About আসলাম সিকদার

কলা নিয়ন্ত্রণ করবে ব্লাড প্রেসার

বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ আমাদের দেশে হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীর সংখ্যা চোখে পরার মতো বেড়েছে। আর সব থেকে ভয়ের বিষয় হলো উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগরই বয়স ৪৫-এর নিচে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের প্রতিদিন একটি করে কলা খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ফলটিতে উপস্থিত প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম শরীরে প্রবেশের পর সোডিয়ামের প্রভাবকে কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক শারীরিক সমস্যাও বাগে চলে আসে।

প্রতিদিন একটা করে কলা খেলে ব্লাড প্রেসার ছাড়াও যেসব রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে সম্পর্কে জেনে নিন...

১. হাড় শক্তপোক্ত হয়
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত একটা করে কলা খাওয়া শুরু করলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে অস্টিওআথ্রাইটিস মতো বোন ডিজিজে (রোগ) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।

২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে বাস্তবিকই কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কলাতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশের পর চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রেটিনার ক্ষমতাও এতটা বৃদ্ধি পায় যে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা কোনো ধরনের চোখের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৩. সার্বিকভাবে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে
বছরের শেষেও অফিসে এমন কাজের চাপ যে ক্লান্তি ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে বাড়তে মাত্রা ছাড়িয়েছে? তাই চিন্তা না করে এমন পরিস্থিতিতে একটা কলা খেয়ে নেবেন সব সময়। তাহলেই দেখবেন অনেক চাঙ্গা লাগবে। কারণ ক্লান্তি দূর করতে কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।

৪. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
কলা খাওয়ার পর যদি কলার খোসা মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একদিকে যেমন ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে, তেমনি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। আসলে কলার খোসার ভেতরে থাকা একাধিক উপাকারী উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, কলার ভেতরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে।

৬. স্ট্রেস কমে চোখে পরার মতো
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে রোজের ডায়েটে কলাকে জায়গা করে দিলে শরীরে ট্রাইপটোফিন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদের মাত্রাও কমতে সময় লাগে না।

৭. পুষ্টি ঘাটতি দূর হয়
শরীরের সচলতা বজায় রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেলের প্রয়োজন পরে শরীরের। আর এইসব উপাদানের যোগান শরীর পায় খাবারের মাধ্যমে। সমস্যাটা হলো আজকের প্রজন্ম এতটাই ব্যস্ত যে তাদের হাতে ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করার সময় নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার কারণে নানাবিধ রোগ এসে বাসা বাধে শরীরে। এমন পরিস্থিতি কলা কিন্তু দারুণ কাজে আসতে পারে।

৮. টক্সিক উপাদানেরা সব বেরিয়ে যেতে শুরু করে
শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের ইতি-উতি উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিয়ে দেহের প্রতিটি অঙ্গকে চাঙ্গা রাখতে কলার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কলাতে উপস্থিত প্রেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরের প্রবেশ করামাত্র ক্ষতিকর উপাদানদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে। ফলে রোগমুক্ত শরীরের অধিকারী হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।

৯.অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূরে পালায়
কলায় বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণ আয়রন শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি করে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যারা এমন রোগে ভুগছেন, তারা আয়রন ট্যাবলেটের পাশাপাশি যদি নিয়ম করে কলা খেতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুণ উপকার মিলতে পারে।

১০. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে
কলার শরীরে পটাশিয়াম ছাড়াও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর কম খেলে যে ওজনও কমে, সে কথা কার না জানা।

১১.ডায়াবেটিসের মতো মরণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না
কলা খাওয়া মাত্র শরীরে কম-বেশি ৩ গ্রামের মতো ডায়াটারি ফাইবারের প্রবেশ ঘটে। এর প্রভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পায় না। এই কারণেই টাইপ ১ এবং ২-দু ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদেরই এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে

শরীরকে কর্মক্ষম রাখার জন্য

পর্যাপ্ত খাওয়া-দাওয়া করার পরও সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে শরীর নেতিয়ে পড়ছে? বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ক্লান্তির ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন। এর কারণ হচ্ছে, খাদ্যতালিকায় সেসব পুষ্টি উপাদান বা খাদ্যের অভাব, যা কিনা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, শক্তি জোগায় ও শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে। জেনে নিন এখানে—

কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ডায়েটারি ফাইবার ও শ্বেতসার দ্বারা গঠিত। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট সাধারণ কার্বোহাইড্রেট থেকে আলাদা। কারণ সাধারণ কার্বোহাইড্রেট যেমন চিনি, মধু, ম্যাপল সিরাপ ইত্যাদি রক্তে সহজেই মিশে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটে রয়েছে ভালো মানের ডায়েটারি ফাইবার, যা ধীরে ধীরে হজম হয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শক্তি, যা পেশি ও মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। দ্রবণীয় ফাইবার হচ্ছে ফল, বাদাম, ডাল, বীজ, ওট, বাদামি চালের ভাত ও বার্লি, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। অদ্রবণীয় ফাইবারগুলো হচ্ছে হোল গ্রেইন ব্রেড, পাস্তা, ভাত, সিরিয়াল, সবজি ইত্যাদি। এগুলো শরীরের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। এসব খাবার ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং শক্তি জোগায়।

প্রোটিন: খাদ্যের প্রোটিন হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। এ অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যবহূত হয়, হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে, লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান। মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, দুধ, পনির, ডাল ও বাদাম স্বাস্থ্যকর প্রোটিন উৎস।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: সব ফ্যাটই কিন্তু ক্ষতিকর নয়। প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখা প্রয়োজন। ভালো মানের ফ্যাট বা চর্বি শরীরকে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন যেমন ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শুষে নিতে সহায়তা করে। যেসব খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, সেসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। মাছ, আমন্ড, আখরোট ও ভেষজ তেলে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ ফ্যাট শরীরের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়রন ও ক্যালসিয়াম: শক্তিশালী হাড় গঠনে সহায়তা করে ক্যালসিয়াম। অন্যদিকে আয়রন লোহিত রক্তকণিকাকে শরীরে অক্সিজেন ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় আয়রনের ঘাটতি থাকলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে ও কাজ করার শক্তি হারিয়ে যেতে পারে। ব্রোকলি, পালংশাক, গরুর মাংস, শিম ও বাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন। অন্যদিকে দুধ, পনির, টকদই, সবুজ সবজি ও সামুদ্রিক মাছে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম।

ভিটামিন সি: খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রাখতে হবে। ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কমলা, কিউই, লেবু, আপেল, পেয়ারা, আঙ্গুর, জাম্বুরা, পালংশাক, টমেটো, ব্রোকলি, ফুলকপি, তুলসীপাতা ভিটামিন সি এর ভালো উৎস।

শক্তিবর্ধক খাবার

আমন্ড: আমন্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন ই ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ ফ্যাটি অ্যাসিড শক্তির চমত্কার উৎস। শক্তিশালী হাড় গঠন, মস্তিষ্কের সুরক্ষা, হূদয়ের দেখাশোনা করাসহ আমন্ড দিনভর আপনাকে কর্মক্ষম রাখবে।

আপেল: লাল আপেল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। এতে আরো রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার, আয়রন, ভিটামিন ও খনিজ। আপেল রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। যকৃৎকে ডিটক্সিফাই করে, ওজন নিয়ন্ত্রণ করে ও হূদস্বাস্থ্য ভালো রাখে। দ্রবণীয় ফাইবার দীর্ঘসময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে ও পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। এতে করে শক্তি বাড়ে।

কলা: কলা কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম ও ফ্রক্টোজের উত্কৃষ্ট উৎস। তাত্ক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কলা। কলা ডোপামাইন হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে, ফলে বাড়ে মনোযোগ ও একাগ্রতা।

মুরগির মাংস: মুরগির মাংস প্রোটিনের উত্কৃষ্ট উৎস। স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতে সহায়তা করে মুরগির মাংস। সারা দিন শরীরে শক্তি ধরে রাখতে ও কর্মক্ষম থাকতে মুরগির মাংস খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তাছাড়া এতে করে হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং স্ট্রেসও কমবে।

সাইট্রাস ফল: সাইট্রাস ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা কিনা শরীরকে আয়রনজাতীয় খাবার শুষে নিতে সহায়তা করে। তাছাড়া সাইট্রাস ফল শক্তিবর্ধক হিসেবে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চেষ্টা করুন প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস লেবুর শরবত পান করার।

ডিম: ডিম পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন। এটি ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। ডিমে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি থাকলেও এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় না। দিনভর কর্মক্ষম থাকতে প্রতিদিন সকালে একটি ডিমসিদ্ধ খান।

মিষ্টিকুমড়া: মিষ্টিকুমড়ায় রয়েছে ভিটামিন এ ও অল্প পরিমাণে ফাইবার। মিষ্টিকুমড়ার বিচি খুবই পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক ও কপার। তাছাড়া মিষ্টিকুমড়া হরমোনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি শক্তি বাড়ায় ও দিনভর শরীরকে কাজ করায় সহায়তা করে।

সেহরিতে খাবারের তালিকায় রাখবেন যে ৬ খাবার

মুসলিম জাহানের মহা পবিত্র মাস রমজান মাস শুরু হয়েছে। এই মাসে সুস্থভাবে রোজা পালনের ক্ষেত্রে আমাদের শরীরে সঠিক পুষ্টি খুবই জরুরি। আর সে ক্ষেত্রে সেহরি ও ইফতারের সময় সঠিক খাবার নির্বাচন করা আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেহরিতে ভালোভাবে খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। তাই সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত যেসব খাবার আমাদের শরীরকে আর্দ্র রাখবে এবং পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করবে। সেহরিতে খাওয়া জরুরি, এমন কিছু খাবারের নাম আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল-

১। খেজুর-
সেহরির সময় অন্তত এক থেকে দুটি খেজুর খান। এ ছাড়া রোজা ভাঙার সময় অর্থাৎ ইফতারেও খেজুর খান। খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ। এ ছাড়া এতে রয়েছে অনেক আঁশ। এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
২। ফল ও সবজি-

সেহরির সময় ফল ও সবজি খান। ফল ও সবজির মধ্যে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন। এগুলো শরীরের জন্য জরুরি।

৩। ভাত-

ভাতের মধ্যে রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। এটি দেরিতে হজম হয়। ভাত খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। এতে ক্ষুধা কম লাগে।

৪। চর্বি ছাড়া মাংস-

চর্বি ছাড়া মাংস সেহরিতে খাওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে মুরগির মাংস খেতে পারেন। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা অনেকটা পূরণ হবে।

৫। স্যুপ-

সেহরির সময় খাবার খাওয়া শুরু করুন স্যুপ দিয়ে। এমনকি ইফতারেও খেতে পারেন স্যুপ। এটি কেবল দেহকে আর্দ্র রাখবে না, শক্তি ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।

৬। পানি-

খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখবে এবং পানি পিপাসা মেটাতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া ইফতার ও সেহরিতে মাঝামাঝি সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

ডিমের খোসার যত গুণ

ডিম ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ডিম খেতেও যেমন ভাল, তেমনই স্বাস্থ্যকর। ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মোটামুটি আমরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু জানেন কি ডিমের খোসাও খুবই উপকারী। জেনে নিন ডিমের খোসার কয়েকটি গুণাগুণ।

শখের ফুলের বাগানে পোকা হলে সব কষ্টই বৃথা। কারণ কিছু দিনের মধ্যেই আপনার সব গাছ নষ্ট হবে। তখন গাছের গোড়ায় গোড়ায় ডিমের খোসা গুঁড়ো করে ছড়িয়ে দিন। পোকা-মাকড় গাছের ধারে কাছেও আসতে পারবে না।

কফির তিক্ত ভাব কমাতে কফির সঙ্গে ডিমের খোসার গুঁড়ো এক চিমটে মিশিয়ে দিন। কফি গুলিয়ে নেয়ার পর একটু সময় দিন। ডিমের খোসার গুঁড়ো অংশ নিচে পড়ে যাবে আর কফির তিক্ত স্বাদও অনেকটাই কমে যাবে।

১টা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে একটা বা দুইটা ডিমের খোসা ভাল করে গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাক মুখে ১৫ মিনিট মতো লাগিয়ে রেখে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে আলতো ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের কালচে ভাব কেটে যাবে। ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত। এই প্যাক নিয়মিত সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করলে ব্রণের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হারের জয়েন্টের ব্যথা কমাতে একটি পাত্রে অ্যাপল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে একটা ডিমের খোসা ভাল করে গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিন। এটাকে অন্তত ২-৩ দিন রেখে দিলে দেখবেন, ডিমের খোসাগুলো ভিনেগারের সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়েছে। এই মিশ্রণ দিয়ে ব্যথার জায়গায় হালকা করে চাপ দিয়ে মালিশ করুন। ডিমের খোসায় থাকে কোলাজেন, গ্লুকোসামিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যা ভিনেগারের সঙ্গে মিশে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

চুলের রঙের ক্ষতিকর দিক

পাকা চুল ঢাকার জন্য বা ফ্যাশনের জন্য অনেকেই চুল রং করে থাকেন। অনেকে হয়তো জানেনও যে চুল রং করলে ক্ষতি হয়; কিন্তু কী ক্ষতি হয় তা জানেন না। চুলের রঙে অক্সিডাইজিং এজেন্ট হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এবং অ্যালকাইজিং এজেন্ট অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয়— যা একটি কেমিক্যাল রি-অ্যাকশনের মাধ্যমে চুলের আসল রঙকে হালকা করে এবং ব্যবহৃত চুলের রঙের পিগমেন্টকে চুলের শ্যাফটের ভেতরে ঢুকতে সাহায্য করে।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চুলের রঙে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে যা চুলের মাধ্যমে ত্বকে ভেদ করে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। যাতে মানুষের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সার (যেমন- লিউকেমিয়া, নন-হজকিন্স লিম্ফোমা, ব্লাডার ক্যান্সার, মাল্টিপল মায়েলোমা) হতে পারে। চুলের রঙে থাকে প্যারাফিনাইলেনেডিয়ামিন নামক রাসায়নিক উপাদান যা ত্বকে বিভিন্ন স্থানে রঙ পরিবর্তন করে, ফুসকুড়ি, তীব্র চুলকানি ইত্যাদি হতে পারে।

এছাড়া চুলের রঙের উপাদান যাদের হাঁপানি নেই তাদেরও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা করে। চুলে রঙ ব্যবহার করলে চুলের প্রকৃত রঙ নষ্ট হয়ে যায়, চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চুলে প্রয়োজন ছাড়া রঙ ব্যবহার না করা ভাল। আর চুলে রঙ ব্যবহার করলে তা বেশিক্ষণ চুলে লাগিয়ে রাখা যাবে না এবং চুলের রঙ চুলের গোঁড়ায় যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভাল মানের অ্যামোনিয়া ফ্রি রঙ ব্যবহার করতে হবে। এতে চুলের কম ক্ষতি হয়। ঘন ঘন রঙ ব্যবহার না করে অনেক দিন পর পর ব্যবহার করতে হবে।

অ্যালার্জি ও হৃদরোগের ওষুধে স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় জানতে পেরেছেন যে, বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (এন্টিকোলিনার্জিক ধর্ম রয়েছে এমন ওষুধ) কিছু ওষুধ মানুষের মস্তিস্কের ক্ষতিসাধন করে থাকে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে । এ ছাড়া এই ওষুধ ব্যবহারে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে অনেকটা।

গবেষকরা বলছেন, ওষুধগুলোর ওই বৈশিষ্ট্যগুলোকে এন্টিকোলিনার্জিক ধর্ম বলা হয়। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন করা অনেক সাধারণ ওষুধে ওই বৈশিষ্ট্যগুলো রয়েছে। যেমন এলার্জি, পার্কিনসন রোগ এবং হৃদরোগের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ।

এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে, এই অ্যান্টিকোলিনার্জি বৈশিষ্ট্যের ওষুধগুলো স্নায়ুতন্ত্রের অংশগুলোর মধ্যে যোগাযোগকে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

ওই ওষুধের নেতিবাচক ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছে-ব্লারড ভিশন, কনফিউশন এবং স্মৃতিভ্রষ্টতা। এর ফলে মূর্ছা যাওয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ওই গবেষণাটি করেছেন।

তারা বলছেন, ওই ওষুধগুলোর কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।

এই ওষুধ গ্রহণ করেছে এমন ২২ হাজার লোকের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন গবেষকরা। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লোকদের বয়স ছিল ৩৯ থেকে ৭৯ বছর। তাদের ওপর ২০ বছরের বেশি সময় নিরীক্ষা চালানো হয়েছে।

গবেষক দলটি গবেষণায় জানতে পেরেছেন, উচ্চমাত্রার এন্টিকোলিনার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে- এমন ওষুধ যে রোগীরা সেবন করছে তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে অনেক বেশি।

যারা এ ধরনের ওষুধ সেবন করেনি তাদের তুলনায় ওই রোগীদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুঝুঁকি ৮৬ শতাংশ বেশি।

গবেষকরা জানান, এন্টিকোলিনার্জিক বৈশিষ্ট্যের ওষুধ সেবনে প্রদাহ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে স্ট্রোকের পরপর এই প্রদাহের কারণে জীবনঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে লোকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা রয়েই যায়।

এ বিষয়ে গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ডাক্তার ও চিকিতসা-সংশ্লিষ্ট লোকদের তাদের রোগীদের স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করতে ওই গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

ওই গবেষক দলের প্রধান ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব আবারডিনের অনারারি রিসার্চ ফেলো ডক্টর ডেভিড গ্যাম্পবেল।

স্মার্টফোন যেভাবে স্মার্টলি আমাদের নীরবে আক্রমণ করে যাচ্ছে!
স্মার্টফোনঃ

প্রযুক্তি যে দিনদিন আমাদের জীবনযাত্রা সহজ এবং আরামদায়ক করে দিচ্ছে এতে আমাদের কারো সন্দেহ থাকার অবকাশ নাই। সকাল থেকে রাত বলা যায় আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তির সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছি। এর মাঝে আমাদের সারাদিনের কর্মকাণ্ডে যেসব যন্ত্র একেবারে না হলেই নয় এমন হয়ে গেছে তার মাঝে অন্যতম হল মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ইত্যাদি। ইদানীং মোবাইল ফোন আবার স্মার্ট ভাবে আমাদের সামনে হাজির হয়ে স্মার্টফোন খেতাব পেয়েছে। আগের মত ফোন এখন শুধু কল করা কিংবা রিসিভ করা, মেসেজিং এসবে সীমাবদ্ধ নেই। কি না করা যায় এখন ফোন দিয়ে! ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন দুনিয়া হাতের মুঠোয় বলা যায়। আর দুনিয়া হাতের মুঠোয় নিয়ে চলা যায় এমন সবচেয়ে ছোট, পরিবহনযোগ্য যন্ত্র হল স্মার্টফোন। তবে আমাদের আজকের আলোচনা স্মার্টফোন নিয়ে নয়। বরং স্মার্টফোনের খারাপ দিক নিয়ে।
স্মার্টফোনের খারাপ দিকঃ

প্রযুক্তির পরিমিত ব্যবহার যেমন আমাদের জীবন যাত্রা কে অনেক সহজ করে দিতে পার, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের ক্ষতিই করে। এবং সেই ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনা। ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক সব জায়গায় এর লক্ষণীয় খারাপ প্রভাব পড়ে।

অনেকেই হয়ত বলবে স্মার্টফোন তো সারাদিন দরকারেই ব্যবহার করা লাগে। সবার সাথে যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে বিনোদন, আমাদের চলাফেরা, ম্যাপ, আমাদের শপিং লিস্ট, রুটিন, এলার্ম, ইত্যাদি সহ দৈনন্দিন জীবনের অনেক বেশি কাজ ই তো এই ছোট ডিভাইসটি দিয়ে আমরা করে থাকি। সুতরাং এটি কম ব্যবহার করা কিভাবে সম্ভব! স্মার্টফোনের খারাপ দিক ই বা কিই?

চলুন জেনে নেয়া যাক আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনের খারাপ দিক গুলো সম্পর্কেঃ
১। আসক্তিঃ

আমেরিকায় সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে একজন কলেজ স্টুডেন্ট দিনে গড়ে ১০ ঘন্টা ফোন ব্যবহার করে। হতে পারে সেটি ইন্টারনেট ব্রাউজিং ব্যবহার কিংবা পিডিএফ ফাইল পড়া কিংবা মেসেজিংসহ বিভিন্ন কাজে। এবং দিনে তারা বিভিন্ন সোশ্যাল সাইট সহ যতগুলো মেসেজ আদান প্রদান করে তত কথা তারা সারাদিনে কারো সাথে বলেনা।

আরেকটা সার্ভে তে দেখা গেছে আমেরিকার প্রতি ৫ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩ জন ই ৬০ মিনিটের বেশি একবার ও ফোন চেক না করে থাকতে পারে না। পুরা বিশ্বেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অবস্থা কম বেশি এমন।

এবং কাউকে যদি বলা হয় ফোন ছাড়া থাকতে হবে তার মাঝে একরকম ভয় দেখা দেয়। যাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন নোমোফোবিয়া(nomophobia)।
ফোন ছেড়ে থাকার ভয় বা আতংক। যাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন নোমোফোবিয়া।
ফোন ছেড়ে থাকার ভয় বা আতংক। যাকে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন নোমোফোবিয়া।
২। স্মার্টফোন ছাড়া থাকা আমাদের কষ্টকর অনুভূতি তৈরি করেঃ

২০১১ সালে ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০০০ ছাত্র-ছাত্রীর উপর একটি জরিপ করা হয়। তাদের ২৪ ঘন্টা স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল সাইট থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী এর মাঝে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। তাদের দেখে মনে হয়েছিল তারা অনেক বেশি একা হয়ে গেছে। এমন কি অনেকে শেষ পর্যন্ত পারেই নি ২৪ ঘন্টা দূরে থাকতে।
৩। ব্যাকপেইন সমস্যাঃ

British Chiropractic Association এর মতে গত কয়েক বছরে তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাকপেইন সহ মেরুদন্ডের নানা সমস্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। ২০১৫ এর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৪ বছরের মাঝে ৪৫% তরুণ ব্যাকপেইন সহ মেরুদন্ডের নানা সমস্যায় ভুগছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, মেরু রজ্জুর উপর বাড়তি প্রেশার দেয়ার কারণে। এবং এই সংখ্যা ২০১৪ এর তুলনায় ৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘাড় বাঁকিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারে আমাদের মেরুদন্ডে যে পরিমাণ চাপ পড়ে
বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘাড় বাঁকিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারে আমাদের মেরুদন্ডে যে পরিমাণ চাপ পড়ে

তবে এই ক্ষেত্রে তারা স্মার্টফোন এ বিভিন্ন টেক্সটিং কে বেশি দায়ী করছেন। ২০১৪ এর এক গবেষণা অনুযায়ী টেক্সট করতে গেলে আমাদের মেরুদন্ড কে আমরা যে কোণে বাঁকিয়ে থাকি এবং এতে মেরুদন্ডে যে পরিমাণ চাপ পড়ে তা ৫০ পাউন্ড এর সমান। যা একটি সুস্থ স্বাভাবিক ৭ বছরের বাচ্চার ওজনের সমান। কি ভয়ংকর তাইনা!
৪। স্নায়ু সমস্যাঃ

স্মার্টফোন স্নায়বিক সমস্যার জন্য ও দায়ী। অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের মেরুদন্ডের শুরু থেকে মস্তিষ্কে যে স্নায়ুর সাহায্যে সংযোগ স্থাপিত আছে তা অতিরিক্ত চাপে সংকুচিত হয়ে যায় কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলাফল হিসেবে দেখা দিতে পারে তীব্র মাথা ব্যাথা সহ মাইগ্রেইন সমস্যা। মাইগ্রেইন যাদের আছে তারাই বুঝে এটা কি জিনিস। এবং এই সমস্যা কে বলা হয় Occipital neuralgia।
Occipital Neuralgia
Occipital Neuralgia
৫। উদ্বিগ্নতা এবং হতাশাঃ

স্মার্টফোন যে শুধু শারীরিক বা মানসিক সমস্যা তৈরি করে তা নয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহার আপনাকে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন এবং হতাশ করে তুলবে। সোশ্যাল সাইটগুলোতে যত যাবেন আপনি হয়ত দেখবেন সবার মুহূর্তে মুহূর্তের আপডেট। যা আপনার মাঝে ইনফিরিয়র কমপ্লেক্সিটি সহ নানা মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করবে। নিজের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে আপনার মাঝে আবার চেষ্টা করার শক্তি কমিয়ে দিবে। আপনাকে হতাশ করে তুলবে। এছাড়া স্মার্টফোন এ অতিরিক্ত গেম খেলা আপনার অনেক প্রয়োজনীয় কাজ আপনাকে সুষ্ঠুভাবে করতে দিবে না। বরং এসব আসক্তি আপনাকে সামাজিকভাবে মানুষ থেকে দূরে রাখবে। যা সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের পথে বাঁধা।
৭। মানসিক চাপঃ

স্মার্টফোন অতিরিক্ত ব্যবহার মানে সবাই আপনাকে সবসময় সুলভ ভাববে। ভাববে কল, টেক্সট, সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশান, মেইল এসব আপনি যে কোনো সময় রিপ্লাই দিতে সক্ষম। আপনার নির্দিষ্ট কোনো ওয়ার্কিং সময় বলতে কিছু থাকবে না। যা আপনার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে আমরা দুনিয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে চাই। কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের সবার সাথে বেশি যোগাযোগ এর বদলে আরো বেশি একা করে দেয়।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার দিনশেষে আপনার মানসিক চাপ বাড়িয়ে আপনাকে একা করে দেয়।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার দিনশেষে আপনার মানসিক চাপ বাড়িয়ে আপনাকে একা করে দেয়।
৮। ঘুমের ব্যাঘাতঃ

২০১৩ এর এক জরিপ অনুযায়ী ১৮ থেকে ২৯ বছরের ৬৩% মানুষ ঘুমানোর সময় তাদের স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট বিছানায় নিয়ে যায়। এবং ৩০ থেকে ৬৪ বছরের ৩০% মানুষও এই একই কাজ করে।

চিন্তার ব্যাপার হল, সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে পাবলিশ হওয়া এক গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমানোর আগে ফোন বা ট্যাবলেট এর নীল আলো আপনার ঘুম এর যতটা ব্যাঘাত ঘটাবে একটা ডাবল এসপ্রেসো কফি ও সেটা পারবে না। যদিও আমরা ঘুমানোর আগে ডাবল এসপ্রেসো কফি নিয়ে কেউ বিছানায় যাইনা। কিন্তু ফোন বা ট্যাবলেট নিয়ে যাই।
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনের ব্যবহার স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনের ব্যবহার স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়
৯। ব্যাকটেরিয়ার গুদাম ঘরঃ

আমেরিকার University of Arizona এর এক গবেষণা অনুযায়ী, একটি টয়লেট সিট এর উপরিভাগে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া থাকে তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে আমাদের স্মার্টফোনে। আমাদের টয়লেট আমরা নিয়মিত পরিষ্কার করলেও স্মার্টফোন পরিষ্কার করা হয়না। আর টয়লেট সিট যতই পরিষ্কার থাকুক আমরা অবশ্যই সেখানে কেউ মুখ ঘষিনা। কিন্তু কোনো সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার ছাড়াই আমাদের ফোন সারাদিন আমরা হাতে রাখি, কল আসলে মুখে লাগাই।
টয়লেট সিট থেকেও কমপক্ষে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনটিতে।
টয়লেট সিট থেকেও কমপক্ষে ১০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে আমাদের প্রিয় স্মার্টফোনটিতে।
১০। দৃষ্টি-শক্তির সমস্যাঃ

স্মার্টফোনের খারাপ দিক এর মাঝে উল্লেখযোগ্য আরেকটি সমস্যা হল এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে। স্মার্টফোনের নীল আলো আমাদের রেটিনার জন্য ক্ষতিকর। টানা অনেকক্ষণ ধরে অতিরিক্ত পরিমাণ স্মার্টফোন ব্যবহার রেটিনার মারাত্নক ক্ষতি করতে পারে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ম্যাকুলার ডিজেনারেশান(Macular Degeneration) বলা হয়। ম্যাকুলার ডিজেনারেশান এ আক্রান্ত ব্যক্তি তার চোখের দৃষ্টি অনেকটাই হারিয়ে ফেলতে পারেন। এবং এটি আস্তে আস্তে যে কাউকে চিরতরে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্মার্টফোনের নীল আলো সরাসরি আমাদের চোখে এসে পড়ায় এবং খুব কাছ থেকে এটি ব্যবহার করার ফলে চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এক জরিপ অনুযায়ী ২০০০ মানুষের মাঝে ৫৫% স্বীকার করেছেন যে কিছুক্ষণ ফোন ব্যবহার করার পর তাদের চোখে তারা অস্বস্তি অনুভব করেন।

এজন্য মহামূল্যবান চোখ রক্ষা করতে স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। অতিরিক্ত এটি ব্যবহার করবেন না। এবং যতক্ষণ ব্যবহার করবেন ২০-২০-২০ রুল অনুসরণ করবেন। এর মানে হল প্রতি ২০ মিনিট স্মার্টফোন ব্যবহারের পর ২০ সেকেন্ড ধরে ২০ ফুট দূরের কিছুর দিকে তাকাবেন। এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এমন কিছু খাবার প্রতিদিনের খাবার মেনু তে রাখবেন।
Macular degeneration. এতে আমাদের দৃষ্টিকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়
Macular degeneration. এতে আমাদের দৃষ্টিকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়
১১। শ্রবণ শক্তির সমস্যাঃ

স্মার্টফোনের খারাপ দিক এর এরেকটি হল শ্রবণ শক্তির সমস্যা। সাধারণত স্মার্টফোনে চ্যাট, ব্রাউজিং এ আপনার কানের অর্থাৎ শ্রবণ শক্তির কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আপনি যদি বেশি পরিমাণে হেডফোন ব্যবহার করেন কথা বলা কিংবা গান শোনার জন্য তবে আপনার সাবধান হওয়ার সময় এসে গেছে।

আমাদের কানের ভেতর খুব ছোট ছোট পাতলা লোমের মত থাকে। যার কাজ হল বিভিন্ন নার্ভ এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে রাসায়নিক সংকেত পাঠানো। হাই ভলিউমের শব্দ এই লোমগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হাই ভলিউম বলতে কেমন শব্দ বোঝানো হচ্ছে এখানে এই প্রশ্ন আসতে পারে।

Dangerous Decibels public health campaign এর মতে ৮৫ ডেসিবেল এর বেশি মাত্রার শব্দই হাই ভলিউম শব্দ যা আমাদের শ্রবণ শক্তির ক্ষতি করতে পারে। স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হেডফোনে সর্বোচ্চ ১০৫ ডেসিবেল মাত্রার ভলিউম থাকে যা কনসার্ট এ উৎপন্ন শব্দের মতই।

৪ মিনিট এর বেশি এই সর্বোচ্চ ভলিউমে কেউ গান শুনলে তা কানের তথা শ্রবণ শক্তির মারাত্নক ক্ষতি করতে পারে। এমন কি কেউ ভলিউম কমিয়ে ৯৪ ডেসিবেল ও যদি করে তবুও টানা ১ ঘন্টার বেশি সেই শব্দ কানের ক্ষতি করতে পারে।

এছাড়াও স্মার্টফোনের খারাপ দিক আছে আরো। অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ ডেকে আনতে পারে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিভিন্ন গাড়ি একসিডেন্ট সহ, পারিবারিক -সামাজিক অশান্তি ডেকে আনতে পারে এর অতিরিক্ত ব্যবহার।

অতিরিক্ত সবকিছুই আসলে কোনো না কোনোভাবে খারাপ কিছুই ডেকে আনে। তাই সাবধান হোন। প্রয়োজনের বেশি, দরকার ছাড়া স্মার্টফোন এর ব্যবহার আস্তে আস্তে কমিয়ে আনুন। সময় থাকতেই স্মার্টফোনের খারাপ দিক সম্পর্কে নিজে সচেতন থাকুন। আশেপাশের সবাইকে ও সচেতন করুন।

জানেন গরমে কোন ফলের জুড়ি মেলাই ভার

শসা শরীরের জন্য খুবই উপকারী

গরমকাল তার স্বমহিমায় এসে গিয়েছে
সঙ্গে এসেছে মরসুমি ফল ও আনাজ
তেমনই একটি মরসুমী আনাজ শসা

গরম কাল এসে গিয়েছে। আমাদের ফ্রিজ থেকে শুরু করে রান্নাঘর ভর্তি হয়ে গিয়েছে এমন সব খাবারে যা শরীরকে সময় ঠান্ডা রাখে। অজস্র ফল এবং সবজি এ সময় পাওয়া যায়, যার মধ্যে জলের ভাগ বেশ অনেকটাই থাকে। ফলে তা গরমে শরীরকে আর্দ্র রাখতে বিশেষ উপযোগী। গরম মানেই শুধুমাত্র আম খাওয়ার দিন নয়। বরং সবুজ কচি শসা ও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। শসাকে বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়। স্যালাড এর মধ্যে, ডিটক্স ওয়াটারের মধ্যে, স্মুদি বানিয়ে বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে রায়তা তৈরি করে যে ভাবে হোক খেতে পারেন। এর মধ্যে ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিন, বি সিক্স, ফোলেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক প্রভৃতি ঠাসা থাকে। শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও শসার জুড়ি নেই। শসা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে দেয়। ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও উপকারী ভূমিকা গ্রহণ করে।

কবে মুক্তি পাবে আমির খানের পরের সিনেমা ‘লাল সিং চাড্ডা', জেনে নিন এখানে

কেন খাবেন শসা

গাঁটের স্বাস্থ্য উন্নত করে

ডি কে পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হিলিং ফুড বইটিতে শসার গুনাগুন আলোচিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে শসার মধ্যে থাকে ইরেপসিন। এই এনজাইমটি প্রোটিনের মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে আত্তীকরনে সাহায্য করে। শসার মধ্যে থাকা অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে।

বাড়িতে হঠাৎ অতিথি সমাগম, ধোকলা বানান দু'মিনিটে

হজম শক্তির জন্য শসা

শসার মধ্যে ৯৬ শতাংশই জল এটা কি জানতেন? শসার মধ্যে জল ও উপকারী উপাদান থাকে। এতটা জলের পরিমাণ থাকার জন্য কোলনের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভালো। কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যাতেও শসা খুবই ভালো কাজ করে। নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখতে এর জুড়ি নেই।

ns2gb0kg

ওজন কমাতে শসা

যারা ওজন কমাতে চান তাদের নিত্যনৈমিত্তিক খাবারের মধ্যে থাকে শসা। এক বার শসা খেলে দীর্ঘক্ষন খিদে পায় না। ফলে ওজন কমাতেও সুবিধা হয়। ১০০ গ্রাম শসার মধ্যে মাত্র ১৫.৫৪ শতাংশ ক্যালোরি থাকে।

এসব কারণেও স্ট্রোক হতে পারে!

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী ফেটে গেলে অথবা বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্ক অক্সিজেনের অভাবে যে পরিণতিতে ভুগে তাকে স্ট্রোক হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্ট্রোকে মস্তিষ্কে ড্যামেজ হতে পারে অথবা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

স্ট্রোকের ক্লাসিক লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গাল বেঁকে যাওয়া, বাহুতে দুর্বলতা বা অসাড়তা ও কথা বলতে সমস্যা। কিন্তু অন্যান্য লক্ষণগুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। ধূমপান, স্থূলতা ও স্ট্রোকের পারিবারিক ইতিহাসের মতো বড় বিষয়গুলো কোনো ব্যক্তির স্ট্রোকের ঝুঁকি উচ্চ করে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় স্ট্রোকে ভোগার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে এমন কিছু বিস্ময়কর বিষয়ও পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনে স্ট্রোকের ৮ বিস্ময়কর রিস্ক ফ্যাক্টর (ঝুঁকির বিষয়) সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* ডায়েট ড্রিংকস
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৮০,০০০ নারীর ওপর চালানো গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় ও স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন যে তারা এ গবেষণা শুধুমাত্র সেসব প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ওপর চালিয়েছেন যাদের ঋতুবন্ধ হয়েছে এবং তারা সুনির্দিষ্টভাবে ডায়েট সোডাকে দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করেননি। কিন্তু তারপরও ডায়েট ড্রিংকসের প্রতি তীব্র আসক্তি থাকলে এ অভ্যাসের মাত্রা কমানো উচিত। ‘আমাদের গবেষণা ও কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সীমিত কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় তেমন ক্ষতিকর না হলেও এ পানীয় উচ্চমাত্রায় পান করলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে’- ইউএস টুডেকে বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ইয়াসমিন মোসাভার-রাহমানি।

* ফ্লু
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পেয়েছেন যে ফ্লু বা ফ্লু’র মতো উপসর্গ আবির্ভাবের কিছু সপ্তাহ পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, দুটি প্রাথমিক গবেষণা অনুসারে। পূর্বের একটি গবেষণায়ও একই যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা- স্কটল্যান্ডে চালিত এ ছোট গবেষণায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ভাইরাসে ভোগা লোকদের এক মাস পর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এ বর্ধিত ঝুঁকির জন্য কিছুটা দায়ী হতে পারে ফ্লু’র সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রদাহ। যদি আপনার ফ্লু হয়ে থাকে, তাহলে হাঁটতে সমস্যা-কথা বলতে সমস্যা-দেখতে সমস্যা-অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য লক্ষণ দেখলে অবহেলা করবেন না। এ প্রসঙ্গে মিশিগানের গ্রান্ড রেপিডসে অবস্থিত হাউয়েনস্টেইন নিউরোসায়েন্স সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ফিলিপ বি. গরিলিক মেডিক্যাল নিউজ টুডেকে বলেন, ‘আপনার ছেঁড়া ধমনী অথবা স্ট্রোকের অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ফ্লু জনিত এ উচ্চ ঝুঁকি এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।

* খুব বেশি পরিশ্রম
ল্যানসেটে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, যেসব লোক প্রতিসপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি যারা স্ট্যান্ডার্ড ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তাদের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এটা সত্য যে বেশি কাজ করা লোকদের স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত ও শরীর চর্চার জন্য যথেষ্ট সময় থাকে না, কিন্তু গবেষকরা উচ্চ রক্তচাপ, শরীর চর্চার ঘাটতি ও উচ্চ কোলেস্টেরলে মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করার পরও তাদের স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকি ছিল। এ বিষয়টি থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, এ বর্ধিত ঝুঁকির কারণ হলো অত্যধিক পরিশ্রম সম্পর্কিত অন্যকিছু। ২০১৩ সালে ডেনমার্কের একটি বড় গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোকদের জীবনে উচ্চমাত্রায় কাজের চাপ ছিল তাদের প্রাণনাশক স্ট্রোকের ঝুঁকি তেমন কাজের চাপ নেই এমন লোকদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি ছিল।

* অবৈধ ড্রাগ
কোকেন বা মিথ্যাম্পিট্যামাইনের মতো উদ্দীপক ও স্ট্রোকের মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে, এমনকি সুস্থ-সবল তরুণদের মধ্যেও। জার্নাল অব ফরেনসিক সায়েন্সে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় ৪৫ বছরের নিচের প্রাপ্তবয়স্কদের ২৭৯টি কেস তদন্ত করা হয় এবং এতে উদঘাটিত হয় যে ২০ শতাংশ ভিক্টিম ছিল মিথাম্পিট্যামাইন অথবা কোকেন ব্যবহারকারী। ৪৫টি মৃত্যুর প্রতিবেদনে বিষের উল্লেখ রয়েছে এবং ৭১ শতাংশ ভিক্টিমের রক্তপ্রবাহে মিথ পাওয়া গেছে। এ সকল মৃত্যু ছিল প্রতিরোধযোগ্য, বলেন প্রধান গবেষণা লেখক ও অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অধ্যাপক শেন ডার্কি। তিনি যোগ করেন, ‘এসব ড্রাগের ব্যবহারকারীরা স্ট্রোকের ঝুঁকির ব্যাপারে সচেতন থাকেন না। সাইকোস্টিমিউল্যান্ট ব্যবহারকারী ও তাদের চিকিৎসকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, অন্যথায় প্রাণঘাতী পরিণতি হতে পারে।’

* শব্দ দূষণ
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন প্রচুর কোলাহলময় পরিবেশে কাজ বা বাস করার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছে। শব্দ দূষণ ও স্ট্রোকের ওপর গবেষণাগুলো ছোট হলেও ফলাফলসমূহ বেশ দুশ্চিন্তার: উদাহরণস্বরূপ- ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যানবাহনের উচ্চমাত্রার শব্দের সঙ্গে সে স্থানে বসবাসকারী লোকদের স্ট্রোকের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক ছিল।

* আলোর ঝলকানি দেখা
কিছু মাইগ্রেন ভুক্তভোগী মাথাব্যথা শুরু হওয়ার পূর্বে আলোর ঝলকানি অথবা ব্লাইন্ড স্পট (কোনো অংশ না দেখা) দেখেন। এ ঘটনাকে বলে মাইগ্রেন উইথ অরা। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, অরা সহকারে মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের ধমনীর প্রতিবন্ধতা জনিত স্ট্রোক বা ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি অরাবিহীন মাইগ্রেন ভুক্তভোগীদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। গবেষণা লেখক ও কলাম্বিয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা স্কুল অব মেডিসিনের নিউরোসার্জন সৌভিক সেন আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনকে বলেন, ‘যদি আপনার অরা সহকারে মাইগ্রেনের ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ একজন বিশেষজ্ঞকে মূল্যায়ন করতে দিন।’

* মাড়ির রক্তক্ষরণ
হার্ভার্ড হার্ট লেটারের প্রতিবেদন বলছে, মাড়ির রোগে ভোগা লোকদের স্ট্রোক বা কার্ডিওভাস্কুলার ঘটনার ঝুঁকি দুই গুণেরও বেশি। যদিও মাড়ির রোগ ও কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির স্বাস্থ্যের মধ্যে প্রকৃত যোগসূত্র ভালোভাবে বোঝা যায়নি, তারপরেও অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন যে মাড়িতে অবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট প্রদাহ উভয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে অবদান রাখতে পারে। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন- ধমনীকে শক্ত করে স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যাওয়া। পেরিয়োডোন্টিস্ট হাতিসে হাস্তুর্ক হার্ভার্ড হার্ট লেটারকে বলেন, ‘পেরিয়োডোন্টাল রোগ শরীরে প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি করে।’ মাড়ির রোগের লক্ষণের মধ্যে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, মাড়ির ফোলা, মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, মাড়িতে ব্যথা, দুর্গন্ধময় শ্বাস, দাঁত পড়ে যাওয়া অথবা মাড়ি রেখায় হলুদের আস্তরণ অন্তর্ভুক্ত।

* মদপানের অভ্যাস
মদপানের অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। সার্কুলেশন নামক জার্নালে প্রকাশিত ২০১৬ সালের একটি গবেষণা রিভিউ অনুসারে, এক রাতে ছয় থেকে নয়টি ককটেল সেবন হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাস্কুলার/রক্তনালির ঘটনার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিমিত মদপানে ঝুঁকি নেই বলা হলেও ২০১৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে যে, মদপানের কোনো নিরাপদ সীমা নেই। হার্ভার্ড টি.এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণা প্রধান এলিজাবেথ মোস্তফস্কি বলেন, ‘অ্যালকোহলের প্রভাবে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটুকু বৃদ্ধি পাবে তা নির্ভর করছে আপনি কতটুকু ও কতবার ড্রিংক করছেন তার ওপর।’

অফিসে বসেই স্বাস্থ্যের উন্নতি করুন এই ৬টি কাজে
স্বাস্থ্য ভালো থাকুক সেটা তো চাই আমরা সবাই। কিন্তু দিনের বেশীরভাগ সময়ই চলে যায় অফিসে বসে। তাহলে স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে কী করে? সপ্তাহে ৫/৬ দিন আট ঘন্টা করে বসে থাকলে বরং স্বাস্থ্যগত সমস্যা হবারই কথা। কিন্তু তাই বলে তো আর চাকরি বাদ দেওয়া যায় না। জেনে নিন অফিসে বসেই স্বাস্থ্যের যত্ন নেবার দারুণ কিছু কৌশল।
১) দাঁড়িয়ে থাকুন কিছুক্ষণ

ইংল্যান্ডের একটি নতুন গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়, প্রতিদিন অফিস চলাকালীন সময়ে কমপক্ষে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে কাটানো উচিৎ। দীর্ঘ সময় জবুথবু হয়ে বসে কাটানোতে শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে। এই কারণে দিনে কমপক্ষে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে অফিস করার চেষ্টা করা ভালো, জানা যায় Huffington Post থেকে। এই কাজটির জন্য আপনি সুযোগ পেলেই হাঁটাহাঁটি করুন। লাঞ্চ টাইমে বাইরে থেকেও হেঁটে আসতে পারেন।
২) স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস বজায় রাখুন

অনেক সময় দেখা যায় আপনি না চাইলেও আপনার কলিগদের কাছে অস্বাস্থ্যকর কোনো স্ন্যাক্স, জাঙ্ক ফুড আছে বলে সেগুলো আপনার পেটে চলে যাচ্ছে। এ কারণে যাদের কাছে অস্বাস্থ্যকর খাবার আছে তাদের থেকে সেদিন একটু দূরে থাকার চেষ্টা করুন। ফল জাতীয় খাবার দিয়ে স্ন্যাকিং করুন। লাঞ্চে রাখুন সকাস্থ্যকর খাবার যা আপনার পেট ভরা রাখবে অনেকক্ষণ। আর পানি পান করুন যথেষ্ট পরিমাণে।
৩) ঘাড়ের ব্যায়াম

অনেকক্ষণ একই অবস্থানে ঘাড় ও কাঁধ শক্ত করে রাখলে দেখা দিতে পারে টেনশন নেক সিনড্রোম (TNS)। অনেকটা সময় কাঁধ ও কানের মাঝে ফোন চেপে রেখে কথা বলা বা টাইপ করার কারণে এই সমস্যাটা হতে পারে। এর জন্য ব্যবহার করুন স্পিকার ফোন বা হেডফোন। একই অবস্থানে বেশিক্ষণ ঘাড় শক্ত করে রাখবেন না।
৪) চোখের যত্ন

চোখ থেকে এক হাত দুরত্বে থাকবে আপনার মনিটর। এ অবস্থানে যদি আপনার দেখতে সমস্যা হয় তাহলে ফন্ট বড় করে নিন।
৫) পরিষ্কার করুন ডেস্ক

আপনার কী-বোর্ড, মাউস এবং ফোনে প্রচুর জীবাণু ছড়িয়ে থাকে। নিয়ম করে মাঝে মাঝে এগুলোকে ডিসইনফেক্ট করা জরুরী, নয়তো আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
৬) টানা কাজ করবেন না

জরুরী কোনো প্রজেক্টে কাজ করার সময় টানা দীর্ঘ অনেকটা সময় আমরা বসে কাটিয়ে দেই একই অবস্থানে। এটা যে আমাদের শরীরের জন্য খারাপ সেটাও আমরা লক্ষ্য করি না। কিন্তু এর বদলে আপনি ছোট ছোট ব্রেক নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং প্রতি ২০ মিনিট পর পর একবার উঠে দাঁড়াতে পারেন। Business Insider এর মতে এই কাজ দুটি আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।


রোজায় কী খেলে সুস্থ থাকবেন

রমজান মাসে টানা ১৪-১৫ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় দিনের বেলা আমাদের শরীর যকৃৎ ও পেশিতে জমানো শর্করা ও ফ্যাট থেকে শক্তি লাভ করে। শরীরে পানি জমা থাকে না। ঘাম ও প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়, পানিশূন্যতা হয় বলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা দেখা দেয়। কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না। এ ছাড়া অ্যাসিডিটি, গ্লুকোজ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয় রোজার মাসে।

ইফতারে আমরা অনেক বেশি খেয়ে ফেলি, ভাজা-পোড়া খাবারই বেশি থাকে। এ জন্য পেট ফাঁপা, বুক-গলা জ্বলা, বমি বমি ভাব হয়। পাকস্থলী ফাঁকা থাকার পর শুরুতেই অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার, তৈলাক্ত ও লবণাক্ত খাবার খেলে অ্যাসিডিটি তো বাড়বেই, সঙ্গে পানির তৃষ্ণা এবং খিদে বাড়িয়ে দেয়। ইফতারের পর থেকে সাহ্রি পর্যন্ত তাই উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, ফল, সবজি, বাদাম এবং পানিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ইফতার
ইফতারে এমন খাবার রাখবেন, যাতে প্রাকৃতিক চিনির জোগান থাকে এবং যা দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
পানীয়: পানি, ফলের শরবত, স্মুথি, দুধ—এগুলো পানীয়ের অন্তর্ভুক্ত। দুধ ও ফল দিয়ে বানানো ড্রিংকস যেমন ব্যানানা শেক, ম্যাঙ্গো শেক প্রাকৃতিকভাবে সুগার ও ক্যালরির ভালো উৎস। অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত বা কৃত্রিম ফলের জুস খাওয়া যাবে না। ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের জুস নিন।
খেজুর: খেজুর শর্করা ও খনিজ যেমন পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং আঁশের অনেক ভালো উৎস। ইফতারে তাই দুটি করে খেজুর রাখুন।
ফল: ইফতারে ফল ডিহাইড্রেশন দূর করে। বিশেষ করে পানিজাতীয় ফল যেমন তরমুজ, আনারস, বাঙ্গি, কমলা, মাল্টা, নাশপাতি খান।
স্যুপ: সবজি ও চিকেন দিয়ে তৈরি স্যুপ রাখা ভালো। মাঝেমধ্যে ছোলা, পিঁয়াজু ও বেগুনির বদলে আমরা স্যুপ রাখতে পারি।
দই: দইয়ে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন ও ভিটামিন ডি থাকে, সহজে খাবার হজম করে। ইফতারে তাই দই, চিড়া-মুড়ি মাখানো
খেতে পারেন। সাহ্রিতে খাওয়ার পরও দই খেতে পারেন।
কাঁচা ছোলা: রান্না ছোলার থেকে কাঁচা ছোলায় পুষ্টিগুণ বেশি। রান্না করলে যে তেল মসলা খাওয়া হতো, সেটা থেকেও বাঁচা যায়। ছোলায় ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও উচ্চ প্রোটিন রয়েছে। শরীরে শক্তির জোগান দিতে এর কোনো বিকল্প নেই।

রাতের খাবার
ইফতারের পর রাতে হালকা খাবার খাওয়াই উত্তম। রাতে লাল আটার রুটি, পাস্তা, ভাত অল্প পরিমাণে খাবেন।
প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিনস, ডাল ও আঁশের চাহিদা পূরণের জন্য সালাদ থাকতে পারে।

সাহরি
সাহরিতে শস্যযুক্ত খাবার রাখতে হবে। যেসব খাবার ধীরে ধীরে হজম হবে ও সারা দিন এনার্জি দেবে। যেমন:
ওটস/কর্নফ্লেক্স: পানি, দুধ বা দই দিয়ে খাওয়া যায়, সঙ্গে ফল, বাদাম।
সবজি ও সালাদ: সাহ্রিতে খাবারের সঙ্গে ভিটামিন, মিনারেলস ও পানীয়ের উৎস হিসেবে সালাদ ও সবজি থাকবে।
মনে রাখবেন, সাহরি আজানের আধা ঘণ্টা আগে শেষ করবেন। সাহরি শেষে তাড়াহুড়া করে বেশি পানি পান করবেন না। ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বর্জন করুন। বিশেষ করে সাহরিতে মিষ্টি খাবেন না, এতে তৃপ্তি হরমোন লেপটিন কমে যায়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়। চা, কফি পানিশূন্যতা বাড়ায়। খেজুর ও সাধারণ পানি দিয়ে রোজা ভাঙা উচিত।

মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী। মারমা জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে। প্রায়শই তাদের আলাদা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মারমা জনসংখ্যা ১,৫৭,৩০১। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে তাদের সংখ্যা আলাদাভাবে দেখানো হয়নি।

মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত। মারমাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, মারমাদের ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা। বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা। বাম থেকে ডান দিকে লেখার রীতি অনুসারী বর্ণমালা উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি হতে উদ্ভুত। মারমারা বিভিন্ন উপগোত্রে বিভক্ত যেমন: খ্যংসাঃচ্গাঃ, কক্দাইংসাঃচ্গাঃ, ওয়ায়ইংসাচ্গাঃ, মারোঃসাচ্গাঃ, কক্ফ্যাসাঃচ্ড়া প্রভৃতি।


নিজস্ব পোশাকে মারমা তরুণী


মারমা জনগণের বাড়িঘর বাঁশ, পাহাড়ি ছন ও ঘাসের তৈরি। এসব বাড়িঘর মূলত বাঁশ দিয়ে উঁচু মাচাং-এর উপর তৈরি করা হয়। বাড়ির প্রত্যেকটি কক্ষই একাধারে শয়নকক্ষ ও গুদামঘর। মাচাং-এর নিচের জায়গাটি গবাদিপশু রাখা, জ্বালানি কাঠ সংরক্ষণ অথবা তাঁত স্থাপনের মতো নানাবিধ কাজে ব্যবহূত হয়। কিছু কিছু বাড়ি মাটির তৈরি এবং মাচাং-বিহীন। ভাত এবং সিদ্ধ করা শাকসবজি মারমাদের প্রধান খাদ্য।

পূর্বে মারমা পুরষেরা ‘দেয়াহ্’ (ধুতি) নামে এক প্রকার তাঁতে তৈরি কাপড় পরতো। তারা এদেয়াহু সাথে বারিস্টা অাঁঙ্গি পরিধান করে। পুরুষের ‘খবং’(পাগড়ি) পরে। মেয়েরা ‘বেদাই আঙগি’ নামক এক ধরনের ব্লাউজ পরেন। মেয়রো যে কাপড় দিয়ে বুক ডাকে তাকে ‘রাংকাই’ বলে। মেয়েরা নিম্নাগ্নে বিশেষ ‘থ্বিং’ বা ‘থামি’ পরিধান করে। স্বামী হলো পরিবার প্রধান, তবে পরিবারে স্ত্রীর ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মারমা সমাজে আত্মীয়তার বন্ধন খুবই শক্তিশালী, এ জাতীয় সম্পর্ক বৈবাহিক এবং রক্ত সম্পর্কীয় উভয় ধরনের হয়। সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রাচীন বার্মার থামোহাডা নামে পরিচিত উত্তরাধিকার নীতি অনুসরণ করা হয়। পুত্র ও কন্যা উভয়েই পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে।

মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী। ধর্মীয় উৎসব হিসেবে তারা ক্ছংলাপ্রে বা বুদ্ধ পূর্ণিমা, ওয়াছো বা আষাঢ়ী পূর্ণিমা এবং ওয়াগোয়াই বা প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করে। প্রবারণা উৎসবের রাতে আকাশে রঙ্গিন ফানুস উড়ানো হয়। রথ যাত্রা হয়। মার্মাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই। এদিন বয়স্করা শীল পালন করে। তরুণ-তরুণীরা মৈত্রী পানি ছিটিয়ে একে অপরের মঙ্গল কামনা করে। পাড়ায় পাড়ায় উৎসবের আমেজে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। বুদ্ধ পূজা করা হয়। করা হয় বয়স্ক পূজাও। বয়স্ক পূজার মধ্য দিয়ে সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিদের সন্মান জানানো হয়।

মারমা জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। জুমচাষ তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রাথমিক কৃষিজ প্রয়াস। অবশ্য এর পাশাপাশি তারা পাহাড়ি অরণ্য থেকে গাছের পাতা, মূল এবং কন্দ সংগ্রহের মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। মারমা জনগণের মধ্যে বসতবাড়ি-সংলগ্ন ভিটায় ক্ষুদ্র আকৃতির বাগানচাষও দেখা যায়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে ঝুড়ি তৈরি, চোলাই মদ তৈরি এবং মজুরি শ্রম। বস্ত্রতৈরি মারমা মেয়েদের মধ্যে একটি খুবই সাধারণ কর্মকান্ড।


মারমাদের প্রদীপ নৃত্য


জাতপোয়ে নামক পালা ও ইয়েনপোয়ে নামক নৃত্য হচ্ছে জনপ্রিয় বিনোদন। মারমা সমাজে জ্ঞানী-গুণীজন এবং গীতিকারেরা ‘বিদ্ গাইট’ (ধর্মীয় শাস্ত্র), ‘বিদাং’ (জ্যোতিষশাস্ত্র) প্রভৃতি হতে মারমাদের কাহিনী সংগ্রহ এবং তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণার আলোকে সমাজের বাস্তব রূপ ও কাহিনী তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সংগীত ও গীতিনাট্য রচনা করেন। মারমা সংগীতের প্রধান প্রধান ধারাগুলি হলো: কাপ্যা, চাগায়াঙ, সাখ্রাঙ, রদু:, লাঙ্গা, সাইঙগ্যাই, লুঙটি প্রভৃতি। যন্ত্রসমূহের মধ্যে সেইং ওয়েইং (বৃত্তাকার বড় আকৃতির কাঠের ঢোল), কিয়ে ওয়েইং (ছোট আকৃতির কাঠের ঢোল), পিলিঈ (বাঁশি) এবং ঝিনে গুরুত্বপূর্ণ। এ সকল যন্ত্রের সাথে বার্মায় ব্যবহূত বাদ্যযন্ত্রের মিল রয়েছে।

মারমা বংশ এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় এ দুটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। ভাই ও বোনকে একই রক্ত সম্পর্কীয় বা পিতৃপরিচয় ধরে গণনা করলেও তাদেরকে আবার বংশগত দিক থেকে পৃথক হিসাবে দেখা হয়। যেমন বংশের ক্ষেত্রে মেয়ে মায়ের বংশ এবং ছেলে সব সময় বাবার বংশ পরিচয় লাভ করে। বিবাহ বিচ্ছেদে নারী এবং পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার রয়েছে, তথাপি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটে কারবারি (গ্রামপ্রধান) অথবা হেডম্যান (মৌজা বা এলাকাপ্রধান)-এর আদালতে।

মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি। মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধান হলেন রাজা। গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা। এর পাশাপাশি তাদের ওপর নিজ নিজ প্রশাসনিক স্তরে বিরোধ নিষ্পত্তি, রায় প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিবিধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক দায়-দায়িত্ব অর্পিত।

শনিবার/রবিবার আঘাত হানতে পারে ফনি।
নিন্মেবর্ণিত জিনিসগুলো সচল ও হাতের কাছে রাখুনঃ

১। ব্যাটারী চালিত টর্চ লাইট
২। মোবাইল ফোন ( চার্জ করা)
৩। মোবাইল ব্যালেন্স
৪। খাওয়ার স্যালাইন
৫। শুকনো খাবার ( মুড়ি, চিড়া, গুড় ইত্যাদী)
৬। বিশুদ্ধ পানি
৭। বৃদ্ধদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা
৮। বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ

বিঃ দ্রঃ বিপদে কোন অবস্থায় অধৈর্য না হয়ে সকলে নিরাপদে মোকাবেলা করুন এবং পাশের লোককে সহায়তা করুন।

আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। (আমিন)

বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হৃদরোগ, কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই হৃদরোগ যেকোনো সময় কেড়ে নেয় জীবন। সারাবিশ্বে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি লোক মৃত্যুবরণ করে। তার বেশির ভাগ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত। একবার হার্ট এটাকে আক্রান্ত হলে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে হার্ট বা হৃদপিণ্ড একটি জরুরী অঙ্গ। হার্টের কর্মক্ষমতার ওপর বেঁচে থাকা, শক্তি, শারীরিক কর্মক্ষমতা, আবেগ অনুভূতি বলতে গেলে জীবনের সবকিছুই নির্ভরশীল। হার্টের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি এবং শক্তি সঞ্চালিত হয়, অক্সিজেন সরবরাহ হয় এবং কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন হয়।

অন্য যেকোনো অঙ্গ অকেজো বা নষ্ট হয়ে গেলে শুধু ওই অঙ্গের কার্যের ব্যাঘাত ঘটে, কার্যক্ষমতা লোপ পায়। কিন্তু হৃদপিণ্ড নষ্ট বা বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ মারা যায়। তাই হার্ট ভালো থাকলে একজন মানুষ ভালো থাকবে, হার্ট কার্যক্ষম থাকলে মানুষটিও শক্তিশালী কার্যক্ষম থাকবে।

আবার হার্ট আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং দুর্বল হয়ে পড়লে মানুষটিও দুর্বল হয়ে পড়বে। আবার এর কার্যক্ষমতা কমে গেলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক কার্যক্ষমতা কমে যায়। এই জরুরী অঙ্গটিকে তাই ঠিক রাখতেই হবে এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করতে হবে। একথাও মনে রাখতে হবে যে, একবার হার্ট আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়ে গেলেও সারা জনম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হবে এবং সাবধানে নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য রোগের চিকিৎসাসহ নিয়মিত চেকআপ করতে হবে।

প্রবাদ আছে, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। তাই এই অঙ্গটিকে ঠিক রাখার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্নভাবে সংক্রামক ব্যাধির উন্নত চিকিৎসা করার ফলে তা কমতে শুরু করেছে এবং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে। অপরদিকে অসংক্রামক ব্যাধি বেড়ে চলেছে, তার মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পারলে হৃদরোগের অনেক আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু পূর্বে হৃদরোগ শনাক্ত করা না গেলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা দেয়ার পূর্বেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। তাই প্রতিরোধটাই সবচেয়ে জরুরী।

হৃদরোগের কারণ

পারিবারিক হৃদরোগ ইতিহাস, ডায়াবেটিস, উচ্চ-রক্তচাপ, অতিরিক্ত ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এবং অলস জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা, অতিরিক্ত মদ্যপান।

হার্ট সুস্থ রাখার উপায়

সুস্থ, স্বাভাবিক ও আনন্দপূর্ণ জীবনের জন্য দরকার একটি সুস্থ হৃদযন্ত্র। কিন্তু এ যন্ত্রটিকে সুস্থ রাখাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক বিশ্বে জীবনযাত্রার নানামুখী পরিবর্তন, কাজের পরিবেশ সব কিছুই যেন প্রতিনিয়ত হৃদযন্ত্রকে প্রতিকূলতার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। তার পরও হৃদযন্ত্র ভাল রাখতেই হবে। আর তাই সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের কোনো বিকল্প নেই। নিম্নে মোটাদাগে হার্ট সুস্থ রাখার ১০ টি টিপস দেওয়া হলো-

* ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস রোগীদের এ্যাথারোস্কে¬রোসিস বেশি হয়। ফলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। তাই রোগীদের অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: জীবন যাত্রায় পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করানো উচিত। যত আগে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তত আগে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

* ধূমপান বর্জন: হৃদযন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু ধূমপান। ধুমপায়ীদের শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনী, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়। ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। তামাক পাতা, জর্র্দা, গুল লাগানো ইত্যাদিও পরিহার করতে হবে।

* অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হ্রাস: যথেষ্ট পরিমাণে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, ফলে অধিক ওজন সম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনী, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

* ভারসাম্যপূর্ণ ওজন: ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো বিপজ্জনক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালো। স্থূলতায় হৃদরোগ থেকে শুরু করে নানা সমস্যা হতে পারে। ফলে ভারসাম্যপূর্ণ ও সঠিক ওজন বজায় রাখতে মনোযোগী হতে হবে।

* নিয়মিত ব্যায়াম: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার জন্য ব্যায়ামের মতো কার্যকর অন্য কোনো পথ নেই। সকাল-সন্ধ্যা হাঁটা চলা, সম্ভব হলে দৌড়ানো, হালকা ব্যায়াম, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার ইত্যাদি। জিমে যেতে হবে এমন নয়। ঘরেই ব্যয়াম করা যায়। তাও না করতে পারলে প্রতিদিন অবশ্যই হাঁটতে হবে।

* অতিরিক্ত লবণ নিয়ন্ত্রণ : খাবার লবণে সোডিয়াম থাকে, যা রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের আয়তন বেড়ে যায় এবং রক্তচাপও বেড়ে যায়, ফলে হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। অনেকেই খাবারের সঙ্গে কাঁচা লবণ খান। এটা অবশ্যই বর্জন করতে হবে। বেশি লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এ থেকে হৃদযন্ত্রে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন : রক্তে উচ্চ চর্বি, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হলে রক্তনালীর দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

কম চর্বি ও কম কোলেষ্টেরল যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন খাশি বা গরুর গোসত, কলিজা, মগজ, গিলা, গুর্দা, কম খেতে হবে। কম তেলে রান্না করা খাবার এবং ননী তোলা দুধ, অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা, ভুট্টার তেল অথবা সূর্য্যমুখীর তেল খাওয়া যাবে।

* মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে : অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে।

নিজের শখের কাজ করা, নিজ ধর্মের চর্চা করা ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক শান্তি বেশি হবে। অতিরিক্ত মানাসিক চাপ স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ঙ্কর। এজন্য খেলাধুলা, আড্ডা, বইপড়া, যোগব্যায়াম ও ধ্যান হতে পারে চাপ মুক্তির উত্তম দাওয়াই। প্রতি রাতে ভাল ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

* মদ্যপান পরিহার : অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করতে হবে। বেশি এ্যালকোহল গ্রহণ মানে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়া। এতে হৃদস্পন্দনেও প্রভাব পড়ে। সুস্বাস্থ্য ও সবল হৃদযন্ত্রের জন্য ধূমপানের মতো মদ্যপানও ছাড়তে হবে।

রাসুল (স) ইরশাদ করেন, ‘পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচলন করবে তাহলেই তোমাদের মধ্যে ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে।’ (সহীহ মুসলিম)

আবার আসিব ফিরে

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রামাণ্যচিত্র/ চলচ্চিত্র সমূহঃ
> Stop Genocide (Zahir Rayhan)
> Liberation Fighters (Alomgir Kabir)
> A State You Born (Zahir Rayhan)
> Innocent Millions (Babul Chowdhury)

২২ অগাস্ট লঞ্চ হবে রিয়েলমি ৩ প্রো। ইতিমধ্যেই এই ফোন লঞ্চের ঘোষণা করে দিয়েছে রিয়েলমি । কোম্পানি জানিয়েছে এই ফোনে দুর্দান্ত গেমিং অভিজ্ঞতার জন্য থাকছে শক্তিশালী প্রসেসার। তবে এই ফোনে ঠিক কোন প্রসেসার ব্যবহার হয়েছে তা জানায়নি চিনের কোম্পানিটি।

সম্প্রতি বেঞ্জমার্কিং ওয়েবসাইটে দেখা গিয়েছে রিয়েলমি ৩ প্রো। গিকবেঞ্চ ওয়েবসাইটে এই ফোনে স্ন্যাপড্রাগন ৭১০ চিপসেট দেখা গিয়েছে। রেডমি নোট ৭ প্রো এর সাথে প্রতিযোগিতায় ভাররে এই ফোন লঞ্চ করছে রিয়েলমি । রেডমি নোট ৭ প্রো তে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৬৭৫ চিপসেট। যার থেকে তুলনামুলক শক্তিশালী চিপসেট থাকছে রিয়েলমি ৩ প্রো তে।
আরও পড়ুন
প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে ভিভোর নতুন ফোন
প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে ভিভোর নতুন ফোন
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯
১৯৯৩ সালেই স্মার্টফোন বানিয়েছিল অ্যাপল!
১৯৯৩ সালেই স্মার্টফোন বানিয়েছিল অ্যাপল!
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯
কোন বৈশিষ্ট্য অপো এফ১১ প্রো -কে মাঝারি দামের অন্য ফোনের থেকে আলাদা
স্বল্প আলোয় আলোকচিত্রে নতুন সূচনা
সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৯

স্ন্যাপড্রাগন ৭১০ চিপসেট ছাড়াও রিয়েলমি ৩ প্রো তে থাকছে ৬জিবি র্যাম আর ৩৯৬০ এমএএইচ ব্যাটারি। রিয়েলমি ৩ প্রো তে থাকবে ৬.৩ ইঞ্চি এফএইচডি+ ডিসপ্লে। এই অ্যান্ড্রয়েড পাই অপারেটিং সিস্টেমের উপরে চলবে কোম্পানির নিজস্ব কালার ওএস ৬.০ স্কিন।

রেডমি নোট ৭ প্রো এর মতোই রিয়েলমি ৩ প্রো এর পিছনে থাকবে একটি ৪৮ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা। ইতিমধ্যেই এই ক্যামেরায় তোলা ছবি ট্যুইটারে শেয়ার করেছেন রিয়েলমি প্রধান মাধব শেঠ।



চমকের পর চমক নিয়ে হাজির হয় দেশের সেরা অনলাইন শপিংমল আজেরডিল। এবার অনলাইন কেনাকাটায় প্রথম বারের মত বছরের সেরা মেগা ফেস্টিভাল টেন-টেন এ অংশ নিয়েছে আজকেরডিল। অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে আজকেরডিলে কেনাকাটার নতুন উৎসব ১০-১০ ফেস্টিভাল হিসেবে চলবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। অনলাইন শপিংমল আজকেরডিলের পাশাপাশি অন্য ৯ প্রতিষ্ঠানও একসাথে উৎসবটিতে অংশ গ্রহণ করছে।

Hi all milimishi friend

আজকের কুইজ (26-Jun-2019)

আজ অংশগ্রহণ করেছেন:3387 জন
প্রশ্নঃ ‘Education-শিক্ষা’ এই বর্ণটির মধ্যে 5 ভাওয়েল রয়েছে, আবার ‘A Quick brown fox jumps over the lazy dog’ বাক্যটির মধ্যে ইংরেজী 26টি অক্ষর রয়েছে। নিচের কোন Word টি ‘ক্ষতিকারক’ এর সঠিক ইংরেজী শব্দ?
(A) Harmful
(B) Harmfully
(C) Damageable