About Rubina Khatun

জেনে নিন, কোন সাতটি রোগের মহাওষুধ আরবের খেজুর

আমাদের দেশে সৌদি আরবের খেজুর সারা বছর পাওয়া গেলেও মূলত রমজান মাস ছাড়া ফলটি খুব একটা কেউই খায় না। সারা বছর কম খাওয়ার ফলে রমজান মাসে ফলটির চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। কিন্তু আপনি কি জানেন আরবের এই ফলটির মধ্যে লুকিয়ে আছে সাতটি রোগের মহাওষুধ। আসুন জেনে নিই খেজুরের সেই সাতটি রোগের বিরুদ্ধে কিছু স্বাস্থ্যগত গুণের কথা।

১। দ্রুত শক্তি প্রদানকারী
খেজুরে আছে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ যা আপনাকে শক্তি দিয়ে থাকে। এটি খুব দ্রুত কাজের শক্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসে শরীরে। আপনি যদি খুব ক্লান্ত থাকেন তখন কিছু খেজুর খাবেন, দেখবেন শরীরের ক্লান্তি এক নিমিষে দূর হয়ে গেছে।

২। রক্ত স্বল্পতা দূর করে
যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। তারা নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন। খেজুর রক্ত উৎপাদন করে দেহের রক্তের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

৩। কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
খেজুরে কোনো কোলেস্টেরল এবং বাড়তি পরিমাণে চর্বি থাকে না। ফলে আপনি সহজেই খেজুর খাওয়া শুরু করে অন্যান্য ক্ষতিকর ও চর্বি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

৪। ওজন কমিয়ে থাকে
মাত্র কয়েকটা খেজুর কমিয়ে দেয় ক্ষুধার জ্বালা। এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। আর এই কয়েকটি খেজুর শরীরের শর্করার চাহিদাও পূরণ করে থাকে। ফলে আপনি শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ না করলেও শরীরে শর্করার অভাব হয় না।

৫। হজমে সাহায্য করে
কখনো বেহিসেবি খাওয়াদাওয়া করে ফেললে, অনেক সময় বদহজম হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি দেবে কয়েকটি খেজুর।

৬। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ যা খাদ্য পরিপাক হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। ডায়রিয়া হলে কয়েকটি খেজুর খান। এটি ডায়রিয়া রোধ করতে সাহায্য করবে।

৭। ক্যান্সার প্রতিরোধ
অবাক হলেও সত্য খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এক গবেষনায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যান্সারের ঝুঁকিটা কমে যায় অনেকখানি।


রাসায়নিকে পাকছে ফল কী ক্ষতি হচ্ছে শরীরের


বাগান থেকে ফলমূল কাঁচা তোলা হলেও রাত না পেরুতেই তা হয়ে যাচ্ছে পাকা টসটসে। আর সকাল না হতেই তা চলে আসছে বাজারে। বাজার থেকে ক্রেতার ঘরে-ঘরে। এরপর এসব ফল যাচ্ছে পরিবারের সদস্যদের পেটে। কিন্তু বাগান বা গাছ থেকে তোলা কাঁচা ফলটি রাত পেরুতেই কী করে পাকা টসটসে এবং খাওয়ার উপযোগী হচ্ছে সেটি আবারও বেরিয়ে আসল।
গত শনিবার হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন একটি দোকানে অভিযান চালাতে গিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা একটি রাসায়নিকের কৌটা উদ্ধার করেন। রিপেন-ফিফটিন নামে ওই কৌটায় ছিল ইথোফেন। যা ব্যবহার হয় কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে। হাটহাজারী বাজারের মান্নান ফল বিতান নামের ওই দোকানে বিক্রি হচ্ছিল কলা আর আম। রাসায়নিক খুঁজে পাওয়ার পর দোকানের কর্মচারী আব্দুর শুক্কুর স্বীকার করেন, কলা পাকাতে তারা এই রাসায়নিক ব্যবহার করেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন বলছেন, দোকানের কর্মচারী শুধু কলায় মেশানোর কথা বললেও এ রাসায়নিক আমেও ব্যবহার করা হয়। কারণ, তার দোকানে কলার চাইতে আম ছিল বেশি। অভিযানের পর দোকানের মালিক আব্দুল মান্নানকে ডেকে আনা হয় উপজেলা পরিষদে। সেখানে অধিকাংশ পাইকার কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে এই রাসায়নিক ব্যবহার করছে বলে জানান এই ফল বিক্রেতা। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ আবার চাষিদের দিকেও আঙ্গুল তুলছেন। বাগানে বা খেতে এসব রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে চাষিরা এসব রাসায়নিক মেশান, এমন তথ্য মানতে নারাজ প্রশাসনের এই তরুণ কর্মকর্তা। রুহুল আমিনের দাবি, প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিরা এটা করেন বলে মনে হয় না। বরঞ্চ দ্রুত বাজারে বিক্রি করে মুনাফার আশায় পাইকার বা বিক্রেতারাই এ রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। এক দোকানিকে ধরতে পেরেছি বলেই হয়তো তিনি স্বীকার করেছেন। ধরতে না পারলে তো স্বীকারও করতেন না।
সব ফল বিক্রেতাই এই রাসায়নিক ব্যবহার করছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ শঙ্কার কারণ হিসেবে রুহুল আমিন বলছেন, আমি যখন অভিযানে গিয়ে ফলমন্ডির একটি দোকানে যাই, তখন দেখা গেলো বাকি দোকানিরা তাদের দোকান বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন। শঙ্কার জায়গাটা এখানেই। কোনো ধরনের গলদ না থাকলে এভাবে তো পালানোর কথা না।
উল্লেখ্য, এক সময় ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহারে ফলমূল পাকানোর খবর ছিল আলোচিত। কিন্তু মানব শরীরের জন্য অতিরিক্ত ক্ষতিকর বিবেচনায় এ রাসায়নিক নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর কেটে গেছে বহু সময়। এখন ফল পাকাতে কার্বাইডের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে রাসায়নিক ইথোফেন। প্লাস্টিক বোতলে পানির সাথে মিশিয়ে এই রাসায়নিক সেপ্র করা হচ্ছে ফলমূলে। শুধু কলা নয়; আম, পেঁপে এবং আনারস কৃত্রিম উপায়ে দ্রুত পাকানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এ রাসায়নিক। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনের অভিযানের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রাসায়নিক ইথোফেন মানব শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যালসিয়াম কার্বাইডে আর্সেনিক এবং ফসফরাস থাকে। তবে ইথোফেনে আর্সেনিক না থাকলেও ফসফরাস রয়েছে। এই রাসায়নিক যদি সরাসরি গলাধকরণ করা হয় বা কোনোভাবে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে অথবা ত্বক এবং চোখের সংস্পর্শে আসে; তাহলে তা মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামের বন রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাকির হোসাইন বলছেন, ত্বকের সংস্পর্শে এটি গুরুতরভাবে ত্বক পুড়ে যাওয়া, ত্বকে জ্বালা-যন্ত্রণা এবং চোখের সংস্পর্শে চোখের জ্বালা-যন্ত্রণাসহ চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
অন্যান্য সমস্ত অর্গানোফসফরাস রাসায়নিকের মতো, ইথোফেন এর বিষাক্ততায়- অত্যধিক লালা-ঝরা, ঘাম, মাথা-ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে পারে। তাছাড়া, এটি পেশীর খিঁচুনি, হৃদ-কম্পন বৃদ্ধি, মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, চোখে ঝাপসা দেখা, পেট মোচড়ানো এবং ডায়রিয়ার কারণও হতে পারে। সরাসরি ফলের উপর সেপ্র করলে মানব শরীরে ক্ষতির আশঙ্কাটা বেশি বলেও জানান এই রসায়নবিদ।
অন্যদিকে, রাসায়নিক ইথোফেন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কারণের মধ্যে গ্রেড-ফোর হিসেবে বিবেচিত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল করেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. আলী আসগর চৌধুরী। এর অর্থ, এই রাসায়নিকে ক্যান্সারের কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া না গেলেও আবার এটি ক্যান্সারের কারণ নয়, তাও বলা যাবেনা। আর এই রাসায়নিক এক বছরের কম বয়সী শিশুদের শরীরে গেলে শিশুদের গ্রোথ (বেড়ে ওঠা) কম হবে। এছাড়া রাসায়নিকটির প্রভাবে মানব শরীরে নিউরোলজিক্যাল বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে বলেও জানান ডা. আলী আসগর চৌধুরী।
সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, ফলমূলে রাসায়নিকটি ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময় পর এর ক্ষতিকর কার্যকারিতা অনেকাংশে লোপ পায়। রাসায়নিক মেশানো এসব ফল ন্যূনতম সাতদিন (মেশানোর) পর খেলে মানব শরীরে ততটা ক্ষতি করেনা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেটি হতে দিচ্ছে না। তারা রাতে রাসায়নিক মিশিয়ে সকালেই বাজারে এসব ফল বিক্রি করে থাকে। এতে করে রাসায়নিক মেশানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এসব ফলমূল মানব শরীরে প্রবেশ করছে। যার কারণে ক্ষতির শঙ্কাটাও বেশি।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর যা বলছে : কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফলমূলে কোনো ধরনের ক্যামিকেল (রাসায়নিক) মেশানোর নিয়ম নেই। এসব ক্যামিকেল মূলত গবেষণা বা বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যবহারের জন্যই। কিন্তু চাষাবাদেও বর্তমানে এসব ব্যবহার করা হচ্ছে। যা নিয়ম বিরুদ্ধ।
সহনীয় মাত্রা ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হলে ক্ষতির দিক কম বলে জানিয়েছেন কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর, চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক গিয়াস উদ্দিন। তবে চাষী বা ব্যবসায়ীরা রাসায়নিকটি ব্যবহারের মাত্রা এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন নয় বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। একই বক্তব্য কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলতাফ হোসাইনেরও। দুই কর্মকর্তাই শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, যদিও একটি সহনীয় মাত্রায় রাসায়নিকটি ব্যবহার করা যায়, কিন্তু যারা এটি ব্যবহার করছে তারা তো এ বিষয়ে ততটা সচেতন না। আবার এটি ব্যবহারে নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়া আছে, সেটিও মানা হচ্ছে না। যার কারণে মানব শরীরে ক্ষতির শঙ্কাটা থেকেই যায়।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতোই কৃত্রিম উপায়ে ফলমূল পাকানোর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে রাসায়নিক ইথোফেন। কিন্তু ফল পাকাতে ইথোফেন অনেকাংশে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের চেয়েও কম সময় নেয়। আর ইথোফেনে পাকানো ফলের কালার (রং) স্বাভাবিক ভাবে পাকা ফলের কালারের তুলনায় সুন্দর হয় এবং দীর্ঘ সময় তাজা ভাব বজায় থাকে।
গুগলের বরাতে জানা গেছে, ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো এই রাসায়নিকটিও নিষিদ্ধের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে বেশকয়টি রিট আবেদন হয়েছে। ক্যালসিয়াম কার্বাইডের তুলনায় কম ক্ষতিকর হলেও ব্যবহারের মাত্রা এবং ব্যবহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার দিকটি তুলে ধরে আদালতে এসব রিট পিটিশন করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে মানব শরীরের ক্ষতির ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে রিট পিটিশনে।

যে ভিটামিন ক্যানসারের সেল নষ্ট করে!

মরণ রোগ ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কারের জন্য গোটা বিশ্বের চিকিৎসকরা প্রতিদিনই গবেষণায় নতুন নতুন তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন। এই যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ কেয়ার ইনস্টিটিউচের একটি গবেষণায় সামনে এলো। তারা বলছেন, ক্যানসার সেলকে নষ্ট করতে নাকি একাই একশো ভিটামিন সি। যদিও এই নিয়ে এখনও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

মার্কিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই গবেষণা অনুযায়ী, টিউমারের ভিতরে থাকা ক্যানসার সেলকে নষ্ট করতে সবচেয়ে কম সময় নেয় ভিটামিন সি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, টিউমার টিস্যুর ভিতর ভিটামিন সি ইনজেক্ট করা হলে টিউমারের ভিতর হাইড্রোজেন পেরোস্কাইড তৈরি করে। যা ক্যানসার সেল তৈরি করতে খুবই কার্যকরী।
চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক সময়ই দেখা গিয়েছে ভিটামিন সি ওষুধ খাওয়ার যে ফলটি পাওয়া যায় না, তা ভিটামিন সি ইনজেক্ট করলে সহজেই পাওয়া যায়। এমনকী, ডাক্তাররা বলছেন ওষুধের তুলনায় যদি ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা সরাসরি ভিটামিন সি প্রাকৃতিক উপায়ে খান তাহলেও উপকার পেতে পারেন।

তবে পুরো ব্যাপারটিই রয়েছে এখনও গবেষণার মধ্যে। শিগগিরই এই গবেষণা থেকে সুফল পাওয়া যাবে বলেই জানিয়েছে মার্কিন চিকিৎসকরা।

উপকারী ফল পেয়ারা

পেয়ারা প্রিয় নয়, আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশি ফলগুলোর মধ্যে পেয়ারা অতিপরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি ফল। সাধারণ এবং সহজলভ্য এ ফলের পুষ্টিগুণ অনেক। কাঁচা ও কচকচে পেয়ারার ভর্তা তো আছেই, তার সঙ্গে পেয়ারার জেলি নানাভাবে খাওয়া যায়। শুধু ফলই নয়, পেয়ারা পাতায়ও রয়েছে নানা ভেষজগুণ। বহুগুণী এ পেয়ারার স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে আজকের এ ফিচার।

পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' এবং 'এ'। একটি পেয়ারায় মাঝারি আকৃতির কমলা থেকে চারগুণ বেশি ভিটামিন 'সি' রয়েছে। একটি লেবুর তুলনায় ১০ গুণ বেশি ভিটামিন 'এ' রয়েছে। এ ছাড়া ভিটামিন বি২, ই, কে, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ফসফরাস এবং পটাসিয়ামও রয়েছে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের লিপিড কমে।

পেয়ারায় (চংরফরঁস মঁধলধাধ) পটাসিয়াম থাকায় নিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিয়মিতভাবে লাইকোপিন সমৃদ্ধ গোলাপি পেয়ারা খেলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কমে। পেয়ারায় লাইকোপিন, ভিটামিন 'সি' ও কোয়ারসেটিনের মতো অনেকগুলো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করে। এটি প্রোস্টেট এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। চায়নিজ চিকিৎসাশাস্ত্রে অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পেয়ারার ব্যবহার হয়ে আসছে। পেয়ারার রসে থাকা উপাদান ডায়াবেটিস মেলাইটাসের চিকিৎসায় খুবই কার্যকর।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে পেয়ারার পাতাও বেশ কার্যকর। কচি পেয়ারা পাতা শুকিয়ে মিহি গুঁড়ো করে এক কাপ গরম পানিতে ১ চা-চামচ মিশিয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে রেখে তার পর ছেঁকে নিয়ে পান করলে ভালো হয়। পেয়ারার কচিপাতা বেটে ফোঁড়ায় বাহ্যিকভাবে ব্যবহারের রীতি অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। পেয়ারায় বিদ্যমান ভিটামিন 'এ' চোখের জন্য উপকারী। এটি কর্নিয়াকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। এসব ছাড়াও পেয়ারার আরও অনেক গুণ রয়েছে।

নতুন মায়েদের জন্য যে ৭টি খাবার নিষিদ্ধ

পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি কিছু খাবার আছে যা মায়েদের এড়িয়ে চলতে হয়। অনেক সময় দেখা গেছে এই খাবারগুলো খাওয়ার পর বাচ্চারা মায়ের দুধ খেতে চায় না অথবা দুধ খেলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই মায়েদের সচেতন থাকতে হয় সর্বক্ষণ। বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর সময় এমন কোন খাবার খাওয়া যাবে না যাতে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

লেবু জাতীয় ফল: লেবু জাতীয় সকল ফল এই সময় এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এই জাতীয় ফলে অ্যাসিড থাকে যা শিশুর বুক জ্বালা পোড়া, পেট ব্যথার কারণ হতে পারে। এমনকি শিশুর শরীরে র‍্যাশ বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। আপনি লেবুর পরিবর্তে অন্য ভিটামিন সি এর উৎস যেমন পেঁপে আম, খেতে পারেন।

চকলেট: এই সময় আপনার প্রিয় চকলেট খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। চকলেট বিশেষ করে ডার্ক চকলেটে ক্যাফিন থাকে যা আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। চকলেট খাওয়ার পর দুধ খেলে আপনার বাচ্চা যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে বা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দেয় তবে চকলেট খাওয়া বন্ধ করে দিন।

ব্রকোলি: ব্রকোলির পুষ্টিগুণ অনেক, কিন্তু বাচ্চা দুধ খাওয়ানোর সময় ব্রকোলি, ফুলকপি জাতীয় গ্যাস সৃষ্টিকারী সবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই খাবারগুলো পেটে গ্যাস সৃষ্টি করে থাকে যা বাচ্চার ক্ষতি করে।

কফি: আপনি যখন কফি বা চা পান করেন তখন ক্যাফিনের কিছু অংশ দুধের সাথে মিশে যায়। ছোট শিশুদের বড়দের মত ক্যাফিন শোষন করার ক্ষমতা থাকে না। ফলে ওদের পেটে ব্যথা, বুক জ্বালাপোড়া, অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

রসুন: আপনার যদি কাঁচা রসুন বা রসুনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তবে আজই এই অভ্যাস ত্যাগ করুন। রসুনের গন্ধ বুকের দুধের মধ্যে আসে যা আপনার বাচ্চা পছন্দ নাও করতে পারে।

কিছু মাছ: মাছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। কিন্তু কিছু মাছ যেমন টুনা মাছ, আঁশযুক্ত মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

দুগ্ধজাত খাবার: দুধ এবং দুধ জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। কিন্তু শিশুরা এই জাতীয় খাবার সহজে হজম করতে পারে না। বিশেষ করে গরুর দুধের প্রোটিন। চিজ, পনির, টকদই বা অন্য কোন দুগ্ধ জাতীয় খাবার মা খেলে তা দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে চলে যায়। এতে শিশুর হজমের সমস্যা, পেটে গ্যাস বা পেট ব্যথা সহ অনেক সমস্যা দেখে দিতে পারে।

পিল খাওয়ার ব্যাপারে অবলম্বন করতে হবে যেসব নিয়ম

অনাখাঙ্খিত গ্ররভধারন এরাতে অনেকেই পিল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু পিল যতোটা না কার্যকারি ঠিক ততোটা না একজন নারীর জনয ক্ষতিকর। তাই পিল খাওয়ার ক্ষেত্রে অবলম্বন কতে হয় কিছু বিষয়।

পিরিয়ডের সমস্যা:সব থেকে বেশি যে সমস্যা হতে পারে, তা হল পিল শুরু করার পর পিরিয়ডের ধরণ বদলে যাওয়া। এই নিয়ে অকারণ বিভ্রান্ত হবেন না। ভয় পেয়ে জন্মনিরোধক পিল ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন না।

পিরিয়ড না হলে:ভালো করে ভেবে দেখা দরকার পিল খেতে কি কখনো ভুলে গিয়েছিলেন? বা সম্প্রতি পেটের গণ্ডগোল বা বমি হয়েছিল কি না। তবে জন্মনিরোধক পিল বন্ধ করা চলবে না। ২১ দিন খেয়ে ৭ দিন বন্ধ রেখে আবার ২১ দিন খেতে হবে।

বমি বমি ভাব:জন্মনিরোধক পিল খেলে বমি বমি ভাব হতে পারে। সমস্যা এড়াতে কিছু খাবার খেয়ে বা শোওয়ার আগে পিল খান। এই রকম ক্ষেত্রে কম ডোজের পিল নিলে সুবিধে হয়। সঙ্গে বমি ভাব কমানোর ওষুধ কিছু দিন খেতে হবে।

পৃথিবী সৃষ্টির সঠিক তথ্য

‘বিগ ব্যাং’ অর্থ্যাৎ মহা বিস্ফোরণ। বিজ্ঞানীরা দাবী করে আসছে পৃথিবী একটি মহা বিস্ফোরণের মাধ্যেমে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে কি বিজ্ঞানীদের এই দাবি বিশ্বাস করা যায়? পৃথিবী সৃষ্টির সঠিক তথ্য আছে পবিত্র কোরআনে।

পৃথিবী সৃষ্টি প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক আল কোরআনে সূরা আম্বিয়ায় বলেছেন, ‘সত্য প্রত্যাখানকারীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলি ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অত:পর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম’ (আম্বিয়া:৩০)।

আয়াতটি আমাদেরকে একেবারে পরিস্কারভাবে বলছে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রেরা একসময় একজায়গায় পুঞ্জিভুত ছিল। এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ে এদের জন্ম হয়।

আজকের বিজ্ঞান কি বলে এ সম্বন্ধে ? ষ্টিফেন হকিং এর বিগ ব্যাং থিওরী আজ সর্বময় স্বীকৃত। এ থিওরী অনুযায়ী মহাবিশ্বের সকল দৃশ্য অদৃশ্য গ্রহ নক্ষত্র সৃষ্টির শুরুতে একটি বিন্দুতে পুঞ্জিভুত ছিল। এবং একটা বিশাল বিষ্ফোরণের মাধ্যমে এরা চারিদেকে ছড়িয়ে যেতে থাকে। কিভাবে মরুভুমির বুকে সংকলিত দেড় হাজার বছর আগের একটি বই এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা ধারণ করতে পারল ?

ড:মিলার বলেছেন, এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণার পর কোরআন যে ঐশী গ্রন্থ তা মেনে নিতে বাধ্য হই। যারা প্রচার চালাচ্ছে কোরআন হযরত মুহাম্মদ (সা) এর নিজস্ব বক্তব্য তাদের দাবি নাকচ করার জন্য এই একটি আয়াতই যথেষ্ট।

ড:মিলার বলেছেন, দেড় হাজার বছর আগে ইসলামের নবীর পক্ষে কিভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য নিয়ে কথা বলা সম্ভব, যিনি কোন দিন কোন স্কুলে পড়ালেখা করেন নি। কারণ এটি এমন এক বৈজ্ঞানিক বিষয়, যা সম্পর্কে তত্ত্ব আবিষ্কার করে মাত্র কয়েক বছর আগে ১৯৭৩ সালে নোবেল পুরুস্কার পেয়েছেন এক বিজ্ঞানী। মিলারের মতে এই আয়াতে সেই বিগ ব্যাং এর কথাই বলা হয়েছে যার মাধ্যমে পৃথিবী, আকাশমন্ডলী ও তারকারাজি সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিগ ব্যাং থিওরীর একটা অনুসিদ্ধান্ত হল "অনবরত দূরে সরে যাওয়া গ্রহ নক্ষত্রগুলো একসময় আবার কাছাকাছি আসা শুরু করবে কেন্দ্রবিমুখী বল শুন্য হয়ে যাওয়ার ফলে এবং সময়ের ব্যাবধানে সব গ্রহ নক্ষত্র আবার একত্রে মিলিত হয়ে একটা পিন্ডে পরিনত হবে"।

"সেই দিন আকাশমন্ডলীকে গুটিয়ে ফেলব, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর" (সূরা আম্বিয়া : ১০৪)

১০টি অদ্ভুত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

মানুষ বড়ই অদ্ভুত। অদ্ভুত তাদের শখ, তাদের চাওয়া পাওয়া। মানুষের চেয়েও বেশি অদ্ভুত প্রকৃতি। তাই কখনো প্রকৃতির খেয়ালে অথবা কখনো মানুষের অদ্ভুত শখের কারণে ব্যতিক্রমী সব ঘটনার জন্ম হয়। আর এ সমস্ত ঘটনা এতটাই ব্যতিক্রম যে দ্বিতীয় কোনো মানুষের পক্ষে সে ঘটনা দ্বিতীয়বার জন্ম দেওয়া বা চেষ্টা করার সাহস হয় না। ফলে এগুলো রেকর্ড হয়ে অক্ষুণ্ণ থাকে বছরের পর বছর। ঠাঁই পায় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। চলুন ডিজিটাল স্পাইয়ের সৌজন্যে জেনে নিই এমন ১০টি অদ্ভুত ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সম্পর্কে।

১. সবচেয়ে বড় চোখের পাপড়ি

সৌন্দর্যবর্ধনে অনেকেই নকল চোখের পাপড়ি ব্যবহার করে থাকে। তবে চীনের জিয়ানজিয়ার চোখে নকল পাপড়ি পড়ার কোনো দরকার নেই। কারণ এই চোখের পাপড়ি দিয়েই গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাঁর চোখের উপরের পাতার চোখের পাপড়ির দৈর্ঘ্য মাপা হয়েছে ১২.৪ সেন্টিমিটার।

২. সবচেয়ে বৃদ্ধ বডিবিল্ডার

শরীরকে ভালো রাখতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে ব্যায়াম করতে অনেকেই লজ্জা পায়। তাদের লজ্জা ভেঙেচুরে দিয়েছেন জিম আরিংটন। বৃদ্ধ বয়সেই ব্যায়াম শুরু করেছেন তিনি। শুধু তাই নয় ৮৫ বছর ৬ দিন বয়সে পেশাদর বডি বিল্ডার বনে রেকর্ড বুকে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি।

৩. সবচেয়ে বড় নখের অধিকারিণী

অনেক নারীই নানা রঙের নেইলপলিশে নিজেদের নখ রাঙাতে ভালোবাসেন। কিন্তু ৬০ বছর বয়সী আয়ান্না উইলিয়ামসের মতো বড় নখ হলে নেলপলিশে সে নখ রাঙানোর জন্য যে খরচ পড়বে তা হয়তো আপনার পক্ষে মেনে কষ্টকর হতে পারে। কারণ উইলিয়ামসের নখের দৈর্ঘ্য মাপা হয়েছে ৫.৭৬ মিটার। আগে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন লি রেমন্ড। তাঁকে সরিয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন উইলিয়ামস।

৪. সবচেয়ে বড় টপ ফেড চুল

চুলে জেল দিয়ে অনেকেই তা খাড়া করে রাখতে পছন্দ করেন। কিন্তু সবার খাড়া চুলই মাথা নোয়াবে বেন্নে হারলেমেসের চুলের কাছে। তাঁর খাড়া চুলের দৈর্ঘ্য মাপা হয়েছে ৫২ সেন্টিমিটার। আর বাইরে বের হতে গেলে তাঁর এই চুল ঠিক করতে সময় লাগে পাক্কা দুই ঘণ্টা।

৫. সবচেয়ে বড় পা

আপনি যে প্যান্টই কিনে দেন না কেন একাতারিনা লিসিনাসের তা ছোট হবে। কারণ গিনেস ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড অনুসারে তিনিই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় পায়ের অধিকারী। তাঁর পায়ের দৈর্ঘ্য মাপা হয়েছে ৫২ ইঞ্চি (১৩২ সেন্টিমিটার)। অর্থাৎ শুধু তাঁর পায়ের দৈর্ঘ্যই প্রায় চার ফিটের মতো।

৬. মারমাইটখেকো

মারমাইট হলো ব্রিটিশদের প্রিয় খাবার। তরল জাতীয় এই পদার্থটি পাউরুটির সঙ্গে খেতে অনেকেই ভালোবাসেন। কিন্তু একসঙ্গে কতটুকু মারমাইট খেতে পারবেন আপনি? যা পারবেন তাঁর চেয়েও বেশি মারমাইট খেতে পারেন আন্দ্রে ওরটলফ। বর্তমানে এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি মারমাইট খাওয়ার বিশ্বরেকর্ডটি তাঁর দখলে।

৭. এক ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বেলুন ফুলানোর অধিকারী

ধরুন আপনার বাসায় কোন পার্টি বা জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ঘর সাজানোর জন্য প্রচুর বেলুন ফুলানোর দরকার। তাহলে আপনি ভাড়া করতে পারেন হান্টার এওউইনকে। তিনি এক ঘণ্টায় প্রায় ৯১০টি বেলুন ফুলিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। তাই তিনি হতে পারেন এ কাজের জন্য সবচেয়ে যোগ্য লোক।

৮. সবচেয়ে বড় লেজের বিড়াল

শিকারি বিড়ালকে গোফ দিয়ে চেনা গেলেও সিলভার মাইনে কুনের বিড়াল সাইগনুসকে চেনা যায় তার লেজ দিয়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লেজের অধিকারী এই বিড়াল। বিড়ালটির লেজের দৈর্ঘ্য মাপা হয়েছে ৪৪.৬৬ সেন্টিমিটার।

৯. সবচেয়ে দীর্ঘ গৃহপালিত বিড়াল

আগের বিড়ালটি লেজের দিক দিয়ে বড় হলেও এই বিড়ালটি বড় আকৃতিতে। আর্কটুরাস অ্যালদেবারান পাওয়ারস নামের এই বিড়ালটির দৈর্ঘ্য মাপা হয় ৪৮.৪ সেন্টিমিটার। পৃথিবীর সব গৃহপালিত বিড়ালদের মধ্যে তাঁর দৈর্ঘ্যই সবচেয়ে বেশি। ২০১৬ সালে তাঁর গড়া এই রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

১০. সবচেয়ে বেশি টেডি বিয়ারের সংগ্রহ

আপনার সন্তান কি প্রায়ই টেডি বিয়ারের জন্য মন খারাপ করে? তাহলে তাঁকে নিয়ে যেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডেকোটার জ্যাকি মিলের কাছে। কারণ তাঁর কাছে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রায় আট হাজার ২৫টি টেডি বিয়ার। সর্বপ্রথম টেডি বিয়ার গ্র্যান্ডমা জ্যাকি দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর এই টেডি বিয়ার সংগ্রহ। ২০০০ সালে গড়া এই রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

অতিরিক্ত এসিতে থাকার ক্ষতিগুলো জানেন?
এই গরমে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। তবে বেশিক্ষণ এসিওয়ালা কক্ষে থাকলে হতে পারে সর্বনাশ। এসিতে অতিরিক্ত থাকার ফলে নানা সমস্যা হতে পারে, চলুন জেনে নেয়া যাক-

১. যারা দিনের বেশির ভাগ সময় বা অন্তত টানা ৯-১০ ঘণ্টা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কাটান, তাদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।

২. অতিরিক্ত এসির ব্যবহার কনজাংটিভাইটিস এবং ব্লেফারাইটিস-এর মতো চোখের একাধিক সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া যারা চোখে লেন্স ব্যবহার করেন, তাদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

৩. অতিরিক্ত এসির ব্যবহারে আর্থাইটিস, ব্লাড প্রেসার বা নানা ধরণের স্নায়ুর সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।
৪. দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার ফলে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যাও মারাত্মক ভাবে বেড়ে যেতে পারে।
৫. এসিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায় এবং ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সব মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকেন, তাঁরা মাথা ব্যথা বা মানসিক অবসাদের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন।

Excel এর অত্যন্ত খুব দরকারি ১০ টি মেথড
EXCEL এর সুত্র ব্যবহারের পূর্বে আমরা যারা এক্সসেল সমন্ধে কিছু জানি না, একবার জেনে নেবো কিভাবে এক্সসেলে সুত্র প্রয়োগ করা হয়। তার জন্য -প্রথমে Excel ওপেন করতে হবে, এরপর যে CELL ( Sheet-র এক একটি ঘরকে Cell বলে ) এ উত্তর পেতে চান, সে Cell টিকে সিলেক্ট করে নিন, এবং এরপর = ( সমান চিহ্ন ) টাইপ করার পর নিম্ন ফর্মুলা গুলি ব্যবহার করুন।
এক্সেল

এক্সেল সুত্র
SUM ( যোগফল )
SUM দ্বারা Cell -র মধ্যে থাকা সংখ্যার যোগফল নির্ণয় করা হয়।
Syntax:

=sum(1,2,5,6)
=২+৫+৯+৭
sum(A1,A2,A3,A4)
sum(A1,A2,A3,A4)
sum(A1:A4)


প্রয়োগ করার নিয়ম- Excel ওপেন করে '=' চিহ্নটি টাইপ করুণ এরপর sum(1,2,5,6) টাইপ করার পর এন্টার চাপুন। তৎক্ষণাৎ আপনি তার উত্তর পাবেন। এভাবে ২,৩,৪... নং সুত্র গুলিও প্রয়োগ করে যোগফল করতে পারেন। এছাড়াও Autosum করেও যোগফল বের করতে পারেন। A1,A2,A3,A4 এগুলি হল Cell অ্যাড্রেস নেম। A1 এর মধ্যে যে সংখ্যাগুলি থাকে সেগুলিকে ধারন করবে। বিস্তারিত পরের পর্বে পাবেন।
PRODUCT( গুণফল )
Product দ্বারা Cell এর মধ্যে থাকা সংখ্যা গুলির গুন নির্ণয় করা যায়।
Syntax:

=5*6*7*6
=product(5,6,7,1)
=product(A1,A2,A3,A4)
=product(A1:A4)

Average( গড়)
Average দ্বারা Cell এর মধ্যে থাকা সংখ্যা গুলির গড় নির্ণয় করা যায়।
Syntax:

=Average(5,6.8)
=Average(A1,A2,A3,A4)
=Average(A1:A4)

MAX (সর্বাধিক)
Maximum দ্বারা কোন Cell এর মধ্যে থাকা সংখ্যা গুলির মধ্যে সর্বাধিক (সবচেয়ে বড়) সংখ্যা নির্ণয় করা যায়।
Syntax:

=Max(5,6.8)
=Max(A1,A2,A3,A4)
=Max(A1:A4)

MIN (সর্বনিম্ন)
Minimum দ্বারা কোন Cell এর মধ্যে থাকা সংখ্যা গুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (সবচেয়ে ছোট) সংখ্যা নির্ণয় করা যায়।
Syntax:

=Min(5,6.8)
=Min(A1,A2,A3,A4)
=Min(A1:A4)

ROUND (আসন্ন মান)
ROUND আসন্ন মান অর্থাৎ মোটামুটি কাছি অংক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেমন - ২.৫৬৮৫ সংখ্যাটিকে দুই দশমিক আসন্ন মান লিখতে বলা হলে ২.৫৭ লেখা হয়।

=round(2.15,1)

2.15 কে মোটামুটি এক দশমিক স্থানে প্রকাশ করলে 2.2 হয়।
COUNT (গণনা )
একটি rang -এর সাংখিক মান গণনা করা হয়।

=Count(5,6.8)
=Count(A1,A2,A3,A4)
=Count(A1:A4)

১ নং সিনট্যাক্স টির উত্তর হবে ৩। কেননা ওখানে তিনটি অংক রয়েছে।
IF (শর্ত সাপেক্ষ)
IF ফর্মুলা দিয়ে শর্ত আরোপ সহ গণনা করা যায়। সাধারন অর্থে - কোন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছত্রীদের পাস-ফেল বের করা।
Syntax

=IF(A10>=100,A3*2,A2*2)

বর্ণনা-
এখানে A10 যদি 100 -র সমান বা বেশি হয় সেক্ষেত্রে A3*2 এই সংকেত ব্যবহৃত হবে।
কিন্তু A10 যদি 100 থেকে কম হয় সেক্ষেত্রে A2*2 সংকেত ব্যবহৃত হবে।
SQRT (বর্গমূল)
কোন সংখ্যার বর্গমূল বের করতে SQRT(Square root) ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়।
Syntax:

=sqrt(81)

[ 81 এর পরিবর্তে নিজের পছন্দ মতো সংখ্যা বসানো যেতে পারে ]
POWER(ঘাত)
কোন সংখ্যার বর্গ বা ঘাত নির্ণয় করতে Power ফর্মুলা টি ব্যবহার করা হয়।
Syntax-

=POWER(5,2)

এখানে 5 হচ্ছে সংখ্যা এবং 2 হচ্ছে ঘাত। উক্ত সিনট্যাক্স টির উত্তর হবে 25.


দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
ব্রিটেনে ১০ দিনের সরকারি সফর শেষে আজ শনিবার দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই ভিভিআইপি ফ্লাইটটি প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

প্রধানমন্ত্রী গত ১ মে ১০ দিনের সরকারি সফরে লন্ডন যান। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে তাজ হোটেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।


সোয়াইন ফ্লু

সোয়াইন ফ্লুয়ের উপসর্গ
সোয়াইন ফ্লুয়ের উপসর্গগুলো কী কী, সাধারণ ফ্লুয়ের সঙ্গে এর ফারাক কোথায়, কোন উপসর্গ বিপদের লক্ষণ, কাদের ক্ষেত্রে বিপদের ঝুঁকি বেশি সে সব বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে এখানে।
সোয়াইন ফ্লু রোখার নির্দেশিকা [৭।তথ্য সম্বলিত পাতা খোলে]
সোয়াইন ফ্লু রোখার নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে তা এখানে জানানো হয়েছে।
মাস্ক না-পরেও হাত ধুলে রোখা যাবে ফ্লু [৭।তথ্য সম্বলিত পাতা খোলে]
মাস্ক নয়, বার বার ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুলেই রোখা যাবে সোয়াইন ফ্লু।
সোয়াইন ফ্লু পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ছে কলকাতায় [৭।তথ্য সম্বলিত পাতা খোলে]
অদূর ভবিষ্যতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও সোয়াইন ফ্লু পরীক্ষার উপযোগী পরিষেবা মিলবে।
চরিত্রে বদলে প্রকোপ বাড়াবে সোয়াইন ফ্লু [৭।তথ্য সম্বলিত পাতা খোলে]
একদল বিজ্ঞানীর দাবি, চলতি বছরে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের জিনগত চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে।
সোয়াইন ফ্লু নিয়ে অকারণ আতঙ্ক প্রতিষেধকের বাজার তৈরির স্বার্থে? [৮।পাতা সম্বলিত ফোল্ডার খোলে ]
সোয়াইন ফ্লু যত প্রাণ কাড়ছে তার চেয়ে ঢের বেশি প্রাণ কাড়ে, এমন রোগ নেহাত কম নেই এ দেশে। কিন্তু সে সব রোগ নিয়ে আলোচনা হয় না!

রসুন খেলে কি হয়?
রসুনে অ্যালিসিন নামক একটি উপাদান মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে দারুন কাজে আসে। শুধু তাই নয়, হজম ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটে, ব্লাড প্রসোর নিয়ন্ত্রণে থাকে, ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে, ক্ষতের চিকিৎসায় কাজে আসে, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। জেনে নিন, রসুন খাওয়ার উপকারিতা ...

ব্রেনের অসুখ দূরে থাকে : রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখাতে শুরু করে যে নানাবিধ নিউরোডিজেনারেটিভ অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। বিশেষত অ্যালঝাইমার্স মতো রোগ দূরে থাকে।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : রসুনে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান স্টমাকের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে বদ-হজম এবং নানাবিধ পেটের রোগের প্রকোপ কমে চোখের নিমেষে।

জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে : ওয়েদার চেঞ্জের সময় যারা সর্দি-কাশিতে খুব ভুগে থাকেন। তারা আজ থেকেই দু কোয়া রসুন অথবা গার্লিক টি খাওয়া শুরু করুন। তাহলেই দেখবেন আর কোনও দিন এমন ধরনের শারীরিক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে না। কারণ রসুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে খুব শক্তিশালী বানিয়ে দেয়। ফলে ভাইরাসদের আক্রমণে শরীরের কাহিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

সংক্রমণ সব দূরে থাকে : রসুনে থাকা একাধিক কার্যকরি উপাদান ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাসসহ একাধিক জীবাণুর সংক্রমণ আটকাতে যে কোনও আধুনিক মেডিসিনের থেকে তাড়াতাড়ি কাজে আসে। প্রতিদিন ১-২ কোয়া রসুন খেলে এমন ধরনের সব রোগের খপ্পরে পরার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না।

ব্লাড প্রসোর নিয়ন্ত্রণে থাকে : রসুনের মধ্যে থাকা বায়োঅ্যাকটিভ সালফার, রক্তচাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শরীরের সালফারের ঘাটতি দেখা দিলে তবেই রক্তচাপ বাড়তে শুরু করে। এই কারণেই তো দেহের সালফারের ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত এক কোয়া করে রসুন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে : শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিনের কারণে ত্বকের যাতে কোনও ধরনের ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে রসুন। সেই সঙ্গে কোলাজিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখার মধ্য়ে দিয়ে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। অন্যদিকে প্রায় প্রতিদিন যদি থেঁতো করা রসুন চুলে লাগানো যায়, তাহল দারুন উপকার মেলে।

রক্ত বিষমুক্ত হয় : প্রতিদিন এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে দুটি রসুনের কোয়া খেলে রক্তে থাকা নানা বিষাক্ত উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে ত্বক এবং শরীর উভয়ই চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

ইমিউনিটি বাড়ে : রসুনে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা দেহের আনাচে-কানাচে জমতে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। আর একবার ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়ে উঠলে একদিকে যেমন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে, তেমনি ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

ক্ষতের চিকিৎসায় কাজে আসে : কেটে গেলে এবার থেকে ক্ষতস্থানে এক টুকরো রসুন রেখে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে দিন। তাহলেই দেখবেন জ্বালা-যন্ত্রণা কমে যাবে। সেই সঙ্গে ক্ষতও সারতে শুরু করবে। রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো যন্ত্রণা কমাতে এটি এতটা কাজে লাগে।

ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে : প্রতিদিন রসুন খেলে পাকস্থলী এবং কলোরেকটাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। তাই যাদের পরিবারে এই ধরনের ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে তারা রসুন খাওয়া কোনও দিন বন্ধ করবেন না। দেখবেন উপকার পাবেন।

হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে : নিয়মিত রসুন খাওয়া শুরু করলে দেহের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি প্রপাটিজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন নানাবিধ যন্ত্রণা কমে, তেমনি হাড়ের ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : রসুনে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপাটিজ রয়েছে। এই উপাদানটি একদিকে যেমন শরীরে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, তেমনি উচ্চ রক্তচাপকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর একথা তো সবারই জানা আছে যে এই দুটি জিনিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে তো হার্টের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার আশঙ্কা একেবারেই থাকে না। রক্তে শর্করার মাত্রাকে স্বাভাবিক রাখার মধ্যে দিয়ে ডায়াবেটিসের মতো রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও রসুনের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।


মস্তিষ্কের কাজের নানা ব্যাখ্যায় জিন
আমরা অন্যের ভাষা শুনে বুঝে ফেলি তখনই যখন মিরর নিউরনে বিম্ব পড়ে। মিরর নিউরন এ বিম্বকে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে পাঠায়। প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে যদি উপযুক্ত মেমোরি সেল থাকে, তাহলে ভাষাটা আমরা বুঝব। আর যদি তা না থাকে, তাহলে আমরা বুঝব না।

মানুষ চিন্তা করে প্রিফ্রন্টাল অঞ্চলে। এ অঞ্চলে চিন্তার উপাদান হিসেবে স্নায়ুগুলো যে দুটি তথ্য উপাদান বেশি মাত্রায় পাঠায়, তা হচ্ছে দৃশ্য এবং ভাষা। তাই আমাদের চিন্তায় দৃশ্য ও ভাষার ব্যবহার বেশি। প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের অভ্যন্তরীণ উপস্থাপনা চিন্তা এবং তার প্রয়োজনীয় একটি অংশ আমরা শব্দ করে অন্যের তরে ছেড়ে দিই।

ভাষাসহ সব ধরনের কগনিশন প্রক্রিয়া স্মৃতি ও শিক্ষার মাধ্যমে উপস্থাপন করা যেতে পারে। আসলে আমাদের মানসিক প্রক্রিয়ার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে স্মৃতি ও শিক্ষা। সে হিসেবে কগনিশনের কেন্দ্রীয় জায়গা হচ্ছে স্মৃতি ও শিক্ষা। আমাদের আজকের মনোযোগ হচ্ছে ভাষাগত কগনিশনের নিয়মকানুন ব্যাখ্যায় স্মৃতি ও শিক্ষার ভূমিকা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জীবের বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক জিন। জিন মানুষের মানসিক প্রক্রিয়ার মূল সুর। জিন ও সিন্যাপসের কথোপকথনের মধ্যে নিহিত আছে যাবতীয় মানসিক প্রক্রিয়ার বীজ।

স্টিফেন পিঙ্কার ভাষাকে দেখেছেন একটি হোমোজিনিয়াস অ্যাসোসিয়েটিভ স্মৃতিব্যবস্থার ফল হিসেবে অথবা বিকল্পভাবে, জিনগতভাবে নির্ধারিত হিসাব মডিউলের একটি সেট যার ভেতরে নিয়মগুলো প্রতীকগত উপস্থাপনা ম্যানিপুলেট করে। এই যে হোমোজিনিয়াস অ্যাসোসিয়েটিভ স্মৃতিব্যবস্থা এবং জিনগতভাবে নির্ধারিত হিসাব মডিউল নামক দুটো তত্ত্ব তা স্টিফেন পিঙ্কার তার দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্সটিঙ্কট, ওয়ার্ডস অ্যান্ড রুলস গ্রন্থদ্বয়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

মস্তিষ্কের কোন অঞ্চল ভাষা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত তা গত শতাব্দীর শুরুর দিকে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। ভাষা উপলব্ধি ও তা প্রকাশের সঙ্গে জড়িত অঞ্চলকে চিহ্নিত করে নাম দেয়া হয়েছিল ওয়ারনিকের এলাকা এবং ব্রোকার এলাকা। এ শতাব্দীর সূচনালগ্নে ভাষাবিজ্ঞানীরা ভাষা অঞ্চলের সঙ্গে আরো দুটি বিষয় যোগ করেছেন। এর একটি হচ্ছে মিরর নিউরন, অন্যটি প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স।

উদ্বেগজনক মৃত্যু রোধের উপায় কি?

দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে উল্লেখযোগ্যহারে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের। বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি মোকাবেলার সহজ কোনো পন্থা নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মসূচির মাধ্যমে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের সময়ও বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। বজ্রপাতে মৃত্যুকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘোষণার দাবিও উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বে বাংলাদেশেই বেশি। প্রতিবছর বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায় তার এক-চতুর্থাংশ মারা যায় বাংলাদেশে। দেশে প্রতি বছর গড়ে দুশ’ থেকে তিনশ’ জনের মৃত্যু ঘটে বজ্রপাতে।

বজ্রপাতে আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতো করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে এ সময় বজ্রাহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বিরূপ পরিস্থিতিতে বজ্রপাত বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে করণীয় বিষয় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তি করে ছোটবেলা থেকেই সচেতনতা বাড়াতে হবে। বজ্রপাত থেকে রক্ষার বিভিন্ন উপায় আরও বেশি করে প্রচার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য বেশকিছু উপায়ের কথা বলছেন। এরমধ্যে রয়েছে- ১. দালান বা পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নেয়া, ২. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকা, ৩. জানালা থেকে দূরে থাকা, ৪. ধাতব বস্তু স্পর্শ না করা, ৫. বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থেকে সাবধান থাকা, ৬. গাড়ির ভেতর থাকলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া, ৭. খোলা ও উঁচু জায়গা থেকে সাবধান থাকা, ৮. পানি থেকে দূরে থাকা ৯. পরস্পর দূরে থাকা, ১০. নিচু হয়ে বসে পড়া, ১১. বজ্রপাতের আগ মুহূর্তের লক্ষণ জানা, ১২. রবারের বুট পরা এবং ১৩. বাড়ি সুরক্ষিত রাখা।

বজ্রপাতে আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতো করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে এ সময় বজ্রাহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখুন। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে প্রকৃতির ওপর অত্যাচারও বন্ধ করতে হবে। গাছপালা লাগিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখাটাও জরুরি।


রোজায় সচেতনতা

ছোট বড় নারী পুরুষ প্রায় সকল মুমিন মুসলমান রোজা রাখেন এই পবিত্র রমজান মাসে। এই রোজায় মানুষের স্বাভাবিক ১১ মাসের জীবন-যাপন কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়। একজন রোজাদার কিছু নিয়ম মেনে চললে রোজার মাসে সুস্থ থাকতে পারবেন। আসুন জেনে নিন, রোজা রেখে সুস্থ থাকার উপায়।
রমজানে যাদের চিকিৎসা নিতে হয় তারা এবং যারা সুস্থ থেকে রোজা পালন করতে চান তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
ঃ রোজায় পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ, পানি শূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম দরকার।
ঃ সেহরির সময় অতিরিক্ত আহার করবেন না। খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত আশ জাতীয় শর্করা খাবার রাখুন। বেশি আমিষ খান এবং খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে সবজি-ফল।
ঃ দিনের গরমের সময় ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিন। সম্ভব হলে শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দিন।
ঃ ইফতারির সময় খেজুর, প্রচুর শরবত, দুধ, ফলের রস বেশি না খেয়ে মাগরিব এর পর হালকা খাবার যেমন স্যুপ ও অন্যান্য হালকা খাবার খেতে হবে। রক্তে চিনির মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে খাদ্য তালিকায় কিছুটা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য রাখুন।
ঃ রাতের খাবারের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করুন। অতিরিক্ত খাবার বর্জন করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
ঃ চা, কফি, সোডা পান থেকে বিরত থাকুন।
ঃ মৌসুমী ফল দিয়ে তৈরি ডেজার্ট খেতে পারেন।
ঃ ইফতারির পর থেকে ঘুমাতে যাবার আগ পর্যন্ত অন্তত: ৮ গ্লাস পানি পান করুন।
ঃ সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম যেমন: ১৫-২০ মিনিট হাটার অভ্যাস করুন
ঃ তেলে ভাজা খাবার ও অধিক মসলাযুক্ত ঝাল খাবার পরিহার করুন। এসব খাবারে বুক জ্বালাপোড়া ও হজমে সমস্যা হয়।
ঃ প্রতিদিন অন্তত: ১টা মাল্টিভিটামিন সেবনের চেষ্টা করুন।
ঃ কয়েক বার দাঁত পরিষ্কার ও ফ্লসিং করুন। (রোজাদারগণ এটা করে থাকেন)
ঃ দিনে কয়েকবার হাত মুখ ওয়াশ করুন।
ঃ ধূমপান ত্যাগ করুন।
ঃ পর্যাপ্ত ঘুমানোর জন্য আপনার ঘুমের একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন।
ঃ রোজা রেখে অধিক ও অপ্রয়োজনীয় আলাপ আলোচনা থেকে বিরত থাকুন।
ঃ রোজায় যাদের অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার ও উচ্চ রক্তচাপ থাকে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন বিধি পুনঃনির্ধারণ করুন।
ঃ রোজা রেখে আকস্কিক কোন অসুস্থতা যেমন; অতিমাত্রায় দুর্বলতা, অস্বস্তি থাকলে সম্ভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করুন।
ঃ গুরুতর অসুস্থতায় রোজা ভঙ্গের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা শরীয়তের বিধান অনুসরণ করুন।

হোম বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজনন স্বাস্থ্য বয়ঃসন্ধিকাল বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন

বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন

দশ বছর বয়স থেকে বড় হওয়া শুরু হলেও সবার বেড়ে ওঠা একই রকম নয়। কেউ তাড়াতাড়ি বড় হয়ে ওঠে, কেউবা কিছুটা দেরিতে । এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই । কারণ, একেক জন মানুষের শরীরের গঠন একেক রকম । একজন মানুষের শরীরের বৃদ্ধি নির্ভর করে তার শরীরের গঠন আর পুষ্টির উপর ।

এ সময় ছেলে-মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তন হয় । সবার ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলো একই সময়ে নাও হতে পারে, তবে পরিবর্তনগুলো খুব স্বাভাবিক।

মানসিক পরিবর্তন সমূহ

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে ছেলেমেয়েদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে কৌতূহল হয়, শরীরের পরিবর্তন বিষয়ে জানতে চায়।
নারী-পুরুষের সম্পর্ক বিষয়ে জানতে চায় ।
নিজেদের বড় ভাবতে শুরু করে।
ছেলেমেয়ের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণবোধ করে।
অজানা জিনিস জানার বিষয়ে কৌতূহলী হয়।
চেহারা, সৌন্দর্য ও পোশাক সম্পর্কে সচেতন হয় এবং অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে ।
কেউ আবার একা থাকতে পছন্দ করে, কারো সামনে যেতে চায় না। একটা সঙ্কোচ কাজ করে তাদের মধ্যে ।
এ বয়সে মন চঞ্চল হয়ে ওঠে । দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, আবেগ আর অস্থিরতা কাজ করে । কখনো মন বিষন্ন হয়ে ওঠে, আবার কখনো মন খুশিতে ভরে যায় । কেউ হয়ে ওঠে অভিমানী, কেউবা কৌতূহলী ।

তবে এই পরিবর্তনগুলো সাময়িক । বড় হওয়ার সাথে সাথে সব স্বাভাবিক হয়ে যায় ।

কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল কৌতূহলের বয়স । নিজের শরীর সম্পর্কে জানতে চাওয়া ভালো এবং এতে লজ্জা পাবার কিছু নেই । কিছু জানতে ইচ্ছা করলে বা কিশোর-কিশোরীরা কোনো সমস্যায় পড়লে বাবা-মা বা বড়দের সাথে এ ব্যাপারগুলো আলাপ করতে অস্বস্তি বোধ করে এবং সমবয়সি বা বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে । এ বয়সে ছেলেমেয়েরা বন্ধুদের প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়, বন্ধুদেরকে বেশি গুরত্ত্ব দেয়, বন্ধুদের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। বন্ধু তাদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে । তাই ভাল বন্ধু নির্বাচন করা খুব দরকার।

আজকাল আমাদের মাঝে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটারসহ নানান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডুবে থাকে অনেকেই।
ফেইসবুক ব্যবহার করে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষও ফেইসবুক ব্যবহার করে। মানুষের ভেতর কোনো একটা তথ্য ছড়িয়ে দেবার জন্য এই মাধ্যমগুলোর কোনো তুলনা নেই।

আজকাল মানুষ একে অন্যের সাথে সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখে এগুলোর সাহায্যে। শিশুরা তথ্য প্রযুক্তিকে খুব সহজে গ্রহণ করতে পারে বলে এগুলো শিশুদের মাঝে খুবই জনপ্রিয়।

সাধারণত একটা নির্দিষ্ট বয়স না হওয়া পর্যন্ত এই মাধ্যমে যোগ দেওয়া যায় না কিন্তু তারপরেও অনেক কম বয়সী নিজের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যোগ দেয়।

সিলেটের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র নাদিম হোসেন বলে, "আমি ফেইসবুক ব্যাবহার করি না। কিন্তু আমার প্রায় সব বন্ধুরাই এটা ব্যবহার করে এবং দিনের বেশির ভাগ সময়ই তারা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে তাকে। তারা মাঠে খেলাধুলাও করতে আসে না। ঘরে বসে বসেই মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের গেমস খেলে।"

কথা হয় সিলাম পিএলস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া আক্তারের সাথে। ফেইসবুকে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কারণে পড়ার ক্ষতি হয় বলে মনে করে তানিয়া।

সে বলে, "একটু সময় পেলেই অনলাইনে ঢুকি। এটা যেন আমার নিত্য দিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমি ও আমার বন্ধুরা এ ধরনের সমস্যায় অনেক দিন ধরেই ভুগছি। পড়ালেখার সময়েও একটু ফেইসবুকে লগ ইন করতে ইচ্ছে করে।”

শেখ রাসেল হলি চাইল্ড কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈকত হোসেন মনে করেন শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, "১৮ বছর না হলে ফেইসবুক আইডি খোলা নিষিদ্ধ করা উচিত। তাতে শিশুরা ঠিকমত পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারবে। অনেক অভিভাবকরা শিশুদের মোবাইল কিনে দেন। যা একেবারেই উচিত নয়।

অভিভাবক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, "এখন শিশুরা খাওয়া ও পড়ার টেবিল থেকে শুরু করে বিছানা পর্যন্ত ডুবে থাকে স্মার্টফোনে। খেলাধুলা করতে বাসার বাইরে বের হওয়ার আগ্রহও নেই তাদের। এছাড়াও তারা পড়ার চেয়ে ফেইসবুক, ইউটিউব ও গেমস খেলায় বেশি সময় ব্যয় করছে।"


সুখী থাকার ১০টি সহজ উপায়

নিজের জন্য থাক না কিছুটা সময়! ছবি: অধুনানিজের জন্য থাক না কিছুটা সময়! ছবি: অধুনাসুখী কে না হতে চায়? আমরা প্রত্যেকেই যে যার মতো সুখে থাকতে চাই। এর মূল চাবিকাঠি রয়েছে নিজের হাতেই। প্রতিদিনের চলার পথ যত বন্ধুরই হোক না কেন, নিজেই পথটা তৈরি করে নিতে পারেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার দিয়েছেন এই পরামর্শ।

১. নেতিবাচক চিন্তা আর নয়
আগামীকাল পরীক্ষা আর আজ রাতে আপনার মনে ভিড় করল হাজারো দুশ্চিন্তা, যার অধিকাংশই নেতিবাচক। খুব সহজ ভাষায় এ ধরনের চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। শুধু এমন চিন্তাই নয়, নেতিবাচক মানুষ এবং আলোচনা থেকেও সরে আসুন। কেননা, আপনার পরিধি নিজেই বুঝবেন, অন্যের কথায় সহজেই প্রভাবিত হওয়ার কিছু নেই।

২. নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা
‘ওর ওটা আছে, আমার নেই কেন’—এ ধরনের চিন্তা আপনার নিজ মানসিক শক্তিকেই কমিয়ে দেয়। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে আপনার মধ্যে হতাশা কাজ করবে। তাই মনে রাখুন, সবার প্রতিভা এক নয়। কারও হয়তো পড়াশোনায় মেধা আছে, আবার কারও খেলাধুলায়। তাই চেষ্টা করুন নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার।

৩. ইতিবাচক থাকুন
আপনি কাজটা যেভাবে করবেন, তার ফলটাও সে রকমই হবে। এটা মাথায় রেখেই কাজে লেগে পড়ুন। শেষ বিকেলে কী হবে তার জন্য চিন্তা না করে নিজেকে আশ্বাস দিন। প্রতিটি ঘটনারই দুটি দিক থাকে—ইতিবাচক ও নেতিবাচক। চেষ্টা করুন সব সময় ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করার। এর ভালো দিকটা আপনি নিজেই দেখতে পাবেন।

৪. ঠিকমতো খাবার ও ঘুম
শরীর ও মন একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল। তাই একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। যেমন পরিমিত পরিমাণে খাবার ও ঘুম। এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে কিংবা সন্ধ্যায় শারীরিক ব্যায়াম বা ইয়োগা করতে পারেন। এতে দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হয়।

৫. নিজেকে ভালোবাসুন
সবার আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন। সময় বরাদ্দ রাখুন কিছুটা নিজেরও জন্য। আপনার প্রিয় মানুষটি কাছে নেই? আপনি নিজেই ব্যস্ত হয়ে পড়ুন না! ঘুরে আসুন কোথাও কিংবা শখের বিষয়গুলো চর্চা করুন। কিংবা পরিবারের সবার জন্য কিছু একটা রান্না করে ফেলুন ঝটপট।

৬. পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় উপভোগ
বন্ধুমহল কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। এতে দুই পক্ষই খুশি হবে। এমন অনেক ব্যাপার থাকে, যা আমরা প্রিয় মানুষটির চেয়ে বন্ধুটির কাছে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তাই কিছুটা সময় বন্ধু মানুষটির সঙ্গে বেড়িয়ে আসুন।

৭. কিছু বিষয়কে যেতে দিন
সব কাজেই যে প্রথম হতে হবে এমন চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। প্রতিটা কাজেই সময় নিয়ে চিন্তা করুন এবং মনে করুন, ‘সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।’

৮. কৃতজ্ঞ থাকুন
দিন শেষে যখন নীড়ে ফিরবেন, তখন চিন্তা করুন আপনি কতটা সফল। অনেকেই আছেন, ঠিক আপনার জীবনটাই পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

৯. অন্যের প্রতি সহযোগিতা
অনেকেই পাশের মানুষের ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে থাকেন। কিন্তু ভেবে দেখার চেষ্টা করুন, সেই মানুষটি কেন এমন করেছেন। সমানুভূতি থেকেই এমনটি করা সম্ভব। তাই সব সময় নিজের ব্যাপারগুলো না দেখে অন্যদের সমস্যাগুলোও বোঝার চেষ্টা করুন।

১০. আস্থা রাখুন নিজের ওপর
যত যাই হোক, নিজেকে বোঝার ক্ষমতা আপনারই আছে। সব নেতিবাচকতা এড়িয়ে নিজেকে অভয় দিন, ‘দিন শেষে আমিই জয়ী!’

সুস্থ থাকতে আমাদের সঠিক খাওয়া, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন। ব্যায়ামের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তবে ১৫ বছরের পর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত সব সুস্থ নারী-পুরুষ ব্যায়াম করতে পারবেন।

নিয়মিত ব্যায়ামের উপকারিতা অনেক বেশি। ব্যায়ামের ফলে আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, শরীরের ওজন কমে, ত্বক ভালো থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, ভাল ঘুম হয়, মানসিক চাপ কমে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা ছাড়াও আরও অনেক সমস্যার সমাধান হয়।

জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার করার ইচ্ছা, সময় এবং সামর্থ্য সবার থাকে না। আর তাই শিখে নিন ঘরে করা যায় এমন কিছু হালকা ব্যায়াম করার।

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পেছনের দিকে পা তুলে হাত দিয়ে ধরে রাখুন।

১০ সেকেন্ড এক পা এভাবে রেখে ছেড়ে দিয়ে অন্য পা তুলে ধরুন।

এভাবে প্রতিদিন ২০ বার করুন প্রতি পা ৩ বার করে করার পর ৩০ সেকেন্ড বিরতি নিন।

সোজা হয়ে দাঁড়ান ঘাড়ের পেছনে হাত দিয়ে নিচের দিকে ঝুঁকে আসুন, যতোদূর সম্ভব।

এভাবে ১০ বার করুন।

দাঁড়িয়ে দুই হাত কোমরে রেখে মাথা ডানে, বায়ে, সামনে এবং পেছনে এভাবে ১২ বার ঘোরান।

সোজা হয়ে শুয়ে মাথার পেছনে দুই হাত রেখে ওঠার চেষ্টা করুন, খেয়াল রাখবেন পা ভাঁজ করবেন না।

এভাবে ৮ বার করুন।

যেকোনো যোগব্যায়াম করার সময়ই কিছু বিষয় মাথায় রাখুন।

সকালে হালকা কিছু খেয়ে ব্যায়াম করুন।

ব্যায়াম করার সময় আরামদায়ক পোশাক পরুন।

প্রথমেই বেশি সময় নিয়ে কঠিন ব্যায়াম করার করবেন না। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় বাড়ান।

ব্যায়ামের কিছু বই এবং সিডি পাওয়া যায়। এগুলো দেখে নিতে পারেন।

নিয়মিত কিছুক্ষণ ব্যায়াম করুন। দেহ-মনে সুস্থ থাকুন।

vai aj 27.04.19 tarik quizer point pelam na keno.

লা ইলাহা ইল্লা আনতা ছুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যোলিমীন।


Question of the Day
13th April 2019
Q: Which three England players scored 5 or more Goals at FIFA World Cup Finals Tournaments?
12th April 2019
Q: Which eight players have worn Newcastle United’s Number Nine Shirt in the Premier League Era?
11th April 2019
Q: Which four UEFA Europa League Quarter Finalists have yet to win the Competition?
10th April 2019
Q: Which six players have scored 90 or more Premier League goals for Manchester United?
Click to see the answers.

Premier League Hat Tricks All 324 Premier League Hat-Tricks Scored from 1992 to 2019 after Lucas Moura's for Tottenham Hotspur against Huddersfield Town.

Mark Lawrenson's (BBC) Premier League Matchday 34 Predictions & how the Table would look like if he was correct.



Article: Ronaldo on Course for Fourth Successive Champions League Title:
Juventus host Ajax on Tuesday, April 16, aiming to book their place in the semi-finals of the Champions League. Cristiano Ronaldo’s 125th goal in the competition put Juve ahead in the first leg, but David Neres’ fine curling effort secured a 1-1 draw for Ajax.... Read Moreleague-by-season/premier-league-2018-19/mark-lawrenson

এপ্রিল মাসে আমরা বাংলাদেশীরা একটি উৎসব করে থাকি, তা হলো ১৪ই এপ্রিল। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ পালন করা। আমাদের দেশে প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন মূলত ইসলামী হিজরী সনেরই একটি রূপ। ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হতো। মূল হিজরী পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরর চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবারের সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকলে তা থানায় লিখিত আকারে জানালে পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে। এই জানানোকেই GD বলে।

বাংলাদেশের কোথায় শীতল পানির ঝর্না- হিমছড়ি

Good Morning

Hello Friend

পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ থেকে দলীলে সই করেন আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি।

আজকের কুইজ (20-May-2019)

আজ অংশগ্রহণ করেছেন:2337 জন
প্রশ্নঃ ‘মাউন্ট এভারেষ্ট’ নেপালে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৯ হাজার ৩৫ ফুট। এই পর্বতের চূড়ায় উঠা বেশ কষ্টসাধ্য, ২৩,৫০০ ফুট পৌঁছানোর অক্সিজেনের সিলিন্ডারের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে হয় (অক্সিজেন প্রতি ৪ ঘন্টায় শেষ হয়ে যায়), তাই এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত যেতে কমবেশি ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। সরকারিভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
(A) তাজিংডং (বান্দরবান)
(B) রাংটলাং (রাঙামাটি)
(C) দুমলং (রাঙামাটি)