About Pather Sambol

আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন। তারপর তাত্থেকে আশ্রয় চাইলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পরে আবার জাহান্নামের আগুনের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর তাত্থেকে আশ্রয় চাইলেন এবং তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিলেন। শু‘বাহ (রহ.) বলেনঃ দু’বার যে বলেছেন, এতে আমার কোন সন্দেহ নেই। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচ এক টুক্রা খেজুর দিয়ে হলেও। আর যদি তা না পাও, তবে সুমিষ্ট ভাষার বিনিময়ে।
---সহীহুল বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নং- ৬০২৩।

(আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৮৫)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

فَاذْكُرُونِىٓ أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِى وَلَا تَكْفُرُونِ

অর্থ: অতএব, তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ে না।
(সূরা আল-বাকারাহ, আয়াতঃ ১৫২)

তাফসীর:
যিক্‌র আরবী শব্দ। এর বেশ কয়েকটি অর্থ হতে পারে– (১) মুখ থেকে যা উচ্চারণ করা হয়। (২) অন্তরে কোন কিছু স্মরণ করা। (৩) কোন জিনিস সম্পর্কে সতর্ক করা। শরয়ী পরিভাষায় যিক্‌র হচ্ছে, বান্দা তার রবকে স্মরণ করা। হোক তা তাঁর নাম নিয়ে, গুণ নিয়ে, তাঁর কাজ নিয়ে, প্রশংসা করে, তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করে, তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে, তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে অথবা তাঁর কাছে কিছু চেয়ে।

যিক্‌র দুই প্রকার। যথা - কওলী বা কথার মাধ্যমে যিক্‌র ও আমলী বা কাজের মাধ্যমে যিক্‌র। প্রথম প্রকার যিক্‌রের মধ্যে রয়েছে - কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহ্‌র সুন্দর সুন্দর নাম ও সিফাতসমূহের আলোচনা ও স্মরণ, তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় প্রকারে রয়েছে - ইলম অর্জন করা ও শিক্ষা দেয়া, আল্লাহ্‌র হুকুম-আহকাম ও আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ইত্যাদি। প্রথম প্রকার যিক্‌রের মধ্যে কিছু যিক্‌র আছে যা সময়, অবস্থা এবং সংখ্যার সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, সকাল ও সন্ধ্যার যিক্‌র, সালাতের পরের যিক্‌র, খাওয়ার শুরু-শেষ, কাপড় পরিধান, মসজিদে প্রবেশ-বাহির ইত্যাদি সহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ-কর্মের দোআ বা যিক্‌রসমূহ। যে সকল যিক্‌র অবস্থা, সময় ও সংখ্যার সাথে সম্পৃক্ত সেগুলোর সংখ্যা, সময় অথবা অবস্থা কোনটিরই পরিবর্তন করা জায়েয নেই। যে সকল যিক্‌র এ তিনটির সাথে সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ সাধারণ যিক্‌র, সেগুলো সময়, সংখ্যা অথবা অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করাও জায়েয নেই। ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘মৌখিক যিক্‌রের জন্য কোন নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হওয়া এবং নির্দিষ্ট শব্দ নির্ধারণ করা বিদ’আত। [ইবনুল হুমাম, শরহে ফাতহুল কাদীরঃ ২/৭২]

যিক্‌র এর ফযীলত অসংখ্য। তন্মধ্যে এটাও কম ফযীলত নয় যে,বান্দা যদি আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, তাহলে আল্লাহ্‌ও তাকে স্মরণ করেন। আবু উসমান নাহ্‌দী রাহেমাহুল্লাহ বলেন, আমি সে সময়টির কথা জানি, যখন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদিগকে স্মরণ করেন। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনি তা কেমন করে জানতে পারেন? বললেন, তা এজন্য যে, কুরআনুল কারীমের ওয়াদা অনুসারে যখন কোন মুমিন বান্দা আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, তখন আল্লাহ্‌ নিজেও তাকে স্মরণ করেন। কাজেই বিষয়টি জানা সবার জন্যই সহজ যে, আমরা যখন আল্লাহ্‌র স্মরণে আত্মনিয়োগ করব, আল্লাহ্ তা'আলাও আমাদের স্মরণ করবেন। সায়ীদ ইবনে যুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ যিকরুল্লাহ'র তাফসীর প্রসঙ্গে বলেছেন যে, যিক্‌রের অর্থই হচ্ছে আনুগত্য এবং নির্দেশ মান্য করা। তার বক্তব্য হচ্ছেঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নির্দেশের আনুগত্য করে না, সে আল্লাহ্‌র যিক্‌রই করে না; প্রকাশ্যে যতবেশী সালাত এবং তাসবীহই সে পাঠ করুক না কেন’। মূলত: যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য করে অর্থাৎ তাঁর হালাল ও হারাম সম্পর্কিত নির্দেশগুলোর অনুসরণ করে, সেই আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, যদি তার নফল সালাত ও সিয়াম কিছু কমও হয়। অন্যদিকে যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নির্দেশাবলীর বিরুদ্ধাচরণ করে সে সালাত-সিয়াম, তাসবীহ্‌-তাহ্‌লীল প্রভৃতি বেশী করে করলেও প্রকৃতপক্ষে সে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি যিক্‌র করে এবং যে ব্যক্তি যিক্‌র করেনা তাদের উপমা হচ্ছে জীবিত ও মৃতের ন্যায়’। [বুখারীঃ ২০৮]

অপর এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘তোমাদেরকে কি এমন একটি উত্তম আমলের সংবাদ দেব যা তোমাদের মালিকের নিকট অধিকতর পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক, স্বর্ন ও রৌপ্য ব্যয় করা থেকেও তোমাদের জন্য উত্তম, শত্রুর সাথে মোকাবেলা করে গর্দান দেয়া-নেয়া থেকে উত্তম? তারা বলল, হ্যাঁ অবশ্যই বলবেন। তিনি বললেন, যিকরুল্লাহ’। [তিরমিযীঃ ৫/৪৫৯]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এক হাদীসে-কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ‘বান্দা যে পর্যন্ত আমাকে স্মরণ করতে থাকে বা আমার স্মরণে যে পর্যন্ত তার ঠোঁট নড়তে থাকে, সে পর্যন্ত আমি তার সাথে থাকি’। [বুখারীঃ ৭৪০৫]

মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "আল্লাহ্‌র আযাব থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে মানুষের কোন আমলই যিক্‌রুল্লাহর সমান নয়’। যুন্‌নূন মিসর বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি প্রকৃতই আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে সে অন্যান্য সবকিছুই ভুলে যায়। এর বদলায় স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলাই সবদিক দিয়ে তাকে হেফাজত করেন এবং সবকিছুর বদলা তাকে দিয়ে দেন’।

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

কখনো আল্লাহ আমাদের দুর্বল করে দেন, অধিক শক্তিশালী হবার জন্য
কখনো আল্লাহ আমাদের হৃদয় চূর্ণ করে দেন, আমাদের পরিপূর্ণ করার জন্য
কখনো আল্লাহ আমাদের দুঃখ সইতে দেন, অধিক সহনশীল হবার জন্য
কখনো আল্লাহ আমাদের ব্যর্থতা দেন, জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার জন্য
কখনো আল্লাহ আমাদের একাকীত্ব দেন, অধিক সচেতন হবার জন্য
কখনো আল্লাহ আমাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেন, আল্লাহর রহমতের মূল্য বুঝার জন্য !
.
"এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের। "
[সূরা আল বাক্বারাহ -১৫৫]

নতুন ফ্লাট বা বাড়ি বানাতে এমন একটা নামাজের ঘর বানাতে পারেন।

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُونُوا قَوّٰمِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَآءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلٰىٓ أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوٰلِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ۚ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلٰى بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوٰىٓ أَن تَعْدِلُوا ۚ وَإِن تَلْوُۥٓا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا

অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর জন্য সাক্ষীরূপে। যদিও তা তোমাদের নিজদের কিংবা পিতা-মাতার অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। যদি সে বিত্তশালী হয় কিংবা দরিদ্র, তবে আল্লাহ উভয়ের ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে- পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা এড়িয়ে যাও তবে আল্লাহ তোমরা যা কর সে বিষয়ে সম্যক অবগত।
(সূরা আন্-নিসা, আয়াতঃ ১৩৫)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

قُلْ يٰعِبَادِىَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلٰىٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُۥ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

অর্থ: বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
(সূরা আয-যুমার, আয়াতঃ ৫৩)

তাফসীর: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কিছু লোক ছিল, যারা অন্যায় হত্যা করেছিল এবং অনেক করেছিল। আরও কিছু লোক ছিল, যারা ব্যভিচার করেছিল এবং অনেক করেছিল। তারা এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আরজ করল: আপনি যে ধর্মের দাওয়াত দেন, তা তো খুবই উত্তম, কিন্তু চিন্তার বিষয় হল এই যে, আমরা অনেক জঘন্য গোনাহ করে ফেলেছি। আমরা যদি ইসলাম গ্রহণ করি, তবে আমাদের তওবা কবুল হবে কি? এর পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয় ৷ [বুখারী: ৪৮১০, মুসলিম: ১২২]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

رَبَّنَا اغْفِرْ لِى وَلِوٰلِدَىَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

অর্থ: ‘হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন’।
(সূরা ইবরাহীম, আয়াতঃ ৪১)

তাফসীর: সবশেষে একটি ব্যাপক অর্থবোধক দো’আ করলেন,
‘হে আমার রব! আমাকে আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন ঐদিন, যেদিন হাশরের ময়দানে সারাজীবনের কাজকর্মের হিসাব নেয়া হবে। এতে তিনি মাতা-পিতার জন্যও মাগফেরাতের দো'আ করেছেন। অথচ পিতা অর্থাৎ আযর যে কাফের ছিল, তা কুরআনুল কারীমেই উল্লেখিত রয়েছে। সম্ভবতঃ এ দো’আটি তখন করেছেন, যখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-কে কাফেরদের জন্য দো’আ করতে নিষেধ করা হয়নি। [ইবন কাসীর]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

إِنَّ إِلٰهَكُمْ لَوٰحِدٌ

অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের ইলাহ এক;
(সূরা আস-সাফফাত, আয়াতঃ ৪)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিতকালে তার হাড় ভাঙারই মতো।
---মিশকা-তুল মাসা-বীহ (হাঃ একাঃ), হাদিস নং- ১৭১৪।

ব্যাখ্যাঃ এ হাদীসে মৃত ব্যক্তিকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আলোচ্য হাদীসের বর্ণনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আল্লামা সুয়ূতী (রহঃ) আবূ দাঊদের
হাশিয়ার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, জাবির (রাঃ) বলেন, একবার আমরা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক জানাযায় গেলাম। সেখানে গিয়ে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের কাছে বসলেন এবং তার সাথে সাহাবীরাও বসলেন। এমন সময় একজন গর্ত খননকারী বেশ কিছু হাড় বের করে
আনল এবং সে এগুলো ভাঙার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো ভাঙ্গিও না। কেননা মৃত অবস্থায় হাড় ভাঙা জীবদ্দশায় হাড় ভাঙার নামান্তর।

আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দ্বারা বোঝা যায় যে, জীবিত ব্যক্তিকে যেমন অপমান-অপদস্ত ও লাঞ্ছিত করা যায় না ঠিক তেমনিভাবে মৃত ব্যক্তিকে অনুরূপ অবজ্ঞা ও অবহেলা করা যাবে না।

ইবনু আব্দুল বার বলেন, এ হাদীস থেকে এ ফায়দা গ্রহণ করা যায় যে, জীবিত ব্যক্তি যেসব কারণে কষ্ট ও ব্যথা অনুভব করে মৃত ব্যক্তিও সেসব কারণে ব্যথা ও কষ্ট অনুভব করে।
---মিশকা-তুল মাসা-বীহ (হাদিস একাডেমী)

সহীহ : আবূ দাঊদ ৩২০৭, ইবনু মাজাহ্ ১৬১৬, সহীহ আত্ তারগীব ৩৫৬৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৪৭৮, ইরওয়া ৩/৭৬৩, ইবনু হিব্বান ৩১৬৭।

আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সারহ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁআলা সমগ্র সৃষ্টির ভাগ্যলিপি আসমান ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, সে সময় আল্লাহর আরশ পানির উপরে ছিল।
---মুসলিম শরীফ (ইফাঃ), হাদিস নং- ৬৫০৭।

নুফায়লী (রহঃ) .......... আবদুল্লাহ্‌ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৎভাবে চলা, উত্তম চরিত্র এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা নবূওয়াতের পঁচিশ ভাগের এক ভাগ।
---আবূ দাঊদ শরীফ (ইফাঃ), হাদিস নং- ৪৭০১।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
---সহীহুল বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নং- ৫০৯০।

[মুসলিম ১৭/১৫, হাঃ ১৪৬৬, আহমাদ ৯৫২৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১৯)

যে সব কারণে একজন পুরুষ বিশেষ একটি মেয়েকে স্ত্রীরূপে বরণ করার জন্য উৎসাহিত ও আগ্রহান্বিত হতে পারে তা হচ্ছে চারটি। (১) সৌন্দর্য (২) সম্পদ (৩) বংশ (৪) দীনদারী। এ গুণ চতুষ্টয়ের মধ্যে সর্বশেষে উল্লেখ করা হয়েছে দীনদারী ও আদর্শবাদিতার গুণ। আর এ গুণটিই ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বাগ্রগণ্য ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলোচ্য নির্দেশের সার কথা হল- দীনদারীর গুণসম্পন্না কনে পাওয়া গেলে তাকেই যেন স্ত্রীরূপে বরণ করা হয়, তাকে বাদ দিয়ে অপর কোন গুণসম্পন্না মহিলাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হওয়া উচিত নয়- (সুবুলুস সালাম)। চারটি গুণের মধ্যে দ্বীনদার হওয়ার গুণটি কেবল যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা-ই নয়, এ গুণ যার নেই তার মধ্যে অন্যান্য গুণ যতই থাক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সে অগ্রাধিকার যোগ্য কনে নয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী তো দ্বীনদারীর গুণ বঞ্চিতা নারী বিয়ে করাই উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন- তোমরা স্ত্রীদের কেবল তাদের রূপ-সৌন্দর্য দেখেই বিয়ে করো না- কেননা এরূপ সৌন্দর্যই অনেক সময় তাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাদের ধন-মালের লোভে পড়েও বিয়ে করবে না, কেননা এ ধনমাল তাদের বিদ্রোহী ও অনমনীয় বানাতে পারে। বরং তাদের দ্বীনদারীর গুণ দেখেই তবে বিয়ে করবে। বস্ত্তত একজন দীনদার কৃষ্ণাঙ্গ দাসীও কিন্তু অনেক ভাল- (ইবনে মাজাহ, বাযযার, বাইহাকী)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- বিয়ের জন্য কোন্ ধরনের মেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলেছিলেন- যে স্ত্রীকে দেখলে সে তার স্বামীকে আনন্দ দেয়, তাকে যে কাজের আদেশ করা হয় তা সে যথাযথ পালন করে এবং তার নিজের স্বামীর ধন মালের ব্যাপারে স্বামীর পছন্দের বিপরীত কোন কাজই করে না- (মুসনাদে আহমাদ)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন- দুনিয়ার সব জিনিসই ভোগ সামগ্রী আর সবচেয়ে উত্তম সামগ্রী হচ্ছে নেক চরিত্রের স্ত্রী- (মুসনাদে আহমাদ)। উপরে উদ্ধৃত হাদীসগুলো থেকে সে কথাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে তা এই যে, ইসলামের দৃষ্টিতে তাকওয়া, পরহেযগারী, দীনদারী ও উন্নত চরিত্রই হচ্ছে জীবন সঙ্গিনী পছন্দ করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

وَمَا خَلَقْنَا السَّمَآءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بٰطِلًا ۚ ذٰلِكَ ظَنُّ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِنَ النَّارِ

অর্থ: আর আসমান, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।
(সূরা সোয়াদ, আয়াতঃ ২৭)

তাফসীর: অর্থাৎ নিছক খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। একথাটিই কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে। যেমনঃ “তোমরা কি মনে করেছো আমরা তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের আমাদের দিকে ফিরে আসতে হবে না।” [আল-মুমিনুন: ১১৫] অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “আমরা আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে এবং তাদের মাঝখানে যে বিশ্ব-জাহান রয়েছে তাদেরকে খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমরা তাদেরকে সত্য সহকারে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না। চূড়ান্ত বিচারের দিনে তাদের সবার জন্য উপস্থিতির সময় নির্ধারিত রয়েছে।” [আদ দুখান: ৩৮-৪০]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

তাফসীরঃ
هُمَزَةٍ (হুমাযাহ)
বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যে মানুষের দোষ-ত্রুটি বলে বেড়ায় এবং কাজ ও ইশারায় অন্যের ওপর অপবাদ দেয়। আবার বলা হয় هُمَزَةٍ ঐ ব্যক্তি যে মুখোমুখি মানুষের নিন্দা করে। প্রথম আয়াতে উল্লিখিত هُمَزَةٍ শব্দ থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছ। সূরায় পরনিন্দাকারী ও অর্থলিপ্সুদের দুর্ভোগ ও আখিরাতের শাস্তির বর্ণনা এসেছে।

هُمَزَةٍ
এর শাব্দিক আলোচনা ওপরে করা হয়েছে। আর لمزة বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যে পশ্চাতে পরনিন্দা করে। এ-সব পশ্চাতে ও সম্মুখে নিন্দাকারী ব্যক্তিরাই সম্পদ জমা করে ও গণনা করে। অর্থাৎ সম্পদ থেকে সাধারণ দান সাদকাহ তো দূরের কথা ফরয যাকাতও আদায় করে না। এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদের এত বড় দুর্ভোগের কথা বলেছেন। নচেৎ সাধারণভাবে সম্পদ সঞ্চয় করা কোন নিন্দনীয় বিষয় নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা সম্পদ জমাকারীকে তিরস্কার করে বলেন :

(وَجَمَعَ فَأَوْعٰي)‏

“সে সম্পদ জমা করেছে এবং সংরক্ষিত করে রেখেছে।” (সূরা মাআরিজ ৭০ : ১৮)

(أَنَّ مَالَه۫ أَخْلَدَه۫)

অর্থাৎ তার বিশ্বাস তার জমাকৃত সম্পদ তাকে মরতে দেবে না, সর্বদা জীবিত রাখবে। সুতরাং অত্র আয়াতে পুঁজিবাদ ও পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাসীদের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার পরিণাম ভাল নয়। তাই যারা দুনিয়াবী স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কেবল সম্পদ জমা করবে কিন্তু তার হক আদায় করবে না তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

(وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ لا فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ)

“আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং সেটা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।” (সূরা তাওবা ৯: ৩৪)

كَلَّا অর্থাৎ সে যেমন বিশ্বাস করছে মূলত বিষয়টি তেমন নয়। সম্পদ তাকে মৃত্যু থেকে বাঁচাতে পারবে না। বরং যত সম্পদের অধিকারী হোক না কেন অবশ্যই তাকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।

الْـحُطَمَةِ জাহান্নামের অন্যতম একটি নাম। হুতামাহ অর্থ ভেঙ্গে চূরমার করা। হুতামার পরিচয় উল্লেখ করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(نَارُ اللّٰهِ الْمُوْقَدَة)

“এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি”।

(تَطَّلِعُ عَلَي الْأَفْئِدَةِ)

মুহাম্মাদ বিন কাব (রহঃ) বলেন: আগুন সারা শরীর খেয়ে ফেলবে এমনকি যখন তা অন্তরসহ কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তখন পুনরায় আবার শরীরের দিকে ফিরে আসবে। তারা এ আগুনে বন্দি হয়ে থাকবে, সেখান থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাবে।

مُوْقَدَةُ অর্থ مغلقة বা বন্ধ, পরিবেষ্টিত। অর্থাৎ জাহান্নামের সকল দরজা ও পথ বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তাদেরকে লোহার পেরেকের সাথে বেঁধে দেয়া হবে যা লম্বা লম্বা স্তম্ভের মত। যার ফলে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাবে।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

(وَأَمَّا الَّذِيْنَ فَسَقُوْا فَمَأْوٰهُمُ النَّارُ ط كُلَّمَآ أَرَادُوْآ أَنْ يَّخْرُجُوْا مِنْهَآ أُعِيْدُوْا فِيْهَا وَقِيْلَ لَهُمْ ذُوْقُوْا عَذَابَ النَّارِ الَّذِيْ كُنْتُمْ بِه۪ تُكَذِّبُوْنَ ‏)

“আর যারা পাপ কাজ করেছে তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম। যখনই তারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে সেথায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, আগুনের স্বাদ গ্রহণ (শাস্তি ভোগ) কর যা তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে।” (সূরা সাজদাহ ৩২: ২০)

অর্থাৎ জাহান্নামে লম্বা লম্বা খুঁটি থাকবে যাতে বেধে জাহান্নামীদের শাস্তি দেয়া হবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে। তারপর খুঁটির সাথে বাঁধা হবে এবং গলায় বেড়ী পরানো হবে। অতঃপর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। (ইবনু কাসীর) সুতরাং পরনিন্দা ও অর্থলিপ্সু হওয়া থেকে সাবধান।

সূরা হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দা করে তাদের পরিণতি ভয়াবহ।
২. সম্পদের যাকাত আদায় না করে সঞ্চয় করতঃ হিসাব কষা ভয়াবহ অপরাধ।
৩. জাহান্নামের আগুনের প্রখরতা সম্পর্কে জানলাম।

(তাফসীর ফাতহুল মাজীদ)

আবদুর রহমান ইবনু আবূ সাঈদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে কেউ সালাত আদায় করতে চাইলে যেন সুতরা সামনে রেখে সালাত পড়ে এবং তার নিকটবতীৃ হয়। সে যেন তা সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। অতএব যদি কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে যেন তার সাথে লড়াই করে। কারণ সে একটা শয়তান।
---সুনান ইবনু মাজাহ (তাওহীদ), হাদিস নং- ৯৫৪।

তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ৫০৯, ৩২৭৫; মুসলিম ৫০৫, নাসায়ী ৭৫৭, ৪৮৬২; আবূ দাঊদ ৬৯৭, ৬৯৯, ৭০০; আহমাদ ১০৯০৬, ১১০০১, ১১০৬৭, ১১১৪৬, ১১২১৩; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৬৪, দারিমী ১৪১১। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৬৯৪, ৬৯৫।

আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের ধারক-বাহক ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
---সুনান আবূ দাঊদ (আল্লামা আলবানী একাডেমী), হাদিস নং- ৪৮৪৩।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি খরচ কর। আমি তোমার উপর খরচ করব এবং [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, আল্লাহ তা‘আলার হাত পরিপূর্ণ। রাতদিন অনবরত খরচেও তা কমবে না। তিনি বলেন, তোমরা কি দেখ না, যখন থেকে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কী পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হাতের সম্পদ কমে যায়নি। আর আল্লাহ তা‘আলার ‘আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি নিচু করেন, তিনি উপরে তোলেন। اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُه-এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوْهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِيْ (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়। اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيْدٌ-عَنُوْدٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ- স্বেচ্ছাচারী।

ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْ-তোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى-আমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম। نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيْلٌ-مَجِبْدٌ-حَمِيْدٌ-مَجِيْدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيْدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيْلٌ-অতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيْلٌ এবং سِجِّيْنٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لَامُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, ‘‘বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।’’
---সহীহুল বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নং- ৪৬৮৪।

[৫৩৫২, ৭৪১১, ৭৪১৯, ৭৪৯৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২৪)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

مَا عِندَكُمْ يَنفَدُ ۖ وَمَا عِندَ اللَّهِ بَاقٍ ۗ وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوٓا أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

অর্থ: তোমাদের নিকট যা আছে তা ফুরিয়ে যায়। আর আল্লাহর নিকট যা আছে তা স্থায়ী। আর যারা সবর করেছে, তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।
(সূরা আন্-নাহল, আয়াতঃ ৯৬)

তাফসীর: অর্থাৎ যা কিছু তোমাদের কাছে রয়েছে (এতে পার্থিব মুনাফা বোঝানো হয়েছে) তা সবই নিঃশেষ ও ধ্বংস হবে। পক্ষান্তরে আল্লাহর কাছে যা রয়েছে (এতে আখেরাতে জান্নাতের সওয়াব ও আযাব বোঝানো হয়েছে) তা চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে। [ইবন কাসীর]

এখানে সবরের পথ অবলম্বনকারীদের বলে এমন সব লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর নির্দেশ ও নিষেধ পালন করতে জীবনের যাবতীয় কষ্টকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছে। কাফেরদের বিরুদ্ধে ধৈর্যের সাথে যুদ্ধ করেছে। এ পথে যত প্রকার কষ্ট ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তা সবই যারা বরদাশত করে নিয়ে আনুগত্যের উপর অটল থাকে তাদের জন্য উত্তম পুরস্কার। ফাতহুল কাদীর]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

بَلٰى قٰدِرِينَ عَلٰىٓ أَن نُّسَوِّىَ بَنَانَهُۥ

অর্থ: হ্যাঁ, আমি তার আংগুলের অগ্রভাগসমূহও পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।
(সূরা আল-ক্বিয়ামাহ, আয়াতঃ ৪)

তাফসীর: অর্থাৎ বড় বড় হাড়গুলো একত্রিত করে পুনরায় তোমার দেহের কাঠামো প্রস্তুত করা এমন কিছুই নয়। আমিতো তোমার দেহের সূক্ষ্মতম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি তোমার আঙ্গুলের জোড়গুলোও পুনরায় ঠিক তেমন করে বানাতে সক্ষম যেমন তা এর আগে ছিল, তবে তোমাদের পুনরুথিত করতে অসক্ষম হওয়ার কোন কারণ নেই। [কুরতুবী]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

--ঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

إِنَّ فِى اخْتِلٰفِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِى السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ لَءَايٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَّقُونَ

অর্থ: নিশ্চয় রাত ও দিবসের বিবর্তনে এবং আসমানসমূহ ও যমীনে যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাতে বহু নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।
(সূরা ইউনুস, আয়াতঃ ৬)

তাফসীর: আসমান ও যমীনে আল্লাহ্ তা'আলা যা সৃষ্টি করেছেন তাতে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, সেগুলো আল্লাহরই মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করছে। কুরআনের অন্যান্য আয়াতেও আল্লাহ্ তা'আলা এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। যেমন, সূরা ইউসুফঃ ১০৫, সূরা ইউনুসঃ ১০১, সূরা সাবাঃ ৯, সূরা আলে ইমরানঃ ১৯০। এগুলোর পরিবর্তনের অর্থ, একটির পর অপরটি এমনভাবে আসা তাদের সুনির্দিষ্ট নিয়মের কোন ব্যঘাত ঘটে না। [ইবন কাসীর] এ ব্যাপারে সূরা আল-আরাফ এর ৫৪, সূরা ইয়াসীন এর ৪০ নং এবং সূরা আল-আন’আমের ৯৬ নং আয়াতেও চাঁদ ও সূর্যের নিয়মানুবর্তিতার কথা বর্ণিত হয়েছে। [ইবন কাসীর]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

وَالَّذِينَ جَآءُو مِنۢ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوٰنِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمٰنِ وَلَا تَجْعَلْ فِى قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু।
(সূরা আল-হাশর, আয়াতঃ ১০)

তাফসীর: এই আয়াতের بعد অর্থে সাহাবায়ে কিরাম মুহাজির ও আনসারগণের পরে কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মুসলিম শামিল আছে এবং এ আয়াত তাদের সবাইকে “ফায়” এর মালে হকদার সাব্যস্ত করেছে। [ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর] তবে ইমাম মালেক বলেন, যারা সাহাবায়ে কিরামের জন্য কোন প্রকার বিদ্বেষ পোষণ করবে বা তাদেরকে গালি দেবে তারা ‘ফায়’ এর সম্পপদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। [বাগভী]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ

অর্থ: দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে সামনে নিন্দাকারী ও পেছনে গীবতকারী।
(সূরা আল-হুমাযাহ, আয়াতঃ ১)

তাফসীর: কিছু উলামা هُمَزَة ও لُمَزَة এর একই অর্থ বলেছেন। আর কিছু সংখ্যক উলামা উভয়ের মাঝে কিছুটা পার্থক্য করে বলেন, هُمَزَة বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যে সামনা-সামনি নিন্দা গায়। আর لُمَزَة বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যে পশ্চাতে গীবত (পরর্চ্চা) করে। আবার কেউ এর বিপরীত অর্থ করেন। অনেকের মতে هَمز চোখ ও হাতের ইশারায় নিন্দা প্রকাশ করা এবং لَمز জিহ্বা দ্বারা পরনিন্দা করাকে বলা হয়।

(তাফসীর আহসানুল বায়ান)

|| নারীর ক্যারিয়ার ||

ইসলাম নারীকে তার স্বামীর পকেট মারার অধিকার দেয়। এইক্ষেত্রে স্বামীকে জানানোও দরকার নেই। (অবশ্যই ফালতু খরচে নয়)

//

উতবা (যিনি পরবর্তীতে মুসলিম হয়েছিলেন) একদিন রাসুলের কাছে তার স্বামী আবু সুফিয়ানের ব্যাপারে বিচার নিয়ে এসেছিলেন যে আবু সুফিয়ান খুবই কৃপণ স্বভাবের যে ঠিকমতো ভরন পোষণ দেয় না।

রাসুলুল্লাহ বলেন নি,

"তোমাকে নিজেদের ক্যারিয়ার নিজেদের গড়তে হবে, পুরুষদের দেখিয়ে দিতে হবে তুমিও পার। স্বাবলম্বী হও"

বরং বলেছিলেন,

আবু সুফিয়ানের অনুমতি না নিয়েই যে টাকা প্রয়োজন তা তার সিন্দুক থেকে নিয়ে ফেলতে।

//

.

ইসলামে 'নারী' হল অতি সম্মানের এবং মুল্যবান একটি সত্তা, যার ভরন পোষণের ফরয দায়িত্ব হল পুরুষদের। হতে পারে সে পুরুষ বিয়ের আগে তার বাপ/ভাই বা বিয়ের পর স্বামী/ছেলে।

দায়িত্বশীল পুরুষ জান্নাত হারাতে হতে পারে এই দায়িত্বে অবহেলার কারনে। পুরুষ সক্ষম না হলে সেই দায়িত্ব নেবে খিলাফত রাষ্ট্র।

.

ইসলামে নারীদের সামাজিক মুল্যও অপরিসীম। “হিজাব করে মহিলারা পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারবে” – একটি বহুল প্রচলিত শয়তানি ধোঁকা।

অবশ্যই নারী ডাক্তার, নার্স, নারী টিচার প্রয়োজন নারীদের জন্যই। এইজন্য নারী শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সিস্টেমটা এমন যে নারী সারাজীবন শিক্ষা অর্জন করার তাকে এমন পরিবেশে চাকরি করতে হয় যে পরিবেশকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। যেখানে পুরুষ সহকর্মী পাশে বসা থাকে ওই পরিবেশে হিজাব করে চাকরি করার কথা বলা লেইম জোকস ছাড়া কিছুই না।

হয়ত আপনি হিজাবের সংজ্ঞা বুঝেন না, আর না হয় শয়তানি ধোঁকায় আপনি আক্রান্ত।

.

একজন মা খুব ভালো করেই জানেন তার অনুপস্থিতিতে তার বাচ্চাকে কাজের মেয়ে বা বুয়া কিভাবে লালনপালন করবে। অথচ তথাকথিত ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে এখনকার কিছু মায়েরা তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করার পরিবর্তে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করে তার ক্যারিয়ারের মর্যাদা(?) রক্ষা করে।

অথচ হয়ত তার স্বামীর ইনকাম দিয়ে তাদের সংসার খুব ভালো করেই চলে যেত। টাকা রোজগারের জন্য সন্তানকে ঘরে কাজের লোকের কাছে ফেলে রেখে তার বাহিরে কাজ করতে যাওয়ার কোনই প্রয়োজন ছিল না।

.

যারা গার্মেন্টসে চাকুরী করেন, কম -বেশি তাদেরটা প্রয়োজনের তাগিদেই ! কিন্তু, কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে যারা আছেন, তাদের অধিকাংশই বিলাসিতা কে আরেকটু বাড়ানোর জন্য চাকুরীতে নিজেকে নিয়োজিত করে থাকেন।

আমাদের প্রতিযোগিতা হবে, জান্নাতী তথা অনুকরণীয়দের সাথে, "সেকুলারদের" সাথে নয় ! কোনভাবেই নয় ! কখনোই নয়!

.

"প্রয়োজন" আর বিলাসিতা এক জিনিস নয়। আর এখানে বিলাসিতা নিয়ে কথা বলা হয়েছে। কেননা প্রয়োজন পূরনের জন্য তার বাবা বা স্বামীই যথেষ্ট! (একান্ত ব্যতিক্রম বাদে, যা এখানের আলোচ্য বিষয় নয়!)

"নারী ক্ষমতায়নের" নামে কিছু Masculine Standard কে মিট করতে গিয়ে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল ও ধ্বংস হতে ইসলাম দেয় না।

কোন সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারছে না রাষ্ট্র, এটা জানা সত্ত্বেও আমাদের বিশিষ্ট সিভিল সোসাইটি ও বুদ্ধিজীবীরা নারীদের অনুপ্রাণিত করেই যাচ্ছেন ছেলেদের সাথে টেক্কা দিতে হবে তোমাকে।

কর্মক্ষেত্রে নারীরা রেইপ হোক বা সহকর্মীদের কু-নজর কু-বাসনার স্বীকার হোক অথবা রাস্তায় ছিনতাই এর মুখে পরুক, নারীদের রাস্তায় নামাতেই হবে।

.

শরীয়াহ যেটা অনুমোদন দেয়, সেটা করতে তো কোন বাঁধা নেই। কিন্তু যেটা শরীয়াহ সমর্থন করে না,সেটা করতে গেলেই যত মাথাব্যাথা।

ইসলাম নারীকে নারীর প্রয়োজনেই চিকিৎসক,শিক্ষিকা হতে অনুমতি দেয়। কিন্তু সাথে সাথে মাহরামদের দুর্গে অবস্থান করতেও নির্দেশ দেয়। আফসোসের বিষয়,আমাদের দেশে নারীদের-মাহরামের দুর্গে অবস্থান করে,পরিপূর্ণ হিজাবের সাথে-চিকিৎসা, শিক্ষকতা ইত্যাদি জায়েয কাজগুলো করার সুযোগ নেই।

.

বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে নারীদের বাইরে কাজ করতে যাওয়া জায়েয আছে। যদি এসব মিলে যায় তবে সে বাইরে কাজ করতে যেতে পারে।

সেগুলো হলো …

-প্রয়োজনীয় পরিমান অর্থের জন্য তার কাজ করা প্রয়োজন।

-কাজটি প্রকৃতিগতভাবে নারীদের জন্য উপযুক্ত হতে হবে। যেমন ডাক্তারী, নার্সিং, শিক্ষকতা, সেলাই এবং এরকম আরও।

-কর্মস্থলটি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই হতে হবে এবং সেখানে নন-মাহরাম পুরুষদের সাথে কোন মেলামেশার সুযোগ থাকবে না।

-কাজের সময় সে পূর্ণরুপে শরীআহ অনুযায়ী হিজাব (পর্দা) করবে।

-তার কাজ তাকে মাহরাম ছাড়া ভ্রমনে বাধ্য করবে না।

-তার বাইরে কাজ করতে যাওয়া, কোনো হারাম কাজে জড়িত করবে না। যেমন - ড্রাইভারের সাথে একাকী অবস্থান করা বা পারফিউম ব্যাবহার করা যাতে নন-মাহরামরা নাকে তার ঘ্রান পায়।

-কাজ এমন হবেনা, যা তার প্রয়োজনীয় বিষয়াদিকে উপেক্ষা করতে বাধ্য করে। যেমন - গৃহের দেখাশোনা, স্বামী-সন্তানের যত্ন নেয়া।

শাইখ উসাইমিন (রহ.) বলেন, “নারীরা যেখানে কাজ করবে, সে কর্মক্ষেত্র শুধুমাত্র নারীদের জন্যে হতে হবে। যেমন- বালিকাদের শিক্ষাদান, কারিগরি সহায়তা পরিচালনা, নিজ ঘরে মহিলাদের জন্য নারী দর্জি এবং অন্যান্য। পুরুষদের সাথে মাঠে কাজ করা নারীদের জন্য জায়েয নয়, কারন পুরুষের সাথে তাকে মিশতে হতে পারে, যা মারাত্মক ফিতনাহ (কুকর্মে প্ররোচনা এবং নানা সমস্যার উৎস) তাই এটা উপেক্ষা করা উচিত।

.

উল্লেখ্য, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, “আমি পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বড় আর কোন ফিতনাহ রেখে যাচ্ছি না। আর,বনী ইসরাইলের প্রথম ফিতনাহই ছিলো নারী সংক্রান্ত। সুতরাং লোকদের উচিত তাদের পরিবারকে ফিতনাহ এবং ফিতনাহর উপকরণ থেকে দুরে রাখা। [ফতোয়ায়ে আল-মার'আহআল মুসলিমাহ : ২/৯৮১]

................... ...........

আশ্চর্য তামাশার বিষয় এই যে, নারী যখন ঘরে বসে স্বামী-সন্তানদের সেবা করে, ঘরদোর সাজায় তখন সেটা হয় পশ্চাদপদতা ও মৌলবাদীতা, অথচ এই নারীই যখন বিমানবালা হয়ে চারশত পুরুষের জন্য ট্রে সাজিয়ে খাবার সরবরাহ করে, আর তাদের লালসা-দৃষ্টির শিকার হয় তখন সেটা হয় সম্মান ও মর্যাদা !!

.

সব মেনে নিতে হবে তথাকথিত 'নারী ক্ষমতায়নের' খাতিরে। নারীদের 'বলির পাঠা' বানিয়ে হলেও পুঁজিপতিরা নিজেদের ব্যবসা ও মুনাফা টিকিয়ে রাখবে।

কিন্তু আমরা মুসলিমরা শরীরে এক বিন্দু পৌরুষত্ব থাকা পর্যন্ত আমাদের মা, বোন বা স্ত্রীর ব্যাপারে তা মানব না ইন শা আল্লাহ।

-- শাহ মোহাম্মদ তন্ময়

জমজম কূপের রহস্য, যেখানে বিজ্ঞান ব্যর্থ...!
____________________________
২৪ জন ডুবুরি জম জম কূপ তলদেশ থেকে
নিয়ে এল অজানা তথ্য !কুদরত দেখে
অবাক বিজ্ঞানীরা ষাটের দশকের কথা,
তখন ছিল বাদশাহ খালেদের শাসনামল।
ওই সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির দিয়ে পরিষ্কার
করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল জম জম কূপটি।
জম জম কূপটি পরিষ্কারের কাজ
তত্বাবধান করেন প্রকৌশলী ইয়াহইয়া কোশক।
,
ইয়াহইয়া কোশকের প্রদত্ত বিবরণ
থেকে বলা যায়, বড় ধরনের কয়েকটি
পাথরের তলদেশ থেকে প্রবল বেগে
পানি উৎসারিত হচ্ছে। সবচাইতে বড়
পাথরের চাঙ্গটির উপর স্পষ্ট আরবী
হরফে ’বিছমিল্লাহ কথাটি উৎকলিত
রয়েছে। আব্দুল মুত্তালিব-এর সময়
কুপের গভীরতা ছিল মাত্র ১৪ ফুট।
খলিফা মামুনুর রশীদের আমলে পুনরায়
খনন করা হয় এই জম জম কুপ। এ সময়
পানির নিঃসরণ খুব বেড়ে গিয়েছিল।
এমনকি কূপের বাইরে উপচে পড়া শুরু
করেছিল। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পর
সৌদি সরকার আধুনিক মেশিনের
সাহায্যে কুপকে পুনঃখনন করেন।
,
২৪ জন ডুবুরি কুপের তলদেশে
গিয়েছিলেন তা পরীক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য।
ডুবুরিরা দেখেন,
সেখানে রং-বেরংয়ের মাটির স্তর
জমাট বেঁধে আছে, আর অবিরাম
নির্গত পানিকে পরিশোধন করছে।
তারা আল্লাহর এ কুদরত দেখে
বিস্মিত হয়ে যান। বর্তমানে জম জম
কুপের গভীরতা ৫১ ফুট।
এক নজরে জম জম কূপের তথ্যগুলো-
,
১/ আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতে
৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।
,
২/ ভারী মোটরের সাহায্যে প্রতি
সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি
উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক সৃষ্টির
সূচনাকালের ন্যায়।
,
৩/ পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি,
জন্মায়নি কোন ছত্রাক বা শৈবাল।
,
৪/ সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র
১১ মিনিটেই আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।
,
৫/ এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি,
সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর
পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মউসুমে
ব্যবহার ক’য়েক গুন বেড়ে যাওয়া সত্বেও
এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।
,
৬/ সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও
এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই
পরিমানে আছে।
,
৭/ এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম
ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান
অন্যান্য পানির থেকে বেশী, এজন্য
এই পানি শুধু পিপাসা মেটায় তা না,
এই পানি ক্ষুধাও নিবারণ করে।
,
৮/ এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমান
বেশী থাকার কারণে এতে কোন
জীবানু জন্মায় না ।
,
৯/ এই পানি পান করলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়...!
সংগ্রহীত

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারো নিকট কোন ফুল আনা হলে সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়। কারণ, তা ওজনে হালকা এবং ঘ্রাণ উত্তম।
---সহীহ মুসলিম (হাদিস একাডেমী), হাদিস নং- ৫৭৭৬।

(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৬৮৭, ইসলামিক সেন্টার ৫৭১৮)

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ্ আল আ‘রাফ দু’ ভাগে ভাগ করে মাগরিবের সলাতের দু’ রাক্‘আতে তিলাওয়াত করলেন।
---মিশকা-তুল মাসা-বীহ (হাদিস একাডেমী), হাদিস নং- ৮৪৭।

সহীহ : বুখারী ১/১৯৭, নাসায়ী ৯৯১, আবূ দাঊদ ৮১২।

♥দাম্পত্য জীবনে সুখি হওয়ার বেস্ট ফমূর্লা ♥
............................................................

স্ত্রী কে বন্ধু বেস্ট ফ্রেন্ড বানিয়ে নিন বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবুন ।

স্ত্রী কে যথাযত সম্মান দিন ও অফুরন্ত ভালোবাসুন।

স্ত্রীর কাছে মনের সকল কথা প্রকাশ করুন ও তার মনের কথা গুলো শুনুন।

একসাথে এক বালিসে ঘুমান, আপনার বুকে স্ত্রী কে মাথা রেখে প্রতিদিন ঘুমাতে দিন ভালোবাসা বাড়বে আপনার প্রতি।

রাতে দুজন ই এক সাথে জায়নামাজে দাড়িয়ে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায়ের অভ্যাস করুন আল্লাহর সাহায্য পাবেন।

তার জন্য মাঝে মাঝে অফিস বা কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তার পছন্দের আইসক্রীম, চকোলেট বা আচার আনুন অল্প টাকার গিফটে সে অনেক বেশি খুশি হবে।

এক সাথে এক প্লেটে খাবার খান এবং তার মুখে লোকমা তুলে খাইয়ে দিন, সুন্নত ও আদায় হবে দুজনের প্রতি ভালোবাসা ও বাড়বে অনেক।

স্ত্রী কে নিয়ে বৃষ্টির দিনে বাসার ছাদে বা পূর্ন পর্দা মুলক স্থানে বৃষ্টিতে ভিজুন, সুন্নত ও আদায় হবে স্ত্রী এবং আল্লাহ উভয় ই সন্তুষ্ট হবে।

একসাথে থাকার কারনে মাঝে মাঝে রাগ অভিমান ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। তার রাগের সময় রাসূল (স:) এর অনুরুপ স্ত্রী কে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে তার পছন্দমতো কিছু উপহার দিয়ে রাগ ভাঙ্গান এটা সামান্য চকোলেট, ফুল ও হতে পারে এতে ভালোবাসার বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।

স্ত্রীকে নিয়ে মাঝে মাঝে ঘুরতে বের হন ফ্রেশ লাগবে তার মনটা।

লান্চ একসাথে না করতে পারলে অন্তত কর্মস্থল থেকেই ফোন করে তাকে লান্চ করার কথা জিজ্ঞেস করুন।

ছুটির দিন গুলোতে আপনি নিজে রান্নার কাজে তাকে সাহায্য করুন।

মাঝে মাঝে নিজে রান্না করে তাকে খাওয়ান সে খুবই আনন্দিত হবে।

তার পরিবারকে ও যথার্থ সম্মান ও ভালোবাসা দিন।

মাঝে মাঝে তার চুলে তেল লাগিয়ে দিন, তার হাতের নখ গুলো কেটে দিন, হাতে মেহেদি পরিয়ে দিন তার অন্তরে প্রশান্তি মিলবে।

এক সাথে হজ্জে যাবার জন্য দুজন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন আল্লাহ ব্যাবস্থা করেই দিবে।

তার স্পেশাল দিন গুলাতে বার্থ ডে, বিবাহ বার্ষিকি তে তাকে ইউনিক কিছু গিফট / সারপ্রাইজ দিন।

সর্বপরি তাকেই ভালোবাসুন তার প্রতি পূর্ন আস্থা রাখুন। নিজেকে হারম জিনিস থেকে বাচিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে হাসুন, কষ্টে তার বুকে মাথা রেখেই কাঁদুন।

যখন কোন ব্যাক্তি তার স্বামী বা স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয় মহান আল্লাহ ও আরশে আযীমে বসে সেই দম্পতীদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়।

যে দম্পতীরা কোন নায়ক নায়িকা নয় বরং রাসূল (স:) কে ফলো করে ভালোবাসা-বাসি করে তাদের সংসারে কখনো ফাটল ধরে না। এবং আল্লাহর অসীম রহমতের বর্ষন ঘটে।

আমি আমার ব্যাক্তিগত মতামত থেকে এই পরামর্শ টি দিলাম আমার বিশ্বাস এই ফর্মূলা গুলো মেনে চললে পরকীয়া দাম্পত্য কনোহ কিছুই থাকবেনা.

হে_আল্লাহ আমার মন থেকে মনের অন্তস্থল থেকে তোমার শাহী দরবারে আমার দুটি হাত তুলে খুব মিনতি করে বলছি আল্লাহ আমরা যারা অবিবাহিত আছি আমাদেরকে তুমি নেককার পরহেজগার জীবনসঙ্গিনী দান করে দাও এবং আমরা যদি না হয়ে থাকে নেক্কার আমাদেরকে তুমি নেক্কার হিসেবে কবুল করে নাও আমাদের কেউ তুমি হেদায়েত দান করে দাও এবং আমাদের নেককার জীবনসঙ্গী, দাও যাকে নিয়ে যেন দুনিয়ায় জান্নাতের সুখ পেতে পারি এবং আখেরাতে যেন হাত ধরে দুজন
জান্নাতে যেতে পারি একসাথে মিলে তার তৌফিক দান করে দাও আমিন।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাই তোলা শয়তানের পক্ষ হতে হয়ে থাকে। কাজেই তোমাদের কারো যখন হাই আসবে তখন যথাসম্ভব তা রোধ করবে। কারণ তোমাদের কেউ হাই তোলার সময় যখন ‘হা’ বলে, তখন শয়তান হাসতে থাকে।
---সহীহুল বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নং- ৩২৮৯।

(মুসলিম ৫৩/৯ হাঃ ২৯৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৫৬)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

أَلَآ إِنَّ أَوْلِيَآءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

অর্থ: শুনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই, আর তারা পেরেশানও হবে না।
(সূরা ইউনুস, আয়াতঃ ৬২)

তাফসীর:
আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহর অলীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, তাদের প্রশংসা ও পরিচয় বর্ণনার সাথে সাথে তাদের প্রতি আখেরাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যারা আল্লাহর অলী তাদের না থাকবে কোন অপছন্দনীয় বিষয়ের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা, আর না থাকবে কোন উদ্দেশ্যে ব্যর্থতার গ্রানি। এদের জন্য পার্থিব জীবনেও সংযবাদ রয়েছে এবং আখেরাতেও। দুনিয়াতেও তারা দুঃখ-ভয় থেকে মুক্ত। আর আখেরাতে তাদের মনে কোন চিন্তা-ভাবনা না থাকার অর্থ জান্নাতে যাওয়া। এতে সমস্ত জান্নাতবাসীই অন্তর্ভুক্ত।

আয়াতে উল্লেখিত ‘আওলিয়া’ শব্দটি অলী শব্দের বহুবচন। আরবী ভাষায় অলী অর্থ ‘নিকটবর্তী’ও হয় এবং দোস্ত-বন্ধু’ও হয়। শরীআতের পরিভাষায় অলী বলতে বুঝায়ঃ যার মধ্যে দুটি গুণ আছেঃ ঈমান এবং তাকওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, “জেনে রাখ! আল্লাহর অলী তথা বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবেনা, যারা ঈমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে”। [সূরা ইউনুসঃ ৬২-৬৩] যদি আল্লাহর অলী বলতে ঈমানদার ও মুত্তাকীদের বুঝায় তাহলে বান্দার ঈমান ও তাকওয়া অনুসারে আল্লাহর কাছে তার বেলায়াত তথা বন্ধুত্ব নির্ধারিত হবে। সুতরাং যার ঈমান ও তাকওয়া সবচেয়ে বেশী পূর্ণ, তার বেলায়াত তথা আল্লাহর বন্ধুত্ব সবচেয়ে বেশী হবে। ফলে মানুষের মধ্যে তাদের ঈমান ও তাকওয়ার ভিত্তিতে আল্লাহর বেলায়াতের মধ্যেও তারতম্য হবে। আল্লাহর অলীদের সম্পর্কে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

আল্লাহর নবীরা তার সর্বশ্রেষ্ঠ অলী হিসাবে স্বীকৃত। নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন তার রাসূলগণ। রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেনঃ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ তথা নুহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর সমস্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেনঃ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

এখানে এটা জানা আবশ্যক যে, আল্লাহর অলীগণ দুশ্রেণীতে বিভক্তঃ প্রথম শ্রেণীঃ যারা অগ্রবর্তী ও নৈকট্যপ্রাপ্ত। দ্বিতীয় শ্রেণীঃ যারা ডান ও মধ্যম পন্থী। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তাদের উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেনঃ “যখন যা ঘটা অবশ্যম্ভাবী (ক্ৰিয়ামত) তা ঘটবে, তখন তার সংঘটনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কেউ থাকবে না। তা কাউকে নীচ করবে, কাউকে সমুন্নত করবে। যখন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে যমীন। পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে। ফলে তা উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পর্যবসিত হবে। এবং তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন শ্রেনীতে- ডান দিকের দল; ডান দিকের দলের কি মর্যাদা! আর বাম দিকের দল; বাম দিকের দলের কি অসম্মান! আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী। তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত- নেয়ামত পূর্ণ জান্নাতে। সূরা আল-ওয়াকি'আহঃ ১-১২] এখানে তিন শ্রেণীর লোকের উল্লেখ করা হয়েছেঃ যাদের একদল জাহান্নামের, তাদেরকে বামদিকের দল বলা হয়েছে। আর বাকী দু’দল জান্নাতের, তারা হলেনঃ ডানদিকের দল এবং অগ্রবর্তী ও নৈকট্যপ্রাপ্তগণ। তাদেরকে আবার এ সূরা আল-ওয়াকি'আরই শেষে আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করে বলেছেন, “তারপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয় তবে তার জন্য রয়েছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও নেয়ামত পূর্ণ জান্নাত। আর যদি সে ডান দিকের একজন হয় তবে তোমার জন্য সালাম ও শান্তি; কারণ সে ডানপন্থীদের মধ্যে”। [সূরা আল- ওয়াকি'আহঃ ৮৮-৯১] অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও অলীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিখ্যাত হাদীসে বলেনঃ “মহান আল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার কোন অলীর সাথে শক্রতা পোষণ করে আমি তার সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম। আমার বান্দার উপর যা আমি ফরয করেছি তা ছাড়া আমার কাছে অন্য কোন প্রিয় বস্তু নেই যার মাধ্যমে সে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে। আমার বান্দা আমার কাছে নফল কাজ সমূহ দ্বারা নৈকট্য অর্জন করতেই থাকে, শেষ পর্যন্ত আমি তাকে ভালবাসি। তারপর যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার শ্রবণশক্তি হয়ে যাই যার দ্বারা সে শুনে, তার দৃষ্টি শক্তি হয়ে যাই যার দ্বারা সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যার দ্বারা সে ধারণ করে আর তার পা হয়ে যাই যার দ্বারা সে চলে। তখন আমার কাছে কিছু চাইলে আমি তাকে তা অবশ্যই দেব, আমার কাছে আশ্রয় চাইলে আমি তাকে অবশ্যই উদ্ধার করব"। [বুখারী: ৬৫০২] এর মর্ম হলো এই যে, তার কোন গতি-স্থিতি ও অন্য যে কোন কাজ আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয় না। বস্তুতঃ এই বিশেষ ওলীত্ব বা নৈকট্যের স্তর অগণিত ও অশেষ। এর সর্বোচ্চ স্তর নবী-রাসূলগণের প্রাপ্য। কারণ, প্রত্যেক নবীরই ওলী হওয়া অপরিহার্য। আর এর সর্বোচ্চ স্তর হলো সাইয়্যেদুল আস্বীয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর। এর পর প্রত্যেক ঈমানদার তার ঈমানের শক্তি ও স্তরের বৃদ্ধি-ঘাটতি অনুসারে বেলায়েতের অধিকারী হবে। সুতরাং নেককার লোকেরা হলোঃ ডান দিকের দল, যারা আল্লাহর কাছে ফরয আদায়ের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করে। তারা আল্লাহ তাদের উপর যা ফরয করেছেন তা আদায় করে, আর যা হারাম করেছেন তা পরিত্যাগ করে। তারা নফল কাজে রত হয় না। কিন্তু যারা অগ্রবর্তী নৈকট্যপ্রাপ্ত দল তারা আল্লাহর কাছে ফরয আদায়ের পর নফলের মাধ্যমে নৈকট্য লাভে রত হয়।

এখানে আরও একটি বিষয় জানা আবশ্যক যে, আল্লাহর অলীগণ অন্যান্য মানুষদের থেকে প্রকাশ্যে কোন পোষাক বা বেশ-ভূষা দ্বারা বিশেষভাবে পরিচিত হন না। বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মাতের মধ্যে প্রকাশ্য বিদ'আতকারী ও অন্যায়কারী ছাড়া সর্বস্তরে আল্লাহর অলীগণের অস্তিত্ব বিদ্যমান। তাদের অস্তিত্ব রয়েছে কুরআনের ধারক-বাহকদের মাঝে, জ্ঞানী-আলেমদের মাঝে, জিহাদকারী ও তরবারী-ধারকদের মাঝে, ব্যবসায়ী, কারিগর ও কৃষকের মাঝে।

আল্লাহর অলীগণের মধ্যে নবী-রাসূলগণ ছাড়া আর কেউ নিষ্পাপ নন, তাছাড়া কোন অলীই গায়েব জানেনা, সৃষ্টি বা রিফিক প্রদানে তাদের কোন প্রভাবও নেই। তারা নিজেদেরকে সম্মান করতে অথবা কোন ধন-সম্পদ তাদের উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে মানুষদেরকে আহবান করেন না। যদি কেউ এমন কিছু করে তাহলে সে আল্লাহর অলী হতে পারে না, বরং মিথ্যাবাদী, অপবাদ আরোপকারী, শয়তানের আলী হিসাবে বিবেচিত হবে।

আল্লাহর অলী হওয়ার জন্য একটিই উপায় রয়েছে, আর তা হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রঙে রঞ্জিত হওয়া, তার সুন্নাতের হুবহু অনুসরণ করা। যারা এ ধরনের অনুসরণ করতে পেরেছেন তাদের মর্যাদাই আলাদা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছে যাদেরকে শহীদরাও ঈর্ষা করবে। বলা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? হয়ত তাদের আমরা ভালবাসবো। রাসূল বললেনঃ “তারা কোন সম্পদ বা আতীয়তার সম্পর্ক ব্যতীতই একে অপরকে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবেসেছে। নূরের মিম্বরের উপর তাদের চেহারা হবে নূরের। মানুষ যখন ভীত হয় তখন তারা ভীত হয় না। মানুষ যখন পেরেশান ও অস্থির হয় তখন তারা অস্থির হয় না।" তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন। [ইবনে হিব্বানঃ ৫৭৩, আবুদাউদঃ ৩৫২৭] অন্য বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “বিভিন্ন দিক থেকে মানুষ আসবে এবং বিভিন্ন গোত্র থেকে মানুষ এসে জড়ো হবে, যাদের মাঝে কোন আত্বীয়তার সম্পর্ক থাকবে না। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালবেসেছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যুদ্ধে কাতারবন্দী হয়েছে। আল্লাহ্‌ কিয়ামতের দিন তাদের জন্য নূরের মিম্বরসমূহ স্থাপন করবেন, তারপর তাদেরকে সেগুলোতে বসাবেন। তাদের বৈশিষ্ট হলো মানুষ যখন ভীত হয় তখন তারা ভীত হয় না, মানুষ যখন পেরেশান হয় তখন তারা পেরেশান হয় না। তারা আল্লাহর অলী, তাদের কোন ভয় ও পেরেশানী কিছুই থাকবে না। [মুসনাদে আহমাদ [৫/৩৪৩]। [উসুলুল ঈমান ফী দাওয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, বাদশাহ ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত, পৃ. ২৮২-২৮৬ (বাংলা সংস্করণ)]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِىٓ أَنشَأَهَآ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ

অর্থ: বল, ‘যিনি প্রথমবার এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই সেগুলো পুনরায় জীবিত করবেন। আর তিনি সকল সৃষ্টি সম্পর্কেই সর্বজ্ঞাত।
(সূরা ইয়া-সীন, আয়াতঃ ৭৯)

তাফসীর: অর্থাৎ এ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করার সময় সে নিজের সৃষ্টিতত্ত্ব ভুলে গেল যে, নিষ্প্রাণ একটি শুক্রবিন্দুতে প্রাণসঞ্চার করে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যদি সে এই মূল তত্ত্ব বিস্মৃত না হত, তবে এরূপ দৃষ্টান্ত উপস্থিত করে আল্লাহর কুদরতকে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করতে পারত না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “বনী ইসরাইলের এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু সময় উপস্থিত হলো, সে তার পরিবারপরিজনকে এ বলে আসিয়ত করল যে, যখন আমি মারা যাব তখন তোমরা আমার জন্য কাঠ সংগ্ৰহ করে আমাকে আগুনে পুড়িয়ে দিও। তারপর যখন আগুন আমার গোস্ত খেয়ে ফেলবে এবং আমার হাঁড় পর্যন্ত কঙ্কাল হয়ে যাবে তখন তা নিয়ে গুড়ো করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিও। তারা তাই করল। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে পুরোপুরি একত্রিত করে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এমনটি কেন করলে? সে বলল, আপনার ভয়ে। আল্লাহ তখন তাকে ক্ষমা করে দিলেন। [বুখারী: ৩৪৫২, ৩৪৮১, ৩৪৭৮, মুসলিম: ২৭৫৬, ২৭৫৭]

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

★ শিশুরা মসজিদে গেলে যারা বকাবকি করেন, তারা একটু আল্লাহর ওয়াস্তে মনোযোগ দিয়ে পড়বেন,,,,,
**********************************************
মসজিদ তৈরি করা হয়েছে, মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদত পালন করার জন্য। এজন্যই একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু কিছু অতি উৎসাহী মুসল্লীর এটা পছন্দের নয় যে,এখানে শিশুরা নামাজ আদায় করতে পারে। বুঝতে পারলাম না, শিশুরা যদি না আসলে ভবিষ্যতে মুসল্লী পাবে না কো তুমি।

★ দেখেছি তুরস্কের বেশীরভাগ মসজিদের দেওয়ালে একটা কথা লেখা থাকে, কথাটি হলোঃ-
"মুহতারাম নামায পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন"

★ এবার সৌদী আরবের কথা বলি-
সৌদী আরবে প্রায় সবগুলো মসজিদে দেখা যায় নামায আদায় করার জন্য সুব্যাবস্থা রয়েছে, তো কমবেশী সব মসজিদগুলোতে দেখা যায়, বাচ্চারা মোটামোটি মসজিদে উপস্থিত থাকে।তাদের যেখানে ইচ্ছে খেয়াল খুশি মতো কাতারে দাঁড়ায়।
বড়রা কিছু বলেনা,এমনকি অনেক সময় দেখা যায় নামাযের সময় বাচ্চারা পেছনে বা সামনে কোন কাতারে হই হুল্লোড় করছে, নামায শেষে ঈমাম,মুসল্লি কেউ কিছু'ই বলেনা।

একদিন এক বাংলাদেশী লিখক সৌদীর এক নাগরিকের কাছে জানতে চাইলেন এর কারন কি?
-তো তিনি বললেন বাচ্চারা হলো ফেরেস্তার মতো, এরা এখানে (মসজিদে) আসবে একটু দুষ্টামি করবে, তারপর দেখতে দেখতে এটাতে অভ্যস্থ হয়ে পড়বে।

দুষ্টামির ব্যাপারটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে। সেটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু এখন যদি ওকে হুমকি ধামকি দেওয়া হয়, মারা হয় তাহলে সে তো এখানে আসতে'ই চাইবেনা, একটা ভয় নিয়ে বেড়ে উঠবে এটাতো ঠিক না।

★ কি সুন্দর যুক্তি!

আর ঠিক উল্টো চিত্র দেখবেন আমাদের বাংলাদেশে আমরা এমনও দেখেছি নাতীকে মসজিদে নিয়ে আসার কারনে নানার সাথে আরেকজনের মারামারি লেগে গিয়েছে। আর এলাকার সিজনাল মুরব্বিরা তো মসজিদে গেলে বড় বড় মোল্লা হয়ে যায়। সামনের কাতারে ছোটদের দাড়াতে দেয়'ই না।

বাচ্চারা আওয়াজ করলে চড় থাপ্পর এসব তো আছেই।হুজুরেরাও এসব দিকগুলো সবার সামনে স্পস্ট না করে এড়িয়ে যায়।

এসব ব্যাপারে যুবকদের সতর্ক হওয়া দরকার,এসব ব্যাপারে মুরব্বিদের বুঝানো দরকার।হুজুরদের বয়ানে এসব স্পষ্ট করা দরকার,তাহলে বাচ্চারা মসজিদমূখী হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিকভাবে জানা ও ভালবাসা নিয়ে মসজিদের মুসল্লী বৃদ্ধি করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ দিন, আমীন আমীন আমীন।

আল্লাহ চাহিলে কি না করতে পারে দেখুন হাতের যায়গায় পা আর পায়ের যায়গায় হাত।।। আল্লাহ তাআলা আমাদের কে সুস্থ শরীর দান করেছে তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলি।

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

وَءَاتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهُۥ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا

অর্থ: আর আত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও। আর কোনভাবেই অপব্যয় করো না।
(সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াতঃ ২৬)

তাফসীর: আলোচ্য আয়াতে সকল আত্মীয়দের হক বর্ণিত হয়েছে যে, প্রত্যেক আত্মীয়ের হক আদায় করতে হবে। অর্থাৎ কমপক্ষে তাদের সাথে সুন্দরভাবে জীবনযাপন ও সদ্ব্যবহার করতে হবে। যদি তারা অভাবগ্ৰস্ত হয়, তবে সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের আর্থিক সাহায্যও এর অন্তর্ভুক্ত। [ফাতহুল কাদীর]

আয়াতে বর্ণিত আত্মীয়দের হক, মিসকিনের হক এবং মুসাফিরের হক, এ তিনটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ নিজের উপার্জন ও ধন-দৌলত শুধুমাত্র নিজের জন্যই নির্ধারিত করে নেবে না। বরং ন্যায়সংগতভাবে ও ভারসাম্য সহকারে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করার পর নিজের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও অন্যান্য অভাবী লোকদের অধিকারও আদায় করবে।

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

‘আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাদ্বীনাহ্কে হারাম (পবিত্র এলাকা) হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, অমুক জায়গা থেকে অমুক জায়গা পর্যন্ত। এখানকার কোন গাছ কাটা যাবে না, আর যে ব্যক্তি এখানে বিদ্আত করবে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশ্তা ও সকল মানুষের অভিশাপ। আসিম বলেন, আমাকে মূসা ইবনু আনাস বলেছেন, বর্ণনাকারী أَوْ آوَى مُحْدِثًا কিংবা বিদ্আতীকে আশ্রয় দেয় বলেছেন।
---সহীহুল বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নং- ৭৩০৬।

(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮০৮)

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলতেনঃ অর্থ ‘‘আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং রাজ্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় প্রবেশ করেছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই।’’ জারীর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তাঁরই জন্য সাম্রাজ্য, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। হে আমার রব! আমি আপনার নিকট এ রাতের কল্যাণ চাইছি এবং রাতের পরবর্তী কল্যাণও কামনা করছি। আর এ রাতের সকল প্রকার অমঙ্গল থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং তারপরে যা আছে তার অমঙ্গল থেকেও মুক্তি চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার নিকট অলসতা, গর্ব-অহংকারের অনিষ্ট ও কুফরীর অনিষ্টট থেকে আশ্রয চাচ্ছি। হে রব! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাইছি।’’ আর তিনি ভোরে উপনীত হয়েও এরূপ বলতেনঃ আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং ভোরে উপনীত হলো রাজ্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে...। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, শু‘বা হাদীসটি সালামাহ ইবনু কুহাইল থেকে ইবরাহীম ইবনু সুয়াইদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বার্ধক্যের অনিষ্ট থেকে এবং তিনি কুফরীর অনিষ্ট থেকে উল্লেখ করেননি।
---সুনান আবু দাঊদ (আল্লামা আলবানী একাডেমী), হাদিস নং- ৫০৭১।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরসমূহ কবরস্থানে পরিণত করো না। যে ঘরে সূরা আল-বাকরাহ তিলাওয়াত করা হয় তাতে শাইতান প্রবেশ করে না।
---সহীহ্ আত্-তিরমিযী (আল-মাদানী), হাদিস নং- ২৮৭৭।

সহীহঃ আহকা-মুল জানা-য়িয (২১২), মুসলিম।

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

تَتَجَافٰى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ يُنفِقُونَ

অর্থ: তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। আর আমি তাদেরকে যে রিয্ক দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।
(সূরা আস-সাজদাহ, আয়াতঃ ১৬)

তাফসীর:
অর্থাৎ আয়েশ-আরাম করে রাত কাটাবার পরিবর্তে তারা নিজেদের রবের ইবাদাত করে। তাদের অবস্থা এমনসব দুনিয়াপূজারীদের মতো নয় যাদের দিনের পরিশ্রমের কষ্ট দূর করার জন্য রাতে নাচ-গান, শরাব পান ও খেলা তামাশার মতো আমোদ প্রমোদের প্রয়োজন হয়। এর পরিবর্তে তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, সারা দিন নিজেদের দায়িত্ব পালন করে কাজ শেষে এসে দাঁড়ায় তারা নিজেদের রবের সামনে। তাঁকে স্মরণ করে রাত কাটিয়ে দেয়। তাঁর ভয়ে কাঁপতে থাকে এবং তাঁর কাছেই নিজেদের সমস্ত আশা-আকাংখা সমৰ্পণ করে। [দেখুন, মুয়াসসার, কুরতুবী, বাগভী]

আয়াতে মুমিনগণের এক গুণ এই বলে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাদের শরীরের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে এবং শয্যা পরিত্যাগ করে আল্লাহর যিকর ও দো'আয় আত্মনিয়োগ করে। কেননা, এরা মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তিকে ভয় করে এবং তাঁর করুণা ও পূণ্যের আশা করে থাকে। আশা-নিরাশাপূর্ণ এ অবস্থা তাদেরকে যিকর ও দো’আর জন্য ব্যাকুল করে রাখে। অধিকাংশ মুফাসসিরগণের মতে শয্যা পরিত্যাগ করে যিকর ও দো'আয় আত্মনিয়োগ করার অর্থ তাহাজ্জুদ ও নফল সালাত যা ঘুম থেকে উঠার পর গভীর রাতে পড়া হয়। হাদীসের অপরাপর বর্ণনা থেকেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। মা'আয ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা নবীজীর সঙ্গে সফরে ছিলাম, সফরকালে একদিন আমি আরজ করলাম; ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে এমন কোন আমল বলে দিন যার মাধ্যমে আমি জান্নাত লাভ করতে পারি এবং জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি পেতে পারি। তিনি বললেন, তুমি তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বস্তু প্রার্থনা করেছ। কিন্তু আল্লাহ পাক যার জন্যে তা সহজ করে দেন তার পক্ষে তা লাভ করা অতি সহজ। অতঃপর বললেন, সে আমল এই যে, আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কোন অংশীদার স্থাপন করবে না। সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্ৰদান করবে, সাওম রাখবে এবং বায়তুল্লাহ শরীফের হজ সম্পন্ন করবে। অতঃপর তিনি বললেন, এসো, তোমাকে পুণ্য দ্বারের সন্ধান দিয়ে দেই, (তা এই যে,) সাওম হচ্ছে ঢাল স্বরূপ (যা শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়)। আর সদকা মানুষের পাপানল নির্বাপিত করে দেয়। অনুরূপভাবে মানুষের গভীর রাতের সালাত; এই বলে কোরআন মজীদের উল্লেখিত আয়াত তেলাওয়াত করেন। [তিরমিয়ী: ২৬১৬, ইবনে মাজাহঃ ৩৯৭৩, মুসনাদে আহমাদ: ৫/২৩১]

সাহাবী আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, প্রখ্যাত তাবেয়ী কাতাদাহ ও যাহহাক রাহেমাহুমাল্লাহ বলেন যে, সেসব লোকও শয্যা থেকে শরীরের পার্শ্বদেশ পৃথক হয়ে থাকা গুণের অধিকারী, যারা এশা ও ফজর উভয় সালাত জামা'আতের সাথে আদায় করেন। প্রখ্যাত সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আছে, উল্লেখিত আয়াত যারা এশার সালাতের পূর্বে শয্যা গ্ৰহণ না করে, এশার জামাতের জন্য প্রতীক্ষারত থাকেন, তাদের সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে। [আবু দাউদ: ১৩২১, তিরমিয়ী: ৩১৯৬] ইবনে-কাসীর ও অন্যান্য তাফসীরকারগণ বলছেন যে, এসব বক্তব্যের মধ্যে পরস্পর কোন বিরোধ নেই। প্রকৃতপক্ষে এরা সকলেই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে শেষরাতের সালাতই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী।

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

এসি মসজিদ ও তার ইমাম!!!
→→→→→→→→→→→→→→→

সামনের পুরো ওয়াল টাইলস করা মসজিদের সামনের কাতারে মাগরীবের সালাত আদায় করছিলাম।
প্রযুক্তির উৎকর্ষতা মসজিদের ওয়ালে বিদ্ধ করে গেথে আছে এসিটা।
আলতো করে ছুয়ে যাচ্ছে হিমেল হাওয়া।

পাথুরে শান বাধা জৌলুস মিম্বারের মাঝ বরাবর দাডিয়ে নামায পড়াচ্ছিল আটপৌঢ়ে এক ঈমাম!
সু-মধুর কুরআন তিলাওয়াতের মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ছে ভালো লাগার শুভ্র জগত জুরে।.

"আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ"
বলে বাম দিকে ছালাম ফিরানোর পর
শ্রদ্ধেয় ইমাম সাহেবের দিকে শ্রদ্ধার নযর পড়লো।

কিন্তু সে নযরটা পরিবর্তন হয়ে করুণায় পরিণত হলো।
হুজুরের শরীর জড়িয়ে থাকা পান্জাবিটার বয়স নেহাত এক যুগ!
তার উপর কুকড়ে থাকা ত্রিভাজ সমুহ
ক্যালেন্ডার না করার অবহেলা প্রকাশ করছে।
রাজকীয় আলো ঝলমলে আধুনিক টাইলস সমৃদ্ধ মিম্বারের মাঝ খানে দামী জায়নামাযের উপর ইমাম সাহেবকে বড়ই বে মানান ঠেকছিলো।.

আমি জানি, তবুও পরিচিতি পর্ব শেষ করে
ইমাম সাহেবকে প্রশ্ন করলাম-
স্মীত হেসে উরিয়ে দিলেন!
জানালেন সুখে আছেন, পরম সুখে আছেন পরিবার নিয়ে।
আলাপ করে জানলাম-সেই ৬ হাজার টাকার বেতন ১০ বছর যাবত নড়া-চড়া করেনি একচুল।

কমিটি চেঞ্জ হয়েছে, আরো বিত্তবানেরা কমিটিতে চাঞ্চ পেয়েছে, মসজিদের উন্নতি হয়েছে, মুসল্লি বৃদ্ধি পেয়েছে, টাইলসে টাইলসে পূর্ণতা পাবার পর মসজিদ এখন সেন্ট্রাল এসি হয়েছে!
কিন্তু ইমাম সাহেব?
সে কি কথা !!!
এর চেয়ে কম বেতনে আরো ভালো হুজুর পাওয়া যাবে ভুরি ভুরি ....

তাই মসজিদের কমিটির নিকট আবেদন থাকবে যে আপনারা মসজিদ মেরামতের সাথে সাথে ইমাম সাহেবের বেতনটাও একটু মেরামত করুন।
সব সময় তার দিকে একটু লক্ষ রাখুন।

1️⃣ বিজ্ঞান কিছুদিন আগে জেনেছে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই।
[ সূরা ফুরক্বানের ৬১ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে ]
:
2️⃣ বিজ্ঞান মাত্র দুশো বছর আগে জেনেছে চন্দ্র এবং সূর্য কক্ষ পথে ভেসে চলে
[ সূরা আম্বিয়া ৩৩ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে ]
:
3️⃣ সূরা কিয়ামাহ’র ৩ ও ৪ নং আয়াতে ১৪০০ বছর আগেই জানানো হয়েছে; মানুষের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে মানুষকে আলাদা ভাবে সনাক্ত করা সম্ভব। যা আজ প্রমাণিত।
:
4️⃣ ‘বিগ ব্যাং’ থিওরি আবিষ্কার হয় মাত্র অষ্ঠাশি বছর আগে। সূরা আম্বিয়া ৩০ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
:
5️⃣ পানি চক্রের কথা বিজ্ঞান জেনেছে বেশি দিন হয় নি
[ সূরা যুমার ২১ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে ]

6️⃣ বিজ্ঞান এই সেদিন জেনেছে লবণাক্ত পানি ও মিষ্ঠি পানি একসাথে মিশ্রিত হয় না।
[ সূরা ফুরকানের ২৫ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে ]
:
7️⃣ ইসলাম আমাদেরকে ডান দিকে ফিরে ঘুমাতে উৎসাহিত করেছে; বিজ্ঞান এখন বলছে ডান দিকে ফিরে ঘুমালে হার্ট সব থেকে ভাল থাকে ।
:
8️⃣ বিজ্ঞান এখন আমাদের জানাচ্ছে পিপীলিকা মৃত দেহ কবর দেয়, এদের বাজার পদ্ধতি আছে।
[ কুরআনের সূরা নামল এর ১৭ ও ১৮ নং আয়াতে এই বিষয়ে ধারণা দেয় ]
:
9️⃣ ইসলাম মদ পানকে হারাম করেছে , চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মদ পান লিভারের জন্য ক্ষতিকর ।
:
🔟 ইসলাম শুকরের মাংসকে হারাম করেছে। বিজ্ঞান আজ বলছে শুকরের মাংস লিভার, হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
:
1️⃣1️⃣ রক্ত পরিসঞ্চালন এবং দুগ্ধ উৎপাদন এর ব্যাপারে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান জেনেছে মাত্র কয়েক বছর আগে।
[সূরা মুমিনূনের ২১ নং আয়াতে কুরআন এই বিষয়ে বর্ণনা করে গেছে ]
:
1️⃣2️⃣ মানুষের জন্ম তত্ব ভ্রুন তত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞান জেনেছে এই কদিন আগে।
[ সূরা আলাকে কুরআন এই বিষয়ে জানিয়ে গেছে ১৪০০ বছর আগে ]
:
1️⃣3️⃣ ভ্রন তত্ব নিয়ে বিজ্ঞান আজ জেনেছে পুরুষই ( শিশু ছেলে হবে কিনা মেয়ে হবে) তা নির্ধারণ করে। ভাবা জায়... কুরআন এই কথা জানিয়েছে ১৪০০ বছর আগে।
[ সূরা নজমের ৪৫, ৪৬ নং আয়াত, সূরা কিয়ামাহ’র ৩৭- ৩৯ নং আয়াত ]
:
1️⃣4️⃣ একটি শিশু যখন গর্ভে থাকে তখন সে আগে কানে শোনার যোগ্যতা পায় তারপর পায় চোখে দেখার। ভাবা যায়? ১৪০০ বছর আগের এক পৃথিবীতে ভ্রুনের বেড়ে ওঠার স্তর গুলো নিয়ে কুরআন বিস্তর আলোচনা করে। যা আজ প্রমাণিত !
[ সূরা সাজদাহ আয়াত নং ৯ , ৭৬ এবং সূরা ইনসান আয়াত নং ২ ]
:
1️⃣5️⃣ পৃথিবী দেখতে কেমন? এক সময় মানুষ মনে করত পৃথিবী লম্বাটে, কেউ ভাবত পৃথিবী চ্যাপ্টা, সমান্তরাল... কোরআন ১৪০০ বছর আগে জানিয়ে
গেছে পৃথিবী দেখতে অনেকটা উট পাখির ডিমের মত গোলাকার।
:
1️⃣6️⃣ পৃথিবীতে রাত এবং দিন বাড়া এবং কমার রহস্য মানুষ জেনেছে দুশ বছর আগে। সূরা লুকমানের ২৯ নং আয়াতে কুরআন এই কথা জানিয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে !!

#আমিন

--: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম :--

يٰبَنِىَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَايْئَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُۥ لَا يَايْئَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكٰفِرُونَ

অর্থ: ‘হে আমার ছেলেরা, তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ খবর নাও। আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না’।
(সূরা ইউসুফ, আয়াতঃ ৮৭)

তাফসীর:
অর্থাৎ বৎসরা, যাও। ইউসুফ ও তার ভাইকে খোঁজ কর এবং আল্লাহ্‌র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। কেননা, কাফের ছাড়া কেউ তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। ইয়াকূব ‘আলাইহিস্ সালাম এতদিন পর ছেলেদেরকে আদেশ দিলেন যে, যাও ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ কর এবং তাদেরকে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ো না। ইতিপূর্বে কখনো তিনি এমন আদেশ দেননি। এটা তাকদীরেরই ব্যাপার। ইতিপূর্বে তাদেরকে পাওয়া তাকদীরে ছিল না। তাই এরূপ কোন কাজও করা হয়নি। এখন মিলনের মূহুর্ত ঘনিয়ে এসেছিল। তাই আল্লাহ্ তা'আলা এর উপযুক্ত তদবীরও মনে জাগিয়ে দিলেন। উভয়কেই খোঁজ করার স্থান মিসরই সাব্যস্ত করা হল। এটা বিনইয়ামীনের বেলায় নির্দিষ্টই ছিল; কিন্তু ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালাম-কে মিসরে খোঁজ করার বাহ্যতঃ কোন কারণ ছিল না। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা যখন কোন কাজের ইচ্ছা করেন, তখন এর উপযুক্ত কারণাদিও উপস্থিত করে দেন। তাই এবার ইয়াকূব ‘আলাইহিস্ সালাম সবাইকে খোঁজ করার জন্য ছেলেদেরকে আবার মিসর যেতে নির্দেশ দিলেন। সুদ্দী বলেন, যখন তার ছেলেরা তাকে বাদশার বিভিন্ন গুণাগুণ বর্ণনা করল তখন তিনি আশা করলেন যে, এটা যদি তার ছেলে ইউসুফ হতো! [বাগভী; কুরতুবী]

ইয়াকূব ‘আলাইহিস্ সালাম-এর ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, জান, মাল ও সন্তান-সন্তুতির ব্যাপারে কোন বিপদ ও কষ্ট দেখা দিলে প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব হচ্ছে সবর ও আল্লাহ্‌র ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমে এর প্রতিকার করা এবং ইয়াকূব ‘আলাইহিস্ সালাম ও অন্যান্য নবীগণের অনুসরণ করা।

(তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া)

12-Nov-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4185 জন)
প্রশ্নঃ শিশুদের জন্য খেলাধুলা ‘মানসিক বিকাশ” ঘটানোর সহায়ক। খেলা সম্প্রীতির বন্ধন, খেলাধুলা শরীর ও মনকে ভাল রাখে। শরীর সুস্থ্য রাখার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০মি. ব্যায়াম/খেলাধুলা করতে হবে। বয়ষ্কদের খেলা-ধুলার সুয়োগ না থাকলে সকালে/বিকালে কমপক্ষে ১৫-২০মি. দৌড়ান/ব্যায়াম করা উচিত। একটা দৌড় প্রতিযোগিতায় আপনি দ্বিতীয় রানারকে টপকে গেলেন। আপনি এখন এই দৌড়ে কত নম্বরে আছেন?
(A) ১ম স্থানে
(B) ২য় স্থানে
(C) ৩য় স্থানে