়াফকালে এ দোয়া পড়তে থাকা সুন্নত।
________________________________________
যে দোয়ায় আল্লাহ সন্তুষ্ট হন
হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং বিকালে তিনবার এ দোয়াটি পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা অবশ্যই কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করবেন। -মুসনাদে আহমাদ

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا
উচ্চারণ : রাজিতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়াবিল ইসলামি দীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।
অর্থ : আমি আল্লাহতায়ালাকে প্রভু পেয়ে সন্তুষ্ট, ইসলামকে জীবনাদর্শ পেয়ে সন্তুষ্ট ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট আছি।
________________________________________
গোনাহ মাফের দোয়া

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত জায়েদ (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এ দোয়াটি পাঠ করবে, তার (জীবনের) সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। -আবু দাউদ: ১৫১৯, তিরমিজি: ৩৫৭৭
أسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذي لا إلهَ إِلاَّ هُوَ الحَيَّ القَيُّومَ وأتُوبُ إلَيْهِ
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব। তিনি নিখিল সৃষ্টির পরিচালক। আমি তার কাছেই ফিরে যাব।
________________________________________
“যে ব্যক্তি দিনে এক শতবার
“সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি (আমি প্রশংসার
সাথে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)”
পড়ে, তার গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির
সমান হলেও মাফ করে দেয়া হয়।”
____বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)
________________________________________
রাসূল (সা) বলেছেন, আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে কেউ যদি প্রতিদিন সকাল (ফযরের পরে) ও সন্ধ্যায় (আসর বা মাগরিবের পরে) পড়ে — আর সে ঐদিন মারা যায় — ইনশা’আল্লাহ সে জান্নাতে যাবে।
(বুখারী, তিরমিযী ৫/৪৬৬) হিসনুল মুসলিম পৃষ্ঠা — ১২৭।
দোয়াটি হলো -
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَّﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ، ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ
ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ، ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ
ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ، ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ،
ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ، ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ
ﻓَﺎﻏْﻔِﺮ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ
উচ্চারণঃ
আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা-ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানি ওয়া আনা আ’বদুক, ওয়া আনা-আ’লা আহ’দিকা ওয়া-ওয়াদিকা মাস্তাতোয়া’ত, আ’উযুবিকা মিন শাররি মা-ছানাআ’ত আবু-উ-লাকা বিনি’মাতিকা আলায়্যা ওয়া-আবু-উ-বি-যামবি, ফাগফিরলী, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুযযুনুবা ইল্লা-আনতা। (বুখারী)
________________________________________

বিশ লক্ষ নেকির দোয়া একবার হলেও পরবেন
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শাড়ী
কালাহু আহাদান ছামাদান লাম ইয়ালিদ
ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু
কুফুয়ান আহাদ।”
________________________________________
যে দোয়া পাঠে আল্লাহ বান্দার জিম্মাদার হয়ে যান

হজরত বুরাইদা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর দশটি বাক্য পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। তার মধ্যে পাঁচটি বাক্য দুনিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর পাঁচটি বাক্য আখেরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবী করিম (সা.)- কর্তৃক বর্ণিত সেই দোয়াটি হলো-
حسبي الله لديني حسبي الله لدنياي حسبي الله لما أهمني حسبي الله لمن بغي علي حسبي الله لمن حسدني حسبي الله لمن كادني بسوء حسبي الله عند الموت حسبي الله عند المساءلة في القبر حسبي الله عند الميزان حسبي الله عند الصراط حسبي الله لا إله إلا هو عليه توكلت و إليه أنيب
উচ্চারণ :
হাসবিয়াল্লাহু লি দ্বীনী হাসবিয়াল্লাহু লি দুনিয়ায়ি। হাসবিয়াল্লাহু লিমা আহাম্মানী। হাসবিয়াল্লাহু লিমান বাগা আলাইয়্যা। হাসবিয়াল্লাহু লিমান হাসাদানী। হাসবিয়াল্লাহু লিমান কাদানী বিসু-য়িন। হাসবিয়াল্লাহু ইনদাল মাউতি। হাসবিয়াল্লাহু ইনদাল মাসআলাতি ফিল কাবরি। হাসবিয়াল্লাহু ইনদাল মিজান। হাসবিয়াল্লাহু ইনদাস সিরাতি। হাসাবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা-হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইহি উনিব।
অর্থ : আল্লাহতায়ালা আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য যথেষ্ট। যা কিছু আমাকে পেরেশান করবে সে ব্যাপারে আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। যে ব্যক্তি আমার বিরোধিতা করবে তার ব্যপারে আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। যে আমার সঙ্গে হিংসা করবে তার ব্যপারে আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। যে আমার বিরুদ্ধে কুচক্র করে তার ব্যপারে আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। মৃত্যুর সময়ই আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। কবরের প্রশ্ন-উত্তরের সময় আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। মিজানে আমল পরিমাপের সময় আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। পুলসিরাত পার হওয়ার সময় আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি তার ওপর ভরসা রাখি। আমি তার প্রতি মনোনিবেশ করি।
________________________________________
প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রিয় একটি দোয়া

হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে নিবেদন করলেন, আমাকে এমন একটি ওজিফা (দোয়া বা আমল) শিখিয়ে দিন যা আমি সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করব। নবী করিম (সা.) তাকে শিখালেন এবং বলে দিলেন, তুমি এ বাক্য সকালে পাঠ করবে, সন্ধ্যায় পাঠ করবে এবং শোয়ার সময় পাঠ করবে। -আবু দাউদ : ৫০৬৯ ও তিরমিজি : ৩৩৯২
اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبَّ كُلِّ شَىْءٍ وَمَلِيكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِى وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি। আলিমিল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি। রাব্বি কুল্লি শাইয়িন। ওয়া মালিকাহু। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আউজু বিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া শাররিশ শাইতানি ও শিরকিহি।
অর্থ : আকাশ ও জমিনের স্রষ্টা, উপস্থিত ও অনুপস্থিতের জ্ঞানী, সবকিছুর প্রতিপালক ও মালিক! আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি নিজের নফসের অনিষ্ঠ থেকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে এবং শিরক থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
________________________________________
নবী করিম (সা.) যে দোয়া বেশি বেশি করতেন

উম্মত জননী হজরত জুওয়াইরিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আল্লাহর নবী (সা.) ফজরের সময় আমার ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। তখন আমি জায়নামাজে ছিলাম। তিনি চাশতের সময় আমার ঘরে ফিরে এলেন। তখনও আমি জায়নামাজে ছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘জুয়ারিয়া! আমি যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এভাবেই ওজিফা আদায়ে মশগুল ছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি আমাকে বললেন, আমি তোমার পরে চারটি বাক্য তিনবার বলেছি। যদি এগুলোকে ওজন করা হয় তবে তোমার কৃত সমস্ত ওজিফার চেয়ে এগুলোই বেশি ভারি হবে। আর তা হলো-
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ :
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহি ওয়া রিজা নাফসিহি ওয়া জিনাতা আরশিহি ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।
সহিহ মুসলিম শরিফ : ৭০৮৮
অর্থ : আমি আল্লাহতায়ালার প্রশংসাসমেত পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তার সৃষ্টিকুলের সংখ্যার পরিমাণ, তিনি সন্তুষ্ট হওয়া পরিমাণ, তার আরশের ওজন সমপরিমাণ, তার কথা লিপিবদ্ধ করার কালি পরিমাণ।
________________________________________
বিভিন্ন দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদে থাকার দোয়া

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকালে এ দোয়া তিনবার পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আকষ্মিক দুর্ঘটনার শিকার হবে না। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এ দোয়া তিনবার পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত কোনো আকষ্মিক দুর্ঘটনার শিকার হবে না। -আবু দাউদ : ৫০৯০, তিরমিজি : ৩৩৮৮
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِى لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া-হুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ : আল্লাহর নামের উসিলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি। যার নামের সঙ্গে থাকা অবস্থায় আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারে না। তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন।
________________________________________
যে দোয়া পাঠে ৪০ লাখ সওয়াব আমলনামায় লেখা হয়

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত তামিম দারি (রা.) বর্ণনা করেছেন। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এ বাক্য দশ বার পড়বে সে চল্লিশ লাখ সওয়াব পাবে-
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إله إِلاَّ الله ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، إِلهاً وَاحِداً أَحَداً صَمَداً لَمْ يَتَّخِذْ صَاحِبَةً وَلاَ وَلَداً ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ
উচ্চারণ : আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু। ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। ইলাহান ওয়াহিদান- আহাদান সামাদান। লাম ইয়াত্তাখিজ সাহিবাতান ওয়ালা ওয়ালাদান। ওয়ালাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ : আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি একা, তার কোনো শরিক নেই। একক উপাস্য, একাই, অমুখাপেক্ষী, তার স্ত্রী-সন্তান নেই। তার সমকক্ষও কেউ নেই।
________________________________________





সব ধরনের অনিষ্টতা থেকে হেফাজতের দোয়া

হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেহ সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দোয়াটি পাঠ করলে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।
বিসমিল্লাহিল্লাজী লা ইয়াদুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলীম।
অর্থ : আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। -তিরমিজি ও আবু দাউদ
________________________________________
কোনো সম্প্রদায় থেকে ক্ষতির আশংকা হলে দোয়া
হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) যখন কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা করতেন তখন বলতেন —
আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহুরিহীম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহীম।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুখোমুখি করছি এবং তাদের অনিষ্টতা থেকে তোমারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। -আবু দাউদ ও নাসাই
________________________________________
রোগী দেখার দোয়া
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত বা রোগী দেখে এই দোয়া পাঠ করে সে কখনও এমন বিপদ কিংবা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় না।
আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আফিনী মিম্মাবতালাকা বিহী, ওয়া ফাদ্দিলনী আলা কাছিরীম-মিম্মান খালাকা তাফদিলা।
অর্থ : ‘সমস্ত প্রসংসা আল্লাহর জন্য যিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন তা থেকে আমাকে নিরাপদে রেখেছেন এবং তার বহু সংখ্যক সৃষ্টির ওপর আমাকে মর্যাদা দান করেছেন।’ –তিরমিজি
________________________________________


বিপদ-মসিবতের সময় পাঠ করার দোয়া
হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, মানুষের ওপর কোনো বিপদ এলে সে যদি এই দোয়া পাঠ করে- আল্লাহতায়ালা তাকে তার বিপদের প্রতিদান দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে তার বদলে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসিবাতী ওয়া আখলিফ-লী খাইরাম মিনহা।
অর্থ : আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তারই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং যা হারিয়েছি তার বদলে তার চেয়ে ভালো কিছু দান করুন। -সহিহ মুসলিম
________________________________________
বিপদের সময় পাঠ করার দোয়া
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতেন —
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালীমুল হাকীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি- ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।
অর্থ : আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি আকাশমন্ডলী, জমিন ও মহাসম্মানিত আরশের প্রভু। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম
________________________________________
ঋণ মুক্তির দোয়া
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক চুক্তিবদ্ধ দাস তার কাছে এসে বলে, আমি আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধে অপারগ হয়ে পড়েছি। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। তিনি বলেন, আমি তোমাকে এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দিব যা আমাকে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছিলেন। যদি তোমার ওপর পর্বত পরিমাণ দেনাও থাকে তবে আল্লাহতায়ালা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেন, তুমি পাঠ করবে —
আল্লাহুম্মাকফিনী বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনী বিফাদলীকা আম্মান সিওয়াক।
অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার হালাল দ্বারা আমাকে তোমার হারাম থেকে দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ভিন্ন অপরের মুখাপেক্ষি হওয়া থেকে স্বনির্ভর কর। -তিরমিজি ও বায়হাকি
________________________________________

দ্বীন ও দুনিয়ার সকল ধরনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি

সাহাবি হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন,
যে ব্যক্তি সকালে সাত বার এবং বিকালে সাত বার এ দোয়া পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা তাকে দ্বীন ও দুনিয়ার সকল ধরনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিবেন। -আবু দাউদ: ৫০৮৩, কানজুল উম্মাল: ৫০১১
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ : হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজীম।
অর্থ : আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তারই ওপর আমি ভরসা করি। তিনিই মহা আরশের অধিপাতি।
________________________________________
নেকি বৃদ্ধি, গোনাহ মাফ ও মর্যাদা বাড়ানোর দোয়া

মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি (রহ.) বর্ণনা করেন। একবার আমি মক্কায় গেলাম। আমার দ্বীনী ভাই সালিমের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। ভাই সালিম ছিলেন সাহাবি আবদুল্লাহ (রা.)-এর পুত্র এবং খলিফাতুল মুসলিমীন হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর নাতি। তিনি নিজের পিতার সূত্রে দাদা থেকে একটি হাদিস আমার কাছে বর্ণনা করেন। নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে যেয়ে এ দোয়া পড়বে আল্লাহতায়ালা তাকে দশ লাখ নেকি দান করবেন; দশ লাখ গোনাহ মুছে দিবেন। তার মর্যাদা দশ লাখ ধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন-
لا إِلهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، يُحْيِي ويُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لا يَمُوتُ، بِيَدِهِ الخَيْرُ وَهُوَ على كُلّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়া লাহুল হামদু। ইয়ুহয়ি ওয়া ইয়ুমিতু। ওয়া হুয়া হাইয়ুন। লা ইয়ামুতু। বিয়াদিহিল খাইরু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। — তিরমিজি: ৩৪২৮
অর্থ : এক আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। তার কোনো শরিক নেই। তিনি সকল সার্বভৌমত্বের মালিক। সকল প্রশংসা তার জন্য। তিনি জীবিত করেন। তিনি মৃত্যু দান করেন। তিনি চিরঞ্জীব। তার মৃত্যু নেই। সকল কল্যাণ তার নিয়ন্ত্রণে। তিনি সবকিছুর ওপর সামর্থবান।
________________________________________


বিভিন্ন বালা-মুসিবত থেকে রক্ষার দোয়া

দুনিয়ায় মানুষ কমবেশি বিপদ, মসিবত ও পেরেশানিতে পড়ে। এসব থেকে মুক্তি লাভের উপায় হিসেবে নবী করিম (সা.) উম্মতকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন।
ক. আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, আমি (নবী) ইউনুসের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছি। তাকে দুঃখ থেকে মুক্তি দিয়েছি। অনুরূপভাবে যে মুমিনরা এ দোয়াটি পড়বে আমি তাদেরও মুসিবত থেকে মুক্তি দিব। -সূরা আম্বিয়া : ৮৮
খ. হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে মুসলমান হজরত ইউনুস (আ.)-এর ভাষায় দোয়া করবে; সে যে সমস্যাতেই থাকুক না কেন- আল্লাহতায়ালা তার ডাকে সাড়া দিবেন। -তিরমিজি
গ. হজরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন : লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমীন। (একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয় আমি সীমা লঙ্ঘনকারী)। -জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০০
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমীন।
অর্থ : আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি পাপী। -সূরা আল আম্বিয়া : ৮৭
এটা কোরআনের দোয়া এবং দোয়া ইউনুস নামে প্রসিদ্ধ। এই দোয়া যে যত বেশি পড়বে আল্লাহতায়ালা ওই বিপদ সহজ করে দেবেন।
যদি আমরা এ জাতীয় ছোট ছোট দোয়া বেশি বেশি পাঠ করি এবং নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করি তাহলে আশা করা যায় মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবেন।
________________________________________
যে দোয়া পাঠে মানুষের অভাব দূর হয়

বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মাকহুল (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো সাতবার বলবে আল্লাহতায়ালা তার সত্তরটি অভাব দূর করবেন। (তন্মধ্যে) সবচেয়ে হাল্কা বিপদ হলো (মানুষের) অভাব। দোয়াটি হলো-
لاَ حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ ، وَلا مَلْجَأَ مِنَ اللهِ إِلاَّ إلَيْهِ
উচ্চারণ : লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ- লা মালজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।
অর্থ : আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে মশগুল হওয়া সম্ভব না। আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তার কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
________________________________________
সম্পদ লাভের দোয়া

নবী করিম (সা.) ফরজ নামাজের পর বলতেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু- লাহুল মুলকু। ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়াআলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আল্লাহুম্মা লা মানিআ লিমা আ-তাইতা। ওয়ালা মুতিয়া লিমা মানা’তা। ওয়ালা ইয়ানফাউ জাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
অর্থ : এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তার কোনো শরিক নেই। সকল সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সবকিছুর ওপর সামর্থবান। হে আল্লাহ! আপনি যা দিবেন তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা বাঁধা দিবেন তা দেয়ার কেউ নেই। কোনো সম্পদশালীকে তার সম্পদ আপনার থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
________________________________________
দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে রক্ষার দোয়া

হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর এ বাক্যটি তিনবার বলবে, আল্লাহতায়ালা তাকে তিনটি রোগ থেকে মুক্ত রাখবেন। যথা- অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা ও পক্ষাঘাত। -মুসনাদে আহমাদ: ২০৬০২
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ : সুবহানাল্লাহিল আজিমি ওয়া বিহামদিহি।
অর্থ : আমি সুমহান আল্লাহতায়ালার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি।
আলেমরা আরও বলেছেন, এ দোয়া পাঠে বিভিন্ন ধরনের দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে আল্লাহতায়ালা তার বান্দাকে হেফাজত করেন।

ব্যবহারেই নাকি বংশের পরিচয়! এমন কথা আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনেকটা সত্যি।

প্রিয় স্মার্টফোনটি কীভাবে আপনি হাতে নিয়ে ব্যবহার করছেন তা দেখেই আপনার স্বভাব জানা সম্ভব।

এনিয়ে জেনে নিতে পারেন এখানে থেকে -

১. বুড়ো আঙুল ব্যবহার করে

যাঁরা বুড়ো আঙুল ব্যবহার করে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাঁরা একটু বেপরোয়া স্বভাবের হন। সব সময় জীবনে পজিটিভ দিক দেখতে পান তারা। এছাড়াও জীবনের যে কোন সমস্যা সহজেই সমাধান করতে পারেন। নিজের কর্মক্ষমতায় বিশ্বাস রেখে সব সময় সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যান। খুব সহজে সম্পর্কে জড়াতে চান না। কিন্তু সম্পর্কে জড়ানোর আগে কয়েক মাস সময় নিয়ে মানুষটিকে দেখে নিতে ভালবাসেন।

২. বুড়ো আঙুল দিয়ে স্ক্রল ও টাইপ

হাতে ফোন নিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে যারা ফোন ব্যবহার করেন তারা সাধারনত খোলা মনের মানুষ হন। লোকে কী বলল সেই বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকেন এই ধরনের মানুষরা। এই মানুষগুলো সহজেই অন্য মানুষের মন জিতে নেন। খুব সহজেই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যার ফল পরে দিতে হয়।

৩. দুটি বুড়ো আঙুল ব্যবহার করে টাইপিং

খুব জলদি নিজের কাজ শেষ করতে পারেন এই মানুষগুলো। নিজের কাজের প্রতি সব সময় খুব সৎ থাকেন। খুব সহজেই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এই ধরনের মানুষের মন জেতা খুব কঠিন কাজ।

৪. তর্জনীর ব্যবহার

এই ধরনের মানুষরা খুব সৃজনশীল হন। আশেপাশের মানুষের থেকে আলাদা চিন্তা করতে পারেন। সম্পর্কের শুরুতে বেশ লজ্জা পান। নিজের মতো থাকতেই বেশি পছন্দ করেন।

21-Feb-2020 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3272+)
প্রশ্নঃ ভাষা আন্দোলনে কতজন শহীদ হয়েছিল তার সংখ্যা সঠিকভাবে পাওয়া যায় না, তবে পুলিশের গুলিতে ২৬ জন নিহত এবং ৪০০ জনের মতো আহত হয়েছিলেন এমন কিছু তথ্য পাওয়া যায়। ১৯৫২ সালের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালিদের সেই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দিনটি উদ্যাপন করা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। জাতিসংঘের ছয়টি অফিসিয়াল ভাষা রয়েছে, নিচের কোনটি জাতিসংষের অফিসিয়াল ভাষা নয়?
(A) ফরাসি
(B) জাপানি
(C) স্পেনীয়