বাল্যবিবাহ ও সচেতনতা

নেপোলিয়ন বলেছিলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ রোকেয়া সাখাওয়াত তার সংগ্রামের মাধ্যমে নারী শিক্ষা চালু করে নারীদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর মুখ দেখিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার শিক্ষার জন্য কোনো অংশেই কম কিছু করছে না। প্রতিটি গ্রামে স্কুলে স্কুলে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি দিচ্ছে, যাতে একজন নারীও অশিক্ষিত না থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিক স্কুলে যেতে না যেতেই ৬৬ শতাংশ শিশুকে ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে বাল্যবিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে। এ বিয়ের কারণে শিশুরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ আইন ১৯৮২ সালে সংশোধন করা হয়েছিল। খসড়া আইনটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। এতে ১৬ বছরের নারীদের বিয়ের কথা না থাকলেও গ্রামের অনেক নারী মনে করে, ১৬ বছরে বিয়ে হতে পারে। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বাস। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাল্যবিয়ে দেয়া শিশুর মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধ। আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে শিশুকাল বলে। শিশু নির্যাতন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিয়ের কারণে শিশু পাঁচটি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। একটি শিশু মানসিক-শারীরিক প্রস্তুতি নেয়ার আগেই যদি তার বিয়ে হয়ে যায়, তাহলে সে তার সুন্দর শৈশবকাল থেকে বঞ্চিত হয়। সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার থেকে দূরে সরে যায়। এ বয়সটিতে নারীদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দেখা যায়। তাছাড়া রক্তস্বল্পতা ও আয়রনের অভাব দেখা দেয়। বিয়ে হয়ে গেলে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির ওপর দায়িত্ব বহন করা, সন্তান জন্ম দেয়া- সব মিলে শিশু ক্লান্ত হয়ে তার শৈশবকালের সমাপ্ত ঘটায়। সন্তান জন্ম দিলেও সেটি অপুষ্টিজনিত কারণে বিকলাঙ্গ হয়, যা শিশুটির পরিবার ও সমাজের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। বাল্যবিয়ের ফলে শিশু স্বাস্থ্যশিক্ষা না পেয়ে অনেক সময় জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।


অপরিণত বয়সে বিয়ের ফলে দেশে একদিকে মাতৃমৃত্যু বাড়ছে, অন্যদিকে অল্পবয়সে সন্তান জন্মদানের কারণে বাড়ছে জনসংখ্যা। নারী নির্যাতন ও নারী সহিংসতার একটি বড় কারণ বাল্যবিবাহ। একটি শিশু তার সুন্দর স্বপ্ন দেখার আগেই তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই তাকে বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে হয়। অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অথবা কারও বাড়িতে ঝি-গিরি করতে হয়। এই তো আমাদের দেশে বাল্যবিয়ের পরিণতি।

বিয়ে হল একটি সামাজিক চুক্তি, তবে তা ১৮ বছরের নিচে নয়। একটি শিশুর গর্ভে আরেকটি শিশু জন্ম নেবে, এটা সমাজ ও রাষ্ট্র চায় না। একজন নারী পরিণত বয়সে মা হবে, এটাই সমাজের প্রত্যাশা। বাল্যবিয়ের পরিণতি অনেক ভয়াবহ। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বাল্যবিয়ে বন্ধ করে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা সমাজ ও জাতির জন্য বড় দায়িত্ব। বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর উন্নতি দিন দিন বাড়ছে। একইভাবে আমাদের দেশে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাক, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার হার কমে আসুক, এটাও কাম্য।

সরকার বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ সংসদে পাস করেছে। এ আইনটি যদি বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ আইন হতো এবং সাজার পরিমাণ বেশি ধার্য করা যেত, তবে বাল্যবিয়ে রোধ করা সহজ হতো সমাজের জন্য। তবে শুধু আইন নয়, প্রতিটি পরিবার ও সমাজকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। জনপ্রতিনিধি, কাজী, ইমাম প্রত্যেককেই সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। দেশে আর একটিও যেন বাল্যবিয়ে না হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। সরকার ২০১৭ সালের ৮ মার্চ নারী দিবসের স্লোগান বেঁধে দিয়েছে- ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’। তাই বলছি, আসুন, এ দেশটিকে উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমরা নারী-পুরুষ সবাই মিলে নতুন উদ্যমে কাজ করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে বদলে ফেলি বিশ্বকে এবং শিশুর সুন্দর জীবন গড়ার লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করি।

বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি কিশোর-কিশোরী রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মেয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের শতকরা প্রায় ৫ ভাগ এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ মেয়ে বিবাহিত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি ২০১১ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ দেশে তিনজন কিশোরীর মধ্যে দু’জনেরই বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের নিচে। আবার ১০ জনের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়ে যায় ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। কিশোরীদের প্রতি তিনজনের একজন অল্প বয়সে সন্তানের মা হয়। এসব শিশুর ৩৫ ভাগই অপুষ্টির শিকার এবং ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। সেভ দ্য চিলড্রেনও তাদের এক সমীক্ষায় বলছে, বাংলাদেশের গ্রামে ৬৯ শতাংশ শিশুর ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়।

যে ২২টি দেশ ১৯৯১ সালে প্রথম জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল, বাংলাদেশ তার অন্যতম। এ সনদের ৫৪টি অনুচ্ছেদে শিশুর নাগরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর ১৩টি অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছে সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ও সরকারের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার কথা। অথচ এ অচলায়তন ভাঙার দায় নিচ্ছে না রাষ্ট্র বা সরকার। এ ব্যাপারে প্রত্যেকেরই এগিয়ে আসা উচিত, প্রতিরোধ করা উচিত বাল্যবিয়ে।

জয়িতা রওশন আরা বেগম নিলা : স্বাধীনতা সংগ্রামী

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর।
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়,
আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনই পুড়িতে হয়।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়েঘরে।

-কবি শেখ ফজলল করিম।

স্বর্গ সুখ আর নরকের যন্ত্রণা মানুষ পৃথিবীতেই উপলব্ধি... Read More>>

সমাপ্তি মানেই শেষ নয়। ‘END’ শব্দটির মানে হচ্ছে ‘Effort Never Dies’ অর্থাৎ ‘প্রচেষ্টার মৃত্যু নেই’।
এ পি জে আবদুল কালাম... Read More>>

প্রশ্নঃ ১৯০০-এর দশকে নির্বাক এবং ১৯৫০-এর দশকে সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন শুরু হয়। চলচ্চিত্রের উৎপত্তি ১৯১০-এর দশকে হলেও এখানে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে ১৯৫০-এর দশকেই। “বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে” গানটিতে নিচের কোন শিল্পী কন্ঠ দিয়েছেন?
(A) কুমার বিশ্বজিৎ
(B) এন্ডু কিশোর
(C) খালিদ হাসান মিলু
-----
... Read More>>

আজকের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা গুলোতে যায়গা হয়নি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের খবর!
তাই বলে কি এদেশের মানুষ ভুলে গেছে তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের?

২০০৯ সালে ২৫ শে ফেব্রুয়ারী পিলখানায় শহীদ হওয়া সকল অফিসারের নাম ছবিসহ:-

০১. শহীদ মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ

০২. শহীদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন

০৩. শহীদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল... Read More>>

26-Feb-2020 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 18+)
প্রশ্নঃ ১৯০০-এর দশকে নির্বাক এবং ১৯৫০-এর দশকে সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন শুরু হয়। চলচ্চিত্রের উৎপত্তি ১৯১০-এর দশকে হলেও এখানে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে ১৯৫০-এর দশকেই। “বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে” গানটিতে নিচের কোন শিল্পী কন্ঠ দিয়েছেন?
(A) কুমার বিশ্বজিৎ
(B) এন্ডু কিশোর
(C) খালিদ হাসান মিলু