About Md. Shariful Islam

"হযরত উসমানের দানশীলতা ও মিতব্যয়িতা"

একদিন এক নিঃস্ব লোক রাসূলের নিকট এসে কিছু সাহায্য চাইল। তখন রাসূলের নিকট কিছুই ছিল না। তিনি লোকটাকে হযরত উসমানের নিকট পাঠালেন। দরিদ্র ব্যক্তিটি হযরত উসমানের গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখে যে একদল পিঁপড়ে বেশ কিছু শস্য একটি স্তুপ থেকে গর্তে নিয়ে যাচ্ছে। হযরত উসমান শস্যগুলো একত্রিত করে কিছু শস্য পিঁপড়ের গর্তের কাছে ছড়িয়ে বাকীগুলি আবার স্তুপে রেখে দিচ্ছিলেন। লোকটি ধারণা করলো যে হযরত উসমান বড় কৃপণ। সে মনে মনে ভাবলো যে দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও সে নিজে পিঁপড়ের মুখ হতে শস্য কেড়ে নিতো না। তাই কিছুই না চেয়ে লোকটি চলে গেল।

পরদিন লোকটি আবার রাসূলের নিকট উপস্থিত হল এবং কিছু চাইল। সে রাসূলকে জানাল যে, কৃপণ উসমানের (রা) নিকট কিছুই আশা করা যায় না, তাই সে কিছুই চায় নি। রাসূল(সা) তাকে আবার হযরত উসমানের নিকট পাঠালেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও গেল এবং দেখতে পেল যে হযরত উসমান(রা) তাঁর চাকরকে বাতির সলতে উঁচু করে দেয়ার দায়ে বকাঝকা করছেন। কারণ তাতে অধিক তেল খরচ হয়।

দরিদ্র লোকটি মনে মনে ভাবলো যে তার বাড়িতে আলো আরো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে এবং সে কখনও এরূপ তেলের হিসাব করে না। হযরত উসমানের কৃপণতা সম্বন্ধে তার ধারণা আরো জোরদার হলো। কিছু না চেয়েই সে আবার রাসূল(সা) এর নিকট ফিরে গেল। হযরত উসমানের বিরুদ্ধে কৃপণতার অভিযোগ শুনে রাসূল(সা) মৃদু হাসলেন এবং লোকটিকে আবার বললেন হযরত উসমানের কাছে ফিরে যেতে এবং কিছু চাইতে।

তৃতীয়বার লোকটি হযরত উসমানের নিকট এসে দেখে যে হযরত উসমানের বাড়ীতে তুলা শুকাতে দেয়া হয়েছে। ঢেকে দেয়া হয়েছে জাল দিয়ে। জালের নিচ হতে কিছু তুলা উড়ে উড়ে যাচ্ছিল। হযরত উসমান সেগুলিকে ধরে আবার জালের নিচে রাখছেন। লোকটির মন অত্যন্ত বিরূপ হয়ে উঠলো। ভাবলো এমন কৃপণও কি কিছু দান করতে পারে? তবুও যেহেতু রাসূল তাকে তিনবার উসমান(রা) এর কাছে পাঠিয়েছেন, তাই সে গিয়ে কিছু চাইলো।

হযরত উসমান ভাবলেন, লোকটিকে কি দেওয়া যায়, যে লোককে রাসূল (সা) তার নিকট সাহায্যের জন্য পাঠিয়েছেন, তার চাইতে সাহায্য নেওয়ার যোগ্য আর কে হতে পারে?

তখন দেখা গেল বেশ দূরে একটি সরু রেখা। রেখাটিকে একটি উটের কাফেলা বলেই মনে হলো। কিছুক্ষণ পর হযরত উসমান বুঝতে পারলেন, যে কাফেলা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় গিয়েছিল সেটিই ফিরে আসছে। হযরত উসমান তাকে লিখে দিলেন যে ঐ কাফেলার সবচেয়ে ভাল উটটি এবং যার উপর সবচেয়ে বেশি দ্রব্যসম্ভার আছে সেটিই সে নিতে পারে।

লোকটি প্রথম মনে করলো যে হযরত উসমান তামাসা করছেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পরও লোকটি তার দান সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে পারলো না। সন্দিগ্ধ চিত্তে সে গেল কাফেলার নিকট। সবচেয়ে ভালো এবং প্রথম উটটিই তার পছন্দ হলো। সেটি সে নিতে চাইল। কাফেলার পরিচালক অনুমতি দিল। কিন্তু মরুভূমিতে চলাকালে প্রথম উটটিকে কাফেলা হতে সরিয়ে নেয়া সহজ নয়। সবগুলো উটই প্রথমটিকে অনুসরণ করল। কাফেলার পরিচালক তখন লোকটিকে বললো যে আস্তানায় ফিরে যাওয়ার পর উটটি দেয়া হবে।

হযরত উসমানের নিকট খবর দেয়া হল যে, একটি উটকে কাফেলা হতে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয় নি। তাই তখন তার নির্দেশ পালন করা হয় নি। খবর শুনে হযরত উসমান(রা) বললেন, হয়ত আল্লাহর ইচ্ছা এই যে, কাফেলার সবগুলি উটই লোকটি পাবে। অতঃপর তিনি কাফেলার পরিচালককে নির্দেশ দিলেন যে সবগুলো উটই যেন লোকটিকে দেয়া হয়। লোকটিতো বিস্ময়ে অবাক! অতো বড় কৃপণের কিভাবে এতো বড় দান করা সম্ভব হলো? হতবাক হয়ে সে তার পূর্ববর্তী তিন অভিজ্ঞতা জানাল এবং দু’প্রকার ব্যবহারের তাৎপর্য কি জানতে চাইল।

হযরত উসমান যে জবাব দিলেন তার সারমর্ম এই যে, আল্লাহ বিশ্বের সমস্ত সম্পদের মালিক, মানুষ হলো তত্ত্বাবধানকারী বা পাহারাদার। সে শুধু আল্লাহর ইচ্ছানুসারে সম্পদ নিজের জন্য এবং সমাজের অপরাপর ব্যক্তির কল্যাণের জন্য ব্যয় করতে পারবে। মানুষের কাজ হলো আল্লাহর সম্পদ নিজের মর্জিমত রক্ষণাবেক্ষণ করা। যদি কোনো ব্যক্তির তত্ত্বাবধানকালে কোনো সম্পদের এক কণামাত্র বিনষ্ট হয় তবে তার জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সম্পদের অধিকার শুধু বিশেষ সুবিধা নয়, বরং একটি বিরাট দায়িত্ব।”

শিক্ষাঃ মুমিনকে অবশ্যই দানশীল হতে হবে, কিন্তু সে কখনো অপচয়কারী ও অপব্যয়কারী হতে পারবে না। কেনান “অপচয়কারী ও অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।”(আল কুরআন)।

• ডেঙ্গু হয়েছে সন্দেহ হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রচুর পানি, তরল খাবার (স্যালাইন, ডাবের পানি, তাজা ফলের রস) খেতে থাকুন। জ্বর ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামলের বাইরে অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ অথবা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাবেন না।

• দাঁতের মাড়ি, পায়খানা, প্রস্রাব, মেয়েদের মাসিকের সঙ্গে অতিরিক্ত রক্ত গেলে, চামড়ার নিচে রক্ত ফোঁটা জমা হলে সতর্ক হোন। শ্বাসকষ্ট হলে, পেট ফুলে গেলে, অতিরিক্ত বমি হলে, চোখ হলুদ হয়ে গেলে; মাথা ঘুরিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

• প্লেটলেট কাউন্ট কমে গেলেই অস্থির হওয়ার কিছু নেই। অনেক সময় ৫,০০০-১০,০০০ হলেও প্লেটলেট দিতে হয় না। শুধু শরীরের কোথাও রক্তপাত হলে অথবা রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দিলেই রক্ত/প্লেটলেট দিতে হবে।

• মুখে একদমই খেতে না পারলে অথবা অতিরিক্ত বমি/পাতলা পায়খানা হলেই কেবল শিরাপথে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

রমযানুল মুবারকের আমলসমূহ:

১. রমযানুল মুবারকের উপযুক্ত মর্যাদাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য শাবান মাসেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নিবে এবং শাবান মাসের ১৫ তারিখের আগেই অর্থাৎ প্রথম পনের তারিখের মধ্যে অধিক পরিমাণে রোযা রাখবে। হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) শাবান মাসে অন্য সব মাস হতে বেশি রোযা রাখতেন।

২. অত্যন্ত গুরুত্ব ও আগ্রহের সাথে রমযানুল মুবারকের চাঁদ দেখার চেষ্টা করবে। এবং চাঁদ দেখে এই দোআ পাঠ বলবে।

“আল্লাহ মহান! আয় আল্লাহ! এ চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপদ ঈমান, শান্তি ও ভালবাসার চাঁদ হিসেবে উপস্থাপন করো। যা তুমি ভালবাস ও যাতে তুমি সন্তুষ্ট এ মাসে আমাদেরকে তা করার তাওফীক দাও। (হে চাঁদ!) আমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক একই আল্লাহ।”

৩. রমযান মাসে ইবাদতের সাথে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করবে। ফরয নামায ব্যতীত নফল নামাযেও বিশেষ গুরুত্ব দিবে এবং বেশি বেশি নেকী অর্জনের চেষ্টা করবে। এ মহান ও প্রাচূর্যময় মাস আল্লাহ তাআলার বিশেষ দান ও দয়ার মাস।

শা’বানের শেষ তারিখে রাসূল (সা) রমযান মাসের বরকতের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: তোমাদের জন্য এমন এক মহান মর্যাদা ও বরকতপূর্ণ মাস আসছে যাতে এমনি এক রাত আছে যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। আল্লাহ তাআলা ঐ মাসের রোযা ফরয করে দিয়েছেন এবং রাত্রি জাগরণকে (তারাবীহ এর সুন্নাত) নফল করে দিয়েছেন এবং যে ব্যক্তি এ মাসে মনের আনন্দে নিজ ইচ্ছায় কোন একটি নেক আমল করবে সে অন্য মাসের ফরয আদায়ের সমতুল্য সাওয়াব পাবে। যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তাকে অন্য মাসের ৭০টি ফরয আদায় করার সমতুল্য সওয়াব দান করবেন।

৪. সারা মাসের রোযা মনের আনন্দ, আগ্রহ ও গুরুত্বের সাথে রাখবে। যদি কখনও রোগের কারণে বা শরয়ী কোন ওজরবশতঃ রোযা রাখতে অক্ষম হও তা হলেও রমযান মাসের সম্মানে খোলাখুলি পানাহার হতে বিরত থাকবে এবং এমন ভাব দেখাবে যেন রোযাদারের মত দেখায়।

৫. কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদান করবে। এ মাসের সাথে কুরআনের বিশেষ সম্পর্ক আছে। পবিত্র কুরআন এ মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং অন্যান্য আসমানী কিতাবও অবতীর্ণ হয়েছে এ মাসের প্রথম অথবা তৃতীয় তারিখে। হযরত ইবরাহীম (আ) এর ওপর কয়েকটি ছহীফা বা ছোট কিতাব অবতীর্ণ হয়। এ মাসের ১২ অথবা ১৮ তারিখে হযরত দাউদ (আ) এর ওপর যবুর কিতাব অবতীর্ণ হয়। এ বরকতময় মাসের ৬ তারিখে হযরত মূসা (আ) এর ওপর তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ হয়।

এ বরকতময় মাসেরই ১২ অথবা ১৩ তারিখে হযরত ঈসা(আ) এর ওপর ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়। সুতরাং এ মাসে বেশি বেশি পবিত্র কুরআন পাঠের চেষ্টা করবে। হযরত জিবরাঈল (আ) প্রতি বছর এ মাসে রাসূল (সা) কে পূর্ণ কুরআন পাঠ করে শোনাতেন, রাসূল(সা) হতে শুনতেন এবং নব্যুয়তের শেষ বছর তিনি রাসূল(সা) এর কাছ হতে দু’বার পালাক্রমে শুনান ও শুনেন।

৬. পবিত্র কুরআন ধীরে ধীরে থেমে থেমে এবং বুঝে সুঝে পড়তে চেষ্টা করবে। অধিক তেলাওয়াতের সাথে সাথে বুঝার এবং ফল লাভেরও চেষ্টা করবে।

৭. তারাবীহর নামাযে পূর্ণ কুরআন শুনার চেষ্টা করবে। রমযান মাসে একবার পূর্ণ কুরআন শোনা সুন্নাত।

৮. তারাবীহর নামায বিনয়, মিনতি, আনন্দ, ধৈর্য ও আগ্রহের সাথে পড়বে, যেনতেনভাবে বিশ রাকাআতের গণনা পূর্ণ করবে না এবং নামাযকে নামাযের মতই পড়বে যেনো জীবনের ওপর ইহার ষোলআনা প্রভাব পড়ে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত হয় এবং আল্লাহ তাওফীক দিলে তাহাজ্জুদ পড়ারও চেষ্টা করবে।

৯. দান খয়রাত করবে। গরীবদের, বিধবাদের, এতিমদের খোঁজখবর রাখবে, গরীব ও অভাবীদের সাহরী ও ইফতারের ব্যবস্থা করবে। রাসূল (সা) বলেন, “রমযান সহানুভূতির মাস।” (অর্থাৎ গরীব ও অভাবগ্রস্থদের সাথে সহানুভূতির দ্বারা অর্থনৈতিক ও মৌখিক উভয় প্রকার সহযোগিতা করাই আসল উদ্দেশ্য। তাদের সাথে কথাবার্তা ও আচরণে নম্র ব্যবহার করবে। কর্মচারীদের শ্রম লাঘব করে আরাম দেবে এবং আর্থিক সাহায্য দেবে।

হযরত ইবনে আব্বাস(রা) বলেন যে, রাসূল (সা) দানশীল ও দয়ালুতো ছিলেনই তবুও রমযান মাসে তাঁর দানশীলতা আরো অধিক বেড়ে যেতো। যখন জিব্রাইল (আ) প্রতিরাতে এসে কুরআন পাঠ করতেন ও শুনতেন তখন ঐ সময় তিনি তীব্রগতি সম্পন্ন বাতাস হতে তীব্র গতিময় দানশীল ছিলেন।

১০. শবেকদর বা সম্মানিত রাতে খুব বেশী নফল নামায পড়ার চেষ্টা করবে এবং কুরআন তিলাওয়াত করবে। এ রাতের গুরুত্ব হলো, এ রাতেই পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা ক্বদরে আল্লাহ পাক বলেনঃ

“নিশ্চয়ই আমি এ কুরআনকে লাইলাতুল ক্বদরে অবতীর্ণ করেছি। আপনি জানেন লাইলাতুল ক্বদর কি? লাইলাতুল ক্বদর হলো হাজার মাস হতেও উত্তম। ঐ রাতে ফেরেশতাগণ ও জিব্রাঈল (আ) আল্লাহর নির্দেশে প্রতিটি কাজ সুচারূরূপে পরিচালনার জন্য অবতীর্ণ হয়। তাঁরা ফজর অর্থাৎ সুবহে ছাদিক পর্যন্ত অপেক্ষা করে।” (সূরা ক্বদর)।

হাদীসে আছে যে, শবেক্বদর রমজানের শেষ দশ রাতের যে কোন এক বেজোড় রাতে (গোপন) আছে। সে রাতে এ দোআ বলবে,

“আয় আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমাকে ভালবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”

হযরত আনাস (রা) বলেছেন, এক বৎসর রমযান সামনে রেখে রাসূল (সা) বলেন, তোমাদের নিকট এমন একটি মাস আসছে যার মধ্যে এমন রাত আছে যা হাজার মাস হতেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাত হতে বঞ্চিত থাকলো সে রাতের সকল প্রকার উত্তম ও প্রাচুর্য থেকে মাহরূম বা বঞ্চিত হলো। (ইবনু মাজাহ)।

১১. রমযানের শেষ দশদিন এতেকাফ করবে, রাসূল (সা) রমযানের শেষ দশদিন এতেকাফ করতেন।

হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা) রমযানের শেষ দশ দিন রাতে ইবাদত করতেন এবং তাঁর স্ত্রীদেরকেও ঘুম হতে জাগাতেন এবং পূর্ণ উদ্যম ও আন্তরিক একাগ্রতার সহিত ইবাদতে মগ্ন হয়ে যেতেন।

১২. রমযান মাসে মানুষের সহিত অত্যন্ত নম্র ও দয়াপূর্ণ আচরণ করবে। কর্মচারীদের কাজ সহজ করে দিবে এবং মেটাবার চেষ্টা করবে। খোলা মনে তাদের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করে দিবে এবং ঘরের লোকদের সাথেও দয়া ও দানশীলতার আচরণ করবে।

১৩. অত্যন্ত বিনয়, খুশী ও আগ্রহের সাথে বেশী বেশী করে দোআ পাঠ করবে। “দুররে মানসুর” গ্রন্থে আছে যে, যখন রমযান আসতো তখন রাসূল (সা) এর স্বরূপ পরিবর্তন হয়ে যেতো, নামায বেশী বেশী পড়তেন, দোআয় অত্যন্ত বিনয় প্রকাশ করতেন এবং অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়তেন।

১৪. ছাদক্বায়ে ফিতর আগ্রহ ও পূর্ণ মনোযোগ সহকারে আদায় করবে। ঈদের নামাযের আগেই ছাদকা আদায় করবে এবং এতটুকু আদায় করবে যে, অভাবী ও গরীব লোকেরা যেন ঈদের জরুরী জিনিসপত্র যোগাড় করার সুযোগ পায় এবং তারাও যেন সকলের সাথে ঈদের মাঠে হাসিমুখে যেতে পারে আর ঈদের খুশিতে শরীক হতে পারে।

হাদীসে আছে যে, রাসূল (সা) উম্মতের উপর ছদক্বায়ে ফিতর এজন্য আবশ্যকীয় (ওয়াযিব) করে দিয়েছেন যেন রোযাদার ব্যক্তি রোযা থাকা অবস্থায় যেসব অনর্থক ও অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে তার কাফফারা হয়ে যায় এবং গরীব মিসকিনদের খাদ্যের সংস্থান হয়। (আবু দাউদ)।

১৫. রমযানের বরকতময় দিনসমূহে নিজে বেশী বেশী নেকী অর্জনের সাথে সাথে অন্যকেও অত্যন্ত আবেগ ও উদ্বেগ, নম্রতা ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে নেকী এবং ভাল কাজের দিকে উৎসাহিত করবে যাতে ভাল পরিবেশে আল্লাহর ভয়, উত্তম অভিরুচি ও ভাল কাজের প্রতি আকর্ষণ বিরাজ করে এবং সম্পূর্ণ সমাজ রমযানের অমূল্য বরকতের দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
(সংগৃহীত)।

রমজান ও কোরআনের উদ্দেশ্য:

রমজান ও কোরআন উভয়ের উদ্দেশ্যও এক। আর তা হলো তাকওয়া অর্জন। দেখুন, কোরআনে এসেছে : তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)

আবার কোরআন যদিও সমগ্র মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এর দ্বারা শুধু মুত্তাকি ব্যক্তিরাই প্রকৃত উপকার লাভ করবেন—তা-ও উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন : এটি আল্লাহর কিতাব। এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত। (সুরা বাকারা, আয়াত ২)

jugantor

দুনিয়াতে সবচেয়ে সহজ হলো
অন্যের সমালোচনা করা,
আর সবচেয়ে কঠিন হলো
নিজেকে সংশোধন করা।

---হযরত আলী (রা:)

"আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি দ্বীনের দিকে হিদায়াত করেন।"

[সূরা শূরা ৪২, আয়াত ১৩]

19-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 3623 জন)
প্রশ্নঃ শত বছর জীবত থেকে কেউ যে কাজ করবে, তা যদি তুমি পঞ্চাশ বছর জবীত থেকে করতে পার তাহলে তুমিও শত বছর জীবন পেলে। আমরা চাইলে কর্মের পরিধি ও তাৎপরতা বৃদ্ধি করে শত বছর বাঁচতে পারি। মানে পঞ্চাশ বছর বেচেঁ থেকে শত বছর বা তারও বেশি বছরের সমান কাজ করতে পারি। ১২ কর্মঘন্টার মধ্যে ‘কামাল’ প্রতিদিন ৪ঘন্টা অপচয় করেন ও ৮ঘন্টা কাজ করেন অন্যদিকে তার সহকর্মি ‘শামিম’ কোন সময় অপচয় করেন না। দুজনেই ১৮বছর চাকুরী করলে শামিমের তুলনায় কামাল কত বছর কম চাকুরী করলো?
(A) ৯ বছর
(B) ৪ বছর
(C) ৬ বছর
06-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4053 জন)
প্রশ্নঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আর কোন এ্যান্টিবায়টিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ঐষধ (এ্যান্টিবায়িটিক) এর অপব্যবহার মানব সভ্যতা ধ্বংশের জন্য দায়ি হবে। কারণ অনাকাঙ্ক্ষিত/অসম্পূর্ণ এ্যান্টিবায়িটিক ডোজ প্রয়োগের ফলে মানব শরীরে একসময় আর কোন এ্যান্টিবায়িটিক কাজ করবে না। বর্তমানেই বিভিন্ন হসপিটালে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামান্য রোগেই চোখের সামনে রোগী মারা যাবে। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল কোনটি?
(A) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ
(B) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
(C) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
02-Jul-2019 তারিখের কুইজ
(অংশগ্রহণ করেছেন: 4208 জন)
প্রশ্নঃ রাশিয়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গুপ্তপ্রসাদ রেড্ডি (বি ভি) বলেছেন, ক্যান্সার কোনো মরণব্যাধি নয়, মাত্র দুটি উপায় অনুসরণ করলেই উধাও হবে ক্যান্সার। ১. প্রথমেই সব ধরনের সুগার বা চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। ২. এরপর এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবু চিপে মিশিয়ে নিন। টানা তিন মাস সকালে খাবারের আগে খালি পেটে এই লেবু মিশ্রিত গরম পানি পান করুন। উধাও হয়ে যাবে ক্যান্সার। -- ক্যান্সার হতে পারে এ জন্য নিচের কোন মাছটি খাওয়া নিষেধ?
(A) পিরহানা মাছ
(B) তেলাপিয়া মাছ
(C) পটকা মাছ