About Anil Das

চোখের রোগ কনজাংটিভাটিস

কনজাংটিভাটিস চোখের একটি রোগ। আমাদের দেশের মানুষের কাছে এটি চোখ ওঠা রোগ নামে পরিচিত। এ রোগের কারণ, চিকিৎসা এবং সর্তকতাসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন লায়ন্স আই ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শওকত কবির।

কনজাংটিভাটিস চোখের একটি রোগ। আমাদের দেশের মানুষের কাছে এটি চোখ ওঠা রোগ নামে পরিচিত। এ রোগের কারণ, চিকিৎসা এবং সর্তকতাসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন লায়ন্স আই ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শওকত কবির।

সাধারণত ব্যকটেরিয়া, ভাইরাস, সামান্য আঘাত কিংবা এলার্জিজনিত কারণে এ রোগ দেখা যায়। এতে এক বা উভয় চোখই আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত চোখ শুরুতেই লালচে আকার ধারণ করে। চোখের কোণে সাদাসাদা ময়লা জমা হয়ে থাকে। আক্রান্ত রোগীরা রোদের আলোয় অসুবিধায় পড়েন। সহজেই নিরাময়যোগ্য এই রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তারপরও চোখ খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি কোনো কারণে কর্নিয়া আক্রান্ত হয় তাহলে সেরে উঠতে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে, এ সময় চোখের দৃষ্টিশক্তিও কমে যেতে পারে।

ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে এ রোগ হয়ে থাকলে আই ড্রপ কোরামফেনিকল অথবা লিভোফক্সাসিলিন এবং টেট্রাসাইকিন ক্রিম ব্যবহার করা যতে পারে। ঠা-ার জন্য ভাইরাসজনিত কারণে চোখ আক্রান্ত হতে পারে। যেসব খাবার শরীরের জন্য সহনশীল নয় কিংবা খেলে চোখ লাল হয় সেসব খাবার না খাওয়া ভালো। কনজাংটিভাইটিস ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। এজন্য নিচের কাজগুলো করা যেতে পারে :

১. ময়লা এবং অসহনশীল (আলো) এমন কিছু থেকে চোখকে বাঁচাতে হবে। এজন্য চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. চোখে যদি ময়লা লেগে থাকে, তাহলে হাত হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে টিস্যু পেপারের মাধ্যমে চোখ পরিষ্কার করতে হবে। তবে রুমাল ব্যবহার করা উচিত নয়।
৩. যদি বাচ্চারা আক্রান্ত হয় তাহলে স্কুলে যাওয়া বা বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখা দরকার।
৪. আক্রান্ত চোখে অকারণে বারবার হাত দেওয়া ঠিক নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহারের কাপড় এবং তৈজসপত্র অন্যের ব্যবহার করা উচিত নয়। এক সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত চোখ ভালো না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাল্টে গেল কিলোগ্রাম, এবার সেকেন্ডের পালা

এক কিলোগ্রাম মানে কতটা? আজ থেকে বদলে গেল তার সংজ্ঞা। এ বার নিশানা সেকেন্ড। আরও নিখুঁত ভাবে সময় মাপতে পাল্টে যাবে ঘড়িও!

ভরের মূল একক কিলোগ্রামের বাটখারা তথা প্ল্যাটিনাম-ইরিডিয়ামের দণ্ড ‘ল্য গ্রঁদ কে’-কে প্যারিসে কাচের ঘেরাটোপে রাখা হলেও সযত্ন মোছামুছিতেও এটি থেকে কিছু পরমাণু ক্ষয়ে যাচ্ছিল। গত বছর নভেম্বরে প্যারিসের কাছে ভার্সেই শহরে ৫০টিরও বেশি দেশের ভোটে ‘ল্য গ্রঁদ কে’-কে বাতিল করে মাক্স প্লাঙ্কের ধ্রুবকের ভিত্তিতে এক কিলোগ্রাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কারণ মাক্স প্ল্যাঙ্ক ধ্রুবক অঙ্কের নিয়মে মাপা ও নিখুঁত। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩০ বছর পর সোমবার থেকে গোটা বিশ্বে কিলোগ্রামের নতুন সংজ্ঞা চালু হয়ে গেল। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বদলটা ঘটল ‘ওয়র্ল্ড মেট্রলজি ডে’ তথা বিশ্ব পরিমাপ বিজ্ঞান দিবসে।

এ বার পালা সময়ের একক সেকেন্ডের সংজ্ঞা বদলের। সহজ করে বলা যেতে পারে, আগের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত করে সেকেন্ডকে মাপার ব্যবস্থা করতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে সেকেন্ড মাপা হয় সিজিয়াম পরমাণু দিয়ে তৈরি ঘড়িতে। সিজিয়ামের পরমাণু নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের আলো শুষে নিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই শক্তি তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ আকারে ছেড়ে দেয়। ঠিক যেমন আদর্শ অবস্থায় একটি পেন্ডুলাম নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশেষ একটি স্থানে পৌঁছায়।

সিজিয়ামের ঘড়িতে আলোর ৯১৯,২৬,৩১,৭৭০ বার স্পন্দন বা দোলনের কালকে এক সেকেন্ড ধরা হয়। কিন্তু পরবর্তী কালে তৈরি হওয়া ‘অপটিক্যাল অ্যাটমিক ক্লক’ অনেক বেশি নিখুঁত সময় দিচ্ছে।

কলোরাডোর বোল্ডারের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি’-র পদার্থবিদ অ্যান্ড্রু লাডলোর কথায়, ‘‘এই ঘড়িতে কম্পাঙ্ক অনেক বেশি। ফলে ঘড়ির প্রতিটি ‘টিক’ অনেক কাছাকাছি। ফলে এই ঘড়িতে সিজিয়াম ঘড়ির চেয়ে ১০০ গুণ বেশি নিখুঁত ভাবে এক সেকেন্ডকে মাপা যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সব ধাপ পেরিয়ে বদলটা হয়তো ঘটবে ২০২০ সালের শেষের।

সংজ্ঞা বদলে গেলেও এক কেজিতে গত কাল যতটা চাল-ডাল মিলেছে, আগামী দিনেও ততটাই মিলবে। একই ভাবে, সেকেন্ডের মাপক বদলে গেলেও আমাদের রোজকার ঘড়িতে কোনও বদল আসছে না। তাই বদলাতে হবে না ট্রেন-বিমানের সময়সূচিও।

চাঁদে মানুষ পাঠাবে জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন

অ্যামাজনের সফল প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। ই-কমার্স শিল্পে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই বিশ্বের ধনী ব্যক্তি হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। এছাড়াও নতুন ব্যবসায়ও নাম লিখিয়েছেন তিনি।

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ব্লু অরিজিন নামের মহাকাশযান তৈরির কোম্পানি। আর এবার সেই কোম্পানি থেকে ব্লু মুন নামে নতুন একটি লুনার ল্যান্ডার তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছেন বেজোস।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক ইভেন্টে জেফ বেজোস এই ঘোষণা দেন। সাংবাদিক, মিডিয়া কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা এবং গবেষকদের উদ্দ্যশ্যে দেয়া এক বক্তৃতায় বেজোস জানান, ‘ব্লু মুন’ এর সাহায্যে ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ব্লু অরিজিন এ বছরের শেষ নাগাদ মহাকাশে মানুষ্যবাহী একটি মহাকাশযান পাঠাতে যাচ্ছে। মূলত চন্দ্র পৃষ্ঠে মানুষ পাঠানোর জন্যই এই নতুন ‘ব্লু মুন’ মহাকাশযানটি তৈরি করেছে কোম্পানিটি। বেজোস জানান, এই প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো খরচ কমিয়ে মানুষের চন্দ্র অভিযানকে সহজ করে তোলা।

মুন ল্যান্ডার ছাড়াও ব্লু অরিজিন আরো দুটি মহাকাযান তৈরি করছে। এ দুটি মহাকাযান মূলত সাবর্বাটাল রকেট, যা স্বল্পকালীন ফ্লাইটের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এগুলো বড় উপগ্রহগুলোর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করবে না। এটি নিউ গ্লেন দ্বারা পরিচালিত হবে, যা ২০২১ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত এবং পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ৪৫,০০০ কেজি পণ্য উত্তোলন করতে সক্ষম হবে। উভয় রকেটকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেন তা পুনরায় ব্যবহার করা যায়।

গত সপ্তাহে ব্লু অরিজিন তাদের নতুন শেপার্ড রকেটটির পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ৩৮টি পরীক্ষা চালিয়েছে এবং এটি ইতিমধ্যে তার ১১তম মিশনটি সম্পন্ন করেছে। শেপার্ড রকেটগুলো ১০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর ক্যাপসুল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তার গতিতে উর্ধ্বগামী চলতে থাকে। এছাড়া নতুন শেপার্ড রকেট নিজেই তার স্থাপনাযোগ্য স্থানের উপর স্বাধীনভাবে নেমে আসে।

নিরাপদ রকেট উৎক্ষেপণের এই প্ল্যাটফর্মকেই বেজোস মহাকাশ ভ্রমণের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চান। গত বছরের রয়টার্সের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বেজোসের সংস্থার মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের টিকেটের দাম পড়বে ২০০,০০০ ৩০০০,০০০ ডলার।

অবশ্য এক্ষেত্রে ভিন্ন পথে হাঁটছে এলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশযান নির্মাতা কোম্পানি স্পেসএক্স। এই মহাকাশযান প্রস্তুতকারী কোম্পানিটি বৃহদাকার নকশা এবং রকেট উৎপাদনের দিকেই নজর দিয়েছে। ‘ফ্যালকন হেভি’ হচ্ছে কোম্পানিটির বর্তমান সময়ের সর্ববৃহৎ রকেট এবং এটি কমপক্ষে ৬৩,৮০০ কেজি ওজন নিয়ে পৃথিবী কক্ষপথে ভ্রমণ করতে সক্ষম।

স্পেসএক্স তার পরবর্তী প্রজন্মের রকেট প্ল্যাটফর্ম স্টারশিপ নিয়েও কাজ করছে, যা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১০০,০০০ কেজি ওজনেরও বেশি পণ্য উত্তোলন করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টারশিপকে ২০২০ সালের মধ্যে কক্ষপথ উৎক্ষেপণের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উভয় কোম্পানিরই মহাকাশ ভ্রমণ নিয়ে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কোম্পানিরও এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রকেট ল্যাব, ভার্জিন গ্যালাকটিক এবং ভেক্টরের মতো স্টার্টআপগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এবং সরকারি সংস্থার দ্বারা ব্যবহৃত হওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের রকেট প্ল্যাটফর্মগুলো উন্নত করছে।

তবে চাঁদে মানুষ পাঠানোর মতো উদ্যোগ এখনো কোনো বেসরকারি কোম্পানি নিতে পারেনি। আর তাই হয়ত বেজোস সেদিকেই নিজের লক্ষ্য স্থির করেছেন।

কতক্ষণ দাঁত ব্রাশ করা উচিত?


: ছোটবেলা থেকেই আপনার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবেছেন কতক্ষণ দাঁত ব্রাশ করা উচিত? এ ধরনের প্রশ্ন আপনাকে করা হলে আপনি চলনসই একটা উত্তর দিতে পারেন। কিন্তু এ অনুমান কি সঠিক? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য রিডার্স ডাইজেস্ট কথা বলেছে ডা. পল লুয়েপকির সঙ্গে। তিনি হলেন মারকুয়েট ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ডেন্টিস্ট্রির পেরিয়োডন্টিকস বিভাগের পোস্টডক্টরেট পরিচালক এবং সার্জিক্যাল সায়েন্সের সভাপতি।

লুয়েপকি বলেন, আমি দুমিনিট করে দিনে দুবার দাঁত ব্রাশের পরামর্শ দিই। দুমিনিট বেশি সময় না হলেও দাঁত ব্রাশ করার জন্য আদর্শ। এর ফলে অতি তাড়াহুড়া করে কিংবা দীর্ঘ সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশের প্রবণতা প্রতিরোধ হবে। দুমিনিটের কম সময় অথবা দীর্ঘ সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার হবে না অথবা দাঁতের ক্ষতি হবে। আমরা একটি টাইমার সেট করতে পরামর্শ দিচ্ছি, যেমন- দুমিনিটের একটি গান প্লে করতে পারেন। অথবা বিল্ট-ইন-টাইমার রয়েছে এমন ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। সঠিক অ্যাঙ্গেল ও চাপে দাঁত ব্রাশ করছেন কিনা সে বিষয়েও নিশ্চিত হোন।

* প্রতিদিন ফ্লসের প্রয়োজন আছে?
আমাদের সকলের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তর হলো: হ্যাঁ। আপনার দাঁত প্রতিদিন ফ্লস করার প্রয়োজন রয়েছে। হাউয়েল কম্প্রিহেনসিভ জেনারেল ডেন্টিস্ট্রিতে ডেন্ট্রিস্ট প্র্যাকটিসিং ডা. রায়ান ডজ রিডার্স ডাইজেস্টকে বলেন, ‘প্রতিদিন ফ্লস, ফ্লস পিকস অথবা ওয়াটার ফ্লসার দিয়ে দাঁতের মধ্যকার ফাঁক পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টুথব্রাশ পৌঁছতে পারে না এমন স্থানে ব্যাকটেরিয়ার বসতি গড়ে ওঠে। যারা প্রত্যেক দাঁতে ম্যানুয়ালি ফ্লস করতে চান না, তাদের জন্য ওয়াটার ফ্লস একটি ভালো উপায়। ওয়াটার ফ্লস সেখানে পৌঁছে, যেখানে হাত ও ফ্লসের স্ট্রিং দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা কঠিন। এটি আপনার সময়ও বাঁচায়। মুখের ভালো যত্নের জন্য ওয়াটার ফ্লসিংয়ে মাত্র কয়েক মিনিট লাগে।

* মাউথওয়াশ কি শুধু শ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে?
মুখের যত্নের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরেকটি প্রোডাক্ট হলো মাউথওয়াশ। একটি ভালো মাউথওয়াশ শুধুমাত্র শ্বাসের দুর্গন্ধই দূর করে না, এটি দাঁতের এমন প্লেক বা হলুদ আবরণ দূর করে যা ব্রাশিং ও ফ্লসিংয়ে দূর হয় না। এটি টার্টার বা দাঁতের পাথর এবং জিনজিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহও হ্রাস করতে পারে। অ্যালকোহলমুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করবেন, কারণ অ্যালকোহলযুক্ত মাউথওয়াশ মুখকে শুষ্ক করে।

* মুখের যত্নে অন্যান্য করণীয় কি?
ব্রাশিং, ফ্লসিং ও মাউথওয়াশের ব্যবহার ছাড়াও মুক্তোর মতো সাদা দাঁতের জন্য আরো কিছু করণীয় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডা. ডজ বলেন, ‘ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খান, যেখানে চিনিযুক্ত পানীয় ও স্ন্যাকের পরিমাণ কম থাকবে। মুখের ভালো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে এবং দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করতে ডেন্টাল টিমের তত্ত্বাবধানে দাঁত পরিষ্কারকরণ, দাঁতের পরীক্ষা ও রেডিওগ্রাফের প্রয়োজন রয়েছে, তাই বছরে দুবার ডেন্টিস্টের কাছে ভিজিট করুন।’

কেমন হবে স্বাস্থ্যবান শিশুর ওজন
অনেক শিশুই ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারে না। এ ছাড়া চর্বি এবং ফাস্টফুড-জাতীয় খাদ্যাভ্যাসও অনেক বেড়ে গেছে শিশুদের। এর ফলে ওজন বেড়ে যাচ্ছে তাদের। এ থেকে ভবিষ্যতে শিশু অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শিশু মানেই মোটা, নাদুসনুদুস হবে। শুকনো বা চিকন বাচ্চা দেখলে সবাই কষ্ট পায়। আসলে একটি শিশুর আদর্শ ওজন কী হওয়া উচিত?

স্বাস্থ্যবান শিশু সত্যিই ভালো, যদি সে সুস্থ থাকে। একটা অসুবিধা হলো, শিশুদের যে চর্বি কোষগুলো হয়, সেগুলো বড় হওয়ার পরও থেকে যায়। যখন ভবিষ্যতে শিশুটি বড় হবে, তখন হার্টের ওপর চাপ পড়বে।

জন্মের সময় ওজন হতে হবে প্রায় সাত পাউন্ড। এর তিন গুণ হবে এক বছরে। কারো যদি জন্মের সময় ওজন সাত পাউন্ড হয়, তার ২১ পাউন্ড হবে। তার পর প্রতি বছরে পাঁচ পাউন্ড করে বাড়ার কথা, পাঁচ বছর পর্যন্ত। তবে অনেক সময় দেখা যায়, বেশি বেড়ে যাচ্ছে, এটি হলো মুটিয়ে যাওয়া। আরেকটা দিক আছে, শুকিয়ে যায়। শুকিয়ে যাওয়া মানে হচ্ছে শিশুটি পুষ্টি পাচ্ছে না।

এটা গণনা আমাদের বিএমআই (বেসিক ম্যাটাবলিক ইনডেক্স)-এর মাধ্যমে করতে হয়। ইনডেক্সের আদর্শ মান হলো ২৭ বা ২৮। এ রকম থাকলে ভালো।

সাধারণত সাত-আট বছরের সময় শিশুরা বেশি মুটিয়ে যেতে থাকে, হয়তো সে তেমন নড়াচড়া করে না। জাঙ্ক ফুড বেশি খাচ্ছে। চিপস খাচ্ছে। চিজ খাচ্ছে। এগুলো থেকে তাড়াতাড়ি ওজন বেড়ে যায়। তখন তাদের আমরা পরামর্শ দিই। মাকে বোঝাই, শিশুটিকে একটু বাইরে গিয়ে খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে।

ওজন বেশি হলে সব দিকেই চর্বিযুক্ত টিস্যুগুলো বেশি বেড়ে যায়। তখন হয়তো দৌড়াচ্ছে, কিন্তু পারছে না। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বা হাঁপাচ্ছে, এ ধরনের সমস্যা হবে। তার পর যখন আরেকটু বড় হবে, তখন হয়তো হাঁটুতে ব্যথা করবে। এমনও রোগী আছে, ওজনাধিক্যের কারণে কোমরের ব্যথা নিয়ে আসছে। অথচ সে বয়ঃসন্ধিকালে রয়েছে। শিশু মুটিয়ে গেল কখনো কখনো হয়তো দেখতে ভালো লাগে। তবে এটি ভবিষ্যতের জন্য খারাপ।

বেকার ভাতা চালুর চিন্তা সরকারের

সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণে ‘বেকার ভাতা’ দেওয়ার বিষয়টি চিন্তা করছে সরকার। ‘সামাজিক নিরাপত্তা (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০১৯’ শীর্ষক নতুন একটি আইন প্রণয়নের কাজে হাত দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রস্তাবিত আইনটির খসড়ায় সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনচক্র যেন নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে থাকে সে বিষয়টি বিবেচনায় থাকছে।

প্রস্তাবিত খসড়াটি আইনে পরিণত হলে দরিদ্র সব নাগরিকের ‘জীবনচক্র’ সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় চলে আসবে। একজন মানুষের ভ্রূণ থেকে শুরু করে শৈশব, কৈশোর, যুবক ও প্রবীণ বয়স অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আটটি গুচ্ছভাগে বিভক্ত করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিরাপত্তামূলক কাজ করবে।

খসড়া আইনে একজন মানুষের জীবনচক্রকে পাঁচটি ‘বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার’-এ অভিহিত করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টার বাস্তবায়নে আলাদা কমিটি থাকবে। ক্লাস্টারগুলো হলো ১. সামাজিক ভাতা; ২. খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ সহায়তা; ৩. সামাজিক বীমা; ৪. শ্রম ও জীবিকায়ন; ৫. মানব উন্নয়ন, সামাজিক ক্ষমতায়ন ও প্রশিক্ষণ। এই ক্লাস্টারগুলোর আওতাধীন ক্ষেত্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিতে আট থেকে ১০টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি করে কমিটি থাকবে।

আইনটির সুফল সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পৌঁছাতে মোট ছয়টি তদারকি কমিটি থাকবে। আর সার্বিকভাবে বিষয়টি দেখভাল করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। ‘সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় পরিষদ’-এর নেতৃত্বে থাকবেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদসচিবের নেতৃত্বে ৩৫ জন সচিবের ‘কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি’ থাকবে। এর বাইরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তা কমিটিগুলোর প্রধান হবেন।

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’র ১৫ অনুচ্ছেদ থেকেই আলোচ্য আইনটি উৎসারিত। এতে ‘মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা’ শীর্ষক অংশে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদন শক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন।’ এই অনুচ্ছেদের উপদফা ঘ-তে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতৃপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকারী’ হবে মানুষ।

বেকার ভাতা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবিত খসড়ার ‘সামাজিক বীমা ক্লাস্টার’-এর আওতায়। এই ক্লাস্টারটির নেতৃত্বে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এই ক্লাস্টারের মূল কাজের বিষয়ে প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান বীমা কার্যক্রমগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য বার্ধক্য পেনশন, বেকারত্ব ভাতা, দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব, মাতৃত্ব ঝুঁকি ইত্যাদি টেকসই সামাজিক বীমা ব্যবস্থার আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো স্থাপন ও পরিচালনা ব্যবস্থা তদারকি করা।

সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমগুলোর আর্থিক সহায়তা বা ভাতা সরাসরি ‘সরকার থেকে ব্যক্তি’ (জি টু পি) পদ্ধতিতে সম্পন্নের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা’র বিষয়ে খসড়ায় ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা প্রাপ্তির যোগ্যতা ও অযোগ্যতা শর্তগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে ‘দারিদ্র্য স্কোর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, ‘দারিদ্র্য স্কোরভিত্তিক খানা জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় পরিষদ অথবা স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় উপজেলা কমিটি যাচাইপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।’ নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রাপ্তির আবেদন করতে পারবে। আবেদন পাওয়ার পর ‘যথাশীঘ্র’ সম্ভব আবেদন যাচাই-বাছাই করে আবেদনকারীকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

কেউ যদি মিথ্যা তথ্য, অনৈতিক প্ররোচনার মাধ্যমে ভাতা গ্রহণ করে বা একই পদ্ধতিতে কেউ যদি সুবিধা পাওয়ার মতো ব্যক্তিকে নিজ গাফিলতি বা প্রতিবন্ধকতার কারণে বঞ্চিত করে তাহলে উভয় ক্ষেত্রেই প্রস্তাবিত আইনের অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

বেকারত্ব, ব্যাধি, পঙ্গুত্ব, বার্ধক্যসহ অন্যান্য বিষয় ১৯৭২ সালে কার্যকর হওয়া সংবিধানে লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদের ২ দফা অনুযায়ী এসব অধিকারের বিষয়ে আদালতে যাওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এসব নীতির আলোকে আইন প্রণয়ন করা যাবে, কিন্তু ‘আদালতের মাধ্যমে বলবেযাগ্য হইবে না’ অর্থাৎ এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যাবে না।

তবে সরকার যেহেতু এখন নিজ থেকে উদ্যোগ নিচ্ছে এবং প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়ে যদি আইনে পরিণত হয় তাহলে এসব অধিকার পাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তখন যদি কেউ যোগ্য হওয়ার পরও প্রদত্ত সুবিধা না পায় তাহলে আদালতে যেতে পারবে।

জীবনশৈলী হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে, পানি পানে সতর্কতার পরামর্শ

হেপাটাইটিস 'ই' ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে, পানি পানে সতর্কতার পরামর্শ
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

দেশে হেপাটাইটিস ই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এ রোগ প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষকে পানি পানে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে হেপাটোলজি সোসাইটি আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মবিন খান। সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বারডেম হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও হেপাটোলজি সোসাইটির বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ডা. গোলাম আজম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফুল ইসলাম এলিন ও ডা. মো. শাহিনুল আলম।

অধ্যাপক মবিন খানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হেপাটাইটিস ই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা দেশে জন্ডিস হিসেবে পরিচিত। এছাড়া গত বছরের একই সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীতে হেপাটাইটিস ই ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটে।

গবেষণায় বলা হয়, বছরের এ সময় বৃষ্টির কারণে শহর এলাকায় পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আবার গরমের কারণে মানুষের যত্রতত্র অনিরাপদ পানি, শরবত গ্রহণের প্রবণতা বেড়ে যায়। আর এ বছর রমজান মাস গ্রীষ্ম মৌসুমে হওয়ায় এ শঙ্কা আরো বেড়ে যাচ্ছে। তবে জন্ডিসের প্রকোপ গ্রামের চেয়ে শহরাঞ্চলে বেশি।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে জন্ডিসের মূল কারণ হেপাটাইটিস ই ভাইরাস। হেপাটাইটিস ই ভাইরাস পানিবাহিত জীবাণু। বৃষ্টির সময়ে শহরে সুয়ারেজ লাইন থেকে পানির লাইন দূষিত হয়।

গবেষণায় বলা হয়, ২০০৪ সালে বন্যার পর ঢাকা শহরে ব্যাপক আকারে একিউট ই ভাইরাল (হেপাটাইটিস) ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক ছাত্র আক্রান্ত হয় এবং এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিসের (জন্ডিসের) ক্ষেত্রে ৫০-৭০ শতাংশ দায়ী হেপাটাইটিস ই ভাইরাস। আর আক্রান্তদের তিন-চতুর্থাংশই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী (২০-৫৫ বছর)। এ ভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে ১৫-৪৫ দিন বিশ্রাম নিতে হয়। সাধারণভাবে মৃত্যুর হার এক ভাগের কম। তবে গর্ভবর্তী মায়েরা আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ।

আতঙ্কিত না হয়ে হেপাটাইটিস ই ভাইরাস প্রতিরোধে নগরবাসীকে ছয়টি পরামর্শ দিয়েছে হেপাটোলজি সোসাইটি। সেগুলো হলো, বিশুদ্ধ পানি পান ও ব্যবহার নিশ্চিত করা (পানি ৩০ মিনিট ফুটিয়ে অথবা বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে), হোটেলে, ঘরে বাসি খাবার বর্জন, রাস্তার খোলা জায়গার শরবত ও খাবার বর্জন, খাওয়ার আগে ও মল ত্যাগের পরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়া, বাসার পানির ট্যাংক চার মাস পরপর ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি দিয়ে পরিষ্কার করা এবং চোখ হলুদ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

ঘামাচি দূর করতে যা করতে হবে

বেশ কিছুদিন ধরেই কাঠফাটা রোদ আর প্রখর তাপ ওষ্ঠাগত প্রাণ। বৃষ্টির দেখা নেই। এই গরমে ডায়েরিয়া, কলেরা, এলার্জি, ঘামাচি, জ্বরসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। তবে গরমে একটি সমস্যা খুব বেশি দেখা দেয় তা হল ঘামাচির সমস্যা।

ঘামাচির কারণে শরীর চুলকায়। কাপড় পরে শান্তি পান না আপনি। ঘামাচির সমস্যা অনেকের থাকলেও বেশিরভাগ মানুষই জানেন না যে ঘামাচি তাড়াতে ঘরোয়া উপায়ই যথেষ্ট।

আপনি চাইলে প্রাকৃতিক উপায়ে তাড়াতে পাড়েন ঘামাচি। কিছু উপাদান রয়েছে যেমন- টুকরো বরফ, অ্যালোভেরা, চন্দনের গুঁড়ো ও হলুদ গুঁড়ো ঘামাচি তাড়াতে বেশ কার্যকর।

ঘামাচিতে আমরা সাধারণত বাজার থেকে কিনে আনি বিভিন্ন ধরনের পাউডার। কিছু পাউডার বা সাবান এই সমস্যা থেকে দূর করতে পারে বলে প্রস্তুতকারী সংস্থারা দাবি করলেও, তাতে নানা রাসায়নিক মেশানো থাকে। ফলে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঘামাচির সমস্যায় আরাম দিতে পারে ঘরোয়া উপায়। আসুন জেনে নেই ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে ঘামাচি তাড়াবেন-

১. কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ নিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে ঘামাচির উপর ভালোভাবে লাগান। এতে ভালো ফল পাবেন।

২. ৪ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে এক চা চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। এরপর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

৩. এক কাপ ঠাণ্ডা পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড় ডুবিয়ে ঘামাচির উপর ১০ মিনিট পর্যন্ত রেখে আলতো হাতে মুছতে থাকুন।

৪. ঘামাচি তাড়াতে অ্যালোভেরা ভালো কাজ করে। ঘামাচির উপর শুধু অ্যালোভেরার রস বা হলুদের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৫. ঘামাচি তাড়াতে নিমপাতা খুব ভালো কাজ করে। নিমপাতার রসের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। ঘামাচি না চুলকে তার উপর নিমডাল বোলালেও আরাম পাবেন।

৬. ২ টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। ফল পাবেন খুব তাড়াতাড়ি।

৭. ৩ টেবিল চামচ ওটমিলের সঙ্গে অর্ধেক টেবিলচামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।

এক লক্ষ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলো এই মোরগ!

মোরগের দাম এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তাও আবার পোষা মোরগ। অবাক হবেন না, ঠিকই পড়ছেন। একটি মোরগের দাম এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা।

কেরলের কোট্টায়ামের একটি চার্চে সম্প্রতি নিলামে এই অবিশ্বাস্য দাম ওঠে ওই মোরগটির।

কোট্টায়ামে পোনপল্লি সেন্ট জর্জ জ্যাকোবিট সিরিয়ান অর্থোডক্স চার্চে প্রতিবছর একটি মোরগ নিলাম হয়। এর আগে একবার সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয় একটি মোরগ। তারপর গত বছর সব রেকর্ড ছাপিয়ে যায়, সেবার একটি মোরগ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

প্রতিবছর এই চার্চে উত্সবের অঙ্গ হিসাবে এই মোরগ নিলাম হয়। প্রথা হল, চার্চে উৎসবের সময় এলাকার মানুষ সেখানে রুটি ও মোরগ দান করেন। মোরগ রান্না করে রুটির সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করে চার্চ। কিন্তু একটি মোরগ রেখে দেওয়া হয়।

সেটিকে বলা হয় ‘পন্নুম কোঝি’। এটিকেই নিলামে তোলা হয়। যে সব থেকে বেশি দর দেন তিনিই পান এই মোরগ।

গত ১৮ বছর ধরে মনোজ জোসেফ নিলামে এই মোরগ কিনছেন। মনোজ কোট্টায়ামেরই মানুষ। তিনি কোয়ম্বত্তুরে ব্যবসা করেন। চার্চ সংলগ্ন এলাকার এক মহিলাকে ১৮ বছর আগে বিয়ে করেন। তারপর থেকে প্রতিবছর নিলামে অংশ নেন। আর প্রতিবার তিনিই জেতেন নিলাম।

তবে এবার যে দামে তিনি মোরগটি কিনলেন তা রেকর্ড। এবার তিনি এক লক্ষ ১০ হাজার টাকায় মোরগটি কেনেন। যেটির বাজার দর হবে বড় জোর ৫০০ টাকা।

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ

ইসলামের ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। যাকাতের আভিধানিক অর্থ পরিশুদ্ধ হওয়া,বৃদ্ধি পাওয়া। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে ৮২ স্থানে নামাজের সাথে সাথে যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, দৈহিক ইবাদত হিসেবে নামাজ যেমন খুবই জরুরি, তেমনি আর্থিক ইবাদত হিসেবে যাকাতও খুবই জরুরি।

ইসলামে প্রতিটি অবস্থাপন্ন মুমিনের জন্য যাকাত আদায় একটি অবশ্য কর্তব্য বা ফরজ বলে বিবেচিত। যাকাত আদায় যাদের জন্য ফরজ তারা তা আদায় না করলে পরকালে তাদের কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। ইসলামী বিধান অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা সঞ্চয় থাকলে যাকাত আদায় বাধ্যতামূলক। সাধারণত দরিদ্র আত্দীয় স্বজন, দুস্থজন যাকাতের প্রধান দাবিদার।

যাকাতের হক্বদার প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘য়ালা ইরশাদ করেন: “এ সদকা (যাকাত) তো ফকির-মিসকিনদের জন্য, যারা সদকার কাজে নিয়োজিত তাদের জন্য, যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্থদের জন্যে, আল্লাহর পথে এবং মুসাফেরদের জন্যে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ফরয বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবাহ-৬০)

যাকাত ফরজ হবার কিছু শর্ত রয়েছে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ :

১. নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া। অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা,কিংবা সমপরিমাণ মূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার মালের মালিক হওয়া।

২. মুসলমান হওয়া। কাফেরের উপর যাকাত ফরজ নয়।

৩. বালেগ হওয়া। নাবালেগের উপর যাকাত ফরজ নয়।

৪. জ্ঞানী ও বিবেক সম্পন্ন হওয়া। সর্বদা যে পাগল থাকে তার নেসাব পরিমাণ মাল থাকলেও তার উপর যাকাত ফরজ নয়।

৫. স্বাধীন বা মুক্ত হওয়া। দাস-দাসীর উপর যাকাত ফরজ নয়।

৬. মালের উপর পূর্ণ মালিকানা থাকা। অসম্পূর্ণ মালিকানার উপর যাকাত ফরজ হয় না।

৭. নেসাব পরিমাণ মাল নিত্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অতিরিক্ত হওয়া।

৮. নেসাব পরিমাণ মালের উপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া।

৯. মাল বর্ধনশীল হওয়া। যাকাতের ফজিলত, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যা কিছু (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দান করবেন। আর তিনিই উত্তম রিজিকদাতা। (সুরা সাবা,আয়াত:৩৯)

চিরস্থায়ী জাহান্নামের অধিবাসী যারা

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আর যখন কাফেরের জান (রূহ) কবজ করা হবে এবং তা নিয়ে জমিনের দরজা পর্যন্ত যখন পৌঁছানো হবে; তখন জমিনের পাহারাদার বলবেন, এর চেয়ে পঁচা দুর্গন্ধ আর কখনো আমরা পাইনি। অতঃপর উহা নিম্নতর জমিনে (জাহান্নামের) পৌঁছে দেয়া হবে। (মুসতাদরেকে হাকেম, ইবনে হিব্বান) যারা জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা হবে আল্লাহ তাআলা তাদের পরিচয় কুরআন এবং হাদিসে তুলে ধরেছেন। কাফের, মুশরেক এবং আকিদায় কপট মুনাফিকরাই চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে।

আর তাওহীদপন্থী পাপীরা অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী গোনাহগার ব্যক্তিরা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন থাকবে। তিনি চাইলে তাদেরকে মাফ করে দিবেন অথবা তাদের পাপের সমান শাস্তি দেয়ার পর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

জাহান্নামের অধিবাসীদের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন মুনাফিক নারী-পুরুষ এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের; তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী আজাব।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ৬৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নি:সন্দেহে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করবেন না, যে আল্লাহর সাথে শরিক করে। তিনি ক্ষমা করবেন এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৪৮)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাওহিদ পরিপন্থী আক্বিদা ও মুনাফেকিমুক্ত জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলার প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সিক্রেট সার্ভিসের ১২টি অজানা তথ্য

সিক্রেট সার্ভিস নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে জেমস বন্ড বা মিশন ইম্পসিবল ছবির ইথান হান্টের মতো কোনো এক দুর্ধর্ষ এজেন্টের ছবি, যে চোখের নিমেষেই হারিয়ে দিতে পারে তাঁর প্রতিপক্ষকে। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, অসাধারণ সব কৌশল ও দুর্দান্ত সব অ্যাকশন—সবকিছু মিলিয়েই সিক্রেট সার্ভিস যেন স্বপ্নের এক চরিত্র। তবে হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্র, ধারাবাহিকগুলোতে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় আসলে তাঁরা সে রকমটি নন। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রেও অনেকখানি মিলেও যায় তাঁদের সঙ্গে। তাই হলিউড ছবির অপেক্ষায় না থেকে চলুন ব্রাইট সাইটের সৌজন্যে এক নজরে জেনে নিই সিক্রেট সার্ভিসের বারোটি অজানা তথ্য।

১. আব্রাহাম লিংকনের মৃত্যুর দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় সিক্রেট সার্ভিস

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব হিউ ম্যাককুলোকের মাথা থেকে বের হয় সিক্রেট সার্ভিস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা। আব্রাহাম লিংকন মারা যান ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে। সেদিন দুপুরেই সিক্রেট সার্ভিস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা লিংকনের কাছে বর্ণনা করেন হগ। তাঁর পরের দিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সিক্রেট সার্ভিস। তবে সিক্রেট সার্ভিস প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ জালিয়াতদের পাকড়াও করা। কিন্তু আব্রাহাম লিংকনের মৃত্যু বদলে দেয় সিক্রেট সার্ভিসের মূল উদ্দেশ্য।

২. চ্যালেঞ্জিং প্রশিক্ষণ

সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্টকে একাই ১০ জনের সমান হয়ে উঠতে হয়। তাই পৃথিবীর অন্য যেকোনো বাহিনী থেকে আলাদা ও কঠিন প্রশিক্ষণের মুখোমুখি হতে হয় প্রত্যেক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে। তাঁদের ছুড়ে ফেলা হয় তীব্র স্রোতের জলে অথবা মুখোমুখি করা হয় ভয়াবহ কোনো বন্দুকযুদ্ধের। যেখানে বেঁচে থাকতে হলে অপরকে হত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে প্রশিক্ষণ অবস্থায় তাঁদের করা গুলিতে মারা যায় না কেউই। বিশেষভাবে তৈরি করা বুলেট দিয়ে এই প্রশিক্ষণ পর্বটি সম্পন্ন করা হয়। এ ছাড়া চিকিৎসাবিদ্যাও শেখানো হয় সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে আহত কাউকে ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারার দক্ষতা রয়েছে সব সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টের। এমনকি তাঁরা রাষ্ট্রপতির কোথাও যাওয়ার রাস্তা এমনভাবে নির্বাচন করেন, যাতে ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতাল যেতে ১০ মিনিট সময় লাগে।

৩. কর্মজীবন শেষ হয় তিনটি ধাপে

সিক্রেট সার্ভিসে ঢুকেই ফিল্ড এজেন্ট হিসেবে নাম লেখাতে পারবেন না আপনি। প্রথমে আপনাকে তিন বছরের জন্য অফিসে বসেই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জিং কাজের মুখোমুখি হতে হবে। এরপর নির্বাচিতদের নামানো হবে মাঠ পর্যায়ের মিশনে। প্রায় চার থেকে সাত বছর ফিল্ড এজেন্ট হিসেবে কাজ শেষে আবারও সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে ফিরতে হবে অফিসে। অবসর পর্যন্ত অফিসেই পার করতে হয় বাকি জীবন।

৪. সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য সংখ্যা আমাদের ভাবনার চেয়েও বেশি

হলিউড ছবি দেখে আমাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে যে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য সংখ্যা বুঝি খুবই কম। হয়তো বা ১০০ জনের বেশি হবে না। তবে আমাদের ধারণা ভুল। কোনো কোনো দেশের সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য সংখ্যা হাজারের ওপরে।

৫. নিজেদের সদর দপ্তর গোপন রাখেন সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা

সিক্রেট সার্ভিসের সদর দপ্তরের ঠিকানা জানা নেই কোনো সাধারণ মানুষের। আর সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরাও গোপন রাখেন তাঁদের সদর দপ্তরের ঠিকানা।

৬. সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা বাইরে কখনই রোদচশমা পরেন না

হলিউডের বিভিন্ন ছবিতে কালো রঙের পোশাক ও কালো রঙের রোদচশমায় চোখ ঢাকা থাকে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের। তবে আদতে তা নয়। ছবির মতো কালো রঙের পোশাক পরলেও বাইরে কালো রঙের রোদচশমা কখনই চোখে দেন না তাঁরা। এর পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কারণ। তাঁরা চান না, গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিশনে আলোর স্বল্পতার কারণে কোনো কিছু বাদ পড়ে যাক।

৭. তাঁরা সব সময় তৈরি থাকেন

সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সব সময় তৈরি থাকেন। হাত ও আঙুলের অবস্থান আলাদা হলেও তাঁদের হাত সব সময় ভাঁজ অবস্থায় বুকের কাছাকাছি থাকে। এতে দ্রুত বুকের কাছে ঝুলিয়ে রাখা অস্ত্র বের করা যায়।

৮. তাঁরা শুধু প্রেসিডেন্টকেই সুরক্ষা দেন না

যদি ধারণা করেন যে শুধু প্রেসিডেন্টকেই সুরক্ষা দেন সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা, তাহলে সে ধারণা ভুল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবার, সাবেক প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্টের অতিথি সবাইকেই সুরক্ষা প্রদান করেন সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা। এমনকি প্রেসিডেন্ট যাকে চান, তাঁকে সুরক্ষা দিতেও বাধ্য থাকেন তাঁরা।

৯. প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষ নাম

প্রতিটি প্রেসিডেন্টের জন্য আলাদা কোডনেম বা বিশেষ নাম ব্যবহার করেন সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যেমন বারাক ওবামার কোডনেম ছিল রেনেগেড, তাঁর স্ত্রী ফার্স্ট লেডির নাম ছিল রেনিয়াইসেন্স, দুই মেয়ের নাম ছিল রেডিয়েন্স ও রোজবাড।

১০. অংশ নেন প্রেসিডেন্টের সব ধরনের শখ পূরণে

প্রেসিডেন্টের পাশে ছায়ার মতো লেগে থাকেন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। এমনকি তাঁদের অংশ নিতে দেখা যায় প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন শখ পূরণেও। যেমন জগিং, পাহাড়ে চড়া সবকিছুতেই পাশে থাকেন সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা। এমনকি ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার সময় পাশে থাকেন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা।

১১. প্রেসিডেন্টের জন্য প্রাণ দেওয়ার অঙ্গীকার তাঁরা করেন না

বিভিন্ন হলিউড ছবিতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্টের জন্য মারা যেতেও প্রস্তুত থাকেন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। তবে আসলে তা নয়। সিক্রেট সার্ভিসের ইতিহাসে মাত্র একজন এজেন্টই মারা গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টকে বাঁচাতে গিয়ে। ১৯৫০ সালের ১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যান লেসলি কোফেল্ট।

১২. মাঝেমধ্যে তাঁরা ব্যর্থও হন

সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা যথেষ্ট চৌকস হলেও তাঁরাও মানুষ। মাঝেমধ্যে তাঁদেরও ভুল হয়, ব্যর্থ হন। একবার বারাক ওবামা লিফটে ওঠার সময় তাঁকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে বসেন এক যুবক। সবচেয়ে বড় কথা, সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হোয়াইট হাউসের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকেন সে যুবক।

উন্নতির অন্তরালে মানুষের আর্তনাদ!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘বলা হচ্ছে দেশের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এই উন্নতির অন্তরালে মানুষ আর্তনাদ করছে। রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা আমরা ’৭১ সালেই দেখেছিলাম। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে ধর্ষণ। এসব অন্যায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’ ১০ মে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, ‘দৃশ্যমান দুর্ভিক্ষ না থাকলেও দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কিনা আমার জানা নেই।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি নুসরাত জাহানের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত। সবাই মিলে প্রমাণ করতে চাইলো যে, নুসরাত আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। ইতোমধ্যে একজন নার্সকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো।’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদে পদোন্নতি নিতে গিয়ে ধরা পড়েন। যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবেন তারাই যদি দুর্নীতি করেন, তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কী তা সহজেই অনুধাবন করা যাচ্ছে।
দেশের উন্নতি এবং মানুষের আর্তনাদ প্রসঙ্গে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যে বক্তব্য রেখেছেন তা ভেবে দেখার মতো। কাঠামোগত ও দৃষ্টিগ্রাহ্য কিছু উন্নতি তো দেশের হয়েছে। কিন্তু আর্তনাদের বিষয়গুলো কেমন? জানমালের নিরাপত্তা মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর দিনের পর দিন নারীদের যে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হচ্ছে, তা জনমনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। সবার মনে একই প্রশ্ন- এ কোন সমাজে আমাদের বসবাস? রাষ্ট্র কেন মানুষের জীবন ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা দিতে পারছে না? মানুষের নিরাপত্তাহীনতা ও ধর্ষণের দৌরাত্ম্য দেখে দেশের প্রবীণ ওই অধ্যাপক বীভৎস ৭১ সালের কথা স্মরণ করেন। এমন চিত্র আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক।
দেশের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কিনা আমার জানা নেই। এ কথার তাৎপর্য অনেক গভীর। আজকে রাজনীতির প্রতি মানুষের যে অনীহা, চারিদিকে মাদক, গুম, হত্যা ও ধর্ষণের যে দৌরাত্ম্য তা সুশাসনের অভাবের কথাই শুধু নয়, দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির কথাও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রজারঞ্জন রাজনীতির কথা আমরা কিছুদিন ধরে শুনে আসছি, আর এখন দেখছি গণতন্ত্রহীন একদলীয় রাজনীতির মহাপ্রতাপ। সাথে চাতুর্যের ছলাকলা তো আছেই। তাই এখানে বলার মতো কথা হলো, গণতন্ত্রতহীন প্রতাপ ও চাতুর্যের রাজনীতি দিয়ে কখনো মানুষের মন জয় করা যায় না। কারণ এমন রাজনীতি দিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, জনগণের ভাগ্যও বদল হয় না। মানুষ চায় গণতন্ত্র এবং সবার উন্নয়ন। সুশাসন, জানমালের নিরাপত্তা এবং সম্ভ্রম রক্ষার দাবিও মানুষের মৌলিক দাবি। এসব বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের যৌক্তিক ভূমিকা দেশের মানুষের কাম্য।

কীভাবে এলো ইংরেজী ১২ মাসের নাম
আসুন জেনে নিই ইংরেজী গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১২ মাসের নাম কীভাবে এবং কোথা থেকে এসে এই নামগুলি জুড়ে গেলো।

‎জানুযায়ী:‬ রোমান দরজা এবং ফটকের দেবতা “জানুস” থেকে। “জানুস” যেহেতু শুরুর দেবতা তাই জুলিয়াস সিজার এটিকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে প্রচলন করেন।

ফেব্রুয়ারী:‬ জানুয়ারী এবং ফেব্রুয়ারী এ দুটোই ছিল প্রথম দিকের রোমান পঞ্জিকার শেষ দুই মাস। খ্রীস্টপূর্ব ৭১৩ অব্দে রোমান সম্রাট “ডিসেম্ভ্রিস” এসে ফেব্রুয়ারীকে বছরের দ্বিতীয় দিন হিসেবে প্রচলন করেন। ফেব্রুয়ারী মাসের নামটি এসেছিল- ইটালীয়ান দেবতা “ফেব্রুস” এর নাম থেকে। অনেকের মতে এটি হতে পারে, জানুয়ারী এবং ফেব্রুয়ারী প্রচলের আগে রোমানরা যে সময়ে ( রোমান- ফেব্রুয়া ) প্রথম আনন্দ উৎসব করেছিল নতুন বছরের সেই নাম থেকে।

‪মার্চ‬: এটি হল রোমান ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস। রোমানদের বছর মার্চ মাস দিয়েই শুরু হতো। মার্চ নামটি এসেছিল- রোমান যুদ্ধ দেবতা – মার্স(mars) এর নামানুসারে।

এপ্রিল‬: এপ্রিল মাসের নামকরণের পিছনে তিন ধরণের মতবাদ আছে। প্রথমত, এটি হতে পারে ল্যাটিন শব্দ “এপ্রিল” যার অর্থ দ্বিতীয় কারণ এই মাসটি ছিল সেসময়ের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের দ্বিতীয় মাস। দ্বিতীয়ত, এটি হতে পারে ল্যাটিন শব্দ “aperire” অনুযায়ী যা দিয়ে বুঝানো হতো শুরু। তৃতীয়ত, অনেকের মতে এটি এসেছে “Aphrodite” দেবতার নামানুসারে।

‎মে: মে মাসের নাম এসেছিল রোমানদের উদ্ভিদের জন্মদাতা দেবতা “maia” থেকে।

‪‎জুন‬: এই মাসটি ছিল রোমানদের বিবাহের মাস। এই মাসের নাম তাই রাখা হয়েছে তাদের দেবতার রাণী “Juno” র নাম অনুসারে।

‪জুলাই‬: জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম পাল্টে রাখা হয় “জুলাই”।

‪অগাস্ট‬: বিখ্যাত রোমান সম্রাট অগাস্টাসের নামানুসারে “সেক্সটিলিস” মাসের নাম হয় “অগাস্ট”।

‪সেপ্টেম্বর‬: প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে সপ্তম মাসের অনুযায়ী ল্যাটিন শব্দ “সেপ্টেম” থেকে এসেছে এই মাসের নাম যার অর্থ “সাত”।

‪অক্টোবর‬: এই নামটি এসেছে একইভাবে পুরানো রোমান বছরের “অক্টো” থেকে যার অর্থ আট।

‎নভেম্বর: এই নামটি এসেছে ল্যাটিন “নভেম” থেকে যার অর্থ নয়।

‪‎ডিসেম্বর‬: এসেছে রোমান প্রাচীন ক্যালেন্ডারের দশম মাস “ডিসেম” থেকে যার অর্থ দশ।

রোজা ও কুরআনের শাফায়াত

বছরের বারটি মাসের মধ্যে রমজান মাসের রোজা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ফরজ করেছেন এবং এই মাসেই তিনি পৃথিবীতে কুরআন নাজিলের কাজ শুরু করেছেন। তাই রোজা এবং কুরআন মুসলিম মিল্লাতের জন্য আল্লাহ পাকের দেয়া অনন্য নেয়ামত। এই নেয়ামত রোজ কিয়ামতে রোজাদারদের জন্য শাফায়াত করবে। এ প্রসঙ্গে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে অমর (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন : রোজা ও কুরআন রোজাদার বান্দাহর জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে শাফায়াত করবে। রোজা ফরিয়াদ করবে, হে আল্লাহ। আমিই এই বান্দাহকে রোজার দিনগুলোতে পানাহার ও কামাচার প্রভৃতি চরিতার্থ করা হতে দূরে সরিয়ে রেখেছি। সুতরাং তুমি এই বান্দাহর জন্য আমার শাফায়াত কবুল কর। আর কুরআনুল কারীম ফরিয়াদ জানাবে- হে আল্লাহ! আমিই এই বান্দাহকে রাত্রিকালে সুখনিদ্রা হতে বিরত রেখেছি। অতএব, এই বান্দাহর জন্য আমার শাফায়াত মঞ্জুর কর। (এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তারপর এই দুটি জিনিসের শাফায়াত কবুল করা হবে। (বায়হাকী: শুআবুল ঈমান)
এ হাদীস হতে স্পষ্টতঃই জানা যায় যে, যারা ঈমান ও ইহতেসাবসহ মাহে রমজানের রোজা পালন করবে, রোজ কিয়ামতে তাদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাবে। রোজা শুধুমাত্র আল্লাহপাকের রেজামন্দি ও খোশনুদী অর্জনের লক্ষ্যেই পালন করা হয় এবং রোজা আল্লাহপাকেরই ফরজ করা অনুষ্ঠান। পৃথিবীতে রোজার কোন দৈহিক অস্তিত্ব পরিলক্ষিত না হলেও কিয়ামতের দিন ইহা শরীরী রূপধারণ করবে এবং রোজাদারের জন্য সুপারিশ করবে। এই সুপারিশ মহান আল্লাহর দরবারে অবশ্যই কবুল হবে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি রোজার রাতগুলোতে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করবে, অন্যের তিলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করবে, কুরআনের মহব্বতেই রাত্রের সুখনিদ্রা পরিহার করবে, আল-কুরআন সশরীরে আল্লাহপাকের দরবারে তার জন্য সুপারিশ করবে। আল কুরআন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের নিজের কালাম। এই কালামে পাকের সুপারিশ কোনক্রমেই আল্লাহ পাক প্রত্যাখ্যান করবেন না।
মোটকথা, যে রোজাদার এই দুইটি জিনিসের সুপারিশ ও শাফায়াত লাভ করবে সে রোজ কিয়ামতে সৌভাগ্যের অধিকারী হবে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। এ জন্য রোজা রাখা যেমন আবশ্যক, তেমনি কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করাও বাঞ্ছনীয়।

লক্ষণ ও প্রতিরোধ
শিশুদের মধ্যে এনএএফএলডি-র লক্ষণ

এনএএফএলডি-র ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় শিশুদের কোনও লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় না। আল্ট্রাসাউন্ড এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্ণয় করা যায়।
শিশুদের এনএএফএলডি প্রতিরোধের উপায়

প্রতিরোধের কয়েকটি উপায় হল :

শিশুদের জাঙ্ক ফুড (যেমন পটেট চিপস) না খেতে উৎসাহ দেওয়া। যে সব খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে চর্বি, নুন এবং কার্বোহাইড্রেট আছে, তা ব্লাড সুগার এবং কোলস্টোরেল মাত্রাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এই সব খাদ্য শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে চর্বি জমা করে যার ফলে ওজন বেড়ে যায়।
শিশুদের সঠিক সময়ে খাদ্যগ্রহণ এবং পুষ্টিকর খাদ্য খেতে পরামর্শ দেওয়া।
টিভি দেখতে দেখতে খেতে নিষেধ করা উচিত। কারণ এ ভাবে বেশি পরিমাণ খাওয়া হয়ে যায়।
শিশুদের মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন সফট ড্রিকংস খেতে নিষেধ করতে হবে। এর বদলে ফলের রস বা তেষ্টা পেলে সাদা জল খাওয়া স্বাস্থ্যকর।
যে ধরনের খেলাধূলায় বেশি শরীরিক কসরত হবে সেই ধরনের খেলা খেলতে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। দৌড়-ঝাঁপের খেলায় তাদের শরীরের ওজন কমবে।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গ হিসাবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।

প্রতিদিন কাঁচা পেঁয়াজ খেলে কি উপকার হয়?

'যত কাঁদবেন, তত হাসবেন'- পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এই কথাটা দারুণভাবে কার্যকরী। কারণ এই সবজি কাটতে গিয়ে চোখ ফুলিয়ে কাঁদতে হয় ঠিকই। কিন্তু এই প্রাকৃতিক উপাদানটি শরীরেরও কম উপকার লাগে না! একাধিক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হয়েছে- পেঁয়াজের শরীরে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারী উপাদান একাধিক রোগের চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন:-

মুখের গন্ধ দূর করে
কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মুখ গহ্বরের উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াগুলো মরতে শুরু করে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। সেই সঙ্গে মাড়িতে নানাবিধ রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল-এর মাত্রা বাড়িয়ে একদিকে যেমন শরীরকে চাঙ্গা রাখে, তেমনি অন্যদিকে খারাপ কোলেস্টরলের পরিমাণ কমিয়ে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এভাবে নিজের বিশেষ ক্ষমতা বলে পেঁয়াজ আমাদের আয়ু বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

জ্বরের প্রকোপ কমায়
ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটা পিঁয়াজ কেটে নিন। তার সঙ্গে অল্প করে আলু এবং ২টা রসুনের কোয়া মিশিয়ে মোজার মধ্যে রেখে সেই মোজা পরে ঘুমাতে যান। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন সুস্থ হতে শুরু করেছেন।

ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে রাখে
একেবারে ঠিক শুনেছেন! ২১ শতকের সব থেকে ভয়ঙ্কর এই রোগকে দাবিয়ে রাখতে পেঁয়াজের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সবজিটিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপদান রক্তে শর্করার মাত্রাকে বাড়তে দেয় না। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের ঘাটতি যাতে দেখা না দেয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বৃদ্ধির সুযোগই থাকে না।

ইনসোমনিয়া মতো রোগের প্রকোপ কমায়
আপনি কি রাতের তারা? ঘড়ির কাঁটা সকালের দিকে এগিয়ে গেলেও চোখের পাতা এক করতে পারেন না? তাহলে তো প্রতিদিনের ডায়েটে পেঁয়াজের থাকা চাইই চাই। কারণ ইনসোমনিয়ার মতো রোগের উপশমে এই সবজিটি দারুণ কাজে আসে।

আঁচিল দূর করে
গোল করে পেঁয়াজ কেটে আঁচিলের উপর রেখে একটা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিন। যাতে সেটি পরে না যায়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এমনটা করলে অল্প দিনেই দেখবেন আঁচিল খসে পড়ে গেছে।

স্মৃতি শক্তির উন্নতি ঘটায়
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুসারে নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তির যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে একাধিক ব্রেন ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখে
ব্রেন, কোলোন এবং ঘাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শূন্যতে এসে দাঁড়ায় যদি প্রতিদিন পেঁয়াজ খাওয়া যায়। কারণ এই সবজিটিতে উপস্থিত বেশকিছু উপাদান শরীরের অন্দরে ক্যান্সার কোষের জন্ম হতে দেয় না। ফলে এমন ধরনের মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

কাশির প্রকোপ কমায়
একটা পেঁয়াজকে কেটে নিয়ে তার রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর তাতে কয়েক ড্রপ মধু মিশিয়ে এই মিশ্রণ দিনে কম করে দুইবার পান করলেই কাশি কমে যেতে শুরু করবে।

হোম জীবন ধারা ছুটির দিনে যে ৪টি কাজ করলে সাফল্য অনিবার্য

* সাফল্যের সিংহাসনে যারা বসেন, তারা আর পাঁচজনের মতোই রক্তমাংসের মানুষ। জীবনে চলার পথে কী এমন বিশেষ কাজ করেন তারা, যা ব্যর্থ মানুষেরা করেন না।

সেই উত্তরে আসার আগে শুরুতেই যা বলা দরকার তা হলো- আমরা সারাদিনে যা যা করি, তার ৪০ শতাংশই আমাদের অভ্যাস।
কথায় আছে, মানুষ অভ্যাসের দাস। এই অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রতিটি সফল মানুষ নিজেকে এমন অভ্যাসের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত করেন, যা ব্যর্থ মানুষেরা করেন না। অবসর সময়ে বা ছুটির দিনে কিছু বিশেষ কাজ করেন তারা। সেগুলো পাঠকদের জন্য আলোচনা করা হলো।

১। লক্ষ্যে এগুনোর উপায় খোঁজা : সফল মানুষেরা অবসর সময়ে বা ছুটির দিনে টিভি দেখে বা ইন্টারনেটে সময় নষ্ট করেন না। বরং অবসর সময় অতিবাহিত করেন লক্ষ্যে এগুনোর উপায় খুঁজতে। যদি ব্যবসাই ধ্যানজ্ঞান হয়, সেক্ষেত্রে কী করলে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানো যাবে, সেই হিসেব ঠিক করেন তারা। আর যদি চাকরিজীবী হন, সেক্ষেত্রে কী করলে আরও উপরে ওঠা যাবে, সেই পদক্ষেপের সন্ধানে থাকেন তারা।

২। আয়-ব্যয়ের হিসাব করা : জীবনে তারাই সফল হন, যারা আয়ের তুলনায় কম ব্যয় করেন, সঞ্চয়ের দিকে আর বিনিয়োগের দিকেই বেশি মনোযোগী হন। সাপ্তাহিক কতটা আয় আর কতটা ব্যয় হচ্ছে, ছুটির দিনে ঘরে বসে সেসবের একটি নির্দিষ্ট হিসেব কষেন সফল মানুষেরা।

৩। ধ্যান : ধ্যান মনকে শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে রোজকার ব্যস্ত জীবনে ধ্যানের জন্য আলাদা করে সময় বের করা সবসময় সম্ভব হয় না। তাই অন্তত ছুটির দিনে খানিকটা সময় ধ্যানের জন্য বরাদ্দ রাখেন সফল ব্যক্তিরা। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান করেন।

৪। বই পড়া : বহু গবেষণায় আগেও জানা গেছে- সফল মানুষের অন্যতম হাতিয়ার হল বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিপুল জ্ঞান। বলাই বাহুল্য, নিয়মিত বই পড়েন তারা। এর মাধ্যমেই বাড়ে জ্ঞান। তবে যদি কাজের চাপে সময় না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ছুটির দিনে অবশ্যই বই পড়েন সফল ব্যক্তিরা। তাই ছুটির দিনে বই পড়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।


এই গরমে অসহ্য মাথাব্যথার এই ৬টি কারণ অবহেলা করলেই বিপদ, সতর্ক হন
গরমে রোদে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিন্তু গরম বা রোদের সঙ্গে মাথাব্যথার সত্যি কি কোনো সম্পর্ক আছে? হ্যাঁ, আছে। বেশ কয়েকটি কারণে এই গরমে আপনি মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন।

প্রথমটি হলো পানিশূন্যতা। খুব ঘেমে গেলে আমরা শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ হারাই। এর ফলে শরীর পানিশূন্য হয়, ইলেকট্রোলাইট বা লবণের তারতম্য হয়। এর একটা উপসর্গ হলো মাথা ধরা, মাথা ঝিমঝিম করা, স্পষ্ট চিন্তা না করতে পারা। আসুন জেনে নেই আরো কিছু কারণ।

১. ঘামে ভিজে সাইনোসাইটিস

গরমে ঘামে ভিজে ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সাইনোসাইটিসের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ফলে নাক বন্ধ, সর্দি জমার সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন। সাইনাসের ভেতর পুঁজ বা সর্দি জমার কারণে এমন হয়। সাইনোসাইটিসের ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন।

২. ঘামে চুল ভিজে মাথাব্যথা

চুল ঘেমে গিয়ে (বিশেষ করে মেয়েদের ও ছোট শিশুদের) ঠান্ডা লাগার মতো হয় ও মাথাব্যথা শুরু হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘেমে গেলে দ্রুত মাথা ও শরীর মুছে ফেলতে হবে, ভেজা জামাকাপড় পালটে ফেলতে হবে। পাতলা সুতি জামাকাপড় পরবেন।

৩. প্রখর রোদে মাইগ্রেনের ব্যথা

গরম, বিশেষ করে প্রখর রোদে মাইগ্রেনের রোগীদের মাথাব্যথা শুরু হওয়া বিচিত্র নয়। এ ছাড়া গরমে আইসক্রিম, চকলেট জাতীয় খাবার খেলেও মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে। সূর্যের তীব্র আলো চোখে পড়লে এই মাথাব্যথা শুরু হয়। তাই রোদ থেকে বাঁচতে রোদচশমা বা ছাতা ব্যবহার করা উচিত। দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বেরোনো, বিশেষ করে কোলাহলময় এলাকা যেমন মার্কেট, মেলা ইত্যাদি জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে মাইগ্রেন রোগীদের।

৪. পানির অভাবে মাথাব্যথা

সাধারণ ক্ষেত্রে শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে মাথাব্যথা শুরু হয়। গরমকালে ঘামের মাধ্যমে শরীর প্রচুর পানি হারায়। এই হারানো পানি ও লবণ আবার যথাযথভাবে পূরণ না করা হলে দেহে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা এমনকি লবণের তারতম্য। যাঁরা দীর্ঘ সময় বাইরে গরমে ও রোদে কাজ করেন, তাঁদের এই আশঙ্কা বেশি। তাই গ্রীষ্মকালে প্রচুর পানি পান করা উচিত। সকালে ঘুম থেকে উঠেই পর পর দুই গ্লাস পানি পান করে নিন, তারপর সারা দিনে অন্তত আরও দেড়-দুই লিটার। গলা, জিব শুকিয়ে আসা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়ার লক্ষণ পানিশূন্যতা। এমনটা বোধ করলে সতর্ক হন, ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন ও প্রচুর পানি পান করুন।

৫. খাওয়াদাওয়ায় সমস্যা থেকে মাথাব্যথা

এই গরমে কিছু খেতে ইচ্ছে না হলেও, খাওয়ার সময়গুলি (ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, স্ন্যাকস, ডিনার) যেন বাদ না পড়ে যায়। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের এই বিষয়ে সাবধান হতে হবে। গরমে স্পাইসি বা তেল-জাল-মশলা জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। চকোলেট, কফি, রেড ওয়াইন খাবেন না এই সময়ে। এগুলি শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

৬. হিট স্ট্রোক

অতিরিক্ত গরমে হঠাৎ কেউ হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। এতে দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ১০৪ ডিগ্রি ফারেহাইটে পৌঁছাতে পারে। মাথাব্যথা, ঝিমঝিম, বমি বমি ভাব, অবসন্নতা এমনকি খিঁচুনি বা জ্ঞান হারাতে পারেন কেউ। এমন হলে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীতল জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, পোশাক ঢিলে করে দিন বা খুলে দিন। বাতাস করুন বা ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। বগলে বা কুঁচকিতে বরফ ধরে রেখে দেহের তাপমাত্রা কমানো যায়। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া উচিত।

মোট কথা, এই মৌসুমে প্রায়ই মাথাব্যথায় আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে যথেষ্ট পানি পান, প্রখর রোদ এড়িয়ে বা নিজেকে বাঁচিয়ে চলা ও অতিরিক্ত ঘাম থেকে নিজেকে রক্ষা করে এই মাথাব্যথা থেকে বাঁচতে পারেন। অনেকক্ষণ বাইরে কাটানোর পর এমন বোধ হলে দ্রুত পানি পান করুন অথবা লবণপানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ইত্যাদি পান করুন। দেখবেন মাথা ধরা অনেকটাই কম মনে হচ্ছে।

যাদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক

রোজা পালন করা মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ফরজ। আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদেরকে লক্ষ্য করে বলে দিয়েছেন যে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

রোজা রাখার এ ফরজ বিধান কাদের জন্য? সেসব মুসলিম নারী-পুরুষ কারা? যাদের ওপর বাধ্যতামূলক রমজান মাসের রোজা পালন করাকে ফরজ করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছে।

যাদের জন্য রোজা পালন বাধ্যতামূলক। তারা হলো-
>> মুসলমান হতে হবে।
অমুসলিমদের জন্য ইসলামে রোজা রাখার কোনো হুকুম নেই।

>> প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে।
মুসলিম ছেলে-মেয়ের বয়স ৭ বছর হলেই রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া। যদি তারা রোজা পালনে সক্ষম হয়। তবে আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ নামাজের সঙ্গে তুলনা করে ১০ বছর বয়সে রোজা না রাখলে দৈহিক শাস্তির কথা বলেছেন।

৭ বছর বয়স থেকে ছেলে-মেয়ে রোজা রাখলে তারা সাওয়াব পাবে। আর ভালো কাজে উৎসাহিত করার কারণে উৎসাহ দাতা বা বাবা-মাও সাওয়াব পাবেন। হাদিসে এসেছে-

যখন আশুরার রোজা ফরজ ছিল তখন আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে রোজা রাখাতাম। আর খাবারের জন্য কান্না করলে তাদেরকে তুলা দিয়ে তৈরি আকর্ষণীয় খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আমরা এটা করতাম ইফতারের সময় পর্যন্ত।’ (বুখারি)

>> নিজ ঘরে অবস্থানকারী হতে হবে।
কোনো ব্যক্তি যদি সফরে বের না হয়, তবে তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। যদি কেউ দীর্ঘ সফরে বের হয় তবে তার জন্য রোজার বিধানকে সহজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ কিংবা সফরে থাকে তবে সে অন্য সময় তা পালন করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)

>> শারীরিকভাবে রোজা রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয় কিংবা রোজা রাখলে জীবন নাশ হতে পারে এ পরিস্থিতি হয় তবে তার জন্যও রোজা বিধান সহজ। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ কিংবা সফরে থাকে তবে সে অন্য সময় তা পালন করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)

>> নারীদের হায়েজ ও নেফাস থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
– নারীদের মাসিক ঋতুস্রাবকে কে হায়েজ বলা হয়। হায়েজ অবস্থায় নারীরা অপবিত্র থাকে। এ সময় তাদের জন্য রোজা রাখার হুকুম নেই।
– আর সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর নারীদের প্রথম ৪০ দিন হলো নেফাসের সময়। এ দুই সময়ে নারীদের রোজা বিধান থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে।

রমজানের রোজার পরিচয় ও হুকুম

>> দিনের বেলায় যদি কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে।
>> রোজার সময় দিনের বেলায় যদি কোনো ছেলে-মেয়ে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়।
>> রোজার সময় যদি কোনো পাগল ভালো হয়ে যায়।

তবে তারা রোজা হুকুমের আওতায় এসে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে ইফতারের সময় পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে ইসলাম গ্রহণকারী, বালেগ হওয়া ছেলে-মেয়ে কিংবা পাগলের আগের রোজা আদায় তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কেননা আগের রোজাগুলো অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের ওপর আবশ্যক ছিল না।

>> যারা মাঝে মাঝে পাগল হয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে ভালো হয়ে যায় তবে ভালো থাকার সময় তাদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। রোজা অবস্থায় যদি কেউ পাগল হয়ে যায় কিংবা অজ্ঞান হয়ে যায় তবে তাদের জন্য রোজা হুকুম বাতিল হবে না।

>> রমজান মাসে কোনো মানুষ মারা গেলে অবশিষ্ট রোজা রাখায় তাদের জন্য কোনো হুকুম নেই। আত্মীয়দের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির রোজা রাখায়ও বাধ্যবাধকতা নেই।

>> যদি কেউ রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞতায় থেকে রোজা না রাখে, তবে কোনো কোনো আলেমের মতে সে ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হবে না। রোজা ফরজ হওয়ার বিষয়টি জানার পরপর তার ওপর রোজা রাখা বধ্যতামূলক।

>> আবার কেউ যদি রমজান মাসের দিনের বেলায় অজ্ঞতাবশত হারাম না জানার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে যৌনতা তথা সহবাসে মিলিত হয় তবে অধিকাংশ আলেমের মতে সে দোষী সাব্যস্ত হবে না।

মনে রাখতে হবে, মুসলিম এলাকায় বসবাস করে রোজা ফরজ কিনা কিংবা সহবাস হারাম কিনা এ বিষয়ে জানা নেই বললে এ ওজর গ্রহণযোগ্য নয়।

রোজা ফরজ হওয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো যারা জানে তাদের কাছ থেকে জেনে নেয়া সবার জন্য আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের ফরজ রোজা পালনে এর হুকুম-আহকাম জেনে নেয়ার তাওফিক দান করুন। রমজানের ফরজ রোজা যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সক্রেটিস প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক। এই মহান দার্শনিকের সম্পর্কে তথ্য লিখিতভাবে পাওয়া যায় কেবল মাত্র তাঁর শিষ্য প্লেটো-র ডায়ালগ এবং সৈনিক জেনোফন এর রচনা থেকে। তৎকালীন শাসকদের কোপানলে পড়ে তাঁকে হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তাঁর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ এবং মৃত্যু দিবস খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৯। তার কয়েকটি উক্তিঃ-

* অর্থ হতে সদগুণ জন্মে না বরং অর্থ ও অন্যান্য কাম্য বিষয় সদগুণ থেকেই গ্রহণ করে।
* যে ব্যক্তি অসৎ ব্যক্তির পেছনে ঘুরে, সে সত্যিই করুণার পাত্র।
* অন্যায় করে লজ্জিত না হওয়াটা আর এক অন্যায়।
* সত্যপ্রীতি বিজ্ঞতার লক্ষণ।
* শিয়ালের মতো একশত বছর জীবন ধারণের চেয়ে সিংহের মতো একদিন বাঁচাও ভালো।

এইচ আই ভি কীভাবে ছড়ায় এবং ছড়ায় না

এইচ আই ভি কীভাবে ছড়ায়
১। অরক্ষিত যৌন মিলনে মাধ্যমে
২। সংক্রামিত রক্ত, রক্তজাত সামগ্রী, সংক্রামিত সুচ এবং সিরিঞ্জের মাধ্যমে
৩। সংক্রামিত মা থেকে গর্ভস্থ শিশুর দেহে।

এইডস কিভাবে ছড়ায় না

১। দৈনন্দিন কাজের মধ্যে এইডস ছড়ায় না ।
২। করমর্দম
৩। একসঙ্গে বসবাস
৪। একসঙ্গে খেলাধূলা করলে
৫। একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া এবং ঘুমালে
৬। মশা ও কীট-পতঙ্গের কামড় অথবা খাবার পানির মাধ্যমে

এইডস রোগের লক্ষণ
১। ধীরে ধীরে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙ্গে পড়তে থাকে
২। ওজন কমে যাওয়া
৩। একমাসের বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া চলতে থাকা
৪। দীর্ঘ দিন জ্বর থাকা
৫। বার বার কান ও গলায় প্রদাহ
৬। সমস্ত শরীরে এবং ত্বকে চর্মরোগ হওয়া ছত্রাক জাতীয় রোগ হওয়া
৭। ঘাড়ে ও বগলে গুটি বেধেঁ ফুলে যাওয়া

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে কোনো লক্ষণই ভালো হয় না ।সত্যিকার অর্থে এইডস-এর কোনো পরিপূর্ণ চিকিৎসা এ পর্যন্ত হয়নি ।

কাদের বেশি এইডস হওয়ার ঝুঁকি থাকে

যৌন কর্মী
বহুগামী পুরুষ বা নারী
শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণকারী ব্যক্তি
সমকামী পুরুষ ও নারী
উচ্ছৃঙ্খল যৌন জীবনযাপনে অভ্যস্ত পুরুষ বা নারী

গরমে অতিষ্ঠ রাজধানীসহ সারাদেশ। ঢাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে। টানা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এমন অসহনীয় গরমে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আব্দুল মোমেন-

water-in


সাধারণ মুদি দোকান কিংবা কুলিং কর্নারে মজুদ করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের পানীয়। পথচারীরা বিভিন্ন রকমের পানীয় পান করে স্বস্তি লাভের চেষ্টা করে। কেউ আবার পানিতে বরফ ও লেবু দিয়ে ঠান্ডা শরবত বিক্রি করছে। অস্থায়ী ভ্যানে পানির জারে বরফ দিয়ে রাখা হয়। গ্লাসে লেবুর রস, চিনি, লবণ ও বরফ দেওয়া ঠান্ডা পানি দিয়ে তৈরি করা হয় শরবত। এছাড়া ভেষজ শরবতও বিক্রি হচ্ছে খুব।

water-in

তবে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় হিসেবে ডাব অতুলনীয়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করতে দেখা যায়। পুষ্টিগুণ ভালো থাকায় এ গরমে ডাবের পানি পান করতে পছন্দ করে অনেকেই। গলির প্রবেশপথ বা বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে ফালি ফালি তরমুজ সাজিয়ে বিক্রি করছে হকাররা। পথচারীরা এসব পানীয় খেয়ে গরমে স্বস্তি আনার চেষ্টা করেন। তাছাড়া আইসক্রিম ও আখের রস পাওয়া যায় মোড়ে মোড়ে।

আরও পড়ুন > একটি পিঠা পার্ক পূরণ করছে তরুণদের স্বপ্ন



‘ঠান্ডা পানি, লাগবে পানি’- এমন হাকডাক প্রায়ই শোনা যায় যানজটে স্থবির রাস্তায় বা সিগনালে আটকে থাকা বাসে। অসহনীয় গরমে যানজটে আটকে থাকা মানুষের কাছে দেবদূত হয়ে হাজির হয় হকাররা। যাত্রীবাহী বাস কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ির যাত্রীরা ১৫-২০ টাকায় ঠান্ডা পানি কিনে নেন। যদিও ওই পানির স্বভাবিক মূল্য ১০ টাকা।

water-in

মমতাজ নামের এক হকারের কাছে জানা গেল তাদের ঠান্ডা পানির বিস্তারিত। মমতাজের সাথে পানি সংগ্রহের স্থানে গিয়ে পাওয়া গেল পানি ঠান্ডা করার নতুন এক অভিজ্ঞতা। ঢাকার ব্যস্ততম নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে তিতাস ভবন। এ ভবনের পেছনের গলিতে দেখা মিলল ৩০০-৪০০ লিটারের পানির খালি ড্রাম। কয়েকজন বড় সাইজের বরফকে ভেঙে ড্রামে স্তর করে বিছিয়ে রাখছে। এক স্তর বরফের ওপর এক স্তর পানির বোতল। এভাবে বরফের ওপর বোতল রেখে ড্রামগুলো বন্ধ করে রাখা হয় কিছুক্ষণ।

water-in

অনেক বোতল কম সময়েই ঠান্ডা হয় ড্রামে। তারপর হকাররা এসে বিক্রির জন্য নিয়ে যায় এসব পানি। তারা ঠান্ডা পানির মহাজনের কাছ থেকে ১০ টাকা মূল্যে প্রতি পিস পানি নিয়ে পথচারীর কাছে বিক্রি করেন ১৫-২০ টাকা দামে। মহাজন জানান, তার ১০ জন সরবরাহকারী রয়েছে। প্রতিদিন ২৪ পিসের প্রায় ৮০-১০০ কেস পানি হকারদের কাছে বিক্রি করেন তিনি।

ধরুন, হঠাৎ করে আপনার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলো কিংবা ভাইব্রেট হলো, কিন্তু পকেট থেকে বের করেই দেখলেন, না, ফোনটা বাজছেও না আবার ভাইব্রেটও হচ্ছে না! হ্যাঁ, ঠিক তখনই আপনার হ্যালুসিনেশন হয়েছে!

1.হ্যালুসিনেশন কেন হয়?

হ্যালুসিনেশন শব্দটির সঙ্গে আমরা পরিচিত। অনেকে ইলিউশন বা দৃষ্টিভ্রমকে হ্যালুসিনেশনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ইলিউশন ও হ্যালুসিনেশন বিস্তৃত আঙ্গিকে বোঝার জন্য ইলিউশন সম্পর্কে একদম স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার। হ্যালুসিনেশন আর ইলিউশন দু’টোই একধরণের বিভ্রান্তি। তবে ইলিউশনে উদ্দীপক থাকবে, হ্যালুসিনেশনে এমন কোনো উদ্দীপক থাকবে না। সামনের ঝুলে থাকা দড়ি যদি কারো কাছে সাপ মনে হয় তাহলে এটি ইলিউশন। যদি কোনো দড়ির অস্তিত্ব ছাড়াই সাপ দেখতে পায় তাহলে তা হ্যালুসিনেশন।

2.হ্যালুসিনেশন কেন হয়?

হ্যালুসিনেশন শব্দটি উচ্চারণে যেমন একটা মজা আছে তেমনি কৌতুহল তৈরি করার মতো এর নানাবিধ উপস্থাপনাও দেখা যায়। কেউ বিষয়টিকে দেখেন একটা মজার বিষয় হিসেবে, কেউ রহস্যময়, কেউ এটাকে নাটক বা উপন্যাসের বিশেষ উপকরণ হিসেবে কেউ আবার বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্তির সঙ্গে হ্যালুসিনেশনকে তুলনাও করে থাকেন। কিন্তু আর যাই হোক, এটি মোটেই মজার কোনো বিষয় নয়। এটি এমন এক দশা যখন কেউ মিথ্যা জালের ভেতরে বসবাস করে অজান্তেই। আসলে মিথ্যার জগতে বসবাস করে কেউ ভাবে সে বাস্তব জগতে বসবাস করছে। এটি এক ধরনের অস্বাভাবিক এবং অদ্ভুত অনুভূতি। এ অনুভূতি স্বাভাবিক অনুভূতির মতোই ঘটে থাকে।

3.হ্যালুসিনেশন কেন হয়?

হ্যালুসিনেশন কোনো রোগ নয়, এটি অন্য রোগের উপসর্গ। এটি সাধারণত মানসিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থেকেও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। তাই কেবল হ্যালুসিনেশন দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণে হ্যালুসিনেশন ঘটতে দেখা যায়-

(১) সিজোফ্রেনিয়া, সিভিয়ার মুড ডিসঅর্ডার, ডিল্যুশনাল ডিসঅর্ডারে রোগীর প্রায়ই হ্যালুসিনেশন হতে পারে

(২) মাত্রাতিরিক্ত ড্রাগস বা অ্যালকোহল সেবনের কারণে

(৩) মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং ইন্দ্রিয়ের সমস্যায় হ্যালুসিনেশন হতে পারে।

(৪) শরীরে লবণের তারতম্যের জন্যও স্বল্পমেয়াদের হ্যালুসিনেশন দেখা দিতে পারে।

(৫) প্রচণ্ড জ্বর হলে বিশেষ করে শিশুদের হ্যালুসিনেশন হয়। মৃগীরোগ, বিষন্নতা, হিস্টিরিয়া এমনকি ব্রেইন টিউমারের বেলাতেও হ্যালুসিনেশন ঘটতে পারে।

(৬) লিভার বা কিডনির সমস্যা প্রভৃতি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে।

4.হ্যালুসিনেশন কেন হয়?

হ্যালুসিনেশন হলো এমনি একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি কোনো প্রকার উদ্দীপনা ছাড়াই বিশেষ ইন্দ্রিয়ানুভূতি লাভ করে। এ অনুভূতির সঞ্চার স্বাভাবিক অনুভূতির মতোই ঘটে। ধরা যাক, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে এমন ঘটছে, সে বিশেষ সময়ে কোন ধরণের গায়েবি কথা শুনছেন। তার মানে ঐ ব্যক্তির শ্রবণেন্দ্রিয়ের হ্যালুসিনেশন ঘটছে। এ গায়েবি কথা খুব হাল্কাভাবে ঘটে কিংবা তাতে অস্পষ্টতা থাকে এমন নয় কিন্তু। আশপাশের লোকজনের কথা সে যেমনভাবে শুনতে পায়, কানের মধ্যে আসা গায়েবি কথাও ঠিক তেমনভাবেই তার সঙ্গে ঘটে থাকে। হ্যালুসিনেশন দেহের প্রতিটি ইন্দ্রিয়তে ঘটতে পারে।

5.হ্যালুসিনেশন কেন হয়?

হ্যালুসিনেশনকে দু’টি শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে হিপনেজোগিক হ্যালুসিনেশন যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তার দশ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে যা ঘটে থাকে, আর অন্যটি হচ্ছে হিপনোপমপিক হ্যালুসিনেশন যখন মানুষ জেগে উঠে তারপর যা ঘটে থাকে। তবে আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে হ্যালুসিনেশন হয়ে থাকার কারণে ইন্দ্রিয়ের ওপর ভিত্তি করে হ্যালুসিনেশনের বেশ কিছু ধরনকে বিশেষজ্ঞরা শণাক্ত করতে পেরেছেন। যেমন :

ভিজুয়াল বা দৃষ্টিতে হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে এমন কিছু দেখা, যার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই। হতে পারে সেটা কোনো আকারের-বর্ণের কিংবা আলোর ছটা, যা অবাস্তব মানব আকৃতি বিশেষ। যেমন মনে হতে পারে পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। অথচ তখন পেছনে বা আড়ালে বস্তুত কেউই নেই।

6.হ্যালুসিনেশন কেন হয়?

অডিটরি বা শ্রুতিগত হ্যালুসিনেশন: এমন কোনো শব্দ, মিউজিক হইচই কিংবা কণ্ঠস্বর শোনা, যা নিতান্তই অলীক। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যেটা হয়ে থাকে, তা হলো ক্ষতিকর গায়েবি কথা, আদেশমূলক কিংবা নিষেধমূলক কথা শোনা। এসব কথা মস্তিষ্কের ভেতর বা বাইরে থেকে হতে পারে। পুরুষ কিংবা নারীকণ্ঠ হতে পারে, অপরিচিত কিংবা পরিচিত মনে হতে পারে। সিজোফ্রেনিয়া রোগীর ক্ষেত্রে অডিটরী হ্যালুসিনেশন বেশি হয়ে থাকে।

অলফ্যাক্টরি বা ঘ্রাণজনিত হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে হ্যালুসিনেশনে আক্রান্ত ব্যক্তি এমন কিছু জিনিসের ঘ্রাণ অর্থাৎ গন্ধ পাবে, যার কোনো সত্যতাই নেই, শুধুই একটি ভ্রান্ত ধারণা। যেমন: হঠাৎ করে পঁচা মাছের গন্ধ, বমি, প্রস্রাব, সিগারেট এমনকি পঁচা লালার গন্ধও পেতে পারে। এটি মূলত হয়ে থাকে অলফ্যাক্টরি সিস্টেমের স্নায়ুকোষের ক্ষতিগুলো থেকে, যা ভাইরাস ইনফেকশন ব্রেন টিউমার ট্রমা, সার্জারি কিংবা ওষুধের কারণে হয়ে থাকে।

গ্যাস্টেটরি বা স্বাদজনিত হ্যালুসিনেশন: কোনো কিছুর স্বাদকে মুখে বিস্বাদ লবণাক্ত বা মেটালিক মনে হয়, সম্পূর্ণটাই ভুল ধারণা। সাধারণত এপিলেপসি রোগে এ ধরনের হ্যালুসিনেশন হয়ে থাকে। টমেটো, আলু, বেগুন, মরিচ জাতীয় খাবারে 'সোলানিন' নামক উপাদান থাকে যেটি হ্যালুসিনেশনে প্রভাব রাখতে পারে। তাছাড়া কফি অতিরিক্ত পান করলেও হ্যালুসিনেশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

সোমাটিক বা স্পর্শগত হ্যালুসিনেশন: এক্ষেত্রে কোনোকিছুর স্পর্শ অনুভূত হওয়া, যা বাস্তবিকভাবে ঘটেনি। যেমন হঠাৎ করে শরীরের ভেতর বা উপরে কিছু উঠে আসছে মনে হওয়া। অন্ধকার ঘরে মনে হবে কেউ স্পর্শ করছে অথচ ঘরে তখন কেউ নেই। এটি মূলত একটি মেডিকেল ডিসঅর্ডার।

7.হ্যালুসিনেশন কেন হয়?

কারো প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে কিংবা প্রিয় কোনো মানুষকে হারিয়ে ফেললে সেই মানুষটিকে নিয়ে হ্যালুসিনেশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে বলে পরীক্ষা করে দেখা গেছে। হ্যালুসিনেশনের রোগীদের সঙ্গে এমনো হতে পারে, কাছের কোনো একজন মানুষের নাম ধরে গায়েবি কথাবার্তায় সে শুনতে পায়। ক্রমাগত হ্যালুসিনেশন হওয়ায় ঘটে যাওয়া কিংবা শোনা সবকিছুকেই মানুষটি সত্যি মনে করতে থাকে। যার জন্য অনেক বিপদও ঘটে থাকে। সুতরাং এসব বিষয়গুলোকে দ্রুত বুঝে শণাক্ত করা খুবই জরুরি। যত তাড়াতাড়ি তাদের চিকিৎসার আওতায় আনা যায় ততই মঙ্গল।

ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপে প্রায় ৬০ হাজার বছরের বেশি সময় ধরে বাইরের পৃথিবীর সাথে কোনো যোগাযোগ না রেখে বসবাস করে আসছে সেন্টিনেলিজ নামে এক বিচ্ছিন্ন জাতি।
মূলত দ্বীপের নাম অনুসারে তাদের সেন্টিনেলিজ বলে ডাকা হয়। দ্বীপের বাসিন্দারা সভ্যতার দীপ্ত আলো এখনো দেখতে পারেননি৷ তাদের মধ্যে কৃষিকাজ করা বা আগুন ব্যবহারে প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তারা খুবই রক্ষণশীল ও বাইরের জগতকে এড়িয়ে চলে।

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সেন্টিনেলিজসহ গ্রেট আন্দামানিজ, অনেজ, জারাওয়া চারটি উপজাতি গোত্র বাস করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা বন্দীদের আটকে রাখার জন্য আন্দামানের স্ট্রেইট দ্বীপে কারা কলোনি স্থাপন করে। দুই বছর পর স্থানীয় গ্রেটার আন্দামালিজদের সাথে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তবে সেন্টিনেলিজরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা হওয়ায় বিট্রিশদের ঔপনিবেশিক শাসনের আওতার বাইরে থেকে যায়।

২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী সেন্টিনেলিজদের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ জন। কাপড়বিহীন হওয়ায় বন্য লতাপাতা দিয়ে শরীর ঢেকে রাখে। তারা শিকার নির্ভর জাতি। সমুদ্র থেকে তীর দিয়ে মাছ শিকার করে। এছাড়াও বুনো শূকর, কলা আর মধু তাদের প্রধান খাবার।

বহিরাগতদের ওপর আক্রমণাত্মক মনোভাব ও বর্হিবিশ্বের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ প্রতিরোধ করার জন্য তারা বিশেষভাবে পরিচিত।

১৯৭৪ সালে নৃতত্ববিদ ত্রিলোকনাথ পণ্ডিত দ্বীপে গিয়ে তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের জন্য সমুদ্র সৈকতে খাবার ছড়িয়ে উপহার হিসাবে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করেন।কিন্তু তাদের কাছ থেকে নতুন রোগের বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় অভিযানগুলো বন্ধ করে দেন।

১৯৮১ সালের হংকং এর জাহাজ প্রাইমরস সেন্টিনেল দ্বীপের কাছে নোংগর করলে সেন্টিনেলিজরা আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। এমন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর ভারতীয় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার জাহাজে থাকা নাবিককে উদ্ধার করে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামির পর ভারতীয় কর্মকর্তারা দ্বীপটির ওপর আকাশ থেকে জরিপের সময় দ্বীপের বাসিন্দারা হেলিকপ্টারটি তীর ছুড়ে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালায়। ২০০৬ সালে দুই জন জেলে মাছ ধরতে দ্বীপের কাছাকাছি গেলে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

সম্প্রতি এই বছরের নভেম্বরে এক মার্কিন পর্যটক তাদের সাথে দেখা করতে গেলে হত্যা করে তারা।

উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপটি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একটি শাসিত অংশ। ভারত সরকার অনিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে দ্বীপটিতে পরিদর্শন অভিযান এবং সাধারণ জনগণকে দ্বীপটিতে যেতে নিরুৎসাহিত করে। বাস্তবে সেন্টিনেলিজরা সর্ব প্রকার নিজস্ব স্বাধীনতা ভোগ করে৷ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সেন্টিনেলিজ জাতি ছাড়া অন্য জাতিগোষ্ঠীর সাথে বাইরের মানুষের অনেক ভালো যোগাযোগ রয়েছে।

যুক্ত বর্ণের তালিকা ১. ক্ষ = ক+ষ
২. ষ্ণ = ষ+ণ
৩. জ্ঞ = জ+ঞ
৪. ঞ্জ = ঞ+জ
৫. হ্ম = হ+ম
৬. ঞ্চ = ঞ+চ ৭. ঙ্গ = ঙ+গ
৮. ঙ্ক = ঙ+ক
৯. ট্ট = ট + ট



১০. ক্ষ্ম = ক্ষ + ম = ‍ক + ষ + ম
১১. হ্ন = হ + ন
১২. হ্ণ = হ + ণ ১৩. ব্ধ = ব + ধ
১৪. ক্র = ক + ্র (র-ফলা)
১৫. গ্ধ = গ + ধ
১৬. ত্র = ত + ্র (র-ফলা)
১৭. ক্ত = ক + ত
১৮. ক্স = ক + স ১৯. ত্থ = ত + থ (উদাহরন: উত্থান, উত্থাপন)
২০. ত্ত = ত + ত (উদাহরন: উত্তম, উত্তর, সত্তর)
২১. ত্ম = ত + ম (উদাহরন: মাহাত্ম্য) নিচের যুক্তবর্ণের তালিকাটি বাংলা সঠিকভাবে ল িখতে সহায়ক হতে পারে।
এখানে বাংলায় ব্যবহৃত ২৮৫টি যুক্তবর্ণ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোন যুক্তবর্ণ সম্ভবত বাংলায় প্রচলিত নয়।
ক্ক = ক + ক; যেমন- আক্কেল, টেক্কা
ক্ট = ক + ট; যেমন- ডক্টর (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ক্ট্র = ক + ট + র; যেমন- অক্ট্রয়
ক্ত = ক + ত; যেমন- রক্ত ক্ত্র = ক + ত + র; যেমন- বক্ত্র
ক্ব = ক + ব; যেমন- পক্ব, ক্বণ
ক্ম = ক + ম; যেমন- রুক্মিণী
ক্য = ক + য; যেমন- বাক্য
ক্র = ক + র; যেমন- চক্র
ক্ল = ক + ল; যেমন- ক্লান্তি ক্ষ = ক + ষ; যেমন- পক্ষ
ক্ষ্ণ = ক + ষ + ণ; যেমন- তীক্ষ্ণ
ক্ষ্ব = ক + ষ + ব; যেমন- ইক্ষ্বাকু
ক্ষ্ম = ক + ষ + ম; যেমন- লক্ষ্মী
ক্ষ্ম্য = ক + ষ + ম + য; যেমন- সৌক্ষ্ম্য
ক্ষ্য = ক + ষ + য; যেমন- লক্ষ্য ক্স = ক + স; যেমন- বাক্স
খ্য = খ + য; যেমন- সখ্য
খ্র = খ+ র যেমন; যেমন- খ্রিস্টান
গ্ণ = গ + ণ; যেমন - রুগ্ণ
গ্ধ = গ + ধ; যেমন- মুগ্ধ
গ্ধ্য = গ + ধ + য; যেমন- বৈদগ্ধ্য গ্ধ্র = গ + ধ + র; যেমন- দোগ্ধ্রী
গ্ন = গ + ন; যেমন- ভগ্ন
গ্ন্য = গ + ন + য; যেমন- অগ্ন্যাস্ত্র, অগ্ন্যুৎপাত, অগ্ন্যাশয়
গ্ব = গ + ব; যেমন- দিগ্বিজয়ী
গ্ম = গ + ম; যেমন- যুগ্ম গ্য = গ + য; যেমন- ভাগ্য
গ্র = গ + র; যেমন- গ্রাম
গ্র্য = গ + র + য; যেমন- ঐকাগ্র্য, সামগ্র্য, গ্র্যাজুয়েট
গ্ল = গ + ল; যেমন- গ্লানি
ঘ্ন = ঘ + ন; যেমন- কৃতঘ্ন ঘ্য = ঘ + য; যেমন- অশ্লাঘ্য
ঘ্র = ঘ + র; যেমন- ঘ্রাণ
ঙ্ক = ঙ + ক; যেমন- অঙ্ক
ঙ্ক্ত = ঙ + ক + ত; যেমন- পঙ্ক্তি
ঙ্ক্য = ঙ + ক + য; যেমন- অঙ্ক্য
ঙ্ক্ষ = ঙ + ক + ষ; যেমন- আকাঙ্ক্ষা ঙ্খ = ঙ + খ; যেমন- শঙ্খ
ঙ্গ = ঙ + গ; যেমন- অঙ্গ
ঙ্গ্য = ঙ + গ + য; যেমন- ব্যঙ্গ্যার্থ, ব্যঙ্গ্যোক্তি
ঙ্ঘ = ঙ + ঘ; যেমন- সঙ্ঘ
ঙ্ঘ্য = ঙ + ঘ + য; যেমন- দুর্লঙ্ঘ্য ঙ্ঘ্র = ঙ + ঘ + র; যেমন- অঙ্ঘ্রি
ঙ্ম = ঙ + ম; যেমন- বাঙ্ময়
চ্চ = চ + চ; যেমন- বাচ্চা
চ্ছ = চ + ছ; যেমন- ইচ্ছা
চ্ছ্ব = চ + ছ + ব; যেমন- জলোচ্ছ্বাস
চ্ছ্র = চ + ছ + র; যেমন- উচ্ছ্রায় চ্ঞ = চ + ঞ; যেমন- যাচ্ঞা
চ্ব = চ + ব; যেমন- চ্বী
চ্য = চ + য; যেমন- প্রাচ্য
জ্জ = জ + জ; যেমন- বিপজ্জনক
জ্জ্ব = জ + জ + ব; যেমন- উজ্জ্বল
জ্ঝ = জ + ঝ; যেমন- কুজ্ঝটিকা জ্ঞ = জ + ঞ; যেমন- জ্ঞান
জ্ব = জ + ব; যেমন- জ্বর
জ্য = জ + য; যেমন- রাজ্য
জ্র = জ + র; যেমন- বজ্র
ঞ্চ = ঞ + চ; যেমন- অঞ্চল
ঞ্ছ = ঞ + ছ; যেমন- লাঞ্ছনা ঞ্জ = ঞ + জ; যেমন- কুঞ্জ
ঞ্ঝ = ঞ + ঝ; যেমন- ঝঞ্ঝা
ট্ট = ট + ট; যেমন- চট্টগ্রাম
ট্ব = ট + ব; যেমন- খট্বা
ট্ম = ট + ম; যেমন- কুট্মল
ট্য = ট + য; যেমন- নাট্য ট্র = ট + র; যেমন- ট্রেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ড্ড = ড + ড; যেমন- আড্ডা
ড্ব = ড + ব; যেমন- অন্ড্বান
ড্য = ড + য; যেমন- জাড্য ড্র = ড + র; যেমন- ড্রাইভার, ড্রাম (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ড়্গ = ড় + গ; যেমন- খড়্গ
ঢ্য = ঢ + য; যেমন- ধনাঢ্য
ঢ্র = ঢ + র; যেমন- মেঢ্র (ত্বক) (মন্তব্য: অত্যন্ত বিরল)
ণ্ট = ণ + ট; যেমন- ঘণ্টা
ণ্ঠ = ণ + ঠ; যেমন- কণ্ঠ
ণ্ঠ্য = ণ + ঠ + য; যেমন- কণ্ঠ্য
ণ্ড = ণ + ড; যেমন- গণ্ডগোল
ণ্ড্য = ণ + ড + য; যেমন- পাণ্ড্য ণ্ড্র = ণ + ড + র; যেমন- পুণ্ড্র
ণ্ঢ = ণ + ঢ; যেমন- ষণ্ঢ
ণ্ণ = ণ + ণ; যেমন- বিষণ্ণ
ণ্ব = ণ + ব; যেমন- স্হাণ্বীশ্বর
ণ্ম = ণ + ম; যেমন- চিণ্ময়
ণ্য = ণ + য; যেমন- পূণ্য ৎক = ত + ক; যেমন- উৎকট
ত্ত = ত + ত; যেমন- উত্তর
ত্ত্ব = ত + ত + ব; যেমন- সত্ত্ব
ত্ত্য = ত + ত + য; যেমন- উত্ত্যক্ত
ত্থ = ত + থ; যেমন- অশ্বত্থ
ত্ন = ত + ন; যেমন- যত্ন ত্ব = ত + ব; যেমন- রাজত্ব
ত্ম = ত + ম; যেমন- আত্মা
ত্ম্য = ত + ম + য; যেমন- দৌরাত্ম্য
ত্য = ত + য; যেমন- সত্য
ত্র = ত + র যেমন- ত্রিশ, ত্রাণ
ত্র্য = ত + র + য; যেমন- বৈচিত্র্য ৎল = ত + ল; যেমন- কাৎলা
ৎস = ত + স; যেমন- বৎসর, উৎসব
থ্ব = থ + ব; যেমন- পৃথ্বী
থ্য = থ + য; যেমন- পথ্য
থ্র = থ + র; যেমন- থ্রি (three) (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
দ্গ = দ + গ; যেমন- উদ্গম
দ্ঘ = দ + ঘ; যেমন- উদ্ঘাটন
দ্দ = দ + দ; যেমন- উদ্দেশ্য
দ্দ্ব = দ + দ + ব; যেমন- তদ্দ্বারা
দ্ধ = দ + ধ; যেমন- রুদ্ধ দ্ব = দ + ব; যেমন- বিদ্বান
দ্ভ = দ + ভ; যেমন- অদ্ভুত
দ্ভ্র = দ + ভ + র; যেমন- উদ্ভ্রান্ত
দ্ম = দ + ম; যেমন- ছদ্ম
দ্য = দ + য; যেমন- বাদ্য
দ্র = দ + র; যেমন- রুদ্র দ্র্য = দ + র + য; যেমন- দারিদ্র্য
ধ্ন = ধ + ন; যেমন- অর্থগৃধ্নু
ধ্ব = ধ + ব; যেমন- ধ্বনি
ধ্ম = ধ + ম; যেমন- উদরাধ্মান
ধ্য = ধ + য; যেমন- আরাধ্য
ধ্র = ধ + র; যেমন- ধ্রুব ন্ট = ন + ট; যেমন- প্যান্ট (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ন্ট্র = ন + ট + র; যেমন- কন্ট্রোল (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/
বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) ন্ঠ = ন + ঠ; যেমন- লন্ঠন
ন্ড = ন + ড; যেমন- গন্ডার, পাউন্ড
ন্ড্র = ন + ড + র; যেমন- হান্ড্রেড
ন্ত = ন + ত; যেমন- জীবন্ত
ন্ত্ব = ন + ত + ব; যেমন- সান্ত্বনা
ন্ত্য = ন + ত + য; যেমন- অন্ত্য ন্ত্র = ন + ত + র; যেমন- মন্ত্র
ন্ত্র্য = ন + ত + র + য; যেমন- স্বাতন্ত্র্য
ন্থ = ন + থ; যেমন- গ্রন্থ
ন্থ্র = ন + থ + র; যেমন- অ্যান্থ্রাক্স (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ন্দ = ন + দ; যেমন- ছন্দ
ন্দ্য = ন + দ + য; যেমন- অনিন্দ্য
ন্দ্ব = ন + দ + ব; যেমন- দ্বন্দ্ব
ন্দ্র = ন + দ + র; যেমন- কেন্দ্র
ন্ধ = ন + ধ; যেমন- অন্ধ
ন্ধ্য = ন + ধ + য; যেমন- বিন্ধ্য ন্ধ্র = ন + ধ + র; যেমন- রন্ধ্র
ন্ন = ন + ন; যেমন- নবান্ন
ন্ব = ন + ব; যেমন- ধন্বন্তরি
ন্ম = ন + ম; যেমন- চিন্ময়
ন্য = ন + য; যেমন- ধন্য
প্ট = প + ট; যেমন- পাটি-সাপ্টা, ক্যাপ্টেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
প্ত = প + ত; যেমন- সুপ্ত
প্ন = প + ন; যেমন- স্বপ্ন
প্প = প + প; যেমন- ধাপ্পা প্য = প + য; যেমন- প্রাপ্য
প্র = প + র; যেমন- ক্ষিপ্র
প্র্য = প + র + য; যেমন- প্র্যাকটিস
(মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
প্ল = প + ল; যেমন-আপ্লুত প্স = প + স; যেমন- লিপ্সা
ফ্র = ফ + র; যেমন- ফ্রক, ফ্রিজ, আফ্রিকা, রেফ্রিজারেটর (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ফ্ল = ফ + ল; যেমন- ফ্লেভার (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ব্জ = ব + জ; যেমন- ন্যুব্জ
ব্দ = ব + দ; যেমন- জব্দ
ব্ধ = ব + ধ; যেমন- লব্ধ
ব্ব = ব + ব; যেমন- ডাব্বা ব্য = ব + য; যেমন- দাতব্য
ব্র = ব + র; যেমন- ব্রাহ্মণ
ব্ল = ব + ল; যেমন- ব্লাউজ
ভ্ব =ভ + ব; যেমন- ভ্বা
ভ্য = ভ + য; যেমন- সভ্য
ভ্র = ভ + র; যেমন- শুভ্র ম্ন = ম + ন; যেমন- নিম্ন
ম্প = ম + প; যেমন- কম্প
ম্প্র = ম + প + র; যেমন- সম্প্রতি
ম্ফ = ম + ফ; যেমন- লম্ফ
ম্ব = ম + ব; যেমন- প্রতিবিম্ব
ম্ব্র = ম + ব + র; যেমন- মেম্ব্রেন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত)
ম্ভ = ম + ভ; যেমন- দম্ভ
ম্ভ্র = ম + ভ + র; যেমন- সম্ভ্রম
ম্ম = ম + ম; যেমন- সম্মান
ম্য = ম + য; যেমন- গ্রাম্য ম্র = ম + র; যেমন- নম্র
ম্ল = ম + ল; যেমন- অম্ল
য্য = য + য; যেমন- ন্যায্য
র্ক = র + ক; যেমন - তর্ক
র্ক্য = র + ক + য; যেমন- অতর্ক্য (তর্ক
দিয়ে যার সমাধান হয় না) র্গ্য = র + গ + য; যেমন - বর্গ্য (বর্গসম্বন্ধীয়)
র্ঘ্য = র + ঘ + য; যেমন- দৈর্ঘ্য
র্চ্য = র + চ + য; যেমন- অর্চ্য (পূজনীয়)
র্জ্য = র + জ + য; যেমন- বর্জ্য
র্ণ্য = র + ণ + য; যেমন- বৈবর্ণ্য
(বিবর্ণতা) র্ত্য = র + ত + য; যেমন- মর্ত্য
র্থ্য = র + থ + য; যেমন- সামর্থ্য
র্ব্য = র + ব + য; যেমন- নৈর্ব্যক্তিক র্ম্য = র + ম + য; যেমন- নৈষ্কর্ম্য র্শ্য = র + শ + য; যেমন- অস্পর্শ্য র্ষ্য = র + ষ + য; যেমন- ঔৎকর্ষ্য র্হ্য = র + হ + য; যেমন- গর্হ্য র্খ = র + খ; যেমন- মূর্খ র্গ = র + গ; যেমন- দুর্গ র্গ্র = র + গ + র; যেমন- দুর্গ্রহ, নির্গ্রন্হ র্ঘ = র + ঘ; যেমন- দীর্ঘ র্চ = র + চ; যেমন- অর্চনা র্ছ = র + ছ; যেমন- মূর্ছনা র্জ = র + জ; যেমন- অর্জন র্ঝ = র + ঝ; যেমন- নির্ঝর র্ট = র + ট; যেমন- আর্ট, কোর্ট, কম্ফর্টার, শার্ট, কার্টিজ, আর্টিস্ট, পোর্টম্যানটো, সার্টিফিকেট, কনসার্ট, কার্টুন, কোয়ার্টার (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) র্ড = র + ড; যেমন- অর্ডার, লর্ড, বর্ডার, কার্ড (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) র্ণ = র + ণ; যেমন- বর্ণ র্ত = র + ত; যেমন- ক্ষুধার্ত র্ত্র = র + ত + র; যেমন- কর্ত্রী র্থ = র + থ; যেমন- অর্থ র্দ = র + দ; যেমন- নির্দয় র্দ্ব = র + দ + ব; যেমন- নির্দ্বিধা র্দ্র = র + দ + র; যেমন- আর্দ্র র্ধ = র + ধ; যেমন- গোলার্ধ র্ধ্ব = র + ধ + ব; যেমন- ঊর্ধ্ব র্ন = র + ন; যেমন- দুর্নাম র্প = র + প; যেমন- দর্প র্ফ = র + ফ; যেমন- স্কার্ফ (মন্তব্য: মূলত ইংরেজি ও আরবী-ফার্সি কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) র্ভ = র + ভ; যেমন- গর্ভ র্ম = র + ম; যেমন- ধর্ম র্য = র + য; যেমন- আর্য র্ল = র + ল; যেমন- দুর্লভ র্শ = র + শ; যেমন- স্পর্শ র্শ্ব = র+ শ + ব; যেমন- পার্শ্ব র্ষ = র + ষ; যেমন- ঘর্ষণ র্স = র + স; যেমন- জার্সি, নার্স, পার্সেল, কুর্সি (মন্তব্য: মূলত ইংরেজি ও আরবী-ফার্সি কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) র্হ = র + হ; যেমন- গার্হস্থ্য র্ঢ্য = র + ঢ + য; যেমন- দার্ঢ্য (অর্থাৎ দৃঢ়তা) ল্ক = ল + ক; যেমন- শুল্ক ল্ক্য = ল + ক + য; যেমন- যাজ্ঞবল্ক্য ল্গ = ল + গ; যেমন- বল্গা ল্ট = ল + ট; যেমন- উল্টো ল্ড = ল + ড; যেমন- ফিল্ডিং (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) ল্প = ল + প; যেমন- বিকল্প ল্ফ = ল + ফ; যেমন- গল্ফ (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) ল্ব = ল + ব; যেমন- বিল্ব, বাল্ব ল্ভ = ল + ভ; যেমন- প্রগল্ভ ল্ম = ল + ম; যেমন- গুল্ম ল্য = ল + য; যেমন- তারল্য ল্ল = ল + ল; যেমন- উল্লাস শ্চ = শ + চ; যেমন- পুনশ্চ শ্ছ = শ + ছ; যেমন- শিরশ্ছেদ শ্ন = শ + ন; যেমন- প্রশ্ন শ্ব = শ + ব; যেমন- বিশ্ব শ্ম = শ + ম; যেমন- জীবাশ্ম শ্য = শ + য; যেমন- অবশ্য শ্র = শ + র; যেমন- মিশ্র শ্ল = শ + ল; যেমন- অশ্লীল ষ্ক = ষ + ক; যেমন- শুষ্ক ষ্ক্র = ষ + ক + র; যেমন- নিষ্ক্রিয় ষ্ট = ষ + ট; যেমন- কষ্ট ষ্ট্য = ষ + ট + য; যেমন- বৈশিষ্ট্য ষ্ট্র = ষ + ট + র; যেমন- রাষ্ট্র ষ্ঠ = ষ + ঠ; যেমন- শ্রেষ্ঠ ষ্ঠ্য = ষ + ঠ + য; যেমন- নিষ্ঠ্যূত ষ্ণ = ষ + ণ; যেমন- কৃষ্ণ ষ্প = ষ + প; যেমন- নিষ্পাপ ষ্প্র = ষ + প + র; যেমন- নিষ্প্রয়োজন ষ্ফ = ষ + ফ; যেমন- নিষ্ফল ষ্ব = ষ + ব; যেমন- মাতৃষ্বসা ষ্ম = ষ + ম; যেমন- উষ্ম ষ্য = ষ + য; যেমন- শিষ্য স্ক = স + ক; যেমন- মনোস্কামনা স্ক্র = স + ক্র; যেমন- ইস্ক্রু (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) স্খ = স + খ; যেমন- স্খলন স্ট = স + ট; যেমন- স্টেশন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) স্ট্র = স + ট্র; যেমন- স্ট্রাইক (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) স্ত = স + ত; যেমন- ব্যস্ত স্ত্ব = স + ত + ব; যেমন- বহিস্ত্বক
স্ত্য = স + ত + য; যেমন-অস্ত্যর্থ স্ত্র = স + ত + র; যেমন- স্ত্রী স্থ = স + থ; যেমন- দুঃস্থ
স্থ্য = স + থ + য; যেমন- স্বাস্থ্য স্ন = স + ন; যেমন- স্নান স্প = স + প; যেমন- আস্পর্ধা স্প্র = স + প +র; যেমন- স্প্রিং (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/
বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) স্প্ল = স + প + ল; যেমন- স্প্লিন (মন্তব্য: এই যুক্তাক্ষরটি মূলত ইংরেজি/ বিদেশী কৃতঋণ শব্দে ব্যবহৃত) স্ফ = স + ফ; যেমন- আস্ফালন
স্ব = স + ব; যেমন- স্বর স্ম = স + ম; যেমন- স্মরণ
স্য = স + য; যেমন- শস্য স্র = স + র; যেমন- অজস্র
স্ল = স + ল; যেমন- স্লোগান হ্ণ = হ + ণ; যেমন- অপরাহ্ণ
হ্ন = হ + ন; যেমন- চিহ্ন
হ্ব = হ + ব; যেমন- আহ্বান
হ্ম = হ + ম; যেমন- ব্রাহ্মণ হ্য = হ + য; যেমন- বাহ্য
হ্র = হ + র; যেমন- হ্রদ
হ্ল = হ + ল; যেমন- আহ্লাদ

ইসলামের দৃষ্টিতে রাসূল (সা.)-এর যুগ থেকেই মুসলমানগণ কালোজিরার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করে আসছেন। এ ব্যাপারে একটি হাদিস তাদেরকে উৎসাহিত করেছে। হাদিসে এসেছে রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা কালোজিরার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করো। কেননা তাতে মৃত্যু ব্যতীত সব রোগের নিরাময় রয়েছে। সহি বুখারি। কালোজিরার ভেষজ ব্যবহার : * নিদ্রাহীনতায় : মধু মেশানো এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক চামচ কালোজিরা মিশিয়ে ঘুমের পূর্বে সেবন করতে হবে। এতে করে অনিদ্রা দূর হয়ে প্রচুর ঘুম হবে। * মাথা ব্যথায় : পরিমাণ মতো কালোজিরার চূর্ণ এবং তার অর্ধেক পরিমাণ গরম লবঙ্গ এবং অর্ধেক পরিমাণ মৌরিফল এক সাথে মিশিয়ে মাথা ব্যথার সময় ননিযুক্ত দুধের সাথে সেবন করতে হবে। আর কালোজিরার তৈল দ্বারা যন্ত্রণার স্থানে ডলে মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়। * যৌবন ধরে রাখতে ও লাবণ্যের জন্য : কোমল কালোজিরা পাতলা সিরকা এবং এক চামচ পরিমাণ গমের গুঁড়া মেশাতে হবে। এই মিশ্রণ সন্ধ্যা বেলায় মুখম-লে মালিশ করবে এবং সকালে গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলবে। এক সপ্তাহ প্রতিদিন একাধিকবার তা করবে। আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে যদি উষ্ণ পানীয় সহযোগে কালোজিরার তেল সেবন করা যায়। মধু : কুরআনের আলোকে-‘আর মৌমাছির পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানি নির্গত হয়, যা মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার।’ সূরা নাহল : ৬৯। হাদিসের আলোকে-হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, কুরআন হলো যেকোনো আত্মিক রোগের জন্য আর মধু হলো দৈহিক রোগের জন্য। ইবনে মাজাহ। মধুর ব্যবহার : মিষ্টিস্বাদের জন্য বিভিন্ন খাবারের সাথে মধুর ব্যবহার রয়েছে। মধুর গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। সকালের নাশতা ও হালকা খাবারে মধু নেয়া যায়। মধুতে ক্যালরি থাকায় মধু খাওয়ার পর শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ প্রোটিন দেহের গঠন বৃদ্ধি সাধ্ম ও ক্ষয় পূরণে যথেষ্ট কার্যকর। মধুর ম্যাগনেশিয়া ও ফসফরাস শরীরের হাড় গঠনে সহায়ক। মধুর ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম হৃৎপি-কে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বিভিন্ন এসিড পাকস্থলির বিভিন্ন জৈবিকক্রিয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ করে। মধুতে শক্তিশালী জীবাণুনাশক ক্ষমতা রয়েছে, যার নাম ইনহিবিন। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুর বহুল ব্যবহার হয়। যেকোনও ওষুধকে বেশি প্রভাবশালী ও কার্যকরী করার জন্য মধুর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন রোগে মধু ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন- *যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে মধু : দৈহিক ও যৌনশক্তি বৃদ্ধির জন্য মধু গরম দুধের সাথে পান করলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন কালোজিরা মধু দিয়ে চিবিয়ে খেলে বা দৈনিক দুই চামচ আদার রস মধু দিয়ে খেলে প্রচুর পরিমাণে যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে। * পোড়া : শরীরে কোথাও পুড়ে গেলে সামান্য মধু, মেহেদী পাতার সঙ্গে বেটে লাগালে এতে পোড়াজনিত জ্বালা ও কষ্ট লাগব হয়। * কোষ্ঠ কাঠিন্য : এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চামচ লেবু ও এক চামচ আদার রস এবং দু’চামচ মধু মিশিয়ে খেলে অজীর্ণ রোগ দূর হয় ও কোষ্ঠ কাঠিন্য প্রশমিত হয়। * রক্তচাপ : দু’চামচ মধুতে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে সেবন করলে রক্ত চাপ স্বাভাবিক হয়ে যায়। * কাশি : আদা, পান, তুলসীর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে দিনে দু’তিন বার খেলে কাশি কমে যায়। *দাঁতের ব্যথা : হঠাৎ যদি দাঁতে ব্যথা অনুভূত হয় তাহলে মধুতে তুলা ভিজিয়ে ব্যথার স্থানে রাখলে ব্যথা কমে যাবে। রূপচর্চায় মধু ব্যবহার : দীর্ঘকালের মুখের দাগ তুলতে ও লাবণ্য মসৃণতায় মধু মেখে উপকার পাওয়া যায়। পরিশ্রম ও গরমে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে পড়লে ঠা-া পানির সাথে লেবুর রস মিশ্রিত মধুর শরবত পান করলে দেহে উদ্যম ও সজীবতা ফিরে আসে। বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতে মধুর রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। মোট কথা কালোজিরা ও মধুর উপকারিতার শেষ বা সীমা নেই। কালোজিরা ও মধু আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ নিয়ামত।

Good Night

আমি ব্যর্থতা কে মেনে নিতে পারি কিন্তু আমি চেষ্টা না করাকে মেনে নিতে পারিনা।
_মাইকেল জর্ডান

প্রকৃতি হচ্ছে প্রতিভাবানদের শিক্ষক – জে.জি হল্যান্ড

মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।

রাফেঈ বলেন:
“যদি তুমি দুনিয়াকে নতুন কিছু উপহার
দিতে না পার তবে তুমি দুনিয়ার
একটি বোঝা।”

Hellow

ময়মনসিংহ শহরে নতুন কোনো অতিথি এলেই তার চোখে যে বিষয়টা দৃষ্টিকটু ঠেকে তা হলো এ শহরের নোংরা চেহারা। শহরের এ হাল প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের রুচিবোধকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ ছাড়া শহরের বাসিন্দারা প্রতিদিন কুকুর, গরু ও মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটিকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর নাগরিকদের প্রত্যাশা তাদের পরিচ্ছন্ন নগরের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাবে। নোংরা শহর হিসেবে ময়মনসিংহের যে বদনাম সেটা এবার ঘুচবে। পাশাপাশি শহরের রাস্তায় অবাধে গরুর পাল ঘুরে বেড়ানো, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত আর মশার যন্ত্রণা থেকেও তারা মুক্তি পাবে।

শম্ভুগঞ্জের ভাগাড় : সরেজমিনে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ শহরের ময়লা ফেলার নির্ধারিত এ স্থানটি হলো শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের সেতু পার হয়ে সড়ক ধরে অল্প কিছুটা দূরে হাতের ডান পাশে। ময়লা ফেলার যুৎসই জায়গা না পেয়ে প্রায় ৮-১০ বছর ধরে সড়কের পাশের নিচু এ জায়গাটিতে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এত দিনে ময়লার স্তূপ জমতে জমতে এখন জায়গাটি ভরাট হয়ে সড়কের ওপর এসে পড়েছে। আবর্জনা পচে-গলে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভাগাড়ের আশপাশের প্রায় সোয়া কিলোমিটার এলাকার বাতাসে সব সময় দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

নগরবাসীর ভাষ্য মতে, ময়লা ফেলার স্থানটির একেবারে পাশেই ময়মনসিংহ-শম্ভুগঞ্জ সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে চার জেলার শত শত মানুষ। রিকশা, ভ্যান, টেম্পো, মোটরসাইকেলসহ শত শত যানবাহন চলে। নাক চেপে, মুখ ঘুরিয়ে জায়গাটি পার হয় যাত্রী আর পথচারীরা।

মূল শহরের চিত্রও ভালো না : পুরান পৌর এলাকা অর্থাৎ মূল শহর সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে ময়লার স্তূপ। চরপাড়া, পণ্ডিতবাড়ী, পণ্ডিতপাড়া, আমলাপাড়া, হরিকিশোর রায় রোড, ধোপাখলা মোড়, সেহড়া, হিন্দুপল্লী, কবরখানা, মহারাজা রোড, পুরোহিত পাড়া, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের মোড়, আর কে মিশন রোড, নওমহল বাইলেন ইত্যাদি এলাকার সড়ক ও অলিগলির স্থানে স্থানে স্তূপাকার ময়লা-আবর্জনা।

শামীমা আহমেদ নামে একজন গৃহিণী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ শহরটা আরো পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার।’

কয়েক মাস ধরে শহরের ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণের জন্য স্থানে স্থানে প্লাস্টিকের ড্রাম বসানো হয়েছে। এতে কিছুটা সুফল মিলছে। তবে ড্রামগুলোতে আবর্জনা জমে উপচে পড়ে রাস্তায়। এখন রাতের বেলা ময়লা অপসারণের কারণে নোংরা দৃশ্যের অনেকটা উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু দুটি কারণে শহর পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন হচ্ছে না। প্রথমত, অনেক নাগরিকের কুঅভ্যাস ও অসচেতনতা। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ করা অধিকাংশ বাসিন্দার স্থায়ী বদ-অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া আবর্জনা পলিথিনে ভরে নালায় ফেলে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অকার্যকরও করছে অনেক নাগরিক। আরেকটি হলো—আবর্জনা অপসারণে প্রয়োজনীয় যানবাহনের অভাব। এ খাতে বরাদ্দও অপ্রতুল।

নগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবি স্বাধীন চৌধুরী বলেন, ‘একটি পরিচ্ছন্ন শহরের দাবি আমাদের আগেও ছিল, এখনো আছে। তবে আগে বিভিন্ন সংকটের কারণে এ শহর সর্বতোভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়নি। কিন্তু এখন আমরা আশা করছি সিটি করপোরেশন হওয়ার কারণে এ নগর একটি পরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে রূপ পাবে।’

আকাশ দেখা যায় না : নগরের অলিগলি থেকে রাজপথ—সবখানেই প্যানা আর ফেস্টুনে ভরা। যে কারণে শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এগুলোর কারণে শহরের আকাশ দেখা যায় না। জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক শহরকে প্যানামুক্ত করেছিলেন। স্বাভাবিক চেহারায় ফিরেছিল শহর। কিন্তু ছয় মাস পর বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কারণে সেই সুফলটি আর ধরে রাখা যায়নি।

গরু, কুকুর ও মশার উৎপাত : ‘রাতের বেলা বাসার সামনে ছয়-সাতটা কুকুর নিজেদের মধ্যে ঝগড়া আর কামড়াকামড়ি করে। করে চিৎকার চেঁচামেচি। এতে ঘুম তো ভেঙে যায়ই, মনের মধ্যে ভয়ও ঢোকে—না জানি কুকুরগুলো এখন কাকে আক্রমণ করে।’ এ কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহ শহরের সি কে ঘোষ সড়কের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন। শুধু এ এলাকাই নয়, নগরজুড়েই এখন বেওয়ারিশ কুকুরের ভয়াবহ উৎপাত। নগরবাসীর আরেক ভয় ও বিড়ম্বনার কারণ শহরের যত্রতত্র অবাধে বিশালাকার গরু ঘুরে বেড়ানো। কুকুর ও গরুর কারণে ভয়ে ভয়ে পথ চলে নারী-শিশুরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া নগরীর প্রায় সব এলাকায় মশার যন্ত্রণায় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ।

শহরের চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁর বাসা মেডিক্যাল কলেজ গেটের উল্টা দিকে। এখানে কমপক্ষে ২০টি কুকুর প্রতিদিন ঘোরাঘুরি করে। তাঁর নিজের মেয়ে কয়েক দিন আগেও কুকুরের কারণে ভয় পেয়েছিল।

গরুর কারণে রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং পথচারী বিশেষ করে শিশু ও নারীরা ভয় নিয়ে পথ চলে। বেশ কয়েক বছর আগে পুলিশ গরুর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছিল। গরুর অবাধে বিচরণ বন্ধে শহরে মিছিল সমাবেশও হয়েছে। কিন্তু সমূলে সমাধান কখনোই হয়নি।

শহর দাপিয়ে বেড়ানো প্রায় পাঁচ-ছয় শ গরুর মালিকরা শহরেই বাস করেন। মালিকরা এসব গরু শহরে ছেড়ে দেন। গরুগুলো খাবারের সন্ধানে শহরের ডাস্টবিনগুলোতে হানা দেয়। ফলে ময়লা-আবর্জনা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষিত করে।

প্রভাতি ইনস্যুরেন্স কম্পানির ময়মনসিংহ অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এম এ বারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পথের এসব গরু হর্ন দিলেও সরে না।’

নগরের রাজবাড়ীর পেছনে ভাড়া বাসায় থাকেন মজিবুর রহমান শেখ মিন্টু। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে মশার অত্যাচার অসহনীয় হয়ে ওঠে। আবার কখনো কখনো মশা থাকে না। শহরের সানকিপাড়া এলাকায় মেসে থাকে অনেক শিক্ষার্থী। কিবরিয়া সরকার নামে একজন বলে, ‘সন্ধ্যার পর বড় বড় মশার কারণে তাদের পড়াশোনা কঠিন হয়ে পড়ে।’
মন্তব্য

Hi

বাণিজ্যিক রাজধানী : চট্টগ্রাম।

শুভেচ্ছা

কুসংস্কারকে ধ্বংস করতে গিয়ে আমরা ধর্মকে ধ্বংস করতে পারিনা!

hi, sobay kemon achen



বৈরী আবহাওয়ায় সেন্ট মার্টিনে ৩০০০ পর্যটক আটকা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে আজ বুধবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে যাওয়া তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। আজ যাঁদের সেন্ট মার্টিন যাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা অনেকেই কক্সবাজারের দিকে চলে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মো. শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বজ্রমেঘের ঘনঘটার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আজ বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত কক্সবাজারের ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী উত্তাল। এ অবস্থায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বিপজ্জনক। তাই মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও এ সতর্কসংকেত বলবৎ থাকতে পারে।

Eprothom Alo
গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে পর্যটক জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, দ্য আটলান্টিক ক্রুজ ও এলসিটি কাজলে করে আড়াই হাজারের মতো পর্যটক সেন্ট মার্টিন বেড়াতে যান। সেখানে রাত্রিযাপন করতে প্রায় দেড় হাজারের পর্যটক থেকে যান। এর আগের দিন যাওয়া আরও দেড় হাজারের মতো পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করছিলেন।

এদিকে, আজ বুধবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা এসে ভিড় করছিল টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে। তবে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁরা কক্সবাজারের দিকে চলে যাচ্ছেন।

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম ও এলসিটি কাজলের ব্যবস্থাপক মনির আহমদ বলেন, সতর্কসংকেতের কারণে আজ কোনো জাহাজ টেকনাফ থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি। ফলে, গত সোম ও মঙ্গলবার সেন্টমার্টিনে বেড়াতে এসে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আটকা পড়েছেন পর্যটকেরা। সংকেত কেটে গেলে টেকনাফ থেকে জাহাজ গিয়ে তাঁদের ফেরত আনা হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক (পরিবহন) মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সতর্কসংকেত অমান্য করে পর্যটক পরিবহন করলে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এ নৌপথে জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, দ্য আটলান্টিক ক্রুজ ও এলসিটি কাজল চলাচল করছে। রুট পারমিট না থাকায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গ্রীন লাইন-১ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি এমভি ফারহান ক্রুজের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় বে-ক্রুজ নামে আরও একটি জাহাজ বন্ধ রয়েছে।

সেন্ট মার্টিনে থাকা পর্যটকদের মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ার হামিদুর রহমান নামে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইনের ভাষ্য, গতকাল দিবাগত রাত তিনটা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয় এবং আজ সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। তাই অধিকাংশ পর্যটক হোটেল-মোটেল ও কটেজে আটকা পড়ে আছেন। সাগরও প্রচণ্ড উত্তাল। তাই স্থানীয় কোস্টগার্ড সদস্যরা ট্রলারও ছেড়ে যেতে দিচ্ছেন না।

সী ফাইন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী আবদুর রহিম বলেন, হঠাৎ করে আবহাওয়ার সতর্কবার্তার কারণে সেন্ট মার্টিন-টেকনাফ নৌপথে পর্যটক জাহাজ ও সার্ভিস ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্ট মার্টিনে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল-কটেজে প্রায় তিন হাজারের মতো শিশু, নারী ও পুরুষ আটকা পড়েছেন।

সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সেকান্দর আলী বলেন, আটকে পড়া পর্যটকেরা দ্বীপের ১০৬টি হোটেল-মোটেল ও কটেজে অবস্থান করছেন। সংকেতের কারণে সাগর উত্তাল থাকয় জাহাজ চলাচল আজও বন্ধ রয়েছে।

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান বলেন, যাঁরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আছেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করতে এবং ভাটার সময় কোনো পর্যটক যাতে সাগরে না নামেন, সে ব্যাপারে প্রচার চালাতে স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

19-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3614 জন)
প্রশ্নঃ শত বছর জীবত থেকে কেউ যে কাজ করবে, তা যদি তুমি পঞ্চাশ বছর জবীত থেকে করতে পার তাহলে তুমিও শত বছর জীবন পেলে। আমরা চাইলে কর্মের পরিধি ও তাৎপরতা বৃদ্ধি করে শত বছর বাঁচতে পারি। মানে পঞ্চাশ বছর বেচেঁ থেকে শত বছর বা তারও বেশি বছরের সমান কাজ করতে পারি। ১২ কর্মঘন্টার মধ্যে ‘কামাল’ প্রতিদিন ৪ঘন্টা অপচয় করেন ও ৮ঘন্টা কাজ করেন অন্যদিকে তার সহকর্মি ‘শামিম’ কোন সময় অপচয় করেন না। দুজনেই ১৮বছর চাকুরী করলে শামিমের তুলনায় কামাল কত বছর কম চাকুরী করলো?
(A) ৯ বছর
(B) ৪ বছর
(C) ৬ বছর
06-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4051 জন)
প্রশ্নঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আর কোন এ্যান্টিবায়টিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ঐষধ (এ্যান্টিবায়িটিক) এর অপব্যবহার মানব সভ্যতা ধ্বংশের জন্য দায়ি হবে। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত/অসম্পূর্ণ এ্যান্টিবায়িটিক ডোজ প্রয়োগের ফলে মানব শরীরে একসময় আর কোন এ্যান্টিবায়িটিক কাজ করবে না। বর্তমানেই বিভিন্ন হসপিটালে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামান্য রোগেই চোখের সামনে রোগী মারা যাবে। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল কোনটি?
(A) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
(B) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
(C) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
02-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4207 জন)
প্রশ্নঃ রাশিয়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গুপ্তপ্রসাদ রেড্ডি (বি ভি) বলেছেন, ক্যান্সার কোনো মরণব্যাধি নয়, মাত্র দুটি উপায় অনুসরণ করলেই উধাও হবে ক্যান্সার। ১. প্রথমেই সব ধরনের সুগার বা চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। ২. এরপর এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবু চিপে মিশিয়ে নিন। টানা তিন মাস সকালে খাবারের আগে খালি পেটে এই লেবু মিশ্রিত গরম পানি পান করুন। উধাও হয়ে যাবে ক্যান্সার। -- ক্যান্সার হতে পারে এ জন্য নিচের কোন মাছটি খাওয়া নিষেধ?
(A) পিরহানা মাছ
(B) তেলাপিয়া মাছ
(C) পটকা মাছ