About Probir Das

চলার পথে সমস্যা থাকতেই পারে, সমাধান করে এগিয়ে যাবার নাম-ই জীবন।

এক গ্রামে দুই বন্ধু ছিল। একজনের বয়স ৬, অন্যজনের বয়স ৯ বছর। একদিন দুইবন্ধু একসাথে গোসল করতে গিয়ে ৯ বছরের বন্ধুটি পানিতে পড়ে গেলো। বন্ধুটি ডুবে যাচ্ছে দেখে, ৬ বছরের বন্ধুটি পাশে রাখা দড়িবাধা বালতিটিকে দ্রুত জলের মধ্যে ছুড়ে দিল। এরপরে ৯ বছরের বন্ধুটি ধরে ফেলল। ৬ বছরের বাচ্চাটা নিজের সর্বোচ্চ জোর লাগিয়ে তার বন্ধুটিকে পাড়ে টেনে তুলল।
বাড়িতে এসে যখন তারা ঘটনাটা সবাইকে বলল কেউ বিশ্বাস করল না। ৯ বছরের বন্ধুটির যে ওজন তা একা টেনে ওঠানোর ক্ষমতা ৬ বছরের বাচ্চাটার থাকার কথা না। তাই কেউই তাদের কথা বিশ্বাস করল না।
ঐ গ্রামে একজন জ্ঞানী বুজুর্গ লোক ছিল। সবাই লোকটাকে সম্মান করত। এই লোকটা কিন্তু বাচ্চা দুটোর কথা বিশ্বাস করে নিয়েছিল। এমন একজন জ্ঞানী মানুষ কথাটা বিশ্বাস করে নিল, তখন সবার মনে হল, নিশ্চই এর মাঝে কোন ব্যাপার আছে। গ্রামের লোক গুলো এবার সেই লোককে গিয়ে বলল, জনাব আপনি একটু বুঝিয়ে বলুন তো কি ঘটেছিল? জ্ঞানী লোকটা বললেন- আমি কি বলব? বাচ্চারা বলছে না? ওরা যা বলছে তাই ঘটেছিল। আর কি ঘটবে?
এবার কেউ কেউ সেই জ্ঞানী লোককেও অবিশ্বাস করে বসল। কেউ কেউ বলল, আপনি বুঝিয়ে বলুন কি করে ৬ বছরের এই বাচ্চা ৯ বছরের এই বাচ্চাকে জল থেকে টেনে তুলল? এটা কি সম্ভব নাকি?
জ্ঞানী লোকটি বললেন- সম্ভব। কারণ বাচ্চাটা যখন এই কাজটি করছিল, তখন তার আশপাশে কেউই ছিল না এটা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মত যে, "তোমার দ্বারা এটা সম্ভব না"। ... মানুষের জীবনী শক্তির অধিকাংশই শেষ হয়ে যায় শুধু পাশের মানুষের নেগেটিভ কথা শুনতে শুনতে। লক্ষ্য করে দেখবেন, আপনি যখন কোন ভালো কাজ করতে যাচ্ছেন, তখন একগাদা মানুষ জড় হয়ে আপনাকে নিরুৎসাহিত করবে। একটি কাজের শুরুতে অন্তত শতবার আপনাকে শুনতে হবে যে, এটা তুমি পারবে না, তোমার দ্বারা হবে না, তোমার দ্বারা সম্ভব না, এটা খুব কঠিন, এটা খুব অসম্ভব, এভাবে হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। ফলে যে উদ্দিপনা নিয়ে আপনি কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন তার ২/৩ অংশই শেষ হয়ে যায়। মনে রাখা খুব জরুরী তা হল, কেউ যখন বলবে যে তুমি এটা পারবে না। তখন সে আসলে তার নিজের অপারগতাকেই উপস্থাপন করে। সে নিজে কখনো কাজটি করতে পারেনি বলেই সে বিশ্বাস করে আপনিও পারবেন না।
যদি সত্যিই ভালো কিছু করতে চান তবে এই ধরণের মানুষকে উপেক্ষা করার মত ক্ষমতা আপনার থাকতে হবে। এটা খুব জরুরী। যত তাড়াতাড়ি এই নেগেটিভ চিন্তার মানুষকে আপনি উপেক্ষা করতে পারবেন আপনার সাফল্য ততোটাই নিশ্চিত

একবার এক লোক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "পৃথিবীতে তোমার চেয়ে ধনী আর কেউ আছে কি?"
বিল গেটস জবাব দিয়েছিল, "হ্যাঁ, এমন একজন আছেন যিনি আমার চেয়েও ধনী”।
তারপর তিনি একটি গল্প বললেন।
“এই সময়টি ছিল যখন আমি ধনাঢ্য বা বিখ্যাত ছিলাম না।
“একবার নিউইয়র্ক বিমান বন্দরে একজন সংবাদপত্র বিক্রেতার সাথে আমার সাক্ষাত হলো।’’
“আমি একটি সংবাদপত্র কিনতে চেয়েছিলাম কিন্তু দেখেছি আমার কাছে যথেষ্ট টাকা নেই। তাই আমি কেনার সিদ্ধান্ত ছেড়ে পেপারটি বিক্রেতার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।
“আমি তাকে আমার অবস্থার কথা বলেছি। বিক্রেতা বললেন, ‘আমি আপনাকে বিনামূল্যে দিচ্ছি।’ আমি পত্রিকাটি নিয়েছিলাম।
“দুই থেকে তিন মাস পরে, আমি একই বিমান বন্দরে আবার অবতরণ করেছি এবং কাকতালীয়ভাবে আবারও সেই পত্রিকা বিক্রেতার সাথে দেখা হলো। বিক্রেতা আমাকে আজও একটি পত্রিকা অফার করলেন। আমি অপারগতা প্রকাশ করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমি এটি নিতে পারি না কারণ এখনও আমার পরিবর্তন আসেনি। তিনি বললেন, ‘আপনি এটি নিতে পারেন, আমি এটি আমার লাভাংশ থেকে আপনাকে দিচ্ছি, আমার ক্ষতি হবে না’। বিক্রেতার আগ্রহে আমি পত্রিকাটি নিয়েছিলাম।
“ঐ ঘটনার ১৯ বছর পরে আমি বিখ্যাত এবং মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠি। হঠাৎ একদিন মনে পড়ে গেল সেই পত্রিকা বিক্রেতার কথা। আমি তাকে খুঁজতে শুরু করে দিলাম এবং প্রায় দেড় মাস অনুসন্ধানের পরে আমি তাকে খুঁজে পেলাম।
“আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম,‘ আপনি কি আমাকে চেনেন? ’তিনি বলেছিলেন,‘ হ্যাঁ, আপনি বিল গেটস। ’
“আমি তাকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম,‘ আপনার কি মনে আছে একবার আমাকে বিনামূল্যে একটি পত্রিকা দিয়েছিলেন? ’
“বিক্রেতা বললেন,‘ হ্যাঁ, মনে আছে। আপনাকে দু’বার দিয়েছি। ’
“আমি বললাম,‘ আপনি যে আমাকে বিনামূল্যে পত্রিকা দিয়েছিলেন তা আমি ফিরিয়ে দিতে চাই। আপনি আপনার নিজের জন্য যা চান বলুন? আমি এটি পূরণ করব। ’'
“বিক্রেতা বললেন,‘ স্যার, আপনি এমন কিছু দিতে পারবেন না, যা আমার সাহায্যের সমান হবে। ’
“আমি জিজ্ঞাসা করলাম,‘ কেন? ’
“তিনি বলেছিলেন,‘ আমি আপনাকে সংবাদপত্র দিয়েছিলাম আমার দরিদ্র অবস্থান থেকে । আর আপনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়ে আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। আপনার সাহায্য কীভাবে আমার সাহায্যের সমান হবে? ’
"সেদিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে সংবাদপত্রের বিক্রেতা আমার চেয়ে বেশি ধনী, কারণ তিনি কাউকে সাহায্য করার জন্য ধনী হওয়ার অপেক্ষা করেন নি।"
মানুষের বুঝতে হবে যে সত্যিকারের ধনী ব্যক্তি হলো তাঁরাই যাদের প্রচুর অর্থের চেয়ে প্রাচুর্যপূর্ণ হৃদয় রয়েছে।
সত্যিকারের ধনী হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শীতের সবজির উপকারিতা

শীতের শাক-সবজি পুষ্টিগুণে ভরপুর। আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন কিংবা ফ্যাট এর পাশাপাশি মিনারেলস এবং ভিটামিন এর ভূমিকা অন্যতম। শরীরের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে শীতকালীন সতেজ শাক-সবজিতে। তাই শরীরকে ফিট রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত শাক-সবজি গ্রহণ। শীতের শাক-সবজির মধ্যে অন্যতম হল- বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, গাজর, লেটুসপাতা, পালংশাক, ব্রকলি ইত্যাদি।

ফুলকপি: শীতের সবজির মধ্যে অত্যন্ত সুস্বাদু এই সবজি। ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইটোক্যামিকেল ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমে সাহায্য করে, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বাঁধাকপি: বাঁধাকপিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার যা হজম প্রক্রিয়া সহজ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এছাড়া ফ্ল্যাডোনরেড সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

শিম: শিমে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। এছাড়া রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন। শিম হজম সহায়ক এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

গাজর: গাজর আঁশযুক্ত পুষ্টিগুণে ভরা সবজি। গাজরের বিটা ক্যারোটিন কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের টক্সিন জাতীয় উপাদান দূর করে।

লেটুসপাতা: লেটুসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ভিটামিন যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়

26-Jan-2020 তারিখের কুইজ
প্রশ্নঃ ব্যবসা/প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার নিকট থেকে করাতে হয়। কোন প্রতিষ্ঠানকে ‘লিমিটেড’ করার করার কোন প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নিতে হয়?
(A) শিল্প মন্ত্রণালয়
(B) জয়েন স্টক
(C) বানিজ্য মন্ত্রণালয়