About Shamima Sultana

পর্দা : সতীত্ব রক্ষার শ্রেষ্ঠ উপায়

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ وَ بَنٰتِكَ وَ نِسَآءِ الْمُؤْمِنِیْنَ یُدْنِیْنَ عَلَیْهِنَّ مِنْ جَلَابِیْبِهِنَّ ؕ ذٰلِكَ اَدْنٰۤی اَنْ یُّعْرَفْنَ فَلَا یُؤْذَیْنَ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا

সম্মানিত শ্রোতাবৃন্দ! ইনশাআল্লাহ আজ আপনাদের খেদমতে এ আয়াতের আলোকে পর্দার বিষয়ে সামান্য আলোচনা করব। যাতে পর্দার জরুরি মাসআলাগুলো নারীপুরুষ সকলেরই জানা হয়ে যায়।

নামায-রোযার মত পর্দাও ফরয

নারীদেরকে পর্দার আদেশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমের মাধ্যমে দিয়েছেন। আমি এখন যে আয়াতটি তিলাওয়াত করলাম তার মধ্যেও পর্দার আদেশ রয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি আয়াতে পর্দার আদেশ পরিষ্কারভাবে আছে। আর শরীয়তের মূলনীতি হল, আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কাজের আদেশ দিয়ে দেন, সেই কাজ ফরয হয়ে যায়। নামাযের আদেশ আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে দিয়েছেন তাই মুসলিম নর-নারীর উপর নামায পড়া ফরয। রমযান শরীফের রোযার হুকুম আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে দিয়েছেন। তাই রমযানের রোযা নারী-পুরুষ সকলের উপর ফরয। এমনিভাবে যাকাত ও হজ্বের হুকুমও কুরআনে কারীমে এসেছে। এ কারণে এ চারটি বিধানই ফারায়েযে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত। তো আল্লাহ তাআলা যেহেতু পর্দার আদেশ করেছেন তাই পর্দা করাও ফরয।

পর্দা না করার উপর কঠিন হুঁশিয়ারি

নামায না পড়া, রমযানের রোযা না রাখা, যাকাত ফরয হওয়া সত্তে¡ও আদায় না করা, হজ্ব ফরয হওয়া সত্তে¡ও আদায় না করা যেমন অনেক বড় গুনাহ, তেমনি পর্দা লঙ্ঘন করাও অনেক বড় গুনাহ। এ কারণেই পর্দা না করার উপর হাদীস শরীফে ভয়াবহ শাস্তির হুঁশিয়ারি এসেছে।

পর্দা করতে পারলে শোকরিয়া অন্যথায় ইস্তেগফার

সুতরাং নামায-রোযার মত শরয়ী পর্দাও একজন মুসলিম নারীর জন্য অপরিহার্য। যারা শরয়ী পর্দা করছেন তারা আল্লাহ তাআলার শোকরিয়া আদায় করবেন। কারণ, তারা আল্লাহর একটি হুকুম মানার তাওফীক লাভ করেছেন। আর যে সকল নারী শরয়ী পর্দা করে না তাদের কর্তব্য, শরয়ী পর্দায় এসে যাওয়া এবং একে অবশ্য-কর্তব্য মনে করা। এক্ষেত্রে যে ত্রুটি হচ্ছে, একে ত্রুটি মনে করা এবং নিজেকে গুনাহগার মনে করা। আর আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করা, হে আল্লাহ! আমি আমার ভুল স্বীকার করছি এবং আপনার এ বিধান যথার্থ ও অবশ্য-পালনীয় বলে বিশ্বাস করছি। আপনি আমাকে সৎসাহস দান করুন, যাতে আমি এই বিধান মেনে চলতে পারি।

গুনাহগারের মাঝে পার্থক্য

দেখুন, সব গুনাহগার এক প্রকারের নয়। এক প্রকারের লোক গুনাহ করে কিন্তু গুনাহকে গুনাহ মনে করে, নিজের ভুল স্বীকার করে এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে মাফ চেয়ে বলে, আল্লাহ! আমাকে এই গুনাহ থেকে বাঁচার হিম্মত ও তাওফীক দান করুন। আরেক প্রকারের লোক যে গুনাহ করে কিন্তু গুনাহকে গুনাহ মনে করে না; বরং বলে যে, এটা শরীয়তের বিধান নয়। এটা তো হুযুরদের বিধান, হুযুররা বানিয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। এই দুই লোকের মাঝে আসমান-যমীনের ব্যবধান। দ্বিতীয় ব্যক্তি শরীয়তের বিধান মানতে ও তার উপর আমল করতে অস্বীকার করছে এবং এ বিধানকে মনগড়া বলছে। এ লোকের তো ঈমানই যাওয়ার পথে। আর প্রথম ব্যক্তি যে গুনাহ স্বীকারকারী অপরাধী তার তো কমপক্ষে ঈমান ঠিক আছে। আর যেহেতু সে গুনাহের কথা স্বীকার করছে তো ইনশাআল্লাহ একদিন তার গুনাহ থেকে সাচ্চা তওবা করারও তাওফীক হয়ে যাবে।

এটা ভয়াবহ কথা

পর্দার বিষয়টিও এরকম। কিছু লোক তো এমন যারা কুরআনে কারীম ও হাদীস শরীফ মানে না। অথবা বিধান তো মানে কিন্তু স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে, আজকের যুগে এটার উপর আমল করা অসম্ভব। এরপর বিভিন্ন ধরনের অজুহাত খাড়া করে। এটা অত্যন্ত ভয়াবহ প্রবণতা। এ থেকে সকল মুসলিম নারী- পুরুষের বেঁচে থাকা চাই।

পর্দাকে মেনে নিন এবং তাওবা করুন

হাঁ, যদি নিজের দুর্বলতা কিংবা পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে কোনো নারী শরয়ী পর্দা মেনে চলতে না পারে এবং তার জন্য একেবারে পুরোপুরি শরয়ী পর্দার উপর আমল করা কঠিন হয়ে যায়, তখন তার কর্তব্য, এ বিধানকে মনে প্রাণে মেনে নেওয়া এবং স্বীকার করা যে, হে আল্লাহ! নিঃসন্দেহে এটা আপনার আদেশ। আর আপনার আদেশ আমি শিরোধার্য করছি। কিন্তু আমি অপরাধী, গুনাহগার। হে আল্লাহ, এ মুহূর্তে এ বিধানের উপর আমল করা আমার জন্য কঠিন হচ্ছে, কিন্তু আমি অঙ্গীকার করছি, আমি এ বিধান মেনে চলব এবং মেনে চলার জন্য পুরোপুরি চেষ্টা করব। হে আল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন! আমার মনে সাহস দিন, আমার ঈমানকে শক্তিশালী করে দিন, যাতে আমি এ হুকুম পুরোপুরি মানতে পারি। অতপর যতদিন এ গুনাহ পুরোপুরি ছাড়তে পারছে না ততদিন বারবার তাওবা করতে থাকবে এবং ছাড়ার চেষ্টায় থাকবে। আর প্রতিজ্ঞা করতে থাকবে যে, ইনশাআল্লাহ, আমি আমার পরিবেশকে পরিবর্তন করব এবং এ বিধানের উপর পুরোপুরি আমল করব।

ঘরের গাইরে মাহরামের সাথে পর্দা করার নিয়ম

কুরআন-হাদীসের আলোকে মুসলিম নারীদের জন্য মূল বিধান হল নিজের ঘরেই অবস্থান করা। তার ঘরে থাকাটাই পর্দার একটি প্রকার। তাই যথাসম্ভব মুসলিম নারীরা ঘরে থাকবেন এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না।

এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, ঘরে যেসকল গাইরে মাহরাম (মাহরাম নয় এমন) পুরুষ থাকে তাদের সাথেও পর্দা করতে হবে। যেমন দেবর, ভাসুর ইত্যাদি। এমনিভাবে যে সকল গাইরে মাহরাম পুরুষ ঘরে আসা যাওয়া করে যেমন স্বামীর চাচা, জ্যাঠা, মামা, তাদের সাথেও পর্দা করতে হবে। এই আত্মীয়দের সাথে পর্দা করার পদ্ধতি হল, নিজ কামরা থেকে বের হওয়ার সময় যদি মনে হয় কামরার বাইরে গাইরে মাহরাম কেউ আছে তখন কারো মাধ্যমে বা কোনো সংকেত ব্যবহার করে তাদেরকে সরতে অনুরোধ করবে। তা যদি সম্ভব না হয় আর তাৎক্ষণিক বের হওয়া জরুরি হয় তাহলে বড় ওড়না বা চাদর দিয়ে মাথার চুল, ঘাড়, উভয় হাতের বাহু আবৃত করে নিবে। চেহারার উপরও নেকাব ফেলে নিবে। এভাবে জরুরতের সময় নিজ কামরা থেকে বের হওয়া যাবে।

বহিরাগত আত্মীয়দের সাথে পর্দার নিয়ম

কিছু গাইরে মাহরাম এমন আছে, যারা ঘরের লোক না হলেও আত্মীয়তার কারণে ঘরে আসা যাওয়া করে। যেমন স্বামী বা স্ত্রীর চাচাতো ভাই, জ্যাঠাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, মামাতো ভাই, খালাতো ভাই ইত্যাদি। এদেরকে ‘আত্মীয়ের ভাই’ বলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের সাথে বিশেষ পর্দা মেনে চলা হয় না। অথচ এদের সাথেও পর্দা করা ফরয। এদের সাথে পর্দা রক্ষার উপায় এই যে, ঘরের কর্তাব্যক্তিরা সকলে একবার বসে স্থির করবে যে, এখন থেকে ইনশাআল্লাহ আমাদের ঘরে পর্দা পালিত হবে। সুতরাং গাইরে মাহরাম আত্মীয়-স্বজন যারা আছে, যারা ঘরে আসা যাওয়া করে, সামনে থেকে তারা যখন আসবে তাদেরকে বৈঠকখানায় বসানো হবে। যারা এখন সোজা ঘরের ভিতরে চলে যায় তাদেরকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে যেন সামনে থেকে তারাও পর্দা রক্ষায় সচেতন হয়।

পুরুষদের পুরুষের কামরাতেই বসানো হবে

কোনো গাইরে মাহরাম পুরুষ ঘরে এলে, তিনি আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়, তিনি পুরুষের সাথেই সাক্ষাৎ করবেন। ঘরের গাইরে মাহরাম মহিলাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন না। হাঁ, যদি মাহরাম হয়ে থাকেন তাহলে তার মাহরাম মহিলাদের সাথেও সাক্ষাৎ করতে মানা নেই। তো এভাবে একবার সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলে মহিলাদের জন্য গাইরে মাহরাম পুরুষদের সাথে পর্দা করা সহজ হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর গাইরে মাহরাম আত্মীয়-স্বজন, স্বামীর গাইরে মাহরাম আত্মীয় স্বজন, যেমন স্বামীর চাচা, জ্যাঠা, খালু, ফুফা, মামা অথবা স্ত্রীর খালু-ফুফা খালাতো ভাই, জ্যাঠাতো ভাই, চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই প্রমুখ বেড়াতে এলে এদের সাথে শুধু ঘরের পুরুষরাই সাক্ষাত করবে এবং তাদেরকে পুরষদের কামরাতেই বসানো হবে। ঘরের মহিলাদের তাদের সাথে জরুরতবশত কথা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলবে। অথবা ফোনে বা ইন্টারকমে কথা বলবে।

তুমিই যদি না চাও তবে বাহানা হাজার হাজার

এই পদ্ধতি কিছু দিন একটু আশ্চর্যের মনে হবে। কিন্তু ভিতরে আপনার কাছেও স্বস্তিকর মনে হবে। মহিলারাও এতে শান্তি ও তৃপ্তি পাবে। সবচে’ বড় কথা হল, শরয়ী পর্দা পালিত হবে এবং বেপর্দার গুনাহ থেকে নারী-পুরুষ সকলেই রক্ষা পাবে। তাই এ জন্য নারীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে আর পুরুষদেরও তাদের সাহায্য করতে হবে। এভাবে পরস্পরের মাঝে সবকিছু সিদ্ধান্ত হয়ে জানাজানি হয়ে গেলে এরপর আর কোনো অসুবিধা থাকবে না। কিন্তু যদি নারী-পুরুষরা এ কাজের জন্য তৈরী না হয় তাহলে সারা জীবন পর্দালঙ্ঘনের গুনাহ হতে থাকবে।

تو ہی اگر نہ چاہے تو بہانہ ہزار ہیں

اے خواجہ درد نیست ورنہ طبیب ہست

‘তুমিই যদি না চাও তাহলে বাহানা তো হাজার হাজার, হে খাজা, ব্যথাই তো নেই, নতুবা চিকিৎসক তো প্রস্তুত’।

এখন যেহেতু গুনাহের অনুভ‚তি নেই এবং ঐ গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা ও ফিকির নেই একারণে বাঁচাটা কঠিন মনে হয়। নতুবা গুনাহ থেকে বাঁচার সহজ উপায় তো আছে।  (চলবে ইনশাআল্লাহ)

অর্থনীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার, ঋণখেলাপিদের জন্য আরও বড় ছাড়

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার, ঋণখেলাপিদের জন্য আরও বড় ছাড়
প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের জন্য আরও বড় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্দমানে খেলাপি হওয়া ঋণ মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট নিয়ে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ। এমনকি পুনঃতফসিলের আগে সুদ মওকুফ সুবিধা দেওয়া যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০ এপ্রিল পাঠানো খসড়া পরিপত্রের আলোকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে। একই দিন আলাদা একটি নির্দেশনার মাধ্যমে ভালো গ্রাহকদেরও সুবিধা দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিশেষ এ নীতিমালার আওতায় ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকৃত ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ব্যবসা বা ট্রেডিং খাতের গম, খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্যতেল ও রিফাইনারি, জাহাজশিল্প এবং লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কোনো বিশেষ নিরীক্ষা লাগবে না। বিশেষায়িত ব্যাংকের অকৃষি খাতের আমদানি-রফতানিতে সম্পৃক্ত শিল্পঋণও সরাসরি পুনঃতফসিল করা যাবে। তবে এসব খাতের বাইরে অন্য ক্ষেত্রে পুনঃতফসিলের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ নিরীক্ষা করে এমন গ্রাহককে সুবিধা দিতে হবে যিনি প্রকৃত ব্যবসায়ী, যাদের ঋণ নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে মন্দমানে শ্রেণীকৃত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে অবলোপনের বাইরে শ্রেণীকৃত ঋণ রয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দমানে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা ৩৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকার ঋণও মন্দমানের খেলাপি। এর মানে এ সার্কুলারের আওতায় এক লাখ ১৮ হাজার ৫৬২ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবে ব্যাংকগুলো। যদিও সুবিধা নিয়ে ঋণ আদায় কতটা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে নানান ছাড় দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা হলেও খেলাপি ঋণ কমানো যায়নি। বরং সুবিধা নিয়ে ঋণখেলাপিরা কিছুদিন খেলাপি থেকে বিরত থাকার সুযোগ নিয়েছেন মাত্র। এর আগে সুদহার কমিয়ে, ডাউনপেমেন্ট ও মেয়াদের শর্ত শিথিলসহ নানা সুবিধা দিয়ে ২০১৫ সালে ১১টি গ্রুপের ১৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকার বড় ঋণ পুনর্গঠন করা হয়। তবে দু'একটি গ্রুপ ছাড়া অধিকাংশই টাকা ফেরত দেয়নি। আর ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে বিশেষ বিবেচনায় ডাউনপেমেন্ট ও মেয়াদের শর্ত শিথিল করে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতফসিল করা ঋণের বেশিরভাগই নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আবার খেলাপি হয়েছে। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে ঋণখেলাপিদের জন্য কঠোর না হয়ে আরও বড় ছাড় দেওয়া নিয়ে অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে।

নানা সমালোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশনার শুরুতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ নিয়মিতভাবে পরিশোধ হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ঋণ বিরূপমানে শ্রেণীকৃত হওয়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতসহ অন্যান্য খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ বজায় রাখাসহ বিরূপমানের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে এসব সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ নীতিমালায় ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পাওয়ার জন্য সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে গ্রাহককে ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। ব্যাংকগুলো ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনারোপিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ এবং ব্যাংকের স্থগিত খাতে রক্ষিত সুদের পুরোটা মওকুফ করতে পারবে। তবে কোনো ক্ষেত্রে সুদহার ৯ শতাংশের বেশি হবে না। মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে এ ঋণ আদায় করা যাবে। প্রচলিত নিয়মে আসল এবং সুদ বিবেচনায় নিয়ে কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। ঋণঃতফসিলের ক্ষেত্রে নগদে ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট নিতে হবে। কোনো ঋণের ৯টি মাসিক কিস্তির মধ্যে ৬টি এবং ৩টি ত্রৈমাসিক কিস্তির ২টি অনাদায়ী হলে এ সুবিধা বাতিল হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক থেকে পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সোলেনামার (ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে সমঝোতা) মাধ্যমে চলমান মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে কোনো গ্রাহক শর্ত ভঙ্গ করলে স্থগিত মামলা পুনরুজ্জীবিত হবে। এ সুবিধার আওতায় পুনঃতফসিল সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিকে নতুন ঋণসুবিধা দেওয়া যাবে। নতুনভাবে দেওয়া ঋণ যথানিয়মে পরিশোধে ব্যর্থ হলে এ সার্কুলারের আওতায় দেওয়া সব সুবিধা বাতিল হবে।

এককালীন এক্সিট: কেউ চাইলে মন্দমানে শ্রেণীকৃত ঋণ ৩৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবেন, যা এককালীন এক্সিট সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহক সুদহারের ক্ষেত্রে আরও সুবিধা পাবেন। এ ধরনের গ্রাহকের সুদ মওকুফ সুবিধার অবশিষ্ট অংশের ওপর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। এক্ষেত্রেও সোলেনামার ভিত্তিতে ৯০ দিনের মধ্যে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। পরবর্তী সময়ে কোনো গ্রাহক শর্ত ভঙ্গ করলে সুবিধা বাতিল হয়ে মামলা পুনরুজ্জীবিত হবে। ঋণগ্রহীতার আবেদন পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে এক্ষেত্রে ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নির্দেশনার শেষাংশে বলা হয়েছে, বিশেষ সুবিধায় পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সুবিধা নেওয়া উভয় ঋণ শ্রেণীকরণের প্রথম পর্যায় তথা এসএমএ মানে শ্রেণীকৃত বিবেচনা করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে ১ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হবে। পুনঃতফসিল পাওয়া ঋণ কেন্দ্রীয় ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) 'স্পেশাল আরএসডিএল' এবং এক্সিট সুবিধার ঋণ 'স্পেশাল এক্সিট' হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে। এ সুবিধার আওতায় সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ প্রকৃত আদায় ছাড়া আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। এসব ঋণ ব্যাংকগুলোর ঋণ শ্রেণীকরণ বিবরণীতেও শ্রেণীকৃত ঋণ হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

ভালো গ্রাহকদেরও সুবিধা: খেলাপি গ্রাহকদের পাশাপাশি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করা গ্রাহকদেরও সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ভালো ঋণগ্রহীতা চিহ্নিত করে তাদের সুদ ফেরত দেওয়ার (রিবেট) মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয। তবে ভালো ঋণগ্রহীতারা ব্যাংক থেকে সঠিকভাবে এ সুবিধা পাচ্ছেন না। যে কারণে নতুন করে এ নির্দেশনা দেওয়া হলো। কোনো গ্রাহকের ঋণহিসাব ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট বছরের সেপ্টেম্বর মাস ও তার আগে এক বছর অশ্রেণীকৃত থাকলে এবং মঞ্জুরিপত্র অথবা নবায়নপত্রের শর্তানুসারে ওই গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাস শেষে ভালো গ্রাহক চিহ্নিত করতে হবে। এ ধরনের গ্রাহকের ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত সুদ বা মুনাফার কমপক্ষে ১০ শতাংশ রিবেট বা ফেরত দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হলে একই রকম সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতা থেকে প্রত্যয়ন নিতে হবে যে, তার নিজ নামে বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গত ১২ মাসে বিরূপমানে শ্রেণীকৃত কোনো ঋণ ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী ভালো গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রতি বছর ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ সনদ দিতে হবে। ব্যাংকের সেরা ১০ জন ভালো ঋণগ্রহীতার ছবিসহ তাদের ব্যবসা সফলতার সংক্ষিপ্ত চিত্র ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত গ্রাহকদের ছবি, প্রোফাইল ইত্যাদির সমন্বয়ে ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ বুকলেট বা ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালো ঋণগ্রহীতাদের স্বীকৃতি পুরস্কার দিতে হবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিপ্লব এনেছে স্মার্টফোন অ্যাপ

রোদ, বৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্ঝাটের পূর্বাভাস পেতে আগে রেডিও-টেলিভিশনের ওপর নির্ভর করতে হতো৷ আর আজ স্মার্টফোন অ্যাপ স্থানকাল নির্বিশেষে নির্ভরযোগ্য তথ্য হাতের মুঠোয় এনে দিচ্ছে৷

মানুষের জীবনে আবহাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ বিশ্বে সব কিছুর ওপরেই আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে৷ ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়৷ আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছাড়া ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়৷

যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেতে আজকাল স্মার্টফোনের অ্যাপই যথেষ্ট৷

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, দেশটির বন শহরের এক কোম্পানি আবহাওয়া ও রাডার অ্যাপ সৃষ্টি করে৷ এমন অ্যাপ কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়, তার একটা ধারণা পাওয়া গেল৷

আবহাওয়াবিদ বিয়র্ন বায়ার এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা কোনো ওয়েদার স্টেশন চালাই না৷ তার বদলে আমরা বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করি, যা আগে থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে৷ সেই পরিমাণ তথ্য সামলানোই আসল চ্যালেঞ্জ৷’

অনেক বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে নিখুঁত ফলাফল পাওয়াই ডেটা প্রসেসিং প্রক্রিয়ার আসল গুরুত্ব৷ বিয়র্ন বায়ার আরও বলেন, ‘শুধু তথ্য ব্যবহার করলে বিষয়টা এমন হতো না৷ সেগুলি একত্র করে তার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে হয়৷ এই কোম্পানিতে এত আবহাওয়াবিদ, পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞের মতো বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি কঠিন৷ তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তো আছেনই৷ সেইসঙ্গে আমরা সমান্তরাল কম্পিউটিং ও মেশিন লার্নিং-ও কাজে লাগাই৷'

কিছু পেশার ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অত্যন্ত জরুরি৷ কাজের পরিকল্পনা থেকে প্রয়োগ পর্যন্ত তার বিশাল গুরুত্ব রয়েছে৷ আবহাওয়ার পূর্বাভাসের অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসা আরও উন্নত হয়ে উঠতে পারে৷ কৃষিভিত্তিক শিল্প তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত৷

অ্যাপ ম্যানেজার অংশুল আগরওয়াল মনে করেন, ‘অ্যাপ আপনাকে ১৪ দিনের পূর্বাভাস দেয়৷ আপনি বাতাস, রোদ ও বৃষ্টি সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন৷ গ্রীষ্মকালে কোন এলাকায় খরা ও শীতকালে কোথায় শৈত্যপ্রবাহ বইবে, সে সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন৷ ফলে সাধারণ মানুষও এই অ্যাপের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে পরিকল্পনা করতে পারেন৷ পরের ১৪ দিনের আবহাওয়া সম্পর্কে তাদের কাছে একটা চিত্র থাকবে৷'

তা ছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়েরও পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব বলে জানালেন অংশুল আগরওয়াল৷ তার মতে, ‘বায়ু দূষণ সম্পর্কেও তথ্য পেতে পারেন৷ উপকূলীয় এলাকায় আপনি পানির তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি সম্পর্কেও জানতে পারেন৷ অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে এই অ্যাপ চলে৷ হিন্দি ও ইংরেজি দুই ভাষায়ই সেটি চলে৷

আবহাওয়ার পূর্বাভাসের অ্যাপগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য এগুলি জীবনযাত্রার অঙ্গ হয়ে উঠেছে৷ প্রযুক্তির কল্যাণে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জীবনযাত্রা অনেক সহজ করে তুলেছে৷ যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়, নানা চাহিদা মেটাতে তার নাগাল পাওয়া যায়৷

৩টি সহজ কৌশলে সুস্থ থাকবে আপনার লিভার

মানুষের শরীরের অন্যতম একটি অঙ্গ যকৃৎ বা লিভার। সাধারণত আমাদের শরীরে যত ক্ষতিকারক টক্সিন জমে, তা ছেঁকে শরীর থেকে বের করে দেয়। আর এই লিভার যদি স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায় তাহলে শরীরে জমে যাওয়া টক্সিন শরীরেই থেকে যাবে।

১৯ এপ্রিল সারা পৃথিবীতেই বিশ্ব যকৃত দিবস (World Liver Day) হিসাবে পালন করা হয়। এই দিনে লিভার (Liver) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লিভারের স্বাস্থ্যকে বজায় রাখে এমন একটি জীবনধারা অনুসরণ করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হয়। কেননা শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একে একে বিকল হতে শুরু করবে। তাই লিভার সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরী।

আসুন জেনে নেওয়া যাক অব্যর্থ কয়েকটি ঘরোয়া টোটকা যা যকৃৎ বা লিভার সুস্থ রাখতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাহলো-

খালি পেটে কাঁচা রসুন: রসুনে রয়েছে সালফারের উপাদান যা লিভারের এনজাইমের কার্যকারীতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও রসুনে রয়েছে অ্যালিসিন ও সেলেনিয়াম যা লিভার পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি তার সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই প্রতিদিন অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খেতে পারলেও ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

পানি পান : যকৃৎ বা লিভার সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। দিনে অন্তত ৭-৮ গ্লাস (২.৫ লিটার থেকে ৩ লিটার) পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন। আমাদের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশই হল পানি। এই পানি শরীরের টক্সিন লিভারের মাধ্যমে ছেঁকে বের করতে সাহায্য করে। শরীরে যখনই পানির অভাব হবে, তখনই লিভারে ও শরীরে টক্সিন জমতে থাকে যা শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরও মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত: অন্যান্য খাবারের তুলনায় উষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারলে তা যকৃৎ বা লিভারে অনেক বেশি উৎসেচক (এনজাইম) উৎপাদনে সহায়তা করে। এ ছাড়াও ভিটামিন সি ‘গ্লুটেথিয়ন’ নামের যে এনজাইম উৎপন্ন করে, তা লিভারের ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করে লিভার সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাই অন্যান্য পানীয়র চেয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস উষ্ণ পানির সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারলে লিভার সুস্থ থাকবে, একই সঙ্গে বাড়বে তার কর্মক্ষমতাও।

এছাড়া আপনার যকৃতের যত্ন নেওয়ার আরও সহজ কিছু টিপস হল:

কফি খান: কফি লিভারের রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। এর পিছনের কারণ এখনও যদিও অস্পষ্টই। সুস্থ লিভারের জন্য কফি খান, তবে ক্যাফিনের কু প্রভাবগুলি প্রতিরোধ করতে অতিরিক্ত কফি একেবারেই না।

অ্যালকোহল এড়ান: অ্যালকোহল আপনার যকৃতের কতখানি ক্ষতি করতে পারে তা আপনার ধারণাতীত। যদি আপনি নিয়মিত মদ্যপান করেন তবে আপনার ফ্যাটি লিভার রোগ এবং লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি রয়েছে। অ্যালকোহল লিভারের কোষগুলির ক্ষতি করে যাতে লিভারে ঘা বা জ্বালা হয় এবং অবশেষে যকৃতের সিরোসিস রোগ হয়। আপনার শরীরের জন্য অ্যালকোহল কতটা পরিমাণ নিরাপদ তা জানুন।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: সুস্থ খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা সুস্থ যকৃতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও স্বাস্থ্যকর লিভার বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি ফ্যাটি লিভার রোগ প্রতিরোধ করারও একটি কার্যকরি উপায়।

বিষাক্ত বস্তু বা টক্সিন এড়িয়ে চলুন: ক্ষতিকারক বা বিষাক্ত যে কোনও টক্সিনের সংস্পর্শে শ্বাস নেবেন না। Aerosols বা কীটনাশকের মতো কিছু রাসায়নিক পণ্য রয়েছে যা আপনার লিভারের ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও, লিভারের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে ধূমপান এড়ান।

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ এড়িয়ে চলুন: কিছু ওষুধ রয়েছে যা আপনার যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পেনকিলার আপনার যকৃতের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকারক এবং শুধুমাত্র চরম পরিস্থিতিতেই পেনকিলারের শরণাপন্ন হন। কিছু ওষুধ আপনার লিভারের ক্ষতি করতে পারে যদি সেগুলি খাওয়ার করার আগে বা পরে আপনি অ্যালকোহল পান করেন। কিছু ওষুধ আবার অন্য ওষুধের সাথে মিশে গেলে যকৃতের ক্ষতি করে। ডাক্তারের নির্ধারিত ওষুধ, তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করেই খাবেন।

প্লাস্টিকের বোতলে থাকা নম্বরের অর্থ জেনে নিন

দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্র ব্যবহারে আমরা সকলেই অভ্যস্ত। পানির বোতল, সফট ড্রিংকের বোতল, টিফিন বাক্স, আইসক্রিম বাক্স, সিরাপ জাতীয় ওষুধের বোতল, জগ, মগ, পেয়ালাসহ প্রভৃতি কিছু প্লাস্টিকের হয়ে থাকে।

অর্থাৎ প্লাস্টিকের পাত্র প্রতিনিয়ত আমাদের কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করা লাগেই। কিন্তু কখনো কী খেয়াল করেছেন, প্লাস্টিকের পাত্রে লেখা থাকা বিভিন্ন লেখাগুলোকে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রের তলায় কিংবা নিচের দিকে থাকা ত্রিভুজ চিহ্নটিকে?

প্রতিটি প্লাস্টিকের পাত্রের তলায় কিংবা নিচের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন, ত্রিভুজ চিহ্নটির ভেতরে বিভিন্ন নম্বর লেখা রয়েছে।

এই নম্বরগুলো আসলে ওই প্লাস্টিকের মান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ প্লাস্টিকের পাত্রটি কতখানি নিরাপদ বা অনিরাপদ, তা ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে থাকা নম্বরটির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সুতরাং জেনে নিন, প্লাস্টিক পণ্যে থাকা ত্রিভুজ চিহ্নটির মধ্যে থাকা কোন নম্বর কী অর্থ প্রকাশ করে।

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে ‘১’ নম্বর লেখা দেখলে বুঝবেন, প্লাস্টিক পাত্রটি পলিথিলিন টেরেফথালেট (পেট) দিয়ে নির্মিত। বোতলবন্দি পানি এবং সফট ড্রিংকের বোতল এটা দিয়েই তৈরি। একবার ব্যবহারের জন্য এসব প্লাস্টিকের বোতল নিরাপদ। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। তাই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই এসব বোতল ব্যবহার করুন। এবং গরম স্থানে এসব বোতল রাখবেন না। এসব বোতলের গায়ে দেখবেন লেখা রয়েছে, ব্যবহারের পর তা ধ্বংস করে ফেলার জন্য।

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে ‘২’ নম্বর দেওয়া থাকলে বুঝবেন, এটি উচ্চ ঘনত্বের পলিথিন দিয়ে তৈরি। শ্যাম্পুর বোতল এবং ডিজারজেন্ট ঘরানার প্যাকেট তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে ‘৩’ নম্বর লেখা দেখতে বুঝবেন, এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহার না করার জন্য এটি একটি সতর্কতাসংকেত। কারণ ‘৩’ নম্বর লেখা প্লাস্টিকগুলো পলিভিনাইল ক্লোরাইড বা পিভিসি দিয়ে তৈরি, যা থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কয়েক ধরনের খাবারের আইটেমের পাত্র এ ধরনের প্লাস্টিকের অন্তর্ভুক্ত। যেমন, চিনাবাদাম, মাখনের বয়াম প্রভৃতি। এ ধরনের প্লাস্টিকের পাত্রে কোনো গরম খাবার রাখবেন না।

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে যদি ‘৪’ নম্বর লেখা দেখেন, তাহলে বুঝবেন এই প্লাস্টিকটি রিইউজেবল বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য। শপিংয়ের সময় যে প্লাস্টিকের ব্যাগ দেওয়া হয় তা এ ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি।

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে যদি ‘৫’ নম্বর লেখা দেখেন, তাহলে বুঝবেন এই প্লাস্টিকের পাত্র ক্ষতিকারক নয়। সম্পূর্ণ নিরাপদ। আইসক্রিম বক্স, সিরাপ বোতল অর্থাৎ এ ধরনের বিভিন্ন খাবার ও ওষুধ রাখা হয় এ ধরনের প্লাস্টিকে।

ত্রিভুজ চিহ্নের মধ্যে যদি ‘৬’ কিংবা ‘৭’ নম্বর দেখেন তাহলে বুঝবেন এই প্লাস্টিক পণ্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ ধরনের প্লাস্টিক পণ্য পলিস্টেরিন কিংবা পলিকার্বোনেট বাইস্ফেনল-এ (বিপিএ) দিয়ে তৈরি। যা মানবদেহের ক্ষতিসাধন করে। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার এবং হৃদরোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। সাধারণত প্লাস্টিকের চামচ, প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ ইত্যাদি পণ্য তৈরি হয় এ ধরনের প্লাস্টিকে।

যে খাবারগুলো কখনও একসঙ্গে মিলিয়ে খাবেন না!
**********************************************
খাবার দেখলে অনেকেই আর চোখের খিদে আটকে রাখতে পারেন না। চোখের সামনে যখন চিপস-বার্গার যাই পাওয়া যায় তাই পেটে চালান করেন। কিন্তু জানেন কি এই যা পাব তাই খাব এই ধরণের খাওয়া কতটা ভয়ানক? বেশ কিছু খাবার আছে যেগুলে একেবারেই একসঙ্গে খাওয়া উতিত নয়। দেখে নিন কোনগুলি।

ডিম ও বেকন
ব্রেকফাস্ট প্ল্যাটারে ডিম ও বেকন একসঙ্গে থাকে এবং আমরা তাই খাই। কিন্তু এটা খাওয়া উচিত নয়। কারণ দুটো খাবারই শক্তির উৎস। আর এই দুই খাবার থেকে যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা খুব তাড়াতাড়ি আবার স্তিমিত হয়ে য়ায়। আলস্য আসে।

বার্গার ও ফ্রায়েজ
যে কোনও দোকানেই বার্গারের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দেওয়া হয়। আমরাও মজা করে খাই। কিন্তু এই ফ্রাই আর বার্গার একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। এতে রক্তে বেশি সুগার তৈরি হয়। ফলে খেলেই ক্লান্তি আসে।


কর্নফ্লেক্স আর জুস
কায়দা করে দুধ কর্নফ্লেক্স আর অরেঞ্জ জুসে ব্রেকফাস্ট সারেন? আজই বন্ধ করুন। এই ব্রেকফাস্টে অ্যাসিড হতে বাধ্য। কারণ এই খাবার এনজাইম ভেঙে দেয়। দরকারি কার্বোহাইড্রেটকেও ভেঙে দেয়।

পিৎজা ও সোডা
পিৎজা অর্ডার করলেই একসঙ্গে সোডা বা কোলাও অর্ডার করেন তো? ভুলেও আর করবেন না। কারণ এই দুই খাবার পাকস্থলি একসঙ্গে নিতে পারে না। ফলে হজমের সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও এনার্জি কমিয়ে দেয়।

দই ও ফল
অনেকেই দইয়ের মধ্যে আপেল, আঙুল, খেজুর ও অন্যান্য শুকনো ফল মিশিয়ে খেতে ভালোবাসেন। ভাবেন প্রতিদিন একবাটি করে খেলে অনেকটাই ওজন কমে। কিন্তু এই খাবার মোটেই ভালো নয়। কারণ দই ও ফল একসঙ্গে খেলে অ্যাসিড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রয়োজনীয় ফাইবারও ভেঙে যায়। এছাড়াও কোল্ড অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে।

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার ১০টি কারণ ও প্রতিকার

বিভিন্ন কারণেই যে কারো অণ্ডথলি ফুলে যেতে পারে। এই সমস্যাটি খুবই সাধারণ। কিন্তু লজ্জার কারণে অনেকেই সমস্যার কথা প্রকাশ করেন না। যেহেতু অঙ্গটি স্পর্শকাতর তাই সহজে কেউ চিকিৎসকের কাছেও যেতে চান না, গেলেও লজ্জার কারণে ঠিকমত সমস্যার কথা উপস্থাপণ করতে পারেন না। অনেকে আবার অণ্ডথলি ফুলে গেলেই হার্নিয়া হয়েছে বলে মনে করেন।

কিন্তু অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া মানেই হার্নিয়া নয়। মূলত পেটের মধ্যস্থ খাদ্যনালী বা অন্য যেকোনো অঙ্গ পেটের দুর্বল স্থান দিয়ে বাহিরে বের হয়ে চলে আসাকে হার্নিয়া বলে। হার্নিয়া ছাড়াও অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার প্রধাণ কারণগুলো হচ্ছে-

১. আঘাতজনিত।
২. হার্নিয়া।
৩. অণ্ডকোষের চারপাশে পানি জমা হওয়া (ডাক্তারি ভাষায় একে বলে হাইড্রোসিল)।
৪. অণ্ডকোষের চারপাশে পূজ জমা হওয়া (পায়োসিল)।
৫. অণ্ডথলির রক্তনালী ফুলে যাওয়া (ভেরিকোসিল)।
৬. অণ্ডকোষ প্যাঁচ লেগে যাওয়া।
৭. অণ্ডকোষের টিউমার।
৮. অণ্ডকোষের সংক্রমণ।
৯. অণ্ডকোষের যক্ষা।
১০. সিস্ট।

অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরণের শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ব্যথা থাকতে পারে। এছাড়া অনেকের প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। রোগীর সমস্যা শুনে, আক্রান্ত স্থান দেখে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা সঠিক রোগ নির্ণয় করে থাকেন। সাধারণত সঠিকভাবে রোগনির্ণয়ের জন্য রক্ত, প্রস্রাব এবং অণ্ডথলির আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
আরো পড়ুন জন্ডিসের লক্ষনসমূহ ও প্রতিরোধে ৮টি করণীয়

মনে রাখতে হবে, অণ্ডথলি খুবই স্পর্শকাতর অঙ্গ। কখনও অণ্ডথলিতে সুঁই ফুটিয়ে পরীক্ষা করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিত ওষুধ গ্রহণ থেকেও বিরত থাকা উচিত। বরং অণ্ডথলি ফুলে গেলে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সময়মত চিকিৎসা নিলে ফুলে যাওয়া অণ্ডথলি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং সুস্থ থাকুন।

অ্যালকোহল সম্পর্কে ১০টি মজার তথ্য
পৃথিবীতে অনেক অনেক মানুষ নিয়মিত অ্যালকোহল পানে আসক্ত। আসুন অ্যালকোহল নিয়ে দশটি মজার তথ্য জেনে নিই।
♦ পৃথিবীতে প্রতি দশ সেকেন্ডে একজন অ্যালকোহল পান করে মারা যায়।

♦ মানুষের ব্রেইনের কোষগুলো মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যেই অ্যালকোহল এর প্রতি সাড়া দেয়।

♦ অ্যালকোহল পাকস্থলিতে পরিপাক হয় না, এটি সরাসরি রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে যায়।
♦ মদ পানের ফলে মানুষ কোন কিছুই ভুলে যায় না বরং অধিক অ্যালকোহল পানের ফলে আমাদের ব্রেইন পূর্বের ঘটনা স্মরণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

♦ যে সব ব্যক্তির চোখের মণি নীল তাদের অ্যালকোহল সহ্য ক্ষমতা অন্যান্যদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি।

♦ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিয়ার এর মধ্যে প্রায় ৬৭.৫% অ্যালকোহল রয়েছে এই পর্যন্ত।
♦ শরীরে মদের বিষক্রিয়ার ফলে আমেরিকায় প্রতিদিন ৬ জন মানুষ মারা যায়।
♦ ব্রিটেনের সংসদে অ্যালকোহল সম্পূর্ণ নিষেধ তবে ব্যতিক্রম হিসেবে একমাত্র চ্যান্সেলর বাৎসরিক বাজেট ঘোষণার সময় অ্যালকোহল পান করতে পারবেন।
♦ এক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ যখন অধিকতর গোলাকার পেয়ালা দিয়ে মদ পান করার সময় কিছুটা ধীরে এবং সাধারণ গ্লাস দিয়ে অধিক দ্রুত পান করে থাকে।
♦ মহাবীর আলেক্সান্ডার তার সৈন্যদের মধ্যে একবার মদ পানের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন, ঘটনাস্থলেই ২০ জন্য সৈন্য মারা যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে ভিটামিন-সি

দিন দিন বাড়ছে হৃদরোগ ও হৃদরোগ জনিত মৃত্যুর সংখ্যা। প্রতিরোধই হতে পারে এই ধরনের জটিলতা থেকে মুক্তির মোক্ষম উপায়। আর হৃদরোগ প্রতিরোধে অতুলনীয় ভিটামিন সি। হার্টের রোগী কিংবা অতিরিক্ত ওজনের মানুষ যাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি বেশী, তাদের জন্য অমৃত হয়ে উঠতে পারে ভিটামিন-সি। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কিংবা অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সেই ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে ভিটামিন-সি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্যই উঠে এসেছে।

অনেক ধরনের হৃদরোগের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন সবচেয়ে বেশী কমন ও জীবনঘাতি। এক্ষেত্রে হৃদপিন্ডের সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ শিরা উপশিরায় রক্ত পরিবহন বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নিকটবর্তী কার্ডিয়াক টিস্যুকে অকর্মক্ষম করে ফেলে। তখন মুহূর্তের মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়।

শিরা উপশিরায় রক্তে প্রবাহের এই বাধাপ্রাপ্ত হবার কারন ‘ভ্যাসোকন্সট্রিকশন’ বা রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়া। যার জন্য অনেকাংশে দায়ী এন্ডোথিলিন-১ নামের একটি প্রোটিন।

গবেষনায় বলা হয়, প্রতিদিন ভিটামিন-সি খেলে এন্ডোথিলিন-১ প্রোটিনের দ্বারা ভ্যাসোকন্সট্রিকশন হবার হার কমে যায়। ফলে হৃদপিন্ডের সূক্ষ্ণ রক্তনালিকার রক্ত প্রবাহ বন্ধ হবার ঝুঁকিও বহুলাংশে কমে যায়। এছাড়া স্বাভাবিকভাবেই ভিটামিন-সি যেকোন রক্তনালীর রক্ত প্রবাহ ও কর্মদক্ষতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। সুতরাং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ভিটামিন-সি গ্রহণও বেশ কার্যকর। তাই লক্ষ্য রাখুন, আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবারের উপস্থিতি থাকে।
আরো পড়ুন গবেষণা বলছে ভাত খেলেও কমবে ক্যালরি!

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় রয়েছে কাঁচা মরিচ (প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে রয়েছে ২৪২.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি), পেয়ারা, আমড়া, সরিষা, সবুজ শাক-সবজি, ব্রকোলি, আমলকি, পেঁপে, কমলা, লেবু, স্ট্রবেরীসহ প্রায় সব ধরনের ফল। এমনিতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের লাবণ্য বজায় রাখা, আক্রান্ত ক্ষতস্থানের দ্রুত আরোগ্য হওয়া সহ আরো অনেক গুণ আছে ভিটামিন-সি এর। আর এখন জানা গেল, হৃদপিণ্ড বা হার্টের জন্যও এই ‘টক’ ভিটামিন-সি বেশ উপকারী। তাই আজ থেকেই খাদ্য তালিকায় ভিটামিন-সি যোগ করুন।

আল কোরআনের কিছু তথ্য

পবিত্র আল কোরআন মহান আল্লাহ মানব জাতির হেদায়েতের জন্য নাযিল করেছেন। মহান আল্লাহ এই কোরআনে ইহকালে মানুষের দৈনন্দিন পথ চলার এবং পরকালের আমল সঙ্গে নেয়ার সার্বিক পথ সুনির্দিষ্টভাবে বাতলে দিয়েছেন। এ বিষয় নিয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হলো।

০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে?

উত্তরঃ ১১৪টি।

০২) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরার নাম কি?

উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।

০৩) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরার নাম কি?

উত্তরঃ সূরা বাকারা।

০৪) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরার নাম কি?

উত্তরঃ সূরা কাওছার।

০৫) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়াত কোনটি কোন সূরায়?

উত্তরঃ সূরা বাক্বারার ২৮২ নং আয়াত।

০৬) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ আয়াত কোনটি?

উত্তরঃ আয়াতুল কুরসী। (সূরা বাক্বারা ২৫৫ নং আয়াত।

০৭) প্রশ্নঃ ফরয নামাযান্তে কোন আয়াতটি পাঠ করলে, মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে যেতে কোন বাধা থাকে না?

উত্তরঃ আয়াতুল কুরসী।

০৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্ সূরাটি পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ সূরা মুলক। (৬৭নং সূরা)

০৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান?

উত্তরঃ সূরা ইখলাছ। (112 নং সূরা)

১০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রতি ভালবাসা মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?

উত্তরঃ সূরা ইখলাছ।

১১) প্রশ্নঃ কোন সূরাটি পবিত্র কুরআনের চতুর্থাংশের সমপরিমাণ?

উত্তরঃ সূরা কাফেরূন। (109 নং সূরা)

১২. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি জুমআর দিন বিশেষভাবে পাঠ করা মুস্তাহাব?

উত্তরঃ সূরা কাহাফ (18 নং সূরা))

১৩ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রথমাংশ তেলাওয়াতকারীকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা করবে?

উত্তরঃ সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত। (18 নং সূরা))

১৪) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর দিন ফজরের নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?

উত্তরঃ সূরা সাজদা ও দাহার।

১৫ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?

উত্তরঃ সূরা আ’লা ও গাশিয়া।

১৬) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন কত বছরে নাযিল হয়?

উত্তরঃ তেইশ বছরে।

১৭) প্রশ্নঃ ‘মুহাম্মাদ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরনাম পবিত্র কুরআনে কত স্থানে উল্লেখ হয়েছে?

উত্তরঃ চার স্থানে। (১) সূরা আল ইমরান আয়াত- ১৪৪। (২) সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০। (৩) সূরা মুহাম্মাদ আয়াত নং ২। (৪) সূরা ফাতাহ্ আয়াত নং ২৯।

১৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন আয়াত নাযিল হয়?

উত্তরঃ সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত। ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী…..

১৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বশেষ নাযিল হয়?

উত্তরঃ আল্লাহ্ বলেন, (وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ) সূরা বাক্বারার ২৮১ নং আয়াত। (ইবনু আবী হাতেম সাঈদ বিন জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় দিন জীবিত ছিলেন।- আল ইতক্বান ফি উলূমিল কুরআন)

২০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন সূরাটি পূর্ণাঙ্গরূপে নাযিল হয়?

উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।

২১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন প্রথম যুগে কিভাবে সংরক্ষিত ছিল?

উত্তরঃ ছাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিতে, লিখিত অবস্থায় চামড়ায়, হাড়ে, পাতায় এবং পাথরে।

২৩) প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কে কুরআন একত্রিত করেন?

উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।

২৪) প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে কুরআন একত্রিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল?

উত্তরঃ যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)কে।

২৫) প্রশ্নঃ কার পরামর্শে এই কুরআন একত্রিত করণের কাজ শুরু হয়?

উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)

২৬) প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর ওহী লেখক কে কে ছিলেন?

উত্তরঃ আলী বিন আবী তালেব, মুআবিয়া বিন আবী সুফিয়ান, যায়েদ বিন ছাবেত ও উবাই বিন কা’ব প্রমুখ (রাঃ)।

২৭) প্রশ্নঃ কোন যুগে কার নির্দেশে কুরআনের অক্ষরে নকতা দেয়া হয়?

উত্তরঃ উমাইয়া খলীফা আবদুল মালিকের যুগে হাজ্জাজ বিন ইউসূফের নির্দেশে একাজ হয়।

২৮) প্রশ্নঃ কুরআনে নকতা দেয়ার কাজটি কে করেন?

উত্তরঃ নসর বিন আছেম বিন ই’য়ামার (রহঃ)।

২৯) প্রশ্নঃ কুরআনে কে হরকত (যের যবর পেশ ইত্যাদি) সংযোজন করেন?

উত্তরঃ খলীল বিন আহমাদ আল ফারাহীদী (রহঃ)।

৩০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘দুনিয়া’ শব্দটি এসেছে?

উত্তরঃ ১১৫ বার।

৩১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘আখেরাত’ শব্দটি এসেছে?

উত্তরঃ ১১৫ বার।

৩২) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি অক্ষর রয়েছে?

উত্তরঃ ৩২৩৬৭১টি।

)প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি শব্দ আছে?

উত্তরঃ ৭৭৪৩৯টি।

৩৩) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি আয়াত আছে?

রহমতের বার্তা নিয়ে ফের এলো সিয়াম সাধনার মাস
আহলান ওয়া সাহলান ইয়া শাহরু রামাজান, খোশ আমদেদ মাহে রমজান। আলস্নাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে মর্যাদার মাপকাঠি তাকওয়ার গুণ অর্জনের মাধ্যমে গুনাহ মাফের বিশেষ সুযোগের মাস রমজানুল মোবারকের আজ প্রথম দিবস। মানব জাতির জন্য কল্যাণ আর রহমতের বার্তা নিয়ে আবার এলো সিয়াম সাধনার এ পবিত্র মাস। সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা রাখা শুরু করেছেন। বিশ্বের মুসলমানরা আবেগাপস্নুত হয়ে রমজানকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছেন।

সেহরি, ইফতার, তারাবি, আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম, সহমর্মিতা, সহিষ্ণুতা, কিয়ামুল লাইল, ইতিকাফ, লাইলাতুল কদর আর জুমাতুল বিদার মাস রমজান এসেছে আমাদের মাঝে আনন্দ সুরভি বিলাতে।

ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে রোজা। নামাজের পরই মুসলমানদের প্রতি আলস্নাহ তাআলা যে ইবাদত ফরজ করেছেন, তা হচ্ছে মাহে রমজানের রোজা। দ্বিতীয় হিজরি সালে উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়। তবে এই রোজা অন্যান্য জাতির ওপরও ফরজ ছিল। ইসলামের অন্যান্য বহু আদেশ-নির্দেশের মতো রোজাও ক্রমিক নিয়মে ফরজ হয়েছে। আলস্নাহ রাব্বুল আলামিন কেবল মাহে রমজানে রোজা নির্দিষ্ট ও এতেই সীমাবদ্ধ করে দেননি, বরং শরিয়তসম্মত কোনো অনিবার্য কারণবশত কেউ রমজান মাসে রোজা পালন করতে না পারলে অন্য যেকোনো সময় রোজার কাজা আদায় করার পথও আলস্নাহ তাআলা উন্মুক্ত রেখেছেন। মাহে রমজানে সিয়াম সাধনা ও আলস্নাহর শুকরিয়া আদায় সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে

ইরশাদ হয়েছে, 'রমজান মাসে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে রোজা পালন করে। আর কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আলস্নাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না, এ জন্য যে তোমরা (রোজার) সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎ পথে পরিচালনা করার কারণে তোমরা আলস্নাহর মহিমা কীর্তন করবে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৫)

মাহে রমজান উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আলস্নাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও তার প্রতিশ্রম্নত বেহেশত লাভের সওগাত। 'রামাদান' শব্দটি আরবি 'রাম্‌দ' ধাতু থেকে উদ্ভুত। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন, প্রজ্বলন, জ্বালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনা তথা রোজাব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযম ও কৃচ্ছ্রপূর্ণ জীবনযাপন করে এবং ষড়রিপুকে দমন করে মহান আলস্নাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে। মাহে রমজান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় অহংকার, কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এই মহিমান্বিত মাসের নাম রমজান। অসাধারণ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাহে রমজানে সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের ঈমানি চেতনা সুদৃঢ় হয়, তাকওয়া বা আলস্নাহভীতির নিদর্শন প্রকাশ পায় এবং অত্যন্ত গভীরভাবে ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি সঞ্চারিত হয়।

বস্তুত, মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মোবারক, রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মহান মাসে পবিত্র কোরআন মজিদ নাজিল হয়েছে। রমজান মাসের সম্মানজনক মর্যাদা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, 'যখন রমজান মাস আগত হয় তখন আকাশ বা বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা বন্ধ করা হয় না, আর দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা খোলা হয় না, আর শয়তানকে জিঞ্জিরে বন্দি করা হয়।' (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজা)

আত্মিক উৎকর্ষ ও পরকালীন কল্যাণ লাভের এক বেহেশতি সওগাত এই রমজান মাস। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে যে তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতময় পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনকারী ব্যক্তির জন্য আলস্নাহ তাআলা পুরস্কারের ভান্ডার নির্ধারণ করেছেন। রাসুলুলস্নাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'আলস্নাহ তাআলা বলেছেন: আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, তবে রোজা ব্যতীত, কেননা রোজা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব।' (বুখারি ও মুসলিম)

বিশ্বরেকর্ড গড়লেন দুই উইন্ডিজ ওপেনার

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচেই বিশ্বরেকর্ড গড়লেন দুই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে এ ইতিহাস গড়েন ক্যারিবীয় দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও শাই হোপ। গতকাল স্বাগতিকদের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩৬৫ রানের জুটি গড়েন হোপ ও ক্যাম্পবেল। ভেঙে দেন পাকিস্তানের ইমাম-উল-হক ও ফখর জামানের ৩০৪ রানের আগের রেকর্ড। গত বছর জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ডটি গড়েছিলেন তারা। এর আগের রেকর্ডটি অবশ্য টিকে ছিল অনেক দিন। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৬ রানের ওই সময়ের রেকর্ডটি গড়েছিলেন শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা ও সানাথ জয়াসুরিয়া। নতুন বিশ্ব রেকর্ডটি গড়ার পথে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন হোপ- ক্যাম্পবেল। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই ওপেনারের দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস দেখল

ক্রিকেট বিশ্ব। তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এই সংস্করণের যেকোনো জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও জেগেছিল। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলসের ৩৭২ রানের রেকর্ডটি পড়েছিল হুমকির মুখে। তবে ৪৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যাম্পবেল আউট হয়ে গেলে তা আর হয়নি। ১৩৭ বলে ১৫টি চার ও ছয়টি ছক্কায় ১৭৯ রান করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা তার প্রথম শতক। ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া এই ব্যাটসম্যানের আগের পাঁচ ম্যাচে সর্বোচ্চ ছিল ৩০। সতীর্থের বিদায়ের দুই বল পর আউট হয়ে যান হোপও। ১৫২ বলে ২২ চার ও দুই ছক্কায় ১৭০ রান করেন তিনি। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের আগের সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ১৪৬। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তিন উইকেটে ৩৮১ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া শাই হোপ, ক্যারিয়ারের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নেমে পঞ্চম সেঞ্চুরি করেন।
এই দুজন যে সব রেকর্ড গড়লেন :
* ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী জুটির নতুন বিশ্ব রেকর্ড এটি।
* ওয়ানডেতে যেকোনো উইকেটেই এটি দ্বিতীয় বড় জুটি। ২০১৫ বিশ্বকাপে ক্যানবেরায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলসের ৩৭২ রান সবচেয়ে বড় জুটির রেকর্ড। ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিনশ রানের জুটি এই দুটিই।
* ওয়ানডেতে এই প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন।
* ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান একই ম্যাচে দেড়শ করলেন।
* ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেল দুইশ বা এর বেশি রানের উদ্বোধনী জুটি। প্রথমবার ১৯৯৭ সালে, ব্রিজটাউনে ভারতের বিপক্ষে অবিচ্ছিন্ন ২০০ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন শিবনারায়ণ চন্দরপল ও স্টুয়ার্ট উইলিয়ামস।

সুস্বাস্থ্যের জন্য ১০ পরামর্শ
একটু সতর্ক থাকলে, একটু সচেতন হলে দৈনন্দিন কিছু কাজে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য মেলে, তেমনি স্বাস্থ্য সুরক্ষাও সম্ভব হয়। এখানে তেমন ১০টি পরামর্শ:
১. তেলের জন্য স্প্রে বোতল
অতিরিক্ত তেল কোনো কিছুতেই ভালো নয়। না বস আর কর্মীর সম্পর্কে, না রান্নায়। রান্নায় পরিমাণ মতো তেল ব্যবহার করতে হলে কী করবেন? স্প্রে বোতল ব্যবহার করুন। পরিমাণমতো তেল ঢালতে এটা বেশ কাজে দেবে।
২. রান্না করুন ওভেনে
যেকোনো খাবার ভাজার চেয়ে বেক (ঝলসানো বা সেঁকা) করা উত্তম। ভাজলে খাবারের পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। তাই সুযোগ থাকলে খাবারটি ওভেনে বেক করে নিন।
৩. গরম পানিতে সবজি
সবজির সবটুকু পুষ্টি পেতে চাইলে গরম পানিতে সেদ্ধ করুন। মনে হতে পারে, এ আর নতুন কী! গরম পানি বলতে পানি আগে গরম করে নিতে হবে, তারপর সেখানে ঢালতে হবে সবজি। সবজি ও পানি একসঙ্গে গরম করলে সবজির পুষ্টিগুণ কমে যায়।
৪. মাখনের জায়গায় তেল
পেস্ট্রি বা অন্যান্য ডেজার্টে মাখনই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এর বদলে আমন্ড বা নারকেল তেল মন্দ নয়। শরীরের মেদ ঝরাতে এটা দারুণ কাজে দেবে।
৫. ছোট প্লেট-বাটি কিনুন
পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়ার অভ্যাস হয়ে গেলে ভীষণ সমস্যা। এ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় আছে অনেক। তবে প্রথমেই আপনি আপনার প্লেট-বাটির আকার কমাতে পারেন। এ জন্য আকারে ছোট প্লেট-বাটি কিনলেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
৬. রান্নার আগে মাছের পরীক্ষা
রান্না করার আগে মাছের পরীক্ষা নিন। পরীক্ষার জন্য মরা মাছটাকে পানিতে ছেড়ে দিতে হবে। মাছটা ডুবে গেলে পরীক্ষায় উতরে গেল। আর ভেসে থাকলে সেটা না খাওয়াই ভালো।
৭. ধীরে খান
রাস্তার পাশে লেখা থাকে—ধীরে চলুন। বিশেষজ্ঞরা খেতেও বলেন ধীরে। কারণ, ধীরে খেলে এবং খাবার ঠিকঠাকমতো চিবোলে পাকস্থলী বেশ খানিকটা সময় পায়। কিসের সময়? খাবার সময় পাকস্থলী মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে আপনার আরও খাবার খেতে হবে কি হবে না। দ্রুত খেলে অধিকাংশ সময়ই পাকস্থলী সেই সময়টা পায় না, ফলে আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি!
৮. টমেটো-শসা একসঙ্গে নয়
টমেটো আর শসা—এ যেন সালাদের অমর জুটি! কিন্তু এই জুটি ভালোর চেয়ে মন্দই বেশি করে। শসায় এমন কিছু উপাদান আছে, যা অন্য কোনো খাবার গাঁজিয়ে তুলতে পারে। তাই টমেটোর সঙ্গে সালাদে শসা থাকলে সেটা টমেটোর অ্যাসকোরবিক অ্যাসিড (ভিটামিন ‘সি’) ধ্বংস করে দেয়! মানে টমেটোর আসল গুণটাই থাকে না!
৯. কাঁচা ফল ও সবজি খান
সবজি, বিশেষ করে ফল খেতে চাইলে কাঁচাই খান। সবজি হয়তো সব সময় কাঁচা খাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সম্ভব হলে খেতে অসুবিধা নেই। বরং এতে উপকার অনেক বেশি। কাঁচা ফল-সবজিতে অনেক বেশি পরিমাণে সেলুলোজ থাকে। যেটা আমাদের হজমপ্রক্রিয়া ভালো করে পাশাপাশি শরীরের বিষাক্ত উপাদানগুলো বিশোষণ করে। সেদ্ধ করে খেলে যা পাবেন না।
১০. চিনির ভালো বিকল্প
একটা বয়স পর্যন্ত চিনি শরীরের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। কিন্তু যেই না আপনি একটু পরিণত, চিনি যেন শত্রুকে পরিণত হলো! তাই চিনির ভালো বিকল্প খুঁজতেই হয়। মধু এ ক্ষেত্রে ভালো একটা বিকল্প। তবে চিনির বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করতে চাইলে সেটা গরম না করাই ভালো। কারণ, অতিরিক্ত তাপে মধুর গুণাগুণ লোপ পায়।

যখন রমযান শুরু হয় , তখন রহমতের দুয়ার খুলে দেয়া হয়।
[সহীহ বুখারী]


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী আরও শক্তি সঞ্চয় করে পরিণত হয়েছে হারিকেনের তীব্রতাসম্পন্ন অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে।

ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটার গতিতে ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে থাকা এ ঘূর্ণিঝড় আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল ফণী।


আর ভারতের আবহাওয়া অফিসের হিসাবে সকাল ৬টায় ফনীর অবস্থান ছিল শ্রীলঙ্কার ত্রিঙ্কোমালি থেকে ৬৭০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে, তামিল নাড়ুর চেন্নাই থেকে ৬৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং অন্ধ্রের মাচিলিপত্তম থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে।
ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

ভারতীয় আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ঠিক হলে মঙ্গলবার সারাদিনে এ ঝড়ের শক্তি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে। বুধবার বিকালের দিকে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ফণীর মতিগতি বিশ্লেষণ করে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার যে সম্ভাব্য গতিপথ বের করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বুধবার পর্যন্ত এ ঝড় অন্ধ্র উপকূলের দিয়ে অগ্রসর হয়ে তারপর উত্তরে বাঁক নিয়ে ওড়িশা-কলকাতা উপকূলের দিকে এগোতে পারে।


এরপর শুক্র অথবা শনিবার ওড়িশা ছুঁয়ে ফনী উঠে আসতে পারে কলকাতা উপকূলে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ আরও বদলালে উপকূল অতিক্রমের জায়গাও বদলে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আশপাশের আকাশ থেকে মেঘ টেনে নিচ্ছে নিজের কেন্দ্রের দিকে। ফলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। সোমবার রাজশাহীতে থার্মোমিটারের পারদ উঠেছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; সারা দেশে এটাই ছিল মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে যে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

মঙ্গলবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রংপুর ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রোজা রাখার মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট শারীরিক উপকারিতা। বিশেষ করে বছরে এক মাস অভুক্ত থাকলে তা স্বাস্থ্যরক্ষায় বেশ ভূমিকা রাখে। এ জন্য প্রাপ্তবয়স্ক সক্ষম মানুষের উচিত রোজা রাখার অভ্যাস করা।এই বিষয়ে লিখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

হার্ট ভালো থাকে

রোজা দেহের অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। এতে রক্তনালিতে জমে থাকা চর্বির উপাদানগুলো কমতে থাকায় হার্ট ব্লকের মতো ঝুঁকি কমে যায়। তাই যাঁদের ওজন বেশি, যাঁদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বা কোলেস্টেরল লেভেল বেশি, তাঁরা রোজা রেখে শারীরিক ওজন কমানোসহ নানা উপকার পেতে পারেন। এতে শরীরের চর্বি এবং মেদ-ভুঁড়ি কমানো যায়, যদি না ইফতার ও সাহরিতে মাত্রাতিরিক্ত গুরুপাক, তৈলাক্ত খাবার খাওয়া হয়।

মস্তিষ্কের কার্যক্রম বৃদ্ধি

রোজা মস্তিষ্কের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অধিক খাদ্য গ্রহণে শরীরের ওপর যেমন চাপ বৃদ্ধি পায়, তেমনি এই চাপ মস্তিষ্কের ওপরও পড়ে। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, রোজার মাধ্যমে যে মানসিক পরিবর্তন আসে, তাতে মস্তিষ্ক থেকে এক ধরনের নিউরোট্রিফিক ফ্যাক্টর নিসৃত হয়, যা অধিক নিউরন তৈরিতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হয়

গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য রোজা যথেষ্ট উপকারী। কারণ রোজা রাখা অবস্থায় দেহে নানা ধরনের ইনসুলিন তৈরি হয়, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।

কিডনি ভালো থাকে

কিডনির মাধ্যমে শরীরে প্রতি মিনিটে এক থেকে তিন লিটার রক্ত সঞ্চালিত হয়। কিডনির কাজ হলো শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো প্রস্রাব আকারে মূত্রথলিতে প্রেরণ করা। রোজা অবস্থায় কিডনি বিশ্রাম পায়। ফলে এ সময় কিডনি বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে।

লিভারের ওপর প্রভাব

রোজার সময় সাহরিতে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তা থেকে ও লিভারে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন থেকে সারা দিনের উপোসের সময় রক্তে প্রয়োজনীয় খাদ্য-উপাদান সঞ্চালিত হয়। লিভারের গ্লাইকোজেন স্টোরেজ শেষ হয়ে গেলে লিভার ও অ্যাডিপোজ টিস্যুতে জমা চর্বি বিপাকের মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ হয়। ফলে রমজানে একজন রোজাদারের জন্য লিভারের ফ্যাট ও শরীরের বাড়তি ওজন কমার সুযোগ তৈরি হয়। যাঁদের লিভারে ফ্যাট জমা হয়েছে, তাঁদের জন্য রোজা রাখা উত্তম।

ধূমপান ছেড়ে দেওয়া যায়

ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে ধূমপান ছাড়তে পারেন না। তাঁদের জন্য রমজান মাস উত্তম সময়। এই মাসে ধূমপানের মতো ক্ষতিকর ও বদ-অভ্যাসগুলো ত্যাগ করুন বা কমিয়ে দিন।

পরিপাক প্রক্রিয়া কার্যকর হয়

রোজার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিবারণ হয় না; বরং ধীরে ধীরে ক্ষুধার প্রশিক্ষণ হয়। ফলে রমজান শেষে ক্ষুধার মাত্রাও কমে আসে। খাদ্যনালির পরিপাক প্রক্রিয়া আরো কার্যকর হয়ে ওঠে, খাদ্যদ্রব্য থেকে বেশি পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ সম্ভব হয়।

তাছাড়া রোজা রাখার ফলে আগের চেয়ে আরো দক্ষভাবে কাজ করতে শুরু করে পাকস্থলী। সবল হয় হজমযন্ত্র। ইফতারে পুষ্টিকর উপাদানগুলোকে খুব সহজেই গ্রহণ করে শরীর। অ্যাডিপোনেকটিন নামের হরমোন বৃদ্ধি পায়, যা মাংসপেশিগুলোকে খাবার থেকে আরো বেশি পুষ্টিকর উপাদান শোষণে সক্ষম করে তোলে।

জটিলতা এড়ানো যায়

রোজা একজন মানুষের শুধু পাকস্থলী বা হৃৎপিণ্ডকে সক্রিয়ই রাখে না; বরং অন্য অনেক রোগের জন্যও উপকারী। বিশেষ করে রোজার সময় ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন বন্ধ থাকে বিধায় ক্যান্সার, হার্ট ফেইলিওর, স্ট্রোকের মতো জটিল রোগগুলোর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

তাই যাঁদের শারীরিক সামর্থ্য ও ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা রমজান মাসের রোজাগুলো নিয়মমতো রাখতে পারেন।

জনসংখ্যায় বাংলাদেশে বিশ্বের কততম দেশ ?

Good মর্নিং

ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো—১০ ফুট ৬ ফুট, ৫ ফুট ৩ ফুট, ২.৫ ফুট ১.৫ ফুট।

Allah

Good Morning

Good Morning

সৌন্দর্য রাজনীতির থেকে সব সময়ই উৎকৃষ্ট।
– হুমায়ূন আজাদ

শবে বরাত (আরবি: ليلة البراءة , প্রতিবর্ণী. লাইলাতুল বারআত ) বা মধ্য-শা'বান (আরবি: نصف شعبان , প্রতিবর্ণী. Niṣf Sha'bān ) হচ্ছে হিজরী শা'বান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যে পালিত একটি পূণ্যময় রাত।

বর্তমানে পৃথিবীর গগনচুম্বী অট্টালিকা বা উচ্চতম ভবন হলো ‘বুর্জ খলিফা’।

বলবিজ্ঞানের ভিত্তিভূমি রচনা করেছেন নিউটন। রৈখিক এবং কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রের মাধ্যমে তিনি এই ভিত্তি রচনা করেন। আলোকবিজ্ঞানের কথায় আসলে তার হাতে তৈরি প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্রের কথা এসে যায়। একই সাথে তিনি আলোর বর্ণের উপরএকটি তত্ত্ব দাড় করান যা একটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন। পর্যবেক্ষণটি ছিল ত্রিভুজাকার প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাওয়া আলোর বিক্ষেপণের উপর যার মাধ্যমে দৃশ্যমান বর্ণালির সৃষ্টি হয়েছিল। শব্দের দ্রুতি এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বিষয়েও তিনি গবেষণা পরিচালনা করেন যা থেকে নিউটনের শীতলীকরণ সূত্র এসেছে।

যবসায়ী/উদ্যোক্তা ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য যে ঝুকি নিয়েছে তার পুরষ্কারই হলো ‘লাভ’।

পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু ও উত্তর মেরুতে সাধারণত ৬মাস রাত ও ৬মাস দিন থাকে।


ব্যাট হাতে আজও বিধ্বংসী মুডে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। ছবি: এএফপি

আইপিএলে আজও জ্বলে উঠেছেন রাসেল। ২১ বল খেলে রান করেছেন ৪৫।

রাসেল আছেন ‘তছনছ মুডে’, ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের বর্তমান অবস্থা জানাতে এর চেয়ে ভালো শিরোনাম বুঝি আর হয় না! কে জানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানাতে ব্যাট চালানো ছবির সঙ্গে এমন ক্যাপশন দিয়েই দেন কিনা কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যমণি। সে যাই হোক রাসেলের টাইমলাইনে আজকের সর্বশেষ অলিখিত পোস্ট ২১ বল খেলে ৪৫ রান। আর হ্যাঁ, অবশ্যই চারের চেয়ে ছয় বেশি। তিনটি ৪ এর ইনিংসে ৬ চারটি।

২০১৯ আইপিএলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রাসেলকে কীভাবে থামানো যায়? এবারের আইপিএলে রাসেল রূপ নিয়েছেন মূর্তিমান আতঙ্কে। একদিন ১৯ বলে ৪৯ রান তুলছেন তো পরদিনই ৪৮ রান করছেন ১৭ বলে। ২৮ বলে ৬২ রানের ইনিংসও আছে তাঁর। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে বোলাররা এখন প্রচণ্ড দ্বিধায় ভোগেন। একদিকে প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারকে ফেরানো জরুরি, আবার এক একজন ব্যাটসম্যানের বিদায় মানেই আন্দ্রে রাসেলকে উইকেটে ডেকে আনা! আর এ মৌসুমে যে ফর্মে আছেন রাসেল তাতে দলের বিপদই বেশি ডেকে আনা হচ্ছে!

রাসেল সব সময়ই পাওয়ার হিটার ছিলেন। চার-ছক্কা মারার জন্য সব সময়ই বিখ্যাত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার। তাঁর অভিষেকের পর ১০০০ বল খেলেছেন এমন কোনো ক্রিকেটারই তাঁর চেয়ে বেশি বল প্রতি বাউন্ডারি মারতে পারেননি। রাসেল ২৪.২৭ শতাংশ বলেই বাউন্ডারি হাঁকান! তবে গত এক বছরে সেটা আরও বেড়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে ওভারে ১০.৮৪ রান তোলেন রাসেল। আর ডেথ ওভারে সেটা বেড়ে হয় ১১.৬৮ রান। একই ম্যাচে অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এ হার যথাক্রমে ৮.১৪ ও ৯.২০। অর্থাৎ একই ম্যাচে, একই উইকেটে একই বোলারদের মুখোমুখি হয়ে প্রতি ওভারে গড়ে ২ রান বেশি তোলেন রাসেল। ক্রিকেটের কুলীন প্রথাগত ছাঁচে রাসেলের ব্যাটিংয়ের ধরনকে ফেলা না-যাক, তাঁর গুরুত্ব স্বীকার সবাইকে করতে হবে।

আজকের ম্যাচের কথাই ধরুন না। রাসেল যখন ক্রিজে আসলেন নাইটদের স্কোর বোর্ডে ১২.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান। টি টোয়েন্টির যুগে এ আর এমনকি! শেষ পর্যন্ত রাসেলের বদৌলতে স্কোরটা গড়াল ১৭৮। অর্থাৎ প্রথম ৭৬ বলে যেখানে রান এসেছে ৯৩, সেখানে রাসেল ক্রিজে আসার পরে বাকি ৮৫ রান ৪৪ বলে। তবে এই পরিসংখ্যান রাসেলের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ ১৮.২ ওভারে দলীয় ১৬১ রানে মরিচের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে সাজ ঘরে ফিরে যান রাসেল। অর্থাৎ তিনি আউট হওয়ার পরে শেষ ১০ বলে রান এসেছে ১৭। এই পরিসংখ্যানেই বোঝা যাচ্ছে রাসেলের গুরুত্ব।

রাসেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ইডেন গার্ডেনে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান সংগ্রহ করেছে কলকাতা। রাসেলের দিনে উজ্জ্বল ছিলেন আরও একজন শুভমান গিল। ৬৫ রান করতে ৩৯ বল খেলছেন নাইট এই ওপেনার। তবে ক্যারিবীয় বিদ্যুৎ রাসেল যেদিন চমকায়, অন্ধকারে পড়ে যান সবাই।

Hi Friend

আজকের কুইজ (19-May-2019)

আজ অংশগ্রহণ করেছেন:2132 জন
প্রশ্নঃ ‘মাফিয়া’ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাশী একটি দলের নাম। প্রায় ৫ হাজার সদস্য রয়েছে এই দলে, যারা মাদক চোরাচালান থেকে শুরু করে খুন, অপহরন এর মত কাজ করে থাকে। বাংলাদেশেও এর যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিশ্বের শীর্ষ পলাতক অপরাধীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন এই সন্ত্রশী গ্রুপের প্রধানের নাম। ‘মাফিয়া’ এর প্রধানের নাম কি?
(A) দাউদ ইব্রাহিম
(B) জুবিনা জেরিন
(C) ছোটা শাকিলক