About Badrul Hasan

ওজন কমানোর ১০ টিপস


ভুলে যান ওজন কমানো নিয়ে যতো দুশ্চিন্তা আর মেনে চলুন ওজন কমানোর ১০টি সহজ টিপস। দেখবেন, বেশ কাজ হবে।

ভুলে যান ওজন কমানো নিয়ে যতো দুশ্চিন্তা আর মেনে চলুন ওজন কমানোর ১০টি সহজ টিপস। দেখবেন, বেশ কাজ হবে। কারণ এ বছর বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার ডায়েটিসিয়ান এ টিপসগুলিকেই ওজন কমানোর মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ডায়েটিসিয়ানস অ্যাসোসিয়েশান অব অস্ট্রেলিয়ার (ডিএএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেয়ার হেওয়ার্ট বলেন, ‘ওজন কমানোর জন্য অনেকেই কিছু খামখেয়ালি আর চটজলদি প্রোগ্রামে অংশ নেন । বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লোকজন এসব প্রোগ্রামে বিফল হন আর এর ফলে নষ্ট হয় তাদের আত্মবিশ্বাস।

ডায়েটিকস বিশেষজ্ঞ কলিন্স বলেন, ‘স্বল্প দিনের জন্য ওজন কমানোর অনেক পদ্ধতি আছে। কিন্তু আপনার জীবনযাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে কিছু ছোট আর স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারলেই দীর্ঘ সময় ধরে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবেন।’

স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বহুল আলোচিত এই ১০টি দেখুন :


সকালের নাশতা খান।

দুপুর ও রাতের খাবারে যেন সবজি আর সালাদ থাকে তা নিশ্চিত করুন।

জলখাবার হিসেবে ফল খান।

পূর্ণ চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে কম চর্বিযুক্ত বিকল্প খাবার খান।

বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খান।

পরিমাণে কম খাওয়ার জন্য ছোট কাপ-পিরিচ ব্যবহার করুন।

ধীরে-সুস্থে খান এবং আপনি নিজে সন্তুষ্ট হলেই খাওয়া বন্ধ করুন। ভরপেট খেতে যাবেন না।

শুধু সত্যিকারের ক্ষুধা অনুভব করলেই খাবেন। আবেগ থেকে বা অন্য কোনো কারণে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কোমল পানীয়, জুস আর এনার্জি ড্রিঙ্কের মতো পানীয়র পরিবর্তে বিশুদ্ধ পানি খান।

রাতের খাবার খাওয়ার সময় টিভি দেখবেন না।


সবশেষে, ওজন কমার পর আবার ইচ্ছেমতো খেতে শুরু করলে কিন্তু কোনো লাভই হবে না।

সবচেয়ে পুষ্টিকর ৯ খাবার

পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পুষ্টিগত ফিটনেস অনুসারে কিছু খাবারকে অপ্রচলিত উপায়ে র‍্যাংক করা হয়েছে। যেসব খাবার অল্প পরিমাণ খেলেই আমাদের দৈনিক সুপারিশকৃত পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় সেসব খাবারের র‍্যাংক করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে বিজ্ঞানের আলোকে বিশ্বের সবচেয়ে ৯ পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* অ্যালমন্ড
অ্যালমন্ড মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড হলো উপকারী ফ্যাট, যা আপনার হার্ট ও রক্তনালির স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। আপনি অ্যালমন্ড পিষে বিভিন্ন মিষ্টি খাবার বা পিঠাতে যোগ করতে পারেন। সালাদ ড্রেসিং হিসেবেও অ্যালমন্ড ব্যবহার করা যায়। অ্যালমন্ড নিজেই সুস্বাদু স্ন্যাক, যা আপনাকে তৃপ্ত করে লবণাক্ত ও মচমচে স্ন্যাক খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিবারণ করতে পারে।

* আতা
আতা হলো আমাদের একটি পরিচিত ফল, যা গ্রীষ্মকালে ফলের বাজারে পাওয়া যায়। এ ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন সি ও পটাসিয়াম রয়েছে। স্মুদি হিসেবে এটি খেতে বেশ তৃপ্তিদায়ক।

* ওশান পার্চ
ওশান পার্চ হলো রকফিশ ফ্যামিলির অংশ। এ মাছটি কিছু দেশে ছোট ছোট ফিলেট হিসেবে পাওয়া যায়, যা ফিশ ট্যাকুর সঙ্গে যোগ করে অথবা ক্রাম্ব ক্রাস্টের সঙ্গে ভেজে খাওয়ার জন্য আদর্শ। রান্না করলে এ মাছটি হালকা বাদামী বর্ণ ধারণ করে। এ মাছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অতি অল্প।



* ফ্লাটফিশ
যারা মার্কারি গ্রহণের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য একটি ভালো অপশন হলো ফ্লাটফিশ, কারণ এ মাছে মার্কারির পরিমাণ অতি অল্প। ফ্লাটফিশের একটি সর্বাধিক পরিচিত প্রজাতি হলো ফ্লাউন্ডার, কিন্তু হ্যালিবুটও একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত- উভয়েই হলো প্রোটিনের সমৃদ্ধ উৎস এবং বি ভিটামিন রয়েছে।

* চিয়া বীজ
গত কিছু বছর ধরে অন্যতম সর্বাধিক জনপ্রিয় পুষ্টিকর সুপারফুড হলো চিয়া বীজ। আপনি বিভিন্ন ধরনের চিয়া পুডিং তৈরি করতে পারেন অথবা ওটমিলের বাটিতে টপিং হিসেবে চিয়া বীজ যোগ করতে পারেন অথবা স্মুদিতে মেশাতে পারেন। এ ছোট কালো বীজে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবার রয়েছে।

* কুমড়া বীজ
কুমড়া বীজ নিজেই স্ন্যাক হিসেবে আদর্শ, এটিকে ভেজে বা ক্যান্ডি করে যেভাবেই খান না কেন। এ বীজে কেবলমাত্র প্রদাহ-বিরোধী উপাদানই নয়, এতে উচ্চ পরিমাণে জিংকও রয়েছে- যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সহায়তা করে।



* সুইস চার্ড
সুইস চার্ড হলো অতি উপকারী শাক। স্বাস্থ্য সচেতন লোকের ডায়েটে যোগ করার জন্য এ শাক আদর্শ। সুইস চার্ড হলো ভিটামিন কে, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এর শক্তিঘর।

* বিট শাক
প্রায়সময় বিটের ডাটা ও পাতাকে উপেক্ষা করা হয়, কিন্তু এগুলো ফেলে দেওয়ার মতো কিছু নয়। বিট শাক হলো সে ফ্যামিলির সদস্য যেখানে সুইস চার্ড রয়েছে। বিট শাক হলো ভিটামিন কে, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এর ভালো উৎস।

* স্ন্যাপার
স্ন্যাপারের অনেকগুলো প্রজাতি রয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে পরিচিত প্রজাতি হলো রেড স্ন্যাপার। এ মাছ পুষ্টির চাহিদা পূরণ করলেও বেশি খাওয়া যাবে না, কারণ এতে উচ্চমাত্রায় মার্কারি রয়েছে।

প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় ব্যাঙ!


বর্তমানে প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় জন্য ইউরিন টেস্ট ও প্রেগনেন্সি স্ট্রিক খুবই জনপ্রিয়। এই দুই পদ্ধতিতে দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় জন্য জেনোপস নামের একটি ব্যাঙ ব্যবহার করা হতো ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত। এই ব্যাঙটি মূলত আফ্রিকায় সাহারা মরুভূমির আশেপাশের দেশগুলোতে পাওয়া যেত। যা সাব-সাহারান এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ এক জাতের নখওয়ালা ব্যাঙ। এর নাম জেনোপস।

এই এলাকায় লাখ লাখ বছর ধরে শান্তিতেই বাস করছিল জেনোপস নামের এই ব্যাঙ। তবে ১৯৩০ প্রথম ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ল্যান্সলট হগবেন এই ব্যাঙটির জীবনে বড় ধরনের এক পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। তিনি এই ব্যাঙটির শরীরে তিনি ইনজেকশন দিয়ে মানুষের মূত্র ঢুকিয়ে দিলেন।

ব্রিটিশ ওই প্রাণীবিজ্ঞানীর বিভিন্ন প্রাণির শরীরের নানা রকমের জিনিস, বিশেষ করে হরমোন ঢুকিয়ে দেওয়া। তার উদ্দেশ্য ছিল এর ফলে ওই প্রাণির শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে তা পরীক্ষা করে দেখা। অনেকটা দুর্ঘটনাবশতই, তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন যে এই ব্যাঙের ভেতরে প্রেগনেন্সি হরমোন ঢুকিয়ে দিলে সেটি ডিম পাড়তে শুরু করে দেয়।

পরীক্ষাটি যেমন ছিল

নারী জেনোপস ব্যাঙের চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে নারীর মূত্র ঢকিয়ে দেওয়া হতো। ৫-১২ ঘন্টা পর দেখা হতো ব্যাঙটি ডিম পেড়েছে কিনা। ডিম পাড়লে নিশ্চিত হওয়া যেত যে ওই নারী গর্ভবতী। খুব নিখুঁতভাবেই পরীক্ষাগারে এই প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হতো।

তবে এখন প্রেগনেন্সি টেস্ট খুবই সহজ। একজন নারী খুব সহজে ঘরে বসেই জানতে পারছেন তিনি গর্ভবতী কিনা। কিন্তু কয়েক দশক আগেও এই কাজটা যথেষ্ট কঠিন ছিল।

চিকিৎসা-ইতিহাসবিদ জেসে ওলসজিঙ্কো-গ্রিন বলেন, আধুনিক যুগের এসব প্রেগনেন্সি টেস্ট খুব সহজ মনে হতে পারে। তবে ১৯৩০-এর দশকে ব্যাঙের মাধ্যমে প্রেগনেন্সি টেস্ট ছিল বড় ধরনের ঘটনা। এখন কেউ গর্ভবর্তী কিনা তা বাড়িতে পরীক্ষা করেই দেখা যায়।

তিনি বলেন, তবে ঘরে বসে প্রেগনেন্সি টেস্ট এখন মানুষের সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ১৯৭০ এর দশকেই বাড়িতে বসে প্রেগনেন্সি টেস্টের উপায় বের হলো। এর পর থেকেই জেনোপস ব্যাঙ ফিরে গেল তার শান্তিপূর্ণ জীবনে।

ওজন কমাবে ‘ওয়াটার থেরাপি’

পানি আমাদের শরীরের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় সে বিষয়ে আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। গরমে ডিহাইড্রেশন থেকে দূরে থাকতে, শরীরকে তরতাজা রাখতে সারাক্ষণই পানি পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্যও উপকারী এই পানি। পানি পান করেই ওজন কমানো যায়, এমনটা শুনতে নতুন লাগতেই পারে। এই থেরাপির আবিষ্কারক হলো জাপানিরা।

জাপানিরা দীর্ঘকাল ধরেই ওজন কমানোর দাওয়াই হিসেবে এই পানির এই ব্যবহার করে আসছে। হালকা গরম পানিতে লেবু আর মধু মিশিয়ে পান করার অভ্যাস আছে আমাদের। ওজন কমাতে এটিও বেশ উপকারী। কিন্তু ‘ওয়াটার থেরাপি’ এর থেকে অনেকটাই আলাদা।

ওয়াটার থেরাপিতে প্রধান লক্ষ্য থাকে, পানির ব্যবহারে পাকস্থলীকে যাতে সব থেকে ভালো কাজের অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া যায়। সেইসঙ্গে লক্ষ্য থাকে হজম শক্তি ফিরিয়ে আনার এবং শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার। প্রায় একশো বছরের বেশি সময় ধরে জাপানিরা এই থেরাপিতে আস্থা রেখে আসছে। ফলও মিলছে হাতেনাতে।

Water

ওয়াটার থেরাপির নিয়ম-

* সকালে খালি পেটে চার থেকে পাঁচ গ্লাস পানি পান করতে হবে। শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করবে খালি পেটে এই অভ্যেস।

* দাঁত ব্রাশ করার পরেও অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পানি ছাড়া কিছুই খাওয়া চলবে না।

* খাবার প্রতিদিন এক সময়ে খেতে হবে। খাওয়ার পর কোনোভাবেই দুই ঘণ্টা পানি পান করা চলবে না।

Water

* শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলে বা বার্ধক্যজনিত কারণে হঠাৎ করে সকালে অনেকেই হয়তো চার গ্লাস পানি একবারে খেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আস্তে আস্তে পানির পরিমাণ বাড়ান। প্রথমে শুরু করুন সকালবেলা বাসি মুখে এক গ্লাস পানি দিয়ে।

* এই থেরাপি চলাকালে পানি হোক বা অন্য কোনো খাবার, কখনোই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবেন না।

ওয়াটার থেরাপি শুরু করলে কয়েক দিনের মধ্যেই হাতেনাতে ফল পাওয়া যাবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এর ফলে বিপাকের হার বাড়বে। সঠিকভাবে কাজ করবে পরিপাকতন্ত্র। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শরীর থেকে ঝরে যাবে অতিরিক্ত মেদ। তার জন্য দরকার নেই কোনো অতিরিক্ত কসরত। প্রয়োজন নেই কোনো ক্ষতিকর কৃত্রিম ডায়েটের যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভোগাতে পারে।

কাঁচা মরিচ খাওয়ার ১০টি আশ্চর্য সুফল জেনে নিন

এখন সারা বছরই বাজারে কাঁচা মরিচ পাওয়া যায়। অনেকে তরকারিতে, ভাত কিংবা ফাস্টফুডেও কাঁচা মরিচ খেতে পছন্দ করেন। কাঁচা মরিচ শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এবার জেনে নিন কাঁচা মরিচ খাওয়ার ১০টি আশ্চর্য সুফল।


১/ কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন এ যা হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভাল রাখতে সহায়তা করে।

২/ কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন এ যা হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভাল রাখতে সহায়তা করে।
৩/ কাঁচা মরিচ ছেলেদের প্রোস্টেট ক্যান্সার ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়াও, নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যা কমে।

৪/ কাঁচা মরিচ ছেলেদের প্রোস্টেট ক্যান্সার ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়াও, নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যা কমে।

৫/ কাঁচা মরিচ দ্রুত খাবার হজম করতে সাহায্য করে।
৬/ কাঁচা মরিচ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরকে জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে।
৭/ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তত একটি করে কাঁচা মরিচ রাখলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না।

৮/ প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ খেলে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কমে যায়।


৯/ কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।


১০/ কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন আছে যা কার্ডিওভাস্ক্যুলার সিস্টেমকে কর্মক্ষম রাখে।


কাঁচা মরিচে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।


কাঁচা মরিচ খেলে আমাদের মস্তিষ্কে এনড্রোফিন নামে এক রকম হরমনের নিঃসরণ ঘটে যা আমাদের মনকে চনমনে আর সতেজ রাখে।



জেনে নিন পানের উপকারিতা

জানেন কী পান খেলে কামশক্তি বাড়ে? জানা না থাকলেও কিন্তু অজান্তেই আমরা এর ব্যবহার দেখে এসেছি। কী রকম? আগে বাড়ির বউরা রাতের খাবার খাওয়ার পরে স্বামীকে পান সাজিয়ে দিতেন। এই ভাবেই কী নিজেদের যৌন জীবনকে সুস্থ রাখাতেন তখনকার দিনের মানুষ? যাইহোক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে কামশক্তিতে পানের ভূমিকা অপরিসীম।
পান ছাড়া কোনাে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয় না। বিয়ের সময়ও পান লাগে। পুজোতেও কাজে লাগে এই 'ভালোবাসার' পাতাটি। সব থেকে বড় ব্যাপার সুস্বাদু কোনও খাবার খাওয়ার শেষে পান না খেলে যেন মুখটা ষোলোকলা তৃপ্তই হয় না। আর দুপুরবেলায় ঠাকুমা-পিসিরা পান চিবিয়ে ঠোঁট লাল করে জমিয়ে গল্পের আসর বসাতেন।
কিভাবে কাজ করে এই পান?
পানের মধ্যে সুপারি, লবঙ্গ, গুলকান্দ, চুন লাগিয়ে খেয়ে থাকি। এই মশলা মিশ্রিত পান হজম শক্তি বাড়ায় শুধু তা নয়, এটি কাম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। মুখ সুগন্ধী হিসেবেও কাজ করে।

ঘাড়ব্যথা কেন হচ্ছে, কী পরীক্ষা করে বুঝবেন?

জীবনের কোনো না কোনো সময় ঘাড় ব্যথায় ভোগেননি, এ রকম মানুষ হয়তো পাওয়া মুশকিল। এই ব্যথা কখনো কখনো জটিল কারণের জন্য হয়। তবে ঘাড়ব্যথা কোন কারণে হচ্ছে সেটি বোঝার জন্য কী পরীক্ষা করা হয়?

এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৪৪৪তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. নুরুজ্জামান খান। বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিউরোসার্জারি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : চিকিৎসকের কাছে গেলে আপনারা কী করে থাকেন?

উত্তর : যখন রোগী আমাদের কাছে আসে, আমরা রোগীর ইতিহাস নিই। তার শারীরিক পরীক্ষা করি। আমরা নির্ণয় করার চেষ্টা করি, তার সমস্যাটা কোথায়। ঘাড়ের কোথায় সমস্যা হয়েছে? অনেক সময় দেখা যায় এক পাশে ব্যথা হয়েছে, আবার অনেক সময় দেখা যায় দুই পাশেই ব্যথা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, তার হাতের থেকে পায়ের সমস্যাটা বেশি। হাতেরটা এড়িয়ে যাচ্ছে বা বলছে না। তবে আমরা যখন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করি, দেখা যায় হাতেও তার সমস্যা রয়েছে। আমরা বুঝতে পারি তার ঘাড়ে সমস্যা। তখন আমরা অবশ্যই সেই সম্পর্কিত পরীক্ষা- নিরীক্ষা করি। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিতভাবে আমরা একটি এক্স-রে দেই। এটি করলেই আমরা অনেক কিছু বুঝতে পারি। এরপর কিছু রক্তের পরীক্ষাও দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে জরুরি যে পরীক্ষাটা আমাদের লাগে, সেটি হলো, এমআরআই পরীক্ষা। এর মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু বের করতে পারি। যদি মেরুদণ্ডের ডিস্ক প্রোলাপস হয়ে থাকে, এর এমআরআই খুব সুন্দর বোঝা যায়। যদি তার স্নায়ুরজ্জু বা স্পাইনাল কর্ডে চাপ থাকে, তাহলে আমরা বুঝতে পারি। পাশাপাশি যে স্নায়ুটা বের হয়ে হাতের দিকে যায়, সেটাতেও যদি চাপ খেয়ে থাকে, এটাতেও আমরা বুঝতে পারি।

অনেক সময় আমরা এমসিএস বা ইএমজি জাতীয় পরীক্ষা দেই। কারণ আপনি জানেন, ঘাড়ের এই সমস্যাগুলো সঙ্গে কিছু মেডিকেল সম্পর্কিত সমস্যাও রয়েছে। যেমন ধরুন, ট্রান্সভার্ট মায়ালাইটিস হতে পারে। একটি ভাইরাল ইনফেকশন হওয়ার পর দেখা গেল তার হাত পায়ে চলে গেছে। এটাতে কোনো সার্জারির প্রয়োজন নেই। আবার অনেক সময় গুলেনবেরি সিনড্রম বা এ ধরনের কিছু সমস্যা দেখা দেয়। মটো নিউরন ডিজিজ নামে কিছু অসুখ রয়েছে, এগুলোতে সার্জারির কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু কঠিন একটি অসুখ মানুষের হয়, যেখানে চার হাত-পা দুর্বল হয়ে যায়। প্যারালাইসিস হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আমাদের চিকিৎসার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা লাগে। এই ক্ষেত্রে ইএমজি বা এসইএস করলে আমরা অনেক কিছু নির্ণয় করতে পারি। অনেক সময় দেখা যায় সিটিস্ক্যান পর্যন্ত লাগে। যেমন ওপিএল এল হওয়া, ওখানে যে পর্দা রয়েছে, সেটি যদি ক্যালসিফাইড হয়ে যায়, হাড়ে রূপান্তর হয়ে যায়, এ ক্ষেত্রে এমআরআইতে বোঝা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের সিটিস্ক্যান করে বুঝতে হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা করতে হয়, এই সমস্যাগুলোকে নির্ণয় করার জন্য। এই সমস্যাটা পুরোপুরি বুঝেই আমরা চিকিৎসা পরিকল্পনা নিতে পারি।

চিকিৎসকের চেয়ে পারদর্শী কম্পিউটার!
সিটিস্ক্যানের ফলাফল দেখে ফুসফুসের ক্যানসার নির্ণয়ে চিকিৎসকের চেয়ে কম্পিউটার বেশি পারদর্শী। গুগল এবং বেশ কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রের গবেষকদের প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণাধীন। সর্বস্তরে প্রয়োগের উপযুক্ত নয়। তবে নেচার মেডিসিন জার্নালে সোমবার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে চিকিৎসাসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়।

মাইক্রোস্কোপের স্লাইড, এক্স-রে, এমআরআই এবং চিকিৎসাসেবার অন্যান্য রোগনির্ণয় পরীক্ষার ফলাফল দেখে প্যাটার্ন ধরতে পারা এবং ছবির অর্থ নির্ণয় করার মতো কৌশলগুলো আগে শুধু মানুষ ব্যবহার করত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পিউটারও সেসব কাজে দক্ষ হয়ে উঠছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে রোগনির্ণয়ের পরীক্ষাগুলোর তথ্য-উপাত্ত ‘কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক’ নামের এআই সিস্টেমে ইনপুট দিচ্ছেন গবেষকেরা। এতে নিউমোনিয়া, ক্যানসার, নাকি কবজির হাড়ে চির ধরেছে—প্যাটার্ন দেখেই এআই সিস্টেম তা বুঝে ফেলছে। এআই সিস্টেমটি অ্যালগোরিদম এবং নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজে নিজেই শিখতে পারে। এটি যত বেশি তথ্য পাবে, রোগনির্ণয়ে তত বেশি চৌকস হয়ে উঠবে।
গবেষণাপত্রটির এক লেখক এবং গুগলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড্যানিয়েল সি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বের বড় কম্পিউটারগুলোর কয়েকটি আছে। মজার কিছু নিয়ে কাজ করার জন্য সাধারণ বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাচ্ছি আমরা।’

যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার এবং বিশ্বব্যাপী ১৭ লাখ মানুষ মারা যায়। বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বেলায় সিটিস্ক্যান করা হয়। এই গবেষকদের গবেষণায় ফুসফুসের ক্যানসার নির্ণয়ে সিটিস্ক্যানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়। এ ধরনের সিটিস্ক্যানের ফলে ক্যানসার তো বটেই, এমন কিছু দাগ খুঁজে পেতে পারে, যা থেকে হয়তো ভবিষ্যতে ক্যানসার হতে পারে।

এই প্রযুক্তির খারাপ দিকও আছে। যেমন টিউমার না-ও ধরতে পারে, আবার একধরনের দাগকে অন্য কোনো রোগ বলে চিহ্নিত করতে পারে। তবে যেমনটা বলা হয়েছে, এটি যত বেশি তথ্য ইনপুট দেওয়া হবে, তত বেশি শিখতে পারবে এবং তত বেশি নিখুঁত ফল দেবে। ড্যানিয়েল সি বলেছেন, ‘গবেষণার পুরো প্রক্রিয়া অনেকটা স্কুলের শিক্ষার্থীর মতো। প্রশিক্ষণের জন্য আমরা অনেক বড় ডেটা সেট নিয়ে কাজ করছি। অনুশীলন ও কুইজের মাধ্যমে নিজে নিজেই শিখতে পারে কোনটি ক্যানসার এবং কোনটি ভবিষ্যতে ক্যানসার হতে পারে।’

রমজানে চার কাজের তাগিদ নবীজির (স)

রহমত, বরকত, নাজাতের মাস হলো রমজান। এ মাসের দিনগুলোয় খোলা থাকে মহান প্রভুর রহমতের দ্বার। বান্দা কায়মনোবাক্যে যা প্রার্থনা করেন, তা-ই কবুল করেন দয়াময় রব।

বান্দার অনুরাগ, ভালোবাসার বিনিময় দেন তিনি, ভূষিত করেন বিশেষ পুরস্কারে। সার্বিকভাবে ইহকাল ও পরকালÑ দোজাহানের মুক্তি লাভে বড় সোপান হতে পারে পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে আল্লাহতায়ালার অপার রহমত লাভের জন্য, তার ক্ষমা লাভের জন্য বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা রমজানে চারটি কাজ খুব বেশি করে করবে।

দুটি কাজের মাধ্যমে তোমাদের রবকে সন্তুষ্ট করতে পারবে। আর দুটি কাজ না করে তোমাদের রক্ষা নেই। যে দুটি কাজ দ্বারা তোমরা প্রভুকে সন্তুষ্ট করতে পারবে তা হলো, তোমরা আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিতে থাকবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে। আর যে দুটি কাজ না করে তোমাদের রক্ষা নেই তা হলো, তোমরা জান্নাত প্রার্থনা করবে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করবে।

(সহি ইবনে খুজাইমা)। অতএব আমরা বেশি বেশি কালেমায়ে শাহাদত পড়ব। আর পাঠ করব এস্তেগফার। হজরত জায়েদ (রা) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত ভাষায় আল্লাহতায়ালার দরবারে তওবা ও এস্তেগফার করে, তাকে অবশ্যই ক্ষমা করা হবে, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নের মতো গুরুতর গোনাহ করে থাকেন আস্তাগফিরুল্লা হাল্লাযি লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি। অর্থাৎ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।

যিনি চিরজীবী, বিশ্বের প্রতিষ্ঠাকারী। আমি তারই সমীপে তওবা করছি। আর বাকি দুটি কাজ, যা নবী কারিম (স) করতে বলেছেন জান্নাতের প্রার্থনা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা। এ ক্ষেত্রে আমরা পড়বÑ আল্লাহুম্মা আসআলুকাল জান্নাহ এবং আল্লাহুম্মা আউজু বিকা মিনান্নার। এ দোয়াগুলো খুব ছোট। কিন্তু খুবই ওজনদার, অর্থবহ। হৃদয় থেকে আমরা এ দোয়াগুলো হরহামেশা পড়ব। মানুষ গোনাহ করবে, ভুল করবেন এটাই স্বাভাবিক।

তবে পাপ হয়ে যাওয়ার পর কায়মনোবাক্যে তওবা করতে হবে, হাত তুলে খোদার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ তওবা ও মোনাজাত হচ্ছে মুমিনের প্রধান হাতিয়ার। এ পবিত্র মাসে মহান রবের দরবারে খাস দিলে দোয়া করতে হবে। আল্লাহ তো ক্ষমা করার জন্য তার দুয়ার খুলে রেখেছেন।

হাদিস শরিফে এসেছেÑ আল্লাহতায়ালা রমজানের প্রতিদিন ও প্রতিরাতে বহুসংখ্যক লোককে মুক্তিদান করেন এবং প্রত্যেক মুসলমানের একটি দোয়া প্রতিদিন কবুল হয়। রমজানে আমরা অধিক হারে এই দোয়াটি পড়বÑ রব্বিগফির, ওয়ারহাম, ওয়া আনতা খইরুর রহিমীনÑ হে আমার রব আমায় ক্ষমা করুন! আমায় দয়া করুন! আপনি তো দয়ার আধার, সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান। এ ছাড়া পড়তে পারি এই দোয়াটিওÑ আল্লাহুম্মা আই’ন্নি ফিহি আলা সিয়ামিহি ওয়া ক্বিয়ামিহ; ওয়া জান্নিব্নি ফিহি মিন হাফাওয়াতিহি ওয়া আছামিহ; ওয়ারজুক্বনি ফিহি জিকরকা বিদাওয়ামিহি; বিতাওফিক্বিকা ইয়া হাদিয়াল মুদাল্লিন। অর্থাৎ – হে আল্লাহ! এই দিনে আমাকে রোজা পালন ও নামাজ কায়েমে সাহায্য করুন। আমাকে অন্যায় কাজ ও সব গুনাহ থেকে হেফাজত করুন।

আর আমাকে তওফিক দিন সর্বদা আপনার স্মরণের। মুক্তিদান করুন গোমরাহি ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হওয়া থেকে, হে সঠিকপথ প্রদর্শনকারী! আল্লাহতায়ালা অবশ্যই বান্দার দোয়া কবুল করবেন। তবে এ জন্য বড় শর্ত হলো, রুজি হালাল হতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমদের তওফিক দান করুন। আমিন! রোজাসংক্রান্ত মাসআলা রোজা রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে কাজা ও কাফফারা দুটিই জরুরি হবে। বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা তথা যে কোনো ধরনের ধূমপান করলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা ও কাফফারা জরুরি হবে।

গরমে শিশুর যত্ন

গরম ও স্যাঁতসেঁতে এই আবহাওয়ায় সর্দি-জ্বর পিছু ছাড়ছে না। বড়দেরই এই অবস্থা, শিশুরা তো অসুস্থ হচ্ছে আরো বেশি। এই সময়ে শিশুদের ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ দেখা দেয় নানা অসুখ-বিসুখ। শিশুকে সুস্থ রাখতে মা-বাবাসহ পরিবারের সবাইকে হতে হবে সচেতন। নিতে হবে বাড়তি যত্ন।

সাধারণত বড়দের তুলনায় শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এ কারণে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় শিশুদের অসুখ-বিসুখের মাত্রা অনেকাংশেই বেড়ে যায়। শিশুর প্রধান সমস্যার একটি হচ্ছে রোদ-বৃষ্টি। এ সময়ে রোদ ও বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া কখনো গরম হয়ে ওঠে, আবার কখনো ঠান্ডা ভাব। তাই সতর্ক থাকতে হবে সব সময়। এখনকার হঠাৎ গরমে শরীরে যেন ঘাম বসে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে এর থেকে সর্দি, কাশি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

শিশুর মাথা ঘেমে গেলে চুল ভালো করে মুছে দিতে হবে। এরপর সুতি কাপড় ভিজিয়ে শরীর ভালো করে মুছে দিয়ে পোশাক পাল্টে দিতে হবে। সর্দি-কাশিতে যদি আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে লেবু, আদা চা, তুলসীপাতার রস ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন। সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে থাকলে তা পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাতে বৃষ্টি হলে শিশুর বুকে ঠান্ডা বসে যেতে পারে। এ জাতীয় সমস্যা দেখা দিলে রাতে ঘুমানোর সময় তার বুকের ওপর হালকা কোনো কাপড় রাখতে হবে। আবার ঘুমের ভেতর শিশু খুব বেশি ঘেমে যাচ্ছে কি না, সেদিকেও খেয়াল করতে হবে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে বা খেলতে গিয়ে শিশু কোনো কারণে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বাড়িতে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তার মাথা ও শরীর ভালো করে মুছিয়ে দিতে হবে।

এছাড়া মনে রাখতে হবে- বৃষ্টির পানিতে ভিজে শিশুর ত্বকে ফাংগাস, চুলকানি, খোসপাঁচড়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ সময় শিশুর পোশাক, বিছানা পরিষ্কার রাখতে হবে। শিশুর পোশাক, বিছানা যেন স্যাঁতসেঁতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে কাপড় কড়া রোদে দিতে হবে। প্রতিদিন পরার কাপড় বিশুদ্ধ পানিতে অ্যান্টিবায়োটিক তরল দিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। বাড়ির বাইরে জমে থাকা অপরিচ্ছন্ন পানিতে শিশু যেন না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাইরে থেকে এলে হাত-পা সাবানপানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিন।

শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত পানিতে শিশুকে গোসল করানো ভালো। ঠান্ডার ভাব থাকলে হালকা গরম পানিতে যেকোনো জীবাণুনাশক তরল মিশিয়ে শিশুকে গোসল করানো যেতে পারে। আর গোসলের পর মাথা এবং শরীর অবশ্যই ভালো করে মুছিয়ে দিতে হবে।

এই সময়ে শিশুদের মৌসুমি ফল, পানি, ঘরে তৈরি শরবত বেশি বেশি খেতে দিতে হবে। সঙ্গে ভিটামিন, খনিজ লবণ, প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে হবে। এগুলো শিশুকে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

যৌন রোগে অবহেলা নয়

পুরুষ বা নারী যাদেরই যৌন সমস্যা রয়েছে তাদের অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়াটা জরুরি।

সাধারণত যৌন রোগ আক্রন্ত পুরুষ যৌন মিলনের সময় তার যৌন সঙ্গীর দেহে এসব রোগ সংক্রমিত করে। এ কারণে এগুলিকে যৌন সংক্রমিত রোগ বলা হয়। বহু সংখ্যক যুবক এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে আমাদের দেশের মানুষ যৌন রোগে আক্রান্ত হলেও এ বিষয়টা সহজে কারো কাছে বলতে চান না এমনকি চিকিত্সকের কাছে পর্যন্ত অনেক বিষয় গোপন করেন। এটা করা আদৌ উচিত নয়।

যৌন রোগের লক্ষণ:

পুরুয়ের লিঙ্গ থেকে এক প্রকার নিঃসরণ দেখা যায় যা সাদা বা হলুদ (হালকা হলুদ) জাতীয় পদার্থ এবং প্রসাবের সময় সাধারণত ব্যথা হয়। সাথে আরো মনে রাখুন-

যৌন রোগী যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে সঙ্গীর দেহে রোগ সংক্রমিত করে। এই সব রোগ যাদের আছে অনেক সময় তারা তা জানে না অথবা এ রোগের প্রতি কোন নজর দেয়না।

একাধিক সঙ্গীর সাথে যৌন সঙ্গম করলে এ সব রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যৌনাঙ্গ যদি প্রতিদিন, বিশেষ করে প্রত্যেক সঙ্গমের পর পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে যোন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কনডমের সঠিক ব্যবহার অনেকক্ষেত্রে যৌনরোগ প্রতিরোধ করে।

যৌন রোগ প্রতিরোধ:

যৌন রোগ প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি দরকার সেটা হলো যৌবনের শুরুতেই তরুনদের এ বিষয়ে জ্ঞান লাভে সহায়তা করা। তরুন যুবকদের থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে নানা প্রকার যৌন রোগ হওয়ার কারণ এবং এ গুলির মারাত্মক পরিনতি সম্পর্কে। আরো যা যা করতে পারেন:-

যাদের অনেক যৌন সঙ্গী আছে তাদের সাথে সঙ্গম এড়িয়ে চলতে হবে। সব সময় সাবান ও পানি, বিশেষ করে যৌন সঙ্গমের পর যৌনাঙ্গ ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

রোগীর যৌন সঙ্গীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এই রোগ অন্যদের মধ্যে না ছড়ায়। প্রয়োজনে কনডম ব্যবহার করতে বলুন।

কেউ যদি মনে করে তার যৌন রোগ আছে তাহলে যথা শিঘ্র সম্ভব পরীক্ষা এবং চিকিৎসা করানো উচিত। শুরুতে যৌন রোগের চিকিৎসা করা সহজ, পরে চিকিৎসা করা কঠিন। যথাযথ ও তাড়াতাড়ি চিকিৎসা না হলে কি ঘটতে পারে।

সংক্রমনের চিকিৎসা যদি তাড়াতাড়ি না হয়, তাহলে তা যৌনাঙ্গের বাহির থেকে যৌনাঙ্গের ভিতর প্রবেশ করবে। নারীদের বেলায় এটা জরায়ু টিউব ও ডিম্ব কোষ এবং পুরুষের বেলায় অন্ডকোষ আক্রমন করবে। এটা প্রথম দিকে সাংঘাতিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে মহিলা বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে অথবা পুন: পুন: গর্ভ নষ্ট হতে পারে অথবা মৃত বাচ্চা প্রসব করতে পারে। পুরুষেরা সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। আক্রান্ত পুরুষ অথবা নারীর অন্যান্য যৌন সঙ্গীর মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়বে। গর্ভবতী নারীর যৌন রোগের চিকিৎসা না হলে, বাচ্চা যৌন রোগ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করতে পারে।

চিকিৎসা:

পুরুষ বা নারী যেই হোক না কেন যৌন রোগের কোনো প্রকার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা গ্রহণ করা উচিত। কারণ এ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে অনেক এলোপ্যাথই উচ্চ শক্তির এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। তার চেয়ে হোমিও ওষুধ অনেক ভালো এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন যা অঙ্করেই রোগের বীজটাকে একেবারে মূল থেকে বিনষ্ট করে দেয়। যার কারণে রোগী খুব অল্প সময়েই চির আরোগ্য লাভ করেন। তবে যাতে কেউ কোনো প্রকার যৌন রোগে আক্রান্ত না হয় সে দিকে বিশেষ নজর দেয়া উচিত। নিজেদের বন্ধু বান্ধব কেউ আক্রান্ত হলে তাত্ক্ষণিক ভাবেই কোনো প্রকার সংকোচ না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া উচিত।

রক্তনালীর ব্লক রোধ করে যে ৭ খাবার

রক্তনালী ব্লক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জীবন পরিচালনায় কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে এই রোগকে সহজেই প্রতিরোধ করা যেতে। সেজন্য নিচের সাতটি খাবার খেতে পারেন।

১. আপেল
এই ফলটিতে রয়েছে পেকটিন নামক কার্যকরী উপাদান যা দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কমায় ও রক্তনালীতে প্লাক জমার প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। গবেষণা বলছে প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খেলে রক্তনালীর শক্ত হওয়া এবং ব্লক হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমে যায়।

২. দারুচিনি

এই দারুচিনি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্ডিওভ্যস্কুলার সিস্টেমের সার্বিক উন্নতিতে কাজ করে থাকে। এছাড়াও গবেষণায় লক্ষ্যকরা গিয়েছে প্রতিদিন মাত্র ১ চামচ দারুচিনি গুঁড়ো খেলে দেহের কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্তনালীতে প্লাক জমে ব্লক হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

৩. কমলার রস

গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ২ কাপ বিশুদ্ধ কমলার রস পান করলে রক্ত চাপ স্বাভাবিক রাখে। কমলার রসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীর সার্বিক উন্নতিতে কাজ করে ফলে রক্তনালী ড্যামেজ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

৪. ব্রুকলি

এই ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে যা দেহের ক্যালসিয়ামকে হাড়ের উন্নতিতে কাজে লাগায় এবং ক্যালসিয়ামকে রক্তনালী নষ্ট করার হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। ব্রকলির ফাইবার উপাদান দেহের কোলেস্টেরল কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমিয়ে আনে।

৫. তিসীবীজ

যেহেতু তিসীবীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড যা উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তনালীর প্রদাহকে দূর করতে সহায়তা করে এবং সেই সঙ্গে রক্তনালীর সুস্থতা নিশ্চিত করে।

৬. গ্রিন টি

সবুজ চা বা গ্রিন টি-তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যাচেটিন যা দেহে কোলেস্টেরল শোষণ কমায় এবং হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। প্রতিদিনের চা কফির বদলে গ্রিন টি পান করলে দেহের সুস্থতা নিশ্চিত হয়।

৭. তৈলাক্ত মাছ

সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ ও নীরোগ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

মশা তাড়ানোর কৌশল জেনে নিন

মশা বহন করে নানা ধরনে সংক্রামক রোগজীবাণু। যা অনেক সময় মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। মশার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, পীত জ্বর, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক মশা তাড়ানোর সহজ কৌশল-

* নিমের তেল ও পুদিনার ব্যবহার:
নিমের মশা তাড়ানোর বিশেষ একটি গুণ রয়েছে। নিমের তেল ত্বকের জন্যও বেশ ভালো। তাই একসাথে দুটি উপকার পেতে ব্যবহার করতে পারেন নিমের তেল। সমপরিমাণ নিমের তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। দেখবেন মশা আপনার ধারে কাছে ভিড়বে না এবং সেই সাথে ত্বকের অ্যালার্জি, ইনফেকশন জনিত নানা সমস্যাও দূর হবে। আর একটি ছোট গ্লাসে একটু পানি নিয়ে তাতে ৫ থেকে ৬ গাছি পুদিনা রেখে দিন খাবার টেবিলে। ৩ দিন অন্তর পানি বদলে দেবেন। দেখবেন ঘরের সব মশা পালিয়েছে।

* ফ্যান চালু রাখুন:
মশারা খুবই হালকা। অন্যদিকে একটি ফ্যানের স্পীড ঘন্টায় প্রায় দুই মাইল। মশাদের উড়বার গতিবেগের চাইতে ফ্যানের ঘুরবার গতি অনেক বেশি হওয়াতে সহজেই মশাদের ব্লেডের কাছে টেনে নেয়। আপনার বসার স্থান কিংবা ডেক বা যেসব স্থান থেকে মশারা খুব সহজে আপনার গৃহে প্রবেশ করতে পারে, এমনসব স্থানে মশাদের আগমন সময়ে আপনার টেবিল ফ্যান বা পেডাল ফ্যানটি চালু রাখুন। মশাদের হাত থেকেও যেমন নিস্কৃতি পাবেন তেমনি গরমেও পাবেন আরাম।

* লেবু ও লবঙ্গের ব্যবহার:
লেবু খণ্ড করে কেটে ভেতরের অংশে অনেকগুলো লবঙ্গ গেঁথে দিন। লেবুর মধ্যে লবঙ্গের পুরোটা ঢুকাবেন শুধুমাত্র লবঙ্গের মাথার দিকের অংশ বাইরে থাকবে। এরপর লেবুর টুকরাগুলো একটি প্লেটে করে ঘরের কোণায় রেখে দিন। ব্যস, এতে বেশ কয়েকদিন মশার উপদ্রব থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে ঘরের মশা একেবারেই দূর হয়ে যাবে। আপনি চাইলে লেবুতে লবঙ্গ গেঁথে জানালার গ্রিলেও রাখতে পারেন। এতে করে মশা ঘরেই ঢুকবে না।

* ধুনোর সঙ্গে নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়ো:
প্রতিদিন নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়ো ধুনোর সঙ্গে ব্যবহার করলে মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ঘরের মধ্যে মশার উৎপাত কমাতে চাইলে, ঘরের বৈদ্যুতিক আলোটি হলুদ সেলোফেনে জড়িয়ে দিন। ফলে হলুদ আলো হবে। দেখবেন মশা কমে গেছে, কারণ মশা হলুদ আলো থেকে দূরে থাকতে চায়।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয়

প্রচণ্ড গরমে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। শরীরে পানি ও লবণের পরিমাণ কমে গেলে হিট স্ট্রোক হয়। এ সময় পাকস্থলী দুর্বল হয়ে পড়ে, বমি হয়। মাথা ব্যথা ও জ্বরও থাকতে পারে।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
মাথা ব্যথা
চোখে ঝাপসা দেখা
মাংসপেশির ব্যথা ও দুর্বলতা
শ্বাস- প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া
ত্বক লালচে হয়ে ওঠা
গরম লাগলেও ঘাম কম হওয়া
বমি হওয়া
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
হাঁটতে কষ্ট হওয়া

হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

পর্যাপ্ত পানি পান করার বিকল্প নেই। প্রতিদিন দুই লিটারের মতো লিকুইড পান করা জরুরি। পানি, ফলের জুস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত পান করুন পর্যাপ্ত। নাহলে ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়ে শরীরের ইলেকট্রোলাইট কমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে।
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিনযুক্ত খাবার খুব বেশি খাবেন না। তাজা ফল, শাকসবজি রাখুন খাদ্য তালিকায়।
লাল পেঁয়াজে কোয়েরসেটিন নামের একটি কেমিক্যাল থাকে। এটি অ্যান্টি হিস্টামিন হিসেবে পরিচিত। এই কেমিক্যাল আমাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে ও হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে।
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাবেন না। মরিচ, আদা, দারুচিনিসহ বেশ কিছু মসলা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এই গরমে আপনার জন্য আদর্শ পানীয় হতে পারে কাঁচা আমের শরবত। প্রচুর ঘামের কারণে শরীর থেকে নির্গত সোডিয়াম ক্লোরাইড ও আয়রন ঘাটতি দূর করবে এটি।

রক্তের ক্যানসার কেন হয়

১. ব্লাড ক্যানসার ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়
২. ব্লাড ক্যানসার ছোট–বড় যে কারও হতে পারে

ব্লাড ক্যানসার বা রক্তের ক্যানসার নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত। সময়ের সঙ্গে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি পাল্টেছে, অনেক উন্নতিও লাভ করেছে।

মূলত লিউকেমিয়াকে আমরা ব্লাড ক্যানসার বলে থাকি। এটি হলো রক্তকোষের ক্যানসার, বিশেষত শ্বেত রক্তকণিকার ক্যানসার। রক্তকোষ তৈরি হয় বোনম্যারো বা অস্থিমজ্জায়, তারপর ধাপে ধাপে পরিপক্ব বা পরিণত হয়ে অবশেষে এটি রক্তে আসে। যদি কোনো কারণে অতিমাত্রায় ও অস্বাভাবিকভাবে এই রক্তকোষ তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো পরিপক্ব হতে পারে না। এতে প্রচুর অপরিপক্ব ও অস্বাভাবিক রক্তকোষ রক্তপ্রবাহে চলে আসে। মূলত শ্বেত রক্তকণিকাই বেশি আক্রান্ত হয়। কিন্তু ক্রমে অস্থিমজ্জা পুরোপুরি আক্রান্ত হওয়ার কারণে রক্তের অন্যান্য কোষের অভাবও দেখা দেয়।

কেন হয়?
ব্লাড ক্যানসার কেন হয় তার সঠিক কারণটি এখনো অস্পষ্ট। নানা ধরনের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব, রাসায়নিক বর্জ্য, ধূমপান, কৃত্রিম রং, কীটনাশক, ভাইরাস ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়। এগুলোর প্রভাবে জিনে মিউটেশন ঘটে যায় ও কোষ বিভাজনে অস্বাভাবিক উল্টাপাল্টা সংকেত প্রবাহিত হয়। তখন কোষ বিভাজনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, অপরিণত অস্বাভাবিক কোষ রক্তপ্রবাহে চলে আসে। ব্লাড ক্যানসার ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়। ব্লাড ক্যানসার ছোট–বড় যে কারও হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন?
দীর্ঘদিনের জ্বর, রক্তশূন্যতা, ত্বকে লাল র‌্যাশ, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, হাড়ে ব্যথা, বারবার সংক্রমণ ইত্যাদি সব উপসর্গ নিয়ে প্রকাশ পেতে পারে ব্লাড ক্যানসার। অনেক সময় কেবল রুটিন পরীক্ষা করতে গিয়েই ধরা পড়ে। রক্তের কাউন্ট ও পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্মই বেশির ভাগ সময় রোগ ধরিয়ে দেয়। তবে বোনম্যারো পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়। ফ্লো সাইটোমেট্রি, ইমিউনোফেনোটাইপিং ইত্যাদি আধুনিক পরীক্ষা এখন সরকারি হাসপাতালগুলোতেই হচ্ছে। সাইটোজেনেটিকস করলে রোগের কেমোথেরাপির ধরন সম্পর্কে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, রোগ সারাইয়ের সম্ভাবনা আঁচ করা যায়।

লিউকেমিয়া চিকিৎসায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। শিশুদের একিউট লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় নিরাময়ের হার উন্নত বিশ্বে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ও আধুনিক কেমোথেরাপি রোগীদের সেরে ওঠার আশার আলো দেখাচ্ছে।

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচায় টমেটো

টমেটো রান্না করে বা কাঁচাও খাওয়া যায়। সালাডেও টমেটো ব্যবহার জনপ্রিয়। আমাদের প্রতিদিনের রান্নায় প্রায় সব কিছুর সঙ্গেই সবজি হিসেবে টমেটোর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। টমেটোতো রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল। এবার টমেটোর কয়েকটি গুণাগুণ জেনে নিই, চলুন-

১. টমেটোর রস ত্বকের জন্য খুব উপকারী। ত্বকের কালচে ছোপ দূর করতে টমেটোর রস অত্যন্ত কার্যকর। সেই সঙ্গে ব্রণ-ফুসকুড়ি নিরাময় করতেও সাহায্য করে টমেটো।

২. টমেটো খেলে হাড় মজবুত হয়। টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে ও ক্যালশিয়াম। মজবুত, সুস্থ হাড়ের জন্য এই দু’টি উপাদান জরুরি।

৩. ক্যানসার প্রতিরোধে টমেটো অত্যন্ত কার্যকর। টমেটোয় থাকা লাইকোপেন উপাদানটি শরীরে ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি রুখতে সাহায্য করে। বিশেষত পাকস্থলি ও প্রোস্টেট ক্যানসার ঠেকাতে টমেটো কার্যকর।

৪. অনেকেই ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে চান, অথচ বার বার ব্যর্থ হন। টমেটোয় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোমেরিক অ্যাসিড এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড। ধূমপানের ফলে শরীরে যে ক্ষতি হয়, তা ঠেকাতে সাহায্য করে টমেটো। প্যাসিভ স্মোকিং-এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও রক্ষা করে টমেটো।

ক্যাবল ছাড়াই দেখা যাবে টিভি চ্যানেল, কাল উদ্বোধন

ক্যাবল ছাড়াই দেখা যাবে টিভি চ্যানেল। ‘আকাশ ডিটিএইচ’ নামে নতুন এই সেবা চালু করতে যাচ্ছে বেক্সিমকো। আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে এই সেবার উদ্বোধন করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান শায়ান এফ রহমান।
কেবল সংযোগ ছাড়াই স্যাটেলাইট টিভি দেখার উন্নত প্রযুক্তি হচ্ছে ডাইরেক্ট টু হোম বা ডিটিএইচ। এ প্রযুক্তিতে গ্রাহক সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে অনুষ্ঠান নিজের টিভিতে ডাউনলিংক করতে পারেন।
বেক্সিমকোর আকাশ ডিটিএইচ-এর হেড অব টেকনোলজি আনোয়ারুল আজিম আরটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সেবা আনতে যাচ্ছে বেক্সিমকো। এতে একশোরও বেশি চ্যানেল দেখতে পারবেন গ্রাহকরা। এটি বাংলাদেশের গর্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা দেশে রিয়েলভিউর মাধ্যমে সর্বপ্রথম ডিটিএইচ সুবিধা চালু করেছিলাম। সেটা ছিল একটা পরীক্ষামূলক সেবা। তখনকার চেয়ে আমাদের বর্তমান সেবা আকাশ ডিটিএইচের মান উন্নত। তাই রিয়েলভিউ ডিটিএইচ-এর সংযোগ মূল্য এবং প্যাকেজের চেয়ে আকাশ ডিটিএইচের দাম কিছুটা বাড়বে। তবে গ্রাহকরা আগের চেয়ে ভালো মানের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
২০১৬ সালে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে রিয়েলভিউ চালু করা হয়। কিন্তু নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পরে সেটি আপাতত স্থগিত করা হয়। বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশে বৈধ কোনও ডিটিএইচ সেবা নেই।
প্রাথমিকভাবে আকাশ ডিটিএইচ সেবার জন্য ৩৯৯ টাকা চার্জ ধরা হয়েছে।

তিন উপায়ে পরিশুদ্ধ অন্তর লাভ করুন

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ . إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ . وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ
“যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না; শুধু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।” (সূরা আস-শুআরা, আয়াত: ৮৮-৯০)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا . وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
“যে নিজ অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে তা কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।” – সূরা আশ-শামস:৯-১০

অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা বা আত্মশুদ্ধি করা বলতে মূলত নিজেকে সকল প্রকার ক্ষতিকর চিন্তা থেকে দূরে রাখা এবং জীবনের সকল কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির কথা বিবেচনা করাকে বোঝানো হয়।

এটা জান্নাতের প্রতি আগ্রহী প্রতিটি মানুষের জন্য আবশ্যকীয়। তাই এ নিবন্ধে অন্তর পরিশুদ্ধ করতে সহায়ক তিনটি উপায় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

১. বেশি বেশি তওবা করুন

প্রথমে আপনার জীবনে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পাপাচার বা পাপচিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সচেষ্ট হোন। নিজের পাপগুলোর একটি তালিকা করুন এবং ধাপে ধাপে তা ছেড়ে দিতে পূর্ণ চেষ্টা ও পরিকল্পনা বিনিয়োগ করুন। বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করুন এবং আপনার পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। পরবর্তীতে ঐ পাপ আর না করার জন্য দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ হন।

২. নেককাজের রুটিন তৈরি করুন

আমাদের শরীরের মতই আমাদের মনের খোরাক ও প্রশিক্ষনের প্রয়োজন আছে। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন,

“তোমার সময়কে কোন ব্যস্ততা ছাড়া রেখো না..., সময়ের প্রতিটি মূহুর্তকে নির্দিষ্ট কাজ দাও, কখনোই তাকে অবহেলা করো না বা অন্যকাজ দ্বারা পরিবর্তন করো না। সময়ের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সত্যিকার কল্যাণময় ফলাফল স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”

সুতরাং, যখনই সময় পান না কেন, নিয়মিত নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির বা মানব কল্যাণের জন্য যেকোন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন।

৩. ডায়েট কন্ট্রোল করুন

শুধু খাবারকে কেন্দ্র করেই চিন্তা করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। অধিক আহার থেকে বিরত থাকুন। কেননা এরমাধ্যমে হৃদয় কঠিন হয়ে পড়ে, দূরদৃষ্টি, চিন্তার সক্ষমতা হ্রাস পায় এবং কাজে অলসতা আসে। পরিমিতভাবে আহার করুন এবং আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করুন।

অন্তরকে পরিশুদ্ধকরণে রাসূল (সা.) এর হাদীসটি সর্বদা স্মরণে রাখুন,
أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
“শুনে রাখো! প্রত্যেকের শরীরে একখন্ড মাংসপিন্ড রয়েছে, যা পরিশুদ্ধ হলে পুরো শরীর ভালো থাকে, আর তা পঁচে গেলে পুরো শরীর পঁচে যায়। জেনে নাও, তা হলো হৃদয়।” – বুখারী, হাদিস নং: ৫২; মুসলিম, হাদিস নং: ১৫৯৯


স্মৃতি শক্তি বাড়াতে এই ৯টি কাজ করুন

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাদের কোন কিছু মনে থাকে না। আবার এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা কোন কিছু খুব বেশি দিন মনে রাখতে পারেন না। এমন সমস্যা মূলত দূর্বল স্মৃতিশক্তির কারণে হয়ে থাকে। সেগুলো হলো-

১. ইখলাস বা আন্তরিকতা: যে কোনো কাজে সফলতা অর্জনের ভিত্তি হচ্ছে ইখলাস বা আন্তরিকতা। আর ইখলাসের মূল উপাদান হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। নিয়তের বিশুদ্ধতার গুরুত্ব সম্পর্কে উস্তাদ খুররাম মুরাদ বলেন, “উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলো যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেওয়া শুরু করে তখন আসল পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে যায় আমাদের কাছে।

একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভালো হবে।” এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।” [সূরা আল-বায়্যিনাহঃ ৫] তাই আমাদের নিয়ত হতে হবে এমন যে, আল্লাহ আমাদের স্মৃতিশক্তি যেনো একমাত্র ইসলামের কল্যাণের জন্যই বাড়িয়ে দেন।

২. দু’আ ও যিকর করা: আমরা সকলেই জানি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে দু’আ করা যাতে তিনি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন এবং কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। এক্ষেত্রে আমরা নিন্মোক্ত দু’আটি পাঠ করতে পারি, “হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।” [সূরা ত্বা-হাঃ ১১৪] তাছাড়া যিকর বা আল্লাহর স্মরণও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “…যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন…” [সূরা আল-কাহ্‌ফঃ ২৪] তাই আমাদের উচিত যিকর, তাসবীহ (সুবহান আল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) – এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করা।

৩. পাপ থেকে দূরে থাকা: প্রতিনিয়ত পাপ করে যাওয়ার একটি প্রভাব হচ্ছে দুর্বল স্মৃতিশক্তি। পাপের অন্ধকার ও জ্ঞানের আলো কখনো একসাথে থাকতে পারে না। ইমাম আশ-শাফি’ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “আমি (আমার শাইখ) ওয়াকীকে আমার খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলাম এবং তিনি শিখিয়েছিলেন আমি যেন পাপকাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। তিনি বলেন, আল্লাহর জ্ঞান হলো একটি আলো এবং আল্লাহর আলো কোন পাপচারীকে দান করা হয় না।”

আল-খাতীব আল-জামী’(২/৩৮৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেনঃ “এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘হে আবদ-আল্লাহ, আমার স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে দিতে পারে এমন কোন কিছু কি আছে? তিনি বলেন, যদি কোন কিছু স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে পারে তা হলো পাপ করা ছেড়ে দেয়া।’” যখন কোনো মানুষ পাপ করে এটা তাকে উদ্বেগ ও দুঃখের দিকে ধাবিত করে। সে তার কৃতকর্মের ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে তার অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যায় এবং জ্ঞান অর্জনের মতো কল্যাণকর ‘আমল থেকে সে দূরে সরে পড়ে। তাই আমাদের উচিত পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

৪. বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করা: একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখবো যে, আমাদের সকলের মুখস্থ করার পদ্ধতি এক নয়। কারো শুয়ে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কারো আবার হেঁটে হেঁটে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়। কেউ নীরবে পড়তে ভালোবাসে, কেউবা আবার আওয়াজ করে পড়ে। কারো ক্ষেত্রে ভোরে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কেউবা আবার গভীর রাতে ভালো মুখস্থ করতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ উপযুক্ত সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ঠিক করে তার যথাযথ ব্যবহার করা।

আর কুর’আন মুখস্থ করার সময় একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কুর’আনের আরবি কপি) ব্যবহার করা। কারণ বিভিন্ন ধরনের মুসহাফে পৃষ্ঠা ও আয়াতের বিন্যাস বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে তার একটি ছাপ পড়ে যায় এবং মুখস্থকৃত অংশটি অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

৫. মুখস্থকৃত বিষয়ের উপর ‘আমল করা: আমরা সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো একটি বিষয় যতো বেশিবার পড়া হয় তা আমাদের মস্তিষ্কে ততো দৃঢ়ভাবে জমা হয়। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে অতো বেশি পড়ার সময় হয়তো অনেকেরই নেই। তবে চাইলেই কিন্তু আমরা এক ঢিলে দু’পাখি মারতে পারি। আমরা আমাদের মুখস্থকৃত সূরা কিংবা সূরার অংশ বিশেষ সুন্নাহ ও নফল সালাতে তিলাওয়াত করতে পারি এবং দু’আসমূহ পাঠ করতে পারি সালাতের পর কিংবা অন্য যেকোনো সময়।

এতে একদিকে ‘আমল করা হবে আর অন্যদিকে হবে মুখস্থকৃত বিষয়টির ঝালাইয়ের কাজ। আবার কোনো কিছু শেখার একটি উত্তম উপায় হলো তা অন্যকে শেখানো। আর এজন্য আমাদেরকে একই বিষয় বারবার ও বিভিন্ন উৎস থেকে পড়তে হয়। এতে করে ঐ বিষয়টি আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।

৬. মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাদ্য গ্রহণ: পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ আমাদের মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য একান্ত আবশ্যক। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ আমাদের ঘুম বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের অলস করে তোলে। ফলে আমরা জ্ঞানার্জন থেকে বিমুখ হয়ে পড়ি। তাছাড়া কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। সম্প্রতি ফ্রান্সের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যয়তুনের তেল চাক্ষুস স্মৃতি (visual memory) ও বাচনিক সাবলীলতা (verbal fluency) বৃদ্ধি করে। আর যেসব খাদ্যে অধিক পরিমাণে Omega-3 ফ্যাট রয়েছে সেসব খাদ্য স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপের জন্য খুবই উপকারী। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য অনেক ‘আলিম কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য গ্রহণের কথা বলেছেন। ইমাম আয-যুহরি বলেন, “তোমাদের মধু পান করা উচিত কারণ এটি স্মৃতির জন্য উপকারী।”

মধুতে রয়েছে মুক্ত চিনিকোষ যা আমাদের মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া মধু পান করার সাত মিনিটের মধ্যেই রক্তে মিশে গিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। ইমাম আয-যুহরি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি হাদীস মুখস্থ করতে চায় তার উচিত কিসমিস খাওয়া।”

৭. পরিমিত পরিমাণে বিশ্রাম নেয়া: আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ব্যস্ত অফিসের মতো কাজ করে। এটি তখন সারাদিনের সংগৃহীত তথ্যসমূহ প্রক্রিয়াজাত করে। তাছাড়া ঘুম মস্তিষ্ক কোষের পুণর্গঠন ও ক্লান্তি দূর করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে দুপুরে সামান্য ভাতঘুম আমাদের মন-মেজাজ ও অনুভূতিকে চাঙা রাখে। এটি একটি সুন্নাহও বটে। আর অতিরিক্ত ঘুমের কুফল সম্পর্কে তো আগেই বলা হয়েছে। তাই আমাদের উচিত রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাওয়াহ বিতরণ না করে নিজের মস্তিষ্ককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া।

৮. জীবনের অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারসমূহ ত্যাগ করা: বর্তমানে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া ও জ্ঞান অর্জনে অনীহার একটি অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেদেরকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখি।’[

ফলে কোনো কাজই আমরা গভীর মনোযোগের সাথে করতে পারি না। মাঝে মাঝে আমাদের কারো কারো অবস্থা তো এমন হয় যে, সালাতের কিছু অংশ আদায় করার পর মনে করতে পারি না ঠিক কতোটুকু সালাত আমরা আদায় করেছি। আর এমনটি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে নিজেদেরকে আড্ডাবাজি, গান-বাজনা শোনা, মুভি দেখা, ফেইসবুকিং ইত্যাদি নানা অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখা। তাই আমাদের উচিত এগুলো থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা।

৯. হাল না ছাড়া: যে কোনো কাজে সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হাল না ছাড়া। যে কোনো কিছু মুখস্থ করার ক্ষেত্রে শুরুটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্ক সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেয়। তাই আমাদের উচিত শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে হাল না ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।-সূত্র: অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

পায়ের ওপর পা তুলে বসলেই বিপদ!
: পায়ের ওপর পা তুলে বসা বা দুই পা আড়াআড়ি করে বসার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এভাবে বসা যতটা না আরামদায়ক ঠিক ততটাই বিপজ্জনক। কী হয় পায়ের ওপর পা তুলে বসলে তা উঠে এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।

দীর্ঘ সময় পায়ের ওপর পা তুলে বসলে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধতে পারে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে,পা তুলে বসলে শরীরে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুকোষ মারাত্মক অসুখ হয়। এমনকি হাড়ের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, টানা কয়েক ঘণ্টা পায়ের ওপর পা তুলে বসলে শরীরের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। যা স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি করে। এমনকি যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নেই তাদেরও পরবর্তী সময়ে এ সমস্যা দেখা দেয়।

পায়ের ওপর পা তুলে বসলে শরীরের ভারসাম্যে সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে বসলে উরুর ভেতরের দিকের পেশি ক্রমশ ছোট হয়ে আসে এবং বাইরের দিকের পেশি লম্বা হতে থাকে। ফলে পায়ের সংযোগস্থলে (জয়েন্টে) অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে,দীর্ঘ সময় পায়ের ওপর পা তুলে বসলে স্বাভাবিক রক্তচলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। পায়ের ওপর পা তুলে দীর্ঘ ক্ষণ বসলে পায়ের স্নায়ুকোষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় পায়ের ওপর পা তুলে বসলে কোমর,ঘাড় ও হাড়ে ব্যথা শুরু হয়, যা থেকে ধীরে ধীরে কুঁজো হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কোমর ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ পায়ের ওপর পা তুলে বসা।

তাই সুস্থ-সবল শরীরে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পায়ের ওপর পা তুলে বসার অভ্যাস এখনই বদলানো উচিত।

লম্বা দাড়ি প্রতিরোধ করে স্কিন ক্যান্সার: গবেষণা

পুরুষদের মুখের দাড়ি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। আর এই দাড়ি পুরুষদের স্মার্ট করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, লম্বা দাড়ি পুরুষদের স্বাস্থ্যবান রাখতেও সাহায্য করে। খবর দিয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট।

ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের প্রফেসরের করা এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মুখের দাড়ি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যারা দাড়ি রাখে তাদের মুখমণ্ডল সুরক্ষিত থাকে। দাড়ি তাদের ত্বক সজীব থাকে এবং ত্বকের ভাঁজ হওয়া থেকেও রক্ষা করে।

এ বিষয়ে গবেষণার প্রধান লেখক পারিসি বলেন, দাড়ি যদিও সানস্ক্রিনের মতো মুখের ত্বককে সুরক্ষা দেয় না কিন্ত এটি সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে সাহায্য করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাড়িওয়ালা ব্যক্তিদের স্কিন ক্যান্সারের মত রোগ হওয়া থেকেও অনেকটা রক্ষা করে।

বিষয়টি নিয়ে ড. অ্যাডাম ফ্রেডম্যান ব্যাখ্যা করেছেন, মুখমণ্ডল ভারি দাড়িতে ঢাকা থাকলে তা বয়সের ছাপ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে ত্বকে বয়সের ছাপ কম পড়ে।

উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডের হার্সল্যান্ডেন নামক একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গবেষণার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, মানুষের দাড়িতে কুকুরের পশমের থেকে বেশি জীবাণু থাকে। এরপর প্রতিবাদ করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি গত শুক্রবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নকল দাড়িসহ একটি ক্লোজ শট সেলফি পোস্ট করেন।

মানবদেহের কিছু অবাক করা তথ্য

মানুষ স্রস্টার এক অনবদ্য সৃষ্টি। নানা রহস্য লুকিয়ে আছে এই মানবদেহে। আছে অনেক অবাক হবার মতো ব্যাপার। আছে অনেক মজার তথ্যও। চলুন জেনে নিই এমনি কিছু তথ্য।

১. একজন মানুষের রক্তের পরিমাণ তার মোট ওজনের ১৩ ভাগের এক ভাগ।
২. দেহে অক্সিজেন সরবরাহকারী লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ ২৫০০ কোটি এবং এরা ৪ মাস বাঁচে।
৩. রোগ প্রতিরোধকারী শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২৫০ কোটি এবং এরা মাত্র ১২ ঘন্টা বাঁচে।
৪. দেহের সব শিরাকে পাশাপাশি সাজালে দেড় একর জমির প্রয়োজন হবে।
৫. একজন মানুষের স্নায়ুতন্ত্র এত লম্বা যে তা দিয়ে পৃথিবীকে ৭ বার পেঁচানো যাবে।
৬. কোন অনুভূতি স্নায়ুতন্ত্রের মধ্য দিয়ে ঘন্টায় ২০০ মাইল বেগে প্রবাহিত হয়।
৭. দেহে ও মনে অনুভূতি আসলে তা মস্তিষ্কে পৌঁছতে ০.১ সেকেন্ড সময় লাগে।
৮. একজন শিশুর জন্মের সময় হাড় থাকে ৩৫০ টি।
৯. একজন মানুষ সারা জীবনে ৪০ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করে।
১০. একজন মানুষের শরীরে চামড়ার পরিমাণ হচ্ছে ২০ বর্গফুট।
১১. একজন মানুষের চামড়ার ওপর রয়েছে ১ কোটি লোমকূপ।
১২. মানুষের শরীরে যে পরিমাণ চর্বি আছে তা দিয়ে ৭ টি বড় জাতের কেক তৈরি সম্ভব।
১৩. মানুষের শরীরে ৬৫০ টি পেশী আছে। কোন কোন কাজে ২০০ টি পেশী সক্রিয় হয়। মুখমন্ডলে ৩০ টির বেশী পেশী আছে। হাসতে গেলে ১৫ টির বেশী পেশী সক্রিয় হয়।
১৪. একস্থান থেকে শুরু করে সমগ্র শরীর ঘুরে ঐ স্থানে ফিরে আসতে একটি রক্ত কণিকা ১,০০,০০০ কিমি পথ অতিক্রম করে অর্থাৎ ২.৫ বার পৃথিবী অতিক্রম করতে পারে।
১৫. আমাদের মস্তিষ্ক প্রায় ১০,০০০ টি বিভিন্ন গন্ধ চিনতে ও মনে রাখতে পারে।


বঙ্গোপসাগরের নামকরণ যেভাবে হলো

বঙ্গ+উপ+সাগর = বঙ্গোপসাগর। অর্থাৎ ‘বঙ্গ দেশের উপসাগর’ বা ‘বাংলাদেশের উপসাগর’। তবে ‘বঙ্গ দেশের উপসাগর’ বলাই শ্রেয়; কেননা এর সাথে কলকাতা বা পশ্চিম বাংলারও সংযোগ রয়েছে। তাছাড়া দেশভাগের আগে উভয় বাংলা তো এক সাথেই ছিল। কিন্তু জটিলতাটা শুরু হয় অন্য জায়গায়। বঙ্গোপসাগরের সাথে তো আরও অনেক দেশ বা অঞ্চলের সংযুক্তি রয়েছে, যেমন- মায়ানমার, ভারত, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড; আরও রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ফলে অনুসন্ধিৎসু মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বঙ্গোপসাগরের নাম তাহলে ‘মায়ানমার উপসাগর’, ‘ভারত উপসাগর’ বা ‘শ্রীলংকা উপসাগর’ ইত্যাদি হলো না কেন? আজ আপনাদের সেই প্রশ্নের উত্তরই দেয়া হবে।

প্রথম কথা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরের নামকরণের পেছনে অবশ্যই কোনো না কোনো ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। তবে সেই কারণটা কী তা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যায় না। তবুও বঙ্গোপসাগরের নামকরণের পেছনে আমরা তিনটি অনুমান ধরে নিতে পারি।

প্রথমত, প্রাচীন বঙ্গ অঞ্চলের নামানুসারেই বঙ্গোপসাগর নামকরণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ভারতের প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে বঙ্গোপসাগরের নাম উল্লেখ থাকায় এমন নামকরণ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, প্রাচীন বঙ্গ অঞ্চলের মানুষের এমন কোনো বীরত্বগাঁথা ছিল যার কারণে তাদের সম্মানার্থে বা প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের নামকরণ বঙ্গোপসাগর করা হয়েছে।

এখন আমরা এই তিনটি পূর্বানুমান যাচাই বাছাই করে দেখবো।
বঙ্গোপসাগরের মানচিত্র; Image Source: wikimedia

প্রথমে যে অনুমানটি আমরা ধরে নিয়েছি সেটা হচ্ছে, বঙ্গ অঞ্চলের নামানুসারেই বঙ্গোপসাগর নামকরণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এই অনুমানটিই অধিকাংশ মানুষ সঠিক মনে করে, কেননা ‘বঙ্গ+উপসাগর’ নামটি ‘বঙ্গ’ থেকে এসেছে এটা ধরে নেয়াই সবচেয়ে সহজ ও স্বাভাবিক। কিন্তু এই অনুমানের ব্যাপারে খানিকটা আপত্তি আমরা ভূমিকাতেই তুলে ধরেছি।

এখন আমরা আরেকটু অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখাবো যে, বাংলাদেশ বা প্রাচীন বঙ্গদেশের সাথে বঙ্গোপসাগরের যতটুকু সীমানা জড়িত রয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি সীমান্ত জড়িত রয়েছে মায়ানমার, ভারত কিংবা থাইল্যান্ডের সাথে (উপরের মানচিত্র দ্রষ্টব্য)। তাহলে এসব দেশ বা অঞ্চল বিশেষের নামানুসারেও তো বঙ্গোপসাগরের নামকরণ হতে পারতো। দ্বিতীয়ত, প্রাচীনকাল থেকে অত্র অঞ্চলের পরিচয় ‘ভারত’ হিসেবে অধিক প্রতিষ্ঠিত ছিল; কেননা ‘ভারত’ দ্বারা অধিক বিস্তৃত অঞ্চল ও সভ্যতা নির্দিষ্ট করা যায়। ফলে ‘বঙ্গ উপসাগর’ নামকরণের থেকে ‘ভারত উপসাগর’ নামকরণ করা কি অধিক যুক্তিপূর্ণ নয়? এমন কিছু আপত্তির কাছে আমাদের প্রথম অনুমান সন্দেহপূর্ণ হয়ে পড়ে।

আমাদের দ্বিতীয় অনুমান ছিল, ভারতীয় প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে ‘বঙ্গোপসাগর’ শব্দটির উল্লেখ থাকা; এই অনুমানটি প্রথম অনুমানের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। কেননা প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে সংস্কৃত শব্দ ‘বঙ্গোপসাগর’, ‘বঙ্গসাগর’, ‘পূর্বপয়োধি’ প্রভৃতি শব্দের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রাচীনকালে বঙ্গ অঞ্চল ব্যতীত ভারতের অন্যান্য এলাকায় বঙ্গোপসাগরকে ‘মহোদধি’ নামে ডাকা হতো। প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রেও ‘মহোদধি’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে, যার আক্ষরিক অর্থ ‘বিরাট জলাধার’। পাশাপাশি প্রাচীন মানচিত্রগুলোতে বঙ্গোপসাগরের নাম ‘সাইনাস গ্যাঞ্জেটিকাস’ বা ‘গ্যাঞ্জেটিকাস সাইনাস’ উল্লেখ করা হয়েছে (নিচের মানচিত্র দ্রষ্টব্য), যার অর্থ ‘গঙ্গা উপসাগর’।

গঙ্গা হিন্দু ধর্মের একজন প্রভাবশালী দেবীর নাম, পবিত্র মহাভারতে গঙ্গা দেবীর নাম উল্লেখিত আছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে প্রাচীন গ্রন্থ থেকে ‘বঙ্গোপসাগর’ নামকরণ করা হয়েছে এমন অনুমানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। কেননা প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ অনুসারে বঙ্গোপসাগরের নাম ‘মহোদধি’ বা ‘গঙ্গা উপসাগর’ও হতে পারতো। এছাড়া প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে ‘বঙ্গোপসাগর’ শব্দটি উল্লেখ থাকলেও এই শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া নেই।
১৭৯৪ সালে জে. বি. বি. ডি. অ্যানভিল কর্তৃক অঙ্কিত এই মানচিত্রে বঙ্গোপসাগরের নাম ‘গ্যাঞ্জেটিকাস সাইনাস’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে; Image Source: wikimedia

আমাদের তৃতীয় যে অনুমান ছিল তা হলো, প্রাচীনকালে বঙ্গ অঞ্চলের মানুষের এমন কোনো বীরত্বগাঁথা ছিল, যার কারণে তাদের সম্মানার্থে বা প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের নামকরণ ‘বঙ্গোপসাগর’ করা হয়েছে। অনেক ঐতিহাসিক এই অনুমানকেই সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাদের মতে, সেই বীরত্বগাঁথা হচ্ছে- বঙ্গ এলাকায় অত্যন্ত সাহসী ও যোগ্যতাসম্পন্ন নাবিকদের জন্ম হওয়া।

প্রাচীনকাল থেকেই এখান বহু আন্তর্জাতিক নাবিকের জন্ম হয়েছে। এখানকার নাবিকরা শুধু বঙ্গোপসাগর নয়, বরং সারা বিশ্বে নিজেদের প্রভাব বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। এই অনুমানের স্বপক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সাহিত্যিক শ্রী অন্নদা শঙ্কর রায় ‘সাপ্তাহিক দেশ’ পত্রিকার একটি প্রবন্ধে লিখেছেন :

বাংলাদেশ কেবল মাত্র নদীমাতৃক নয়, সমুদ্র তীরবর্তী দেশ। বঙ্গোপসাগরের নাম যে দেশের নামানুসারে হয়েছে সেই দেশ একদা সমুদ্র যাত্রায় অগ্রণী ছিল। ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর- এসব নাম অকারণে রাখা হয়নি। যারা রেখেছিল তারা পৃথিবীর নাবিক সম্প্রদায়। তাদের মধ্যে বাঙালি গণ্যমান্য ছিল। সেসব নাবিকদের বংশধর এখন ‘লস্কর’ নামে বিদিত। বিশ্বের সব দেশে এদেরকে চেনে। এদেরও সব দেশ চেনা। কিন্তু এদের নিজেদের কোনো জাহাজ নেই। পরের জাহাজেই এদের জীবন কেটে যায়। এদের দুঃখের কাহিনী আমার জানা। একদা এদের কারো কারো প্রাণ হানির বা অঙ্গহানির ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছিল আমাদের বিচার্য বিষয়। এদের সবাই পূর্ব বাংলার লোক। সাধারণত চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট জেলার।

ফিশিং বোট, এই ট্রলারে করে সাগরে মাছ ধরতে যান বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জেলেরা; Image Source: iucn.org

অন্নদা শঙ্করের এই লেখায় দেখা যাচ্ছে, বঙ্গ দেশের নামকরণ এখানকার দুঃসাহসী অথচ নিঃস্ব একদল নাবিকদের হাত ধরে এসেছে। তাদের নিজেদের কোনো জাহাজ ছিল না; স্বভাবতই তারা অনেক ধন-সম্পদের মালিকও ছিলেন না। কিন্তু তারা ছিলেন অত্যন্ত গুণবান। আরও লক্ষ্যণীয় যে, অন্নদা শঙ্কর এসব নাবিকের আবাস্থলও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দিয়েছেন- চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট জেলা; অর্থাৎ তাদের নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশে।

সময়ের পরিবর্তনে হয়তো এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে; সিলেট জেলার সাথে এখন সাগরের সংযোগ নেই, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ এখনো পেশাগতভাবে সামুদ্রিক জেলে। তারা প্রাচীনকালের মতোই মাছ ধরতে সমুদ্রে গমন করে। এদের নিজেদের কোনো জাহাজ বা ট্রলার ছিল না। মহাজনের ট্রলার নিয়ে জীবন বাজি রেখে বেড়িয়ে পড়েন সমুদ্রপানে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাঝে মাঝেই আমরা তাদের নিহত হওয়ার খবর পাই।

সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের এমন অনেক পরিবার রয়েছে যাদের পুরুষেরা সমুদ্রে গিয়ে আর ফিরে আসেননি; ফেরত আসেনি তাদের লাশও। যা-ই হোক, আমাদের আলোচিত সেসব প্রাচীন লস্করগণ শুধুমাত্র বঙ্গপসাগরে সীমাবদ্ধ থাকতেন না, যোগ্যতাবলে বিভিন্ন সাগর-মহাসাগরে জাহাজ পরিচালনা করে বেড়াতেন। বিশেষ করে আরব বণিকগণ তাদেরকে জাহাজ চালক হিসেবে বঙ্গ সন্তানদের সাথে নিতেন। তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে অন্নদা শঙ্কর তার প্রবন্ধে লিখেছেন :

এই একটি ক্ষেত্র যেখানে বাঙালি নাবিকরা ও বণিকরা অল্প দিনের মধ্যেই গ্রিকদের মতো কুশলী হতে পারে। যে যার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বড় হয়। বাংলাদেশের একটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করলুম। অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কথা সকলেই জানেন।

‘স্যার ল্যান্সেলোট’ নামক এই জাহাজটি ১৮৯৫ সালের ১ অক্টোবর এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে বঙ্গোপসাগরে হারিয়ে যায়; Image Source: wikimedia

এখন অন্নদা শঙ্করের দাবীর প্রেক্ষিতে একটি প্রশ্ন এসে যায় যে, সেসব নাবিক বা লস্করদের যদি জাহাজ না থেকে থাকত তাহলে তারা কাদের জাহাজ পরিচালনা করতেন। তাছাড়া সেসব বাণিজ্যিক জাহাজ কাদের ছিল। এসব প্রশ্নের অনুসন্ধানে আমরা দেখতে পাবো যে, প্রাচীনকালে অত্র অঞ্চলে আরব বণিকদের আগমন ঘটেছিল। তারা বঙ্গদেশের নাবিকদের সাথে নিতেন, প্রশিক্ষণ দিতেন। বিভিন্ন সময়ে এসব আরব বনিকগণ চীন হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য করতে আসতেন। এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক এলফিনস্টোন তার ‘দি হিস্টোরি অফ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে লিখেছেন :

সর্বাগ্রে অনাবাদী ও কর্কশ মরুভূমির আরব উপদ্বীপ ও ভূ-মণ্ডলের লোকেরা পৃথিবীর যে দিকে মাটি, সোনা, পানি, মুক্তা, অরণ্য ও সুগন্ধি বৃক্ষরাজি পাওয়া যেত সেদিকে ছুটে যেতো। একদিকে মিসর, সিরিয়া ও ইরাক, অপরদিকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চল (বর্তমান বাংলাদেশ), এশিয়া ও আফ্রিকা নামের দুটি মহাদেশের উর্বর ও বিস্তৃত ভূ-ভাগে আরবগণ তাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ অনুসন্ধান করে বাণিজ্য করতেন। জীবন ধারণের জন্য অন্য কোনো উপায় না থাকায় অবস্থাগত কারণে বাধ্য হয়ে আরবগণ অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কঠিন জীবন সংগ্রামে রত থাকতেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও মেষ পালনের মাধ্যমে জীবিকা অবলম্বন করত।

প্রকৃতপক্ষে, তারা পৃথিবীর মতোই প্রাচীন ব্যবসায়ী। পশ্চিম, দক্ষিণ এবং পূর্বে সমুদ্রের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় তারা নৌ-চালনায় অভ্যস্ত ছিল এবং সমুদ্রগামী নৌযানের সাহায্যে অতলস্পর্শ সমুদ্র যাত্রা করিত। প্রকৃতপক্ষে আরবকে জাহাজের পরিচালক, নাবিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত ব্যক্তিদের দ্বারা পূর্ণ একটি দেশ হিসাবে গণ্য করা হতো। ভারত এবং নিকটবর্তী এশিয়ার সাথে তাদের বাণিজ্য চলাচলের প্রধান রাস্তা ছিল সম্ভবত আরব সাগরের মধ্য দিয়ে। তারা ভারতের উপকূলবর্তী প্রতিটি শহর ও ভারতীয় দ্বীপসমূহ স্পর্শ করে অনুসরণ করতো। তাদের নৌযানসমূহ প্রায়শঃ বঙ্গোপসাগর ও বঙ্গদেশের ব্রহ্মপুত্র নদী হয়ে আসামের অভ্যন্তর ভাগেও পৌঁছাইত।

১৮৭৫ সালে বঙ্গোপসাগরের বুকে একটি পাল তোলা জাহাজ; Image source: Old Ship Picture Galleries

এভাবে তারা বঙ্গদেশ বা বর্তমান বাংলাদেশে আগমন করতো। প্রাচীনকাল থেকেই চট্টগ্রামে সমুদ্র বন্দর ছিল, সেখানে আরব বণিকগণ আসতেন। তাদের জাহাজে কাজ করার সুবাদে এখানে অসংখ্য সাহসী নাবিক তৈরি হয়েছিল। খুব কম সময়ে তারা অত্যন্ত দূরদর্শী ও যোগ্যতাসম্পন্ন নাবিকে পরিণত হতে পারতেন বিধায় আরবগণ সহসাই তাদের সাথে নিতেন। আর তাদের কারণে বঙ্গোপসাগরের নাম বঙ্গোপসাগর হয়ে যেতে লাগল। এই নাম তৎকালীন নাবিকদেরই দেয়া। ইতিহাসবিদ আনিসুল হক চৌধুরী তার ‘বাংলার মূল’ গ্রন্থে লিখেছেন :

অতঃপর বঙ্গদেশের নামানুসারে বঙ্গোপসাগরের নাম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করিলেও দৃষ্ট হয় যে বঙ্গদেশের নাবিকদের তথা তাহাদের আরবীয় নাবিক পূর্ব পুরুষদের সমুদ্র পথে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় বঙ্গোপসাগরে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করিবার কারণেই অন্য কোনো দেশের নামে না হইয়া বঙ্গদেশের নামেই বঙ্গোপসাগরের নাম হইয়াছে।

এ সকল যুক্তিতর্ককে সামনে রেখে আমরা আমাদের তৃতীয় অনুমানের উপরে তুলনামূলক বেশি নির্ভর করতে পারি, অর্থাৎ বঙ্গদেশের দুঃসাহসী নাবিকদের কারণেই বঙ্গোপসাগরের নাম বঙ্গোপসাগর হয়েছে- তবে এটিই একমাত্র দাবী নয়, কেননা নামকরণের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ইতিহাস থেকে সরাসরি আমাদের জানার সুযোগ হয়নি।

আজকের জোকস : হানিমুনের ছুটি নিতে হবে

হানিমুনের ছুটি নিতে হবে
কলেজের এক ছেলে এক মেয়েকে টিজ করার উদ্দেশে বলছে-
ছেলে : যাইবা নাকি কাজী অফিস?
মেয়ে : চল!
ছেলে : কই যামু?
মেয়ে : প্রিন্সিপালের কাছে।
ছেলে : ওমা! আপু আপনের লগে কি একটু মশকরাও করা যাইবো না?
মেয়ে : আরে পাগল, হানিমুনের ছুটি নিতে হবে না!

যেভাবে চুল কাটালে বয়স কমে যাবে!

অনেকেই আছেন যাদেরকে বয়সের তুলনায় অনেকটাই বয়স্ক লাগে দেখতে! আর এই নিয়ে তাদের ভীষণ মন খারাপও হয়। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই দেখতে পাবেন, হয়তো এই বয়স্ক দেখতে লাগার কারণ আপনার পোশাক, কখনোবা চুল কাটানোর ধরন!


ঠিক শুনছেন। ভুলভাল কাটিংয়ে চুল কাটালে আপনাকে দেখতে বয়স্ক লাগতেই পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এর জন্য দায়ী হতে পারে চুলের জন্য ভুল কালার বেছে নেয়া।



এখন তবে জেনে নিন কিভাবে চুল কাটালে আর কোন রং বেছে নিলে দেখতে বয়স্ক লাগবে না। এক ঝটকায় বয়স কমে যাবে অনেকখানি-

যত বয়স বাড়ে, ততই আমাদের ত্বক স্বচ্ছতা হারাতে শুরু করে। বয়স্ক ত্বকের জন্য দরকার গাঢ় টোনের রং। চুলে রং করার ক্ষেত্রে গাঢ় চকোলেট ব্রাউন, গাঢ় লাল, ওয়ার্ম হানির মতো রং বেছে নিন, যাতে মুখে বয়সের ছাপ দেখা না যায়।

যদি আপনার লম্বা চুল হয়, হালকা লেয়ারে কেটে নিন। তাতে মুখে আর গলায় একটা লিফট আসবে, চুলের ঘনত্বও বেশি দেখাবে। মুখের তারুণ্যের ছাপ ধরে রাখতেও লেয়ার কাট আদর্শ।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চুলের বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করুন, সাপ্লিমেন্ট খান। তাতে চুলের ঘনত্ব বজায় থাকবে।


কাঁচাপাকা চুলে আপনার বয়স সত্যিই বেশি দেখায়। রং করে পাকা চুল ঢেকে দিলে তো আর কথাই নেই। তবে একটু নাটকীয়তা আনতে চাইলে সিলভার বা অন্য কোনো মেটালিক শেডে রাঙিয়ে নিন।


মায়ের প্রতি ভালোবাসার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ

পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত মা। মা হচ্ছেন একজন সন্তানের পৃথিবীতে আসার মূল ও প্রধান উৎস। মায়ের মায়া-মমতার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো কিছুর তুলনা হয় না। মায়ের আদর এবং লালন-পালনের কষ্ট সন্তান কোনো দিন শোধ করতে পারবে না। শীত, তাপ, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা যিনি সন্তানকে শৈশবে অনুধাবন করতে দেননি তিনি হলেন মা।

মাকে যথাযথ সম্মান ও ভালোবাসার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাঁদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাঁদের উফ্ (বিরক্তিও অবজ্ঞামূলক কথা) বলবে না এবং তাঁদের ধমক দেবে না; তাঁদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে। মমতাবশে তাঁদের প্রতি নম্রতার ডানা প্রসারিত করো এবং বলো ‘হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের অন্যত্র ঘোষণা করেন, ‘আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেন এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; সুতরাং আমার (আল্লাহর) প্রতি এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই কাছে।’ (সুরা লুকমান : ১৪) ‘আর আমি (আল্লাহ) মানবজাতিকে নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন তাদের পিতা-মাতার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে; তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছেন ও অতিকষ্টে প্রসব করেছেন এবং লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা আহকাফ : ১৫) আরও বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করো।’ (সুরা নিসা : ৩৬)

উল্লিখিত আয়াতগুলোতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, আল্লাহর পরেই মা-বাবার অধিকার। সেই অধিকার কীভাবে আদায় করতে হবে, সেটাও বলা হয়েছে। পিতা-মাতার অধিকার সম্পর্কে হাদিসে বহু জায়গায় বর্ণনা এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কে আমার উত্তম আচরণ পাওয়ার বেশি হকদার?’ তিনি বললেন ‘তোমার মা’; সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা’; সে আবারও বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা’। সে পুনরায় বলল, ‘এরপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার পিতা’। (বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফ) প্রিয় নবী (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘জান্নাত মায়ের পদতলে’। (মুসলিম শরিফ)

নবজাতক হজরত ঈসা (আ.)-এর মুখে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা ভাষা ফুটিয়ে দিলেন; তখন তিনি বলেছিলেন, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা, আমাকে কিতাব (আসমানি গ্রন্থ ইঞ্জিল) দেওয়া হয়েছে এবং তিনি (আল্লাহ) আমাকে নবী করেছেন। আর আমাকে বরকতময় করা হয়েছে আমি যেখানেই থাকব; আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সালাত ও জাকাত বিষয়ে, যত দিন আমি জীবিত থাকব।’ হজরত ঈসা (আ.) আরও বলেন, ‘আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি যেন আমার মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করি (অনুগত ও বাধ্য থাকি); আমাকে করা হয়নি উদ্ধত, অবাধ্য ও দুর্ভাগা, হতভাগ্য।’ (সুরা মারিয়াম : ৩০-৩২)

বনি ইসরাইলের নবী হজরত মুসা (আ.)-এর প্রতিও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আর আমি বনি ইসরাইল থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছি যে তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করবে না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ৮৩)

পিতা-মাতা সন্তানের সম্পদের অধিকারী ও উত্তরাধিকারী। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আর পিতা-মাতা উভয়ের প্রত্যেকের জন্য (সন্তানের) সম্পদের এক–ষষ্ঠাংশ যদি তার সন্তান থাকে; আর যদি সন্তান না থাকে, তবে পিতা-মাতাই ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী হবেন, এমতাবস্থায় তার মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ১১)

রাসুল (সা.)-এর জমানায় বিখ্যাত এক আশেকে রাসুলের ঘটনা আমরা জানি। যিনি প্রিয় নবীজি (সা.)-কে দেখেননি। সেই আশেকে রাসুলের নাম হজরত ওয়াইস আল করনি (রা.)। প্রিয় নবীজি (সা.)-এর জমানায় থেকেও তিনি সাহাবি হতে পারেননি মায়ের সেবা করার কারণে। তবে এতে করে তাঁর মর্যাদা কমেনি; বরং তিনি সম্মানিত হয়েছেন। একবার ওয়াইস করনি (রা.) প্রিয় নবীজির কাছে এই মর্মে খবর পাঠালেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আপনার সঙ্গে আমার দেখা করতে মন চায়; কিন্তু আমার মা অসুস্থ। এখন আমি কী করতে পারি?’ নবীজি (সা.) উত্তর পাঠালেন, ‘আমার কাছে আসতে হবে না। আমার সাক্ষাতের চেয়ে তোমার মায়ের খেদমত করা বেশি জরুরি ও বেশি ফজিলতের কাজ।’ শুধু তা-ই নয়, নবীজি (সা.) তাঁর গায়ের একটি জুব্বা তার জন্য রেখে যান এবং বলেন, ‘মায়ের খেদমতের কারণে সে আমার কাছে আসতে পারেনি; আমার ইন্তেকালের পর আমার এ জুব্বাটি তাকে উপহার দেবে।’ নবীজি (সা.) জুব্বাটি রেখে যান হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে এবং তিনি বলেন, ‘হে ওমর! ওয়াইস আল করনির কাছ থেকে তুমি দোয়া নিয়ো।’ সুবহানাল্লাহ!

মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, মায়া, মমতা, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন একটি বিশেষ দিনের জন্য নয়; বরং তা হোক প্রতিদিনের জন্য। মায়ের প্রতি আনুগত্য, মায়ের খেদমত, মায়ের হক আদায় ও বৃদ্ধাবস্থায় সেবাযত্ন করা এবং পরকালীন মুক্তির জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা আমাদের সবার একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ পাক আমাদেরকে মায়ের সেবা করার মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য অর্জনের তৌফিক দিন। আমিন।

মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন নয়: জেনে নিন মাথাব্যথার আরো ১২টি কারন
মাইগ্রেন এক ধরনের মাথাব্যথা। এটা খুবই পরিচিত অসুখ। তবে সব মাথাব্যথাই কিন্তু মাইগ্রেন নয়। আমাদের এ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে। কারো মাথাব্যথা হলেই আমরা ভেবে বসি মাইগ্রেন। কিন্তু মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ ‘টেনশন টাইপ হেডেক’।

মাইগ্রেন মাথার একদিকে হয়। তবে দুইদিকেও হতে পারে। মাইগ্রেনের সঠিক কারণ আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মাথার ভেতরের রক্তনালীতে সমস্যা হলে মাইগ্রেন দেখা দেয়।

মাইগ্রেনের ব্যথা একবার শুরু হলে কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এই ব্যথা স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যঘাত ঘটায়। টেনশন টাইপ হেডেক নিয়েও একজন স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে। কিন্তু মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ে কাজ করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

যাদের মাইগ্রেন আছে তারা ব্যথা উঠার আগেই বুঝতে পারে। অনেকে চোখের সামনে আলোর ঝলকানি দেখতে পান। বমিভাব, বমি হতে পারে। রোগী মাথাব্যথায় ছটফট করতে থাকেন।

যাদের মাইগ্রেন আছে তাদের বেশকিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। প্রতিদিন যাতে মাইগ্রেনের রোগীর ভাল ঘুম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কফি, চকোলেট, অ্যালকোহল ও পনির খাওয়া বর্জন করতে হবে। মানসিক চাপ বেশি নেয়া যাবেনা। OCP বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে অনেকের সমস্যা হয়। তাদের ক্ষেত্রে বিকল্প জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। কিছু ওষুধ আছে যেগুলো মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে খেতে হবে। তা হলে উপকার পাওয়া যাবে। আবার কিছু ওষুধ খেলে মাইগ্রেনের অ্যাটাক হয় না বা কমে আসে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে এই বিষয়টি ভালভাবে জেনে-বুঝে নিতে হবে।
আরো পড়ুন কি খাচ্ছেন: খাবার নাকি বিষ?

তবে মাথাব্যথা হলেই কেউ মাইগ্রেন ভাববেন না। বরং দ্রুত চিকিৎসক দেখান। তিনি যদি রোগ হিসাবে মাইগ্রেন নির্ণয় করেন, তখন আপনি মাইগ্রেন হয়েছে বলে নিশ্চিত হতে পারেন। কারন মাথাব্যথার আরো অনেক কারন রয়েছে। মাথাব্যথার প্রধাণ কারনগুলো হচ্ছে-

১. টেনশন টাইপ হেডেক,

২. সাইনুসাইটিস বা সাইনাসের প্রদাহ,

৩. কানে প্রদাহ,

৪. মস্তিষ্ক বা মস্তিষ্ক ঝিল্লীর প্রদাহ

৫. দাঁত ব্যথা,

৬. ব্রেইন টিউমার,

৭. মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ও যক্ষ্মা

৮. প্যানিক ডিসঅর্ডার

৯. স্ট্রোক

১০. ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া

১১. গ্লুকোমা

১২. পানিশূন্যতা।

মনে রাখবেন, ৬০-৭০ ভাগ মাথাব্যথার কারন হচ্ছে টেনশন টাইপ হেডেক। তাই বুঝতে হবে মাথাব্যথা মানেই কিন্তু মাইগ্রেন নয়। মাথাব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। রোগ ডায়াগনসিস করে ওষুধ খাওয়া উচিত। তাহলে সহজেই অনেক জটিলতার হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

হার্ট বা হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে ৭টি করণীয়

১. ক্যারটিনয়েড ও ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খান: ক্যারটিনয়েড ও ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার হার্টকে সুস্থ রাখে। এই খাবারগুলোতে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা হার্টের জন্য খুবই উপকারী। ক্যারটিনয়েড ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল হচ্ছে: কমলালেবু, পেঁপে, আপেল, কলা, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর ইত্যাদি।
নিয়মিত ফলমূল ও সবুজ শাক-সবজির খেলে হার্ট ভালো থাকে।

২. নিয়মিত ফলমূল ও সবুজ শাক-সবজি খান: নিয়মিত ফলমূল ও সবুজ শাক-সবজি খেলে হার্ট ভালো থাকে। বিশেষ করে, তাজা ফলের রস হার্টের জন্য খুবই ভালো। সবুজ শাক-সবজির মধ্যে পালংশাক, লাউ, কুমড়া, গাজর, বিট, বাঁধাকপি, ভুট্টা, লাল আলু ইত্যাদি হার্টের জন্য বেশ উপকারী। এর পাশাপাশি প্রতিদিন প্রয়োজনমত সালাদ ও প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া প্রয়োজন।

৩. খাবার তালিকায় মাছ যোগ করুন: ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেলে হার্টের রোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসে। মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হার্টের অনিয়মিত স্পন্দন অর্থাৎ হঠাৎ ওঠা-নামাকে কমায়। পাশাপাশি এই এসিড রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ও রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৪. রান্নায় আদা, রসুন ও হলুদ ব্যবহার করুন: রান্নার সময় মসলা হিসেবে আদা, রসুন ও হলুদ ব্যবহার করুন। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৫. ডায়েট চার্ট পরিবর্তন করুন: হার্ট ভালো রাখার জন্য আপনার ডায়েট চার্ট পরিবর্তন করুন। প্রতিদিন ডায়েটে তিন ধরনের খাবার রাখার চেষ্টা করুন:

ক. সিদ্ধ, কাঁচা বা অল্প তেলযুক্ত সবজি,
খ. গোটা ও দানাদার শস্যযুক্ত খাবার,
গ. মাছ বা ডিম জাতীয় খাবার।

৬. রান্নায় সঠিক তেলের ব্যবহার করুন: হার্টের সুস্থতায় রান্নার তেল নির্বাচনের সময়ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। রান্নায় অলিভ ওয়েল বা বাদাম তেল ব্যবহার করা ভালো। ভেজিটেবল ওয়েলও হার্টের জন্য ভালো। সয়াবিন বা সরিষার তেল রান্নায় বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।

৭. সুস্থ হার্টের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: নিয়মিত শরীরচর্চা হার্ট বা হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। প্রতিদিন নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করলে শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, ফলে হার্ট ভালো থাকে। এছাড়া শরীরচর্চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং টেনশন ও ডিপ্রেশন কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম করলে দেহের রক্ত প্রবাহ সচল ও স্বাভাবিক থাকে। শরীরচর্চার জন্য নিচের কাজগুলো করতে পারেন:

ক. প্রতিদিন নিয়ম করে আধা ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করুন।
খ. অফিসে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
গ. ঘরের ছোটখাটো কাজগুলো নিজেই করার চেষ্টা করুন।

মে মাসেই আসছে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়!


বঙ্গোপসারে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর রেশ কাটতে না কাটতে চলতি মাসেই আরও একটি ঘূর্ণিঝড় আসছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের বরাত দিয়ে নিউজ এইটটিনের খবর, ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়টি।

নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম বায়ু! ফণীর নাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বায়ু নামটি ভারতের দেওয়া বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কোথায় কোথায় ঝড়ের প্রভাব পড়বে তা এখনও জানা যায়নি।
এর আগে, ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হেনে গত শনিবার খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

রোজা পালনে আত্মায় নুর আসে

মানুষের মনের ভেতরে ভালো-মন্দ লুকিয়ে থাকে। মনের ভেতরে থাকা ভালো-মন্দ একে অপরের সঙ্গে সব সময় যুদ্ধ করতে থাকে। এছাড়া দুনিয়ার মোহমায়ায় আচ্ছন্ন লোভী আত্মাগুলো ভালোকে দমন করার চেষ্টায় সর্বদা সক্রিয় থাকে। আর মানুষের মন অধিকাংশ সময় মন্দ কাজের দিকেই ঝুঁকে থাকে। যার ফলে এত ইবাদত-বন্দেগি করার পরও মানুষ স্রষ্টার নুর দর্শন করা থেকে বঞ্চিত হয়। রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ তার নিজের ভেতরের মন্দকে পরাজিত করে। মানুষের ভেতরের মন্দকে পরাজিত করার শক্তিশালী কৌশল হিসেবে আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে সব নবী-রাসুলের উম্মতের ওপর রোজা ফরজ করেছেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছে; যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)।
হজরত আদম (আ.) আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন। যাকে আইয়্যামে বিজের রোজা বলা হয়। হজরত নুহ (আ.) সর্বদাই রোজা রাখতেন। হজরত দাউদ (আ.) এর উম্মতের ওপর একদিন পর একদিন রোজা ফরজ ছিল। হজরত মুসা (আ.) এর উম্মতের ওপর আশুরার দিন এবং সপ্তাহের শনিবার রোজা ফরজ ছিল। হজরত ঈসা (আ.) এর উম্মতের ওপর একদিন রোজা রেখে, দু-দিন বিরতি দিয়ে ফের রোজা রাখার বিধান ছিল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদার খাতিরে একনাগাড়ে ৩০ দিন রোজা পালনের বিধান ফরজ করা হয়েছে।
রোজার মাসেই আসমানি কিতাবগুলো নাজিল হয়েছে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর ওপর প্রথম রোজায় সহিফা নাজিল হয়েছে। হজরত মুসা (আ.) এর ওপর ১৩ রোজায় তাওরাত কিতাব নাজিল হয়েছে। হজরত দাউদ (আ.) এর ওপর ১২ রোজায় যবুর কিতাব নাজিল হয়েছে। হজরত ঈসা (আ.) এর ওপর ২৭ রোজায় ইঞ্জিল কিতাব নাজিল হয়েছে। হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর ওপর ২৭ রোজায় লাইলাতুল কদরের রাতে কোরআন শরিফ নাজিল হয়েছে।
তাওরাত কিতাবে রোজাকে হাত্ব বলা হয়েছে। হাত্ব শব্দের অর্থ গোনাহ নষ্ট হয়ে যাওয়া। ইঞ্জিল কিতাবে রোজাকে ত্বাব বলা হয়েছে। ত্বাব শব্দের অর্থ পবিত্র হওয়া। যবুর কিতাবে রোজাকে কোরবাত বলা হয়েছে। কোরবাত শব্দের অর্থ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। কোরআন মজিদে রোজাকে সিয়াম বলা হয়েছে। যার অর্থ আত্মশুদ্ধি লাভ করা।
রোজা মানব আত্মার সব গোনাহ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। রোজার রহমত, বরকত ও মাগফিরাত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যে একে (নফস) বিশুদ্ধ করেছে সে সফলকাম হয়েছে এবং যে একে কলুষিত করেছে সেই অকৃতকার্য হয়েছে।’ (সূরা শামস : ৯-১০)। আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার উত্তম কর্মই হলো রোজা পালন করা। যে মানুষ রোজা পালন করে। তার আত্মা বিশুদ্ধ হয়ে যায়। পরিশুদ্ধ আত্মার মানুষগুলো দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতে সফলকাম। সব ধরনের মন্দ কাজ থেকে বিরত বা সংযত থাকার নামই হলো রোজা। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তবে যে সংযত ও সংশোধিত হয় পরে তাদের জন্য ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।’ (সূরা আরাফ : ৩৫)।
মানবদেহের ভেতরে দশটি লতিফা রয়েছে। যেমনÑ লতিফা নফস, কালব, রুহ, সির, খফি, আখফা, খাক, বাত, আব ও আতশ। রোজা পালনের ফলে মানবদেহে থাকা লতিফাগুলো পরিশুদ্ধ হয়ে আল্লাহর নৈকট্যলাভের জন্য জান্নাতের দিকে ধাবিত হয়। রোজার মাসে আল্লাহ তায়ালা আমাদের এমন একটি রজনি উপহার দিয়েছেন, এ রজনির ইবাদতের মর্যাদা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এ রজনিকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, রমজান মাস আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শিকলবদ্ধ করা হয়। (মুসলিম শরিফ, খ. ২, পৃষ্ঠা ৭৫৮)। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো সৎ কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য কামনা করে, সে যেন অন্য মাসে কোনো ফরজ কাজ আদায় করার মতো কাজ করল আর যে ব্যক্তি কোনো ফরজ কাজ আদায় করে সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব পেল।’ (বায়হাকি, শুয়াবুল ঈমান, খ. ৫, পৃষ্ঠা ২২৩)।
রোজা পালন করলে শুধু সওয়াবই হয় না। রোজা মানব আত্মায় ঝরনার মতো নুর প্রবাহিত হয়। রোজা পালনে মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। রোজা মানব আত্মার তেজ-শক্তি বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তায়ালা রোজায় সবার আত্মায় নুর দান করুন। আমিন।

ঘুম প্রতিটা প্রাণীর জন্যেই গুরুত্বপূর্ন।
১। আপনি যখন ঘুমান তখন আপনার শরিরে কি হয় তা জানেন?
•→ আপনার ব্রেইন শক্তি লাভ করে।
•→ আপনার শরিরের নষ্ট হওয়া সেল গুলো নিজে নিজে ঠিক হয়।
•→ আপনার শরীর গুরুত্বপূর্ন হরমন মুক্ত করে।
২। বয়স অনুপাতে আপনার ভিন্ন ধরনের ঘুম দরকার।
_ বাচ্চাদের – ১৬ ঘন্টা।
_ ৩ থেকে ১২ বছর– ১০ ঘন্টা।
_ ১৩ থেকে ১৮ বছর – ১০ ঘন্টা।
_ ১৯ থেকে ৫৫ বছর – ৮ ঘন্টা
_ ৬৫ বছরের উপরে – ৬ ঘন্টা।
৩। পুরুষ তার স্বপ্নে অন্য পুরুষ কে দেখে ৭০% সময়, কিন্তু নারী তার স্বপ্নে পুরুষ এবং নারী উভয়কেই সমান সময় দেখে।
৪। আমরা স্বপ্নে তাদের ই দেখি যাদের মুখ আমাদের পরিচিত।তবে যার মুখ আপনি প্রতিদিন দেখেন না তাকেও আপনি স্বপ্নে দেখেন।
৫। প্যারাসমনিয়া একটা ঘুমের রোগ যা আপনাকে ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক কাজ করায়। এই রোগের কারনে সংঘটিত হওয়া অপরাধ সমূহ
_ ঘুমের মধ্যে গাড়ী চালানো।
_ ভুল চেক লেখা।
_ হত্যা।
_ শিশু নির্যাতন।
_ ধর্ষন।
৬। ১২% মানুষ সাদা কালো তে স্বপ্ন দেখে। এই রেট আরো বারতে পারে,কিন্তু রঙ্গীন টেলিভিশন স্বপ্নকে রঙ্গীন করতে সাহাজ্য
করেছে।
৭। স্বপ্ন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যে মানুষ স্বপ্ন দেখে না সে অস্বাভাবিক।
৮। ঘুমের পোজিশন আপনার পারসনালিটি বহন করে।
৯। প্রতি ৪ জন বিবাহিত দম্পত্তির মধ্যে ১টি দম্পত্তি আলাদা খাটে ঘুমায়।
১০। ব্রিটিশ সৈন্য রাই প্রথম একটি উপায় আবিষ্কার করে একটানা ৩৬ ঘন্টা না ঘুমিয়ে থাকার। যখন ক্লান্তি অনুভব করতো, তখন তারা একটা স্পেশাল মুখঢাকনি ব্যাবহার
করতো যা সূর্যের আলোর তীব্রতা বাড়িয়ে দিত এবং তাদের জাগিয়ে তুলতো।

জেনে নিন সব ধরণের নামাজ - একত্রে মাত্র এক ছকে।

‘দেহঘড়ি’ সম্পর্কে যেসব অজানা

ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে মানবদেহ থেকে শুরু করে পৃথিবীর সকল জীবের ভেতরেই আছে এক অদৃশ্য ছন্দ। এটাকেই বৈজ্ঞানিকভাবে বলা হয় 'সারকেডিয়ান রিদম'।

'সারকেডিয়ান রিদম' হলো একটি শরীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়া যা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার চক্র পূরণ করে এবং জীবিত বস্তুর অস্তিত্বকে এক অদৃশ্য ছন্দে বেঁধে দেয়। একেই বলা হয় দেহঘড়ি।

১. 'সারকেডিয়ান রিদম': সৃষ্টির শুরু থেকে যেটা বিরাজমান

ধারণা করা হয়, পৃথিবীতে প্রথম যখন থেকে সেল বা কোষ পাওয়া যায় তখন থেকেই ছিল এই সারকেডিয়ান রিদম। এছাড়া এটাও মনে করা হয় যে, সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে দিনের বেলায় যে কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতো রাতে সেগুলো নিজেদের সারিয়ে নিতো।

২. 'দেহঘড়ি' সবারই আছে:
ধারণা করা হয়, যে কোনো জীবিত সত্ত্বা— তা সেটির গঠন ও আকৃতি যাই হোক না কেন— যদি সূর্য থেকে নিজের শক্তি সংগ্রহ করে তাহলে এটির একটি দেহ ঘড়ি থাকবেই। আলো ও অন্ধকারের সূত্র মেনে এই ঘড়ি কাজ করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, 'মিমোসা লিভস' বা লজ্জাবতী পাতা অন্ধকারেও নিজেকে গুঁটিয়ে নেয় এবং মেলে ধরে। অর্থাৎ সূর্যঘড়ি অনুসরণ না করে বরং লজ্জাবতী তার দেহঘড়ি মেনেই চলে।

৩. দেহঘড়ি জীবকে দেয় সীমানার বোধ:
দেহঘড়ি জীবকে নানা ধরনের সুবিধা দেয়। যেমন: দেহঘড়ির কারণে জীব টের পায় দিন-রাত ও শীত-গ্রীষ্মের ব্যবধান। আর সেই অনুযায়ী শরীর নিজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলোও নেয়।

৪. শরীরের ভেতরেই আছে এক 'মহাঘড়ি':
মস্তিষ্কের হাইপোথেলামাস অংশে এই মহাঘড়ির বাস। এটি অনেকটা 'কন্ডাক্টর' বা নেতা গোছের একটি বস্তু।দিনজুড়ে সমস্ত শরীরে যে সকল সিগন্যাল বা নির্দেশাবলীর আদান-প্রদান চলতে থাকে এখান থেকেই তার সব নিয়ন্ত্রণ ঘটে।

৫. শরীরে আরেকটা প্রান্তীয় বা 'পেরিফেরাল' ঘড়িও আছে:
শরীরের প্রতিটি অঙ্গ এবং টিস্যুরও রয়েছে নিজস্ব ঘড়ি। এই সব ঘড়িগুলোকে একটি তাল ও লয়ে সমন্বয় করে রাখে হাইপোথেলামাসে থাকা সেই মহাঘড়ি।

৬. শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরেও আছে স্বতন্ত্র ঘড়ি:
শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরে রয়েছে একেকটি স্বতন্ত্র ঘড়ি। ২৪ ঘন্টায় যার চক্র পূরণ হয়।

৭. সারক্যানুয়াল রিদম
রাত যত দীর্ঘ হয়, ঘুম যত প্রলম্বিত হয়, মস্তিষ্ক তত মেলাটোন নিষ্কাষণ করে। এই হরমোনের কারণেই মানুষের ঘুম ও জেগে উঠা নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেক প্রাণী, যেমন হরিণ, এই ছন্দ মেনেই নিজেকে সঙ্গম ও হাইবারনেশানের জন্য প্রস্তুত করে।

আর এটিও মনে করা হয় যে, রোগ-বালাই ও অসুস্থতার সাথে লড়াই করার জন্য মানুষের শরীর শীতকালে বেশি মাত্রায় এন্টিবডি তৈরি করে।

৮. সূর্যালোক মানুষকে রাখে সুষম, সুস্থির
সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন সূর্যালোকেও কিছু সময় থাকা প্রয়োজন। যদি কাউকে অন্ধকারে ফেলে রাখা হয় তাহলে তার দেহঘড়ি ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে পড়বে।

মানুষের চোখের ভেতর এক ধরণের সেন্সর রয়েছে। যেগুলো দিয়ে আলোকে সনাক্ত করা হয় এবং মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় অংশে সংকেত পাঠানো হয়। আর এভাবেই শরীরে ভেতরে গোপন দেহঘড়ি নিজের ছন্দ ধরে রাখে।

৯. এখন ঘুমের সময়
আপনার ঘুমোতে যাবার সময় কখন আপনি কি তা জানেন?
ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠার পর থেকেই শরীরে ঘুমের জন্য একটু-একটু করে চাপ তৈরি হতে থাকে।

কিন্তু সামান্য চাপেই কেউ ঘুমে তলিয়ে যায় না। বরং দেহঘড়ি যখন বলে, এখনই ঘুমের উপযুক্ত সময় তখনই শরীর ঘুমে ঢলে পড়ে।

১০. জেট লেগ
শরীর কখনো-কখনো বেতাল লাগে। অনেক দূরের পথ পাড়ি দিলে এমন হয়। একদিকে ঝিমুনি-ঝিমুনি লাগে, অন্যদিকে ঘুমও ঠিক আসে না। সাধারণত শরীরের ভেতরে থাকা মহাঘড়িটি যখন একটা সময়ে থাকে কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন পাকস্থলি, মস্তিষ্ক বা এরকম অন্য অঙ্গগুলো যখন ভিন্ন-ভিন্ন ছন্দে থাকে তখনই এমনটা হয়। একেকটি টাইম জোন পাড় হওয়ার পর শরীরের মহাঘড়িটি তার নিজের ছন্দে ফিরে আসতে সাধরণত ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

১১. সামাজিক জেট লেগ
আপনার শরীরের ঘড়ি অ্যালার্ম দিচ্ছে আপনার বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন, কিন্তু আপনার এখনও ডিউটি করতে হবে। যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিফটের কাজ করে তাদের দেহঘড়িটি অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যায়। এই দশাটিকে বলা হয় 'সোশাল জেট লেগ' বা সামাজিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া শারিরীক বিড়ম্বনা।

১২. ক্লান্ত টিনেজারদের সকালে কিছুক্ষণ বেশি ঘুমোতে দিন
বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের শরীরের ভেতর হরমোনের একটা বন্যা বয়ে যায়। এর ফলে, এই বয়সীদের দেহঘড়ি ঘণ্টা দু'য়েক পেছানো থাকে। তাই, অতি সাত সকালে তাদেরকে ঘুম থেকে ডেকে না তুলে আরো কিছু সময় ঘুমাতে দেয়া দরকার।

অবশ্য বয়স হলে পরে আবার এই দেহঘড়ি পাল্টে যায়। বয়ঃসন্ধিকালের আগে যেমন ছিল বয়সকালে শরীর আবার সেই অবস্থায় ফিরে যায়।

খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুসারে, শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বৈজ্ঞানিকভাবেও খেজুরের রয়েছে নানান উপকারিতা।

তাৎক্ষণিক কর্মশক্তি: নয়া দিল্লির ফোর্টিস লা ফেম হাসপাতালের ক্লিনিকাল পুষ্টিবিদ লাভনিত বাত্রা বলেন, “খেজুর হল পুষ্টির ক্যাপসুল। এতে প্রচুর চিনি বা শর্করা থাকায় এক কামড়েই কর্মশক্তি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্ককে সতর্ক করে তোলে এবং অবসাদ দূর করে। তাই ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা রাখার পর শরীরের অবসাদ দূর করতে খেজুর অত্যন্ত উপকারী।”

এতে আরও রয়েছে লৌহ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আঁশ, গ্লুকোজ, ম্যাগনেসিয়াম, সুক্রোজ ইত্যাদি যা শরীরকে চাঙা করে তুলতে পারে মাত্র আধা ঘণ্টাতেই।

অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ: রোজার রাখার কারণে অনেকেই বুক জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটি ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন, যার সমাধান খেজুর। এটি শরীরে অম্ল তৈরির পরিমাণ কমায় এবং পাকস্থলীকে আরাম দেয়।

বাড়তি খাওয়া নিয়ন্ত্রণ: রোজার মাসে ইফতারে বেশি খেয়ে ফেলা অতি সাধারণ ব্যাপার। যার একটি কারণ হল, সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীরও চায় খাবার সঞ্চয় করে রাখতে।

বাত্রা বলেন, “ইফতারের সময় ধীরগতিতে খান খুব কম মানুষই। তড়িঘড়ি করে গোগ্রাসে গেলার কারণে বেশিরভাগ সময়ই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তাই খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙলে এতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে শরীরের সময় বেশি লাগে। ফলে, দীর্ঘসময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর খেজুরে থাকা আঁশ বাড়তি খাওয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।”

হজমে সহায়ক: সারাদিন না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে অনেক খাবার খাওয়ার কারণে হজম প্রক্রিয়ার উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তবে পাকস্থলিতে হজমে সহায়ক ‘এনজাইমেস’ নিঃসরণ এবং নিয়মিত মল অপসারণে সহায়তা করার মাধ্যমে একমুঠ খেজুর এই সমস্যা সমাধানে সক্ষম।

শরীরের বিষাক্ত উপাদান অপসারণ: শরীরে জমা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল অপসারণে সহায়ক খেজুর।

অবশেষে ইসলামকে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তির ধর্ম ঘোষণা করল ইউনেস্কো
ইসলামকে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তির ধর্ম বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো (UNESCO)। গত ৭ জুলাই এ সম্পর্কিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ইউনেস্কো।
এর আগে ইউনেস্কো ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের সবগুলো ধর্ম নিয়ে গবেষণা চালায়।
ওই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ধর্ম কোনটি তা খতিয়ে বের করা।এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশনের তুলনামূলক গবেষণা বিভাগের প্রধান রবার্ট ম্যাকগি বলেন, ছয় মাসব্যাপী গভীর গবেষণা ও বিশ্লেষণের পর আমরা এই উপসংহারে উপনীত হয়েছি যে, ইসলামই বিশ্বের সবচেয়ে শান্তির ধর্ম। সংবাদ সম্মেলনে ইউনেস্কোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি ঢাকা ও বাগদাদের সন্ত্রাসী হামলাসহ ইসলামের নামে চালানো সন্ত্রাসী হামলাগুলোর সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো যোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন ইউনেস্কো কর্মকর্তারা।
তারা বলেন, সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। ইসলামের অর্থ শান্তি।
এদিকে, বিশ্বের বড় বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা ইউনেস্কোর এই সনদ ও ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাইলামাও অন্যান্য ধর্মগুলোকে ইসলামের কাছ থেকে শান্তির শিক্ষা গ্রহণ করতে বলেছেন।
আর কী করে অহিংস এবং অপরের প্রতি সহনশীল থাকা যায় সে চেষ্টাও করতে বলেছেন।
এদিকে, অনেক ইসলামী পণ্ডিতের মতে, ইসলাম আগে থেকেই শান্তির ধর্ম এবং বিশ্বসেরা ও সর্বশেষ ধর্ম হিসেবে পরিচিত ছিল।
সূতরাং ইউনেস্কোর এই ঘোষণার কোনো দরকার ছিল না। এতে বরং বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক বাড়বে।

তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষ তারা,যাদের আচার ব্যবহার সবচেয়ে ভালো।
[সহীহ বুখারী]

১৯৮৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে এই দিনপঞ্জি গ্রহণ করা হয়। এরপর, জাতীয় দিনপঞ্জির সূচনা ও প্রতি বছর নববর্ষ ১৪ এপ্রিলেই হয়ে থাকে।

লাঙ্গল যার জমি তার।

তুরস্ক তার সমুদ্রতীরবর্তী সমুদ্র সৈকত এবং এজিয়ান সাগর উভয় উপকূলীয় সমুদ্র উপকূলের সমুদ্র উপকূলের জন্য একটি সুপরিচিত পর্যটন গন্তব্য।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"

Have a Good Day

লুকা জভিচকে কেনার দ্বারপ্রান্তে রিয়াল

19-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3623 জন)
প্রশ্নঃ শত বছর জীবত থেকে কেউ যে কাজ করবে, তা যদি তুমি পঞ্চাশ বছর জবীত থেকে করতে পার তাহলে তুমিও শত বছর জীবন পেলে। আমরা চাইলে কর্মের পরিধি ও তাৎপরতা বৃদ্ধি করে শত বছর বাঁচতে পারি। মানে পঞ্চাশ বছর বেচেঁ থেকে শত বছর বা তারও বেশি বছরের সমান কাজ করতে পারি। ১২ কর্মঘন্টার মধ্যে ‘কামাল’ প্রতিদিন ৪ঘন্টা অপচয় করেন ও ৮ঘন্টা কাজ করেন অন্যদিকে তার সহকর্মি ‘শামিম’ কোন সময় অপচয় করেন না। দুজনেই ১৮বছর চাকুরী করলে শামিমের তুলনায় কামাল কত বছর কম চাকুরী করলো?
(A) ৯ বছর
(B) ৪ বছর
(C) ৬ বছর
06-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4053 জন)
প্রশ্নঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আর কোন এ্যান্টিবায়টিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ঐষধ (এ্যান্টিবায়িটিক) এর অপব্যবহার মানব সভ্যতা ধ্বংশের জন্য দায়ি হবে। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত/অসম্পূর্ণ এ্যান্টিবায়িটিক ডোজ প্রয়োগের ফলে মানব শরীরে একসময় আর কোন এ্যান্টিবায়িটিক কাজ করবে না। বর্তমানেই বিভিন্ন হসপিটালে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামান্য রোগেই চোখের সামনে রোগী মারা যাবে। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল কোনটি?
(A) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
(B) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
(C) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
02-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4208 জন)
প্রশ্নঃ রাশিয়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গুপ্তপ্রসাদ রেড্ডি (বি ভি) বলেছেন, ক্যান্সার কোনো মরণব্যাধি নয়, মাত্র দুটি উপায় অনুসরণ করলেই উধাও হবে ক্যান্সার। ১. প্রথমেই সব ধরনের সুগার বা চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। ২. এরপর এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবু চিপে মিশিয়ে নিন। টানা তিন মাস সকালে খাবারের আগে খালি পেটে এই লেবু মিশ্রিত গরম পানি পান করুন। উধাও হয়ে যাবে ক্যান্সার। -- ক্যান্সার হতে পারে এ জন্য নিচের কোন মাছটি খাওয়া নিষেধ?
(A) পিরহানা মাছ
(B) তেলাপিয়া মাছ
(C) পটকা মাছ