About Aminul Hasan

শিশুকে বুকের দুধ পান করালে মায়েদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমে


মাতৃদুগ্ধ পান করানো যে শিশুর জন্য উপকারী এ কথা অধিকাংশ নতুন মা-ই জানেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মায়েদের জন্যও উপকারী।

মাতৃদুগ্ধ পান করানো যে শিশুর জন্য উপকারী এ কথা অধিকাংশ নতুন মা-ই জানেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মায়েদের জন্যও উপকারী।

গবেষকরা ৪০ থেকে ৭৮ বছর বয়সী ২,২৩৩ জন নারীর মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, যারা তাদের শিশুদের জন্মের পর থেকেই মাতৃদুগ্ধ পান করান তাদের অর্ধেক সংখ্যক যারা শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করান না তাদের চেয়ে ৩০ বছর পর টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।

গবেষকরা আরও বলেছেন, শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করালে গর্ভকালীন যন্ত্রণা উপশমের মাধ্যমে প্রসূতি মায়েদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. ইলেনর শোর্জ বলেছেন, ‘স্তন্যদানের সময়কে আমাদের গর্ভকালীন অভিজ্ঞতার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’

জেনে নিন অকালে চুল পাকার কারণ

তরুণ বয়সে চুল পাকার কারণ হতে পারে মানসিক চাপ, দুষণ কিংবা অসুস্থতা। একটা সময় ছিল যখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে গিয়ে মানুষের চুল পাকা শুরু হতো। তবে বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সেই এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন অনেকেই।

বিভিন্ন বয়সের মানুষের মাঝে এটি একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে অল্প বয়সে চুল পাকার কারণগুলো এখানে জানানো হল।

দুষিত আবহাওয়া: পরিবেশে মিশে থাকা দুষিত উপাদান শরীরের তৈরি করে ‘ফ্রি র‌্যাডিকাল’ বা মুক্ত মৌল। এই মুক্ত মৌল ‘মেলানিন’ নষ্ট করে, ফলে চুলের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়া দ্রুত হয়ে যায় এবং অকালে চুল ধুসর হয়।

মানসিক চাপ: মানসিক চাপ আমাদের অনেক ধরনের ক্ষতির পেছনে দায়ী, যার মধ্যে অকালে চুল পেকে যাওয়াও রয়েছে। ‘ক্রোমেজোম’য়ে জিনের ঘনত্ব বেড়ে যায় অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে, ফলে চুলে রং পরিবর্তন হয়। তাই চুলের রং ধরে রাখতে চাইলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

ধূমপান: শুধু সরাসরি নয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও চুল ধুসর বর্ণ ধারণ করতে পারে। যারা ধূমপান করেন তাদের অকালে চুল পেকে যাওয়ার আশঙ্কা অধূমপায়ীদের তুলনায় আড়াই গুন বেশি। ধূমপানের বদভ্যাস ত্যাগ করার আরও একটি কারণ।

হরমোনজনীত পরিবর্তন: অকালে চুল পাকার একটি অন্যতম কারণ শরীরে হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন। পাশাপাশি এই কারণে চুলের ঘনত্ব, রং এবং বাইরের আস্তরেও পরিবর্তন আসতে পারে। এই প্রক্রিয়া সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর শুরু হয় যখন চুলে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়।

পুষ্টিহীনতা: খাদ্যাভ্যাসে যদি সকল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকে তবে অকালেই চুল পাকা শুরু হতে পারে। বিশেষত ভিটামিন বি টুয়েলভ’য়ের অভাবে চুল রুক্ষ, পাতলা এবং ধুসর বর্ণ ধারণ করে।

রোগ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাজনীত কিছু রোগের কারণে চুল পাকা শুরু হতে পারে অল্প বয়সেই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাজনীত রোগ শরীরের কোষে আক্রমণ চালায়।

পারিবারিক কারণ: অকালে চুল পাকার আরেকটি বড় কারণ হল বাবা-মায়ের অকালে চুল পেকে যাওয়া। অনেকসময় চুলে রং পরিবর্তন মানুষের জীন প্রভাবিত করে।

কোরআনের অনুবাদ করতে গিয়ে মার্কিন যাজকের ইসলাম গ্রহণ

পবিত্র কোরআন শরীফের অনুবাদ করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এক মার্কিন যাজক। নাম স্যামুয়েল আর্ল শ্রপশায়ার। মঙ্গলবার সৌদি গণমাধ্যম সাবাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। খবর দ্য নিউ আরবের।

সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন যাজক স্যামুয়েল বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর বন্ধুত্বপূর্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১১ সালে প্রথমবার যখন তিনি সৌদির জেদ্দায় কোরআনের অনুবাদ করতে যান তখন মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, শিগগিরই আমি বুঝতে পারি মার্কিন মিডিয়ায় আমি যা দেখেছি, শুনেছি তার সঙ্গে এখানকার (সৌদি) বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। আমি এখানে অনেক ভালো মানুষ দেখতে পাই, যারা মুসলিম কিংবা অমুসলিম সেটা বিবেচনা না করে কেবল মানুষ হিসেবে সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করে। আর এটা ইসলামের প্রতি ভালোলাগা তৈরি করে দিয়েছে।

এরপর আরো ইসলাম ও কোরআন সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে একপর্যায়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন স্যামুয়েল। বর্তমানে সৌদি আরবেই আছেন সাবেক ওই যাজক। শান্তি ও সংহতির জন্য মুসলমানদের কণ্ঠস্বর নামে অলাভজনক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি এবং সেখানে কাজ করছেন।

সবচেয়ে বেশি হাসে যে দেশের মানুষ

‘কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি হাসে?’ এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ ১৪৩টি দেশে একটি জরিপ পরিচালনা করে। দেশগুলোর ১ লাখ ৫১ হাজার সাধারণ মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘কেমন আছেন আপনি?’, ‘গতকাল কেমন ছিলেন?’, ‘রাগী বা বিমর্ষ ছিলেন?’, ‘কতক্ষণ হেসেছিলেন?’, ‘নতুন কিছু শিখেছেন?’

প্রশ্নগুলোর উত্তর ছিল নানা রকম। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ১০ জনের মধ্যে সাতজন জানিয়েছেন— ‘উপভোগ্য সময় কেটেছে (৭১ শতাংশ), ভালো ঘুম হয়েছে (৭২ শতাংশ), প্রচুর হেসেছি (৭৪ শতাংশ) ও সম্মান পেয়েছি (৮৭ শতাংশ)।’

দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘ভালো আছি’ ‍উত্তর মিলেছে দক্ষিণ আমেরিকার প্যারাগুয়েতে। জরিপে ইতিবাচক দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে দেশটি। এরপর আছে যথাক্রমে পানামা, গুয়াতেমালা, মেক্সিকো, এল সালভাদর, ইন্দোনেশিয়া , হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, কোস্টারিকা ও কলম্বিয়া। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইন্দোনেশিয়া স্থান করে নিয়েছে এতে।

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই প্রচুর হাসিখুশির মধ্যে থাকার কথা জানিয়েছেন এই জরিপে। শান্তিতে ঘুমানোর দিক দিয়ে এগিয়ে আছে মঙ্গোলিয়া। বিশুদ্ধ অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ পরিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য এল সালভাদর, পানামা ও গুয়াতেমালা এগিয়ে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় সাত নম্বরে থাকা সুইডেন গ্যালাপের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা বেশি এমন তালিকায় হয়েছে চতুর্থ।

নেতিবাচক অভিজ্ঞতার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাঁদ। ২০০৩ সাল থেকে এটি তেল উৎপাদনে সুনাম কুড়ায়। কিন্তু এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় জর্জরিত দেশটি। সেখানে হাজার হাজার পরিবারের মৌলিক সেবা ভেঙে পড়েছে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে সাতজনই (৭২ শতাংশ) জানান, গত বছর জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খেয়েছেন তারা।

কোন বয়সে মানুষ সবচেয়ে সৃজনশীল হয়?

আপনার বয়স যদি ২০ বছর বা তার আশেপাশে হয়, তাহলে ধরে নিন যে আপনার মগজ এখন নতুন সব ধারণার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। যারা ওই বয়স ফেলে এসেছেন, তারাও যদি পেছনে ফিরে তাকান তাহলে পার্থক্য ধরতে পারবেন।

এটা ভেবে ভেবে আপনি হয়তো অবাকও হবেন।

আসলে ওই বয়সে হয়তো আপনি আপনার সৃজনশীলতার যে দুটি শিখর রয়েছে তার প্রথমটি অতিক্রম করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০-এর আশেপাশের বয়সে অর্থাৎ ২০-২৬ বছর বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক প্রথমবারের মতো উদ্ভাবনের জন্য উর্বর স্থল হয়ে ওঠে।

অর্থনীতিতে আগে যারা নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন তাদের ওপর আলোকপাত করেন গবেষকরা।

সেখানে দেখা যায় যে যারা তাদের ২০-এর আশেপাশের বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ করতে পেরেছেন, পরে তারাই নতুন ধারণার উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন।

বলা যেতে পারে যে সেটি তাদের জীবনে বাতি জ্বলে ওঠার মুহূর্ত ছিল এবং তারা সেই হিসেবেই কাজ করে গেছেন।

কিন্তু আপনি যদি কোনো নতুন ধারণার উদ্ভাবন ছাড়াই ২০-এর মাঝামাঝি সেই বয়স ফেলে আসেন, তাহলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আমাদের মধ্যে আবার এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স পঞ্চাশের কোটায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোন কিছুই অনুপ্রেরণায় আঘাত করে না।


'আমি সবচেয়েসৃজনশীল হয়েছি আমার ২০-এর দশকে'

২৪ বছর বয়সী নানা জোন্স ডার্কো একটি ভ্রাম্যমাণ চুল কাটার ব্যবসা চালান। অর্থাৎ তার এই চুলকাটার স্যালন চার চাকার ভ্যানের ভেতরে। যেটা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, তার ব্যবসার জন্য এখন তার মাথায় সবসময় নতুন সব ধারণা আসে।

২০ দশকের মাঝামাঝি এই বয়সে এসে তিনি মনে করেন যে তার সৃজনশীল সবচেয়ে শিখরে রয়েছে।

"আমি প্রযুক্তি এবং নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে আরো শিখছি।"

"আমার মনে হয় যখন মানুষের বয়স বাড়ে তখন লোকজনও তাকে আরও গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে - এতে সব বাধাগুলো ভেঙ্গে যায় - যা আপনার সৃজনশীল মস্তিষ্কের প্রবাহকে গতিশীল রাখে এবং নতুন ধারণা আরও বেশি হারে জন্মায়।"

ঠিক যেমন- নানা মনে করে যে, ২০-এর দশকে সফল হওয়ার ব্যাপারে বাবা মা এবং সহকর্মীদের থেকে আমাদের ওপর অনেক চাপ থাকে।

বিশেষ করে যদি আপনি "স্বাভাবিক" ক্যারিয়ারের পথ বেছে না নেন।

তিনি বলেন, এই চাপটা টিভি দেখা থেকেও আসতে পারে।

"যখন আপনি টিভিতে দেখেন যে ফুটবল খেলোয়াড়রা তাদের ২০-এর দশকে সপ্তাহে দুই লাখ পাউন্ড আয় করছে, তখন নিজের ওপরেও চাপ অনুভব হয়।"

"আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে ২০-এর দশকের মাঝামাঝি ব্যবসায়ে সফল হওয়ার জন্য একটি বড় চাপ থাকে।"

"কারণ আক্ষরিক অর্থে ওই বয়সটাতে পরিবেশ এমন থাকে যেটা আমাদের অর্থোপার্জনের জন্য এবং আর্থিকভাবে সফল হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। যেন আমরা ২৫ বছর বয়সের মধ্যে সব অর্জন করতে পারি।

"কিন্তু ২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিজেকে গড়ে তোলার সময় হলেও আমি মনে করিনা যে এই বয়সটাই আপনার সৃজনশীলতার শিখর হবে।"

"সৃজনশীল হওয়ার ক্ষেত্রে আপনি এখনও বুড়ো হয়ে যাননি"
আপনি জীবনের শুরুর দিতে যা চেয়েছিলেন তার যদি পুরোটা এই ২০ এর দশকে অর্জন করতে না পারেন তাহলে আপনি দ্বিতীয় সৃজনশীল শিখরের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। যেটা আসে ৫০-এর দশকে।

গবেষণাটির লেখক ওয়েইনবার্গ বলেছেন, " বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের জীবনের সেরা কাজটি করেছেন অনেক দেরিতে।"

"যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনি আপনার ২০-এর দশকে তেমন কোন বৈপ্লবিক কাজ করতে পারেননি। তার মানে এই নয় যে আপনি পরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে পারবেন না।"

প্রফেসর ওয়েইনবার্গ বলেছেন, "তরুণরা যদি মনে করে যে তাদের আরো অনেক কিছু অর্জন করার আছে তাহলে তাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।"

"যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নিয়মিত কোন না কোন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করে তাহলে তাদের কখনোই চেষ্টা ছেড়ে দেয়া উচিত না।"

"আমি বলতে চাচ্ছি যে তারা কতটা বিশিষ্ট হবে এবং তাদের অর্জন কীভাবে হবে তা অবশ্যই আমরা জানি না।

"তবে এই ধরণের মানুষগুলো তাদের জীবনের সেরা কাজটি - অন্তত তাদের সেরা উদ্ভাবনী কাজটি করে ক্যারিয়ারের শেষের দিকে- তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের অবশ্যই কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।"

নানা জানান, তার মা'ও ঠিক এমনই একজন। যিনি তার বয়সের ৫০-এর দশকে এসে ফ্যাশন স্কুল খুলে নিজের ব্যবসা শুরু করছেন।



মা-বাবার মৃত্যুর পর তাদের জন্য কি করা যায়
মা-বাবার মৃত্যুর পর তাদের জন্য কি করা যায়
إن الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
মা-বাবা ছোট শব্দ, কিন্তু এ দুটি শব্দের সাথে কত যে আদর, স্নেহ, ভালবাসা রয়েছে তা পৃথিবীর কোন মাপযন্ত্র দিয়ে নির্ণয় করা যাবে না। মা-বাবা কত না কষ্ট করেছেন, না খেয়ে থেকেছেন, অনেক সময় ভাল পোষাকও পরিধান করতে পারেন নি, কত না সময় বসে থাকতেন সন্তানের অপেক্ষায়। সেই মা বাবা যাদের চলে গিয়েছেন, তারাই বুঝেন মা বাবা কত বড় সম্পদ। যেদিন থেকে মা বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন সেদিন থেকে মনে হয় কী যেন হারিয়ে গেল,তখন বুক কেঁপে উঠে, চোখ থেকে বৃষ্টির মত পানি ঝরে, কী শান্তনাই বা তাদেরকে দেয়া যায়! সেই মা বাবা যাদের চলে গিয়েছে তারা কি মা-বাবার জন্য কিছুই করবে না?। এত কষ্ট করে আমাদের কে যে মা-বাবা লালন পালন করেছেন তাদের জন্য আমাদের কি কিছুই করার নেই? অবশ্যই আছে। আলোচ্য প্রবন্ধে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মৃত মা-বাবা জন্য কী ধরনের আমল করা যাবে এবং যে আমলের সওয়াব তাদের নিকট পৌছবে তা উল্লেখ করা হলো:
১. বেশী বেশী দু‘আ করা
মা-বাবা দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর সন্তান মা-বাবার জন্য বেশী বেশী দু‘আ করবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দু‘আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কী দু‘আ করবো তাও শিক্ষা দিয়েছেন । আল-কুরআনে এসেছে,
﴿ رَبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرٗا ٢٤ ﴾ [الاسراء: ٢٤]
‘‘হে আমার রব, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন’’ [সূরা বানী ইসরাঈলঃ ২৪]
﴿رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ يَوۡمَ يَقُومُ ٱلۡحِسَابُ ٤١﴾ [ابراهيم:
২. দান-ছাদকাহ করা, বিশেষ করে সাদাকায়ে জারিয়াহ প্রদান করাঃ
মা-বাবা বেচে থাকতে দান-সাদকাহ করে যেতে পারেন নি বা বেচে থাকলে আরো দান-সদকাহ করতেন, সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে সন্তান দান-সদকাহ করতে পারে। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّىَ افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَلَمْ تُوصِ وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ « نَعَمْ »
অর্থ: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ ‘‘জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমার মা হঠাৎ মৃতু বরণ করেছেন। তাই কোন অছিয়ত করতে পারেন নি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন তাহলে দান-ছাদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ছাদকা করলে তিনি কি এর ছাওয়াব পাবেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন।’’ [সহীহ মুসলিম:২৩৭৩]
তবে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সাদাকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান ও চলমান সাদাকা প্রদান করা। যেমন পানির কুপ খনন করা, (নলকুপ বসানো, দ্বীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, কুরআন শিক্ষার জন্য মক্তব ও প্রতিষ্ঠান তৈরী করা, স্থায়ী জনকল্যাণমূলক কাজ করা। ইত্যাদি।
৩. মা-বাবার পক্ষ থেকেসিয়াম পালনঃ
মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি তাদের কোন মানতের সিয়াম কাযা থাকে, সন্তান তাদের পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করলে তাদের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
«مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ»
অর্থ: ‘‘যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে তার উপর রোজা ওয়াজিব ছিল। তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ রোজা রাখবে’’ [সহীহ বুখারী:১৯৫২]। অধিকাংশ আলেমগণ এ হাদীসটি শুধুমাত্র ওয়াজিব রোযা বা মানতের রোযার বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে নফল সিয়াম রাখার পক্ষে দলীল নাই।
৪. হজ্জ বা উমরাহ করাঃ
মা-বাবার পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরাহ করলে তা আদায় হবে এবং তারা উপকৃত হবে। ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
«أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَلَمْ تَحُجَّ حَتَّى مَاتَتْ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ حُجِّي عَنْهَا أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ قَاضِيَةً اقْضُوا اللَّهَ فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ»
অর্থ: ‘‘ জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমণ করে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা হজ্জ করার মানত করেছিলেন কিন্তু তিনি হজ্জ সম্পাদন না করেই মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ্জ কর। তোমার কি ধারণা যদি তোমার মার উপর ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না ? সুতরাং আল্লাহর জন্য তা আদায় কর। কেননা আল্লাহর দাবী পরিশোধ করার অধিক উপযোগী’’ [সহীহ বুখারী: ১৮৫২] । তবে মা-বাবার পক্ষ থেকে যে লোক হজ্জ বা ওমরাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে আগে নিজের হজ্জ-ওমরাহ করতে হবে।
৫. মা-বাবার পক্ষ থেকে কুরবানী করাঃ
মা-বাবার পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তার ছাওয়াব দ্বারা তারা উপকৃত হবে।
৬. মা-বাবার ওসিয়ত পূর্ণ করা
মা-বাবা শরীয়াহসম্মত কোন ওসিয়ত করে গেলে তা পূর্ণ করা সন্তানদের উপর দায়িত্ব।
৭. মা-বাবার বন্ধুদের সম্মান করা
মা-বাবার বন্ধুদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, সম্মান করা, তাদেরকে দেখতে যাওয়া,তাদেরকে হাদিয়া দেয়া।
৮. মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখা
সন্তান তার মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে।
৯. ঋণ পরিশোধ করা
মা-বাবার কোন ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা সন্তানদের উপর বিশেষভাবে কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের পরিশোধ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
১০. কাফফারা আদায় করা
মা-বাবার কোন শপথের কাফফারা,ভুলকৃত হত্যাসহ কোন কাফফারা বাকী থাকলে সন্তান তা পূরণ করবে।
১১. ক্ষমা প্রার্থনা করাঃ
মা-বাবার জন্য আল্লাহর নিকট বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। সন্তান মা-বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় আল্লাহ তা‘আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

১২. মান্নত পূরণ করা
মা-বাবা কোন মান্নত করে গেলে সন্তান তার পক্ষ থেকে পূরণ করবে।
১৩. মা-বাবার ভাল কাজসমূহ জারী রাখা
মা-বাবা যেসব ভাল কাজ অর্থাৎ মসজিদ তৈরী করা, মাদরাসা তৈরী করা, দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরীসহ যে কাজগুলো করে গিয়েছেন সন্তান হিসাবে তা যাতে অব্যাহত থাকে তার ব্যবস্থা করা। কেননা এসব ভাল কাজের সওয়াব তাদের আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে।

জন্মের আগে, মায়ের পেটেই যা জেনে যায় শিশু!

জন্ম নেওয়ার আগে পর্যন্ত মায়ের গর্ভে বেড়ে ওঠে শিশু, এ কথা সকলেই জানেন। কিন্তু সেই গর্ভাবস্থাতেই যে সে অনেক কিছু জেনেবুঝে যায়, তা বোধ হয় জানা নেই আমাদের সকলের। সদ্য জন্মানো, চোখ না ফোটা, মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারা একরত্তি শিশু যা যা জেনে জন্মায়, তা জানলে রীতিমতো বিস্মিত হতে হয়!

গবেষণা বলছে, মায়ের পেটের ভিতরে যে অ্যামনিওটিক ফ্লুয়িডে ভেসে থাকে শিশু, তার মাধ্যমেই বাইরের জগতের অনেক কিছুই পৌঁছে যায় তার কাছে। এবং কয়েক মাস সময়ে, সে সব সম্পর্কে বেশ ভালই ধারণা তৈরি হয়ে যায় তার।

শব্দ
গর্ভাবস্থায় মা যত কথা বলেন, গর্ভের শিশু কয়েক মাস পর থেকেই সেই সব শব্দ টেপ রেকর্ডারের মতো শুনতে পায়। তাই জন্মের পরে মায়ের গলা চিনতে খুব একটা অসুবিধা হয় না শিশুর। এমনকী গর্ভাবস্থায় মায়ের আশপাশে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কণ্ঠস্বরও তার পরিচিত মনে হয়।

ভাষা
গর্ভে থাকাকালীন কানের গঠন তৈরি হওয়ার পর থেকেই শিশু তার মাতৃভাষা সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে। যদি কখনও কল্পনা করেন, মাতৃগর্ভে চোখ বুজে, কান খাড়া করে আপনাদের কথাবার্তা শুনছে শিশু— তা হলে খুব ভুল ভাবেননি। পেটের ভিতরে শিশুর হাবভাব অনেকটা এ রকমই থাকে।

স্বাদ
গর্ভে থাকার আট থেকে পনেরো সপ্তাহের মধ্যেই শিশুর এই ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়। তখন থেকেই সে আলাদা করতে পারে মিষ্টি, টক আর তেতো স্বাদ। তাই জন্মের কয়েক মাস পরে যখন সে খাওয়াদাওয়া শুরু করে, তখন এই তিনটে স্বাদের বাইরে নতুন কোনও ফ্লেভার জিভে ঠেকলে, সে ভালই বুঝতে পারে তারতম্য।

আলো
ভ্রূণ অবস্থায় সাত সপ্তাহের আগে তার চোখই ফোটে না ভাল করে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সেই অবস্থাতেও মাতৃগর্ভের অন্ধকারে কোনও ভাবে আলো পৌঁছে দিলে, সে তার চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। এমনকী জন্মের সময় যত কাছাকাছি এগিয়ে আসে, তত চোখ পিটপিট করতে শেখে সে। পৃথিবীর চড়া আলোকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পেটের ভিতরেই চলে প্রস্তুতি।

গন্ধ
মায়ের পেটে যে ফ্লুইডে শিশু ভেসে থাকে, তার গন্ধ হয় অনেকটাই মায়ের শরীরের গন্ধের মতো। তাই জন্মের পরে মায়ের গায়ের সেই গন্ধ সহজেই বুঝতে পারে সে। তাই মায়ের কোলেই সব চেয়ে নিরাপদ বোধ করে। জন্মের পরে আলাদা করে মায়ের গায়ের গন্ধ চিনতে হয় না তাকে।

স্বস্তিতেই পার হবে অস্বস্তিকর গরম

গরম পড়তে শুরু করেছে। সুস্থ থাকতে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে আমাদের। তবেই স্বস্তিতে পার করতে পারবো অস্বস্তিকর গরম কাল।

যা করতে হবে:

• প্রতিদিন ঠাণ্ডা পানি দিয়ে দু’বার গোসল করুন
• প্রচুর পানি ও পানীয় পান করুন
• এক গ্লাস লেবুর শরবত গরমে শরীরের পানি স্বল্পতা দূর করে আমাদের এনে দেবে প্রশান্তি
• গরমে প্রচুর ঘাম হয়। এই ঘাম থেকে হতে পারে ঘামাচি। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে—
• দুই চা চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন
• ঘামাচির ওপর লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে নরম কাপড় দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে ফেলুন বেকিং সোডা ইনফেকশন দূর করে ও ত্বকে আরাম দেয়
• গরমে স্বস্তি পেতে সাদা এবং হালকা রঙের সুতি কাপড়ের পোশাক পরুন
• ব্যাগে ওয়েট টিস্যু ও ছোট একটি সুগন্ধির বোতল রাখুন। ঘেমে গেলে ত্বক মুছে নিন আর গরমে ঘেমে অস্বস্তি লাগলে পছন্দের সুগন্ধি মেখে নিন
• ছাতা, হ্যাট, ছোট একটি পানির বোতল ও সানগ্লাস সঙ্গী করে নিন এই গরমে।

জাদুর আঠায় ক্ষত জোড়া লাগবে ২০ সেকেন্ডে!

শিরোনাম পড়ে অবাক হলেও এটাই সত্যি। এ জাদুর আঠা দিয়ে ক্ষত জোড়া লাগাতে পারবেন মাত্র ২০ সেকেন্ডে। এ জাদুর আঠা আবিষ্কারের ফলে অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে অকালে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা কমবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এটি মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে

চীনের জেইজিয়ান চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এটি তৈরি করেছেন। এর আগে চিকিৎসা কাজে ব্যবহারের জন্য আঠা তৈরি করা হয়েছে। তবে সেগুলো বড় রক্তনালী বা হৃদপিণ্ডের ভেতরে যে গতিতে রক্ত প্রবাহিত হয় তা ঠেকানোর মতো জোরদার নয় মোটেও।

প্রাণী দেহের ওপর এ আঠার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাতে উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে। ক্ষত স্থানে লাগানোর পর আঠাকে সক্রিয় করার জন্য অতিবেগুনী বা ইউভি রশ্মি ব্যবহার করতে হবে। তাতে ক্ষত স্থানে পানিরোধক এ আঠা আটকে যাবে। সাথে সাথেই বন্ধ করে দেবে রক্তক্ষরণ।

পানি, জেলেটিন এবং কিছু রাসায়নিক উপাদান মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ আঠা। ভেজা কোষকলার ওপরও এটি কার্যকর হবে। তাই ক্ষতস্থানকে সেলাই করা বা স্টেপল করে আটকে দেয়ার প্রয়োজনই পড়বে না। পরীক্ষামূলক ভাবে এ 'জাদুর আঠা' দিয়ে ৬ মিলিমিটার ক্ষত ২০ সেকেন্ডে জোড়া দেয়া সম্ভব হয়েছে।

কোন বয়সে মানুষ সবচেয়ে সৃজনশীল হয়?

আপনার বয়স যদি ২০ বছর বা তার আশেপাশে হয়, তাহলে ধরে নিন যে আপনার মগজ এখন নতুন সব ধারণার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। যারা ওই বয়স ফেলে এসেছেন, তারাও যদি পেছনে ফিরে তাকান তাহলে পার্থক্য ধরতে পারবেন।

এটা ভেবে ভেবে আপনি হয়তো অবাকও হবেন।

আসলে ওই বয়সে হয়তো আপনি আপনার সৃজনশীলতার যে দুটি শিখর রয়েছে তার প্রথমটি অতিক্রম করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০-এর আশেপাশের বয়সে অর্থাৎ ২০-২৬ বছর বয়সে আমাদের মস্তিষ্ক প্রথমবারের মতো উদ্ভাবনের জন্য উর্বর স্থল হয়ে ওঠে।

অর্থনীতিতে আগে যারা নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন তাদের ওপর আলোকপাত করেন গবেষকরা।

সেখানে দেখা যায় যে যারা তাদের ২০-এর আশেপাশের বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ করতে পেরেছেন, পরে তারাই নতুন ধারণার উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন।

বলা যেতে পারে যে সেটি তাদের জীবনে বাতি জ্বলে ওঠার মুহূর্ত ছিল এবং তারা সেই হিসেবেই কাজ করে গেছেন।

কিন্তু আপনি যদি কোনো নতুন ধারণার উদ্ভাবন ছাড়াই ২০-এর মাঝামাঝি সেই বয়স ফেলে আসেন, তাহলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

আমাদের মধ্যে আবার এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স পঞ্চাশের কোটায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোন কিছুই অনুপ্রেরণায় আঘাত করে না।


'আমি সবচেয়েসৃজনশীল হয়েছি আমার ২০-এর দশকে'

২৪ বছর বয়সী নানা জোন্স ডার্কো একটি ভ্রাম্যমাণ চুল কাটার ব্যবসা চালান। অর্থাৎ তার এই চুলকাটার স্যালন চার চাকার ভ্যানের ভেতরে। যেটা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, তার ব্যবসার জন্য এখন তার মাথায় সবসময় নতুন সব ধারণা আসে।

২০ দশকের মাঝামাঝি এই বয়সে এসে তিনি মনে করেন যে তার সৃজনশীল সবচেয়ে শিখরে রয়েছে।

"আমি প্রযুক্তি এবং নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে আরো শিখছি।"

"আমার মনে হয় যখন মানুষের বয়স বাড়ে তখন লোকজনও তাকে আরও গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে - এতে সব বাধাগুলো ভেঙ্গে যায় - যা আপনার সৃজনশীল মস্তিষ্কের প্রবাহকে গতিশীল রাখে এবং নতুন ধারণা আরও বেশি হারে জন্মায়।"

ঠিক যেমন- নানা মনে করে যে, ২০-এর দশকে সফল হওয়ার ব্যাপারে বাবা মা এবং সহকর্মীদের থেকে আমাদের ওপর অনেক চাপ থাকে।

বিশেষ করে যদি আপনি "স্বাভাবিক" ক্যারিয়ারের পথ বেছে না নেন।

তিনি বলেন, এই চাপটা টিভি দেখা থেকেও আসতে পারে।

"যখন আপনি টিভিতে দেখেন যে ফুটবল খেলোয়াড়রা তাদের ২০-এর দশকে সপ্তাহে দুই লাখ পাউন্ড আয় করছে, তখন নিজের ওপরেও চাপ অনুভব হয়।"

"আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে ২০-এর দশকের মাঝামাঝি ব্যবসায়ে সফল হওয়ার জন্য একটি বড় চাপ থাকে।"

"কারণ আক্ষরিক অর্থে ওই বয়সটাতে পরিবেশ এমন থাকে যেটা আমাদের অর্থোপার্জনের জন্য এবং আর্থিকভাবে সফল হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। যেন আমরা ২৫ বছর বয়সের মধ্যে সব অর্জন করতে পারি।

"কিন্তু ২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিজেকে গড়ে তোলার সময় হলেও আমি মনে করিনা যে এই বয়সটাই আপনার সৃজনশীলতার শিখর হবে।"

"সৃজনশীল হওয়ার ক্ষেত্রে আপনি এখনও বুড়ো হয়ে যাননি"
আপনি জীবনের শুরুর দিতে যা চেয়েছিলেন তার যদি পুরোটা এই ২০ এর দশকে অর্জন করতে না পারেন তাহলে আপনি দ্বিতীয় সৃজনশীল শিখরের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। যেটা আসে ৫০-এর দশকে।

গবেষণাটির লেখক ওয়েইনবার্গ বলেছেন, " বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের জীবনের সেরা কাজটি করেছেন অনেক দেরিতে।"

"যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনি আপনার ২০-এর দশকে তেমন কোন বৈপ্লবিক কাজ করতে পারেননি। তার মানে এই নয় যে আপনি পরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে পারবেন না।"

প্রফেসর ওয়েইনবার্গ বলেছেন, "তরুণরা যদি মনে করে যে তাদের আরো অনেক কিছু অর্জন করার আছে তাহলে তাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।"

"যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নিয়মিত কোন না কোন বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করে তাহলে তাদের কখনোই চেষ্টা ছেড়ে দেয়া উচিত না।"

"আমি বলতে চাচ্ছি যে তারা কতটা বিশিষ্ট হবে এবং তাদের অর্জন কীভাবে হবে তা অবশ্যই আমরা জানি না।

"তবে এই ধরণের মানুষগুলো তাদের জীবনের সেরা কাজটি - অন্তত তাদের সেরা উদ্ভাবনী কাজটি করে ক্যারিয়ারের শেষের দিকে- তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের অবশ্যই কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।"

নানা জানান, তার মা'ও ঠিক এমনই একজন। যিনি তার বয়সের ৫০-এর দশকে এসে ফ্যাশন স্কুল খুলে নিজের ব্যবসা শুরু করছেন।

পুরুষ এডিস মশা আমদানির পরিকল্পনা


এডিস মশা প্রতিরোধে এর আগে গাপ্পী মাছের পোনা ড্রেনে ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এবার এডিস মশা মারতে পুরুষ এডিস মশা আমদানির পরিকল্পনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিশ্বের ১৭টি দেশে এডিস মশা ধ্বংস করতে এমন একটি প্রকল্প নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই প্রকল্পের আওতায় পুরুষ এডিস মশার শরীরে ‘ওলব্যাকিয়া প্রজেক্ট’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে দেয়া হবে। আর ওই পুরুষ মশাটি যখন স্ত্রী এডিস মশার সংমিশ্রণে আসবে তখন স্ত্রী মশাটিও প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। এভাবেই বিশ্ব থেকে এক সময় এডিস মশার বিস্তার রোধ করা যাবে।

বুধবার (১৫ মে) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনিসিসি) অঞ্চল-১ এর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের উত্তরা কমিউনিটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় বিশেষজ্ঞ আলোচকরা এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সভায় জানানো হয়, বিষয়টি এখনও পরীক্ষাধীন পর্যায়ে থাকলেও চীন এরই মধ্যে প্রডাক্টশনে গেছে। বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে ওই প্রকল্পটি সাকসেস হলেই পুরুষ মশা আমদানি করে কীভাবে দ্রুত এই দেশ থেকে এডিস মশা বিতারণ করা যায়। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রাশিদুজ্জামান খান।

আয়োজকরা জানান, দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ নির্মূল কর্মসূচিতে মশা নিধনের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে মশার বংশবিস্তার রোধ করা হবে। প্রকল্পটির নাম ‘ওলব্যাকিয়া প্রজেক্ট’। বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশে এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।

যার মধ্যে এগিয়ে আছে চীন। বাংলাদেশেও এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা চলছে। গবেষণায় সফলতার ওপর নির্ভর করে আগামী দুই বা তিন বছরের মধ্যে এ প্রকল্প চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সফলভাবে চালু হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ একেবারে নির্মূল করা সম্ভব হবে বলেও জানান তারা।

দেশে সর্বপ্রথম ২০০০ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় উল্লেখ করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় বক্তারা বলেন, এডিস মশা সাধারণত বাসাবাড়িতে ফুলের টব, টায়ার, ফ্রিজ, এসিতে জমে থাকা পানিতে জন্মায়।

এসব পরিষ্কারে নগরের প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। নিজ বাড়ির আঙিনা ও চারপাশও পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলে মশা জন্মাবে না। মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ঘুমানোর সময় মশারি টানাতে হবে।

সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি এ ব্যাপারে নাগরিক সচেতনতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নগরের প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। নিজ বাড়ির আঙিনা ও চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ঘুমানোর সময় প্রয়োজনে মশারি টানাতে হবে।

ফোন ট্যাপ হচ্ছে, বুঝবেন কিভাবে?

আজকের দিনে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ফোন ট্যাপ করার বিষয়টি। ফোন ট্যাপ করে হ্যাকাররা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতে পারে।

ফলে ব্যবহারকারী হিসেবে যে কোনো সময় আপনিও বিপদে পড়তে পারেন। কিন্তু, আপনার ফোন ট্যাপ হচ্ছে কিনা বুঝবেন কিভাবে?

ফোন ট্যাপ করা হলে আপনি, নিচের সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে পারেন—

১. হয়তো আপনি কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন। কিন্তু, মাঝেমধ্যেই সন্দেহজনক শব্দ শুনতে পাচ্ছেন ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে। বিষয়টি কখনই হালকাভাবে নেবেন না। এমন হলে ফোন ট্যাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২. আবার হয়তো দেখলেন, মোবাইলের ব্যাটারি ঠিকঠাক কাজ করছিল। কিন্তু, হঠাৎ খেয়াল করলেন, যতই চার্জ দিন না কেন, বেশিক্ষণ চার্জ থাকছে না। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলুন।

৩. ফোন বন্ধ করার সময় কোনো সমস্যা হচ্ছে নাকি খেয়াল করুন। ফোন বন্ধ করার চেষ্টা করছেন কিন্তু হচ্ছে না এমন বিষয় বেশ সন্দেহজনক। এ রকম হলে সাবধান হন। আপনার ফোন হ্যাক হতে পারে।

৪. আপনি কি কোনো সন্দেহজনক এসএমএস পাচ্ছেন? বা আপনার ফোন মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টিকে হালকাভাবে নেবেন না। ফোন কোনো ‘উদ্ভট’ আচরণ করলে তা অবশ্যই সন্দেহের।

৫. আপনি ফোন ব্যবহার করছেন না এমন সময় ফোনের কাছাকাছি থাকা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ হঠাৎই কাঁপতে শুরু করলে, বিষয়টি অবশ্যই সন্দেহজনক। আপনার ফোন হ্যাক করে কেউ ব্যবহার করছেন নাতো?

৬. আপনার ডেটার ব্যবহার কি অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে? ইন্টারনেট ব্রাউজ কম করেও ডেটা বাঁচাতে পারছেন না কোনোভাবে? এ রকম হলে সতর্ক হন। প্রয়োজনে সার্ভিস প্রোভাইডার বা ফোন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৭. আর অবশ্যই নজর রাখুন ফোনের বিলের দিকে। সন্দেহজনক বিল দেখলেই সার্ভিস প্রোভাইডার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

বিস্ময়কর কারনে যেভাবে পৃথিবীর কেন্দ্রতে অবস্থিত কাবা শরীফ! জেনে অবাক হবেন

মুসলমানদের কিবলা পবিত্র কাবাঘর। হজের মৌসুমে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান কাবাঘর তাওয়াফ করতে মক্কায় গমন করেন। পবিত্র কোরাআন ও হাদিসের ব্যখ্যায় পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে মক্কা নগরের অবস্থান হওয়ায় ‘বায়তুল্লাহ’ বা ‘কাবাঘর’ মক্কাতেই স্থাপন করা হয়।

আল্লাহতায়ালার নির্দেশে ফেরেশতারা প্রথম দুনিয়ায় কাবাগৃহ নির্মাণ করে এখানে ইবাদত করেন। কাবাঘরটি আল্লাহর আরশে মুয়াল্লার ছায়াতলে সোজাসুজি সপ্তম আসমানে অবস্থিত মসজিদ বাইতুল মামুরের আকৃতি অনুসারে ভিত্তিস্থাপন করা হয়। আল্লাহতায়ালা কাবাগৃহকে মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থলরূপে নির্দিষ্ট করেন।

মুসলিম মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থল কাবা শরীফ পৃথিবীর ঠিক কেন্দ্রতেই অবস্থিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারের ফলে অনেকেই এই বিষয়টিকে উড়িয়ে দিতে চান।

পবিত্র কাবা শরীফের অবস্থান ও সৃষ্টিকাল নিয়ে ইসলামের ব্যখ্যা: বেহেশত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর আদি মানব-মানবী হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ প্রার্থনা করেন। আল্লাহতায়ালা তাদের দোয়া কবুল করে কাবাগৃহকে ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে দেন। এরপর হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনে কাবা শরিফ ধসে যায়। পরে আল্লাহর হুকুমে হজরত ইবরাহিম (আ.) তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবাগৃহের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন।

আল্লাহতায়ালার নির্দেশে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফের নির্মাণ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনের অমর কীর্তি ও অন্যতম অবদান।আরও পড়ুন: সব পর্নো সাইট বন্ধ হবে এ সপ্তাহেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি পবিত্র কাবাঘর পুনঃনির্মাণের সৌভাগ্য অর্জন করলেও একমাত্র হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নির্মাণের কথা আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমের অংশ বানিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য সংরক্ষিত করেছেন।পবিত্র কোরআনে কারিমে ওই ঘটনাটি খুবই চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

তারা দোয়া করেছিল, হে পরওয়ারদেগার! আমাদের এ আমলটুকু কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। ওহে পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো এবং আমাদের বংশধর থেকে একটি অনুগত জাতি সৃষ্টি কর। আমাদের হজের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু। হে আমাদের প্রভু! এ ঘরের পড়শিদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠাও, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতগুলো পাঠ করবেন।

তাদের কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ -সূরা বাকারা : ১২৭-১২৯আরও পড়ুন: ইসলামের অলৌকিক ক্ষমতা দেখুন !!বাচ্চাটির দেহব্যাপী আল্লাহু লিখা ভেসে উঠেছে !কাবাগৃহের নির্মাণ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) যে দোয়া করেছিলেন সেগুলো যত্নের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার মানুষের স্বভাব হলো, সমাজে বা ধর্মীয় কাজে সামান্য অবদান রেখে মানুষের সামনে তা বারবার উল্লেখ করে এবং আত্মপ্রশংসায় ডুবে যায়।

অথচ সরাসরি আল্লাহতায়ালার ঘর নির্মাণ করছেন, তবুও তার মনে এক বিন্দু অহঙ্কার নেই। ছিল বিনয়পূর্ণ মিনতি। বিনয়াবনত কণ্ঠে বারবার তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! মেহেরবানি করে আমাদের এ খেদমতটুকু কবুল করে নাও।’ দোয়ার দ্বিতীয় বাক্যে বলেছেন, ‘হে প্রভু! তুমি আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো।’বস্তুত দোয়াতে মানব জাতির জন্য শিক্ষা রয়েছে, মসজিদ নির্মাণ তো একটি নিদর্শন। তা মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সামনে নিজেকে সঁপে দেয়া। তার বিধি-নিষেধ বিনাবাক্যে মেনে নেয়া। এজন্য মসজিদ নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) জীবনের মূল লক্ষ্য সাধনের দোয়া করেছেন। সে অমূল্য দোয়া শুধু নিজের জন্যই নয় বরং অনাগত বংশধরের জন্যও করেছেন।

অতঃপর এ ঘরের মর্যাদা রক্ষা ও তার জিয়ারতের রীতিনীতি বাতলে দেয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন।আরও পড়ুন: জিভের রঙ দেখে কি করে বুঝবেন , আপনি কোন রোগে আক্রান্ত ? হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রত্যেকটি দোয়া কবুল হয়েছে। ইতিহাসে আছে, তার বংশধরের মধ্যে সর্বদা একটি দল আল্লাহর আজ্ঞাবহ ছিল। এমনকি জাহেলিয়াতের আমলে আরবের সর্বত্র যখন মূর্তি-পূজার জয়জয়কার ছিল তখনও ইবরাহিমি বংশের কিছু লোক একত্ববাদ ও পরকালে বিশ্বাসী এবং আল্লাহতায়ালার আনুগত্যশীল ছিলেন।হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক বায়তুল্লাহ নির্মিত হওয়ার পর থেকে সব যুগেই তার জিয়ারতও অব্যাহত ছিল।

শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সে দোয়ারই ফসল, যা তিনি বায়তুল্লাহ নির্মাণকালে করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আমার বাবা ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া এবং আমার ভাই ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদ।’ -মুস্তাদরাকে হাকেমইসলামের ইতিহাসে ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে নবম হিজরিতে হজের বিধান ফরজ হয়। পরের বছরে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) হজ আদায় করেন। তিনি যেখানে, যে সময়ে, যে তারিখে, যে নিয়মে যেসব আহকাম-আরকান পালন করেন, প্রতিবছর ৮ থেকে ১৩ জিলহজ মক্কা মুকাররমা এবং এর আশপাশের এলাকাজুড়ে নির্দিষ্ট নিয়মে সেভাবেই পবিত্র হজ পালিত হয়ে আসছে।

হোটেলে বিছানা-বালিশ কেন সাদা হয়?


অনেকেই ঘুরতে বাইরে যান অথবা কাজের সূত্রে দূরে কোথাও যান৷ তখন প্রয়োজনের তাগিদে উঠতে হয় হোটেলে৷ আর যারা হোটেলে থেকেছেন তারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে প্রায় সব হোটেলের বিছানার চাদর, বালিশ সব কিছুই সাদা হয়৷

কিন্তু কখনও মনে প্রশ্ন জেগেছে কি এরকম কেন করা হয়? এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু যুক্তি৷ চলুন জেনে নেওয়া যাক সেইসব কারণগুলিঃ

১৯৯০ সালে হোটেলের রুমে সাদা চাদর-বালিশ-তোয়ালের বহুল ব্যবহার শুরু হয়৷ হোটের ওয়েস্টিন এই বিষয়টিকে জনপ্রিয় করে তোলে৷ ওয়েস্টিন এবং শেরাটন হোটেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অব ডিজাইন, এরিন হুভারের মতে সাদা বিছানা একটি ‘halo’ বা বর্ণবলয় সৃষ্টি করে৷ অতিথিরা তাই রুমের মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই তাদের মনে হতে পারে এই মাত্র রুমটিকে পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা হয়েছে৷ তাই এই সাদা চাদরের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়তে থাকে৷

সাদা রং মানুষের মনে শুভ্রতা এবং পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেয়৷ এই রং মনের ওপর ইতিবাচক প্রবাব ফেলে বলে মনে করা হয়৷

সাদা রং আলোর প্রতিফলন ঘটায়৷ যার ফলে হোটলের রুম আরও উজ্জ্বল বলে মনে হয়৷

চাদর-বালিশ একটু নোংরা হলে একইসঙ্গে ভিজিয়ে তা ধোওয়া যায়৷ অন্যান্য রংয়ের হলে একটার থেকে অন্যটাতে রং লেগে যাওয়ার ভয়ও থাকতে পারে৷

সাদা রং বিলাসিতার প্রতীক বলেও মনে করেন অনেকে, তাই হোটেল বেশি বিলাসবহুল না হলেও বিছানায় সাদা চাদর ব্যবহার কিন্তু প্রায় সকলেই ব্যবহার করে৷

বাজারে এল অত্যাধুনিক ‘ধর্ষণ প্রতিরোধক’ শাড়ি!

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত হচ্ছে সমাজ। কিন্তু মানসিকতায় বিশেষ পরিবর্তন আসেনি। তাই তো আজও মহিলাদের ধর্ষিতা হওয়ার জন্য দায়ি করা হয় তাঁর পোশাককে। পোশাকই নাকি সমাজে ধর্ষকের জন্ম দেয়। সমাজের সেই সব মানুষের চিন্তাধারায় সজোরে ধাক্কা দিতে বাজারে এল নতুন এক পোশাক। যা ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম যে কোনও পরিস্থিতিতে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল দিল্লির ঘটনার একটি ভিডিও। যেখানে এক মহিলাকেই স্পষ্ট বলতে শোনা গিয়েছে, খাটো পোশাকের মেয়েদের ধর্ষণ করা উচিত। আরও মজার বিষয় হল, মহিলার সপক্ষে অনেকেই সুর চড়িয়ে বলেন, খাটো পোশাক সত্যিই ধর্ষণের অন্যতম কারণ। অর্থাৎ তাঁদের মতে, মহিলারা আরও মার্জিত-ঢাকা পোশাক পরলেই ধর্ষণ সমস্যার সমাধান হবে। হায়! যদি এমনটাই হত, তবে তিন মাসের শিশুর ধর্ষণের খবর কি আর শিরোনামে উঠে আসত? কিংবা বোরখা পরিহিতার গায়ে কি কখনও যৌন হেনস্থার আঁচ লাগত? সেসব প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অধরা।

এ প্রসঙ্গ আপাতত থাক। তবে খাটো পোশাকের পালটা দিতে তরুণদের একটি দল হাজির করেছে ‘সুপার সংস্কারি শাড়ি’। নিজেদের ওয়েবসাইটে এই অদ্ভুত শাড়ির কথা ব্যাখ্যা করেছে তারা। তবে পুরোটাই মজা করে। তাঁদের মতে, পোশাকই যদি ধর্ষণের কারণ হয়, তবে এমন শাড়িই মহিলাদের পরা উচিত। তাহলেই মুশকিল আসান। মূলত দিল্লির ওই ঘটনার বিরোধিতা করতেই এমন উদ্যোগ।

ব্রয়লার মুরগি খেলে কাজ করবে না অ্যান্টিবায়োটিক!

ব্রয়লার মুরগি, যা আমিষের চাহিদা মেটানোর জন্য সাধারণ মানুষের অন্যতম খাদ্য উপাদান পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই মুরগি কি আসলেই আমাদের জন্য উপকারী? একাধিক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে ব্রয়লার মুরগি মানুষের দেহের জন্য একদমই ভালো নয়।

তবে বর্তমান সময়ে সপ্তাহে অন্তত দু’টো দিন মুরগির মাংস না হলেই নয়। আর ঝটপট রান্না কিংবা চিকেন ফ্রাইয়ের জন্য তো এর বিকল্পই হয় না।

তবে সম্প্রতি লন্ডনের ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজিম-এর চালানো একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, পোল্ট্রি খামারে মুরগির খাবারের সঙ্গে উচ্চ মাত্রায় কোলিস্টিন নামের একটি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। তাই বাজারের প্রায় সব প্রকৃয়াজাত মুরগির মাংসেই উচ্চ মাত্রায় কোলিস্টিনের উপস্থিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় ওই গবেষণায়।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের যে বিধি-নিষেধ রয়েছে, তা যে কোনও ভাবেই মানা হচ্ছে না বলেও জানা যায় ওই গবেষণায়।

আর এর ফলেই অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধই সুপারবাগ বা বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। অর্থাৎ, মুরগি খাওয়ার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধে আর কোনও কাজ হবে না। অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধই শরীরে কোনও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে পারবে না। ফলে কোনও কারণে অসুস্থ হলে সেরে ওঠা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রায় সব পোল্ট্রি খামারেই মুরগির স্বাস্থ্য দ্রুত বাড়াতে, বেশি মাংস পেতে মুরগির খাবারের সঙ্গে এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়।এই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যক্ষমতা দিনে দিনে হ্রাস পেতে থাকে।

অর্থনীতিতে কালো টাকার উপস্থিতি

রম্য কথা


আগে টাকা মানুষের হুকুম তামিল করত, এখন মানুষ টাকার হুকুম তামিল করে। টাকা নতুন করে বংশ-কৌলিন্য বেধে দিল। টাকা বলল- এখন থেকে বর্ন দিয়ে সমাজ বিভাগ হবে না, হবে টাকা দিয়ে। মহাজনই হবে বর্ণশেষ্ঠ ব্রাক্ষ্মন। সেই মহাজনই নিজের প্রয়োজনে কায়স্থ বৈশ্য শুদ্র শ্রেনী ভাগ করবে। আজকে যে শুদ্র সেও একদিন কায়স্থ হতে চাইল।আজকে যে কায়স্থ সেও চাইল ব্রাক্ষ্মন হতে। তখন বাধলো বিরোধ। ব্রাক্ষ্মন বৈশ্য কায়স্থ শুদ্রদের মধ্যে বিবাদ বিরোধ জটিল হয়ে উঠলো প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকেই। টাকার দর নামল, সোনার দর চড়লো। লক্ষ লক্ষ শুদ্র ব্রাক্ষ্মন হলো। কোটি কোটি ব্রাক্ষ্মন হলো শুদ্র। টাকা দিয়েই যাচাই হতে লাগল মনুষ্যত্ব, ধর্ম, পাপ, পূন্য, ভালবাসা, স্নেহ, মমতা সবকিছুর। টাকাই হলো ধর্ম, টাকাই হলো মোক্ষ, টাকাই হলো কাম। টাকাই সকলকে এক হাটে বেচে আর এক হাটে সওদা করতে লাগল। বিংশ শতাব্দির অর্ধশতকে পৌছে মানুষ হলো পোটেন্ট, কিন্তু টাকা হয়ে গেল অমনিপোটেন্ট!!

Quiz Date: 10-May-2019
Quiz: 1024 কে.বি (কিলোবাইট) = 1 এম.বি (মেগাবাইট), 1024 এম.বি = 1 জিবি (ঘিগাবাইট), 1024বিজি=1 টিবি (টেরাবাইট)। কোন ইন্টারনেটের গতি 1Mbps মানে হলো এই গতি প্রতি সেকেন্ডে 1MB ডাটা আদান-প্রদান করতে সক্ষম। 2Mbps ডাউনলোড গতি সম্পন্ন একটি ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে 120MB ফাইল ডাউনলোড করতে কতক্ষণ সময় লাগবে?
Correct Ans: 1 মিনিট (120/2=60 সেকেন্ড)।
Winner Profile: Aminul Hasan

রান্নাঘরের ছোট ছোট কিছু টিপস
জেনে নিন কীভাবে সহজ করবেন প্রতিদিনের রান্নাঘরের কাজ:

• ফ্রি সময়ে ফল কেটে সামান্য লেবুর রস মেখে রেখে দিন ফ্রিজে৷ প্রয়োজনমতো বের করে খান

• অনেকদিন ফ্রিজে পড়ে থাকা সবজি নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে প্যাকেট করে ফ্রিজে রেখে দিন। স্যুপ ও স্টু বানাতে ব্যবহার করুন

• মাখন বের করে রাখতে ভুলে গেছেন, শক্ত মাখনটা গ্রেট করে নিন৷ তার পর গরম টোস্টের ওপর ছড়িয়ে দিলেই দেখবেন মাখন গলতে আরম্ভ করেছে এবং বাটার নাইফ দিয়ে স্বচ্ছন্দে লাগানো যাচ্ছে৷

• কলা/ আম কাচা থাকলে কাগজের ঠোঙায় মুড়ে রেখে দিন, দ্রুত পেকে যাবে

• মাইক্রোওয়েভে পাউরুটি, নান বা পরোটা গরম করলেই শক্ত হয়ে যাচ্ছে? অল্প করে পানি ছিটিয়ে নিন৷ তারপর গরম করুন

• হাত থেকে আদা-রসুন বা মাছের গন্ধ দূর করতে লেবুর রস বা বেকিং সোডা দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

খেজুরের গুড়ের নামে আমরা কি খাচ্ছি?

‘ঠিলে ধুয়ে দেরে বউ গাছ কাটতে যাব।’ শীত মৌসুম এলেই গাছি ভাইদের নিয়ে লেখা পল্লী অঞ্চলের এই গানটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় খেজুর রসের কথা। কনকনে শীতে সুমিষ্ট আর সুস্বাদু খেজুর রসের সাথে মৌসুমের শুরুতে বাজারে আসতে শুরু করে লোভনীয় খেজুরের গুড়। নতুন গুড়ের রকমারি পিঠা-পুলির আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়া পল্লী বধূদের চিরাচরিত রীতি। শহরের বাসিন্দারাও লোভনীয় এ পর্ব থেকে বাদ পড়তে চায় না। ঝুঁকে পড়ে খেজুর রস আর গুড়ের উপর। কিন্তু বেশ কয়েক বছর যাবত খেজুর রসের দেখা মেলা ভার। গ্রামে-গঞ্জে এখন আর সেই গাছীদের দেখা মেলে না। তবে শীত এলেই বাজারে খেজুর গুড়ে সয়লাব। রসের খবর নেই অথচ বাজারে এত তরতাজা খেজুরের গুড় আসছে কোত্থেকে? খেজুর গুড়ের নামে আমরা এসব কি খাচ্ছি? এমন প্রশ্ন উঠে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে খেজুরের গুড়ের নামে যা বিক্রি হচ্ছে তার অধিকাংশই চিনি দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি। শীত মৌসুম এলেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সামান্য খেজুরের গুড়ের সাথে চিনি ও ফ্লেভার মিশিয়ে খাঁটি খেজুরের গুড় নামে বিক্রি করছে। ৫০ টাকা কেজি দরের চিনি দিয়ে তৈরি উক্ত গুড় ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যা ক্রেতাদের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা। খুলনার বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীদের দোকানে বর্তমানে এসব ভেজাল গুড়ে সয়লাব হয়ে গেছে। এদিকে পাইকারী বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে খেজুরের গুড়। খুচরা বাজারগুলোতে দ্বিগুণ দামে খেজুরের গুড় বিক্রি করলেও কর্তৃপক্ষের নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয় তাহলে ভেজাল গুড়ের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক ভোক্তা।

গতকাল নগরীর বড় বাজার ভৈরব স্ট্যান্ড রোডস্থ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেজি প্রতি মুছি গুড় ৫৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ঠিলেতে রাখা গুড় (দানা) ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ খুচরা বাজারগুলোতে কেজি প্রতি মুছি গুড় ১২০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং ঠিলেই রাখা গুড় ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারী বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি মুছি গুড় অন্তত ১০০ টাকা এবং ঠিলের গুড় ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

গুড় ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সাধারণত অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাস পর্যন্ত খেজুর গুড়ের চাহিদা থাকে। নাটোর, গোপালপুর, বনপাড়া, আরানি, দয়ারামপুর, রাজশাহী, মালঞ্চি, বানেশ্বর, ঈশ্বরদী, আড়ানী, ওয়ালিয়া, আনসারবাড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গুড় নগরীর বড় বাজারের চাহিদা মেটায়। আর ভেজাল গুড় বাজারে থাকার বিষয়টি তারা স্বীকার করলেও এর উৎস সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে চাননি। নগরীর হেলাতলা রোডস্থ মেসার্স মনির এন্ড ব্রাদার্সে গুড় কিনতে আসেন মোঃ শহিদুল ইসলাম। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি এক কেজি খেজুরের পাটালী গুড় কিনেছি ১৫০ টাকা দিয়ে।’ একই দোকানে গুড় কিনতে আসেন বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি দুই কেজি খেজুরের (পাটালী) গুড় কিনেছি ৩০০ টাকায়।

নগরীর বড় বাজার ভৈরব স্ট্যান্ড রোডস্থ মেসার্স লাকী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘বিভিন্ন অঞ্চলের গুড় খুলনার চাহিদা মিটিয়ে আসছে। নগরীর বড় বাজারে প্রতি সপ্তাহে দুই ট্রাক করে গুড় আসে। বড় বাজার ভৈরব স্ট্যান্ড রোডস্থ মেসার্স ঘোষ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বনমালি মন্ডল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিভিন্ন অঞ্চলের গুড় আমাদের বড় বাজারের চাহিদা মেটায়। তবে নাটোর, গোপালপুর, বনপাড়া, আরানি, রামপুর, রাজশাহী, মালঞ্চি, বানেশ্বর, ঈশ্বরদী, আড়ানী, ওয়ালিয়া অঞ্চল থেকে মুছিগুড় (পাটালি) আসে। শুধুমাত্র আনসারবাড়ি অঞ্চল থেকেই ঠিলেতে রাখা গুড় খুলনার বড় বাজারে আসে।’



রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া খুব সাধারণ একটি রোগ। মহিলা এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দিলেও এটি সব বয়সী মানুষেরই হতে পারে। রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন কম থাকাকে রক্তস্বল্পতা বলা হয়। হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণীকার ভিতরে একটি প্রোটিন যা দেহে অক্সিজেন প্রবাহিত করে থাকে। বিভিন্ন কারণে রক্ত স্বল্পতা হতে পারে।

রক্ত স্বল্পতার কারণ সমূহ
আয়রনের অভাব
ভিটামিন বি১২ এর অভাব
ফলিক অ্যাসিডের অভাব
অতিরিক্ত রক্তপাত
পাকস্থলিতে ইনফেকশন
বয়স
ধূমপান
উচ্চ বিএমআই
বিভিন্ন অসুখ ইত্যাদি।

তেজপাতার ১০ ঔষধি গুণ
তেজপাতা একটি সুগন্ধিযুক্ত ঔষধি পাতা। স্যুপ, পায়েস, পোলাও ও অন্যান্য সিদ্ধ জাতীয় খাবারে সুগন্ধ যোগ করতে এ পাতা ব্যবহার করা হয়। প্রাচীন গ্রীকে ঐতিহ্যগত ওষুধ তৈরিতে তেজপাতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। আসুন জেনে নেই এর ১০টি ঔষধি গুণ সম্পর্কে।

চুলের বৃদ্ধি ও খুশকি তাড়ায়
খুশকি ও চুল পড়ে যাওয়া নিয়ে বিপাকে আছেন? চুলের যত্নে তেজপাতায় রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কয়েকটি তেজপাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করুন। কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা হতে দিন। এবার এ পানি দিয়ে চুল ও স্কাল্প ধুয়ে ফেলুন। অবশ্যই শ্যাম্পু করার পর এটি করবেন। মাথার ত্বক চুলকাচ্ছে? তেজপাতা বেটে নারিকেল তেলের সঙ্গে মেশান। স্কাল্পে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে
একটি গবেষণায় দেখা যায় দিনে অন্তত দু’বার তেজপাতা গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে। এটি প্রমাণ হয়েছে যে, তেজপাতায় থাকা উপাদান ইনসুলিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রণে রাখে। যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন তাদের জন্যেও তেজপাতা বেশ উপকারী।

হজমে সাহায্য করে
কোষ্ঠকাঠিন্য? তেজপাতা আপনার স্বাভাবিক হজমশক্তি ফিরিয়ে আনবে। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয়। অতিরিক্ত প্রস্রাবের সমস্যা কমায় ও হজম রস তৈরিতে এটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। তেজপাতায় থাকা এনজাইম দ্রুত খাবার ভাঙতে পারে ফলে যারা অন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য তেজপাতা অনেক উপকারী।

হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
তেজপাতায় রয়েছে রুটিন ও ক্যাফেক অ্যাসিড। এ উপাদানগুলো হার্টের দেয়ালকে মজবুত করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ব্যথা উপশম করে
তেজপাতা প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি যেকোনো ধরনের মাথা ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথা এমনকি বাতের ব্যথা উপশমে কার্যকরী। তেজপাতা ও রেড়ির পাতার (ক্যাস্টর) পেস্ট আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখলেই ব্যথা কমে যাবে। এছাড়া পাতার তেল কপালে ম্যাসাজ করলে মাথা ব্যথা থাকবে না।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে
কিছু গবেষণায় দেখা যায় তেজপাতা ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করে। এতে ফাইটোনিউট্রিয়ান্স ও ক্যাটচীন উপাদান থাকায় এটি ক্যান্সার কোষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একটি গবেষণা অনুযায়ী তেজপাতা ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

ক্ষত নিরাময় করে
তেজপাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও মাইক্রোব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় এটি ক্ষত সারাতে দারুণভাবে কাজ করে। এটি ক্যান্ডিডার মত ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

গলা খুশখুশ ও কাঁশি
আপনি যদি ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হন ও কাঁশির সমস্যায় ভোগেন তাহলে ব্যাকটেরিয়া তাড়াতে এটি আপনাকে চমৎকারভাবে সাহায্য করবে। ৪-৫টি তেজপাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করুন। পানি কুসুম ঠাণ্ডা করে নিন। একটি পরিষ্কার কাপড় পানিতে ভিজিয়ে বুক মুছুন। কয়েকবার এটি করুন। আর খেয়াল রাখবেন পানি যেনো খুব বেশি গরম না হয়।

কিডনির পাথরের চিকিৎসায়
একটি গবেষণা অনুযায়ী তেজপাতা শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে এটি কিডনির সমস্যা করে ও অন্যান্য গ্যাসের সমস্যা তৈরি করে।

উদ্বিগ্নতা ও চাপ কমায়
যদি দিনের শেষে আপনার মনমেজাজ ভালো না লাগে তাহলে এক কাপ তেজপাতার চা খেয়ে দেখতে পারেন। এটি আপনার স্নায়ু শান্ত করে ও উদ্বিগ্নতা কমায় এমনকি ভালো ঘুমের জন্যেও উপকারী।

সতর্কতা
তেজপাতা গর্ভবতী মা ও সদ্য মায়েদের প্রস্রাবের ইনফেকশন ঘটাতে পারে। এছাড়া সার্জারি রোগীদের দুই সপ্তাহ তেজপাতা খেতে নিষেধ করা হয় কারণ এটি স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

চাঁদে হাঁটা সহজ করে দিলেন বাংলাদেশি তরুণরা!

প্রথমবারের মতো নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-২০১৮-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

সারা বিশ্বের এক হাজার ৩৯৫টি দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনয়ন পাওয়া দল ‘টিম অলিক’। বেসিসের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়।

লুনার ভিআর প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই চাঁদের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। আর এ প্রজেক্টের জন্যই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করল টিম অলিক। টিম অলিকের এই লুনার ভিআর প্রজেক্টটি মূলত একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অ্যাপ্লিকেশন। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী চাঁদ ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা পাবেন। নাসা প্রদত্ত বিভিন্ন রিসোর্স থেকে থ্রিডি মডেল ও তথ্য সংগ্রহ করে নাসা অ্যাপোলো-১১ মিশনের ল্যান্ডিং এরিয়া ভ্রমণ, চাঁদ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা ও চাঁদকে একটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবর্তন করা, এই তিনটি ভিন্ন পরিবেশকে ভার্চুয়ালভাবে তৈরি করেছে টিম অলিক।

বেস্ট ইউজ অব ডাটা ক্যাটাগরিতে শীর্ষ চারে স্থান করে নেওয়া ক্যালিফোর্নিয়া, কুয়ালালামপুর ও জাপানের দলকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব পান তাঁরা।

এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক ফলাফলে বিশ্বের ৭৯টি দেশের প্রায় দুই হাজার ৭২৯টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের দুটি ক্যাটাগরির শীর্ষ চারে উঠে আসে বাংলাদেশ।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-২০১৮-তে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাংসদ ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।



মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের তরুণদের হাত ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মিত হচ্ছে। তরুণদের নিয়ে গড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল টিম অলিক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেছে। বাংলাদেশের বেসিস, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি টিম অলিক ও বেসিসকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এ অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত।’

এ অর্জন সম্পর্কে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘এ বছর আমাদের লক্ষ্যই ছিল গত তিন আসরের তুলনায় ভালো করার। প্রথমবারের মতো নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। আমরা বেসিস থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছি, এ অর্জন আমাদের প্রচেষ্টার পথে আরেকটি বড় মাইলফলক। আমি বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে আরো উঁচুতে আসীন করার জন্য টিম অলিককে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-২০১৮-এর আহ্বায়ক দিদারুল আলম বলেন, ‘আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এ অর্জন গোটা বাংলাদেশের। টিম অলিক বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। অক্লান্ত এ পরিশ্রমের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে, বিশেষ করে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপু, প্রধান বিচারক (বাংলাদেশ) মাহদী-উজ-জামান ও প্রকল্প সমন্বয়ক মো. ওয়াসেক সাজ্জাদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

টিম অলিকের দলনেতা আবু সাবিক মাহদি বলেন, ‘প্রথমবার নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি আমাদের মডারেটর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী ও বেসিসের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন আমাদের প্রতি বাংলাদেশের সবার অনেক প্রত্যাশা। আমরা বাংলাদেশকে আরো উঁচুতে আসীন করতে চাই।’

বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আয়োজিত নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এবার দুই হাজার প্রকল্প থেকে বাছাই করে সেরা ৪০টি প্রকল্প নাসার জন্য মনোনীত করা হয়। বাংলাদেশের নয়টি শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা) আয়োজিত হয় এটি।

ছয়টি ক্যাটাগরির ছয়টি চ্যাম্পিয়ন দল নাসায় যাওয়ার এবং শিক্ষানবিশ হিসেবে কিছুদিন কাজ করার সুযোগ পাবে।

‘রেল সেবা’ অ্যাপে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে

রেলের টিকিট ক্রয়ের সুবিধার্থে ‘রেল সেবা’ নামে মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সব আন্তঃনগর ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট এখন থেকে অ্যাপ, মোবাইল ও অনলাইনের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।


এই অ্যাপের মাধ্যমে একসঙ্গে ৫০০ যাত্রী ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া প্রতি ঘণ্টায় অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ হাজার টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

আগের মতোই একজন যাত্রী অ্যাপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট নিতে পারবেন।

এছাড়া অ্যাপ থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের ভাড়া, টিকিট প্রাপ্যতা, ট্রেন রুট, সময়সূচি, ট্রেনভিত্তিক বিরতি স্টেশনসমূহের নাম ও সময়সূচি, জার্নি হিস্ট্রি, কোচ ভিউ, সিট পছন্দ করা যাবে।

ট্রেনের ভেতরে অ্যাপ থেকে খাবারও অর্ডার দেয়া যাবে। প্রয়োজনে অ্যাপের মাধ্যমে রেল পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন যাত্রীরা।

স্টেশন থেকে ট্রেনের দূরত্ব, ট্রেনের অবস্থান ও স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কেও এই অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে।

রেলসেবা অ্যাপটি বর্তমানে সব ধরনের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। খুব শিগগিরই
আইফোন ভার্সন চালু করা হবে।

ইতোমধ্যে জাতীয় কল সেন্টারের (৩৩৩) সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যসমূহ যুক্ত করা হয়েছে। ফলে জাতীয় কল সেন্টার ৩৩৩ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পাওয়া যাবে।

রেল ভ্রমণ শেষে অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের মতামতও দিতে পারবেন। এই ঠিকানা https://play.google.com থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত ?
১.৩৭% ।

আনন্দকে ভাগ করলে দুটি জিনিস পাওয়া যায়; একটি হচ্ছে জ্ঞান এবং অপরটি হচ্ছে প্রেম
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

* মজার ব্যাপার হলো, আইজ্যাক নিউটনের বাবার নামও ছিল আইজ্যাক নিউটন!

হাদিসের কথা: كن له سترا من النار (তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হবে): অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে তারা কারণ হবে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করা থেকে রক্ষা করবে। নিঃসন্দহে যে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না; সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেহেতু জান্নাত ও জাহান্নাম ছাড়া আর কোন আবাসস্থল নেই। সহিহ মুসলিমের যে বর্ণনাটি আমরা উদ্ধৃত করেছি তাতে এর সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহ্‌ তাআলা ঐ নারীর উক্ত কর্মের কারণে তার জন্য জান্নাত অবধারিত করে দিয়েছেন। হাদিসে মেয়েদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেহেতু মেয়েরা দুর্বল, তাদের পরিস্থিতি মোকাবেলার ক্ষমতা কম, তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তাদের সুরক্ষা প্রয়োজন এবং তাদের পেছনে খরচাদি বেশি লাগে। তাছাড়া অনেক মানুষ তাদেরকে বোঝা মনে করে ও অবজ্ঞা করে; যেটা ছেলেদের বেলায় করে না। কারণ উল্লেখিত দিকগুলোতে ছেলেরা মেয়েদের বিপরীত।

সাগরকন্যা কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
উত্তর : পটুয়াখালী।

Good Morning Friend

পবিএ কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসরা মেরাজ ও সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার

'পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি। যাতে আমি তাকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল। ' (সুরা বনি ইসরাইল-১)

'ইসরা' অর্থ রাতে নিয়ে যাওয়া। আয়াতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত সফরকে ইসরা বলা হয়। আর সেখান থেকে আসমান পর্যন্ত যে সফর, তা-ই মেরাজ। এ আয়াতে 'ইসরা' আর মেরাজ সুরা নাজমে এবং হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

মেরাজ আত্মিক নয়, স্বশরীরেই হয়েছিল

ইসরা ও মেরাজের সফর আত্মিক ছিল না; বরং সাধারণ মানুষের সফরের মতো স্বশরীরেই ছিল- এ কথা কোরআন ও হাদিসে প্রমাণিত। আলোচ্য আয়াতের প্রথমে 'সুবহানা' শব্দের মধ্যে এদিকেই ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা এ শব্দটি আশ্চর্যজনক ও বিরাট বিষয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। মেরাজ যদি শুধু আত্মিক, অর্থাৎ স্বপ্নজগতে সংঘটিত হয়, তবে তাতে আশ্চর্যের কী আছে। স্বপ্নে তো প্রত্যেক মুসলমান; বরং প্রত্যেক মানুষ দেখতে পারে যে সে আকাশে উঠেছে, অবিশ্বাস্য বহু কাজ করেছে।

'আবদ' শব্দে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ শুধু আত্মাকে আবদ বলে না; বরং আত্মা ও দেহ উভয়ের সমষ্টিকেই আবদ বলা হয়। এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মেরাজের ঘটনা হজরত উম্মে হানী (রা.)-এর কাছে বর্ণনা করলেন, তখন তিনি পরামর্শ দিলেন এ কথা প্রকাশ করবেন না, তাহলে কাফেররা আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করবে। ব্যাপারটি যদি নিছক স্বপ্নই হতো, তবে মিথ্যারোপ করার কী কারণ ছিল।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘটনা প্রকাশ করলেন, তখন কাফেররা মিথ্যারোপ করল এবং ঠাট্টা-বিদ্রূপ করল। এমনকি কত নও-মুসলিম এ সংবাদ শুনে ধর্মত্যাগী হয়ে গেল। ব্যাপারটি স্বপ্নের হলেও এত সব তুলকালাম কাণ্ড ঘটার সম্ভাবনা ছিল কি? তবে এ ঘটনার আগে এবং স্বপ্নের আকারে কোনো আত্মিক মেরাজ হয়ে থাকলে তা এর পরিপন্থী নয়।

ইসরা সম্পর্কে সব মুসলমানের ঐকমত্য রয়েছে। শুধু ধর্মদ্রোহী যিন্দীকরা একে মানেনি। মেরাজ থেকে ফিরে এসে ভোরবেলা যখন নবীজি (সা.) রাতের সফরের ঘটনা শোনালেন, তখন কোরাইশ নেতারা তা অস্বীকার করতে লাগল। এত অল্প সময়ে মক্কা শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে গমন তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলো। তাদের মধ্যে যে এর আগে মসজিদে আকসা ভ্রমণ করেছে সে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা বায়তুল মুকাদ্দাসের কিছু বিবরণ শোনান দেখি। অমনি আল্লাহ তায়ালা মসজিদের বাস্তব চিত্র নবীজি (সা.)-এর সামনে হাজির করে দিলেন আর তিনি দেখে দেখে সব বলে দিলেন। (বুখারি-৪৭১০)

Good Morning

কুসংস্কারকে ধ্বংস করতে গিয়ে আমরা ধর্মকে ধ্বংস করতে পারিনা!

অর্থ মানুষকে পিশাচ করে তোলে,আবার অর্থ মানুষকে মহৎ করে ও তোলে।

Good Morning

মাত্রাধিক ইন্টারনেট ব্যবহার কিংবা অপ্রয়োজনে মোবাইলে ইন্টারনেট চালু (মোবাইল ডাটা) রাখা ক্ষতিকর একটা অভ্যাস।

মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন।কিন্তু অনেকেই আছেন যারা নামাজে অধিক মনোযোগ দেয়ার জন্য অনেক সময় রাকায়াত সংখ্যা মনে থাকে না। নামাজরত অবস্থায় যদি রাকায়াত সংখ্যা ভুলে যান তাহলে আপনি কী করবেন?
প্রথম রাকাত পড়লাম নাকি দ্বিতীয় রাকাত? মনের মধ্যে যদি এমন প্রশ্ন উদিত হয়, তাহলে মন যে দিকে ঝুঁকবে বা সায় দিবে তাই গ্রহণ করতে হবে।
আর যদি কোনো দিকেই মন না ঝুঁকে তাহলে কম তথা এক রাকাত ধরতে হবে। তবে এই প্রথম রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই দ্বিতীয় রাকাত। দ্বিতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে।
তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে এটি চতুর্থ রাকাত। তারপর চতুর্থ রাকাতে সাজদায়ে সাহু করে নিবে। যদি সন্দেহ হয় যে, দ্বিতীয় রাকায়াত পড়লাম, নাকি তৃতীয় রাকাত? তাহলে তার হুকুমও এরূপ।
যদি মন কোনো দিকে না ঝুকে তাহলে দ্বিতীয় রাকাত ধরে নিবে এবং এই রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে এবং এটা বিতর নামাজ হলে এ রাকাতেও দুয়ায়ে কুনুত পড়বে।
তৃতীয় রাকাতেও বসবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে। যদি সন্দেহ হয় যে, তৃতীয় রাকাত পড়লাম, নাকি চতুর্থ রাকাত? তাহলে তার হুকুম অনুরূপ।
কোনো দিক মন না ঝুঁকলে তিন রাকাত ধরে নিবে। কিন্তু এই তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহুদ পড়তে হবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে।
যদি নামাজ শেষ করার পর সন্দেহ হয় যে, এক রাকাত কম রয়ে গেলে কিনা? তাহলে এই সন্দেহের কোনো মূল্য নেই। নামাজ হয়ে গেছে। অবশ্য যদি সঠিকভাবে স্মরণ আসে যে, এক রাকাত কম রয়ে গেছে,
তাহলে দাঁড়িয়ে আরও এক রাকাত পড়ে নিবে এবং সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে।
কিন্তু যদি ইতোমধ্যে এমন কোনো কাজ করে থাকে যাতে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায় (যেমন কেবলা থেকে ঘুরে বসে থাকা বা কথা বলে থাকা) তাহলে নতুন নিয়ত বেঁধে সম্পূর্ণ নামাজ পুনরায় পড়তে হবে।
আর প্রথম অবস্থায়ও নতুনভাবে নামাজ পুনরায় পড়ে নেয়া উত্তম; জরুরি নয়। শেষ কথা, উপরোক্ত কোন ব্যাখ্যা যদি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হয়, তাহলে আপনি নামাজ ভেঙে পুনরায় নিয়্যত করে নামাজ আদায় করবেন।
মহান আল্লাহ তা’য়ালাকে খুশি করতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা বিভিন্ন ইবাদত বন্দিগীর মধ্যে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। আপনি নিজেও হয়তো নিজেকে আল্লাহর ধ্যানে নিয়োজিত রাখেন। কিন্তু আপনি জানেন কি আপনার ছোট্ট একটি ভুলে আল্লাহ তায়ালা আপনার এতো কষ্টের আমলগুলো কবুল করবেন না। মূলত যারা অবৈধ ও হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে ভোগ দখল করে তাদের আমল আল্লাহ পাক কখনোই কবুল করেন না।
এ প্রসঙ্গে হযরত আনাছ (রা.) বলেন, “আমি বললাম, হে রসূল! আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুন যেন তিনি আমার দোয়া কবুল করেন। উত্তরে রসূল (স.) বললেন, “হে আনাস তোমার উপার্জনকে হালাল রাখ, তোমার দোয়া কবুল হবে। মনে রেখ, কেউ যদি হারাম খাদ্যের এক গ্রাসও মুখে নেয়, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার দোয়া কবুল হবে না।”
অবৈধভাবে তথা হারাম পন্থায় উপার্জন দু’রকম হতে পারে— প্রথমত:সম্পূর্ণরুপে শক্তি প্রয়োগে ও অত্যাচারের মাধ্যমে, যেমন-আত্মসাত, অপহরণ, জবরদখল, গচ্ছিত সম্পদ বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে ভোগদখল, চুরি ডাকাতি ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত:খেলাধুলা, চালাকী, প্রতারণা ইত্যাদি।
লটারী ও জুয়ার মাধ্যমে অর্থ জেতাও এর আওতাভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, অর্থাৎ “তোমরা এক অপরের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগদখল করোনা” (সুরা. আন-নিসা, ২৯)। হযরত ইবনে আব্বাস বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন শপথ দ্বারা অন্যের সম্পত্তির ওপর নিজের দখল প্রতিষ্ঠা করা। বায়হাকীতে বর্ণিত আছে, রসূল (স.) বলেন, “আল্লাহ তায়ালা যেমন তোমাদের মধ্যে তোমাদের জীবিকা বণ্টণ করেছেন, তেমনি ভাবে তোমাদের স্বভাব-চরিত্রও বণ্টন ও করেছেন।
দুনিয়ার সম্পদ তিনি যাকে ভালোবাসেন তাকেও দেন, যাকে ভালোবাসেন না তাকেও দেন। কিন্তু আখিরাতের সম্পদ কেবল তাকেই দেন, যাকে তিনি ভালোবাসেন। আল্লাহ যাকে দ্বীন দান করেছেন, বুঝতে হবে যে, তিনি তাকে ভালোবাসেন।
কোন বান্দা হারাম সম্পদ উপার্জন করে তা নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করলে তাতে সে বরকত ও কল্যাণ লাভ করবেনা। অন্যকে দান করলে সে দানও কবুল হবে না, আর যেটুকু সে দুনিয়ায় রেখে যায়, তা তার জন্য জাহান্নামের সম্বল হবে। আল্লাহ মন্দকে দিয়ে মন্দ প্রতিহত করেন না, ভালো দিয়ে মন্দকে প্রতিহত করেন” (মুসনাদে আহমদ)।
হযরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন রসূল (স.) বলেছেন, “পৃথিবী মিষ্ট ও শ্যামল। এখানে যে ব্যক্তি হালাল সম্পদ উপার্জন করবে এবং ন্যায়সংগত পথে তা ব্যয় করবে, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন, তাকে জান্নাত দান করবেন।
আর যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ উপার্জন করবে এবং তা অন্যায় পথে ব্যয় করবে, আল্লাহ তাকে অপমানজনক স্থানে নির্বাসিত করবেন।
আর হারাম সম্পদ হস্তগতকারী ব্যক্তিরা কেয়ামতের দিন আগুনে জ্বলবে।রসূল (স.) আরো বলেন, “যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করবে তার পরোয়া করেনা, আল্লাহ তায়ালা তাকে কোন দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন তার পরোয়া করবেন না।

19-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3623 জন)
প্রশ্নঃ শত বছর জীবত থেকে কেউ যে কাজ করবে, তা যদি তুমি পঞ্চাশ বছর জবীত থেকে করতে পার তাহলে তুমিও শত বছর জীবন পেলে। আমরা চাইলে কর্মের পরিধি ও তাৎপরতা বৃদ্ধি করে শত বছর বাঁচতে পারি। মানে পঞ্চাশ বছর বেচেঁ থেকে শত বছর বা তারও বেশি বছরের সমান কাজ করতে পারি। ১২ কর্মঘন্টার মধ্যে ‘কামাল’ প্রতিদিন ৪ঘন্টা অপচয় করেন ও ৮ঘন্টা কাজ করেন অন্যদিকে তার সহকর্মি ‘শামিম’ কোন সময় অপচয় করেন না। দুজনেই ১৮বছর চাকুরী করলে শামিমের তুলনায় কামাল কত বছর কম চাকুরী করলো?
(A) ৯ বছর
(B) ৪ বছর
(C) ৬ বছর
06-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4053 জন)
প্রশ্নঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আর কোন এ্যান্টিবায়টিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ঐষধ (এ্যান্টিবায়িটিক) এর অপব্যবহার মানব সভ্যতা ধ্বংশের জন্য দায়ি হবে। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত/অসম্পূর্ণ এ্যান্টিবায়িটিক ডোজ প্রয়োগের ফলে মানব শরীরে একসময় আর কোন এ্যান্টিবায়িটিক কাজ করবে না। বর্তমানেই বিভিন্ন হসপিটালে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামান্য রোগেই চোখের সামনে রোগী মারা যাবে। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল কোনটি?
(A) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
(B) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
(C) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
02-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4208 জন)
প্রশ্নঃ রাশিয়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গুপ্তপ্রসাদ রেড্ডি (বি ভি) বলেছেন, ক্যান্সার কোনো মরণব্যাধি নয়, মাত্র দুটি উপায় অনুসরণ করলেই উধাও হবে ক্যান্সার। ১. প্রথমেই সব ধরনের সুগার বা চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। ২. এরপর এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবু চিপে মিশিয়ে নিন। টানা তিন মাস সকালে খাবারের আগে খালি পেটে এই লেবু মিশ্রিত গরম পানি পান করুন। উধাও হয়ে যাবে ক্যান্সার। -- ক্যান্সার হতে পারে এ জন্য নিচের কোন মাছটি খাওয়া নিষেধ?
(A) পিরহানা মাছ
(B) তেলাপিয়া মাছ
(C) পটকা মাছ